• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২০

  • ক্যালাইডোস্কোপ

    কেকে
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০১ নভেম্বর ২০২০ | ১০১১ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • প্রথম নক্সা : ভাবনা

    আমার মনে হয় এই দুনিয়ায় ভাব্নারাই সবথেকে বেশি শক্তি ধরে। ওরা গ্রহ তারাদেরও এতোল বেতোল করে দিতে পারে। ইচ্ছে করলেই পারে। আমি শুনেছি। শুনলেই সবকিছু বুঝে নেওয়া যাবে তেমন দাবি অবশ্য আমার কোনদিনই নেই। মাথার খুলির মধ্যে আখরোটের মত দেখতে যে অদ্ভুত জিনিষটা আছে, তার যেটুকুন ক্ষমতা তাই দিয়ে কী বোঝা যায় ! এই দুটো আঙুলে গোনা যাবার মত বুঝশক্তি দিয়ে আমি শুধু এটুকু ধরতে পারি, যে ঐ আকার আয়তনহীন-কে বা জানে কী দিয়ে তৈরি 'জিনিষ'গুলো কিন্তু তোমার পুরো মনটাকে 'ইলিতিবিলি' করে দিতে পারে। না, 'ইলিতিবিলি' বলে আসলে কিছু হয়না। চুড়ান্ত রকম ভাবে 'আপসাইড ডাউন' এর ধারণা বোঝাবার জন্য আমি এ শব্দটা বানালাম।

    তো, ভাবনারা। হ্যাঁ, ভাবনারা তোমার মনে ক্যাটিগরি ফাইভ হারিকেন তৈরি করতে পারবে। এমন মাত্রার কম্পন তুলতে পারবে যা দুনিয়ার কোন রিখটার স্কেল দিয়েই মাপা যায়না। ভাবনারা তোমার কানেকানে ফিসফিস করবে। শুনছো? তুমি বদ্ধমূল বিশ্বাসে তখন জানবে যে তোমার নাম 'প্রমিথিউস'। দেবতাদের কাছ থেকে আগুন চুরি করে আনা। তার থেকে বড় আর কোন উদ্দেশ্য নেই তোমার । জানবে।
    'অস্তিত্বে' পৌঁছে যাবার যে কোমল গরম অনুভূতি, আলতো করে তোমাকে সেই সহজতার বারান্দায় নামিয়ে দিয়েও যাবে হয়তো একদিন।এই ভাবনারা।

    ওদের আমি চিনি সে আজ নতুন কথা নয়। বুঝলে? সত্যি বলতে গেলে বলতে হয় ভাবনাদের সাথে আমার সম্পর্ক, মানে, ঐ একটু বেশ 'জটিল' আর কি! এই উথাল-পাথাল ভাবনার ঝাঁককে কাগজের মধ্যে নামতে দিও কখনো । সবসময়েই একটা ভীষণ সুন্দর গ্রাফিতির মত দেখায়। একটু বেশিক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকলেই গ্রাফিতি হয়ে যায় একটা 'মান্ডালা'। অদ্ভুত, না? অদ্ভুত না?

    দ্বিতীয় নক্সা : ম্যাজিক

    জাদুগরী ব্যপার স্যাপার কিন্তু কক্ষণো কারু সাথে ঘটেনা। জাদু, ম্যাজিক, শুধু 'থাকে'।একটা কনস্ট্যান্ট। কারুর কারুর তাকে বুঝতে পারার ক্ষমতা থাকে। কারুর থাকেনা। ব্যস! আর কখনো কখনো এমনও হয় যে, তুমি যে ম্যাজিকের ভাষা জানো সেটাই তুমি জানতে পারবেনা, যদ্দিন না জানতে পারছো! সব গুলিয়ে গেলো তো? অমনিই হয়। এর'মই ও 'উদ্ভুট্টি। কিম্বা ম্যাজিক্যাল।

    আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই জানতাম যে আমি ম্যাজিকের ভাষা দিব্যি পড়তে পারি। শুধু অক্ষরগুলো তখন চিনতামনা। সেটা কেমন করে সম্ভব আমাকে জিজ্ঞেস কোরোনা। বললাম তো উদ্ভুট্টিই এসব কারবার।
    তারপর একদিন এলো, যখন সব বদলে গেলো।

    সে এক ঝলমলে দিন ছিলো গ্রীষ্মকালে। বাকেট্লিস্টের একটা বাক্সে টিকচিহ্ন দেবার জন্য আমি সাঁতার কাটতে গেছিলাম । গ্রেট লেকগুলোর মধ্যে একটায়। মিশিগান।
    গভীর অন্ধ্কার জল, তার মধ্যে আস্তে আস্তে নিজের বল্গা খুলে দিতে হয়। আমি টের পেয়েছিলাম জল আমার সাথে কথা বলছে। না, ওর কথা 'শোনা' যায়না। তোমায় বুঝতে হবে, সারা শরীর দিয়ে। ও স্রোতের ভাষা বলে। ঢেউ এর ভাষা। অতলের ভাষা। তরলের। আর আরো কতকিছুর, পৃথিবীর শব্দ দিয়ে যার নাম বলা যায়না।
    বিশাল গভীর মিশিগান, আমার সাথে কথা বলেছিলো। আপনজনের মত।





    সেই থেকে আমি জলের সঙ্গে কথা বলতে পারি। মিসিসিপি নদী ভয়ানক রেগে থাকে। মানুষরা ওকে এমন বিষিয়ে দিচ্ছে। রাগবে না তো কি করবে? হুরন লেক আবার খুব লক্ষ্মী মতো। মিশুকে, হাসিখুশি। মস্ত লেক সুপিরিয়র কি গম্ভীর! আমার সেই কঠিন নিষ্ঠুর শিকারী কাকুর মত। যিনি এককথায় আমার জন্য নিজের প্রাণটা দিয়ে দিতে পারতেন! ডেড সী ও চুপচাপ খুব। ইন্ট্রোভার্ট। সমাহিত। অথচ ভূমধ্য সাগর? ভূমধ্য সাগর আমাকে বলেছিলো ওকে 'খাতুনা' বলে ডাকতে। এক নম্বরের ফ্লার্ট একটা!

    না, এসব আমি বলতে যাইনা কারুর কাছে। বলে কী হবে? আমি যে জলের সঙ্গে কথা বলতে পারি কেউ তো আর বিশ্বাস করবে না?

    তৃতীয় নক্সা : পদ্ধতি

    'প্রসেস' কথাটাকে আমি বাংলা করে 'পদ্ধতি' লিখলাম। কিন্তু দুজন এক লোক নয়। সব্কথার বাংলা হয়না। প্রসেসের গল্পই বলতে চাইছিলাম। পদ্ধতির নয়।

    আসলে প্রসেসের গল্পও নয়। গল্পটা অন্য একজনের। বলছি।
    তো, একদেশে এক আমি ছিলো। সে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে ভালোবাসতো তাদের প্রসেসকে। বাঁচার প্রসেস। থাকার প্রসেস। বাংলা ভাষা বারবার আমার পায়ে খোঁচা দিচ্ছে দেখেছো? 'থাকার' মানে বাস করার নয়। 'থাকার' মানে এক্জিস্ট করার। কেমন দেরি করিয়ে দিচ্ছে, দেখেছো?

    কী যেন? ও হ্যাঁ। আমি বাঁচতো 'প্রসেস' ভালোবেসে। প্রত্যেকটা দিন শুধু জেগে ওঠার মধ্যেই কত ভালোলাগা। জেগে ওঠা, নিঃশ্বাস নেওয়া, অস্তিত্ব, দিনটার মধ্যে দিয়ে দিয়ে হাঁটা। তার পরের দিন, তার পরের দিন, তার পরের দিন। ভালোলাগাই শুধু। আমি দিনগুলোর রাস্তা হাঁটা নিয়েই ভালোবাসায় জড়িয়েমড়িয়ে থাকতো। ওর কোথাও পৌঁছোনোর নেই। কিছুই খোঁজারও নেই।

    সবকিছু একরকম থাকেনা অবশ্য। কোথাওই না। সব বদলে যায়। একদিন। কিম্বা অনেকদিন ধরে। আমি হোঁচট খায়। মুখ থুবড়ে পড়ে। আবার পড়ে। আবার পড়ে। 'প্রসেস' কিভাবে, কোন রাস্তা দিয়ে চলছে, আমি ঝুপসি কুয়াশার মধ্যে দিয়ে ঠাহর পায়না।
    আমি হন্যে হয়ে রাস্তা খোঁজে, যে রাস্তা ও খোঁজেনা। ও অপেক্ষা করে থাকে, যে অপেক্ষার আশা ছেড়ে দিয়েছে।

    সেই আমিটা কোথায় গেলো? যে শুধু প্রসেস ভালোবেসেই জীবনে হাঁটতো? কোথায় গেলো কিজানি! তাই ভাবছি বসে বসে।


    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক

    পড়তে থাকুন, শারদ গুরুচণ্ডা৯ র অন্য লেখাগুলি >>
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ০১ নভেম্বর ২০২০ | ১০১১ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০২ নভেম্বর ২০২০ ১৫:২৭99564
  • ভিন্টেজ কেকে! এমন নেশাধরানো লেখা, পড়েই মনে হয় ধুস্স ফুরিয়ে গেলকেন। আর তেমনি সাথের ছবিটা। 

  • শিবাংশু | ০৩ নভেম্বর ২০২০ ০০:৩৬99578
  • হমম, ফুরিয়ে যাওয়াটা বেশ আপশোসের ব্যাপার ... 

  • i | 220.245.64.27 | ০৮ নভেম্বর ২০২০ ০৩:৩৩99742
  • দেখেছিলাম বর্গাকার বিশাল একটি নকশার হালকা আভাস, তিনজন ভিক্ষু আসনপিঁড়ি, পাশে পিতলের বেশ কয়েকটি শঙ্কু রাখা, ভিন্ন রঙের সূক্ষ্ম মসৃণ প্রস্তরচূর্ণ ভরা শঙ্কুগুলি ... শ্রমণ সামনে ঝুঁকে ছোট ধাতবদন্ড দিয়ে শঙ্কুর সম্মুখভাগ ঈষৎ ঘর্ষণ করছেন, সেই মৃদু ঘর্ষণে সূক্ষ্ম প্রস্তরচূর্ণ ভরে দিচ্ছে নকশার ছোট ছোট অংশগুলি -- লাল, নীল, সবুজ, হলুদ ... ধীরে ধীরে "মন্ডলা' নির্মাণ চলছিল। তারপর আশ্চর্য আলপনাটি এক নিমেষে পরিষ্কার করে ফেলা -- অনিত্য জীবন বোঝাতে। ভাসিয়ে দেওয়া নদীতে। এবার নদী বহন করবে ওই প্রস্তরচূর্ণ, বালি -- যেন পৌঁছে যাবে সবার কাছে- সকল প্রাণীর কাছে বয়ে নিয়ে যাবে শুশ্রূষা-

    লেখাটিও তাই।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন