• হরিদাস পাল  অপর বাংলা

  •  অনিরাপদ ক্লজেট: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপছায়ায় বাংলাদেশের কুইয়ার আন্দোলন

    কুইয়ার আর্কাইভস অব দি বেঙ্গল ডেল্টা লেখকের গ্রাহক হোন
    অপর বাংলা | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৮০ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • লেখক: অন্যকথা

    অনুবাদ ও পরিমার্জন: কুইয়ার আর্কাইভস অফ দি বেঙ্গল ডেল্টা (ক্যাব)

    কুইয়ার আর্কাইভস অফ দি বেঙ্গল ডেল্টা (ক্যাব) একটি আন্তঃদেশীয় কুইয়্যার সংগ্রহশালা। ক্যাব বঙ্গীয় ব-দ্বীপ সম্পৃক্ত কুইয়ার মানুষের ভূ-রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক, মানসিক, আইনগত, মৌখিক, এবং অলিখিত ইতিহাস/স্মৃতি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, অনুবাদ, এবং গবেষণা করে।

    আর্টিকেলটিতে কুইয়ার শব্দটি দ্বারা লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, নন-বাইনারি, ইন্টারসেক্স, এসেক্সুয়াল সহ আরো যে সকল লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন তাদের সকলকে বোঝানো হয়েছে।

     

     বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৮ সালে বিদ্যমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন হতে বিতর্কিত পাঁচটি ধারা বিলুপ্ত করে এবং সেগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA-2018) প্রণয়ন করে। জনসাধারণের ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোন ডিজিটাল বিষয়বস্তু প্রকাশ করাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারাগুলোতে অপরাধ বলে গণ্য হয়েছে। বাংলাদেশে এই স্পষ্টব্যাখ্যাবিহীন ধারাগুলো ‘ডি ফ্যাক্টো ব্লাসফেমি আইন’ হিসেবে পরিচালিত হয়। “ব্লাসফেমি আইন” কথাটিকে এখানে কিছুটা সতর্কতার সাথে ব্যবহার করার প্রয়োজন। “ব্লাসফেমি আইন” যে রাষ্ট্রে থাকে তারা “পশ্চাৎপদ” আর “বর্বর”; অন্যদিকে যে রাষ্ট্রে “বাকস্বাধীনতা” থাকে তারা আধুনিক এবং প্রগতিশীল- প্রচলিত মতে এমনটাই ধারণা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বিশ্বের জাতিরাষ্ট্রগুলোর ইতিহাস এমন ওতপ্রোতভাবে জড়ানো যে, পশ্চাৎপদতা বা প্রগতিশীলতার মানদণ্ড নির্ধারণকারী এই ধরণের ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিভাজনকে সমর্থন দেয়া অবান্তর। বিশেষ করে বাংলাদেশকে নিয়ে বলতে গেলে এটা পরিষ্কার যে, এখানে “ব্লাসফেমি আইন” মূলত ক্ষমতাসীন সরকারি দলকে যেকোন প্রকারে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যকথায়, এই “ব্লাসফেমি আইন” ধর্মীয় কুসংস্কারকে ভিত্তি করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার একটি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে।

     বাংলাদেশে ২০১৬ তে ঘটে যাওয়া দু’জন গে রাইটস এক্টিভিস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর, তাদের এ আন্দোলন সেখানে অনেকটাই ভার্চুয়াল জগতমুখী হয়ে পড়ে। ফলে স্যোশাল মিডিয়া একদিকে যেমন এ আন্দোলনের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে; তেমনি দেশজুড়ে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগের একটি জায়গাও তৈরি করে। কিন্তু ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কুইয়ার মানুষদের ডিজিটাল অস্তিত্ব এবং কাজের এই জায়গাটিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কুইয়ারকেন্দ্রীক যেকোন লেখা এ আইনটির ২৮ ধারা অনুসারে দণ্ডণীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত হতে পারে। এমনকি কোন ট্রান্স জনগোষ্ঠীর মানুষ তার অফিশিয়াল আইডির ব্যক্তিপরিচয়ের বাইরে পছন্দসই নাম বা জেন্ডার ব্যবহারের কারণেও এই আইনের আওতায় অপরাধী গণ্য হতে পারেন। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কেবল সন্দেহ বা অনুমান ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যে কাউকে যেকোনো স্থানে গ্রেফতার করতে পারে, একইসাথে যেকোন মালামাল (এমনকি প্রিন্টেড ডকুমেন্ট যেমন বই, ম্যাগাজিন বা পুস্তিকা ইত্যাদি) জব্দ করারও ক্ষমতা রাখে।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর বিরোধীতায় যে বৃহত্তর উদ্বেগ আমরা দেখতে পাই, তা আমাদের এই আইনের অন্যান্য সম্ভাব্য ভয়াবহতার ব্যাপারে সতর্ক করে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এই আইনের ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছিলেন, “এ আইন বাকস্বাধীনতা বিরোধী”। অন্যদিকে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন, কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে বিলটিতে সই না করার এবং পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলো। একইসাথে, এই আইনকে সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে আইনটি পাশের ব্যাপারে তীব্র বিরোধীতা করেছিলো ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিষ্ঠানটির তখনকার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, “তথ্য অধিকার আইন ২০১৯ এ বর্ণিত তথ্য অধিকার সম্বলিত মানবাধিকার, ধারা ৩২-এর অপপ্রয়োগের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হতে পারে; পাশাপাশি এতে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার লাভ হবে এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ আরো সহজ হবে”। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল এ বিষয়ে তার উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, “এ আইনের কারণে বাকস্বাধীনতা এবং তথ্য অধিকারের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে”।

     

    নিরাপত্তা নয়, নিপীড়ন করে যে আইন

     ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বাস্তবে অনলাইনভিত্তিক সকল যোগাযোগ বা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, এই আর্টিকেলটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু নির্দিষ্ট ধারাকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে, আইনটির ধর্মীয় অবমাননার ধারাগুলো বাংলাদেশি কুইয়ার সম্প্রদায় বা প্রবাসী বাংলাদেশি কুইয়ার নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিভাবে অপপ্রয়োগ করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এমনিতেই বাংলাদেশের কুইয়ার সম্প্রদায় দেশের অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা; নানা সামাজিক আর আইনী বাধাবিপত্তির মধ্যেই তাদেরকে জীবনধারণ করতে হয়। দেশে এমন কোন আইন বর্তমানে নেই যা এই সম্প্রদায়ের মানুষজনকে সামাজিক বিদ্বেষ-ঘৃণা আর নানা হয়রানির থেকে সুরক্ষা দেয়; উল্টো, যে আইনগুলো আছে সেগুলো এই সম্প্রদায়ের মানুষজনের সুরক্ষার শেষ সম্ভাবনাটুকুকেও নষ্ট করে। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কুইয়ার মানুষদের অনলাইন নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা আরো বাড়িয়ে তোলে। এমনিতেই তাদের ডিজিটাল জীবন অত্যন্ত গোপনীয় এবং সংকুচিত; এর মধ্যে থেকেই তারা এতদিন ধরে কুইয়ার অধিকারের যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, এই আইন তার পথকেও রুদ্ধ করে দেয়।

     আইনটির ধারা ২৮ অনুসারে, ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধকে আঘাত করে এমন কোন তথ্য কোন ওয়েবসাইটে বা কোন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশ বা সম্প্রচার অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অভিযোগে দোষী ব্যক্তিকে প্রথমবার অপরাধের শাস্তিস্বরূপ সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা দশ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়ই পেতে হবে। (বিস্তারিত পড়ুন এখানে)

     তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের কুখ্যাত ৫৭ ধারার পরিমার্জন এই ২৮ ধারা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেটিকে কুইয়ার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা নিতান্তই সহজ কাজ। ধরা যাক, কোন একটি ওয়েবসাইটে লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্যময়তার পক্ষে কোন একটি লেখা প্রকাশ করা হলো, এবং অন্য কেউ সে লেখাটি শেয়ার করলেন, অথবা কারো শেয়ার করা সে লেখাটিতে অন্য আরেকজন কোনো কমেন্ট করলেন। এই পুরো ঘটনাটিতে, লেখাটি প্রকাশকারী ওয়েবসাইট, লেখাটির লেখক, শেয়ারকারী ব্যক্তি বা লেখাটির পক্ষে কমেন্টকারী ব্যক্তি সবাইকে এই আইনের আওতায় এনে ২৮ ধারায় মামলা করা যেতে পারে। কুইয়ার জনগোষ্ঠীর সমর্থনে ব্যবহৃত যেকোন ওয়েবসাইট, ব্লগ, ই-ম্যাগাজিন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ভিডিও, অডিও থেকে শুরু করে অন্য সব কিছুর ক্ষেত্রে এই আইনের প্রয়োগ করা যেতে পারে।

     এছাড়াও বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম সুন্নি ইসলামের প্রচলিত ব্যাখ্যায় সমকামিতা পাপ এবং  সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়ে আসছে। তাই কোন ব্যক্তি সমকামিতার পক্ষে বক্তব্য প্রদান করলে বা কুইয়ার মানুষজনের সামাজিক অধিকার দাবী করলে একজন রক্ষণশীল মুসলিম তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার দোহাই দিয়ে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। বলে নেয়া ভালো, এই ধারাতে “ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধ”-এর কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেয়া হয় নি। ফলে এই অস্পষ্টতার জন্য আইনটির নানারকম ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে কুইয়ার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করা খুব কঠিন কিছু নয়। 

     ধারা ২১ অনুসারে, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগাণ্ডা বা অপপ্রচার অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অভিযোগে দোষী ব্যক্তিকে প্রথমবার অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়ই পেতে হতে পারে। (বিস্তারিত পড়ুন এখানে) 

     ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আরেকটি বিপজ্জনক ও অস্পষ্ট একটি ধারা হলো, ধারা ২১। এটির যেকোনো ব্যাখ্যা দিয়ে একেবারে তুচ্ছাতিতুচ্ছ কোন চিন্তাভাবনা বা অভিব্যক্তিকেও মামলার আওতায় আনা যায়। কুইয়ার সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তো এর কুপ্রভাব আরো মারাত্মক। বেশ কিছু সময় ধরেই বাংলাদেশের কুইয়ার সম্প্রদাইয়ের মধ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা থেকে তাদের আন্দোলনের অনুপ্রেরণা পাবার এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের মর্মার্থ, প্রতীক, বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ নানা বিষয়ের সাথে কুইয়ার মুক্তি আন্দোলনের একাত্বতা প্রকাশের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে নিজেদের বক্তব্যগুলোকে কৌশলগতভাবে তুলে ধরতে চায়। অনেক কুইয়ার মানুষ এমন দাবীও করেন যে, তাদের প্রতি নির্যাতন এবং সামাজিক নিপীড়ন স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের বিরোধী। কেউ কেউ হয়তো এমনটাও দাবি করতে পারেন যে কুইয়ার মানুষদের অধিকারের এ আন্দোলন জাতির পিতার আদর্শেরই অংশ। এই ধরণের বক্তব্য বা দাবীতে কারোর জাতীয়তাবোধে আঘাত লাগতে পারে এবং  তিনি দাবী করতে পারেন যে এমন বক্তব্য জাতির পিতার জন্য অপমানসূচক বা এটি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাক্ষুণ্ণ করার শামিল। যদিও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে উল্লেখিত মুক্তিযুদ্ধের “আদর্শ” বলতে ঠিক কি বোঝায় সেটি পরিষ্কার নয়। এছাড়াও কুইয়ার মানুষজন প্রায়ই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সাথেই রেইনবো মিলিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন অনলাইনে প্রকাশ করে থাকেন। যদিও এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে সমকামিতার উপস্থিতি এবং তাদের অবস্থান জানান দিতে চান, কিন্তু এই দুই পতাকা একীভূত করাকে এই ধারার আওতায় অপরাধ বলে গণ্য করা খুবই সহজ। 

     ধারা ২৫ মতে, আক্রমণাত্মক, মিথ্যা কিংবা ভীতিপ্রদর্শক কোন তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি প্রেরণ বা প্রকাশ করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অভিযোগে দোষী ব্যক্তিকে প্রথমবার অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়ই পেতে হবে। (বিস্তারিত পড়ুন এখানে)

     কুইয়ারদের সমর্থনে ইন্টারনেটে দেয়া সকল ধরণের পোস্ট স্বভাবতই অসংখ্য তিরষ্কার, উপহাস, হাসিঠাট্টা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের সূত্রপাত ঘটায়। এগুলো আসলে কুইয়ার সমর্থকদের প্ররোচিত করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়ে থাকে, যাতে তারা উত্তেজিত হয়ে বা প্রতিক্রিয়াবশতঃ বিতর্কিত কোন মন্তব্য করে বসেন। এই ধরণের কুতর্ক প্রায়ই ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে যায় এবং ফলস্বরূপ কুইয়ার-সমর্থক মানুষটির দ্বারা কুইয়ারবিদ্বেষী মানুষটি অপমানিত, লজ্জিত বা হেয় প্রতিপন্ন হতে পারেন; আর প্রতিক্রিয়ায় তিনি কুইয়ার-সমর্থক মানুষটির বিরুদ্ধে এই ধারায় মামলাও করতে পারেন। এছাড়াও, কুইয়ার অধিকার অন্দোলনকর্মীরা বহুদিন থেকে বাংলাদেশ কুখ্যাত পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারা (যার মাধ্যমে সমকামী যৌনাচরণকে অপরাধী কর্মকান্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়) বিলুপ্তির দাবি করে আসছেন। তাদের এই দাবি রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এমন দাবীতে এবং এমন কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার দায়ে খুব সহজেই এই আইনের অধীনে মামলা দায়ের হতে পারে। ভাবনার বিষয় হচ্ছে, এই আইনে উল্লেখিত “কাউকে উত্যক্ত, অপমান, নিন্দা বা অবজ্ঞা” অথবা “রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি” ইত্যাদি শব্দগুলোর স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা দেয়া হয়নি।  

     উপরের আলোচিত ধারাগুলো ছাড়াও, DSA-2018 এর আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ধারা রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশে কুইয়ার এক্টিভিজমের প্রত্যাশার দিকগুলোকে সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দেশের বাইরে উল্লেখিত আইনের লঙ্ঘনকেও ধারা ৪-কে ব্যবহার করে অপরাধ সাব্যস্ত করা যায়। অনেকের মাঝেই প্রচলিত ভুল ধারণা এমন যে, প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশী যারা কুইয়ার এক্টিভিজমের সাথে জড়িত তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে, ধারা ৪ বিশ্লেষণ করে বলা যায়, যদি কোন প্রবাসী বাংলাদেশী এক্টিভিস্ট অনলাইনে কোনপ্রকারের কুইয়ার অধিকার আন্দোলনের সমর্থন করেন বা জড়িত থাকেন, তখন তার এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সমাজকে অস্থিতিশীল করার সমতুল্য বলে গণ্য হতে পারে; এমনকি তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এবং অন্যদেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করারও শামিল হতে পারে; আর তখন এই আইনের আওতায় তার নামে মামলা করা যেতে পারে। এছাড়াও, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা ৮, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে এমন সকল ওয়েবসাইট বিনা নোটিশে ব্লক করার ক্ষমতা ও অনুমতি প্রদান করে থাকে যারা এই আইনের সহনসীমার বাইরের কোন তথ্য প্রচারে অংশ নিয়ে থাকে। এই ধারার আওতায় কুইয়ার সমর্থনকারী সকল ওয়েবসাইটকে সহজেই ব্লক করে দেয়া সম্ভব। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ যে কেবল অনলাইন জগৎ এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। এই আইনের ধারা ৪৩ অনুযায়ী, পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিনা পরোয়ানায় যে কাউকে যে কোন স্থানে তল্লাশী করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট যেকোন সরঞ্জামাদি জব্দ করারও ক্ষমতা রাখে। এই ধারার মাধ্যমে কুইয়ার এক্টিভিস্টরা যে পরিমাণ আইনি হয়রানির স্বীকার হতে পারেন তা বাস্তবে অকল্পনীয়।

     বাংলাদেশী কুইয়ার কমিউনিটিক এতদিন নানা ঝুঁকি নিয়ে ধারা ৩৭৭-এর বিরোধীতায় আওয়াজ তোলা থেকে শুরু করে অনলাইন কমিউনিটিগুলোকে সংঘবদ্ধ করার মতন কাজ করে যাচ্ছিলো; এখন আবার তাদের এ কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকেও মাথায় রাখতে হচ্ছে। অধিকাংশ কুইয়ার মানুষজন যারা রাষ্ট্র বা সমাজের দ্বারা অপরাধী বলে গণ্য হয়েছেন বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হবার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, তাদের কাছে ইন্টারনেটের এই দুনিয়া, নিজেদের সত্ত্বাকে প্রকাশ করার নিরাপদ এবং ভরসার একটি জায়গা। ২০১৬ সালের পর থেকে যখন ম্যাগাজিনের মতন গতানুগতিক প্রিন্ট মিডিয়াতেও নিজেদের কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশী কুইয়ার জনগোষ্ঠী নানা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন, তখন তারা তাদের গল্পসমূহকে প্রকাশ করা, কমিউনিটিকে আরো সংগঠিত করা ও সমাজে পরিবর্তন আনার মতন কাজগুলো করার জন্য ইন্টারনেটের দুনিয়াকেই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশের এই হোমোফোবিক সমাজে, তাদের অনলাইনের কর্মকাণ্ডগুলো সহজেই প্রতিদিনের নানা হুমকির বা হয়রানির স্বীকার হয়। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যবহৃত শব্দগুলোর কোনো স্পষ্টব্যাখ্যা যেহেতু দেয়া হয়নি এবং এগুলোর যথেচ্ছা অপপ্রয়োগ করা খুবই সহজ; তাই এগুলোর সাহায্যে হোমোফোবিক কোন ব্যক্তির ধর্মীয়, জাতীয়তাবাদী বা কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতিকে আহত করার নামে কুইয়ার সম্প্রদায়ের মানুষদের অনায়াসেই জিম্মি করা সম্ভব।

     

    বিস্তর দৃষ্টিতে দেখা

     ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই ধারাগুলো যে কেবল কুইয়ার সম্প্রদায়ের অনলাইন কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই বানানো হয়েছে বা কেবল কুইয়ার জনগোষ্ঠীকে দমন করতেই এই আইনগুলো ব্যবহৃত হবে, তা কিন্তু নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জটিল প্রয়োগগুলোর অন্যান্য রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণও রয়েছে।  বাংলাদেশের বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে আইনের শাসনের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না, বরং আইন দ্বারা শাসন করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে সরকার এই আইন প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী (সাংবাদিক, মুক্তচিন্তক ইত্যাদি)-কে ভয় দেখিয়ে থাকে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের সমালোচনার মুখ বন্ধ করে এবং সমালোচকদের শাস্তির ব্যবস্থা করে থাকে। আবার যখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় আনা অভিযোগগুলো সুশীল সমাজের সার্বিক নিন্দার মুখে পড়ে, রাষ্ট্র তখন বিকল্প পথ অবলম্বন করে থাকে। যেমন, আশংকা করা হয় যে, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে DSA-2018 এর আওতায় মামলা হওয়ার পরদিনই তিনি জোরপূর্বক গুমের স্বীকার হন। ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে, প্রভাবশালী ইসলামিক গ্রুপগুলোও এই আইনের সুযোগ নিয়ে নানাভাবে হয়রানি করতে পারে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে অপরাধের অভিযোগ ছাড়াও ভিন্নধর্মের বা ভিন্নস্বার্থের দু’টি গ্রুপের মধ্যে বিদ্যমান বিবাদের মধ্যে এই আইন ব্যবহার করে ধর্মীয় অবমাননার মামলা জুড়ে দিয়ে একদলের উপর আরেকদলের আধিপত্য বিস্তারের কাজে লাগানো যেতেই পারে। শরিয়ত বয়াতির সাম্প্রতিক ঘটনাটির দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, একজন ইমাম এই বাউলশিল্পীর বিরুদ্ধে মামলা করলো, কিন্তু সাথে সাথে নানা ইসলামিক গ্রুপও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাকে গ্রেফতারের দাবী জানালো। এমন প্রতিবাদের মাধ্যমে ইসলামের অন্তর্গত হানাফি মতবাদ এবং কম প্রভাবশালী সূফী মতবাদের মধ্যেকার বিবাদ আরো সুপষ্টভাবে আমাদের সামনে ফুটে ওঠে। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই বাউল শিল্পীর  গ্রেফতারকে  সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন।  

     বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়, এই ডিজিটাল ব্লাসফেমি আইন কুইয়ার সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীকে তাদের দৃশ্যমানতা বা ভিসিবিলিটি এবং শ্রেণী, লিঙ্গ ও যৌন পরিচয়, বর্ণ বা ধর্ম ইত্যাদি পরিচয়ের একেক স্তরে একেক রকমভাবে ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম। যেমন, এই আইনের আওতায়, একজন অবাঙালী বাংলাদেশী নাগরিক (আদিবাসী বা বিহারী কুইয়ার কোন মানুষ) একজন বাঙালী নাগরিকের চেয়ে ভিন্নমাত্রার নিপীড়ন, হুমকি বা শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন। এক্টিভিস্ট পিচিংমং মারমা আশংকা প্রকাশ করেন যে, এই আইন “জুম সম্প্রদায়ের মানুষদের কণ্ঠরোধের একটি অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এমনকি হিজড়া সম্প্রদায় যারা নির্দিষ্ট একটি জায়গাতে একসাথে বসবাস করেন এবং প্রকাশ্য সমাজে সেটি দৃশ্যমান, তাদের জন্যও এই আইন প্রয়োগের মাত্রা ভিন্নতর হতে পারে। তাদের কেউ একজন যদি এই আইনের আওতায় অভিযুক্ত বলে বিবেচিত হন, তাহলে বাদবাকী পুরো সম্প্রদায়ের উপরই হুমকি এবং নিপীড়নের আঘাত আসতে পারে।

     এই ব্লাসফেমি আইন যে শুধু কুইয়ার জনগোষ্ঠীর মানুষদের দূর্বল করে তোলে তা কিন্তু নয়, বরং তাদের উপর নির্যাতন চালানোকেও উৎসাহ প্রদান করে। বাংলাদেশে নাস্তিক ব্লগার বা কুইয়ার অধিকারকর্মীদের হত্যার মতন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডগুলো এখনও ন্যায্য এবং সুষ্ঠু বিচারের মুখ দেখেনি। বিচারহীনতার এমন একটি সমাজে, এই ব্লাসফেমি আইন অন্যান্য চরমপন্থী গ্রুপগুলোর (যেমন, AQIS বা আনসার-আল-ইসলাম) হোমোফোবিক আদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন জানাবে এবং তাদেরকে নানাভাবে উৎসাহ যোগাবে।

     

    সংগ্রাম অবিরাম 

     সত্যি বলতে, কুইয়ার সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোন ব্যবস্থা বাস্তবে নেই। তাই ব্লাসফেমি আইন পাশ হবার বিপরীত স্রোতে দাঁড়িয়ে এই সম্প্রদায়কে অবশ্যই তার ডিজিটাল সুরক্ষা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে, পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনের দিকেও প্রচুর মনোযোগ দিতে হবে। আরো পরিষ্কার করে বলতে গেলে, অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনে এই সম্প্রদাইয়ের যে মূল্যবান এবং দুর্লভ রিসোর্সগুলো রয়েছে সেগুলোকে এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে প্রয়োগ করা একপ্রকার বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। প্রচলিত সমাজে না হোক কমপক্ষে অনলাইনে এতদিন এই সম্প্রদায় প্রাণখুলে বাঁচতে পারতো, কথা বলতে পারতো, অর্গানাইজিং করতে পারতো; কিন্তু এই আইনের জন্য সেপথেও যে বাধার সৃষ্টি হলো তা এই সম্প্রদায়ের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য অনেক কিছুর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। 

     ডিজিটাল ব্লাসফেমি আইনগুলি অপসারণ না করা পর্যন্ত, অনলাইনভিত্তিক বাংলাদেশের প্রগতিশীল সামাজিক লড়াইগুলো নানারকম বাধার সম্মুখীন হতে থাকবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ এবং ৩১ ধারার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের একটি মামলা ইতিমধ্যেই চলমান রয়েছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন যেগুলোতে বাংলাদেশ খোদ একটি অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র, যেমন মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি ইত্যাদিকে এই ব্লাসফেমি আইনগুলি লঙ্ঘন করে থাকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সেইসাথে অন্যান্য সকল আইন যেগুলো কেবল কুইয়ার জনগণকেই নয়, যারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং বহুত্ববাদে বিশ্বাসী প্রত্যেকেরই জীবনকে হুমকির সম্মুখীন করে সেগুলোর বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের বিভিন্ন এক্টিভিস্টদের সাবধানে ও কৌশলগতভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। 

     

    এই আর্টিকেলটি এর আগে শুদ্ধস্বরে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়।

  • বিভাগ : অপর বাংলা | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৮০ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
ছায়া - Debayan Chatterjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৭102989
  • লেখায়  সংহতি।  


    তবে সম্ভবত এই মানের লেখা কখনোই পাঠকের কাছে পৌঁছাবে না, প্রায় দুর্বোধ্য বাংলিশের কারণে!  মানবিক অধিকার প্রসংগ, তাই এইখানে থামলাম। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন