• হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • ফেরারি ফৌজঃ ৯ম পর্ব 

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১৫ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠী ১৯৬৮র শীতের শেষে ময়দানে মুক্তমেলার আয়োজন করলেন। এক রোববার। জানা গেল কোথায় তুষার রায় গাছের তলায় দাঁড়িয়ে তাঁর কবিতা ""ব্যান্ড মাস্টার'' পড়ছেন। সমরেশ বসু গান শোনাচ্ছেন দেখে সুনীল গাঙ্গুলী বলছেন আমিও গান গাইব। পাবলিক উৎসাহ দিচ্ছে—চালিয়ে যাও মহারাজ! কোথাও একটি আলাদা ভীড়ের সামনে কোন বাউল পল্লীগীতি গাইছে। কোথাও থিয়েটার ক্যাম্প বলে একটি নাটকের দল ভিয়েৎনাম নিয়ে নাটক করছে।
    আমাদের কাছে খবর পৌঁছলো যে ওখানে আবাপ গোষ্ঠী ডেকাডেন্ট কালচার প্রোমোট করছে।
    ওখানে নাকি মা-মেয়ে হাতে রুমাল নিয়ে ভীড়ের সামনে নাচছে-- '' বোল, গোরী বোল, তেরা কৌন পিয়া''। আর নাকি শকুন মেরে গাছ থেকে টাঙিয়ে তার নীচে কবিতা পড়া হচ্ছে।
    - কেন?
    -- বুঝলি না?ওটাই তো বিকৃতি। এইসব আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতির ধামাধরা ইয়ের দল যৌনবিকৃতি আর অসুস্থ সংস্কৃতির প্রচার করে। ওরা ড্রাগস্‌-গাঁজা না খেয়ে লিখতে পারে না। ওই আবাপ'র কবিগুলোকে দেখ, বীটনিক কবি অ্যালেন গীনস্‌বার্গ এর বন্ধু। ওদের লেখায় শ্রেণীসংগ্রাম নেই, খালি সেক্স আর অবক্ষয়। ইয়ং জেনারেশনকে গোল্লায় পাঠানোর চক্রান্ত। আমাদের কিছু করা দরকার।
    --তাই?
    --হ্যাঁ রে ! সুনীল গাঙ্গুলী বলে ওদের একজন উঠতি সাংবাদিক পূজো সংখ্যা ‘দেশ’ পত্রিকায় ‘আত্মপ্রকাশ’ বলে একটা যা তা নভেল লিখেছে। এসব কয়েক বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এককালের কমিউনিস্ট সমরেশ বোসের ‘বিবর’, ‘প্রজাপতি’, ‘দগ্ধশুক্র’ এসব পড়েছিস? আমাদের পালটা আঘাত হানতে হবে।

    সম্ভবত: দু'সপ্তাহ পরে যখন মুক্তমেলার দ্বিতীয় প্রোগ্রাম আবাপ'তে ঘোষণা করা হল। ছোট ছোট দলে কিছু নকশালপন্থী ছেলেরা ওখানে পৌঁছলো।
    রমেনের তখন তিন জায়গায় ঠেক। কফি হাউস-প্রেসিডেন্সির আড্ডায় যাওয়া বেশ কমে এসেছে। আছে নাকতলা- গড়িয়া-বাঘাযতীন , যার কেন্দ্রবিন্দু এন্ড্রুজ কলেজ, মানে মলয়-দেবু-মনোজ-হিমাদ্রী-বাদল। আর অবশ্যই একটি মেয়ে, ওর সঙ্গে দেখা হলেই ও হাসে। মেঘলা দিনটা ঝলমলিয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি পড়াশুনো ছেড়ে বামপন্থী রাজনীতি করাকে নাকচ করে দেয়।
    যাকগে, ময়দানে পৌঁছে ও দেখলো একজায়গায় প্রকাশ কর্মকার ও শর্বরী রায়চৌধুরী তাঁদের ছবি ও ইনস্টলেশন সাজিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। দেশ পত্রিকার দৌলতে ওঁদের আধুনিক পেইন্টিং ও ভাস্কর্যের রঙিন ছবি রমেন দেখেছে বটে, কিন্তু কিস্যু বোঝে নি।
    আর এক জায়গায় একটি গ্রুপ করচ্ছে অলীকবাবু নাটক। তাতে এক অভিনেতা তাঁর অসাধারণ চার্লি চ্যাপলিনোপম বডি ল্যাংগোয়েজযুক্ত অভিনয়ে পাবলিককে নড়তে দিচ্ছে না। তারপর অভিনীত হল "কালোজাম'' বলে একটি আধাঘন্টার নাটক, পাঁচশ' বছর আগের স্প্যানিশ নাট্যকারের লেখা। তাতে রঙ্গব্যঙ্গের আড়ালে ফুটে ওঠে গরীব চাষীর সামান্য জমি পাওয়ার চিরন্তন স্বপ্ন।
    এবার ও যায় বাউলদের আড্ডায়--"সর্প হইয়া দংশ গো গুরু, রোজা হইয়া ঝাড়; রমণী হইয়া গুরু পুরুষের মন হর। ও গুরু, কাঙাল জানিয়া পার কর।''
    বাউলেরা একটু দম নিলে ধুতির ওপর কালো কোট পরা গ্রামীণ চেহারার একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ওঠে-- আমি বিহারের পুর্ণিয়া জেলার; আপনাদের একটি চুটকুলা শোনাতে চাই।
    ভীড় সমস্বরে-- চালাও, চালাও!
    -- আমাদের গাঁয়ের একজন রেলগাড়িতে চড়ে কলকাত্তা আসবে, কোনদিন রেলগাড়ি দেখেনি, কী করে চিনবে? আমি বলেছি,- ইস্টেশান যাইয়ে। ওহাঁ লাইন পর যো দিখবে কালে রং, নীচে সে পানি ছোড়বে, উপর সে ধুঁয়া, ওটাই রেলগাড়ি আছে। ব্যস্‌, চড় যানা।
    তো হমার দোস্ত করল কি ইস্টেশানে গিয়ে দেখল বাঙালী টিটিবাবু কালা কোট, মুখে সিগারেট, লাইনের ওপর বসে পিসাব করছে। তো ও সোজা ওর পিঠে চড়ে বসে বললো-- অব্‌ লে চলো কলকাত্তা!
    ভীড়ের মধ্যে কেউ হাসল না।
    হটাৎ দৌড়তে দৌড়তে এসে হাজির সুকান্ত,-- আরে রমেন, তুই এখানে কি করছিস্‌? চ, চ! ওদিকে ঝামেলা লেগে গেছে।

    একটা জায়গায় বিশাল জটলা। পাঁচ-ছজনের হাতাহাতি চলছে, কিন্তু নিরপেক্ষ জনগণ একটু পরেই দুই যুযুধান পক্ষকে আলাদা করে জানতে চাইলেন ব্যাপারটা কি?
    আশুতোষ কলেজের ছাত্রনেতা সৎপথী উত্তেজিত ভাবে বললো--এখানে বাংলার মাটিতে অবক্ষয়ী ইয়াংকি কালচারের প্রচার আমরা সহ্য করব না!
    (আজকে কেমন বেঙ্গালুরুর মর‌্যাল পুলিশদের কথার মত মনে হয় না?)
    তখন দর্শকদের মধ্য থেকে বলা হলো ঝগড়া না করে আপনারাও আপনাদের মত বিপ্লবী সংস্কৃতির পরিচয় দিন না! আপনারা আপনাদের গান বা নাটক করুন,অন্যদের ওদের মত করে করতে দিন। আমরা সবারটাই দেখতে রাজি।
    একজন বাউল বল্লেন-- আমরাও ইয়াংকি কালচার?
    আমাদের বন্ধুরা আলাদা বৃত্ত বানিয়ে নিজেদের মত করে গান শুরু করলেন। উৎপল দত্তের লিটল থিয়েটার গ্রুপের অভিনেতা শান্তনু ঘোষের লেখা এবং অজিত পান্ডের সুর দেয়া -
    "বল কৃষ্ণে কি আর কংসকারায় বেঁধে রাখা যায়,
    আহা, মাঠে মাঠে লক্ষ কৃষ্ণ অগ্নিবাঁশের বাঁশি বাজায়।''

    কিন্তু সবাই তো আর গায়ক নয়। গান জমল না। ভীড় অন্য দিকে সরে গেল। তখন আই পিটি এর গায়ক প্রদীপকে গাইতে বলা হল। সে ডায়েরি বের করে গাওয়ার চেষ্টা করলো। গানের নির্বাচন ভালো হচ্ছিল না, জমলো না।
    হটাৎ হাজির সৎপথী। সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বললো- একটা কথা কমরেডস্‌! সবাই শুনুন। আমরা একই প্ল্যাটফর্মে ওদের সঙ্গে থেকে গান গেয়ে ওদের প্রোগ্রামকে একরকম লেজিটিমেসি দিচ্ছি, এটা ঠিক নয়। বিপ্লবী এবং প্রতিবিপ্লবী সংস্কৃতি একসাথে থাকতে পারে না, হয় ওরা নয় আমরা!
    সঙ্গে সঙ্গে দুটো পেটো ফাটলো।মারামারি শুরু, এখানে ওখানে, বিচ্ছিন্ন ভাবে। কে যে কাকে মারছে বোঝা মুশকিল। ফক্কড় রমেনের বরাবর মারামারিতে অনীহা। ও ভীতুর ডিম। চটপট নিরাপদ জায়গা খুঁজতে লাগলো। ও গেছলো ভবানীপুরের ইন্দ্র রায় রোড, নন্দন রোডের ছেলেগুলোর সঙ্গে।
    দেখা গেল ওই পাড়ার একটা ছেলেকে অচেনা কিছু লোক বেধড়ক পেটাচ্ছে। ও শ্যামাদাকে ডেকে আনলো। বয়স্ক শ্যামাদা পুরনো বক্সার। উনি গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেদের ছেলেটাকেই পেটাতে লাগলেন। কলার ধরে টেনে নিয়ে যেতে বল্লেন-- এটাকে আমি ভাল করে বানাচ্ছি। আপনারা অন্যদের দেখুন। তারপর ওকে টেনে কিছুদূর নিয়ে গিয়ে বল্লেন-- এবার পালা, যত জোরে পারিস।
    ওদিকে নতুন রিক্রুট শিবাশিস চারজন রথীর সঙ্গে একাই দারুণ লড়ে যাচ্ছে। আসলে দুটো রথী লড়ছে, আর দুটো মুখের কাছে চোঙার মত হাত করে চেঁচাচ্ছে-- নকশালপন্থীরা সি আই এর দালাল!
    এর পরে পুলিশ এসে গেল। কিছু এলোপাথাড়ি অ্যারেস্ট হল। কিন্তু সৎপথীর রণনীতি সফল, মুক্তমেলা ভেস্তে গেল।
    ফেরার পথে রমেন বন্ধুদের সঙ্গে নিজাম গিয়ে বীফরোল খেয়ে পরমবিপ্লবী কর্তব্য পালনের আনন্দ নিয়ে ঠেকে ফিরল। সকালে দেখলো আনন্দবাজার লিখেছে কিছু ফুলকচি তরুণেরা হাঙ্গামা করেছিলেন। এঁদের নকশালপন্থী বললে হয়তো আসল নকশালরা রাগ করতে পারেন। এরা নাদান।

    এইভাবেই চলছিল। কিন্তু সময় বদলে যাচ্ছে। রমেন হুগলি জেলায় একটি নকশাল গ্রুপের নেতৃস্থানীয় এক তুতো দাদা্ ও তার বন্ধুদের সঙ্গে নিজের মেন্টর মিথিলেশের হাওড়া স্টেশনের ভেতরে বিশাল ঘড়ির পাশে কফিশপে দেখা করার ব্যবস্থা করল। ওরা গরমের মধ্যে কফিশপে বসে একঘন্টা কাটিয়ে দিল। তবু দাদা ও তার কমরেডদের পাত্তা নেই। হতাশ হয়ে ওরা ফিরে গেল।

    সাতদিন পরে খবর এল দাদারা ঠিক সময়ে ঘড়ির নীচে দাঁড়িয়ে আধঘন্টা অপেক্ষা করে চলে গেছে। নতুন বিপ্লবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা যে কফিশপের ভেতরে বসে গাঁটের পয়সা খরচ করবে তা হুগলির সিনিয়রদের ভাবনায় আসেই নি । শেষে মরিয়া হয়ে ওরা তিনজন, মিথিলেশ, সুকান্ত ও রমেন, ভোরের ট্রেন ধরে হুগলি গিয়ে এক ডেরা থেকে ঘুমন্ত দাদা ও তাদের সঙ্গীদের জাগিয়ে দেয়।

    হুগলি গ্রুপ এদের ম্যান-মানি-গান ও ক্যাল-আপ প্রোগ্রামকে তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে বলে যে এসব বালখিল্য কল্পনা, পুরনো সন্ত্রাসবাদী দলের অনুকরণ। এর সঙ্গে ব্যাপক জনগণকে রাজনৈতিক ভাবে উদ্বুদ্ধ করে বিপ্লবের পথে নিয়ে আসার প্রোগ্রামের কোন সম্পর্ক নেই।

    প্রেসিডেন্সি-মৌলানার বন্ধুদের থেকে খবর আসে যে ওরা কোলকাতা ছেড়ে মেদিনীপুর জেলার ডেবরা-গোপীবল্লভপুরে যাবার কথা ভাবছে। ওকে বলে—তৈরি থাক, পরের ব্যাচে তুইও যাবি।

    রমেনের বুঝভম্বুল অবস্থা। এতগুলো গ্রুপ। সবাই বলছে কৃষিবিপ্লব; একটা ছোট গ্রুপ বলছে – না , এখানে শহরকেন্দ্রিক শ্রমিক অভ্যুত্থান হবে। প্রেসিডেন্সি গ্রুপের কাকার নেতৃত্বে একদল গ্রামে যাচ্ছে। কেউ বলছে-- আগে পার্টি তৈরি হোক।

    আর ও যেদলে মাথা মুড়িয়েছে –তারা বলে পার্টি-ফার্টি পরে তৈরি হবে। আগে বকবকানি আর আঁতলেমি ছেড়ে বন্দুক হাতে নাও। লেট আস অর্গানাইজ ক্যালকাটা আপসার্জ!

    ইতিমধ্যে একদিন রাত এগারোটায় বেহালার অজন্তা সিনেমার কাছে একটা শস্তা রেস্তোরাঁ থেকে রাতের খাবার খেয়ে বেরোনোর সময় ও মুখোমুখি হয় ওর নাকতলা স্কুলের ইকনমিক্সের মাস্টারমশায়ের। উনি তখন পাশের পানদোকানের পাটের দড়ি্র আগুন থেকে সিগ্রেট ধরাচ্ছিলেন। ওঁর মুখের অভিব্যক্তিতে বিস্ময়, রাগ ও ঘেন্না পরপর খেলা করে গেল।

    ক’দিন পরে বাড়িতে ছোটকা ওকে ডেকে বললেন—তুই বাজে জায়গায় রাত্তিরে ঘুরে বেড়াস। ওরা কারা? কাদের সঙ্গে আজকাল বন্ধুত্ব হয়েছে?

    রমেন বাড়ি ছাড়ল।

    বেহালায় দীপকদার বাড়িতে আশ্রয় জুটল। আসলে অনন্ত সিংহ এর আর-সি-সি-আই বা ম্যান-মানি-গান সংগঠনের কোর সদস্যরা সব বেহালা অঞ্চলের।

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্মী দীপকদা বয়সে প্রায় ন’বছরের বড়; রমেনকে খুব স্নেহ করেন। ওর শরীর ভাঙছে, কাশি থামছে না । তাই উনি রোজ একটা করে ডিমসেদ্ধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। রমেনের লজ্জা হয়, কিন্তু খেয়ে চলে। দুপুরে বেহালার সত্যেন রায় রোডে কিছু বন্ধু জুটিয়ে তাদের সঙ্গে আড্ডা দেয়। খেয়াল করে সবাই চাকরি খুঁজছে। ও রবীন্দ্রনাথের কবিতার প্যারডি বানিয়ে শোনায়ঃ

    “চাকরি? ওরে চাকরি কোথায় পাবি?
    চাকরি কি আর আছে?
    দেশের দশের সবার টিকি বাঁধা
    বিদেশি প্রভুর কাছে”।

    ওরা হাসে, তারপর আনন্দবাজার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে দরখাস্ত লেখে। রমেনকে অনুরোধ করে যদি ইংরেজিটা শুধরে দেয়! বদলে ও পায় আদ্দেকটা চারমিনার, বাকি আদ্দেক তিনজনে ভাগ করে টানে। ওরা নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি করে , কেঠো রসিকতায় একে অন্যকে আঘাত করে । বলে—অমুক দরখাস্তের প্রাপ্তি পর্য্যন্ত আসে নি , কল পাওয়া তো দূর অস্ত!

    কেন জানিস? রথীনকে একসঙ্গে পোস্ট করতে দিয়েছিলাম। ও নিঘঘাৎ আমারটা ছিঁড়ে ফেলে খালি নিজেরটা পাঠিয়েছে। একটা কম্পিটিটর তো কম হল !

    সবাই হাসে। রথীন ঝাঁঝিয়ে ওঠে—বালের মত কথা বলিস না ! আমারও তো আসে নি ।

    --সে তোর পার্সেন্টেজ কম বলে।

    হাতাহাতি শুরু হবার মুখে অনিল চিৎকার করে স্থানীয় গণনাট্য সংঘের স্কোয়াডের নতুন গান দু’কলি গেয়ে ওঠে—
    গণতন্ত্র আছে বলে রীতা ফারিয়া,
    ডান্স করিল ভিয়েতনামে কোমর দুলাইয়া।

    হো হো হাসি; আবহাওয়া শান্ত হয়। আরেকজন গায়—মন্ত্রীরা খায় কালিয়া পোলাও, কাঁচকলাটি জনতার।

    বছর দুই আগে মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেন চালের দাম আগুন হওয়ায় পাব্লিককে কাঁচকলা নামক পুষ্টিকর, আয়রন ও নানান ভাইটামিন এবং মিনারেলে ভরপুর অথচ শস্তা তরকারিটি খাইতে নিদান দিয়া জনগণের উপহাস ও ক্রোধের লক্ষ্য হইয়াছিলেন।

    এই সুযোগে রমেন একটা বক্তৃতা দিয়ে ফেলে। বন্ধুদের বলে যে ভারত থেকে প্রথম একজন বিশ্বসুন্দরী হয়েছে বলে আমাদের এত উলুত-পুলুত হবার কোন মানে নেই। এবার মাল্টিন্যাশনালের প্রসাধন বিক্রির বাজার তৈরি হবে আর কিছু নয়। তোর আমার মত পরিবারের মেয়েরা বাপের পকেট কেটে ওইসব কিনে মুখে মেখে বিশ্ব না হোক বংগসুন্দরী হওয়ার স্বপ্ন দেখবে আর সংগ্রাম করতে ভুলে যাবে। এসব আমেরিকান বাজার ধরার আর আমাদের ন্যাকাচৈতন বানানোর ফাঁদ। এগুলো আমাদের দেশের মেয়েদের অপমান করা। এবার দ্যাখ, রীতা ফারিয়া বিশ্বসুন্দরী হয়ে ওদের হাতের পুতুল হয়ে গেছে। নইলে মার্কিন সৈন্যদের মনোরঞ্জন করতে ভিয়েতনামে যায়?

    কথাটা সবার মনে ধরে।

    অনিল বলে –তোরা তোদের ভাতিদের আবদার শুনে ওইসব কিনে দিতে পারবি?

    --ভাতি?

    --- না মানে আগে আমরা ‘মাল’ বলতাম, তো রমেন গতসপ্তাহে আপত্তি করল। মেয়েরা কোন বস্তু বা দ্রব্য নাকি? মাল বলা আমাদের এই পোঁদে -গরম ঠেকে এখন স্ট্রিক্টলি নো-নো। তাই ‘ভাতি’ চলবে।

    ওদিকের শ্রীহরি ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বেঞ্চে হঠাৎ মারপিট, কলার ধরা শুরু। দেখতে দেখতে দু’জন শুম্ভ-নিশুম্ভের মত জাপটা জাপটি করে ধূলোয় গড়াগড়ি খায়। সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ে। হতভম্ব রমেন ছাড়াতে গেলে সবাই ওকে আটকে চেঁচায়—চালাও পানসি বেলঘরিয়া! আরেকজন বলে –হয়ে যাক দারা সিং বনাম ব্ল্যাক ঘোস্ট !

    আরে ওরা যে রতন আর বাচ্চু! এ ‘পাড়ার জগাই-মাধাই, ন্যাংটো পোঁদের বন্ধু। রোজ ঝগড়া করে ,আবার একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারে না । কিন্তু এমন হাতাহাতি আগে তো হয় নি !

    সুজন খোলসা করে।

    ওরা গত সপ্তাহ ধরে সমানে ক্যারম খেলছে। দিনের শেষে দেখা যাচ্ছে ফল সমান সমান, কেউ কাউকে হারাতে পারছে না । শেষে সবাই মিলে ঠিক করল রোববার বেস্ট অফ থ্রি ম্যাচে যে জিতবে সে বিজয়ী।

    তো উইনার কী পাবে?

    রবীনের প্রস্তাব—পাড়ার উঠতি সুন্দরী স্বপ্নাকে ও চুমু খেতে পাবে।

    প্রবল আপত্তি, স্বপ্না কারও মাল নয় যে—

    আর ও বড়লোকের মেয়ে, এই পাড়ার ছোঁড়াগুলোকে ঠিক দ্বিপদ প্রাণী বলে গণ্য করে না । হাই হিল খুলে দু’ঘা দিতেও পারে; তার উপর ওর দাদা বেহালা স্পোর্টিং ক্লাবের চ্যাম্পিয়ন বক্সার! এ তো সেধে বাঁশ পোঁদে ঢোকানো ! না , না – এ চলবে না।

    এবার ফচকে অনিলের মাথা থেকে বেরোয় এক অদ্ভূত প্রস্তাব।

    যে জিতবে সে অন্যের বাপের বীচি হাফ বয়েল করে ঘোষের দোকানের কাঠি দিয়ে খাবে।

    প্রশান্ত এক কাঠি বাড়া। ও বলে আয়, এই নতুন খাদ্যদ্রব্যগুলোর কিছু নাম দিই; ঘোষের দোকানের মিষ্টিগুলোর মত।

    দুজনের বাবার নাম ক্ষীরোদপ্রসাদ ও প্রাণেশকুমার। তাই ওগুলোর নাম হবে ক্ষীরমোহন ও প্রাণহরা। প্রবল হাস্যরোল ও করতালির মধ্যে উক্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হইল।

    আজ রোববার; বেলা এগারোটা থেকে ঘোষের দোকানের পেছনের বারান্দায় ওদের খেলা চলছে। অল্পস্বল্প ভিড় ; মুকুন্দ আম্পায়ার। প্রথম দুটো গেমের ফল ১-১। শেষ গেমের মাঝখান থেকে রতন দু’পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ল। লাস্ট বোর্ড; যদি বাচ্চু এক পয়েন্ট পায় তাহলেই কেল্লা ফতে! বোর্ডে লাল, তিনটে সাদা ও একটা কালো। বাচ্চু কালো নিয়ে খেলছে। একটা চমৎকার হিটে একই সঙ্গে রেড ও ব্ল্যাক দুদিকের দু’পকেটে গিয়ে পড়ল।

    আওয়াজ উঠল—প্রাণহরা! বাচ্চু হেসে বলল—না ; ক্ষীরমোহন।

    ব্যস, ধানীপটকায় আগুন লেগে গেল।

    রমেনের হাড়পিত্তি জ্বলে যায়। এইসব অঘামার্কা ছেলেপুলে নিয়ে বিপ্লব হবে? ও দু’মাস ধরে চেষ্টা করছে। একটা রিক্রুট করতে পারে নি । উলটে ওরা নিজেদের মধ্যে কথা চালাচালি করে--কোন কাউন্সিলর দাদাকে ধরলে যদি ফুরনে কিছু কাজ পাওয়া যায়; অন্ততঃ হাতখরচাটা উঠে আসে আর সিগ্রেট আর ঘুগনির জন্যে ঘোষের দোকানের বাকিখাতায় নাম না লেখাতে হয়।

    এত ঘন ঘন ঘুগনি খাস কেন?

    খিদে পায় যে!

    তো বাড়ি গিয়ে ভাত খা!

    তুই বুঝবি না; তোকে তোর পার্টি খাওয়াচ্ছে। আমরা রাত্তিরে পা টিপে টিপে বাড়িতে ঢুকি যাতে বাবার সামনে না পড়তে হয়। মা বা বোন ঢাকা ভাত বেড়ে দেয়।

    সকালবেলা মটকা মেরে পড়ে থাকি যতক্ষণ না বাবা বেরিয়ে যায়। বাবা হয়ত বোঝে, তাই জোর গলায় মাকে শুনিয়ে যায়—ওকে বলে দাও যে আমি আর টানতে পারবো না । একমাসের মধ্যে কিছু একটা করুক, নয়তো রাস্তা দেখুক।

    তারপর স্নান টান করে কিছু গিলে একছুটে এই ঘোষের দোকান। বাড়ি ফিরতে ফের রাত বারোটা।

    আমি ভাবি এই সুযোগ, লোহা গরম থাকতে থাকতে হাতুড়ি চালানো যাক। ওদের বলি বিপ্লবের কথা , গেরিলা যুদ্ধের কথা , গণফৌজে যোগ দেবার কথা ।

    ওরা বিষণ্ণ হাসে। বলে সবকিছু সবার জন্যে নয় রে রমেন! সবাই গৌতম বুদ্ধ কি নিমাই হয়ে পথের ডাকে ঘর ছাড়তে পারে না । বাবা বুড়ো হচ্ছে, বোন বড় হচ্ছে। আমি বিপ্লব করতে গাঁয়ে গেলে ওদের কে দেখবে?

    সন্ধ্যেবেলা ভবানীপুরের ইন্দ্র রায় রোডের ঠেকে গিয়ে দীপকদাকে বলি—আমি আর বেহালার ওই সত্যেন রায় রোডের ঠেকে যাব না । বেকার সময় নষ্ট।

    দীপকদা হাসে। জানায় যে আমাকে বাঁশদ্রোণীর কাছে গঙ্গার ওপারে ব্রহ্মপুরের একটা নতুন ঠেকে চলে যেতে হবে। ওখানে এপাড়ার শিবাশিস বলে একজন নতুন রিক্রুটের বাগানবাড়ি। ওরা দু’ভাই ওখানে থাকে। ওদের সঙ্গে থেকে নিয়মিত রাজনীতির পাঠ দিতে হবে। ওরা দু’ভাই খুব লড়াকু এবং অনেস্ট, বাপের পয়সায় বখে যায় নি ।

    এছাড়া আমার কাশি বেড়েই চলেছে। ওখানে পাঠানোর আগে একটা এক্স-রে ও ব্লাড টেস্ট করায় বুকে একটু ছায়া ও ইএস আর এ বৃদ্ধি চোখে পড়ছে। ডাক্তার দেখিয়ে নিতে হবে।

    আমরা অনেক রাত্তির অবধি ইন্দ্র রায় রোডের ঠেকে বন্ধ অফিসগুলোর সামনে আড্ডা মারি। রাজনীতির কথা বলি। ইদানীং দক্ষিণ কোলকাতার দেওয়ালে দেওয়ালে একটা লেখা চোখে পড়ছেঃ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে কমিউনের গণফৌজে দলে দলে যোগ দিন !

    এখানেও স্টেট ব্যাংকের বন্ধ গেটের পাশের দেওয়ালে সেই লেখা। আমরা হাসি। এই আবালের দল জানে না যে এটা রাশিয়া না , বরং চিনের মত কৃষিপ্রধান দেশ। এখানে ‘কৃষিবিপ্লব’ হবে—মাওয়ের গাইডলাইন মেনে।

    নীলুদা গিয়ে ওর নীচে লিখে দেয়—অফিসের ঠিকানা লিখুন, যোগ দিতে ইচ্ছুক।

    আমার শিবাশিসের বাড়ি যাওয়া সাতদিন পিছিয়ে গেল। ও গতকাল ভবানীপুর থানায় লক আপে ছিল। বেধড়ক ঠ্যাঙানি খেয়েছে। আজ দীপকদা পাড়ার কিছু মুরুব্বি ও একজন উকিল বন্ধুকে নিয়ে গিয়ে বন্ড দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছে।

    কাল সকালে ওই মুরুব্বিরা গিয়ে শিবাশিসকে পাকড়াও করেন। এ পাড়ায় একজন বিখ্যাত গায়কের তবলচির বাড়িতে একটি চোদ্দ বছরের মেয়ে কাজ করত। ওঁর স্ত্রী দামি চায়ের কাপ ভেঙে ফেলার অপরাধে ওকে উনুনের শিক লাল করে হাতে পায়ে ছ্যাঁকা দিয়েছেন। বাচ্চাটার জ্বর এসে গেছে। শিবাশিস মুক্তমেলার পর নতুন করে কোন ঝামেলায় জড়াতে রাজি হয় নি । বলেছে মেয়েটার মাকে নিয়ে থানায় গিয়ে কমপ্লেইন লেখাতে।

    বুড়োগুলো মহা ইয়ে। ওর ইগোতে সুড়সুড়ি দিয়ে বলল –ওতে কী হবে? পুলিশ বড়পার্টির কথা শুনে পয়সা খেয়ে মেয়ের মাকেই কড়কে দেবে। তোদের মত এমন ইয়ং ছেলে থাকতে এ পাড়ায় এসব সহ্য করতে হবে?

    ব্যস, শিবাশিস বার খেয়ে ক্ষুদিরাম হয়ে গেল। তিনটে ছেলেকে নিয়ে ওই তবলচিকে ঘরে ঢুকে বেধড়ক পিটিয়ে দিল। ওর স্ত্রী মেয়েটার চিকিৎসার খরচা ও মাকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেবার প্রতিজ্ঞা করে রেহাই পেলেন। কিন্তু ব্যাপারটা ওখানেই শেষ হয় নি ।

    সন্ধ্যেবেলা ওকে ভবানীপুর থানায় ডেকে নিয়ে আড়ংধোলাই দেওয়া হোল। নতুন রিক্রুট; মার খেয়ে একটু দমে নি । ওসিকে বলল—আজ মারছেন; আমাদেরও দু’শো ছেলে তৈরি হচ্ছে। সেদিন আমরা আপনাকেও এইভাবে ঠ্যাঙাবো।

    তারপর দুটো সেপাই ওকে হাত-পা বেঁধে চ্যাংদোলা করে দুটো টেবিলের ফাঁকে উলটো করে টাঙিয়ে পায়ের তলায় কিমা করার মত করে আশ মিটিয়ে পেটালো। ওকে আজ যখন ছাড়িয়ে আনা হোল তখন সোজা হয়ে হাঁটতে পারছে না।
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ২১৫ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন