• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বুদ্ধদেবের ঘুমঘর *

    উদয়ন ঘোষচৌধুরি লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | ২০৩ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার


  • ফ্যাচাংটা তুলেছিল বাপি, ২০১৩-র নভেম্বরের গোড়ায়। মল্লাগাওানা-য় ত্রেপনজীর বাড়িতে, বারান্দায় পা দোলাতে দোলাতে। এ সব ক্ষেত্রে যেটা ও করে, ছাঁটা-গোঁফে লুকিয়ে রাখা ফিচেল একটা হাসি দ্যায় আর একদম শিশুর মতো প্রস্তাবটা ছোঁড়ে। সামনেই একমাস ওর পাহাড়-প্রবাস, মাউন্টেনিয়ারিং-এর অ্যাডভান্স কোর্স, চড়বে দ্রৌপদী-কা-দাঁড়া। সঙ্গে জুটিয়েছে বাবাই আর দেবুদাকে, বেসিক কোর্স-এর জন্যে। বাপির ফন্দি, প্রাক-কোর্সে প্র্যাকটিসের জন্যে সান্দাকফু ট্রেক, ২০১৪-র ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। গত পনেরো বছরে বার সাতেক ও সেখানে গেছে, জায়গাটা প্রায় ওর মামাবাড়ি। শুনেই চন্দ্রানী জুতো বেঁধে রেডি, সে-ও যাবে। প্রাথমিক প্ল্যান, উঠবে দু দিনে। নামবে এক দিনে। টানা পঁয়ত্রিশ কিমি। আমার হৃদমাঝারে উলুশখুলুশ, ওদিকে ব্রহ্মনাড়ি হালুশথালুশ, ‘না...মানে...যদি...একটু...!’ বাপি স্থিরপ্রতিজ্ঞ, ‘উঁহু, এটা বেড়ানো নয়, আমাকে প্র্যাকটিস করতে হবে।’ দেবুদা হাই-বৎসল, ‘দেএখিইহোওআআ, ছুটি পাই কি না!’ একমাত্র সুগ্রীব বাবাই, ‘হ্যাঁ বাপিদা, শিয়ালদা টু শিয়ালদা পাঁচ দিনে হয়ে যাবে।’ অ্যাঁ! ছাওয়ালডা কয় কি! মম চন্দ্রবদন পাঁচ হওয়ার আঁচেই কি এই আচুক্কা শিডিউল? চন্দ্রানীর রফা, ‘যারা প্র্যাকটিস করবে, তারা করুক। যারা করবে না, তারা যতটা পারবে, যাবে। না পারলে মাঝপথে ওয়েট করবে, একসঙ্গে ফিরবে।’ এ রকমই হয় আমাদের। যে কোনও জায়গা থেকে কলকাতার চুলোয় ফিরতে ফিরতে নেক্সট জায়গাটা ছকে নেওয়া। ফেরার গ্লানি গা থেকে অল্পসল্প মুছে নেওয়ার চেষ্টা।

    এরপর এলোমেলো তিন মাস। চন্দ্রানী আর আমি, অ্যালার্ম আঁটঘাট দাবড়ে, যথারীতি এক দিনও শীতের সকালে জগিং করে উঠতে পারলাম না। উলটে নানা বাঙালি সুখাদ্য সেঁটে জমালাম মাল্টিস্টোরিড চর্বি। মাঝখানে টুইস্ট এল প্ল্যানে। অরিজিৎদা জেনে ফেলল, বইমেলা পুইয়ে আমরা ফুড়ুৎ হচ্ছি। আর অরিজিৎদার কানে বেড়ানোর কোনও খবর সেঁধোলে যা হয় – দিকে দিকে হেডলাইন রটি গেল ক্রমে। পাঁচ জনের গোপন-ছকে ষোলো জন জুটল ফুলদমে। বাপি ব্যাগাচ্ছায়। কুচোকাঁচা মিলিয়ে অ্যাতত্ত বড় দল সামলে প্র্যাকটিস-ট্রেক?! নিদান দিল অরিজিৎদা-ই। কলকাতা থেকে একসঙ্গে বেরনো। সিরিখোলা থেকে আমরা সান্দাকফু উঠে তুমলিং নামব। অরিজিৎদা বাকিদের নিয়ে সিরিখোলায় গুষ্টিসুখ উদযাপন করে পরদিন গাড়িতে মানেভঞ্জন বেড় দিয়ে তুমলিং এসে ‘তুমহি হো বন্ধু’ করবে। বাপি খুশ। প্ল্যানে এবার উঠব একদিনে, নামব দু দিনে। হাঁটুর কবজা ম্যানেজ করে আমি উঠ-বোস লাগালাম তেড়ে। ও দিকে মাধ্যমিকের টেস্ট পেপারের মতো ইয়াত্তাড়া টিকিট কেটে ফেলল দেবুদা।

    টেনশন ছিল অন্য। যারা জানে না, তাদের একটু আইডিয়া দিই। সিরিখোলা থেকে সান্দাকফু পুরোটাই চড়াই, ষোলো কিমি টানা। প্রথম পাঁচ কিমির পর গুরদুম। তারপর আর কিছু নেই। জল-ও নেই। দু পাশে সিঙ্গালিলা রেঞ্জের ঘন জঙ্গল আর গড়িয়ে যাওয়া খাদ। সুতরাং, গুরদুম ছাড়ালে বাকিটা উঠতেই হবে। সিরিখোলার উচ্চতা ৬০৩৫ ফিট, আর সান্দাকফু ১২৪০০ ফিট। মানে, এক দিনে ৬৫০০ ফিট-এর কাছাকাছি অলটিটিউড ওঠা – যা কোনও ট্রেনিং-এও করায় কি না, জানা নেই। অভ্যেসমাফিক দেবুদা আর চন্দ্রানী হাঁচাপাঁচা চালাল যাবতীয় ট্রেকিং-সাইটগুলোয়। আর দু জনেরই হাত মীনাকুমারি ধাঁচে উঠে এল কপালে, ‘নেহিইই!’ সিরিখোলা হয়ে লোকজন নামে ঠিকই – কিন্তু ওঠার কোনও হদিশ নেই। কোনও মাঈ-কা-লাল কোত্থাও লেখেনি ওই পথে চড়াইয়ের অভিজ্ঞতা। ফলতঃ বাঁটুল সমীপে মস্তানদের মতো দু জনের মুখ আমসি। এ দিকে শিশুকাল হইতে কবি কহিয়াছেন, বিনা ট্রেকে নাহি দিব ফিঙ্গার-টিপ মেদিনী। অতএব, ম্যাপিং ফ্রিজড। ইহার পর বাঁশ দিল বাবাই-এর পা। উত্তরাখণ্ডে কেদারের দুর্ঘটনার পর রিলিফে গিয়ে মচকেছিল। শীতের কামড়ে শুরু হল বেগড়বাই। ফিজিওথেরাপিস্ট বলে দিল, এপ্রিলের আগে নো পাহাড়। টিমের এক জন দরকারি মেম্বার কমে গেল।

    (ক্রমশ)

    * 'আগামীকাল' পত্রিকায় প্রকাশিত
  • বিভাগ : ব্লগ | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ | ২০৩ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন