• বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • আগস্ট -গণতন্ত্রের জন্মসুখ নাকি দুটি ঐহিক সমাধির স্মৃতি ? (পর্ব ৩)

    অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    আলোচনা | রাজনীতি | ১১ অক্টোবর ২০২০ | ২৪৫ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩
    নিহায়ত আলিয়ালম আলডেমোক্রাসিয়া ও মূর্খের স্বর্গ

    “And when he had opened the third seal, I heard the third beast say, Come and see. And I beheld, and lo a black horse; and he that sat on him had a pair of balances in his hand. A measure of wheat for a penny, and three measures of barley for a penny; and see thou hurt not the oil and the wine.”
    -Revelation 6.5 and 6.6 (King James Version)

    ভারতবর্ষের সংবিধান যখন লেখা হয় তখন হাতে ছিল আমেরিকা (১৭৭৬ সাল), আয়ারল্যান্ড(১৯৩৭ সাল) এবং ইউনাইটেড নেশন চার্টারের (১৯৪৫ সাল) অন্তিম পান্ডুলিপি । ফলে ভারতের সংবিধান পাশ্চাত্য প্রভাবে যে ভাষায় লেখা হল তা আধুনিকতম গণতন্ত্রের উচ্চারণ করেছিল ঠিকই । কিন্তু, ভারতবর্ষের ভাবমননে অধিষ্ঠিত ছিল সনাতনী ধারার প্রবাহ । যে ধারা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য বা সম্রাট অশোক কিংবা আকবর এঁদের মধ্যেও একটা গণতান্ত্রিক মনোভঙ্গির স্বকীয়তার ছাপ রেখেছিল, কেননা এঁরা গায়ের জোরের চেয়ে ন্যায়পরায়ণতাকে বেশি মর্যাদা দিতেন । গান্ধীজীর মধ্যেও এই ধারার একটা প্রভাব দেখা যায় যখন তিনি কংগ্রেসকে বলেন, “স্বাধীনতা কংগ্রেস পায়নি, পেয়েছে ভারত । মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে সবচেয়ে দক্ষ লোকেদের দিয়ে, তাঁরা যে-পার্টিরই লোক হন”। তাই যতই নেহেরুর প্রধানমন্ত্রীত্ব বিনা-গণনির্বাচনে স্থির হোক স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারায় ডাক পড়েছিল সকলের । এমনকি আর. কে. ষন্মুখম চেট্টি, বি. আর. আম্বেডকর ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মত ব্রিটিশ-অনুরাগী মানুষেদেরও। গান্ধীজীর অভিভাবকত্বে মন্ত্রীসভা গঠনে উদারতায় ত্রুটি ছিল না, অন্তরে শুধু অভাব ছিল গণতান্ত্রিকতার। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ঔদার্যটুকুর কথাও বেমালুম ভুলে গিয়ে জাতীয়তাবাদের আড়ালে বর্বরতার রাজত্ব কায়েম হয়েছে । নেতৃবর্গের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত প্রবণতা দেখা গেছে ও যাচ্ছে - পথপ্রদর্শকের ভূমিকা ছেড়ে ক্ষমতালোভী রক্তচক্ষু বাহুবলীর ভূমিকায় উত্তরণ ।

    সারা বিশ্বের রাজনীতিতেই এই অবস্থা এখন প্রকট হয়ে উঠছে, ভারতে অপ্রত্যাশিতভাবে কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও গম্ভীর ক্ষেত্রে আলটপকা মন্তব্য করা থেকে শুরু করে ভুলভাল তথ্য পেশ করা - প্রায় নজির সৃষ্টি করে ফেলেছেন বহু মানুষ । ভাবটা এমন যেন, প্রত্যেকেই ভেতরে ভেতরে ভীষণ ধুরন্ধর, প্রখর বুদ্ধিমান ও শাসক হিসেবে অকল্পনীয় দক্ষতার অধিকারী । শুধু প্রকাশ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীন নানা আচরণের মাধ্যমে জনমনোরঞ্জন করে থাকেন মাত্র। আসলে জনগনের ওপরে চাপ দিতে চান না কেউ । এসব রাষ্ট্রীয় জটিলতার মধ্যে জনগণের কী কাজ ? জনগণ শুধু দেখুক পারদর্শিতার ম্যাজিক, হুশ হুশ ভোজবাজি আর বলুক, “We want Trump” অথবা “Make Brazil Great Again” কিংবা “মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায় (It is possible if Modi is there)” অথবা “Hail Victory” । কিন্তু মুদ্রার ওপিঠে এ কথাও তো ভাবতে হয় যে, এই যদি জনমোহিনী পন্থা হয় তবে গণতন্ত্রে গণ’র অবস্থা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে ? তারাও এগুলোকেই গপাগপ গিলে ফেলছে বিনা প্রতিবাদে আর চা-এর দোকান, রকের আড্ডা, ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপে ছড়িয়ে দিয়ে উপভোগ করছেন। ঠিক যেন চার্লির কথাগুলো, “Man as an individual is a genius. But men in the mass form the headless monster, a great, brutish idiot that goes where prodded” । সুতরাং, লাভ যখন হচ্ছে তখন এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়াই আসলে গণতন্ত্রবিরোধী, এমনকি দেশবিরোধীও । আসলে নেতৃবর্গও জানেন যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ, সাংস্কৃতিক আলোচনা, সামাজিক প্রেক্ষিত, ঐতিহাসিক গতিপ্রকৃতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তর্কের মধ্যে জনগণ আর নেই, সকলেই হলি-বলি-টলিউডীয় তামাশার মৌতাতে মগ্ন । ডিন বার্নেট একবার লিখেছিলেন, “People are often put off by intellectual and complex subjects and discussions in any case. They may have no experience with the issue, or may find it too daunting to want to engage with, because doing so successfully would require a lot of time and effort. But politics, particularly democracy, requires people to be involved” । সুতরাং, ভুঁড়ি কমানো কিংবা সুস্বাদু রান্নার বিষয়গুলিতে লাইক করার বাতিক থাকা অনেক গ্রহণীয় ও আকর্ষনীয় । এটাকেই বোধহয় পার্কিসনের ‘ল অফ ট্রিভিয়ালিটি’ বলে ।

    শিক্ষিত লোকেদের মধ্যেও একই অবস্থা । পেড্রো ডি ব্রুইকেরে একটি অনুসন্ধান ‘Even highly educated are fully capable of ignoring ‘uncomfortable’ facts’-এ দেখিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষ পক্ষপাতদুষ্ট, কুসংস্কারচ্ছন্ন, একগুঁয়ে ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক হয়ে থাকেন । এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপছন্দের বিষয় সম্বন্ধে আলোকপাত সহ্য করেন না । আসলে এ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হল, শিক্ষিত মানুষজন নিজেদের থেকে বেশি শিক্ষিত কেউ কিছু অজানা বিষয়ে বলবে এটা মানতেই পারেন না, হয়তো এর দ্বারা তাদের মূর্খতা প্রতিপন্ন হয় বলে মনে করেন । কথায় বলে, ‘Confident people are more convincing’ । ফলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা হিসেবে, বিরাট ব্যাপক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃবর্গ যা বোঝাচ্ছেন, সেটাই সবাই মেনে নিচ্ছে । কগনিটিভ সাইকোলজিতে ডানিং-ক্রুগার প্রভাব বলে একটা বিষয় আছে, সেখানে যদিও বলা হয়েছে, “less-intelligent people are usually incredibly confident. More intelligent people, by contrast, aren’t at all. Self-appraisal is a useful metacognitive skill, but one that requires intelligence; if you don’t have much of it, you don’t consider yourself flawed or ignorant, because technically you don’t have the ability to do so” ।
    প্রকৃতপ্রস্তাবে ট্রেন্ড বলে, বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে ব্যর্থ হয়, তখন এটাকে ক্ষমা করা হয় না । কেননা ব্যর্থতার আশা এমন লোকের কাছ থেকে কেউ করে না । অন্যদিকে ভাঁড়প্রবণ নেতৃত্ব যখন প্রতিশ্রুতিরক্ষায় ব্যর্থ হয় তখন সেটাকে নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করে না, কেননা অক্ষম লাস্ট বেঞ্চ স্টুডেন্টের কাছ থেকে ব্যর্থতা ছাড়া কেউ কিছু প্রত্যাশাই করে না । লর্ড চেস্টারফিল্ড বলেছিলেন, “Let blockheads read what blockheads wrote”। এ তেমনই এক ব্যাপার, বলা যায়, Let blockheads think what blockheads speak । একবার বন্ধুজন শ্রুত্যানন্দ ডাকুয়া আমাকে লিখেছিলেন, “আমার মুখে ঘা আছে, তাতে অসুবিধা নেই । কিন্তু তুমি আয়না দেখালেই আমি তোমাকে মারব” । সিদ্ধান্তটা এই যে, মানুষ হয়তো শুশ্রুষা আর ব্যাঙ্গের উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্যটুকুও করতে নিমরাজি । একে গণতন্ত্রের রেজিমেন্টসন বলা যাক ।

    স্বাধীনতালাভের পরে সকলে ভেবেছিল সৎ-আদর্শবান-মুক্তমনা নেতৃবৃন্দের পদছায়াতলে রোপিত হবে সুখ, সাফল্য ও নিরাপত্তার জনজীবন, সেখানে জনগণের ভূমিকা শুধু নির্লিপ্ত উপভোক্তার । কেবলমাত্র নানা ব্যক্তিগত উন্নতিসাধনে নিমগ্ন থাকার কাজ জনগণের। সুতরাং, সংগ্রামী নেতাদের পরলোকগমনের পরে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও এই মনোভাব দেখা গেছে । জনগণ যেখানে স্বার্থান্বেষী সেখানে উত্তুঙ্গ উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব কী আকাশ থেকে পড়বে ? জনগণের মধ্যে যদি মধ্যমেধা, দুর্নীতিগ্রস্থতা, শৃঙ্খলাহীনতা, অপরাধপ্রবণতা ও নৈতিকতার অভাব লক্ষ্য করা যায় তবে জনপ্রতিনিধিরা ব্যক্তিক্রমী হন কী করে ? এত কিছুর মধ্যেও যে এখনও এদেশে গণতন্ত্রের একটা ছাপ লেগে আছে, শত চেষ্টাতেও তাকে মলিন করে দেওয়া যায়নি, এই ঢের । ডেমোক্রেসি ইনডেক্স যা ‘ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ দ্বারা সংকলিত একটি সূচক, সেখানে কয়েক বছরে অধঃপতন হলেও আদতে ১৬৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ৫১তে রয়েছে । রামচন্দ্র গুহ ভারতের এই টিকে থাকা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে ধর্ম ও ভাষার বহুত্ববাদকে স্বীকৃতি দিয়ে লিখেছিলেন, “ভারতে ঐক্য আর বহুত্ব যে অবিচ্ছেদ্য, তার চিত্ররূপ ফুটে ওঠে দেশের টাকার নোটে । তার একপিঠে থাকে ‘জাতির জনক’ মহাত্মা গান্ধীর ছবি, অন্য পিঠে সংসদ ভবনের ছবি । নোটটা কত টাকার, তা কথায় লেখা থাকে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায়(ওই দুটি হল সরকারি ভাষা), আর সেই সঙ্গে ছোট হরফে ভারতের প্রত্যেকটি ভাষাতেও । এইভাবে সতেরোটি ভিন্ন ভিন্ন লিপিতে তা ছাপা হয় । প্রত্যেকটি ভাষা ও প্রত্যেকটি লিপির মধ্যে ব্যক্ত হয় একেকটি সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক ভাবসত্তা, যা কিনা সমগ্র ভারত নামক ভাবটির কোলে মোটের ওপর সুখে স্বচ্ছন্দে দিন কাটাচ্ছে” ।

    এখন যদি এই দেশে ধর্মের কিংবা ভাষার বহুত্ববাদকে যে কোনও অজুহাতে এক দেশ-এক ধর্ম- এক ভাষা- এক পরিচয়ের বন্ধনে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করা হয় তবে প্রকৃতপক্ষে তা শক্তিশালী দেশ গঠনের পরিবর্তে একটি ভঙ্গুর ও বিবদমান ভৌগলিক সীমাবদ্ধতায় নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে । রামচন্দ্রবাবুর আখ্যায়িত ‘ফিপটি ফিপটি’র গণতান্ত্রিকতায় যে ব্যালান্সটুকু রয়ে গেছে, আজ সেটাকেও খোঁচানো বোধহয় জরুরি হয়ে পড়েছে ক্ষমতারক্ষার স্বার্থে । ফলে দিনে-দিনে আরও হিংসাত্মক উত্তেজনা আমাদের গ্রাস করছে । ডি কে বড়ুয়ার ১৯৭৪ সালের ‘ইন্দিরাই ভারত, ভারতই ইন্দিরা’ উচ্চারণের মধ্যে ১৯৭৫-৭৭ অব্দি যে ঘোষিত এমারজেন্সির সাক্ষী ভারতবাসী হয়েছিল, গত ৩০শে জুন, ২০২০, সেমন্তী ঘোষের ‘জরুরি অবস্থা কেন, গণতন্ত্র দিয়েই আজ গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করা যায়’-এ সেই ইঙ্গিতই কি আরেকবার উচ্চারিত হল না । দু’দশক আগে, ১৯৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে এস ভার্মা একটি মামলার প্রেক্ষিতে বলেছিলেন, “ছোটখাটো অপরাধের জন্য লোককে শাস্তি দেব, আর জন্মদিনের পার্টিতে লক্ষ-লক্ষ টাকা যারা খরচ করে, তারা বেমালুম রেহাই পেয়ে যাবে, এই যদি আমাদের কাজ হয়, তা হলে আমাদের সব আদালতের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়াই ভাল । দেখে শুনে মনে হচ্ছে –দের ঘাঁটাতে গেলে বিপদ আছে । ওদের যা খুশি করতে দাও, তা ছাড়া ওদের ঠান্ডা রাখবার আর কোনও পথ নেই” । এরপরেও কি ডিক্লেয়ার করার দরকার হয় ?

    গান্ধীজি একসময় কংগ্রেসের মধ্যে গুন্ডামিকে ডেকে আনাতে কংগ্রেসের মৃত্যু দেখেছিলেন । আসল ঘটনাটা হল, এখন গুন্ডামির মধ্যে রাজনীতি চলে গেছে । এছাড়া আর উপায়ই বা কী ? ১৩০ কোটির দেশে সাড়ে পাঁচশো যদি আসন হয় এবং যার ১৫ শতাংশের মন্ত্রীত্বের অধিকার থাকে তবে প্রতিযোগিতার বাজারে এলাকা নিয়ন্ত্রনের দাপট, অর্থ-সংগ্রহে পারদর্শীতা ও গলার জোরের বাকপটুতা ছাড়া আর কোন গুণ প্রাধান্য পেতে পারে । সেখানে কি সারবত্তাপূর্ণ ভাষণ, এলাকার মানুষজনের সমস্যার কথা সময় দিয়ে শোনার দক্ষতা ও মমত্ববোধ, নির্লোভ ব্যক্তিত্ব গুরুত্ব পাবে ? পাবে না ।

    এর মধ্যেই উদযাপিত হল আমাদের আরেকটি স্বাধীনতা দিবস – তেরঙ্গা উত্তোলন, লজেন্স বিলি আর লতা মঙ্গেশকরের গানের মধ্যে দিয়ে । বাকি সব, পরে হবে । শুধু মনে করে নেব যে ঘটনা দিয়ে এই প্রবন্ধ শুরু করেছিলাম – গান্ধীহত্যা । ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঘোষিত হয়েছিল স্বাধীনতার প্রথম অঙ্গীকার । কিন্তু, ১৯৪৭ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের তাড়াহুড়োয় ১৫ই আগস্টে দেখা গেছিল সেই অঙ্গীকারের একেবারে উলোট-পুরাণ । জনমতের বিপরীতে দেশভাগ মেনে নেওয়া দিয়ে শুরু এবং গান্ধীহত্যা দিয়ে যার শেষ লেখা হয়েছিল । এসবের মধ্যে গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলের প্রশ্ন তোলা হলে, ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর দিনটিকে স্মরণ করে নিতে হবে আমাদের । গান্ধীহত্যার পরে কেটে গেছিল প্রায় ১ বছর ১০ মাস । তারপরে ফাঁসী হয়েছিল নাথুরাম গডসে ও নারায়ন আপ্টের । মাঝখানে চলেছিল বিচারব্যবস্থার প্রক্রিয়া । সেদিন কেউ এনকাউন্টারের কথা বলেনি, বলেনি পিটিয়ে মেরে ফেলার কথাও – যদিও অভিযোগ ছিল গান্ধীজীর হত্যা । এই ছিল গণতন্ত্রের আখ্যান । আর আজ ?

    আজ, ২০২০ সালের অগস্ট মাসপেরিয়ে এলাম, চারিদিকে করোনার যন্ত্রনা, আমফানের ধ্বংসলীলা ও বন্যার ক্ষতিগ্রস্থতায় কাতর জনমন । নীরদবাবুর মননাশ্রয়ে বলা যায়, এই আপোক্লিপসের কালো ঘোড়া হল গণতন্ত্র । কেননা একাকী অপেক্ষমাণ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গনতন্ত্রটি, যেন বিচারের যূপকাষ্ঠে নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের কাছে প্রশ্ন বড় কম, যাও বা আছে উত্তর দেবার দায় আর কারও নেই । তবুও আগস্ট মাস এলেই, যেমন মনে পড়ে ১৫তম দিনের কথা, আন্দামানের প্রস্তরফলকে লেখা বন্দীদের নাম চোখের সামনে ভেসে ওঠে । তেমনই ৬ই আগস্ট হিরোশিমা, ৯ই আগস্ট নাগাসাকিও পৃথিবীর ইতিহাসে জ্বলজ্বল করে ওঠে, মানবতার হাজারো প্রশ্ন নিয়ে । কিছু চোখের জল তো তারও প্রাপ্য ।
    প্রবন্ধের শিরোনামে ‘দুটি ঐহিক সমাধির স্মৃতি’র কথা লেখা আছে । একটা যে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে গান্ধীসমাধি সেটা বলাইবাহুল্য । আরেকটি সমাধি হল শেখ মুজিবর রহমানের । বাঙালির কাছে এই শোকই বা কম কীসের, হোক না আলাদা হয়ে যাওয়া একটি দেশ, তবুও সে যে আমাদেরই আত্মজ । গান্ধীহত্যার পঁচিশ বছর পরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার শেখ মুজিবের বুকেও গেঁথে দেওয়া হয়েছিল সেই বুলেট, দিনটা ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ । দুজনকেই, বলা হয় ‘Father of Nation’ – কি আশ্চর্য সমাপতন । দুটি রাষ্ট্রের শরীরেই যেন পিতৃহত্যার পাপ লেগে আছে ।


    ( সমাপ্ত)
    গ্রন্থঋণঃ
    1.গাঁধী-উত্তর ভারতবর্ষ - রামচন্দ্র গুহ
    2.Three Horseman of the New Apocalypse – Nirad C Chaudhuri
    3.ভারতের অধঃপতন – টি . এন . শেষন
    4.Conservatism, Radicalism and Scientific Methods – A. B. Wolfe
    5.India Wins Freedom - M. A. K. Azad

    তথ্যসূত্রঃ
    1.https://en.wikipedia.org/wiki/Democracy_Index
    2.https://www.idea.int/data-tools/tools/global-state-democracy-indices
    3.https://www.theguardian.com/science/brain-flapping/2015/apr/02/democracy-psychology-idiots-election
    পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩
  • বিভাগ : আলোচনা | ১১ অক্টোবর ২০২০ | ২৪৫ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন