• টইপত্তর  আলোচনা  বিবিধ

  • সমর সেনঃ কিছু উড়ো খই

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ১১ অক্টোবর ২০২০ | ৪৮৫ বার পঠিত
  • ৫/৫ (২ জন)
  • জমিয়ে রাখুন
  • সমর সেনঃ কিছু উড়ো খই
    [ গতকাল ছিল সমর সেনের ( ১৯১৬-৮৭) জন্মদিন।
    গুরুচন্ডালির সক্রিয় কর্মকর্তা শেখর সেনগুপ্ত আমার প্রথম যৌবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। টইয়ের পাতায় অনুরোধ করেছেন কিছু লিখতে। আমি জানি কবি সমর সেন বা তাঁর কবিতা নিয়ে লেখার যোগ্যতা আমার নেই। এর জন্যে গুরু ও চন্ডালদের মধ্যে অনেক সুযোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। যেমন ধরুনঃ ছোটাই, বড়াই , ইন্দোডাক্তার, টিম, শুচিস্মিতা , একক, ফরিদা, সিঁফোঁ, সিকি, এতোজ, দময়ন্তী, শিবাংশু, কল্লোল, অরিন, ঈশান এবং আরও অনেকে।
    কাজেই আমি সে চেষ্টা না করে বলব ষাটের দশকের শেষে সদ্য গোঁফের রেখা ওঠা আমরা, মানে ওই শেখর , আমি আমরা কীভাবে সমর সেনকে জেনেছি সেই কথা।
    স্মৃতি অনেক সময় ধোঁকা দেয়, কেউ তথ্যে ভুল ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব। ]

    সমর সেন যে কবিও বটেন সেটা জেনেছি অনেক পরে । আমরা, বাঙলা স্কুলে ইংরেজি শেখা ছেলের দল বাড়ির বড়দের টেবিলে হুমায়ুন কবীরের ‘নাউ’ পত্রিকার পাতা ওল্টাই বেশ সম্ভ্রমের সঙ্গে । সেখানে তখন বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের মেলা জমেছে। উৎপল দত্ত লিখছেন রফিকুল ইসলাম নাম নিয়ে । অশোক মিত্র বোধহয় ইপিডব্লিউর মত এ এম নিক নিয়েই লিখছেন। সম্পাদক সমর সেন সবার মধ্যমণি, ফিল্ডের ম্যাগনেট।

    আমরা শুনতাম উনি নাকি কলকাতা ইউনি’র ইংরেজিতে এম এ, এবং ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। শুনেছি দাদু দীনেশ চন্দ্র সেনের (অধ্যাপক এবং ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র সংকলক) সঙ্গে বন্ধুর ছিল দোস্তানা সম্পর্ক। গায়ের কটা রঙ এবং অল্পবয়েসে ইংরেজি ভাষায় অমন দখল দেখে দাদু ডাকতেন—অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। এবং ইউনিতে টপার হওয়ার পর দাদুকে অক্সফোর্ড পাঠানোর প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেওয়ায় দাদু মাথা চুলকে বলেছিলেন--  আদ্দেকটা আমি দিচ্ছি, বাকি আদ্দেক শ্বশুরের থেকে নিস।

    সমর নাকি বলেছিলেন - পুরুষাঙ্গ বাঁধা রেখে বিলেত যাব না।

    ওঁর বাবা অধ্যাপক অরুণ সেন নাকি নিজের পরিচয় দিতেন - এক প্রতিভাশালী পিতার আটপৌরে পুত্র এবং প্রতিভাশালী পুত্রের আটপৌরে পিতা হিসেবে। এই বাগবাজারী পরিবারটিই অদ্ভূত।

    স্বয়ং সমর সেন পরে “বাবু বৃত্তান্ত” বইয়ে লিখেছেন ওঁর ‘বাগবাজারী বখামি’র গল্প। বেশ কয়েকটি সন্তানের পর আবার আরেকটি কন্যা জন্মালে বিমর্ষ ন’কাকা যখন এসব ভগবানের হাত বলে আফশোস করছেন, তখন সমর ভালোমানুষি মুখ করে জিগান—ভগবানের হাত এত ছোট?

    হ্যাঁ, উনি বিলেত-টিলেত না গিয়ে দাদু ও বাবার মত অধ্যাপনা করেছেন এবং সাংবাদিকতা করেছেন প্রথমে স্টেটসম্যানে, পরে হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডে। আমার বাবা-কাকাদের সময় থেকে ইংরেজি পত্রিকা বলতে একটিই ছিল –দি স্টেটসম্যান। তার এডিটোরিয়ালে সমর সেন? ধক আছে মাইরি!

    ওঁর ইংরেজি নিয়ে আরও একটা গল্প প্রচলিত ছিল । একজন নামকরা লেখকের নাকি অভ্যাস ছিল লেখা — ‘মে অর মে নট’। তাতে সমর মুচকি হেসে বলেছিলেন—ওর স্কুলটা বোধহয় ভালো ছিল না । ‘মে’ শব্দটার মধ্যেই যে ‘ মে নট’ লুকিয়ে আছে তা ধরতে পারে নি।

    ব্যস, আমাদের শ্রদ্ধা আকাশ ছুঁলো।

    মাঝখানে কয়েকবছর মস্কো গিয়ে রুশী সাহিত্যের দারুণ সব অনুবাদ করেছিলেন।

    তবে সত্যি কথা বলতে কি, সমর সেনের যে লেখাগুলো প্রথমে পড়েছি তা হল রুশী সাহিত্যের বাঙলা অনুবাদ। স্কুলেই হাতে এসেছিল টলস্টয়ের নির্বাচিত ছোট গল্পের সংকলন ।  মস্কোর বিদেশী ভাষা সাহিত্য প্রকাশনালয় থেকে  সমর সেনের অনুবাদে।

    তাতে প্রথম গল্পটি ছিল  ‘দুই হুসার’। তার অভিঘাতে সারারাত ঘুম হয়নি। এখনও কানে বাজে কম্যান্ডারের নির্দেশে দুই সারি সৈন্যের মাঝখান দিয়ে হুমড়ি খেয়ে মার খেতে খেতে  এগিয়ে চলা সৈন্যের মার্জনা ভিক্ষাঃ “ দয়া করো, দয়া করো ভাইসব”!

    এদিকে যুক্তফ্রন্ট সরকারের পতনে দিল্লির প্ররোচনায় যে অল্পমতের সরকার রাইটার্সে বসল তার পান্ডা হলেন নাউ পত্রিকার মালিক হুমায়ুন কবীর। মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষ ।

    তখন রোজ লাঠি গুলি, রোজ মিছিল। আমরা স্লোগান দিচ্ছি—“ঘোষ -কবীরের আসল নাম, বেইমান শয়তান”।

    একদিন কী হৈচৈ ! সমর সেন ওই কবীরের নাউ থেকে রিজাইন করেছেন, বেশ করেছেন। বাসে ট্রামে হাতে হাতে লিফলেট ঘুরছে—সমর সেন তাঁর পুরনো সাথীদের নিয়ে একটি নতুন ইংরেজি সাপ্তাহিক বের করবেন—“ফ্রন্টিয়ার”। ব্যস, সমস্ত গ্রাহক চলে এল নাউ ছেড়ে ফ্রন্টিয়ারে। কয়েকমাস টিম টিম করে চলে ‘নাউ’ বন্ধ হয়ে গেল।

    ফ্রন্টিয়ার কলেবরে বেড়ে চলল। তাতে থাকত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, ভারত ও বিশ্বের সমসাময়িক অর্থনীতি নিয়ে ওজনদার লেখা, সাহিত্য, নাটক এবং সিনেমা নিয়ে গতানুগতিকতার বাইরে অন্য স্বাদের লেখা। ছাপা হত নিউজপ্রিন্টে, দাম আট আনা।

    কিন্তু অনেকে খেয়াল করলেন সমর সেন যেন নকশাল আন্দোলনের দিকে টেনে লিখছেন। কিছু কিছু বন্ধু সরে যেতে লাগলেন।

    আবার মূর্তি ভাঙার প্রশ্নে উনি বন্ধু সাংবাদিক সরোজ দত্তকেও (শশাংক) ছেড়ে কথা বলেননি। খতম অভিযানের প্রশ্নেও ওঁর নিঃশর্ত সমর্থন ছিলনা বলেই মনে পড়ছে।

    এমন সময় জানলাম উনি কবিও বটেন, হ্যাঁ , চল্লিশের দশকের একজন বিশিষ্ট কবি! বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকার সম্পাদনাতেও নাকি কিছুদিন হাত লাগিয়েছিলেন? বিশ্বাস হচ্ছিল না । কেন ? আজকে হয়ত ছেলেমানুষি মনে হবে।

    খবরে প্রকাশ আমেরিকার “কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রীডম” সংস্থা সি আই এ’র টাকায় চলে। এদের আন্তর্জাতিক মুখপত্র ‘এনকাউন্টার’এর সম্পাদক পদত্যাগ করলেন। এই সংস্থার ভারতের মুখপত্রের নাম কোয়েস্ট। তাতে সম্পাদনায় ছিলেন , যতদূর  অম্লান দত্ত, আবু সয়ীদ আইয়ুব এবং বুদ্ধদেব বসু।

    বামপন্থীরা দাবি তুললেন—এঁরাও পদত্যাগ করুন। এঁদের তাতে বয়ে গেল। ইউনিভার্সিটিতে অম্লান দত্ত ক্লাস নিতে আসলে দেখতে পেতেন ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে লেখা “ সি আই এ’র দালাল”। উনি মুচকি হেসে ডাস্টার দিয়ে মুছতে মুছতে বলতেন—ক্লাসের বাইরে এমন জায়গায় লেখো যাতে লেখাটা অনেকদিন ধরে টিকে থাকে।

    সেই বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে সমর সেন? হতে পারেনা। বাজি ধরলাম এক প্যাকেট চার্মিনার।

    কী আত্মপ্রত্যয়! তখন তো আমরা একটা চার্মিনার তিনজনে ভাগাভাগি করে খাই। দোকানে চার্মিনার পাঁচ পয়সায় দুটো দেয়, পানামা চাইলে একটা।

    গড়িয়া কলেজের  সামনে রাস্তার ওপারে ‘পোঁদে গরম ঠেক’ – মানে রোদে পোড়া কাঠের বেঞ্চ , চাটাইয়ের বেড়া, পাখার বালাই নেই—সেখানে শেখর ও আমার বন্ধু ঢাকুরিয়ার দেবু নিয়ে এল বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদনায় প্রকাশিত “আধুনিক বাংলা কবিতা”।

    তাতে সুকান্তের মাত্র দুটো ছোট কবিতা ? “একটি মোরগের কাহিনী” আর “হে মহাজীবন”।

    আমি রেগে কাঁই।

    তাতো হবেই। বুদ্ধদেব বসু লিখেছিলেন না যে সুকান্ত কবি হতে পারত, কিন্তু রাজনীতি করতে গিয়ে হয়ে উঠতে পারেনি।  আর উনি নিজে কি ছাতার কবিতা লেখেন? “ বক্ষ তব ঢাকিয়া দিনু চুম্বনের চাপে” বা “ চর্ম সাথে চর্মের ঘর্ষণ , একমাত্র সুখ যাহাদের,  তাহারা কি বুঝিবে প্রেমের” –ছ্যাঃ !

    অথচ সমর সেনের ছ’টা কবিতা।

    তবে দীনেশ দাসের ‘কাস্তে’ আছে। সুভাষ মুখোর আছে কয়েকটি। মঙ্গলাচরণ চট্টো, চঞ্চল চট্টো, অজিত দত্ত। অবশ্য জীবনানন্দ দাশের ঘ্যামা ‘রাত্রি’ , ‘আট বছর আগের একদিন”, “বনলতা সেন” , “ঘড়ির দুইটি কালো হাত”, “অধ্যাপক” সবই আছে।

    কিন্তু তখন কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙ্গা বিল্ডিঙয়ের দেয়ালে বড় বড় করে লেখা হচ্ছে “ বাঙলা কবিতার জগত থেকে ‘বনলতা সেনী বিবর্ণতা’ মুছে যাক”।

     কিন্তু সমর সেন এসব কি লিখেছেন?

    “ তুমি কি আসবে আমাদের মধ্যবিত্ত রক্তে
    দিগন্তে দুরন্ত মেঘের মতো!
    কিংবা আমাদের ম্লান জীবনে তুমি কি আসবে ,
    হে ক্লান্ত উর্বশী,
    চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে যেমন বিষণ্ণমুখে উর্বর মেয়েরা আসে –” (উর্বশী)

    অথবা,

    “ হে প্রেমের দেবতা, ঘুম যে আসে না , সিগারেট টানি;
    আর শহরের রাস্তায় কখনো  প্রাণপণে দেখি
    ফিরিঙ্গি মেয়ের উদ্ধত নরম বুক”।( একটি বেকার প্রেমিক)

    এটা কি কোন কমিউনিস্ট কবির লেখা হতে পারে? কমিউনিস্ট কবি তো লিখবে এরকম ঃ

    “জাপ-পুষ্পকে জ্বলে ক্যান্টন, জ্বলে হ্যাঙচাও,
    কমরেড, আজ বজ্রকঠিন বন্ধুতা চাও?
    লাল নিশানের নীচে উল্লাসী  মুক্তির ডাক,
    রাইফেল আজ শত্রুপাতের সম্মান পাক।“ (সুভাষ মুখোপাধ্যায়)।

    সমর সেন কি বিপ্লব যে আমাদের নিয়তি সেটা মানেন না? যাচ্চলে!

    কিন্তু দেবু আঙুল রাখে আগের কবিতাটির শেষ প্যারায়ঃ

    “আর মদির মধ্যরাত্রে মাঝে মাঝে বলি
    মৃত্যুহীন প্রেম থেকে মুক্তি দাও,
    পৃথিবীতে নতুন পৃথিবী আনো
    হানো ইস্পাতের মত উদ্যত দিন ।

    কলতলায় ক্লান্ত কোলাহলে
    সকালে ঘুম ভাঙে
    আর সমস্তক্ষণ  রক্তে জ্বলে
    বণিক-সভ্যতার শূন্য মরুভূমি।“

    আমি দেখাইঃ

    “তোমার ক্লান্ত ঊরুতে একদিন এসেছিল
    কামনার বিশাল ইশারা!
    ট্যাঁকেতে টাকা নেই,
    রঙিন গণিকার দিন হলশেষ,
    আজ জীবনের কুঁজ দেখি তোমার গর্ভে,
    সেইদিন লুপ্ত হোক , যেদিন পুরুষ পৃথিবীতে আসে” । (ঘরে বাইরে)

     আমার সঙ্গে ধরতাই দিয়ে শেখর দেখায়ঃ

    “ কাঁচা ডিম খেয়ে প্রতিদিন দুপুরে  ঘুম,
    নারীধর্ষণের ইতিহাস
    পেস্তাচেরা চোখ মেলে প্রতিদিন পড়া
    দৈনিক পত্রিকায়”।

    দেবু হার মানে না, একই কবিতার শেষের দিকে ইশারা করেঃ

    “তবু জানি, কালের গলিত গর্ভ থেকে বিপ্লবের ধাত্রী
    যুগে যুগে নতুন জন্ম আনে।
    তবু জানি,
    জটিল অন্ধকার একদিন জীর্ণ হবে চূর্ণ হবে ভস্ম হবে
    আকাশগঙ্গা আবার পৃথিবীতে নামবে।

    ততদিন

    ততদিন নারীধর্ষণের ইতিহাস
    পেস্তাচেরা চোখ মেলে শেষহীন পড়া
    অন্ধকূপে স্তব্ধ ইঁদুরের মত
    ততদিন গর্ভের ঘুমন্ত তপোবনে
    বণিকের মাণদন্ডের পিঙ্গল প্রহার”। (ঘরে বাইরে)।

    উমম, বুঝলাম। তা উনি আজকাল কেমন কবিতা লিখছেন? নিশ্চয়ই বদলেছেন স্টাইল বা বাগভঙ্গী?

    নাঃ, উনি কবিতা লেখাই ছেড়ে দিয়েছেন।

    সেকী? কবে? দু’দশক আগে?  কেন কিছু শুনেছিস?

    ওঁর মতে ওসব কিছু হয়টয় নি, তাই।

    কি অনেস্ট দেখেছিস? বেশ করেছেন, আজ যখন সার্ত্রের মত লেখক ও দার্শনিক প্যারিসের ব্যারিকেডে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তখন ওইসব  ন্যাকা ন্যাকা ঘ্যানঘেনে জিনিস পোষায়?

    আমরা কবি সমর সেনকে ভুলে সাংবাদিক সমর সেন, গদ্যলেখক সমর সেনে মেতে উঠি। বলাবলি করি—জানিস, সমর সেনের বন্ধু অমুক, ফ্রন্টিয়ারে নিয়মিত লেখেন; উনি না মূল জার্মান ভাষায় ‘দাস ক্যাপিটাল’ পড়েছেন!

    কিন্তু দেবুকে কবিতার বইটা ফেরত দেওয়া হয়না। ঘরবাড়ি ছেড়েছি, কিন্তু এয়ারব্যাগের মধ্যে রয়েছে “আধুনিক বাংলা কবিতা’।

    টের পাই , আমার নাড়ুগোপাল শরীর ভেঙে পড়ছে, কাশির সঙ্গে রক্ত উঠছে। লুকিয়ে ফেলি, কিন্তু চার্মিনার ছাড়তে পারিনা। সঙ্গীরা বিরক্ত হয়। তোর কাজে উৎসাহ নেই ক্যান? যেখানে যেতে বলা হয়েছিল যাস নাই ক্যান?

    রাত্তিরে লুকিয়ে বইটা খুলিঃ

    “বর্তমানে মুক্তকচ্ছ, ভবিষ্যৎ হোঁচটে ভরা
    মাঝে মাঝে মনে হয় ,
    দুর্মুখ পৃথিবীকে পিছনে রেখে
    তোমাকে নিয়ে কোথাও স’রে পড়ি”।

    ” (নিরালা)।

    আরে , এ তো আমার কথা! আমিও তো মুক্তকচ্ছ, আর ভবিষ্যৎ ? নাঃ , ‘১৯৭৫ সালের মধ্যে ভারত মুক্ত হবে’ বা ‘বাংলার বিস্তীর্ণ সমতল দিয়ে গণফৌজ মার্চ করবে’ গোছের আপ্তবাক্যে বিশ্বাস হারিয়েছি, কাউকে বলতে পারিনে।

    আমার যে আজকাল পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। সত্যি , চারপাশের পৃথিবী বড় দুর্মুখ। কমরেডরা ভাবে আমি আলসে, ফাঁকিবাজ, শেলটারে বসে বসে খেতে চাই। একটা কাউকে কনভিন্স করতে পারিনা। নো নতুন রিক্রুট!

     আমার উর্বশী জানিয়েছে যে আমার মত পড়াশোনা/ ক্যারিয়ার ছেড়ে খালি রাজনীতি করা ছেলের কোন ভবিষ্যৎ নেই।

    কাজেই

    “শেয়াল-সংকুল কোনো নির্জন  গ্রামে
    কুঁড়েঘর বাধি;
    গোরুর দুধ,পোষা মুরগির ডিম, খেতের ধান,
    রাত্রে কানপেতে শোনা বাঁশবনে মশার গান” ( নিরালা)

    এসব স্বপ্নই থেকে যাবে। উর্বশী তার অংশীদার হবে? পাগল না কংগ্রেস?

    তবু স্বপ্ন দেখি, হ্যাঁ, কমরেডদের শেলটারে বসে, জেগে জেগে।

    “স্বপ্নের মত চোখ , সুন্দর শুভ্র বুক,
    রক্তিম ঠোঁট  যেন শরীরের প্রথম প্রেম,
    আর সমস্ত দেহে কামনার নির্ভীক আভাস,
    আমাদের কলুষিত দেহে,
    আমাদের দুর্বল ভীরু অন্তরে
    সে উজ্বল বাসনা যেন তীক্ষ্ণ প্রহার”। ( একটি মেয়ে)

    আমার ঠেক ভবানীপুরে। চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে গিয়ে আউটডোরে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করা মহিলাদের মন দিয়ে দেখি –মাথার মধ্যে যে ঘুরছে সমর সেনের “হে ক্লান্ত উর্বশী,
    চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে যেমন বিষণ্ণমুখে উর্বর মেয়েরা আসে”।

    ক্রমশঃ বুঝতে পারি উর্বশী আমার ধরাছোঁয়ার মধ্যে নেই।

    ভালই হয়েছে।

    এলে আমার মধ্যবিত্ত ময়লা হাতের ছোঁয়ায় খুব তাড়াতাড়ি বিষণ্ণমুখে হাসপাতালে লাইন দেয়া উর্বর মেয়ে হয়ে যেত। ভালই হয়েছে।

    কিন্তু এই রোম্যন্টিকতা খান খান হয়ে যায় । এখন যে শহর কোলকাতার আবহাওয়া পালটে গেছে।  মৃত্যু এখন উৎসব। গলিগলিতে লাশ পড়ছে । শ্মশানে চালিতে শোয়ানো বডির লাইন। কাঠকয়লা দিয়ে পাশের দেয়ালে লিখে দিচ্ছি— ‘ভুলছি না, ভুলবো না’। দেয়ালে দেয়ালে লেখা হচ্ছে “রক্তঝরা পথই তো বিপ্লবের পথ”।

    “ কিন্তু দুর্দিন এল, কী দুর্দিন এল!
    মেঘে মেঘে অন্ধকার, ঝড়বৃষ্টি, বিদ্যুৎহুঙ্কার,
    এ কী আকাশ,
    ভয়াল ভবিতব্যতায় ঘোর আকাশের
    শাক্ত গোধূলিতে
    ভয়ঙ্কর মন্দিরে দিগম্বরী কালী,
    শবাসনে তান্ত্রিকেরা স্তব্ধ,
    দিনের ভাগাড়ে নামে রাত্রের শকুন।

    নষ্টনীড় পাখি কাঁদে আমাদের গ্রামে
    রক্তমাখা হাড় দেখি সাজানো বাগানে।“ (নষ্টনীড়)

    এই কবিতটি কবে লেখা হয়েছিল? চল্লিশের দশকে? সত্যি?

    নাঃ ; কাশির ধমকে ভলভলিয়ে রক্ত উঠছে। আর না, আমি বাঁচতে চাই। কমরেডদের ওপরে বোঝা হব না। ভাল করে খাবার জোটে না , আমার চিকিৎসার দায় ওদের নয় । চিকিৎসা করাতে হবে, মরলে চলবে না । ফিরে যাই, ছত্তিসগড়ের ভিলাইয়ে পিতার ছত্রছায়ায় নতুন শেল্টার। ব্যাগে থাকে কবিতার বইটি।

    ফ্রন্টিয়ার পত্রিকা ব্যান। সমর সেনের হাতে কাজ নেই, অন্নচিন্তা চমৎকারা ।

    প্রতি সন্ধ্যায় ঘরে বন্ধু এবং ভক্তদের আড্ডা জমে। স্ত্রী সুলেখা সবাইকে পরিবেশন করেন এক কাপ চা ও দুটি থিন এরারুট বিস্কুট। ভক্তেরা কখনও কখনও নিয়ে আসেন রামের বোতল। একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার তাঁর গুণগ্রাহী । সবাই চলে গেলে চুপি চুপি খবর দেন যে ওনার নাম লালবাজারে পুলিশের খাতায় উঠেছে, উনি যেন একটু সাবধানে থাকেন ।

    সমর তাকে ওঁর বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন।

    দুঃখিত ভদ্রলোক অন্যদের বলেন –আমি তো ওনার ভালর জন্যেই বলেছিলাম।

    কয়েকবছর কেটে গেছে। আমি সেরে উঠছি। স্থানীয় কলেজে ভর্তি হয়েছি। এমার্জেন্সি এল এবং দু’বছরে চলেও গেল। বাংলাদেশ স্বাধীন।

    বঙ্গে বাম সরকার। বৈঠকখানা বাজারের গলিতে মট লেনে ফের শুরু হয়েছে ফ্রন্টিয়ার; সমর সেন কলম ধরেছেন। কিন্তু গ্রাহক কই? এক দশকে বদলে গেছে একটা প্রজন্ম। গোটা দেশ এখন রক্তপাতহীন ভোটের নিঃশব্দ বিপ্লবে আস্থাবান। জেল থেকে ছাড়া পাওয়া নকশাল নেতারা এই ভোট দিয়ে ইন্দিরা-সঞ্জয়ের এমার্জেন্সিকে হারিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে। ( ১৯৭৭ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত অসীম চট্টোপাধ্যায়ের খোলা চিঠি যা কংগ্রেসের নেতা কৃষ্ণকান্তের সৌজন্যে জেল থেকে বাইরে এসেছিল)।

    তাঁর প্রাক্তন সঙ্গীরা? সেইসব দিকপাল কিংবদন্তীরা? সবাই বাম সরকারের সমর্থনে, সবাই নতুন জমানায় প্রতিষ্ঠিত। অশোক মিত্র মন্ত্রী হয়েছেন। উৎপলের থিয়েটার রমরমিয়ে চলছে। আই সি এস অশোক সেন কেন্দ্রীয় সরকারের নামজাদা আমলা।

    সমর সেন নিঃসঙ্গ, সমর সেন অভিমানী। নকশাল আন্দোলনের সমালোচনা করেন, কিন্তু নিন্দা করতে নারাজ।  এ এক চাঁদ সদাগর। আপোষ করবেন না ।

    নাতনী পূর্ণিমার লেখায় পাই , মহাশ্বেতা দিদা আসতেন মাঝেমাঝে। বলতেন—গুরু লড়ে যাও, তোমার জন্যে বডি ফেলে দেব।

    ফ্রন্টিয়ারের পাতার সংখ্যা কমে।  বিক্রি কমে। হাল ধরেন নতুন প্রজন্মের তিমির বসু। আমি বিলাসপুরে বুকপোস্টে আনাই দু’বছর। ভাষার সৌকর্ষে বক্তব্যের ধারে এবং পর্যবেক্ষণের গভীরতায় তখনও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং দি হিন্দুকে ( আমার দুটো প্রিয় কাগজ) পাঁচ গোল দিতে পারে । কিন্তু পাতার সংখ্যা কমে আসছে। লেখকেরাও। কবেই সাপ্তাহিক থেকে পাক্ষিক হয়ে গেছে।

    সমর সেন চলে গেলেন একাত্তর বছর বয়েসে। এই পৃথিবীর জন্যে একবুক অভিমান নিয়ে । গতকাল রাতে সদ্য সত্তর পেরোনো আমি আবার নিয়ে বসি সমর সেনের কবিতা ।

    আজ ভাবি, সত্যিই কি আকাশগঙ্গা নামবে পৃথিবীতে? ভারতবর্ষে? কোনদিন?

    “ততদিন নারীধর্ষণের ইতিহাস
    পেস্তাচেরা চোখ মেলে শেষহীন পড়া
    অন্ধকূপে স্তব্ধ ইঁদুরের মত
    ততদিন গর্ভের ঘুমন্ত তপোবনে
    বণিকের মাণদন্ডের পিঙ্গল প্রহার”। (ঘরে বাইরে)।

    চোখ কচলে ভাবি—এই কবিতাটি কবে লেখা হয়েছিল ? আজ থেকে পঁচাত্তর বছর আগে? নাকি এই বছর—সেপ্টেম্বর, ২০২০তে?
    =================================================
  • বিভাগ : আলোচনা | ১১ অক্টোবর ২০২০ | ৪৮৫ বার পঠিত
  • ৫/৫ (২ জন)
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | ১১ অক্টোবর ২০২০ ০৭:৪৬732927
  • অদ্ভুত রকমের ভাল লেখা। একটা আস্ত সময়কে তুলে আনলেন! 

  • সম্বিৎ | ১১ অক্টোবর ২০২০ ০৮:০০732929
  • রঞ্জনদা, খুব ভাল লাগল।

    আমাদের উঠতি বয়েসে শুনতাম সমর সেনের মতন শহুরে কবি আর আসেননি। তবে বুদ্ধদেব বসুর 'আধুনিক বাংলা কবিতা' পড়ে সমর সেন টানেননি। বরঞ্চ 'বাবু-বৃত্তান্ত' পড়ে বাগবাজারী ফচকেমি 'দাদু, পুরুষাঙ্গ বাঁধা দিয়ে বিলেত যাবনা' টেনেছিল বেশি। অথবা, রবীন্দ্রনাথকে রবিবাবু সম্বোধন শুনে রবীন্দ্রনাথের "আপনার বাবা আমার ছাত্র ছিলেন" বলা।

    ১৯৯২ সালে সুমনের প্রথম স্টেজ শো দেখতে গিয়ে সমর সেনের উদ্দেশে ওনার "না বুঝে ছিলাম আমি যার প্রতিবেশী" শোনা ও তৎসহ সুমনের বাচনে ওনার শেষবয়সের একাকীত্বের গল্পে আরেক সমর সেনের ছবি ধরা পড়ে। সেই সঙ্গে ফ্রন্টিয়ারের কথা জানা, ওনার অতি বাম রাজনীতির প্রতি সমর্থন এসবই ওনার ভাবমূর্তিতে খাপ খেয়ে যেতে থাকে।

     খাপ খায়না সুনীলের 'অর্ধেক জীবন' নামক আধা আত্মজীবনীতে পড়া কনসুলেটের পার্টিতে সুনীলের প্রতি ওনার উষ্মা প্রদর্শন ও খতমের ধমক। অবিশ্বাসের কোন কারণও দেখিনা।

     

  • aranya | 162.115.44.103 | ১১ অক্টোবর ২০২০ ০৯:০৪732934
  • বা: 

  • শিবাংশু | ১১ অক্টোবর ২০২০ ০৯:৪৪732936
  • সমর সেনকে নিয়ে খই ওড়ানো দুঃসাহসের কাজ। কিন্তু এই লেখাটি সমর সেন নামক এনিগমা'টিকে অনেকটা ছুঁতে পেরেছে। বিশেষত হাল প্রজন্মে যাঁরা বাংলা কবিতা লেখেন বা 'রাজনীতি সচেতন' ইংরেজি গদ্য লেখেন, তাঁদের সমর সেনের থেকে কয়েকটি স্কিল শেখা প্রয়োজন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে এককালের বাংলা কবিতা পাঠক সমর সেনের ক্লোন বলতেন। 

    বছর চল্লিশ আগে জামশেদপুরে একটি সেমিনারে সুভাষ মুখুজ্যে ও সমর সেনের কবিতা সম্পর্কে তুলনামূলক আলোচনায় বলেছিলুম, সমর সেনের নাগরিক স্মার্টনেসের প্রবল আকাঙ্খা ওঁর মানসভুবনের কিছুটা ক্ষতি করেছিলো। প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞার ভারসাম্য রক্ষা করা যেকোন বড়ো লেখকের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ। সমর সেন যেন প্রতিজ্ঞার ভারেই প্রত্যাশিত কক্ষপথ থেকে সরে গিয়েছিলেন। সুভাষের উপর ছিলো প্রত্যয়ের ভার। সুভাষ রয়ে গেছেন নিজের শর্তে। সমর সেন পারেননি। বাংলা পাঠকের দুর্ভাগ্য।  

    ঐ সভার দুই মডারেটর, প্রবীণ নারায়ণ চৌধুরী এবং 'নবীন' নবনীতা দেবসেন, দুজনেরই এই মূল্যায়ণটি ভালো লেগেছিলো। 

    মনে পড়ে গেলো। 

  • রঞ্জন | 2405:204:1024:7e1e:3f8d:dcca:c8a7:3443 | ১১ অক্টোবর ২০২০ ১০:০৯732939
  • সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। সম্বিতের সঙ্গে সহমত। সমর সেন এর কবিতার পরিশীলিত নাগরিকতার একাকিত্ব ওই বয়সে আমাকেও দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। টেনেছে ভিলাইয়ে রোগশয্যায়, ঘরবন্দী একাকিত্বে।

    সুমনের গানটির জন্য বিশেষ ধন্যবাদ।

    শিবাংশু'র বক্তব্য প্রত্যাশিত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় | 2405:201:a001:c05f:a1c0:1f08:a4b0:fe36 | ১১ অক্টোবর ২০২০ ২২:৩৫732956
  • সমর সেন : কিছু উড়ো খই - রঞ্জন বাবুর শক্তি শালী লেখা। প্রায় তথ্য চিত্রের মেজাজ। সমর সেনের কবিতা নানা সময়ে পড়লেও এভাবে ভাবতে পারি নি। তাঁকে ধন্যবাদ।

  • এলেবেলে | 202.142.71.86 | ১২ অক্টোবর ২০২০ ০০:১৫732962
  • রঞ্জনবাবুর এই অসামান্য শ্রদ্ধা নিবেদনটি বড্ড ভালো লাগল। সমর সেন আমারও বড় প্রিয় কবি। সত্যি কথা বলতে, জীবনের একটা সময়ে তিনি জীবনানন্দকে সরিয়ে আমার কাছে আধুনিক বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠতম কবি হয়ে উঠেছিলেন। 

    শুধু একটা মৃদু অভিযোগ রয়ে গেল। গোটা লেখাটায় তিনিএকবারের জন্যও এলিয়টের অনুষঙ্গ আনলেন না। এলিয়ট, যাঁকে সমর সেন চিহ্নিত করেছিলেন 'আমাদের বখাটে জেনারেশনের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি' বলে।

    ১৯৮৮ সালে দ্য ওয়েস্টল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য থাকার কারণে, তিরিশের কনিষ্ঠতম পঞ্চম পাণ্ডবটির কবিতা আমাকে অবশ করে দিয়েছিল। সেই আমার প্রথম সমর সেন পড়া। তাঁর তীক্ষ্ণ শ্লেষ, অননুকরণীয় গদ্যছন্দ, কাটা কাটা শব্দনিক্ষেপ, নাগরিক মনন - এর অনেকটাই এলিয়ট প্রভাবিত।

    বিষ্ণু দে নিজেও এলিয়ট প্রভাবিত ছিলেন। তিনি এলিয়টের একাধিক কবিতার অনুবাদ শুরু করেননি, তাঁর কবিতার একাধিক চিত্রকল্পের কারণে তিনি এলিয়টের কাছে সরাসরি ঋণী। সমর সেন এখানেও ব্যতিক্রমী। তিনি এলিয়টকে ব্যবহার করেছেন একদম স্বকীয়ভাবে, নিজস্ব স্টাইলে। খুব খুঁটিয়ে না পড়লে, সেসব জায়গায় এলিয়টের প্রভাব নজরেই আসে না।

    আরও একটা ক্ষেত্রে তিনি চিরব্যতিক্রমী। সেটা হল মধুসূদন ও বঙ্কিমের সাহিত্য ঘরানার উল্টোদিকে হেঁটে, তিনি বাঙালির সাহিত্যচর্চার মিথ একা হাতে ভেঙে দিয়েছেন। দিয়েছেন বলেই প্রথমে শুরু করেছেন বাংলায়, এবং পরে ইংরেজিতে থিতু হয়েছেন। তাঁর তীর্যক প্রকাশভঙ্গি যদিও দুটি ভাষাতেই এক রয়ে গেছে।

    এবং নিজেকে রিপিট না করতে চাওয়া। কবিতার ভুবনকে সেই যে তীব্র তাচ্ছিল্য করে সরে গেলেন, পরবর্তীকালে আর সেই ছেড়ে যাওয়া চটিতে পা গলাননি।

    আমার অশেষ সৌভাগ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্য ওয়েস্টল্যান্ড, ট্র্যাডিশন অ্যান্ড ইন্ডিভিজুয়াল ট্যালেন্ট এবং মার্ডার ইন দ্য ক্যাথিড্রাল-এর পাঠ আমি এমন একজনের কাছে গ্রহণ করেছিলাম, যিনি ভারতবর্ষে এলিয়টের ওপর প্রথম ডক্টরেট।

    অনেক পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য রঞ্জনবাবুকে অজস্র অভিনন্দন।

  • b | 14.139.196.11 | ১৩ অক্টোবর ২০২০ ১১:০৬732985
  • থ্যাঙ্কু রঞ্জনদা।

    ইয়ে, কয়েকদিন আগে ফ্রন্টিয়ারের তরফ থেকে কিছু সাহায্যের আবেদন  পেয়েছিলাম।সাহায্য মানে আর কিসুই নয়, লাইফ মেম্বার হয়ে যাওয়া। 

  • Ranjan Roy | ১৩ অক্টোবর ২০২০ ১৫:৪৮732986
  • বি,

      ফ্রন্টিয়ার এখনও টিকে আছে? বাঃ , খুব ভাল লাগল। তিমির বসুই কি সম্পাদক? লাইফ মেম্বারের টাকা কত ?

  • b | 14.139.196.11 | ১৩ অক্টোবর ২০২০ ২২:১১732991
  • আর, মণিভূষণের কবিতাটাও থাক ঃ 

    কি হবে আর পাতা উল্টে শঙ্খ ঘোষ আর হার্ট ক্রেনের 

    ভারতবর্ষ রেসের মাঠ মুৎসুদ্দী বেনের 

    খবর হতে পারি নি তাই 

    অভিমানে আঙুল ফোলাই 

    এখন শুধু গদ্য পড়ি 

    ফ্রন্টিয়ারে, সমর সেনের। 

  • r2h | 73.106.235.66 | ১৩ অক্টোবর ২০২০ ২২:৩৫732992
  • ভালো লাগলো, এই লেখাটার জন্যে রঞ্জনদাকে
    থ্যাঙ্কিউ। ইনফ্যাক্ট আমি এলেবেলের থেকেও সমর সেন বিষয়ে লেখা আশা করছিলাম বেশ কিছুদিন ধরেই, ভাতের কোন কথার সূত্র ধরে, ঠিক মনে নেই।

    তবে আমার কিনা দুটো আজাইরা কথা না বললে ভাত হজম হয় না, তাই বলি, রঞ্জনদার লিস্টিটায় একটু গোলমাল আছে, যেমন বড়াই আর ইন্দো ডাক্তার এক লোক, আর লিস্টির কারো কারো সমর সেন বিষয়ে আর যাই থাকুক, ঠিক অ্যাপ্রিসিয়েশনের দৃষ্টি নেইঃ) (নিতান্তই ভাট টাট থেকে আহৃত তথ্য, অফলাইন কিছু না)।

    আর দ্বিতীয়ত, ঐ পুরুষাঙ্গ বাঁধা দেওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে সমর সেন খুব আলোচিত, আর আমার ঐ একটি মন্তব্যের জন্যেই এই ভদ্রলোকের ওপর কিঞ্চিৎ বিরাগ।

    আদারওয়াইজ তৎকালীন সাহিত্যিক হিসেবে সমর সেন শ্রদ্ধেয়, কৌতুহলোদ্দীপক ইত্যাদি তো বটেই।

  • এলেবেলে | 202.142.96.33 | ১৪ অক্টোবর ২০২০ ০০:৩৭732993
  • হুতো, আপনি যে ভাটে বলা আমার সমর সেন সম্পর্কে বলা কথা মনে রেখেছেন, এতে আমি সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি। কারণ আমি নিজেই কী বলেছিলাম, তা ভুলে মেরে দিয়েছি! ইচ্ছে আছে সমর সেনকে নিয়ে একটা বড় করে লেখার। তরুণ বয়সের দুর্বলতা তো। তবে এখানে সমর সেনের এত ভক্ত দেখে কিঞ্চিৎ বুক দুরুদুরুও আছে। দেখা যাক, কবে হয়ে ওঠে। কিংবা আদৌ হয়ে ওঠে কি না।

  • সুকি | 49.207.218.224 | ১৪ অক্টোবর ২০২০ ০৭:০৩732996
  • খুব ভালো লাগল এই লেখাটি

  • Ranjan Roy | ১৪ অক্টোবর ২০২০ ০৯:২০732997
  • হুতো,

      আর যেটা বহুপ্রচারিত ভেবে লিখিনি সেগুলোঃ

    ১ শান্তিনিকেতনে দাড়িদাদুকে 'রবিবাবু' সম্বোধন করে ঝাড় খাওয়া? " তোমার বাবা আমার বন্ধু ছিলেন "। সম্ভবতঃ দীনেশ সেন, অরুণ সেন ব্রাহ্ম ছিলেন।

    ২ দিল্লিতে প্রতিবেশি কিশোরী কন্যাকে রোজ দেখতে দেখতে ভাবলেন "বেশ লাগছে" ; তারপর বিয়ের কথা  ভাবা হচ্ছে শুনে হঠাৎ পাত্র হিসেবে "আমাকে ভেবে দেখতে পারেন" বোলে উঠে কাট  মারা? উনিই কবিপত্নী সুলেখা দেবী।

    ৩ আমার লেখাটা শেখরের কথায় একরাত্তিরে তাড়াহুড়ো করে লেখা। বাদ পড়েছে ওঁর ডায়েরি থেকে-- মাটিতে বিছানা পেতে ঘুমুচ্ছেন কবিবন্ধু কামাক্ষীপ্রসাদ (দেবীপ্রসাদের দাদা), ] একটা মাছি উড়ে উড়ে বসছে। গালে একটা দাগ দেখে সমর সেনের চিন্তা "বোধহয় রেখা কামড়ে দিয়েছে" ।

    'বাগবাজারী বখামি"? আমার ভাবতে ভাল লাগে যে একটা বয়েসে আমরা সবাই সমান "বখা", সে রবিঠাকুরের প্রজন্মই হোক, কি সমর সেনের, বা আমার এবং হুতোর।

  • Ranjan Roy | ১৪ অক্টোবর ২০২০ ২২:৩৬733003
  • বি,

     অনেক ধন্যবাদ। আশ্চর্য , একাউন্ট খুলল না। খানিকক্ষণ পর পর নানাভাবে চেষ্টা করলাম ।অবশেষে বড় করে বাণী আসতে লাগল--Account Suspended! Ask your provider.

  • Prativa Sarker | ১৫ অক্টোবর ২০২০ ২৩:৩৬733009
  • লেখাটি চমৎকার !  একটা সময়ে সমর সেনে ডুবে ছিলাম। এখন ততটা না হলেও পুরনো চাল সবসময়ই ভাতে বাড়ে। 

  • santosh banerjee | 103.76.82.88 | ১৭ অক্টোবর ২০২০ ১৮:৪৩733017
  • ei bhabei saccha marxbadi ra saccha theke jai.dada / neta ra moi diye uthe moi kere nei...thake kichu abashistha manush...Samar Sen er moto.Kintu boro Bhishon bhabe thake...Bhishon bhabe !!

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন