• বুলবুলভাজা  আলোচনা  সমাজ  সিরিয়াস৯

  • করোনার অজুহাতে বিরামহীন অধিকারহরণ, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস

    সুজাত ভদ্র
    আলোচনা | সমাজ | ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ২১৬৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • আইন পাশ হচ্ছে আইনসভায়, দ্রুত ও আলোচনাহীন। নতুন আইন কার্যকর হচ্ছে। নাগরিকরা যথারীতি, সে আইন পালনে বাধ্য। গণতন্ত্রের, চালু গণতন্ত্রের নিয়ম এমনই। সারা বিশ্বে এরকমটাই স্বীকৃত, মান্য। সিরিয়াস৯-র এবারের বিষয় আইনের শাসন। এই সংখ্যায় অতিমারী পর্যায়ে আইনের শাসন নিয়ে লিখেছেন সুজাত ভদ্র; উত্তর পূর্ব ভারতে আইনের শাসন বলতে ঠিক কী বোঝায়, সে নিয়ে লিখেছেন পার্থপ্রতিম মৈত্র। এ ছাড়া রয়েছে ভারতে আইনের শাসনের সাম্প্রদায়িক চেহারা নিয়ে একটি আলোচনা, এবং আইনের শাসনের দার্শনিক ও প্রায়োগিক দিককে সমস্যায়িত করে একটি লেখাও থাকল এবারের সংখ্যায়।

    করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষ বিরোধী ও বিরোধী কণ্ঠরোধকারী শাসকের চেহারা উন্মীলিত হয়েছে সুজাত ভদ্রের এই লেখাটিতে। এমনকী মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত আবেদন যেভাবে আদালতের তরফ থেকে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, তার কথাও এখানে অনুল্লেখিত থাকেনি।

    আমরা সত্যিকারের মহা দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। কার্যত গৃহবন্দি হয়ে টিভির পর্দায় যখন নজর রেখেছি অথবা সংবাদপত্রে টুকরো টুকরো খবর যখন পড়েছি, তখনই এক অকল্পনীয় ভারতের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। আমরা পড়েছি, ‘জাতির জনকের’ পদব্রজে মাইলের পর মাইল হেঁটে যাওয়ার ইতিহাস। চিনের মাও দের লং মার্চ। সেই সব মহাকাব্যিক যাত্রার সঙ্গে চলিষ্ণু অনাহার ক্লিষ্ট পুরুষ-নারী-শিশু নির্বিশেষে আমাদের সহ নাগরিকদের হাজার কিলোমিটার হেঁটে চলার কোনো মিল নেই। শিশুকে নিয়ে মা, মাথায় ব্যাগপত্র নিয়ে পুরুষেরা, টলমল পায়ে শিশুরা হাঁটছে; লক্ষ্য একটাই: ঘরে পৌঁছানো। এ দৃশ্য আমাদের চেতনাকে, বিবেককে, মনুষ্যত্বকে, তীব্রভাবে আঘাত করছে। মানবতার এই চরম অপমান সমস্ত অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়ার কাঠামোটাকেই ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, বন্দে মিশনের মধ্য দিয়ে যারা বিদেশ থেকে দেশে আসছেন, তারা পাঁচতারা হোটেলে উঠছেন, করোনার পরীক্ষা হচ্ছে, মিডিয়ায় ফোটো উঠছে, এলাকায় অভিনন্দিত হচ্ছেন। গ্রামে ফিরে জিডিপি বাড়ানোর কারিগররা জানেন না, এবার তাঁরা খাবেন কী?

    একাধিক সমীক্ষা রিপোর্ট বলেছে, লকডাউনের আগেই পরিযায়ী শ্রমিকদের মজুরি বাকি ছিল। লকডাউনের সরকারি নির্দেশনামা থাকা সত্ত্বেও মালিকরা, ঠিকাদাররা কোনো মজুরি দিল না। কপর্দকশূন্য হাজার-লক্ষ মানুষ চাকরি হারিয়ে, যৎসামান্য সঞ্চয়টুকুও লকডাউনে খরচ করতে বাধ্য হয়েছে। সরকার-মালিক-ঠিকাদারের চরম উদাসীনতা, হৃদয়হীন আচরণ বাধ্য করল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটা। মালগাড়ি ঘুমন্ত শ্রমিকদের পিষে দিচ্ছে। ট্রাক উলটে গর্ভবতী মা সহ বহু শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। ট্রেনে চাপতে না পেরে শ্রমিক আত্মহত্যা করে। তবু এই enduring injustice, caravan of endless misery-কে উপেক্ষা করেই তারা হাঁটছেন। তাহাদের জন্য চমক নেই, মিডিয়ার উপচে পড়া ভিড় নেই, আছে শুধু নেতাদের টুইটারে রুদালি, আছে অন্তঃসারশূন্য প্রতিশ্রুতি ও মিথ্যাচার। স্মরণ করা যেত পারে, বাংলার পঞ্চাশের মন্বন্তর ঘিরে তৎকালীন সুরাবর্দি সরকারের ভ্রান্ত্ নীতি এবং নৈরাশ্যজনক বিফল, অপদার্থ, অমানবিক, অবিবেচনাপ্রসূত কর্মপদ্ধতি কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ‘বঙ্গীয় ব্যবস্থা পরিষদ’-এ ও মাঠে ময়দানে তুলোধোনা করেছিলেন। সেই সমস্ত সমালোচনার বহুল অংশ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমভাবে প্রযোজ্য। তখন সরকার যুক্তি দিয়েছিল, “প্রকৃতির মার”। আজ যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, “ভগবানের মার”। শ্যামাপ্রসাদ দেখিয়েছিলেন, সরকারের অনুসৃত ভ্রান্ত নীতিই মানুষের চরম দুর্দশার জন্য দায়ী। ব্রিটিশ আমলের মহামারী আইন হোক, ২০০৫ সালের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা আইনই হোক, তা চরিত্রে সে সাদাই হোক, বা কালোই হোক, তাকে ভ্রূক্ষেপ না করেই শ্রমজীবী মানুষের এই জনস্রোত, ইতিহাসের পরিভাষায়, ‘বিদ্রোহ’; বোমা বন্দুকের চাঞ্চল্যকর বিদ্রোহ নয়। নীরব বিদ্রোহ, ‘revolt by default’! রাষ্ট্রের নিয়মকানুন, দড়িদড়া, রক্তচক্ষুকে, অনুরোধ উপরোধকে উপেক্ষা করেই নিঃশব্দে পদব্রজে নিজেদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাই তো ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিস্পর্ধা দেখানো। জেমস সি স্কট, তাঁর যুগান্তকারী ‘Weapons of the Weak’ শীর্ষক গ্রন্থে (১৯৯০) দেখিয়েছেন, এই ধরনের নিঃশব্দ, নীরব ও অনামী, অজানা লক্ষ লক্ষ মানুষের দলে দলে স্থান ত্যাগ একধরনের প্রতিদিনের প্রতিরোধের মতো। “Quiet and anonymous welter of action.” মধ্যবিত্ত, ধনী সুসভ্য সমাজ বিনা প্রশ্নে যেখানে রাষ্ট্রীয় অনুশাসনের অত্যাচারকে মেনে নিয়েছে।

    আরও পড়ুন, পার্থপ্রতিম মৈত্রের উত্তরপূর্ব ভারতে আইনের শাসন নিয়ে লেখা

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনার দু-দুটো তীক্ষ্ণ বিবৃতিতে বললেন, পরিযায়ী শ্রমিকের চূড়ান্ত হয়রানি হচ্ছে। মহিলা-শিশুরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ১১ মে পঞ্চম তম সভায় যখন প্রধানমন্ত্রী তথাকথিত গ্লোবাল প্রশংসার কথা বলছেন, তখন একজন মুখ্যমন্ত্রীও বললেন না রাষ্ট্রসংঘের এই সমালোচনার কথা। সুপ্রিমকোর্টে হর্ষ মন্দাররা আবেদন করে এপ্রিল মাসেই বললেন, হস্তক্ষেপ করুন, জীবন-জীবিকার সংকটে আজ কয়েক হাজার লক্ষ ভারতীয় নাগরিক। বললেন, করোনা তাদের সৃষ্ট নয়। তাঁরা দায়ী নন। রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়া। কা কস্য পরিবেদনা! আদালত তাঁদের কুখ্যাত ‘doctrine of evasion’-কেই এখানেও প্রয়োগ করলেন।

    নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক আবেদনগুলো আদালত হৃদয়হীন ভারত সরকারের কোর্টে পাঠিয়ে দিলেন। যে সরকার লাঠিয়ালের লাঠি ছাড়া আর কোনো কিছুই বোঝে না, শ্রমিকদের ঘরে ফেরার জন্য ব্যাবসায়িক হিসাব কষে, ট্রেনের ভাড়া আদায় করতে সামান্যতম লজ্জা, কুণ্ঠা বোধ করে না, পি এম কেয়ার-এর নামে লক্ষ কোটি অনুদান তোলে, তাঁদের কাছে বিরাট মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করলেন সুপ্রিমকোর্ট! প্রাক্তন বিচারপতি এ পি শাহ বললেন, সুপ্রিমকোর্ট তাঁদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষ আজ মৃত্যুর কিনারায়। রুপালি রেখা অবশ্য আছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, মাদ্রাজ, গুজরাট সহ দেশের ১২ টি হাইকোর্ট পরিযায়ী শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার অধিকার সুরক্ষায় হস্তক্ষেপ করেছেন। বিপুল সমালোচনা ও জনমতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে, হাইকোর্টগুলির সদর্থক ভূমিকা দেখে, পরবর্তীকালে সুপ্রিমকোর্টের তিনজন বিচারপতির পরিযায়ী বা ভিন্নরাজ্যের কর্মরত এই সমস্ত ঘরমুখী শ্রমিকের জন্য সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।

    আরও পড়ুন, ভারতে আইনের শাসনের সাম্প্রদায়িক চেহারা নিয়ে আলোচনা

    বড়ো বড়ো বিবৃতি, চমক লাগানো ঘটনা ঘটানো (ঢাকঢোল, কাঁসর বাজানো, মোমবাতি জ্বালানো, বিমান থেকে পুষ্প বৃষ্টি ইত্যাদি) হয়তো ভোটের কাজে লাগতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে করোনা পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। লকডাউনের ৪১ দিনের মাথায় সুপ্রিমকোর্টকে ভারত সরকার জানাল, রাস্তায়, জনপদে কোনো পরিযায়ী শ্রমিক নেই, তারা সবাই নিরাপদ সেন্টারে আছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত খাদ্যও পাচ্ছেন!! দিনদুপুরে ডাকাতির মতো। সরকারের তরফে একজন ডাক্তার পাল পি পি পি দিয়ে বলেছিলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের লকডাউনের সময়ে যে, ৩ মে-র পর আর করোনা আক্রান্ত কেউ থাকবেন না অথচ রোজ পজিটিভ রেট ঊর্ধ্বমুখী। ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ভারতবাসীকে জানালেন, বিদেশ থেকে আগর সমস্ত যাত্রীকে সব বিমানবন্দরে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাস্তবে শুধুমাত্র তিনটি বিমানবন্দরে ও শুধুমাত্র চিন ও এবং হংকং থেকে আগত যাত্রীদের পরীক্ষা করা হয়েছিল। ততক্ষণে কিন্তু ২০টি দেশ ঘোষিত ভাবে আক্রান্ত।

    এপ্রিল মাসেই নানা মহল থেকে ভারত সরকারকে বলা হয়েছিল, শুধু লকডাউন নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক নানা পদক্ষেপ করা উচিত, মানুষের মধ্যে খাদ্যের সুষম বণ্টন ব্যবস্থা করা উচিত, উন্নত মানের সেন্টারের বন্দোবস্ত করা উচিত। অপরিকল্পিতভাবে, দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে লকডাউন ঘোষণার পরে বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার চেষ্টার বদলে মিথ্যাচার চলতে থাকল। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নভিত উইগ সরকারি সভাতেই ২৯ এপ্রিল সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে বললেন, আর মিথ্যে বলবেন না। সত্য বলুন ভারতবাসীকে! তা তো বলাই হল না, এমনকি ২১ সদস্যের টাস্ক ফোর্সের উপদেশ, সুপারিশ অগ্রাহ্য করেই ১ মে লকডাউন বাড়িয়ে দেওয়া হল। এই সরকারের আর-একটি কৌশল প্রণিধানযোগ্য। কোনো বিষয়ে বিদেশি প্রশংসা পেলেই নিজ অনুকূলে সোচ্চারে ব্যবহার করে। কিন্তু বিদেশ বা স্বদেশ থেকে কোনো গঠনমূলক সমালোচনা পেলেও তাকে ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বলে খারিজ করে দেওয়া। তখন অস্বীকারের রাজনীতির আশ্রয় নেয়। তারই নগ্ন প্রতিফলন দেখা গেল অতি সম্প্রতি। অ্যামনেস্টি ইনটারন্যাশনাল ভারতের কাজকর্ম বন্ধ করে নেওয়ার জন্য তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিল করে দেয় ভারত সরকার। ফলে ২৯ সেপ্টেম্বর তারা ভারত ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। শুধু অস্বীকার নয়, হিংস্র রাষ্ট্রীয় আক্রমণও নামিয়ে আনা হল। বিদেশি অনুদানের উপর বিধিনিষেধ ও নজরদারি আরও কঠিন করা হল। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, যা অনুমেয়ও বটে: পি এম কেয়ার্স ফান্ড।

    সবচেয়ে উদবেগের ব্যাপার হল, করোনা ভাইরাসকে হাতিয়ার করে, নির্দিষ্ট জরুরিকে ক্ষমতাকে স্বেচ্ছাচার ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে নানা ভাবে। কাশ্মীরে ডোমিনিয়ন অর্ডিন্যান্স জারি করার চেষ্টা, প্রবল প্রতিবাদকে উপেক্ষা করে জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাংক প্রধান পদে কাশ্মীরের বাইরের লোককে নিয়োগ করা, দিল্লির তবলিগ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিদ্বেষ চূড়ান্ত স্তরে নিয়ে যাওয়া, দিনের পর দিন বেআইনি ভাবে বন্দি করে রাখা ৫ হাজার মানুষকে, যা মিডিয়ার দৌলতে নতুন নর্ম্যাল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ মান্যতা পেয়েছে। রাজ্যসভায় পেশ করা সর্বশেষ পরিসংখ্যা অনুসারে, মেহবুবা মুফতি সহ ২২৩ জন রাজনৈতিক বন্দি কাশ্মীরে রয়েছেন। মেহবুবা অবশ্য সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। আরও লক্ষণীয়, করোনা পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই গৌতম নাভলাখা, আনন্দ তুলথাম্বে, অধ্যাপক হ্যানি বাবুকে এনআইএ দিয়ে গ্রেফতার, রাজনৈতিক বন্দিদের জেল থেকে মুক্তি না দেওয়া, অরুণ ফেরেরা সহ বাকিদের চার্জশিট এর কপি জেলে নিজেদের জিম্মায় রাখতে না দেওয়া এক চরম মৌলিক আইনের শাসনবিরোধী। কবি ভারাভারা রাও আশির বেশি বয়স হওয়া সত্ত্বেও মুক্তি না দেওয়া মানবতাবিরোধী কাজ। ১২ মে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক পরিবেশের খর্বতা নিয়ে একটা বাক্য ব্যয় করলেন না। যেন বিলকুল সব ঠিক আছে।

    করোনা ভাইরাস এর আবহে কেন্দ্রীয় সরকার আক্রমণ নামিয়ে এনেছে কাশ্মীরের মহিলা সাংবাদিকের ওপর, গ্রেফতার করেছে বিরোধী মহিলা অন্তঃসত্ত্বা আন্দোলনকারীকে। ওমর খালিদের বিরুদ্ধে দিল্লি প্রোগ্রামকে ব্যবহার করে ইউএপিএ-তে এফআইআর দায়ের করেছে। এই গণহত্যার দায় আন্দোলনকারীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে; এমনকি অভূতপূর্ব ভাবে দেশের প্রাক্তন ‘বিখ্যাত’ পুলিশ আধিকারিকরাও প্রতিবাদ জানিয়েছে। উমর খালিদকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ম্যাকবেথের অবিস্মরণীয় কথারই বাস্তব রূপ প্রত্যক্ষ করছি আমরা: “Foul is Fair, Fair is Foul.” পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে, লকডাউন ভাঙার অজুহাতে পুলিশের নানা ধরনের বেআইনি অত্যাচার নিয়ে সরকারি কমিশনগুলোও নীরব। পশিমবঙ্গে রেশন ঘিরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে পুলিশ দিয়ে দমন করা হচ্ছে। আরও উদবেগজনক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। উদ্‌বৃত্ত খাদ্য গরিবতম মানুষের মধ্যে বণ্টন না করে তা দিয়ে এথানোল প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৪ সালের পর ক্ষুধা সূচকে ভারত অনেক ধাপ নেমে গেছে। চোখে গরিব পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য কান্না, আর বাস্তবে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভারত সরকার।

    আরও পড়ুন, আইনের শাসন শেষত কতটা কার্যকর হতে পারে?

    এর অর্থ এই নয় যে, পরিযায়ী শ্রমিকের অবস্থা প্রাক্‌-লকডাউন পর্বে ভালো ছিল। রাধিকা জৈন দেখিয়েছেন, বছরের পর বছর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি চরম উদাসীনতা ও অবহেলা দেখিয়ে আসছে। ১৯৬০-এর দশকে মুম্বাই-এ ‘মারাঠি মানুষ’ আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১২ সালের ব্যাঙ্গালোরে উত্তর-পূর্বাঞ্চল শ্রমিকদের বিতাড়নের আন্দোলন আমাদের স্মরণ আছে। স্থানীয়দের ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার ভুরি ভুরি উদাহরণের সাথে আমরা পরিচিত। কমন কজ এবং সিএসডিএস-এর ২০১৮ সালের ২২ রাজ্যের পুলিশ পরিযায়ী শ্রমিকের সাথে কী ধরনের ব্যবহার করে তা নিয়ে সমীক্ষা করে। সেই রিপোর্ট দেখাচ্ছে, পুলিশ নগ্নভাবে পরিযায়ী শ্রমিকের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। সরকারগুলো উদাসীন। ২০১৯ সালে সাতটা রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক বান্ধব নীতি কতখানি কার্যকরী হয়েছিল তা নিয়ে একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য, গৃহ, স্যানিটেশন, সামাজিক সুরক্ষা, শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, ইত্যাদি মানদণ্ডের নিরিখে কেরালা অনেক এগিয়ে। দিল্লি সবার পেছনে। সুতরাং আর্থসামাজিক বৈষম্যটা, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা, নির্মমতা লকডাউনে কুৎসিত ভাবে প্রকাশ পেল।

    আদিত্য ভট্টাচার্যের গবেষণা বা কে আর শ্যাম সুন্দর এর গবেষণা দেখিয়েছে, বর্তমানের শ্রম আইনগুলো প্রায় ৯০% শ্রমিকের জন্য অপ্রাসঙ্গিক আজ। শ্যাম সুন্দরের অনবদ্য ভাষায়, সেগুলো আজ আর কাগুজে বাঘও নয়। শ্রম আইনের সংস্কার নিয়ে সংসদে ২০১৯ সাল থেকে শিল্প সম্পর্ক কোড এর স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট পড়ে আছে। সেগুলোকে উপেক্ষা করে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান সরকার সহ অন্যান্য সরকার অর্ডিন্যান্স এর মাধ্যমে একই মজুরি রেখে কাজের সময়সীমা ১২ ঘণ্টা করে দিয়ে, যৎসামান্য সুরক্ষাগুলোকে জলাঞ্জলি দিল ঐতিহাসিক মে দিবসের মাসে। এই পরিবর্তন শ্রমিকের শ্রমশক্তি, শরীর, স্বাধীনতা ও মানুষের শ্রম মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করল। আসলে এই শ্রম শক্তিটাকেই নতুন ভারতের আধুনিক ক্রীতদাসত্বে রূপান্তর ঘটাতে চলেছে; নতুন শূদ্র সমাজের সৃষ্টি করবে মনুবাদীরা। সাম্প্রতিক কৃষি বিল ও শ্রম আইন বিল কৃষকদের কর্পোরেটের রক্তচোষা মুনাফার লোভের শিকার করাবে ও শ্রমিকদের স্থায়ীভাবে চুক্তিভিত্তিক শ্রমদাসে পরিণত করাবে।

    অর্ডিন্যান্সগুলো পুনরায় আমাদের গুরুতর উদবেগ সত্য বলে প্রমাণিত করল যে, ‘হিউম্যানিটেরিয়ান ইমার্জেন্সি’ ক্ষমতাকে কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্যসরকারগুলো স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতায় পর্যবসিত করল। এবং এমন একটা সময়ে যখন সামান্য প্রতিবাদের সুযোগটুকুও অপসারিত। যা কিছু করা হচ্ছে, চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সবই জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য, তাদের সুরক্ষার নামে। টপ ডাউন অ্যাপ্রোচে-এ রক্তমাংসের মানুষের অংশগ্রহণ তাই বাদ। ধনীর উপর কর বসিয়ে অর্থ আদায় করে তা করোনা রিলিফ প্রকল্পে ব্যয় করা যেতে পারে—এটুকু প্রবন্ধ লিখে মতপ্রকাশ করাতেই চারজন সিনিয়র রাজস্ব আধিকারিক সাসপেন্ড হয়েছেন। কোনো আইনের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও আরোগ্য অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক বলে ফতোয়া জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    করোনা মোকাবিলার প্রধান দাওয়াই—সামাজিক দূরত্ব। কিন্তু এই সু্যোগে ভারত সরকার, তার শাসক দল, সংঘ পরিবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে আরও সামাজিক দূরত্ব বাড়িয়েছে। ঈদের আগেই করোনা দূর হয়ে যাক—প্রধানমন্ত্রীর এহেন বার্তা তারই ভক্তদের দ্বারা তীব্রভাবে ট্রোলড। পাশাপাশি, ধনী, মধ্যবিত্ত সমাজের সাথে, হাজার-লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের সাথে সামাজিক দূরত্ব করে দিল।

    করোনার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়েছিল ‘জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়’ দিয়ে। ৫০ দিনের মাথায় বলা হচ্ছে, ‘জান অউর জাহান’! জীবন যাবে, জীবিকা যাবে, ভাইরাস নিয়েই বাঁচতে হবে। জীবন যাবে গরিবের, জীবিকাও যাবে তাদের, আর আমরা শুধু দেখে যাব। আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি নতুন সমীকরণ: গণতন্ত্রকে সংকুচিত করো, সম্প্রদায়গত দূরত্ব ও বিদ্বেষ বাড়াও, হতদরিদ্র ভারত থেকেও দূরত্ব বাড়াও, হৃদয়হীন থাকো, কোনো দায়বদ্ধতা রেখো না। প্রশ্ন হল, আমরা কি মেনে নেব?

    ২০০৭ সালে নাওমি ক্লেইন তাঁর সাড়া জাগানো ‘The Shock Doctrine’-এ দেখিয়েছেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় (হ্যারিকেন, ক্যাটরিনা), যুদ্ধ (ইরাক যুদ্ধ) অথবা ৯/১১ সেপ্টেম্বরের মতো ঘটনাকে হাতিয়ার করে শক থেরাপি দিয়েছে আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশ। মিল্টন ফ্রেডম্যান এর মত ছিল, যত সংকট, বৃহৎ বিপর্যয়, আসবে তত পুঁজিবাদের রমরমা হবে। সহজেই তখন জরুরি পরিস্থিতির সুযোগে কর্পোরেট পুঁজি সরকারি বিনিয়োগকে হটিয়ে দেবে, সরকারি সংস্থাগুলোকে বেসরকারিকরণ করে আধিপত্য কায়েম করবে। ক্যাটরিনার ক্ষেত্রে দেখা গেল, সবচেয়ে আক্রান্ত নিউ আর্লিন্স স্টেট-এ সমস্ত সরকারি স্কুল, হাসপাতাল, এমনকি নতুন গৃহ নির্মাণ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এগুলো যাতে কঠোরভাবে কার্যকর হয় রাষ্ট্র আরও দায়বদ্ধতাহীন ক্ষমতা ভোগ করবে, শক থেরাপি দেবে। ক্লেইন এর নামকরণ করেছেন ‘ডিজাস্টার ক্যাপিটালিজম’।

    স্বীকার্য, রাষ্ট্রসংঘের একাধিক মানবাধিকার ঘোষণায়, সনদে ‘জরুরি অবস্থায়’ রাষ্ট্রের হাতে (ইউ এন এর পরিভাষায় নেশন) কিছু বিশেষ ক্ষমতার ব্যবহার ও কিছু নাগরিক/মানবাধিকারের উপর নিয়ন্ত্রণের অনুমোদন দেওয়া আছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি সেই ধরনের বিপর্যয়ভুক্ত। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলা জরুরি যে, এই ‘বিশেষ ক্ষমতা’ মোটেই নিরঙ্কুশ নয়। ‘প্রয়োজনীয়তার নিয়মাবলি’ (Rule of Necessity) কঠোরভাবে প্রযোজ্য। বাস্তব পরিস্থিতির বাস্তব মূল্যায়ন এবং তার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও তার প্রয়োগ সংগতিপূর্ণ ও সাযুজ্যপূর্ণ কিনা দেখাতে হবে ও বিশেষ পদক্ষেপগুলোর কার্যকারণ সম্পর্কও দেখাতে হবে।

    আগেই বলেছি, ভারত সরকার করোনার প্রেক্ষিতে লকডাউনের সুযোগ নিয়ে একের পর এক চূড়ান্ত স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বলপূর্বক কার্যকর করেছে। এর উপর, ১৩ মে-র পর থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ভারত সরকার ঘোষণা করে গেছে একের পর এক আইন পরিবর্তনের, বলে গেল বেসরকারি সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হবে দেশের সম্পদ, গরিব নাগরিকের অধিকার বা এনটাইটেলমেন্টগুলো নস্যাৎ করে গরিবদের দেওয়া হচ্ছে এমপাওয়ারমেন্টের সুযোগ—ফাঁকা, ধোঁকাসর্বস্ব স্লোগান আউড়ে খাদ্যের কর্পোরেটকরণ করাই হল আসল লক্ষ্য। ‘দেশ সবার আগে’ স্লোগানধারী তথা একমাত্র দেশপ্রেমিক শাসক দল জরুরি পরিস্থিতির সুযোগে সংসদ, রাজ্যসরকার, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন পেশাগত সংগঠন, বিশেষজ্ঞদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই প্রধানমন্ত্রীর পুরাতন হট ফেভারিট ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর ঢঙে দেশ বেচে দেওয়ার ঘোষণা করে যাচ্ছে। কিছু ঘোষণা অবশ্য যে নেহাতই ২০১৪ সাল থেকে বাজেটে বলে আসা কিছু ঘোষণার পুনরাবৃত্তি তা চমৎকার ভাবে দেখিয়েছেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাংবাদিক হরিকিষণ শর্মা (১৬. ৫. ২০২০)।

    সংসদ, আইনের কাঠামো—কোনো কিছুই মান্যতা দেওয়ার বিন্দুমাত্র দরকার নেই বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে (‘স্টেট অফ এক্সপ্রেশন’)—এই থিয়োরি হাজির করেছিলেন জার্মানির ওয়েইমার রিপাবলিক সময়ের ও পরবর্তীকালের নাৎসি জার্মানির সক্রিয় সমার্থক কার্ল স্কমিট (Schmitt-1888-1985)। তাঁর এই তত্ত্ব এত বছর বাদে বিভিন্ন দেশের ‘দক্ষিণপন্থী’, অভিবাসন-বিরোধী, মুসলিম বিদ্বেষী এবং সাদা চামড়ার শ্রেষ্ঠত্ব-এ বিশ্বাসী শক্তিগুলো বিশেষভাবে ব্যবহার করছে। ভারতেও বর্তমান শাসকদলের পূর্বসূরি জনসংঘ পঞ্চাশের দশক থেকেই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান ভেঙে তারা এককেন্দ্রিক ক্ষমতাসম্পন্ন সংবিধান নির্মাণ করবেন, বহুমুখী সংস্কৃতি বাতিল করে এক দেশ এক আইন, এক মানুষ তৈরি করবেন; করোনা পরিস্থিতির সু্যোগে Schimtt-এর তত্ত্ব তাকেই জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। বলেছিলেন তাঁর অন্যতম বিখ্যাত ‘Political Theology’ গ্রন্থে যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনিকাঠামো, আইনের শাসন অচল। রাজনৈতিক কর্তৃত্বই শুধুমাত্র ঠিক করবে কখন এক্সপ্রেশন পর্ব শুরু হবে। তখন আইনকে শিকেয় তোলা হবে। ক্ষমতা যা বলবে তা মেনে চলতে হবে। আইনিকাঠামো, সংবিধান—সবকিছুই রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে, যার কোনো দায়বদ্ধতা নেই কারও কছে। Schimtt সরাসরিভাবে সার্বভৌম কর্তৃত্বের স্বৈরতন্ত্র কায়েমের কথা বলেছিলেন (পৃষ্ঠা ১০, ১২, ১৩)। ভারতে আমরা এখন তা প্রত্যক্ষ করছি। সংসদের গুরুত্বকে একেবারে কমিয়ে এনে শুধুমাত্র বিল পাসের জন্য শিলমোহর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই প্রতিনিধিত্বমূলক স্তম্ভকে।

    আর-একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, আগামবেন (Agamben) এই স্টেট অব এক্সপ্রেশনকে কীভাবে রাষ্ট্র স্বাভাবিক শাসন করে নেয়, ব্যতিক্রমটাই বা জরুরি পরিস্থিতিকেই সহজাত, স্বাভাবিক পরিস্থিতি করে হাজির করে করে দেবে, যা গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বাজায়। করোনা পরিস্থিতিকে এইভাবেই রূপ দিতে চাইছে রাষ্ট্র বলে আগামবেন ২৩/২-১৭/৩ তারিখে দুটি প্রবন্ধে মতপ্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে ইউরোপের দার্শনিক জগতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি বলছেন, করোনা প্রতিরোধ করতে গিয়ে নাগরিকরা রাষ্ট্রের সমস্ত কাজকে অনুমোদন করছে শুধুমাত্র নগ্ন মানবদেহটাকে বাঁচানোর জন্য। তাকে ঘিরে ভয়ের তরঙ্গ সমস্ত সামাজিক সম্পর্ক, স্বাভাবিক জীবনচর্চা, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ইত্যাদিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সংক্রমণ এর ধুয়া তুলে রাষ্ট্র আমাদের শুধুমাত্র জৈব জীবনে ঢুকিয়ে দিতে চাইছে; মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক সত্তাকে হত্যা করতে চাইছে।

    দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্র করোনাকে হাতিয়ার করে বলতে শুরু করে দিয়েছে, পৃথিবী আর স্বাভাবিক হবে না। পৃথিবী এখন থেকে নিরন্তর জরুরি বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির (Perpetual state exception) মধ্যে দিয়ে চলবে। এবং ফলে আর স্বাভাবিক গণপ্রতিবাদ, গণবিক্ষোভ ইত্যাদি বাতিল হবে; এবং এই পর্বে বলবৎ থাকবে শুধুমাত্র কর্তৃত্বের ‘Homogeneous medium’। রাষ্ট্র নাগরিকদের মেসেজ, স্কাইপ, জুম ইত্যাদির মধ্যে ঢুকিয়ে দেবে, নাগরিকরা গৃহবন্দি জীবনে যাতে তথাকথিত সুখে নানা বোনাঞ্জা অফার নিয়ে, বিনোদনে সময় কাটিয়ে দিতে পারে, তার জন্য লক ডাউন ছিল একটা পরীক্ষানিরীক্ষা। আগামবেনের মতে, স্পেনিয় ফ্লু ৫ কোটি লোকের জীবন নিয়েছিল, পৃথিবী ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধের পরেও সভ্যতা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এবারও ঘুরে দাঁড়াবে।





    এই প্রবন্ধ একটি পূর্বপ্রকাশিত লেখার পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত রূপ। ছবি: ইন্টারনেট
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ২১৬৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan Banerjee | ২৯ অক্টোবর ২০২০ ২০:৪৭99345
  • লেখক খুব ভালো এবং বর্তমান সময়ের বিচারে একদম যথার্থ লিখেছেন । বর্তমান সময়ের পরিস্থিতিতে ভীষণ অসহায় লাগছে চারদিকে শুধু হিংসা আর ঘৃণা । হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলাটাই এখন ভবিতব্য আমাদের । খারাপ লাগছে এই গুলো বলতে কিন্তু না বলেও হয়তো উপায় নেই । 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন