• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • 'আমফান' রিলিফ: আপডেট - ২

    গুরুচণ্ডা৯ লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৫ জুন ২০২০ | ৫২০ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • আমফান রিলিফ নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি বিগত দশ দিন ধরে চলেছে তার একটা সংক্ষিপ্ত আপডেট দেওয়া হল:

    ২৬শে মে--এদিন তিনটি টিম উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কাজ করেছে।

    প্রথম টিমটি হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের রূপমারী গ্রামপঞ্চায়েতের কুমীরমারী গ্রামে চাল-ডাল, শুকনো খাবার এবং ত্রিপল পৌঁছে দেয়। অঞ্চলটি ব্যাপক ভাবে জলমগ্ন হওয়ায় পৌঁছতে খুবই সমস্যা হয়েছে। জোয়ার-ভাটার কারনে আগের দিন ত্রাণ পৌঁছে গেলেও ডিস্ট্রিবিউট করা সম্ভব হয়নি। এদিন সম্ভব হয়।

    দ্বিতীয় টিমটি যায় হাসনাবাদ ব্লকের পাটলি খানপুর অঞ্চলের ভেরিপাড়া ও খলিশাখালি গ্রামে। নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের ভলেন্টিয়াররা এখানে ৩০০-র মতো পরিবারের কাছে শুকনো খাবার, পানীয় জলের পাউচ, স্যানিটারি ন্যাপকিন ইত্যাদি পৌঁছে দেয়।

    তৃতীয় টিমটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মিনাখা অঞ্চলের হারিনুল্লাহ্‌ গ্রামে একটি 'কম্যুনিটি কিচেন' চালু করেছেন। বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের ভলেন্টিয়াররা এখানে কাজ করছেন।

    ২৭শে মে--এদিন সুন্দরবনের রাঙাবেলিয়ার উত্তরপাড়া, রানীপুর, বাগবাগান, সাতজেলিয়া এলাকায় আম্ফান রিলিফ নেটওয়ার্ক-এর পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী বিপ্রদাসপুর অঞ্চলের স্বেচ্ছাসেবীরা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে কিছু ছবি তুলে পাঠান। তাঁরা জানান যে, এলাকাগুলির পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। বেদনাদায়ক ভাবে বেঁচে আছেন এলাকার মানুষ।





    ২৮শে মে-- এদিন উত্তর ২৪ পরগণার সুন্দরবনে পাটলিখানপুর গ্রামে আমফান পীড়িতদের জন্য সহায়তা উদ্যোগে হাত বাড়িয়ে দিলেন আম্ফান রিলিফ নেটওয়ার্ক-এর দুর্গাপুরের বন্ধুরা। সুদূর দুর্গাপুর থেকে ‘পুনরুদ্ধার’ গ্রুপের সদস্যরা সারা রাত ট্রাক চালিয়ে এসে ‘নেটওয়ার্ক’-এর ব্যবস্থাপনায় পাটলিখানপুর অঞ্চলে ৫০০ পরিবারের কাছে খাবার, জামাকাপড় এবং ত্রিপল পৌঁছে দেন। সারাদিন ত্রানের কাজ করে আবার সারা রাত ট্রাক চালিয়ে তাঁরা ফিরে যান দুর্গাপুরে।



    ওইদিনই দমদম-নাগেরবাজার অঞ্চলের কিছু বন্ধুদের একটি টিম, নেটওয়ার্ক-এর ব্যবস্থাপনায় পুর্ব ঘূর্নি এবং চকপাটলী অঞ্চলের ১১০টি পরিবারের কাছে খাবার ও ত্রিপল পৌঁছে দেয়।

    এছাড়াও কুলতলীর পূর্ব গুড়গুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠাকুরান অঞ্চলে ‘প্রত্যার্পন’ গ্রুপের সদস্যদের সাথে নেটওয়ার্ক-এর বন্ধুরা যান। এখানে প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ ভেঙে ৪০০ ঘর মানুষ জলবন্দী হয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে কমবেশী ৩০০টি পরিবারের কাছে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ২৯শে মে-- এদিন রিলিফ নেটওয়ার্কের কর্মসূচি হিসেবে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের যৌথ চিকিৎসা দলের পক্ষ থেকে মেডিকেল ক্যাম্প হয় দক্ষিন মহিষপুকুর অঞ্চলে। দক্ষিন মহিষপুকুর ও ঘেরিপাড়া অঞ্চল থেকে রোগীরা দেখাতে এসেছিলেন। ১৬৪ জন রোগী দেখা হয়েছে। বেশীরভাগ অঞ্চল এখন ও জলের তলায়। আগের দিন থেকে কিছুটা জল কমতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ পরিবার রাস্তার পাশে পলিথিনের চালায় অস্থায়ী ভাবে আছে। একটা রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ২৮ আর ২৯ তারিখ, দুদিন ৫০০ জন কে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে। প্রচুর রোগী চামড়ার সমস্যা, উদ্বেগ, অবসাদ নিয়ে এসেছেন। অনেক ক্রনিক রোগী ওষুধ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন আর্থিক সমস্যা, লকডাউনের পর ডাক্তার এর অসুবিধে, দোকানে ওষুধের সাপ্লাই এর ও বেশ খারাপ বলছে লোকজন। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যের অবস্থা বেশ উদ্বেগের।





    চন্দননগরের একটি গ্রুপ নেটওয়ার্ক-এর ব্যবস্থাপনায় মহিষপুকুর, ঘেরিপাড়া অঞ্চলের প্রায় ৪০০ জলমগ্ন মানুষের কাছে তিনবেলা রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে শুরু করেন। এই টিমটি রবিবার পর্যন্ত এলাকায় ছিলেন।

    এদিন মগরাহাট থানার যুগদিয়া গ্রামে একটি ‘কম্যুনিটি কিচেন’ চালু করা হয়। ৪০০ মানুষকে এক সপ্তাহ ধরে দু’বেলা রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। মূলতঃ ছাত্রছাত্রীদের একটি গ্রুপের উদ্যোগে এটি চলেছে। সাহায্য করেছে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ সংগঠন এবং নেটওয়ার্ক-এর বন্ধুরা।

    ৩০শে মে--এদিন ডাক্তারদের টিম যায় রুপমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এর কুমিরমারী গ্রামে৷ এই অঞ্চলের অবস্থা আরো ভয়াবহ। এই অঞ্চলের তিনটে গ্রাম রুপমারী, কুমিরমারী, বাইনারা। বাইনারার সমস্তটা, কুমিরমারীর উত্তরাংশ আর রুপমারী আংশিক অঞ্চল বেশ ক্ষতিগ্রস্ত এবার। আয়লাতে এই অঞ্চল খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। স্থানীয়দের মতে আয়লার চেয়ে এবার ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশী। সঠিক সময়ে যথাযথ ভাবে বাঁধ মেরামতি হলে এই অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হত না। বেশিরভাগ বাড়ি জলের তলায়, অনেকের বাড়ি ভেঙে গেছে। বেশ কিছু পরিবার এখনো বড় রাস্তায় অস্থায়ী ত্রিপলের চালা করে আছেন। একই চালার তলায় মানুষ, জন্তু গাদাগাদি করে কোনক্রমে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার থেকে এই অঞ্চলে ত্রিপল ও ৩০০ গ্রাম করে চিড়ে দিয়েছে। হ্যাঁ ঠিকই শুনলেন, ৩০০ গ্রাম।

    এই অঞ্চল গুলিতে আম্ফান রিলিফ নেটওয়ার্ক-এর পক্ষ থেকে এক রাউন্ড সাধারণ ত্রাণসামগ্রী বিলি হয়েছে।

    ৩১শে মে--এদিন নেটওয়ার্ক-এর দুটি টিম হাসনাবাদ ব্লকের খাঁপুকুর এবং ট্যাংরামারি অঞ্চলের প্রায় ১,০০০+ পরিবারের কাছে খাবার-দাবার সহ প্রয়োজনীয় কিছু নিত্য-ব্যবহার্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়। ওই দিনেই ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম’ এবং ‘শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ’-এর টিম নেটওয়ার্ক-এর ব্যবস্থাপনায় হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের ছোট সাহেবখালি গ্রামে একটি হেলথ্‌-ক্যাম্প করে, ওষুধ-পত্র বিলি-বন্টন করে।

    ১লা জুন--নেটওয়ার্ক-এর ভলেন্টিয়াররা ছোট সাহেবখালি গ্রামের দুটি অঞ্চলে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০টি পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়। মূল দায়িত্ব নেয় নেটওয়ার্ক-এর একটি সংগঠন ‘গ্রাউন্ড জিরো’। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেটওয়ার্ক-এর আর একটি সংগঠন ‘বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ’-এর সদস্যরা।

    ২রা জুন--এদিন মিনাখা-র হরিনুল্লাহ্‌ অঞ্চলের কমিউনিটি কিচেনটি সপ্তম দিনে পড়লো। এখানে ৭০০ জনের ১বেলা করে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। আরও ১০ দিন এই কিচেনটি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    মথুরাপুর ব্লকের পূর্ব রানাঘাটে একটি কমিউনিটি কিচেন তিন দিন ধরে চলছে। এখানেও ৭০০ জনের ১বেলা করে খাবার তৈরি হচ্ছে। আপাতত আরও ৪ দিন এই উদ্যোগটি চলবে।

    পাথরপ্রতিমা ব্লকের কৃষ্ণদাসপুরে আরেকটি উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই কমিউনিটি কিচেনটিতে আগামী ৫ দিন ধরে ৭৫০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ওপরে উল্লিখিত কমিউনিটি কিচেন উদ্যোগগুলির মূল সংগঠক ‘বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ’। মগরাহাট থেকে ৬কিমি দূরে জুগদিয়া গ্রামে আরও একটি কমিউনিটি কিচেন চলছে নেটওয়ার্ক-এর অন্য একটি টিমের উদ্যোগে। গড়ে ২৫০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এখানে। উদ্যোগটি এদিন চতুর্থ দিনে পড়লো।

    এছাড়াও এদিন দুটি টীম দক্ষিণ ২৪ পরগণায় রিলিফ কর্মসূচি নেয়। একটি টীম যায় পাথরপ্রতিমা, মৌসুনি দ্বীপ, সাগরদ্বীপ এবং আর একটি টীম যায় গোসাবার রাঙাবেলিয়া অঞ্চলে।



    ৩রা জুন--আম্ফান রিলিফ নেটওয়ার্ক-এর পক্ষ থেকে রাঙাবেলিয়া এবং জাটিরামপুর সর্দারপাড়া অঞ্চলের প্রায় তিনশো পরিবারকে পাঁচশো টাকা মূল্যের চাল-ডাল-আলু-পিঁয়াজ-নুন-হলুদ-তেল-সয়াবিন-বিস্কুট সম্বলিত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। Biloopto- A Charitable Initiative -এর পক্ষ থেকে মহিলাদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন, সাবান ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়েছিল। আর শ্রমজীবী নারীমঞ্চ-ও বাড়িয়ে দিয়েছিল সাহায্যের হাত।





    প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে ত্রাণের কাজে যখন নেটওয়ার্কের সদস্যরা যাচ্ছেন, তখন তাঁরা একটা বড় সময় ফোন ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের বাইরে থাকছেন। ফলে সমস্ত কর্মসূচির আপডেট দিনে দিনে এসে পৌঁছোচ্ছে না। ফলে এই তালিকার বাইরেও কিছু কর্মসূচি রয়ে গেল। পরবর্তী আপডেটে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

    সর্বত্রই ত্রাণের কাজে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছ থেকে একটাই কথা শুনতে হচ্ছে - 'ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কিছুদিন না হয় চলবে, কিন্তু সরকার যদি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না করে, তাহলে মরে যাব আমরা'। আমরা গুরুচণ্ডা৯-র পক্ষ থেকেও এই কথার সাথে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করি। কেবল ত্রাণ নয়, এই সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চাই। আজকে যাঁরা ত্রাণের জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের কাছে আমাদের তাই আবেদন, দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক নজরদারি কীভাবে গড়ে তোলা যায়, কীভাবে আয়লা বা আমফানের ক্ষয়ক্ষতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়, ধীরে ধীরে সেটিকে চর্চার বিষয় করে তুলুন। গুরুচণ্ডা৯ একটি সামাজিক মাধ্যম হিসেবে এই বিষয়ে কী ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে, সে ব্যাপারে আমাদের পরামর্শ দিন এবং সক্রিয়ভাবে তাতে অংশগ্রহণ করুন।


    ছবি: আমফান রিলিফ নেটওয়ার্কের ভলান্টিয়ারদের সূত্রে প্রাপ্ত

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৫ জুন ২০২০ | ৫২০ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • স্বাতী রায় | 117.194.32.139 | ০৬ জুন ২০২০ ১১:৪৩94037
  • প্রতিটা বিপর্যয়ের পরেই আমরা হতাশ হয়ে দেখি সরকারী ত্রাণের অপ্রতুলতা আর ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত ত্রাণের সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘমেয়াদী কাজ কিছু তো হয় বটেই ( যেমন আয়লার পরে হাতিবাঁধ তৈরি) কিন্তু বিপর্যয় থিতিয়ে গেলে সে নিয়ে আর তেমন আলোচনা চোখে পড়ে না। আমাদের অ্যাটেনশন স্প্যান বড় কম।

    কি কাজ করলে ভালো হয়, ভবিষ্যতের ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায় সে নিয়ে কথা বলার জ্ঞান নেই। তবে বাইরের মানুষ হিসেবে একটা কথা মনে হয়েছে। এবার ঝড়ের পরে রাঙ্গাবেলিয়ার একজনের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, ওঁদের এবার জল ঢোকে নি, কিন্তু কাঁচা বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে গেছে। যাঁদের পাকা বাড়ি ছিল তাঁদের ততটা ক্ষতি হয় নি। শোনা কথা। ঠিক ভুল জানি না।
    তবে তার থেকে একটা কথা মনে হল, যে এবার তো বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে। সে টাকার কতটা সত্যি বাড়ী তৈরির কাজে লাগছে তাঁর একটা ট্র্যাকিং যদি করা যেত, এবং তাঁর মাধ্যমে কিছুটা হলেও মিসইউজ কমানো যেত, তাহলে কেমন হত? যদি একটা জায়গায় পঞ্চায়েত ধরে ধরে কারা ত্রাণ পেলেন এবং তাঁরা কিভাবে সেই টাকা কাজে লাগাচ্ছেন সেটা ট্র্যাক করা যেত সোশ্যাল অডিটের মাধ্যমে, তাহলে কিছুটা কাজ হত কি? এবং সেই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতামত যে ওই ৪৮ হাজার টাকায় আদৌ পাকা বাড়ি করা যায় কিনা বা কি ভাবে করা যায় সেই গুলোও এক জায়গায় করা যেত তাহলে হয়ত পরের বন্যা বা ঝড়ের ক্ষতি কিছু কমানো যেত।

    ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্নীতির খবর আসছে। দেখলে কষ্টই লাগে। আমরা আম্বানি আদানির দুর্নীতি নিয়ে যতটা সরব, নিজেদের চারপাশের এইসব খুচরো পাপ আমরা কেমন হাসিমুখেই মেনে নিই।
    https://www.anandabazar.com/district/nadia-murshidabad/cyclone-amphan-people-alleged-for-manipulation-of-distributing-money-for-home-1.1158743
    https://www.anandabazar.com/district/nadia-murshidabad/many-have-applied-for-compensation-but-no-damages-happen-to-house-due-to-cyclone-1.1159080
    ফেসবুকেও এই সব খবর আসছে মাঝে মাঝেই।
  • b | 14.139.196.11 | ০৬ জুন ২০২০ ১৭:৫০94041
  • স্বাতী-র শেষ লাইনটা মোক্ষম।
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ০৮ জুন ২০২০ ২০:৫৩94133
  • একজন সিনিয়র সিটিজেন ১০ প্যাকেট চিঁড়ে (৫ কেজি), ১০ প্যাকেট ছাতু, ১০ প্যাকেট চিনি, ১০ প্যাকেট ছোলা, ৪০ প্যাকেট বিস্কুট কিনে রেখেছেন। কেউ কী নিউ আলিপুর থেকে সেটা কালেক্ট করে নিতে পারবে? আর এটা খুবই সম্ভব যে ওনার প্রতিবেশিরা আরো কিছু দেবেন। উত্তর কলকাতায় ওনার এক আত্মীয়ও ঐ রকম জিনিস দিতে আগ্রহী।

    আমাকে যদি amandal অ্যাট stat.uga.eduতে কেউ মেল করেন তো ডিটেলস দেব, বা আমিও মেল করতে পারি, কিন্তু আমফান রিলিফ নেটওয়ার্কের কাকে মেল করব জানি না বলে এখানে লিখলাম। অন্য কেউ নিতে চাইলেও ওয়েলকাম। জানাবেন প্লিজ।
  • | ০৯ জুন ২০২০ ১১:০৮94150
  • আশা করি অভ্যুর পরিচিতদের কেউ কানেক্ট করবেন।
    যদিই না করেন, তাহলে আমাকে একটু জানিও অভ্যু দুয়েকদিন বাদে। আমার কানেকশানরা আপাতত সাইটে রয়েছে, ফিরবে দুই তিনদিনের মধ্যে। আশা করছি তার আগেই কেউ কানেক্ট করবেন।
  • পিনাকী | 188.148.43.169 | ১২ জুন ২০২০ ০১:৪৩94231
  • অভ্যু, এটা ব্যবস্থা করা যাবে। কথা বলে নিয়েছি। আমাকে pinakimitra74 অ্যাট জিমেলে ওনার ফোন নম্বর/ঠিকানা দিও। 

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ১২ জুন ২০২০ ০৩:৩১94232
  • দমুদি আর পিনাকী দুজনকেই থ্যাঙ্কু। মেল করেছি।
  • পিনাকী মিত্র | ১৯ জুন ২০২০ ১৮:৪৬94464
  • 'বেঁচে উঠুক বইপাড়া' উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছে গুরুচণ্ডা৯। ওনারা রিসেন্টলি যে পোস্টটি দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে, সেটি এখানে হুবহু তুলে দেওয়া হল। #######################################################

    'বেঁচে উঠুক বইপাড়া' সম্পর্কে অনেকদিন এখানে কোনও কথা বলিনি আমরা। সেসব কথাই আজ বলতে আসা। অর্ক এই মুহূর্তে ফেসবুকে নেই। থাকলে ও-ই জানাতো। ওর পক্ষ থেকে, এবং 'বেঁচে উঠুক বইপাড়া'-র সমগ্র দলের পক্ষ থেকে আজকের এই পোস্ট।

    তিন সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছিল আমাদের এই পথচলা। শুরু হয়েছিল একটি পোস্টের মাধ্যমে। অচিরেই আমরা পাশে পেয়েছি অসংখ্য মানুষকে। তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আপনারা সকলেই।
    ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের সঙ্গে পেয়েছি ২৮১জনকে। আজ পর্যন্ত আমাদের প্রাপ্ত টাকার অঙ্ক ৫৫৮৬৩০।

    আমরা যে বিশেষ সহায়তাগুলি পেয়েছি নানা সময়ে তার কথা আগেও উল্লেখ করেছি। স্কুল-কলেজের ছাত্রও সাহায্য করেছে আমাদের৷ সাহায্য করেছেন বহু সংস্থা। তাদের কথা বারবার বলেছি আমরা।

    আজ লিখছি তাদের কথা যারা আন্দোলনের শেষের দিকে যুক্ত হয়ে আমাদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

    ময়ূখ-শিঞ্জিনীদের সংস্থা 'হাল ছেড়ো না বন্ধু'। ওঁরা সকলেই ছাত্র-ছাত্রী। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ওয়ার্কশপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তার একাংশ তুলে দিয়েছেন আমাদের হাতে। ডিজিটাল পত্রিকা করে সংগৃহীত অর্থ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ঋত্বিক। সহজিয়া পত্রিকার তরফ থেকে পাশে পেয়েছি সরফরাজ  এবং সম্রাটদের৷ ওঁদের সকলের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার সীমা নেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৫-ইকোনমিক্স ব্যাচ আমাদের উদ্যোগে সামিল হয়েছেন সুকন্যা পাল-এর প্রতিনিধিত্বে। মৌসুমী ব্যানার্জি, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। প্রাথমিকভাবে ওঁর পরিচিত বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে একজোট হয়ে, পরবর্তীতে ওঁর সংগঠন Tagore Beyond Boundaries এর তরফ থেকে নির্দ্বিধায় সাহায্য করেছেন 'বেঁচে উঠুক বইপাড়া'-কে। সুকন্যাকে, মৌসুমীকে আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা সাহায্য পেয়েছি ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠান 'ব্রততী-পরম্পরা'-কে। আমাদের সকলের তরফ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রকাশকরা যখন মাটি কামড়ে ঘুরে দাঁড়াবার জন্য লড়ছেন তখন এক প্রকাশকই আমাদের হাত ধরেছেন। গুরুচন্ডা৯ আমাদের হাত শক্ত করেছেন। এই মানুষগুলির উদ্যোগ না থাকলে আমরা এতদূর এগোতে পারতাম না।  কতদূর এগিয়েছি সেই বিষয়টাও পরিষ্কার করা দরকার।

    আমরা এখনও পর্যন্ত আমরা এখনও অবধি সাহায্য করতে পেরেছি মোট ১২০ জন বইপাড়া-কর্মীকে।

    এর মধ্যে প্রথম দফা পেরিয়ে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন মোট ২২জন। আমরা এখন প্রতিদিন পুরনো ৫ জন বেনেফিশিয়ারিকে দ্বিতীয় দফার টাকা পাঠাই, যার সঙ্গে প্রথম দফার টাকা পাচ্ছেন তালিকাভূক্ত নতুন আরও ৫ জন।

     সমান্তরালভাবে চলছে আমাদের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক। নিয়মিত বইপাড়ায় গিয়ে ছোট দোকানের কর্মচারী এবং মালিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে আমরা জেনে নিচ্ছি তাঁদের প্রয়োজন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে টাকা পাঠানোর পরেও। ওঁদের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখছি আমরা।

    সরাসরি অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি হয়ত আমরা আর কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ করতে চলেছি। তার মানে এই নয়, আমাদের কাজ এখানে শেষ। পুরনো নিয়ম মেনেই আমরা রোজ ১০জনকে টাকা পাঠাবো, নতুন নাম নথিভূক্ত করব। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনাগুলো আন্দোলনের প্রথমদিন থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর কাজ শুরু করব এবার। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের জন্যও অর্থই প্রয়োজন।  সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুদাননির্ভর না হয়ে আমারা কিছু নতুন পরিকল্পনা নিয়েছি। সময়মত আপনাদের সঙ্গে তা' ভাগ করে নেবো আমরা, জানতে চাইব আপনাদের মতামত। 

    আশা করব, গোটা সফরটাতেই আপনাদের সবাইকে পাশে পাবো।

    ভালো থাকবেন।

    আজ পর্যন্ত আমাদের সংগৃহীত অর্থ এবং অনুদানকারীদের তালিকা দেখতে পাবেন নীচের লিঙ্কে:

    https://docs.google.com/spreadsheets/d/14DYNg8jeGXYSQMrSKivlr8QZRH1VapT61xe556GVk5U/htmlview

    এখন পর্যন্ত কারা টাকা পেলেন বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে:

    https://docs.google.com/spreadsheets/d/1m13hCLYowPkOtHNQGvsRrMin0_FPQZifWEtjbg7KsZM/edit?usp=drivesdk

  • Abhyu | 47.39.151.164 | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২:০৯97758
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত