• বুলবুলভাজা  আলোচনা  সমাজ  সিরিয়াস৯

  • ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বিশেষ: গর্গ চট্টোপাধ্যায় (বাংলা পক্ষ)-এর সাক্ষাৎকার

    গুরুচণ্ডা৯
    আলোচনা | সমাজ | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫৩৫ বার পঠিত | ৩ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস বটে, এই দিনে বাঙালির ভাষাপ্রেম গাঢ়তর হয়ে ওঠে। ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়ের যে সংকট, তা ক্রমশ বর্ধমান। এবং সে সংকটসমূহ থেকে পরিত্রাণের জন্য পথসন্ধানের আকার ও প্রকার ক্রমশ পরিবর্তনশীল। ভাষাদিবসের কিঞ্চিদধিক প্রাক্কালেই তাই, সিরিয়াস৯ র এই সংখ্যা, যাতে থাকছে তিনটি সাক্ষাৎকার। বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায় কথা বলেছেন সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে, জাতীয় বাংলা সম্মেলনের অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলার মুখের অসিত রায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন তাপস দাশ।

    ভারতের সামগ্রিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে আপনাদের ধারণা কী? ভারতীয়ত্ব কি একটি জাতি পরিচয়, নাকি বাঙালি একটি জাতি পরিচয়, নাকি দুটোই?

    ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর যে মূল ধারণা, সেই মূল ধারণাটা ভারতীয় সংবিধানের প্রথম লাইনে লেখা আছে। India that is Bharat will be a union of states অর্থাৎ ভারত বা ইন্ডিয়া হবে একটি রাজ্য সংঘ। এবার ভারতের রাজ্যগুলো কিসের ভিত্তিতে? ভাষার ভিত্তিতে, কারণ সেখানে যে জাতি থাকে তার ভাষা, ভাষা তো আর হাওয়ায় ভেসে যায় না, অর্থাৎ Bharat is a Union of states অর্থাৎ is a Union of জাতি। তার মানে, ভারত হচ্ছে একটি জাতিসংঘ। রাষ্ট্রসংঘ নয়। জাতিসংঘ বা জাতির আবাদ এলাকার সংঘ। জাতির আবাদ এলাকাকেই তো রাজ্য বলে, যদি ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য হয়। এটা গেল ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, এবার যুক্তরাষ্ট্র কেন বলা হয়, এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র কেন বলা হয় না - তার কারণ এটা একজাতীয় রাষ্ট্র নয়। ভারত একটি বহুজাতিক রাষ্ট্র। বহুজাতিক রাষ্ট্র বলেই আমরা বলি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো। এবার যদি বলি ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বর্তমান অবস্থা নিয়ে কি আমরা খুব খুশি? বাংলা পক্ষের দিক থেকে বলি, না একদমই খুশি নই। তার কারণ. আমরা মনে করি একটি রাজ্যের হাতে বা একটি জাতিসমূহের হাতে যে যে ক্ষমতাগুলো থাকা উচিত নিজেদের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ নির্মাণ করার ভারতীয় সংবিধানের অধীনে ভারতীয় সাংবিধানিক কাঠামোয় ভারতের ঐক্য এবং সংহতিকে সুদৃঢ় করতে তার পক্ষে এই অতিকেন্দ্রিকরণ যে কাজ করে না, বিশ্বজনীন সেই উদাহরণগুলো আমরা বারবার দেখে এসেছি। অতিকেন্দ্রিকরণ বা একীকরণ আসলে ঐক্য এবং সংহতি বিনষ্টকারী।

    যেহেতু বাংলা পক্ষ ভারতের ঐক্য এবং সংহতির পক্ষে, সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে চোখের মণির মতো করে রাখার পক্ষে তাই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো তথা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রকে আরো সশক্ত করতে আমরা চাই যে রাজ্য অধিকার বৃদ্ধি হোক, বৃদ্ধি কতটা হবে, সেটাও বাংলা পক্ষ প্রকাশিত দস্তাবেজে দেওয়া রয়েছে। আমাদের ৩0 দফা দাবি সনদ রয়েছে, সেখানে আমরা পরিষ্কার বলি, যে, external defense, অর্থাৎ পররাষ্ট্র থেকে আক্রমণ, তারপরে পররাষ্ট্র সম্পর্ক অর্থাৎ external affairs এবং মুদ্রানীতি অর্থাৎ currency এই তিনটে জিনিস কেন্দ্রের হাতে থাকা দরকার এছাড়া সবকিছু রাজ্যের হাতে থাকা দরকার। এবং residual power বা অবশিষ্ট বা সামনের দিনে যে যে জিনিস উদ্ভূত হবে যা একসময় সংবিধান প্রণেতারা সেই সময় দাঁড়িয়ে বুঝতে পারেন না, তাও। যেমন ইন্টারনেট। এই ধরনের জিনিস গুলো পরে বেরিয়েছে। এই জিনিসগুলো যেন রাজ্যের অধিকারে থাকে অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে যেন রাজ্যের পরিধি বৃদ্ধি পায়, এখন হচ্ছে উল্টোটা। এইটা হল মূলত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে ধারণা আমাদের।

    আরও পড়ুন, জাতীয় বাংলা সম্মেলনের অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার

    ভারতীয় সংবিধানে যেহেতু কেন্দ্রীয় তালিকায, যুগ্ম তালিকা এবং রাজ্য তালিকা আছে, ফলে কোন তালিকায় কতগুলি আছে তার সাংবিধানিক, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এপার ওপার করা যায়। এর আগে যেমন রাজ্য তালিকা থেকে যুগ্ম তালিকা শিক্ষাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।‌ এরকম অনেক অনেক উদাহরণ আছে। অর্থাৎ এই যে তালিকাগুলোর মধ্যে হেরফের করা একটা থেকে একটা নিয়ে যাওয়া এটা সম্ভব, এটা সাংবিধানিক, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব আমরা সেটাই চাই। এটা হচ্ছে বাংলা পক্ষর চূড়ান্ত লক্ষ্য। এবার আপনি প্রশ্নটা যেহেতু একটু আগেই করলেন যে ভারতীয় একটি জাতি কি না, বাঙালি একটি জাতি কি না, যখন বলছি ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন যা ভারত রাষ্ট্রের আসল নাম বা পোশাকি নাম বলতে পারি আমরা।

    ভারতীয় হচ্ছে নাগরিকত্ব, যেরকম কেউ আমেরিকায় চলে যেতে পারে সে আগে ভারতীয় নাগরিক ছিল, আমেরিকায় চলে আমেরিকান নাগরিকত্ব নিল আমেরিকান হয়ে গেল। ভারতীয় রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর মধ্যে চলে গেল খুব পরিষ্কার। কিন্তু জাতিসত্তা বা জাতি জিনিসটা কিন্তু সম্পূর্ণ অন্যরকম। সেটা আমাদের জন্ম থেকে শুরু হয় এবং সেটা আমাদের মৃত্যু দিয়ে শেষ হয় না কারণ সেটা আমাদের আগামী প্রজন্ম মধ্য দিয়ে বাহিত হয়ে চলতে থাকে। ধর্ম যেরকম, কেউ চাইলে মুসলমান থেকে হিন্দু হতে পারে কোর্টে গিয়ে কাগজপত্রের বিধান নিয়ে। তারপরে ধরুন কেউ ভারতীয় থেকে ক্যানাডিয়ান হয়ে যেতে পারে যেমন অক্ষয় কুমার হয়েছে। কেউ আবার ব্রিটিশ থেকে ভারতীয় হয়ে যেতে পারে, যেরকম এককালে বিখ্যাত বিজ্ঞানী জেবিএস হ্যাল্ডেন হয়েছিলেন। কিন্তু বাঙালি থেকে মাড়োয়ারি হওয়ার কোন কাগজ হয় না কারণ এটা অসম্ভব, তাই বাঙালি হচ্ছে একটি জাতি। সুকুমার সেন লিখে গেছেন খুব পরিষ্কার যে ভাষা নিয়ে জাতি। জাতির ভিত্তিতে ভাষা এটা দক্ষিণপন্থী থেকে বামপন্থা, রাশিয়া থেকে বাংলা সব জায়গায় মানুষ এটা বোঝে, এই নিয়ে আসলে খুব জটিলতার কিছু নেই । বাঙালি আমাদের জাতীয়তা ভারতীয় আমাদের নাগরিকত্ব।

    যে কোন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে, তাত্ত্বিকভাবে, তা সে সোভিয়েত ইউনিয়নে হোক বা আমেরিকাতেই হোক, জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত, এই ব্যাপারে বাংলা পক্ষের অবস্থান কি? তারা কি ভারতীয় জাতীয় গুলির নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ অধিকারের কথাও বলে, দরকার হলে বিচ্ছিন্ন হওয়ার?

    একদমই না। এই ভারতবর্ষ বাঙালির রক্তে গঠিত হয়েছে, মাড়োয়ারি রক্ত ঝরিয়ে গঠিত হয়নি, গুজরাটি রক্ত ঝরিয়ে গঠিত হয়নি। এতে আমরা গর্ববোধ করি। সে অর্থে বলতে গেলে ভারত বাঙালির সৃষ্টি। অন্তত ৫ আগস্ট পরবর্তী যে আকার আমরা দেখতে পাই ভারতবর্ষের। আমরা যখন বললাম পররাষ্ট্র, মুদ্রানীতি এবং পররাষ্ট্র থেকে আক্রমণ থেকে বাঁচানো অর্থাৎ প্রতিরক্ষা - এই তিনটি জিনিস লক্ষ করে দেখবেন এই দিনটিতেই আসলে প্রতিটি জাতির যে সম্পূর্ণ ক্ষমতা আছে এই বিশ্বমাঝারে, সেখানে এই ক্ষমতাগুলি একে অপরের সাথে জুড়লে ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যেমন সৈন্য। বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে যদি সৈন্য সমাবেশ বিপুল পরিমাণে করা যায় তাহলে বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরক্ষা থাকবে। আমরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করব আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার না দিয়ে বরং আত্মকে আরও রক্ষিত করতে। এটা সাময়িক তাই এটা কেন্দ্রের। ভারতের এক্সটার্নাল ডিফেন্সও সেরকম একটা ভৌগোলিক জায়গায, কারেন্সিও তাই এবং আমরা ভারতের যে কোনো রকম বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে। বিচ্ছিন্নতাবাদ টিপিক্যালি রাজ্য অধিকারের শক্তি যেমন বাংলা পক্ষ জাতি অধিকারের শক্তি, কিন্তু ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে যারা রাজ্য অধিকা,র জাতি অধিকার এগুলোকে ধ্বংস করে দিতে চায় তারাই বিচ্ছিন্নতাবাদের পন্থী। রূপক দিয়ে বলা যায়, ভারত নানা রকম ফুলের সমাহার যেমন গাঁদা ফুল আছে, টগর ফুল আছে, রজনীগন্ধা, রক্ত জবা, অপরাজিতা সব আছে। ভারতবর্ষে এক সূত্র দিয়ে বাঁধা। এবার এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিন্দি সাম্রাজ্য বানানো মানে কি? সবকটা ফুলকে গাঁদা হতে হবে। সবকটা ফুল যদি গাঁদা ফুল হয়ে যায়, বহু ফুলের মালাকে যদি গাঁদা ফুলের মালাতে পরিণত করতে হয়, তাহলে মালাটাকে ছিড়তে হবে, তারপর অন্য ফুলগুলোকে বার করে তার জায়গায় গাঁদা ঢোকাতে হবে। অর্থাৎ যাঁরা এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রীয়তা কল্পনা করেন, তাঁরাই ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং তাঁরাই এটা কল্পনা করতে পারেন। তার কারণ তাঁরা রক্ত দিয়ে ভারত স্বাধীন করেননি, বাঙালি করেছে। তাই ভারতের ঐক্য এবং সংহতি নিয়ে আমাদের এসে যায়।

    এইটা শুনে আমার দুটো প্রশ্ন এল। প্রথম প্রশ্নটা করে ফেলি। প্রথম কথা হচ্ছে আপনি যেভাবে বলছেন মুদ্রা ব্যবস্থা কেন্দ্রের হাতে থাকলে, কর ব্যবস্থা কাদের হাতে থাকবে বলে আপনি মনে করছেন? কারণ মুদ্রা ব্যবস্থা কেন্দ্রের হাতে থাকলে ঘরের বেশিরভাগ অংশ কেন্দ্রের কাছে যাবে এবং কেন্দ্রের একটা আধিপত্য তৈরি হতে বাধ্য। এই সমস্যাটার কিভাবে সমাধান হবে?

    কর এবং মুদ্রার বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা মনিটারি পলিসি আর কর তোলার ক্ষমতা এই দুটো আলাদা জিনিস প্রথম কথা বলি যে এই ব্যবস্থাটা কি রকম হওয়া উচিত এই নিয়ে কিন্তু বাংলার সরকারের থেকে পঞ্চাশের দশকে বা ষাটের দশকের প্রথম দিকে বাংলা তদানীন্তন সরকার তারা কিন্তু দিল্লি কে চিঠি লিখেছিল এবং কেন্দ্র কোন টাকায় চলবে যদি আসলে করে সব ক্ষমতা যদি রাজ্যের হাতে চলে যায় আমরা বিশ্বাস করি করের সব ক্ষমতার রাজ্যের হাতে যাওয়া ঠিক না তাহলে কিভাবে চলবে এটাতো একটা প্রশ্ন আসে তাই না? এবার কেন্দ্র তার বাজেট দেবে এবং ইন্টারস্টেট কাউন্সিল এরকম যে সাংবিধানিক বডি গুলি রয়েছে তারা মিলে ঠিক করবে যে এর কতটা গ্রাহ্য হবে রাজ্যগুলির জনসংখ্যার ভিত্তিতে কন্ট্রিবিউট করবে এবং কেন্দ্র চলবে। কেন্দ্র তো আমাদেরই কেন্দ্র সে তো আলাদা কিছু না রাজ্যগুলো মিলিত লোক পাঠিয়ে কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।

    আরও পড়ুন, বাংলার মুখের অসিতবরণ রায়ের সাক্ষাৎকার

    তাহলে আপনি আরেকটা সাংবিধানিক বডি তৈরি করার কথা ভাবছেন যেটা ইন্টারস্টেট কাউন্সিল?

    আমি ভাবছি না। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় তাঁর চিঠিতে এইভাবে কেন্দ্র চালানোর এবং কর ব্যবস্থা পরিচালনার কথা বলে গেছেন। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে প্রেক্ষিতটাও বোঝা জরুরি। রাজ্যের হাত থেকে সব কর বসানোর ক্ষমতা, কর বৃদ্ধির ক্ষমতা, কর হ্রাস করার ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলা পক্ষ মনে করে জিএসটি বসানো বা জিএসটি যে রাজ্য গুলোর ক্ষেত্রে অসঙ্গত হয়ে যাওয়া এর ফলে রাজ্যর অস্তিত্ব রাখে না। রাজ্য সত্তা ধ্বংস করে দেওয়ার সবচেয়ে ভয়ানক আঘাত হল এটা যেটা হয়েছে যে আমরা আজকে যদি মনে করি যে বিড়ি সিগারেট খেলে ক্ষতি হবে এবং এই ক্ষতি থেকে বাংলার মানুষকে বাঁচানোর জন্য কর বাড়াবো, তা করতে পারি না। নির্বাচিত রাজ্য সরকারের হাতে কর ব্যবস্থার মতো মৌলিক বিষয়ে যদি নীতি নেওয়ার ক্ষমতা না দেওয়া হয়, তাহলে রাজ্যকেই খানিকটা প্রহসন করে দেয় এবং রাজ্য সরকার ব্যবস্থাটাকেই প্রহসন করে দেয়। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ এটাই চায়। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ চায় না যে, অহিন্দি রাজ্যগুলির হাতে করব্যবস্থা থাকুক, তাদের নিজেদের খরচ করার স্বাধীনতা থাকুক। তারা যেন সম্পূর্ণ দিল্লি নির্ভর হয়ে পড়ে।

    দ্বিতীয় প্রশ্নটা আপনার আগের বক্তব্য থেকে এলো। আপনি বললেন যে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছে বাঙালির রক্তে গুজরাটি বা মাড়োয়ারি রক্তে নয়। এটা হয়তো সত্যি বা সত্যি নয়। সে তর্কে আমি যাচ্ছি না। কিন্তু প্রশ্নটা আসে যে এইভাবে যদি হায়ারার্কি তৈরি করা হয় বিভিন্ন জাতির মধ্যে অমুকের রক্তে হয়েছে অমুকের রক্তে হয়নি, তাহলে সেটা কি একটু উগ্রতা নয়? এই অভিযোগটা আপনাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই আসে যে আপনারা একটা জাতির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে অন্য জাতিকে ছোট করেন। সেটাকে আপনি কীভাবে কাউন্টার করবেন?

    যদি কোনও একটা ফান্ড তৈরি হয়, ধরুন দুর্গাপূজার ফান্ড, এখানে আমার আপনার একই পয়সায, একইরকম যোগদান হবে।‌ ভোগ আমরা একই পাব, আপনার আমার মোটামুটি একই পয়সা আছে, কিন্তু আপনি চাঁদা দেন ৫ টাকা আমি চাঁদা দিই ১০০ টাকা - এটা তো বাস্তব, তাতে কি আপনাকে ছোট করা হলো? যদি ছোট করা হল মনে হয়, তাহলে নিজের আচরণ বদলান যাতে এরকম ছোট হতে না লাগে। এটা বাস্তব কথা যে ব্রিটিশরা শুধু বাংলার শাসন করেনি সারা দেশের ওপর শাসন করেছে। রক্ত আমরা বেশি দিয়েছি কেন, তারা রক্ত কম দিয়েছে কেন? তাদের তো কোন আত্ম-অন্বেষণ দেখি না। যদি তাদের কোনো আত্ম-অন্বেষণ দেখতাম, যে তারা ভাবছে গুজরাট থেকে শত শত শহিদ হলো না কেন, আন্দামান সেলুলার জেল কেন শুধুই বাঙালি নাম পাওয়া যায়!‌ কিন্তু যখন আজকে বাঙালিকে ভারতীয়ত্বের পরিচয় দিতে হয় তার প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে, তখন তো বাঙালিকে ছোট করা হচ্ছে। অন্যকে ছোট করবো আমরা? আমরা যেখানে ছোট, সেখানে আপনি বলছেন আমরা ছোট করছি?

    কিন্তু একটা অভিযোগ প্রায়ই আসে যে আপনারা অত্যন্ত উগ্র এবং বস্তুত তুলনাটা আসে মহারাষ্ট্র শিবসেনা সঙ্গে। দুটো দিক থেকে তুলনা আসে। এক হচ্ছে ভিন রাজ্যের লোকদের প্রতি আপনারা কি বিরূপ? আপনারা কি তাদের তাড়িয়ে দিতে চান? এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

    বাংলা পক্ষ সংবিধানে বিশ্বাস করে, আইনে বিশ্বাস করে। এই আইন সারা ভারতে লাগু। বাঙালি সাথীর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে কী হয় তা আমরা জানি। নিশ্চয়ই আমাদের সঙ্গে ভালো ট্রিটমেন্ট করে! বাঙালির সাথে বিহারে কী হয় আমরা বারবার দেখেছি। সেখানেও আমাদের সাথে খুবই ভালো ট্রিটমেন্ট করা হয় নিশ্চয়ই! সেখানে তো বাঙালি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকারে রয়েছে। আমরা তো সেই একই সংবিধানে বিশ্বাসী। আমরা সেই সংবিধানেরই বাংলাতেও প্রণয়ন চাই। আমরা একদম সংবিধানপন্থী। যেমন দেখাবে তেমনি দেখবে।

    মানে আপনি বদলা রাজনীতির কথা বলছেন, নাকি সমস্ত ভারতবর্ষের সমান ট্রিটমেন্ট এর কথা বলছেন?

    বাংলা একটি এক্সেপশনাল জায়গা, অনন্য জায়গা। অন্যান্য রাজ্যে এই রাজ্যের ভূমিপুত্র ব্যতীত অন্যদের যে সম্পর্ক হয়, এখানে তেমন নয়। এখানে সম্পর্ক অন্যরকম। আমরা অন্য রাজ্যের মতো সম্পর্ক চাই ভূমিপুত্রদের সাথে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি বাংলা শুধু ভারত নয়। সব রাজ্য নিয়ে ভারত। তো অন্য সকল রাজ্যে যে নিয়ম চালু আছে সেটা নিশ্চয়ই ভারতের আইন। তাহলে সেই আইন বাংলায় কেন চালু হবে না? ভারতের আইন যাতে বাংলায় ভালো করে চালু হয় সেই জন্য বাংলা পক্ষ সচেতন। ভাগানোর কথা বললেন, সেক্ষেত্রে বলি বাংলা পক্ষ কাউকে ভাগাতে চায় না, ভাররতীয় সংবিধানে কোথাও ভাগানোর কথা নেই। তবে প্রসঙ্গত মনে করিয়ে দিই দু'বছর আগে আন্ধেরির একজন মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে একজন বিহারীর বিরুদ্ধে। গুজরাটিরা ৫০০০০ বিহারীকে রাতারাতি সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সে ছিল কংগ্রেস নেতা অল্পেশ ঠাকুর তখন সে কংগ্রেসে ছিল কংগ্রেসের তিন তুর্কির একজন অল্পেশ ঠাকুর, প্যাটেল, জিগ্নেশ মেবানি এই তিনজনের একজন কংগ্রেসের বিধানসভার তুরুপের তাস, যে ৩ ঘোড়া সেই তিন ঘোড়ার এক ঘোড়া, বিধানসভা ভোটের পর এই কাজটি করে। তারপরেই বিজেপি তাকে নিয়ে নেয়। তারপরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি বেসরকারি কাজে ভূমিপুত্র সংরক্ষণের যে আইন আনা হবে তা ঘোষণা করেন। ৮০% গুজরাটি সংরক্ষণ গুজরাটের সরকারি কাজে। এবং যেটা বলে রাখি এই পুরো ঘটনার পরে সারা ভারতে কিন্তু কোন গুজরাটি আক্রান্ত হয়নি।

    আপনারা কি এই যে তাড়িয়ে দেওয়া হলো এটাকে সমর্থন করছেন নাকি যাতে এরকম না হয় সেই আওয়াজ তুলতে আগ্রহী?

    আমাদের সমর্থন, এখানে তো আমরা নেই। বাঙালি যুক্ত নয়। বিজেপির জন্য ভোট দিয়েছে যার মাথার উপর দুজন গুজরাটি বসে আছে তারা নিশ্চয়ই (বোঝা যাচ্ছে না)

    আপনাদের সম্পর্ক অভিযোগ আছে যে আপনারা শ্রমিক আন্দোলনকে ধ্বংস করার জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদের জিগির তুলছেন, আপনার কী বক্তব্য?

    মারাঠি শ্রমিকরা অর্থাৎ মহারাষ্ট্রের প্রতিটি শ্রমনির্ভর কাজের বা সুযোগের উপর যাদের প্রথম অধিকার তারা ড্যাংড্যাং করে শিবসেনাকে ভোট দেয়। আমি মারাঠি শ্রমিকশ্রেণির এই চেতনাকে নেহাৎ বোকা মনে করতে রাজি নই, বরং এর থেকে শেখার জন্য বলি। শিবসেনাকে অফ করে দেওয়া যায়নি। সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলন যেটা হয়েছিল তাতে প্রথমে গুজরাট বিচ্ছিন্ন হল যখন বোম্বে প্রভিন্স থেকে মহারাষ্ট্র তৈরি হল, এবং তৎকালীন বম্বে শহর এখন মুম্বাই মহারাষ্ট্র থেকে ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিল গুজরাটি পুঁজিপতিরা। তার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন ছিল সেখানে ছিল মারাঠি জাতীয়তাবাদীরাও এবং বামপন্থীরা। তারপরে কেন বামপন্থীরা ছিটকে গেলেন মারাঠি জাতীয়তাবাদকে কেন বামপন্থীরা আর সমর্থন করলেন না আমরা জানি না। কিন্তু মারাঠিরা সেখানে মারাঠি মানুষ অর্থাৎ মারাঠি জনতা তাদের পক্ষে যে যে শক্তিগুলো দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে মারাঠি প্রথম অধিকার এই যে শাশ্বত সর্বজনীন সত্যির পক্ষে যে বা যারা দাঁড়িয়েছে মহারাষ্ট্রের শ্রমিক শ্রেণি অবশ্যই তার পাশে দাঁড়িয়েছে। মারাঠি শ্রমিক শ্রেণি আরো ঐক্যবদ্ধ হল। মারাঠি শ্রমিকশ্রেণির কাজ বাইরে থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে - এত সহজ মহারাষ্ট্রে?

    কিন্তু শ্রমিক নেতাদের তো পরপর খুন করা হয়েছে।

    দেখুন রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক পার্টি চালায় এটা তাদের বিষয়। আজ খুনের অভিযোগ নেই এরকম কোন পার্টি আছে, ভারতে যারা সিট-টিট পায়? হঠাৎ করে এগুলোকে বিশেষ করে দেখার কী হলো? আজকে কেরলে বিজেপি সিপিএম খুনোখুনি হয়না? বাংলায় হয়নি? ফলে এই উদাহরণটা বিশেষ করে টানার কি আছে, আজ যখন কংগ্রেস সিপিএম খুনোখুনি হত কোন শ্রেণির কী হতো সে প্রশ্ন ওঠেনি। প্রশ্নটা হচ্ছে যে মারাঠি শ্রমিক শ্রেণি বরং বলবে যে তার অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত হয়েছে। আমি সেইটা নিয়ে বেশি চিন্তিত। মারাঠি মধ্যবিত্ত বলবে যে তার অধিকারহানি হয়েছিল। এখন কোন অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছে। মহারাষ্ট্রে মারাঠি অধিকারই যদি না থাকল তাহলে মহারাষ্ট্রে থাকল কী।

    তাহলে আপনি ভূমিপুত্রদের জন্য সম্পূর্ণ সংরক্ষণের পক্ষে, মহারাষ্ট্র মারাঠিদের জন্য। প্রাথমিকভাবে বাংলা বাঙালিদের জন্য।

    একদম। খালি জায়গা থাকলে ফাঁকা জায়গা থাকলে অন্যরা ওয়েলকাম। বাঙালিদের মধ্যে যদি স্কিল না থাকে তাহলে স্কিল ইনপুট করতেই হবে কারণ কাজ চালাতে হবে। কিন্তু এই কাজটা তো আমরা নির্ধারণ করব কাজে কী লাগবে। আমরা নির্ধারণ করব তারপরে আমরা সেই কাজে লেগে গেলে যেটা বাকি থাকবে সেটা এবং আমরা তো ১০০% বেসরকারি সংস্থায় ভূমিপুত্র সংরক্ষণ বলছি না, ৯০% বলছি। অন্যদের সুযোগ থাকবে না তা তো বলছি না। অবশ্যই এটা একটা দিক, কারণ এ আমাদের রুজি-রুটির প্রশ্ন পেটের প্রশ্ন ভাতের প্রশ্ন জীবিকার প্রশ্ন মাথা উঁচু করে বাঁচার প্রশ্ন। বাংলার বাইরে গিয়ে বাংলাদেশি হিসেবে উৎকণ্ঠায় না থাকার প্রশ্ন। আর দ্বিতীয় কথা হল বাংলা যে ভয়ানক জনবিন্যাস বদলের সামনে রয়েছে। বাংলার পাশে যে বিহার উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি রয়েছে তার ফার্টিলিটি রেট বা মহিলা প্রতি সন্তান এত বেশি! বাঙালি তো কোন জায়গা থেকে ইমপোর্ট হয় না। আমাদের ছেলেমেয়েগুলো বাইরে যায় তারা ওখান থেকে ঢুকতেই থাকে ঢুকতেই থাকে তাহলে তো কদিন পরে বাংলা তো বাংলা থাকবে না পূর্ব বিহার হয়ে যাবে। আমরা চাই বাংলা বাংলা থাকুক, বিহার বিহার থাকুক।

    এটা আপনি আটকাবেন কী করে! ভারত বর্ষ একটি অখণ্ড রাষ্ট্র। কিছু কিছু অংশে ইনার লাইন পার্মিট চালু আছে। আপনি কি সেই দিকে এগোতে চাইছেন ক্রমশ?

    ইনার লাইন পার্মিট বিভিন্ন জায়গায় চালু আছে। কিছু কিছু জায়গায় চালু থাকা দরকার।

    বাংলার ক্ষেত্রেও থাকা দরকার বলছেন?

    হ্যাঁ বাংলার ক্ষেত্রে তো অবশ্যই থাকা দরকার, কারণ জনবিন্যাসের চাপগুলো সব থেকে বেশি এখানেই, কারণ সবই আমাদের এই এলাকাতেই রয়েছে। বাংলা এবং বাংলার চিকেন নেকের পর থেকে পুবদিকের সব এখানেই রয়েছে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে কী করে আটকাবেন! আমি আমাদের অধিকার নাইন্টি পার্সেন্ট বুঝে নিতে চাই। দেখুন আমরা একটা কথা পরিষ্কার বিশ্বাস করি। ধরুন মৌচাক আছে মধু আছে সেখানে কেউ একটা ঢিল মেরে দিতে পারে, বা ধরুন একটা আমগাছ আছে আম গাছে আম ফলে আছে এদিক ওদিক থেকে বাঁদর এসে আম গাছে চড়ে ছিঁড়ে ফেলতে পারে। আমাদের কথা হচ্ছে আমের নাইন্টি পার্সেন্ট আগে আমাকে খেতে দিতে হবে। তারপর টেন পার্সেন্ট বাঁদরে খাক, পাখিতে খাক, তাতে আমাদের কী আছে! কিন্তু ৯০% আমাদের চাই।

    তাহলে আপনি চাইছেন ইনার লাইন পার্মিট। অর্থাৎ মানুষ অবাধে আসতে পারে কিন্তু কাজ করার জন্য বসবাস করার জন্য অন্য পারমিশন দরকার!

    না না ইনার লাইন পার্মিট মানে তাই নয়, মানে হল রাজ্যে ঢুকতে প্রথমত একটা পারমিশন লাগবে। সেটা কেন্দ্রের হোম মিনিস্ট্রি দেয়। তারপরে সে কী কারণে ঢুকছে, কতদিন থাকবে এসব ডিটেইলস দেবে। এগুলো স্বাভাবিক। আমি তো ভারতের বাইরের কোন জিনিস বলছি না। দ্বিতীয় হচ্ছে ভূমিপুত্র সংরক্ষণের যে বিষয়, আমাদের এখানে সব কিছুতে ৯০% নেব। সবকিছুতে - যা যা কল্পনা করতে পারেন, যার থেকে পয়সা আসে - সেটা টেন্ডার হোক সেটা অটো লাইন হোক হকারির স্পট হোক সেটা ফুটপাত হোক সেটা গ্রে ইকনোমি হোক। গ্রে ইকনোমি নিয়ে কেউ বলুক বা না বলুক সেটা বাস্তব। এখানে হরিশচন্দ্রের পৃথিবী তো কেউ প্রতিষ্ঠা করবে না। সবরকম চাকরি, ল্যাঙট পরা চাকরি থেকে কোট টাই পরা চাকরি, আকাশের নিচে কাঠফাটা রোদের নিচে চাকরি থেকে এসি ঘরের' চাকরি, সবকিছুতে। রেশন দোকান পেট্রোল পাম্প যা বলেন টাকা করার সব কিছুতে আমাদের নাইন্টি পার্সেন্ট চাই। বাকি টেন পার্সেন্ট তো আছেই সকলের জন্য বিবিধের মাঝে মহান।

    তার মানে আপনি ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চান সবরকম চাকরিতে ৯০%, এমনকি গ্রে ইকোনমিতেও আর তার সাথে ইনার লাইন পার্মিট চাইছেন।

    ইনার লাইন পার্মিট আমরা চাই। তার জন্য বাংলা পক্ষ এবং তার থেকেও বড় কথা বাঙালি জাতিকে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইনার লাইন পার্মিট হাতের মোয়া নয়। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ সবসময় চাইবেই বাংলাকে বদলে পূর্ব বিহার করে দিতে এটা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী। ফলে আমাদের লড়ে নিতে হবে। যারা যারা পেয়েছে আজ পর্যন্ত লড়েই নিয়েছে। অবশ্যই সাংবিধানিক পথে।

    এবার আপনাদের কার্যক্রমে প্রশ্নে আসি। এটা আপনাদের ইমিডিয়েট দাবি নয় বুঝতে পারলাম।

    এটা ইমিডিয়েট দাবি তো বটেই কিন্তু এটা হাসিল করার মতন জায়গায় আমরা কি আছি? নেই। বাঙালিকে তো আমরা ভুল বোঝাই না। বাংলা পক্ষ হচ্ছে বাঙালির নয়নের মণি বাঙালির জাতীয় সংগঠন, বাঙালির মুখপত্র, বাঙালির কণ্ঠ। অর্থাৎ বাঙালির সঙ্গে আমাদের নাড়ির টান। তাই আমরা তো বলব না আমরা এই করবো সেই করবো আমরা যা করব প্ল্যানমাফিক ধরতে ধরতে করব। আমরা বাঙালিকে দেব না। আমরা পাব, সকলে পাবে।

    আপনাদের কার্যক্রমগুলো কী কী, সাংগঠনিকভাবে আপনারা কী কী করছেন, সেটা যদি পাঠকদের জন্য একটু বলেন।

    বাংলা পক্ষ একটা জিনিসে বিশ্বাস করে। শঙ্কর গুহ নিয়োগী দুটো কথা বলেছিলেন রাজনৈতিক ভাবধারায়। সংঘর্ষ এবং নির্মাণ। বাংলা পক্ষ এই জিনিসটা বিশ্বাস করে যে জিনিস আমরা সংঘর্ষ করব কারণ আমাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বাঙালি জাতির নিজে অধিকার পাওয়ার জন্য যে যে জিনিস গুলো নিজের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ করার কথা, নিজেদের মধ্যে লেনদেনগুলো করার কথা, নিজেদের মধ্যে যে স্বজাতি পোষণ করার কথা এবং নিজেদের মধ্যে যে কাঠামোগুলি বানানোর কথা, সেগুলি বাংলা পক্ষ সংগঠন ব্যবসার দিক থেকে হোক শ্রমিকের দিক থেকে হোক সব দিক থেকে এই নির্মাণ করব। আমরা পাইয়ে দেব, বলে দেব, নিজেদের সংঘবদ্ধ করব। এবার সংঘর্ষের দিকে আসি, প্রথম হচ্ছে মানবাধিকার। বাঙালিকে যেখানে নাগরিকত্বহীন করা হয়, বাংলাদেশি বলা হয়, উইপোকা বলা হয়, জাতি তুলে গালাগালি করা হয়, নারীকে যখানে অশালীনভাবে খাবার করে তুলে ধরে, বস্তু হিসেবে তুলে ধরে, এই সকল ক্ষেত্রে বাংলা পক্ষ লড়াই করেছে। একদম বুঝিয়ে দিয়েছে কত ধানে কত চাল! সেটা বাঙালি মেয়ের সাথে নোংরামো করা হোক বাঙালি মেয়ের বাবাকে বেশ্যাপল্লীর দালাল বলা হোক, এসব থেকে শুরু করে বাঙালিকে চাকরিচ্যুত করা লকডাউন এর সময়ে, এর বিরুদ্ধে আমরা লড়েছি এবং ক্ষমা চাইছি। চাকরি ফেরত দিয়েছে। পরে ধরুন বাংলা কোন কোন জায়গায় অফ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে। কোন কোন জায়গায় বহিরাগতরা মিলে বেআইনি ভাবে ভেজ ছাড়া কিছু অ্যালাও করছে না - সেখানে বাংলার কৃষ্টি ও রন্ধন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশি বলেছে, আমরা সেখানে প্রতিবাদ করেছি। কোন বৃদ্ধ লোক আছে তার বহিরাগত ভাড়াটিয়া বহিরাগত এসে হুমকি দিয়ে প্রায় তাকেই তুলে দেয় এরকম পরিস্থিতিতে আমরা প্রতিবাদ করেছি। লেকটাউনে হয়েছে। মহেন্দ্র আগারওয়াল বলে একজন ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালাকে রান্না ঘরে ঢুকিয়ে তার ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়ে এবং আরবি স্কুলে পড়ায় টিচার স্ত্রী, এবং রাজেশ ঘোষ বলে যে বাড়ির মালিক, তাদেরকে সিসিটিভির আন্ডারে রাখা হয়েছে এবং সিসিটিভির আন্ডারে তাদের জামাকাপড় খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামরা ভেঙে দিয়েছি এবং আগারওয়ালকে দেখিয়ে দিয়েছি এই বাংলার মালিক কে! এরকম অনেক সংঘর্ষ আমাদের করতে হয়েছে।

    আপনাদের সংগঠনের জোর কতটা? বিস্তার কীরকম হয়েছে?

    নির্মাণের কথাটা বলে নিই। নির্মাণ করতে হয়েছে সংগঠনের জোরেই। একটা ব্যবসায়িক সংগঠন গড়ে তুলেছি আমরা হকার গ্রুপ সংগঠিত করছি। রেপিডোতে বিশেষত, যেখানে বাঙালি ছেলেদের খুব হ্যারাস করা হয় বাইরের ভাষা হিন্দি না জানলে সেখানে কাজ পাওয়া যায় না, সেখানে আমরা তাদের সংগঠিত করছি। আমরা বাঙালি ছাত্রদের সংগঠিত করছি। বেসরকারি কলেজে যেখানে বহিরাগত এবং বাঙালি ছেলেদের মেয়েদের জাতিবিদ্বেষী চোখে দেখে, বাঙালি মেয়েদের নিয়ে নানারকম নিয়ম চালু করে বেড়ায়, সেগুলোর বিরুদ্ধে তাদের সংগঠিত করছি। এইরকম সংঘর্ষ এবং নির্মাণ করছি বাঙালিদের চাকরি পাইয়ে দিচ্ছি। যে মনীষীদের দিল্লি ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে আমরা তাঁদের পুনরুজ্জীবিত করছি। বাঙালির মনে চিত্তরঞ্জন দাশকে আমরা ফিরিয়ে আনছি। আমরা অতীতে যেতে চাই না। কিন্তু অতীতের হাওয়া যেন আমাদের ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় আমরা সেটাই চাই। অতীতের হাওয়া তো কেউ অস্বীকার করতে পারে না সে যতই বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করুক! আমরা তো জানি আমরা কার সন্তান।

    আপনাদের সংগঠন বিস্তার কেমন হয়েছে? বাংলা পক্ষ কে কি এখনো প্রান্তিক সংগঠন বলা হবে?

    বাংলা পক্ষকে যে যাই বলুক আজ খুব ভালো দিনে সাক্ষাৎকারটা হচ্ছে। আজকেই বাংলার একটিমাত্র জেলায় আমাদের সংগঠন স্থাপিত হওয়া বাকি ছিল, আজ সেখানে অর্থাৎ দক্ষিণ দিনাজপুরের আমাদের সংগঠন নির্মিত হয়েছে। এখন আমরা বলতে পারি বাংলার প্রতিটি জেলায় বাংলা পক্ষর সংগঠন বিদ্যমান, এবং প্রতিটি জেলায় আমাদের বিভিন্ন রকম ক্ষমতা। কোথাও আমাদের ডেপুটেশন দেওয়ার ক্ষমতা, কোথাও আমাদের পথসভা করার ক্ষমতা, কোথাও চাকরি চলে গেলে আমরা পৌঁছলে চাকরি ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম ক্ষমতা। আমাদের সহযোদ্ধা সমর্থক, নানা ক্যাটেগরির রয়েছে তবে এটুকু বলতে পারি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে বাংলা পক্ষকে নিয়ে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। আমাদের মেন ফেসবুক পেজ যেটা ছিল তিন লক্ষ ফলোয়ারের, সেটা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। নানাভাবে আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছি একাধিকবার কিন্তু আমরা অনেকের ঘুম কেড়ে নিয়েছি। আসলে বাংলা ও বাঙালির শত্রুদের উৎকণ্ঠাই হলো আমাদের শক্তির পরিচয়।

    বারবার বাঙালির ঐক্যের কথা বলছেন আপনি। বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে বাংলায় একাধিক সংগঠন তাহলে কেন?

    বাংলা পক্ষ বাংলা জাতির সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার মাধ্যমে বাংলার যে চাষজমির পাশে ভাঙ্গন ধরেছে এবং তার ফলে যে প্লাবন ঢুকে যাচ্ছে জলের সেটাকে আটকায়। এবার ভেতরের জমিতে যে কৃষ্টি সংস্কৃতির চর্চা হবে তারর জন্য তো ওই প্রাথমিক ভাবে ফাটলগুলোকে বন্ধ করা জরুরি। আমরা সে কাজ করছি। আমরা সেই কাজ করছি যাতে কিনা এই যে সংগঠনগুলি রয়েছে সংস্থাগুলি রয়েছে, যারা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ভাষা নিয়ে অনেকটা কাজ জাতির জন্য করতে পারবে, তাদের জন্য একদম ঠিক পরিবেশ তৈরি, তাদের জন্য খোলা পরিবেশ তৈরি, অনেক ফান্ডিং তৈরি, তাদের জন্য অনেক উৎসাহী লোকের পরিবেশ তৈরি, তাদেরকেই বাংলার কৃষ্টির কেন্দ্রে আনার পরিবেশ তৈরি করার সংগঠন আমরা। আমরা জাতীয়তাবাদী সংগঠন। আমরা বাংলা ভাষা রক্ষার পক্ষে, আমরা তো আর বাংলার অভিধান নিয়ে পড়িনি।

    কিন্তু প্রায় কাছাকাছি লক্ষ নিয়ে একাধিক সংগঠন আছে। তাদের সাথী কি যৌথ কর্মসূচিতে যান, না একা একা করেই কাজকর্ম চালান? যদি না যান তাহলে কেন?

    বাংলা পক্ষ বাঙালি জাতির, ভারতে বাঙালি জাতির জাতীয় সংগঠন। জাতীয় সংগঠন, জাতির জন্য কাজ করে। এই লক্ষে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁরা বাংলা পক্ষে যোগ দিন, আর যদি এই লক্ষে কেউ কাজ করতে চান এবং অন্যভাবে কাজ করতে চান, তাঁরাও স্বাগত, সেরকম কাজ করতে স্বাগত। তাঁরা সেরকম ভাবেই কাজ করুক না, তাতে তো কোনো অসুবিধা নেই। বাংলা পক্ষ একরকম মনে করে যে বাংলা পক্ষ বাঙালি জাতির প্রতিনিধি। এবং বাঙালি জাতির শত্রুরাও বাংলা পক্ষকেই বাঙালি জাতির প্রতিনিধি মনে করে। এই বিষয়ে তো কোনো হেরফের নেই। আমাদের লড়াই তো আমাদেরকেই লড়তে হবে, আমাদের লড়াই তো lateral নয়। অন্যান্য বাঙালির দ্বারা গড়া অন্য সংগঠন, তাদের পক্ষ বিপক্ষ এইসবে আমরা নেই। আমাদের শত্রু হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ, আমরা বাংলার পক্ষে লড়ছি।

    এই প্রসঙ্গেই চলে আসি, হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ, ইংরেজিও তো একটি ঔপনিবেশিক ব্যাপার, এবং সেটা একটা আন্তর্জাতিক ব্যাপার। তাহলে ইংরেজি সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে আপনাদের কোনো বক্তব্য নেই কেন? শুধু হিন্দি নিয়েই কেন বক্তব্য?

    ইংরেজরা তো আর লোক ঢোকাচ্ছে না, আমার জনবিন্যাস নষ্ট করছে না। যদি এরকম হতো যে বিহারের লোক ইংরেজি বলতো, তাহলে আমি ইংরেজি সাম্রাজ্যবাদের কথা বলতাম।

    ইংরেজি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, একটা আন্তর্জাতিক স্তর থেকে, এটা কি মনে হচ্ছে না আপনার?

    আরে নিজের আমরা বর্ডার রাখতে পারছি না, রানিগঞ্জ আসানসোল চিত্তরঞ্জন আর বাংলার থাকছে না, শিলিগুড়ি নেপালের হয়ে যাচ্ছে... কোথায় এখন আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, জল দেবো, কোথায় আপনি বলছেন বাইরের দেওয়ালে কী কারুকার্য করা হবে। ঘরে এখন আগুন লেগেছে।আসল কথা, ইংরেজি হলো আমাদের বিশ্বস্তরের যোগাযোগ মাধ্যম। আমরা কি বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবো নাকি?

    এটা নিয়ে এখন তর্ক হতে পারে কিন্তু আমরা সেই তর্কে এখন ঢুকবো না। আমাদের সময় শেষ...

    বাংলা পক্ষ খুব পরিষ্কার বলছে। বাংলা পক্ষ ইংরেজি বিরোধী না। এবং ভারতের নিরিখে, ইংরেজি একটি সমতুলত্বের ভাষা, যেখানে কোনো জাতির বিশেষ advantage বা disadvantage নেই। অহিন্দি জাতীয়তাবাদের মহান শিক্ষক, C.N. Appadurai আমাদের শিখিয়েছেন, আমরা সেই শিক্ষায় বিশ্বাসী।

    এটা নিয়ে এখন তর্ক হতে পারে কিন্তু আমরা সেই তর্কে এখন ঢুকবো না। হিন্দিতে ফিরে আসি। হিন্দি সিনেমা, Bollywood, এবং ধরা যাক এখন FM ইত্যাদি যে সমস্ত electronic medium গুলো আসছে, সেগুলো হচ্ছে হিন্দি বিস্তারের একটা বড় হাতিয়ার। তো এগুলো নিয়ে আপনাদের কী অবস্থান, বা কার্যক্রম নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

    হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ একটি অনেক মাথাওয়ালা একটি সাপ। ঠিক আছে। যে ছোবল দেয় অনেক মাথা দিয়ে। অনেকগুলো ফণা থাকে। যেমন একটা bollywood, কোনোটা IPL, কোনোটা CBSE, কোনোটা UPSC, কোনোটা NEET, কোনোটা হচ্ছে Radio Mirchi, কোনোটা হচ্ছে জন বিন্যাস বদল... এরকম নানা রকম, এসব এক জিনিস আসলে। এক জিনিসের নানা ফলা। কোনোটা দীনদয়াল উপাধ্যায়। এইসব মিলিয়ে। আমরা লড়াইটা সার্বিকভাবে দিই, এবং যখন বিশেষ issue আসে, তখন আমরা বিশেষভাবে দিই। যেরকম ধরুন মারাঠি জাতীয়তাবাদীরা সেখানের সরকারকে বাধ্য করেছিলেন, এবং যার ফলে পুণে কেন্দ্রিক মারাঠী film industry পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, যে সব সিনেমা হলে prime time-এ কিন্তু একটা মারাঠি cinema দিতে হবে। আমরা বাংলায় এই নিয়ে হিন্দি সিনেমার সামনে এবং একাধিক ক্ষেত্রে জমায়েত করেছি, প্রতিবাদ করেছি। Radio Red FM তারপরে Radio Mirchi এগুলোতে বাংলা গানটান হচ্ছিলো না, আমরা একটু জয় বাংলা ওষুধ দিয়েছি তারপর থেকে বাংলা গান বেড়েছে। আমরা Friends FM যেটা বাংলা চালাত, আমার FM, যেটা বাংলা চালাতো সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, আমরা একটা বিফল প্রচেষ্টা চালিয়েছিলাম যে যেটা funding এর জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তার যদি পুঁজি জোগাড় করা যায় বাঙালি পুঁজিপতিদের দ্বারা, সেটা আমরা পারিনি। আমরা বাঙালি জাতির কাছে খোলাখুলি স্বীকার করি যে আমরা চেষ্টাটা করেছি, আমরা সৎভাবে চেষ্টাটা করেছি। এবং আমাদের কিন্তু আরও গভীর লড়াইতে যেতে হবে। আমাদের লড়াইটা আসলে শেষ অর্থে কিন্তু এই ছোটা ভীম, মোটু পাতলু বা দু বছরের আমাদের বাঙালি বাচ্চা যে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী যে গুজরাটি, মারওয়াড়ি পুঁজির ফলে যে উচ্চ প্রযুক্তির এবং চকমকে যে কার্টুন বা শিশুমনে ঢোকার যে বিষয়গুলো তৈরি হয়ে গেছে, সেইগুলো আমাদের আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর জায়গা আছে, আমাদের সে জায়গাটায় পৌঁছতে হবে। তার জন্য বাঙালি পুঁজি দরকার। এবং সেই জায়গাটায় পৌঁছনোর জন্য কারণ সে যখন একটা বাচ্চা দেখছে সে দেখছে যে তার বাড়িতে যে ভাষাটা বলা হয় আর তার যে কল্পনা বিশ্বে যেটা তৈরি হচ্ছে, তার কল্পনার ভাষা আর তার বাড়ির ভাষা এক জিনিস নয়, তারপর সে বাড়ির সঙ্গে কল্পনার যে বিশ্ব সেই জায়গাটায় সে কথাও খাটো হয়ে যাচ্ছে, আমার বাড়িতে খাটো হয়, আমার বাবা মা খাটো, আমার কল্পনার পাখনা যেখানে আমি ওড়ানোর চেষ্টা করি সেটা অন্য ভাষায়। অথচ একটা হিন্দিভাষী শিশু, সে কিন্তু তার বাড়ির ভাষায়, তার কল্পনার ভাষায় সাবলীল দুটোতেই। একটায় ওড়ে, উড়ে এসে বাড়িতে land করে কোনো অসুবিধা হয় না, কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়েগুলোর ডানা প্রথম থেকে কেটে দেওয়া হচ্ছে, তারপরে বলছে ওড়, তারপরে যখন উড়তে পারছে না তখন বলছে মেধা নেই, আমরা এই পরিস্থিতির অন্ত চাই এক। এবং দ্বিতীয়ত, এই পুঁজির কথাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে বাঙালিকে অধিকারের মাধ্যমে সচেতন করা, অধিকার পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সচেতন করা, আমরা শুধু লড়াই করার জন্য লড়ি না, জেতার জন্য লড়ি। অর্থাৎ ধরুন আপনি যদি একটা ফোন কেনেন, ঠিক আছে, ভারতে যদি এখন একটা ফোন কেনেন এবং সেখানে যদি internet on করে YouTube নেন, তখন Google ধরুন আপনি YouTube account ই করেননি, তাতেও কিন্তু YouTube আপনাকে কিছু জিনিস দেখাবে, যে আপনি এই এই জিনিস দেখতে পারেন, account এ না ঢুকেই। এই জিনিসের যে pure selection দেবে আপনাকে, আপনাকে না চিনেই বা আপনি কে বা কেমন হওয়া উচিত এটার একটা পূর্বানুমান না করেই, এই pure জিনিসটি কিন্তু হিন্দিতে নামানো হয়, Bollywood এ নামানো হয়, প্রথম থেকেই আপনাকে ওই কুয়োর মধ্যে ঢুকিয়ে দেবেই। আকাশের সূর্য, চন্দ্র তারা, নক্ষত্র এঁকে কুয়োর মুখে ঢাকনা দেওয়ার মতো দিয়ে দেওয়া হয়। আপনি ওর মধ্যে পড়ে থাকতে পারেন, আরও ঢুকে যাবেন, আরও ঢুকে যাবেন, আপনার AI রয়েছে এই ধরণের suggested video, যদি না আপনি একবার ধাক্কা দিতে পারেন এই আকাশটায় তাহলে আপনি বুঝবেন না যে ওটা আকাশ নয় এটা ঢাকনা। ঢাকনাটা খুলবো আমরা। এবং এই ঢাকনাটা খোলার জন্য ওই বাঙালিকে ঠেলে তোলার যে চালিকা শক্তিটা দরকার সেটার সংগঠন এবং পুঁজি। আমরা বাঙালির হাতে পুঁজি চাই, এবং বাঙালির বলের সংগঠন চাই। আমাদের শিক্ষক গুরুচাঁদ ঠাকুর, তিনি বলে গেছেন যে, যে জাতির দল নেই, সে জাতির বল নেই।

    আচ্ছা, শেষ প্রশ্ন। জাতির কথা যখন হচ্ছে, আগ্রাসনের কথা যখন হচ্ছে, এবং জাতি যখন ভাষাভিত্তিক, এবং ভাষাটা যখন বাংলা তো বাংলা ভাষা দুটো দেশে চালু - ভারত এবং বাংলাদেশ।

    দুটো রাষ্ট্রে চালু।

    হ্যাঁ হ্যাঁ দুটো রাষ্ট্রে চালু। তো...

    দেশ এবং রাষ্ট্র গুলিয়ে ফেলা খুব সহজ। তামিলনাড়ু কথাটার মানে হচ্ছে তামিল দেশ - তেলুগুদের সবচেয়ে বড় পার্টির নাম, তেলুগু দেশম পার্টি, যারা লকডাউনে আটকে গিয়েছিল দূরের দূরের রাজ্যে তারা দেশ ফিরেছে। যখন আমরা বলি ‘যে যেই দেশেতে জন্ম আমার সেই দেশেতেই মরি’, তার মানে এই নয় যে বাংলায় জন্ম আর গুজরাটে মৃত্যু।

    হ্যাঁ আমি একমত, রাষ্ট্র আর দেশ আলাদা আমি একমত। তো দুটো রাষ্ট্র জুড়ে কি বাঙালি জাতি, এরকম একটা ideological formation কি আপনি করছেন?

    আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বাংলা পক্ষ, তার প্রথম যদি বলেন যে বাংলা পক্ষের আত্মপরিচয় কী, তাহলে আমরা ভারতে বাঙালি জাতির পক্ষ। এই ভারতের কথাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে আমরা বাঙালির জাতীয় সংগঠন। এবং যারা ভারত মূলের, ধরুন আমেরিকায় থাকে কিন্তু মার্কিন নাগরিক, সেতো ভারতের না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তো তাদের কথা হচ্ছে না। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে, ভারতের নাগরিক, আমরা তারও জাতীয় সংগঠন।

    কিন্তু কথাটা হচ্ছে যে...

    সেটা বলে নেওয়ার পরে, বর্তমান গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশের যারা অধিবাসী তাদেরটা তাদের নিজেদের বিষয়। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক হচ্ছে সেটা রাষ্ট্রিক এবং আমরা পরোরাষ্ট্রের নীতি রয়েছে তার জন্য ফলে সেটা তো আমরা কেন্দ্র সরকারের হাতে ন্যস্ত করেই রেখেছি এবং ন্যস্ত রাখতেই বিশ্বস্ত।

    কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে আমার যে এটা নিয়ে তো কোনো সন্দেহ নেই যে অবাধ যাতায়্ত এবং বাজার, একটিই বাজার চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে, বা বলা ভালো পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে, তাহলে যেভাবে অন্তত সাংস্কৃতিক বাজারটি বৃদ্ধি পাবে এবং তাতে বাংলা ভাষার পুনরুত্থান হয় তো দ্রুততর হতে পারে, এরকম একটা সম্ভাবনা আছে। তো সেটা নিয়ে কি মতামত, এটা কি করা উচিত না উচিত না?

    একসময় আমাদের পশ্চিম বাংলা থেকে পূর্ব বাংলার সাংস্কৃতিক বাজারটা এখন থেকেই supply হতো। ঠিক আছে। Production এখানে হতো, supply ওখানে হতো। তারা নিজেদের মতো পুঁজি করে তারা নিজেদের মতন বানিয়ে নিয়েছে, তাদের বিষয়। আমরা এখানে নিজেদের বাজারই ধরে রাখতে পারছি না, এর ফলে যদি, এই যে অবাধ তবাধ বলছেন, এর ফলে যদি গণপ্রজাতন্ত্র বাংলাদেশে কোনো client বাড়ে, এটা তো আসলে হয় তো ওই যে আসলে production-এর একেবারে ওপরে রয়েছে, তাদের হয় তো কিছুটা সাহায্য করবে। কিন্তু বাংলার গণমানুষের, বাঙালি গণমানুষের যে শিল্প, যে কৃষ্টি, সেটার ক্ষমতায়ন, অর্থায়ন কোনো কিছুতেই সাহায্য করবে না সে। বাংলা পক্ষ সেই নিপীড়িত বাঙালি, সেই উপেক্ষিত বাঙালি, সেই শেষ বাঙালিটির সংগঠন সর্বাগ্রে। এই জন্য বাংলা পক্ষ বিশ্বাস করে, বাংলা, এই বাংলার অর্থাৎ এই পশ্চিম বাংলার যে আভ্যন্তরীণ বাজার তার উপর আমাদের পূর্ণ অধিকার, গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেলে আমরা বিশ্বাস করিনা, আমরা বাস্তববাদী সংগঠন।

    ঠিক আছে। এই ছিল আমার প্রশ্ন , এরপর যদি কিছু আপনি কিছু যোগ করতে চা করতে পারে। তারপর আমরা শেষ করব বিষয়টা।

    এরপর আমি নিজে থেকে কী যোগ করব?

    না, যদি কিছু থাকে আলাদা করে, প্রশ্ন করলাম না, হয়তো কিছু বলার আছে।

    না না, সেরকম কিছু নেই। খুব ভালো লাগল এবং যদি আরও কিছু প্রশ্ন থাকে পরবর্তী সমেয় গুরুচণ্ডা৯-র জন্য বাংলা পক্ষ প্রতিটি বাঙালির কাছে , এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেবে। বাংলা পক্ষ চায় বাংলা পক্ষ কী করছে, তা আরও বেশি বেশি করে বাঙালি জানুক।



    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন

  • বিভাগ : আলোচনা | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৫৩৫ বার পঠিত | ৩ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
লিফট - Parikshit Manna
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কুবির মাঝি | 203.96.189.172 | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৮:৩০102959
  • গর্গ ওপার বাংলায় খুব বড় কাজ করছেন।  মানুষ নিজের ভাষা, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক আত্মরক্ষার প্রশ্নে কঠোর হবেই। প্রতিটা বিষয়েই একতরফা ছাড় দেওয়া আর আমার প্রতি আক্রমণের কোন পাল্টা আমি কোথাও নেব না- এমন মনোভাব কিন্ত এক রকম আত্মহত্যা। গর্গকে শ্রদ্ধা। ইন্টারভিউটায় একজনও মন্তব্য না করায় আমিই করলাম। কষ্ট করে মানুষ লেখা-লিখি করে। কেউ যদি না পড়ে বা পড়ে যদি কিছু না বলে, তবে খামোকা লেখা। মানুষ হিসেবে আমি খুবই সদয় প্রকৃতির। তর্ক জুড়লাম- লেখাটার ভিউ যেন একটু বাড়ে। ।

    এবং এই মন্তব্যের সাথে সাথেই কুবির মাঝি দীর্ঘ দিনের জন্য শীতনিদ্রায় যাবে। এছাড়াও যুক্তিতে না পারলে বিশ্রি কাদা ছোঁড়া-ছুঁড়ি করার পরেও যাদের সব মুছে ফেলতে হয়, তাদের জন্য সমবেদনা জানিয়েই প্রস্থান করছি।

  • dc | 2405:201:e010:5040:dc24:207c:d0dd:60d0 | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:০১102961
  • ইয়ে আমার একটা প্রশ্ন ছিল। বাঙালির রক্ত দিয়ে ভারত গড়া হয়েছে, সে তো বুঝলাম, বক্রেশবর গড়া গেছিল তো ভারতই বা যাবে না কেন? এখন কথা হলো সব বাঙালি তো সমান রক্ত দেয়নি, যাদবপুরের বাঙালিরা রক্ত বেশী দিয়েছিল আর বেহালার বাঙালিরা অনেক কম। আর পুরুলিয়ার বাঙালিরা অ্যানিমিয়ায় ভোগে বলে মোটে দুবোতল রক্ত দিয়েই কাজ সেরেছে। আবার দেখুন, দার্জিলিঙের বাঙালি দিয়েছে এ পজিটিভ রক্ত অথচ জলপাইগুড়ির বাঙালি দরাজ হাতে ও পজিটিভ রক্ত দিয়েছে ভারত যখন বানানো হয়েছিল সেই সময়ে। তো পুজোর প্রসাদ যখন আসবে তখন যাদবপুরের বাঙালি কিছু অগ্রাধিকার পাবে তো? নাকি সেই বেহালার সাথেই সব কিছু ভাগ করে নিতে হবে? 

  • এলেবেলে | 202.142.96.143 | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:০২102962
  • সকালবেলাতেই এই পিণ্ডি চটকানো সাক্ষাৎকারটি পড়ে মন তেতো হয়ে গেল। কী মারাত্মক সুবিধাবাদী ও একবগ্গা কথাবার্তা! ধান কাটার মরশুমে ঝাঁক বেধে বাংলায় আসেন ঝাড়খণ্ডের শ্রমিকরা। একই ভাবে মুর্শিদাবাদের শ্রমিকরা যান ভিন্‌ রাজ্যে। তার বিশ্লেষণ কোথায়?


    নদীয়া-মুর্শিদাবাদ-দক্ষিণ চব্বিশ থেকে অসংখ্য রাজমিস্ত্রি কাজের জন্য পাড়ি দেন কেরালা। কাঠমিস্ত্রিরা যান গোয়া। গয়নার কারিগররা যান মহারাষ্ট্র-গুজরাট। তাঁরা এমনি এমনি ওখানে যান? কেন যান?


    শুধু চাকরি আর উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণ নিয়ে বাংলা পক্ষের মাথাব্যথা। তো ওয়ান ফাইন মর্নিং যদি ব্যাঙ্গালুরু থেকে বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারদের লাথানো হয়, তবে তাঁরা কোথায় যাবেন?


    ভাষার রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতি। কলকাতার অর্থনীতি বহুদিন ধরেই মারোয়ারি-গুজরাটিদের কব্জায়। কাজেই গুটখাখোর বা গুজ্জু বলে গায়ের ঝাল মিটতে পারে, কাজের কাজ কিস্যু হবে না। 


    চাষিদের বিকল্প রোজগারের কোনও পরিকল্পনা? কারিগরদের? ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের? বলা বাহুল্য, গোটা সাক্ষাৎকারে তাঁদের উল্লেখটুকু অবধি নেই! বদলে আছে এফ এম আর মাল্টিপ্লেক্স!!

  • dc | 2405:201:e010:5040:dc24:207c:d0dd:60d0 | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:০৯102964
  • এর একটা সহজ সমাধান আছে। ভারত বানানোর সময়ে কে কতো রক্ত দিয়েছিল, বাঙলা পক্ষ তার একটা হিসেব বানাবে। তারপর যারাই পবতে আসা যাওয়া করবে তাদের সবাইকে বাকি রক্তটা দিয়ে দিতে হবে। কেউ এক বোতল, কেউ দু বোতল এরকম আর কি। (চেন্নাই থেকে গেলে অবশ্য আধ বোতল দিলেই হবে)।  

  • এলেবেলে | 202.142.96.143 | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:১১102965
  • ডিসিসাহেব, অ্যাজ ইউজুয়াল ফাটায়ে দিসেন। আপনার এই সূক্ষ্ম উইট চিরজীবী হউক। তবে জানেন কি না জানিনা, বাঙালিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছিল চেতলার পৈতে-পরিহিত বাউনরা।

  • Kubir Majhi | 203.96.189.172 | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১০:১৬102966
  • ডিসির কথার ঢঙে মজাই পেলাম। গর্গ কি বিশাল কাজ করছেন সেটা আপনারা হয়তো বুঝতে পারছেন না। বাংলাদেশে পাকিস্থান আমলে তরুণ শেখ মুজিব যা করতেন, আজ গর্গ সেটা করছেন। হ্যাঁ, ১৬ই ডিসেম্বরের পর করাচী বা লাহোর থেকে বাঙ্গালী অফিসার কি শ্রমিক সবাইকে চলে আসতে হয়েছে। কিন্ত আমাদের এখানে কোন পশ্চিমা আর রাজত্ব করতে পারেনি। উর্দূ ভাষা এখন কাউকে বলতে হয় না এখানে। পাক আমলে একটা সময় বাঙ্গালী পরিচালকরা উর্দূ ভাষায় সিনেমা বানাতে মনোযোগী হয়ে পড়েছিলেন। এমন অবস্থা হয়েছিল! বাঙ্গালী ছিল সবজায়গায় দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। এখন পাক টিভিতে টক শো-তে এ্যাঙ্কররা নাকি হাত জোড় করে বলেন, আল্লাহ- হামকো বাংলাদেশ বনা দে! গোটা পৃথিবীর অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশ প্যারাডক্সের ধাঁধাঁয় অস্থির। উন্নয়নের পথে যে শর্তগুলো প্রতিবন্ধকতা হওয়ার কথা, উল্টো সেটাই বাংলাদেশের জিডিপিকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে সাহায্য করছে। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন না হলে এটা জীবনে হতো? তখনো আপনাদের মত বামরা পূর্ব বাংলায় ছিল। তারা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্থানের শ্রমিকদের ঐক্য চাইতেন।

  • আমি | 2405:8100:8000:5ca1::316:6c5e | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৮:৩৫102976
  • এর পালটায় কেরালা মাহারাশট্র গুজরাট থেকে বংদের লাথ মারলে গর্গর কি কর্মসংস্থান করবে?মনে  হয় না।

  • সরকার এস | 2401:4900:38cf:b4c7:5841:9b04:acf6:4407 | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০১:৫০103030
  • যুক্তি অকাট্য। সবাইকে নিজেদেরটা বুঝে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রে সবাই সেলফ ইন্টারেস্টেড। এটা ভুলে গেলে চলবে না।

  • আনন্দ সেন | 2405:8100:8000:5ca1::17a:9a0 | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৮:১০103032
  • "বাঙালিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছিল চেতলার পৈতে-পরিহিত বাউনরা"

    - এটা হল ব্যক্তিগত খেউড়ের জ্বলজ্যান্ত উদাহারণ। গর্গ এর বাংলাপক্ষের অনেকে সমালোচনা করে, আওয়াজ দেয়, মস্করা করে - কিন্তু গর্গ কোথায় থাকে (চেতলা), গর্গ ব্রাহ্মণ - এইসব টেনে এনে ব্যক্তি গর্গকে নিয়ে খুঁচিয়ে খেউড় করার উদাহারণ হল এটা। এলেবেলে এসবের গুরু। গুরুচন্ডালি সাইট এইসবের আখড়া। গুরুচন্ডালি ঠিক গুরু পেয়েছে।

  • এলেবেলে | 202.142.71.214 | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৬:৫৫103039
  • আনন্দ সেন, গর্গ যদি লাগাতার ব্যক্তিঘৃণার চাষ করতে পারে, গুটকাখোর-গুজ্জু বলতে পারে তাহলে চেতলার বাউনও শুনতে হবে পাল্টা। এতে ফুলের ঘায়ে মুচ্ছো যাওয়ার কিছু নেই।

  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 14.140.229.202 | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২০:০৭103083
  • আমি বাংলা পক্ষের সমর্থক নই কিন্তু শুধু ভাষার জন্য কিছু  ডিসএন্ফ্রাচাইজ্ড হবে এটা জাস্ট মানা যায় না। বাঙালি দের উপরে ইন জেনেরাল লোকের রাগ কলোনিয়াল চাকরি তে তারা বেশি ছিল বলে, কিন্তু তার জন্য বাংলাভাষী স্বাধীনতার সত্তর বছর পরে পাড়ার তিনজন বলেছে বলে ডি ভোটার হবে, জাস্ট মানা যায় না।  


    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

21 February, Language Day, Bhasha Dibas, Bangla Nationalism, Bengali Nationalism, Bangla Pokkho, 90 percent job for Bengalees, Inner Line Permit, CAA, NRC, CAB
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন