• বুলবুলভাজা  অন্য যৌনতা

  • লওণ্ডা নাচের ইতিকথা

    শুচিস্মিতা ও ঈপ্সিতা লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্য যৌনতা | ০৮ মার্চ ২০১১ | ১১২ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • অগ্নিভ লাহিড়ী ও সরিকা করের DANCING BOYS: TRADITIONAL PROSTITUTION OF YOUNG MALES IN INDIA শীর্ষক রিপোর্ট থেকে অনুলিখিত।

    ""তখন বছর চোদ্দ বয়েস হবে। শিয়ালদা স্টেশনে যেতাম মাঝেমধ্যে। অনেকের সাথে আলাপ-পরিচয় হত। ওখানেই প্রথম এই নাচের ব্যাপারটা জানতে পারি। প্রতি বছরই দেখতাম গরমকালে একবার আর শীতের শুরুতে ছটের ঠিক পরপরই আরেকবার কোঠিরা* কেউ বিহার, কেউ উত্তরপ্রদেশে চলে যেত। ফিরত মাস তিন-চার পরে। সাথে অনেক টাকা, নতুন জামাকাপড়। এমনকি নতুন সঙ্গীও। তারপর একদিন আমিও ওদের সাথে চলে গেলাম। আমার লওণ্ডা নাচের জীবন শুরু হল।''

    PLUS - People like Us এর পক্ষ থেকে ইউনাইটেড নেশনসের "টাহা' র ( প্রিভেনশন অব ট্র্যাফিকিং অ্যান্ড এইচ আইভি এইডস ইন ইউমেন এন্ড গার্লস প্রজেক্ট) সহায়তায় আয়োজিত এই সমীক্ষায় বিহার-উত্তরপ্রদেশ-পশ্চিমবঙ্গের বাইশটি জেলা ঘুরে প্রায় চারশ "মেয়েলি' ছেলের সাথে কথা বলেছেন এঁরা। উপরের সাক্ষাৎকারটি সেরকমই একজনের। পনেরো থেকে পঁচিশের এইসব ছেলেরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাড়ী দেয় বিহার-উত্তরপ্রদেশে। বিয়েবাড়ীর রোশনাইয়ে, জমিদারের অন্দরমহলে তারা "লওণ্ডা নাচিয়ে' ** হয়ে মনোরঞ্জন করে চলে উত্তর ভারতীয় মর্দাঙ্গীর। চলুন পাঠক, ঘুরে আসি একটা বিয়েবাড়ী থেকে। স্থান ধরা যাক বিহার বা ইউপির কোন এক গ্রাম। কাল - গোধূলি। ঐ যে দেখা যায় বরের বাড়ী থেকে সবে বেরিয়েছে বরাতির দল! মিছিলের একদম সামনে উন্মুক্ত চোলি পরা যে হাড় বের করা কালো পিঠটাকে আপনি ব্যান্ডের বাজনার তালে তালে ওঠানামা করতে দেখছেন - সেই আজকের পাত্র। না, বিয়ের পাত্র না, ও একজন লওণ্ডা নাচিয়ে। এখন বেশ কয়েক মাইল ও এভাবেই যাবে নাচতে নাচতে। কনের বাড়ী পর্যন্ত। না না, বরকর্তাদের হৃদয়হীন ভাববেন না। এই আনন্দের দিনে তারা ওকে অভুক্ত রাখবেন না। বিয়েবাড়ীর ভোজ জুটবে ওর কপালেও। তবে তারপর আর ফাঁকি নেই। সন্ধ্যেরাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত চলবে বিরামহীন নাচ। রাতের সাথে সাথে চড়বে নেশার পারদ। গানের ভাষা হতে থাকবে অশ্লীলতর। আর তার সাথে তাল মিলিয়ে ইশারা দেবে নাচের ভঙ্গী। নেশায় চুরচুর বরাতিরা আদিরসাত্মক কথা ছুঁড়ে দেবে ওর দিকে। আঙুলের খাঁজে ব্লেড লুকিয়ে বিকৃতকাম হাত সরীসৃপের মত ঘুরে বেড়াবে ওর পিঠে, গালে। ওর ব্রণভরা গাল, অমসৃণ কালো পিঠ রক্তাক্ত হয়ে উঠবে। ও জানে প্রতিবাদ করে কোন লাভ হয় না। এক্ষেত্রে চুপচাপ সহ্য করাটাই নিয়ম। এমনকি যদি চোদ্দ-পনেরো জনে মিলে ওকে ধর্ষণ করে মাঠের ধারে ফেলে রেখে যায় - তাহলেও।



    নাচাগানা ইউপি-বিহারের বিয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। একসময় শুধু গরীব পরিবারের বিয়েতেই - যেসব ক্ষেত্রে মহিলা নাচিয়ে ভাড়া করা সামর্থ্যে কুলোতো না - একমাত্র সেইসব ক্ষেত্রেই লওণ্ডা অর্থাৎ ছোটো বাচ্চা ছেলেদের মেয়ের পোষাক পরিয়ে নাচতে নামিয়ে দেওয়া হত। তারপর আস্তে আস্তে লওণ্ডা-নাচ সমাজের সব স্তরেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই ছেলেরা আসে মূলত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা মহারাষ্ট্রের নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে। এমনকি নেপাল বা বাংলাদেশ থেকেও। এপ্রিল থেকে জুন আর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী - এই হল বিয়ের মরসুম। দলে দলে লওণ্ডা তখন পাড়ী জমায় ইউপি বা বিহারে রুটি-রুজির জোগাড়ে।

    আর পাঁচটা সমবয়েসী ছেলের মত নয় ওদের জীবনযুদ্ধ। কারণ ওরা আলাদা। ওরা ছেলে হয়েও পুরোপুরি ছেলে নয়। কেউ জানেনা কে বেঁধে দিয়েছে পুরুষ ও নারীর লিঙ্গনির্দেশিত ও সমাজনির্দিষ্ট ছক কাটা আচরণবিধি। তবে এটুকু বোঝা গেছে সেই সংহিতা অনুসারে এই ছেলেদের চলাফেরা বাচনভঙ্গী - সবই জ্ঞমেয়েলিঞ্চ। অতএব এদের নিয়ে মজা লোটাই যায়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে কোণঠাসা করাই যায়। ওদের সামনে তখন আর কোন পথ খোলা থাকে না অনিবার্যের কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া। আইনকে বুড়োআঙুল দেখিয়ে অশিক্ষিত দাই বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে গোপনে লিঙ্গচ্ছেদন (castration) করিয়ে বেশ কিছু ছেলে ভিড়ে যায় ওদের নিজেদের লোকের দলে - তথাকথিত স্বাভাবিক মানুষের সমাজ যাদের "হিজড়ে' বলে ডাকে। সমীক্ষা বলছে হাতুড়ে চিকিৎসকের হাতযশে এদের মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশই অকালে পৃথিবীকে বিদায় জানায়। আর বাকিরা মেয়ের পোষাকে নাচের দলে যোগ দিয়ে খুঁজে পেতে চায় নিজেদের মুক্তির পথ। অর্কেস্ট্রা কোম্পানিগুলো ভাড়া নেয় এদের। চুক্তিতে লেখা থাকে একটা মোটা টাকার অঙ্ক। সাথে খাকা-খাওয়া ফ্রি। কিন্তু সেই টাকার খুব সামান্য অংশই এরা নিজের চোখে দেখতে পায়। ইউপি-বিহারের বিয়েতে বিয়েতে এদের ভাড়া খাটিয়ে কম টাকা রোজগার করে না এদের অন্নদাতারা। তবু এদের নির্ভর করতে হয় প্রতিটা নাচের শেষে বকশিসের ওপর। তিনমাস ধরে টানা নেচে রোজগার হয় হাজার ছয়েক মত। তার ওপর যদি ভাগ্য থাকে ভালো, যদি চেহারা হয় সুন্দর, নাচের ঠমকে যদি জাগে নেশা - তাহলে এই ছয়টা কখনো কখনো বারো হয়ে যেতে পারে। তবে মেহনতের এই রোজগারে এদের নিজের ভাগ খুবই সামান্য। এমনকি শূন্য হাতে বিদায় নেওয়াও বিরল নয়। বিয়ের মরসুম শেষ হলে দল ভাঙার পালা। যারা সদ্য পেশায় ঢুকেছে তারা প্রথম রোজগারের স্বাদ নিয়ে ঘরে ফেরে। অভিজ্ঞ নাচিয়েরা থেকে যায়। ইউপি-বিহার ছেড়ে এবার তারা দেশের অন্যান্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ায় পরিযায়ী পাখির মত। স্থানীয় নাচাগানায় অংশ নেয়। মনোরঞ্জনের বিকিকিনি চলে সেখানেও।



    এতো গেল তাদের কথা যাদের পায়ের তলায় ছড়ানো আছে সর্ষে। গ্রামে গ্রামে নেচে বেড়ানোই যাদের নিয়তি। তাদের চেয়েও যারা হতভাগ্য - যাদের এক দাঁড় থেকে উড়ে অন্য দাঁড়ে বসারও স্বাধীনতা নেই - তারা কী ভাবে বেঁচে আছে? হ্যাঁ, একে "বেঁচে থাকা' বলা যায় কিনা তা তর্কসাপেক্ষ। কিন্তু এরাও পৃথিবীতে আছে, শ্বাস নিচ্ছে। ইউপি-বিহারের প্রত্যন্ত প্রান্তে, ঘরে "লওণ্ডা' রাখা এখনও জমিদারী দাপটের এবং পৌরুষের পরিচয়। লওণ্ডা এখানে একাধারে ক্রীতদাস ও যৌনদাস। সব রকম ঘরোয়া কাজে তাকে নির্বিচারে ব্যবহার করা চলে। মাইনে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মালিকের বিকৃত যৌনচাহিদাও তাকেই মেটাতে হয়। এমনকি মালিকের ইয়ার-দোস্ত এলে অতিথিনারায়ণের মনোরঞ্জনেও তাকে এগিয়ে দেওয়া যায়। তবে ক্রীতদাসকে বিছানায় নেওয়া গেলেও তাকে তো আর ঘরে রাখা চলে না। তার ঠাঁই হয় খড়ের গাদায়, গরু-ছাগলের সাথে গোয়ালে। খাবার জোটে যৎসামান্য। শৌচালয়ের ব্যবস্থাও তথৈবচ। মাঠে-ঘাটে সর্বত্র আক্রান্ত হওয়াই তার স্বাভাবিক জীবনধর্ম। বিকৃত পৌরুষ শৌচকর্মরত বালককেও ছেড়ে দেয় না। বারবার ধর্ষিত হতে হতে, প্রভুর অপরিমেয় যৌনলালসা মেটাতে মেটাতে যৌনদাস যেদিন যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, সেদিন তার ছুটি। এঁটো শালপাতার মত তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয় আস্তাকুঁড়ে।

    অথচ কী অদ্ভুত পরিহাস! যে রোগ মরণকামড় বসিয়েছে শরীরে - সেই HIV বা AIDS-এর নামও কখনো শোনে নি এরা। জানে নি কন্ডোমের ব্যবহার। PLUS-এর সমীক্ষা বলছে এই হতভাগ্যদের অধিকাংশই মাত্র ছ-সাত বছর বয়েস থেকেই যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য হয়, বাড়ীরই কোন অতি পরিচিত সদস্যের লালসা মেটাতে।

    "আমি ক্রিকেট, ফুটবল সব ই খেলতাম। তেমনি এন্তার হিন্দি সিনেমাও দেখতাম। আর বাড়ি ফিরে অভিনয় করতাম, নাচ করতাম। সব সময় না হলেও, বেশিরভাগ সময় ই নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করতে ভাল লাগতো। কখনো আমি মাধুরী, কখনো রেখা। তখন আমি বারো, এরকম ই একদিন সিনেমা সিনেমা খেলছিলাম, আমার নিজের দাদা আমার সাথে যৌনতায় লিপ্ত হল'। - বলেছিল একজন। ভয়ে বেশিরভাগই চুপ করে থাকে। এর যে প্রতিবাদ করা যায় তাই তো জানে না তারা। আর প্রতিবাদ করবেই বা কার কাছে! তার সৃষ্টিছাড়া মেয়েলী হাবভাবের জন্য গোটা দুনিয়া যে তাকে টিটকিরি মারছে! পনেরো বছর হওয়ার আগেই অনেকে শুরু করে দেয় পয়সার বিনিময়ে যৌনতা বেচাকেনা। এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস এখনও প্রবল যে অনাঘ্রাত শিশুর সাথে সঙ্গম সারিয়ে দিতে পারে সব রকম যৌনব্যাধি। সেই বাজারে প্রচুর চাহিদা শিশু যৌনশ্রমিকের।



    হয়তো হঠাৎ হাতে আসা টাকার মোহ, হয়তো বাইরের দুনিয়ার চাকচিক্য - বিকিকিনির হাটের টান উপেক্ষা করা কঠিন হয় এই নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেদের কাছে। বেড়ে ওঠার পরিবেশে যে ঘরে-বাইরে শুধুই লোকের উপহাস শুনেছে তার কাছে হয়তো গ্রামে গ্রামে নেচে বেড়ানো যৌনদাসের জীবনও অভিপ্রেত মনে হয়। PLUS-এর সমীক্ষা দেখা পেয়েছে এমন কিছু নাচিয়ের যারা বলেছে সুযোগ পেলেও তারা নাচ ছাড়তে চায় না, কারণ তাদের অন্য যেকোন কর্মজীবন দুর্বিসহ করে দেবে "স্বাভাবিক' দুনিয়ার "স্বাভাবিক' মানুষেরা। তাদের একটাই অপরাধ - তাদের আচার-আচরণ সমাজের ঠিক করে দেওয়া "স্বাভাবিকত্বের' সাথে খাপ খায় না। অবশ্য তাদের কাছে অন্য কিছু করার সুযোগই বা কোথায়। বেশীরভাগই অতি নিম্নবিত্ত পরিবারের, স্কুলে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। মেয়ের পোষাক গায়ে চড়িয়ে বিয়ে-শাদীতে নেচে যেটুকু টাকা তারা রোজগার করে তা চলে যায় পরিবার প্রতিপালনে। অন্যকিছু ভাবার সুযোগ বা সামর্থ্য কোনটাই তাদের নেই। ভেবে অবাক লাগে, আমাদের সুপ্রাচীন সুমহান ভারতীয় সংস্কৃতির ধারায় নপুংসকদের লক্ষ্যণীয় উপস্থিতি থাকলেও এদের জীবনযুদ্ধ নিয়ে কারোর কোন মাথাব্যাথা নেই। হ্যাঁ, আশ্চর্য হলেও এটাই সত্যি যে ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য রাইটস অফ চাইল্ড (UNCRC) -এর আওতায় এই শিশুদের বিকাশ ও উন্নয়ন নিয়ে আলাদা কোন ভাবনাচিন্তা নেই। এদের প্রাথমিক চাহিদাগুলো সুনিশ্চিত করতে এদের দিকে যে বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে সেই বোধ এখনও তৈরী হয়নি।

    দেশী ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে লওণ্ডারা তাই নেচে যায় ইউপি-বিহারের উৎসব অনুষ্ঠানে। বিয়েবাড়ীর আলোর রোশনাইয়ের নিচে জমাট বাঁধা অন্ধকারটা আরও গাঢ় হতে থাকে। রোজকার গা-সওয়া টীকা-টিপ্পনি থেকে শুরু করে শারীরিক নির্যাতন, এমনকি মৃত্যুর আর্তনাদও চাপা পড়ে যায় সস্তা প্রমোদের সোচ্চার উল্লাসে।

    সমীক্ষার শেষে PLUS এই সমাজ পরিত্যক্ত হতভাগ্য মানুষদের জন্য কিছু প্রস্তাব এনেছেন :

    (১) সবার আগে চাই শিশু যৌন নিগ্রহ আইন আর তার সঠিক ব্যবহারের জন্য স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গী। সমীক্ষা বলছে শিশুরা প্রথমবার আক্রান্ত হচ্ছে বাড়ীর মধ্যেই। এমন একটা জায়গা তৈরী করতেই হবে যেখানে ওরা নির্ভয়ে এই ঘটনার কথা জানাতে পারবে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী বদলানোর দিকে জোর দিতে হবে যাতে এই ছেলেরা এই জোরটুকু পায় যে তাদেরও অধিকার আছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার।

    (২) এই তথাকথিত মেয়েলী ছেলেদের যে চূড়ান্ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের মানসিক স্বাস্থ্য। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফ থেকে এদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে অন্য সব জায়গার মত চিকিৎসাক্ষেত্রেও যেন এদের বৈষম্যের শিকার না হতে হয়। শুধুমাত্র যৌন নির্যাতন ও তার পরবর্তী আতঙ্কজনিত চিকিৎসাই নয়, সাহায্য চাই আরো নানা ক্ষেত্রে। লিঙ্গচ্ছেদের আগে ও পরে মানসিক প্রস্তুতি, কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে লিঙ্গচ্ছেদ পরবর্তী স্বাস্থ্যজনিত পরামর্শ, আত্মহত্যাপ্রবণ কিশোরকে বিশেষ মানসিক সাহচর্য, যৌনতাসংক্রান্ত অনিশ্চিত দ্বন্দ্বে সহায়তা এবং সর্বোপরি নিরাপদ যৌনতার শিক্ষা।

    (৩) একটা নিরাপদ জীবন চাই আর কিছু সুযোগ চাই যাতে এরা নিজেরাই নিজেদের ইচ্ছা এবং দক্ষতা অনুসারে কাজ খুঁজে নিতে পারে। সেই সাথে শেখে নিজেদের কথা নিজেরাই বলতে। যৌননির্যাতন ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে।

    (৪) একটা বিকল্প উপার্জনের পথ খুঁজে পেতে হবে। সমীক্ষা বলছে এদের এই পথে আসার কারণ সামনে আর কিছু খোলা না থাকা। বিকল্প পেশার সন্ধান ও পুনর্বাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে হবে। সমীক্ষা আরো বলছে মুক্তির কোন রাস্তাই খোলা না পেয়ে অল্পবয়েসী ছেলেরা ড্রাগের নেশায় নিজেদের ডুবিয়ে দিতে থাকে। রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে এদের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখাতে।

    (৫) HIV, AIDS এবং অন্য যৌনব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা আনতে হবে। কন্ডোমের ব্যবহার এবং নিরাপদ যৌন অভ্যাসে জোর দিতে হবে। কন্ডোমের সরবরাহ সুলভ করতে হবে।

    (৬) সবচেয়ে বেশী মানসিক নির্যাতন আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। তাই সচেতনতা আনতে হবে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তথাকথিত পুরুষোচিত আচরণ না করা যে কোন অপরাধ নয় আর সেই কারণে যে কাউকে একঘরে করা যায়না এটা মানুষকে বুঝতে হবে। পুলিশের মধ্যেও এই সচেতনতা আনা জরুরী।

    (৭) আক্রান্তরা বেশীর ভাগই যেহেতু কিশোরবয়স্ক, স্কুলের ভূমিকা তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলছুটদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সহানুভূতির সাথে ভাবতে হবে বেকার যুবকদের কথাও।

    (৮) পান-বিড়ির দোকান, মদের ঠেক, রাস্তার ধারের ছোট দোকানগুলোকে ব্যবহার করা যেতে পারে নাচিয়েদের সাথে সরাসরি কথা বলার এবং তাদের প্রতিবাদের অধিকার ও নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সচেতনতা বিস্তারের জায়গা হিসেবে।

    *কোঠি - মেয়েলি পুরষ **"লউণ্ডা নাচিয়ে' শব্দ দিয়ে চিহ্নিতকরণ করাকে এই গোষ্ঠীর মানুষজন অপমানজনক বলেই মনে করেন, তবু রিপোর্টে ও এই লেখায় এই সমাজে প্রচলিত টার্মটিই ব্যবহৃত হয়েছে, বোঝবার সুবিধার্থে।

    PLUS কী ও কেন :

    PLUS - People Like US - কলকাতার এই সংস্থাটি কাজ করছেন ভারতের নারীভাবাপন্ন পুরুষদের নিয়ে যাঁরা তাঁদের বয়:সন্ধিতে অথবা যৌবনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। এই গোষ্ঠীর মানুষদের স্বাস্থ্য ও যৌনতা সংক্রান্ত অধিকার সুরক্ষিত করা এবং তাঁদের সমাজের মূলস্রোতের অংশীদার করে তোলাই PLUS-এর উদ্দেশ্য।

    People Like Us (PLUS) Kolkata
    254, Bonomali Banerjee Road
    Kolkata - 700 082
    Tel: +91 33 2402 9305
    Email: [email protected]
    [email protected]
  • বিভাগ : অন্য যৌনতা | ০৮ মার্চ ২০১১ | ১১২ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dyuti......... | 127.205.147.219 (*) | ০৭ মে ২০১২ ১২:২৩89077
  • porlam karon uporer heading tai tanlo. r khub chhotobelar kichu drishyo mone pore gelo. tokhono thhik boro hoini. ma babar sathe masir bagan bari chhilo deoghor e pujor chhuti te astam fee bochor. tobe pujor kota din katie tobei berotam. ultodiker baritate boro durgapujo hoto. jaygata nondon kanon er kachhe.....ekhono abchha mone pore dingulo. oi durgapujo r resh tokhono seshh hoto na. r edike to sei dosherar dhum.......jai hok oder barir pujo mondope cholto ei type nachh, ram raban pala.........sei chhotote dekha drishyo mone pore gelo. bikrito gola, oder shari pora etc khub kachh thheke dekhechhi. erpor kottar kormo sutre je jaygate ese porechhi dhanbad er ek chhoto khoni gorvo bolte paro......sekhane esob r notun kothha noy. tobe esob kothha openly bhodro somaje ajo bola chole na. esob nach e prochur taka chhonra chhunri hoy......oder buke thhekano rumal nie grihokortara bari feren........ki aschorjo lage sunte sob. jai hok..........manush hisebe eder kaj deowa hok,eder somman deowa hok. ektu sob chintadhara change hok somajer etai chaibo. kono din esob site e comment korini.......janina thhik bhul ki likhe fellam:)
  • জিপসি | 24.195.44.71 (*) | ০৪ জুলাই ২০১২ ০৫:৫৩89078
  • পড্লাম। কাকে দোষ দেবেন। আমির খান সত্যমেব তে দেখালো বাচ্চা রাও যৌনতার শিকার, মেয়ে দের কিনে নিয়ে যচ্ছে সেক্স স্লেভ হিসাবে। তবু ভারত মাতা এখন গান্ধারী। আর এরা তো বিধির শিকার।
  • pi | 78.48.231.217 (*) | ১২ এপ্রিল ২০১৩ ০৪:০৭89079
  • আজ ভাটের আলোচনা প্রসঙ্গে এটাও তুল্লাম।
  • সে | 203.108.233.65 (*) | ১৩ এপ্রিল ২০১৩ ০৪:৪৫89080
  • খুবই ভালো লেখা।
    কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এরা সকলেই দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে। উচ্চবিত্ত/মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডের এই তথাকথিত "মেয়েলি ছেলে"রা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করে? তারা যদি শিক্ষার সুযোগ / পছন্দমত জীবিকা বেছে নিতে পারে (ধরে নিচ্ছি সেটাই হচ্ছে) তাহলে এই সমস্যার মূলে দারিদ্র্য বিরাট একটা কারন নয়?
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত