• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • হাইওয়ে ব্লুজ - ৬

    বেবী সাউ
    ধারাবাহিক | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১১৬ বার পঠিত

  • একেকবার মনে হয়, এ জীবন বৃথা গেল! কোথাও তো সেভাবে প্রমাণ করা হল না; সেভাবে নিজেকে দেখাতেও পারলাম না কোথাও। একের পর এক মরীচিকার পেছন ছুটতে ছুটতে পৌঁছে দেখি জল নেই; জীবন অজুহাত মাত্র। আর তার কাছে বসে আছে ক্লান্তি, হতাশা। পথের ফাঁদে এসে জুটেছে এক মাস্তুল ভাঙা নৌকো। দিশাভাবে ঘুরতে ঘুরতে একটা মানুষ কী করে! কীভাবে নিজেকে গুছিয়ে রাখে কাঠের শো-কেসে! আজকাল তাই বোধহয় কেউ এতটা ভাবেনা। যেন গভীরভাবে ভাবতে গেলেই উঠে আসবে জিয়ল মাছ। পাঁকে মেশা। দুর্গন্ধ। আর তাকে কিছুতেই মারা যাবে না! যেন এই পাঁকের ভেতর বাঁচতে বাঁচতে নিজেকে জিয়ল মাছ করে তোলা প্রতি মুহূর্তে। তাতেও শান্তি নেই। স্বস্তি নেই। ঠিক ওই জামশেদপুর সাকচি মার্কেটে ঘুরে বেড়ানো ভিখেরিদের মতো। জানে ভবিষ্যৎ নেই কোনও। জানে, এই নরক যন্ত্রণার চেয়ে মৃত্যু ভালো। কিন্তু তাও তাদের কোলের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছে তিন চারটে শিশু। ধূলিধূসর। যে মা এই সব জন্মকে ডেকে আনছে সে কী জীবনকে ভালোবেসে? নাকি অজান্তে? নাকি নিজের জীবনের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণস্পৃহা তাকে আরও জন্মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে! ভাবলেই শিউরে উঠি। ভাবলেই কেমন একটা রি রি করে ওঠে শরীর! আর তখনই হতাশায় দীর্ণ হয়ে পড়ি। নিজেই নিজের কাছে উঁপুড় হয়ে থাকি। সাত্ত্বনা খুঁজি। যেন আলো নেই, পথ নেই। সব সব মিথ্যে, সব ভুল। মুছে দিতে ইচ্ছে করে প্রতিটি মুহূর্তকে। তখনই রবি ঠাকুর এসে হাত ধরেন। আলো দিয়ে বলেন ---

    " বসিয়া আছ কেন আপন-মনে,

    স্বার্থনিমগন কী কারণে?

    চারিদিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি,

    ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি

    প্রেম ভরিয়া লহো শূন্য জীবনে।"

    আলো, আনন্দ, প্রেম কই সেভাবে তো ছুঁয়ে গেল না করতল! সেভাবে একটা কোনও সীমারেখা হয়ে উঠল না আমার দেশ। কোথাও ইচ্ছেমতো বাঁচতে চাওয়া হলো না। তবে এত না এর মধ্যে একটা সমাজ কাকে চাইবে! কাকে দেবে তার আয়ের শতাংশ! চারপাশে ছড়িয়ে আছে অধিকার। অধিকার আর অধিকার। যে তোমাকে কেড়ে নিতে শেখাবে, যে শেখাবে হত্যা, রক্ত আর বিরাট একটা অধঃপতন। মানসিক এবং মানবিক কোনও ভাবালুতা তার কাছে বোকামি মাত্র। এইযে দেশ ছেড়ে যারা বসবাস গড়ে তুলেছিল অন্য একটা সীমারেখায়। যারা সেই সীমারেখাটিকে ভালোবেসেছিল, নিজের ঘর বেঁধেছিল, জন্ম দিয়েছিল জন্মকে--- সামান্য নথিপত্র তাদের উদবাঞ্ছিত করে দেবে! নিয়ম হয়ত তাই। কিন্তু... কিন্তু... এই কষ্ট বোঝাই কাকে!

    আর তখনই পথ বেজে ওঠে। তখনই চিৎকার করে ওঠে দিন কাল সময়---

    "কার পাপ আমাদের রক্তের ভিতরে;

    কার অন্ধকার?

                  কণ্ঠস্বর

    ভেসে আসে, 'জোর যার'...

    মানুষ কি এখনও তোমার

    চোখ-রাঙানো প্রেমের চাকর?

    অথচ কোথায় যাব? এ পৃথিবী আমার, তোমারও!

    'মারো! যত পারো!'

    (অন্ধ পৃথিবী / বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)

  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১১৬ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • | 237812.69.563412.111 (*) | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৯:৩৬78036
  • পড়লাম
  • aranya | 236712.158.3467.81 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:৩৩78037
  • ছোটবেলায় শোনা গণসঙ্গীতে একটা লাইন ছিল - 'অধিকার কেড়ে নিতে হয়'।
    তখন কিছুটা এইরকম-ই মনে হত, কেড়ে নিতে গেলেই তো হত্যা, রক্তপাত..
    জানি না কোথায় সমাধান
    খুবই ভাল লাগছে এই সিরিজের লেখাগুলো
  • বিপ্লব রহমান | 237812.68.674512.247 (*) | ০৩ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:২৩78038
  • ভাল লাগছে পড়তে। তারপর?
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত