• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২০

  • ওহঃ বাংলা

    রূপক চক্রবর্তী
    ইস্পেশাল | উৎসব | ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ২০৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ‘বাংলা’-এ শব্দটার সঙ্গে কতকিছুই তো জড়িয়ে আছে। মায় প্রতুলদার গান অব্দি –। কিন্তু যে ‘বাংলা’ নিয়ে আমার মতো অতি অকিঞ্চিৎকর এক কলমচি লিখতে বসেছে তার প্রতাপ মারাত্মক। অবশ্য পেটে গেলে। পেটে গেলে পিঠে সয় – এ প্রবাদ, এ ‘বাংলা’র ক্ষেত্রেও সম্পুর্ণ খাটে। কোনো ভাষা নয়। ভাসা-ভাসা এক উপাদানের কথাই লিখব, আর তা হল ‘বাংলা’। পন্ডিতেরা বলেন, ‘কান্ট্রি স্পিরিট’। তা হলে ভদকা, টাকিলা এরা কেন কান্ট্রি স্পিরিট নয়! কেন বাংলা-ই নাম হলো! হতে পারত ‘ভারত’ বা ‘ইন্ডিয়া’। কিন্তু নাম হলো ‘বাংলা’। ওঃ সেই কবে টের পেয়ে রবি বাবু লিখেছিলেন – আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। কবিরা আসলে সত্যদ্রষ্টা হন। তা-ই হয়েছে।

    আমি এতক্ষণ ‘বাংলা মদ’ এর কথা বলছিলাম। ভুল করছি। লিখছিলাম। যা একেবারে কৈশোর শেষে তারুণ্যের মুখে খেয়েছিলাম স্কুল ফেরৎ কোনও চায়ের দোকানে। ব্যস। আজও সেই সংকট চলেছে।

    ওই যে দেখুন আমার চারজন আমার প্রাণের বন্ধু। মানে যাকে বলে মায়ের পেটের বন্ধু – অশেষ, মহিমা, পবিত্র, দেবজিৎ পাল। ওঃ এপ্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো আরও একজন দেবজিৎ নামে আমাদের এক বন্ধু আছে কিন্তু সে জাপানি তেল মাথায় মাখার পর কেমন আছে, কেউ জানেনা। যাক গে, যাক গে। আসল কথা হলো এই যে ওরা সোনালী রঙের দামি দামি হুইস্কি খাচ্ছে। নিশ্চয়ই জানবেন, বাড়ি ফেরার সময় প্রত্যেকেই কিছু না কিছু বাংলা মারবেই। সত্যি এমনই মাধুর্য এ পানীয়ের। সেই কবে কোন যুগে মদ্যপান শেখার ঊষালগ্নে গিয়ে পৌঁছেছিলাম খালাসিটোলায়। বাইরে ডিম-শুয়োর-মুরগীর তীব্র ঝাল ছাঁট ইত্যাদি বিক্রি হতো। আর বোতলের মুখে ছিল গালা। অর্থাৎ মাথা ভাঙতে হলো। তারপর পকেটের রুমাল কে পিউরিফায়ার করে গ্লাসে গ্লাসে ঢালা। তখন চমৎকার মাটির ভাঁড় পাওয়া যেত। ছিল কুচো চিংড়ির ঝাল। খালাসিটোলার কাউন্টারে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতেন অনিলদা। খুব গর্ব করে বলতেন, ‘কমলবাবু, সুনীলদা, শক্তিদা, বেলাল আমার হাত থেকেই মদ নিতেন। তারপর ওই দিকের কোনাটায় চলে যেতেন। কত সব বড় বড় ‘টক’ করতেন, গান ধরতেন। এখন আর সে পরিবেশ নেই।’ খালাসিটোলার অদূরেই আর একটি ঐতিহাসিক জায়গা হল বারদুয়ারী। শোনা যায় এখানের একতলার বারোটি দরজাই যখন খোলা থাকতো তখন ‘নান আদার দ্যান’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ঢুকতেন। এই দিশি পানশালার অবশ্য দুটি তলা আছে। আর আছে মদ-জল-চাট সাপ্লাই দেওয়ার লোক যা অন্য কোথাও তেমন ভাবে চোখে পড়বে না। দোতলা বাড়ি হওয়ার দরুন একতলাটি ভারী চমৎকার ঠান্ডা। আরেকটি পরম আশ্চর্য জায়গা হল দক্ষিণ কলকাতার গাঁজা পার্কের দিশি ঠেকটি। এটি ছিল একসময় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের সূতিকাগার। ক্রমে পরিণত হলো এক নিভৃত পানশালায়। এলাকা অনুযায়ী এখানে পাঞ্জাবি খদ্দেরদের সংখ্যাই বেশি। খালাসিটোলা বা বারদুয়ারী তে কেমন যখন-তখন মারপিট লেগে যায়। রক্তারক্তি। এ জায়গাটি তেমন নয়। এখানে মদ্যপান করতে আসতেন ঋত্বিক ঘটক, বিজন ভট্টাচার্য। পরবর্তীকালে নবারুণ ভট্টাচার্য। যদিও তিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ধোয়ার জায়গার কথা বললাম। কিন্তু যা দিয়ে চরিত্র ধোয়া হবে, সেসব নিয়ে কিছু বলা যাক। ‘৯৪-‘৯৫ সালেও বাংলা মদ ছিল ফিফটি আপ। তার সুবাদে আশেপাশের মানুষজন পালাতো। বড় কিংবা ছোট বাথরুম অব্দি করে রেহাই পাওয়া যেত না। এমনই সে গন্ধের প্রতাপ। সঙ্গে নেশা তো আছেই। এ যেন-- নবাব কিনলে আরাম ফ্রি। এখন সেদিন আর নেই। বাংলার সে সুবাস প্রায় উধাও। তার সঙ্গে জুটেছে নানা রকমের ফ্লেভার। অরেঞ্জ মানে কমলালেবু থেকে লেবু-র সঙ্গে এ মদিরা অন্য ধরনের। আফসোস হয় মৌরিফুল থেকে যখন পার্ণো তৈরি হয়। রাশিয়ার ভদকা, মেক্সিকোর টাকিলা। তখন বাংলা আজও অন্ত্যজ শ্রেণিরই রয়ে গেল। তাকে স্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা গেল না। এ কারনেই বোধ করি নীরদ সি চৌধুরী লিখেছিলেন আত্মবিস্মৃত বাঙালি। এহেন বাংলা মদের দুটি আশ্চর্য ঠেক আছে প্রথমটা সোনাগাছির ভেতরে। দ্বিতীয়টি নিমতলা শ্মশানের গায়ে গঙ্গার পাড়ে। এই জায়গায় এমন ধরনের বাংলা আপনি খেতে পারেন যা নিধুবাবুর টপ্পার সেই কথা—‘তোমারি ও মা তুমি প্রাণ এ মহীমন্ডলে’। সেই সঙ্গে এই ক্ষেত্রের পরিবেশ। বেশ তাহলে একটু ব্যাখ্যা করা যাক।

    সোনাগাছির ভেতরের দোকান টা দেখলেই বোঝা যায়-- বহু প্রাচীন। খদ্দেরের অবিশ্রান্ত আনাগোনা লেগেই আছে। কিন্তু কোনভাবে একপাশে দাঁড়িয়ে ‘আসবপান’-য়ের ব্যবস্থা নেই। সেইসঙ্গে অবধারিত দোকানের বাইরের চাতালে ও রাস্তায় বেশ কিছু সংজ্ঞাহীন মানুষ। চাট বলতে কি পাওয়া যায় না সেটাই আশ্চর্যের। উপকারী মোসম্ভি থেকে পাঠার মস্তিষ্কের ঝাল। একজন দুজন টেনিয়া গোছের মানুষ পেতে পারেন যারা আপনাকে খাঁটি দিশি মাল সাপ্লাই দেবে কেননা এ জগৎ যাবতীয় মেশামেশির জগৎ। অবশ্য এর সঙ্গে গোটা এই লালবাতি পাড়ায় আরও অজস্র দিশি মদের দোকান রয়েছে। যেখানে জলই মূল চালিকাশক্তি। তার অ্যালকোহল নিয়ে সংশয় থাকলেও, যিনি পান করেন তিনি নিঃসংশয় খান। আর নিমতলার দোকানটিও অতি সুপ্রাচীন মস্ত বড়। বেশির ভাগটাই জুড়ে আছে পুরনো আসবাব। এখানে যারা কাউন্টারে থাকেন তাদের সামান্য কাঁচুমাচু মুখে বলতে হবে-- দাদা জিনিসটা যেন ঠিকঠাক হয় একটু দেখবেন। এটুকুই। সম্পূর্ণ অন্য কোন কোনার থেকে সেই স্ফটিক তরল বোতল বাহিত হয়ে ভেসে আসবে। তবে কিনা বয়স যাদের পঞ্চাশ থেকে ষাটের কোঠায় তারা এ বিষয়ে আক্ষেপ জানান যে--উঁহু সে জিনিস আর নেই। আগে একটা পাঁইটে রাত কাবার হয়ে যেত। এখন খুব বেশি হলে ঘন্টা দুয়েকের মত নেশা থাকে। তা-ও ‘পাঁইট’ নামের মাপের বোতলটি প্রায় উধাও। এখন পুরো বোতলই কিনতে হচ্ছে। হয় কিনুন না হলে ফুটে যান। আসলে এমন হতে পারে বাংলার যে ‘সুগন্ধ!’ মধ্যবিত্ত বাঙালি জনমানসে বরাবরই মেঘে ঢাকা তারা। গল্প হলেও সত্যি চলচ্চিত্রে যৌথ পরিবারের বড় অফিস থেকে ফিরে যখন নিজের ঘরে বসে কালিমার্কা পান করেন তখন তাকে নিয়ে সারা পরিবার ছি ছি ছি ছি করে। ‘দেশ’ পত্রিকায় চাকরি করাকালীন একবার সাগরদা (সাগরময় ঘোষ) আমাকে বলেছিলেন, ‘মানিকবাবু যবে থেকে কালী ভক্ত হলেন তখন থেকে ওঁর লেখার বারোটা বাজল’।

    দক্ষিণ কলকাতার গরফায় ভারী নিরিবিলি – ঠান্ডা ঠান্ডা – ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’ এর মতো একটি দিশি পানশালা রয়েছে। যদিও এদেরকে ঠেকই বলা ভালো। বসার বেঞ্চ-খাওয়ার বেঞ্চ, খাওয়ার জন্যই। আবার কাঠের চৌপাইও রয়েছে। এখানে ভিড়ভাট্টা যে হয়না তা নয় তবে ‘উত্তেজিত মাতাল’ সবিশেষ আসে না। এদের অনুশাসন কড়া। আর চাট বলতে মিলবে শুধুই ফল। তবে এ স্থানটি সঙ্গীত মুখর। মূলত মহঃ রফির গানে এই ঠেক ভরে থাকে। এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে একটু পেছনো যাক। যদিও এ সব রচনা মাতলদের পদক্ষেপের মতোই। এগিয়ে পিছিয়ে চলে। একটা সময় খালাসিটোলায় আসতো জন। ফর্সা টুকটুকে চেহারা। নিজেই রফির গান গাইতো। সঙ্গে নাচতো। সে নাচ ছিল দেবদর্শন দুর্লভ। মাঝে মাঝে একটা অদ্ভুত বাংলা গান গাইত – ‘ আমার এল না এল শ্যাম/আমার হলো না মালা গাঁথা’। আর ছিল যাদব। গোটা ঠেকটা ঘুরে বেড়াতো। কেউ যদি তাকে খানিক দিশি আর চাট খাওয়াতো তবে খাওয়ানেওয়ালাকে সে ঘাড়-মাথা-কাঁধ-হাত ইত্যাদি মাসাজ করে দিত। সেটা ফ্রি।

    বলতে গেলে বাংলা মদের কৌলিন্য চলে গেল যবে থেকে তার শক্তি কমিয়ে আনা হলো। এতে একদিকে নিশ্চয়ই রাজস্ব বেড়েছে। কেননা তার শক্তি কমে এমনই হয়েছে একজন প্রায় একটা ৬০০ গ্রামের বোতল উড়িয়ে দেয়। হ্যাঁ। এ বস্তুটি গ্রাম দিয়ে মাপা হয়। ফলে ঘন্টা দু’-তিনেকের নেশার পর সে নেশা কেটে গেলে আবার ছুটতে হচ্ছে পরবর্তী বোতলের দিকে। সেই সঙ্গে দিশি আখড়ায় ‘ইংরিজি’র প্রবেশ। এ যেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভারত দখল। ফলে ‘বার’এ না গিয়ে বোতল কিমবা পাইটের টাকাতেই দিশি মদের ‘কোহলকুঞ্জে’ ইংরিজি খাওয়া যাচ্ছে। রবিবার সকালে সুনীলদার বাড়িতে আমাদের ভদকার আড্ডা বসত। একবার প্রায় হয়ে গেছিলো – ‘চলো খালাসিটোলা যাই। সদ্য ভাঙা সাদা পাথরের ভেতরের যে রঙ তার নাম আমরা জেনেছিলাম ওখানেই, কমলদার (কমল কুমার মজুমদার) কাছ থেকে’। যদিও সেটি আর ঘটেনি। বাংলা মদ নিয়ে লিখতে গেলে সুরিন্দর চাচার নাম না বললেই নয়। তাঁকে দেখতে পাওয়া যেত গাঁজা পার্কের আড্ডায়। টেবিলে টেবিলে ঘুরে বেড়াতেন এক বৃদ্ধ পাঞ্জাবী ট্যাক্সি চালক। কারণ তিনি দেখতেন অল্প বয়সী কেউ আউট হয়েছে কিনা। তাকে তিনি তাঁর ট্যাক্সিতে চাপিয়ে সযত্নে বাড়ি পৌঁছে দিতেন। কেননা ওঁরই অল্প বয়েসী ছেলে এখানে অত্যাধিক পান করে একসিডেন্টে মারা যায়। তাই টেবিলে টেবিলে মৃত সন্তানের ছায়া ও স্মৃতিকে খুঁজে বেড়াতেন।

    বাংলার দাম দু’দফায় বেড়ে যখন অনেকখানি হলো তখন সে রসে সঞ্চিতদের দেখে মনে হতো – ‘হায় চিল, তুমি আর কেঁদোনাকো উড়ে উড়ে…’ শোনা যাচ্ছে আবারও নাকি সুদিন ফিরবে। দাম কমবে।

    আমার ভাষা পন্ডিত বন্ধুদের জিজ্ঞেস করেছিলাম ‘বাংলা’ নামটা কেমন যেন। ঠিক মান্যতা পায় না। কিন্তু তাঁরা আমায় বুঝিয়েছিলেন ওই নামের মধ্যেই সমস্ত ‘বাংলা সংস্কৃতির’ নির্যাস লুকিয়ে আছে। হতে পারে। আমার পড়াশুনো এমনিতেই কম। তার আবার দিনের মধ্যে একটা বড় সময় এই বাঙলাতেই আচ্ছন্ন থাকি। ঠিক বুঝতে পারি না।
    তবে একটা কথা প্রায়শ মনে হয় – বাংলা একদিন জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ পানীয় হবে। লেবু-কাঁচালঙ্কা-ছোলা-বাদাম সহ আমি তাকিয়ে সেই উজ্জ্বল দিগন্তের দিকে –।

    পুনশ্চ – কথা ফুরিয়েও যেন শেষ হতে চায় না কিছুতেই। শেষের কয়েকটা কথা না বললেই নয়, এমনই মনে হলো। যে সব দিশি (…) কথা এতক্ষণ বললাম, বলা ভালো লিখলাম তাদের ক্ষেত্রেও এক বিপুল পরিবর্তন ঘটে গেছে। কেমন সেই পরিবর্তন? গাঁজা পার্কের দিশির দোকানটায় একটা ‘লুজ কাউন্টার’ ছিল। অনেকেই এসে ১০০ গ্রাম মতো খেয়ে যেতে পারত। সেখানেই আসত যমুনা। ফর্সা টুকটুকে। দেখলেই বোঝা যায় পাহাড়ি মেয়ে। কোনো একটা ট্যাক্সি চেপে চলে আসত, তার পর ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে রেখে লুজ কাউন্টারে একের পর এক ১০০ গ্রামের গ্লাস ওড়াত। এদিকে ট্যাক্সির ড্রাইভার ভাড়া না পেয়ে ভেতরে এসে খোঁজ করতে করতে যমুনাকে পাকড়াও করত আর তার পর যা হয়…। ভাড়া না পেয়ে ফিরে যাওয়া। যমুনা ডুব দিতে থাকে বাংলার যমুনায়। আর আসত ভারতী। মূলত কালীঘাট ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে কিমবা সার সার তবলার দোকানের সামনে ঘোরাফেরা করত। কেননা তার পেশাই বেশ্যাবৃত্তি। হাতে টাকা পয়সা আসুক বা না আসুক সে চলে আসত এই গাঁজা পার্কের ঠেকেই। মদ খাওয়ার জন্য যে কারও পাশে বসে পড়ে গায়ে-পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেও কোনো আপত্তি ছিল না তার। সে পুরুষের চোখ দেখত। দেখে বোঝার চেষ্টা করত কে তাকে মূল্য দেবে, বেশ কয়েক গ্লাস দিশি। তার পাশে বসে পড়লেই হলো। আর পেটে মদটাতো পড়ে গেছে তাহলেই হবে। কত আর শরীর ঘাঁটবে এই পুরুষগুলো – এমনই ছিল তার মনোবৃত্তি। একথাগুলো লেখার কারণ দিশি মদের আড্ডায় মহিলাদের প্রবেশ কখন, কিভাবে শুরু হয়ে গেল – ইতিহাস বা সময় সে দিনক্ষণ মনে রাখেনি।

    সোনাগাছির বিখ্যাত শীতলা মন্দিরের পাশ দিয়ে সোজা চিৎপুরের দিকে যেতে প্রথম বাহাতের গলিতে নয় নয় করে গোটা পাঁচ ছয়েক দিশি মদের দোকান রয়েছে। সকাল থেকে সেখানে বেশ কিছু মহিলা বসে থাকে। দোকানের কর্মচারীরা কুকুর-বেড়ালের মতো তাদের তাড়ায়। ‘যা না গিয়ে লাগিয়ে টাকা আন’। আসলে এঁরা সবাই এখানকারই কোনো না কোনো বাড়ী বা দোকানের বারান্দায় শুয়ে থাকা মানুষ। খদ্দের ধরে রোজগার করার অনেক আগে থেকে এঁরা বাংলা খাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘোরে। সোনাগাছির এসব দোকানগুলো রাত্তির আড়াইটে থেকে ভোর চারটে অব্দি বেচাকেনা বন্ধ রাখে। সেই ভোর থেকেই এঁরা এসে বসে থাকে দোকানের সামনে বা ভিতরে। চেনা মুখ বলে ধার দেনাও পায়। একটা সময় যায় থম মেরে। কাউকে মদ খেতে আসতে দেখলে বলে, ‘ এখানেই যা খুশি করো। কোনো পয়সা লাগবে না। শুধু একটা পাইট খাইয়ে দাও’।

    এপ্রসঙ্গও লেখার কারণ – বাংলা খাওয়ার জন্য অন্ন সংস্থান ছেড়ে সারাদিন শুধু মদের খোঁজ। আর দিনে দিনে তা বাড়ছে। খানিকক্ষণ এঁদের দেখার পর একধরণের অস্বস্তি হয়। কি সেই অস্বস্তি? না কোনো কামনা জাগে না। মনে হয় আমার সাধ্য নেই এঁদের উদ্ধার করার। কিন্তু এদের থেকে দূরে অন্য কোথাও গিয়ে পান করা ভালো। নেহাতই মধ্যবিত্ত আমি। এই ভয়ানক দৃশ্য থেকে তো দূরে থাকতে পারব। পালিয়ে না গিয়ে নিস্তার নেই। এ সিনেমা নয়। এ বাস্তব। এ আমার পিছু ছাড়বে না –।




    পড়তে থাকুন, শারদ গুরুচণ্ডা৯ র অন্য লেখাগুলি >>
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ১৮ নভেম্বর ২০২০ | ২০৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন