বাবার অসুখ এলে ছেলেরা কাজ খুঁজে বেড়ায়। সারা গায়ে অসুখ মেখে থাকা বাবাজানলা দিয়ে চাঁদ দ্যাখে। হাওয়া এসে চোখে ঘুম দিয়ে যায় বাবাকে,বাবার সময় বাবাকে ম’নে করিয়ে দিয়ে যায় মৃত্যুতারিখ। বাবার অসুখ এলে ছেলেরা কাজ খুঁজে বেড়ায়—বাবা অপেক্ষায় থাকে ছেলের ঘরে ফেরার, এই যা। চাঁদ মুছতে থাকে। কাজ পায় না বাঙালি ছেলেরা... ... ...
কনা হতাম যত্নশাখানা হতাম দীনরোগনা হলাম ঘনঋণীওড়াই নতুনচোখ খবিচ্ছিরি আছেনীলবিচ্ছিরি সুতোমনবিচ্ছিরি শতচাওয়াগলিতে অবাকশোন গক্ষতি আসে চুপিতোরক্ষতি আসে শীতেক্রোধ ক্ষতি আসে অভিবাজদিলাম এই গতিশোধ ঘ দাগঘড়ি উড়েহারপায়ে পড়ি খিদেভাত রঙিন এই সূচনায়, সংখ্যায় ষোলোসাত ... ...
ছটফটে চিন্তারা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সোজা রাস্তায় দৌড়তে শুরু করলো। টাটকা সব্জিগুলো নতুন সকালের গন্ধ আনছিল পাড়ার ঘরে ঘরে। সূর্যও তেমনি লালটুস হ’য়ে আকাশকে দেখিয়ে দিচ্ছিল দিনবদল কাকে বলে... রিকশা চালাতে চালাতে পিভু গেয়ে উঠছিল সুমনের গান: “বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে চাইআষাঢ়ের মেঘে আমি তোমাকে চাইশ্রাবণে শ্রাবণে আমি তোমাকে চাই অকালবোধনে আমি তোমাকে চাই”মনে মনে রঙিন পূর্বাভাস ছিল মনভাঙার। ভাঙতে ভাঙতে ইলিশ মাছের গন্ধ যেই পেল, অমনি দেখলাম–চালের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু গরম ভাতের লোভ সামলে ওঠা যায়নি। ধ্যাৎ মুশকিল! সবুজ সবুজ ঘাস পেলে একদল মাঠও আদালতে ওঠে। সময় রূপ নেয় খরগোশবাহানায়। সিগারেট ধরিয়ে গাইতে থাকি চন্দ্রিলের লেখা গান: “ভেসে যায় আদরের ... ...
“তবুও দেখা হবে শহুরে পথে তারার কুচি রেখো পায়ে মেঘের বিয়ে হবে বৃষ্টিমতে পালকি যাবে দূর গাঁয়ে” –Srijato মেঘ সাজছিল আচমকা হঠাৎ। আকাশ জানতো, চিঠি লেখার ঝক্কি আজকাল তেমন আর কেউ নেয় না। অলস বাস্তব রুমাল খুঁজে বেড়াচ্ছিল, যদি কোথাও যদি কোনওখানে অন্তত চোখের জল পাওয়া যায়! সেসব আর যায়নি। এসব জানা সত্ত্বেও কোথাও না কোথাও একদিন না একদিন মেঘ সাজছিল আচমকা হঠাৎ। কাউকে দেখাবে ব’লে কি? কে জানে! মেঘেরা যুবক না যুবতী— এসব কেউ জানে না ব’লেই, মেঘের মতলব, মেঘের গোপন আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে তেমন কথা কেউ নাড়াচাড়া করতে পারেনি। পারেও না।মেঘের ... ...
ভেজা চোখ নিয়ে হরিণকোমল যুদ্ধে নেমেছিল বাতাসেরা। রাতেরা এক, দুই, তিন ক’রে ঝ’রে পড়ত ঘুমের ওপরে। স্বপ্নেরা মর্যাদাদোষে আক্রান্ত হচ্ছিল টুকিটাকি। গতি ক’মে আসছিল জীবনের। শোকেরা তো দ্রুতবেগে ছুটে আসছিল দিনের পরে দিন। হাতের লেখাও প্রজাপতির চাইতেও বয়েসে বড় হ’য়ে উঠছিল। ভেজা চোখ নিয়ে হরিণকোমল যুদ্ধে নেমে প’ড়েছিল বাতাসেরা। রুই মাছের সঙ্গে গল্প করতে ইচ্ছে করছিল বয়স্ক গাছের। জলের খবর যারা দিতো, তারা একদিন জল না পেয়েই মিলিয়ে গিয়েছিল লাজুক আয়নার আড়ালে। বিখ্যাত অপেক্ষার ঝুলিতে শুধুই ছিল সন্দেহের বিষ। মাঠের ওপরে সাইকেল শুইয়ে তারাদেরকে নামতা পড়াত যে যুবক, সে শুনেছিলাম অভাবে ডুবে আত্মহত্যাকে ভালবেসেছিল। ইতিহাস হেসেছিল মেপে। লাজুক আয়নার আড়ালে মিলিয়ে গিয়েছিল জলের ... ...
আমরা সবাই hypocrite পোঁদ দুলিয়ে হাত মারিবাসের মধ্যে বিরক্তি,‘ঢ্যামনামো নয় এককালীন’ আমরা সবাই খিস্তিবাজকথায় কথায় মুখ চোদন মায়ের দুধেই বড্ড লাজ–খলবলিয়ে দোষ গোপন...আমরা সবাই চোরচোদাহাস্যমুখে দাঁত ক্যালাইকার কতটা মারব পোঁদ,এই ভেবে রোজ দিন কাটাই...আমরা সবাই hypocriteআমরা সবাই খিস্তিবাজআজ ঘাপালে কালকে শীত–তোমার আমার এটাই কাজ ... ...
এখনও কানে কানে শরীর সব শোনেতবুও হাওয়া ছিল অসম্ভবমুখেয় চাঁদ ছিলপাড়ায় ঝড় এলোসবাই হারিয়েছে, সবার সব... মাথায় রোদ ধুলোকথাও এলোমেলোখাতায় দিশাহারা, শত্রুরা...সময় ভাসে গানেনিয়তি সুর কেনেহঠাৎ ফিরে আসে, শিল্পতা ... ...
১সোনামণি হারিয়ে গিয়েছিল। ঝড়ে আম কুড়োতে কুড়োতে, সেই যে ঝড়ের পছন্দ হ’য়ে গিয়েছিল সোনামণিকে— তারপরে আর ঝড় কোনওদিন সোনামণিকে ছেড়ে দেয়নি। সোনামণি সংসার পাতলো ঝড়ের সঙ্গে। ঝড় বড় মাতাল। সারাদিন শুধু নেশা। নেশা। নেশা। সোনামণির বরের চোখ বিকেলের আকাশের অপ্রিয় রঙের মতো। সোনামণির রান্নার হাত মরা বেড়ালের গন্ধের মতো। সারা পাড়া ছড়িয়ে যেতে থাকে। যা কেউ পছন্দ করে না, মুখেও তোলা যায় না। সোনামণির রান্না সোনামণিকে একাই খেতে হয়। সোনামণির বর সোনামণির রান্না খায় না। আসলে রান্নার মধ্যে রান্নার লেশ মাত্র থাকে না। রান্না ব্যাপারটা অনেকের কাছেই অলীক। কিন্তু কিছুতেই সোনামণি বিশ্বাস করতে চাই না যে, সে ভাল রান্না করতে ... ...
দু’চার কথা পাঠককে বলছি: দিন দুই-তিন আগে হঠাৎ ক’রেই এই তিনটে কবিতা আমার কাছে এসে প’ড়েছিল। হয়তো আসারই ছিল। কিন্তু লেখা তো আর আগে থেকে লেখককে জানিয়ে আসে না। আর তাই, ভুলে যাব ব’লেই, এই তিনটে কবিতা লেখার খাতায় যত্ন ক’রে তুলে রেখেছিলাম। জানি না, আদৌ এর চার নম্বর কবিতা আমার কাছে আসবে কিনা... আপাতত এই তিনটে কবিতাকে ‘আগামীসমগ্র’ নামেই পরিচয় দিচ্ছি৷ আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। মন্দভাল যাইই লাগুক, জানাতে পারেন। আগামীসমগ্র ১তোমাকে ছুঁয়েছি আমি না-ছোঁয়ার মতো—এবং দিয়েছি ব্যথা মেঘেদের মতো,তোমাকে চিনেছি আমি দিয়েছিলে যত...এখনও তোমার মন হরিণীর মতো,অরণ্য রোজগারে আমরা আহত ২মুখের বানান নিয়ে বাবা ভেসে ওঠে—কিন্তু নানান ছবি কলঙ্কে ওঠে,মুখের না-গান শুনি ... ...
পাখি হ’য়ে ব’সে আছে, কানের চারপাশ দিয়ে ঘুরে যাচ্ছে হাওয়া। পাশেই দু’টো শালিখ মারপিট করতে করতে... মারপিট করতে করতে... শূন্যে ভাসতে শুরু করেছে। এখন দু’জনেই মৃতপ্রায়। বেড়ালের সামনে দিয়ে একটা পিঁপড়ে যেতে যেতে, যেতে যেতে... শেষমেশ আর যেতে পারলো না। বেড়ালটা দ্রুত, বড় দ্রুতই নখ দিয়ে মেরে ফেলল পিঁপড়েটাকে। পিঁপড়েটা মেয়ের জন্য খাবার খুঁজতে বেরিয়েছিল। প্রথম এবং শেষ আক্রমণে, স্বপ্ন-প্রত্যাশা-ভালবাসা— সমস্তটাই নিঃশেষ হয়ে এলো। এলো— কেননা, আয়ু লেখা শেষ হল জীবনের। আয়ু। জীবন নিজের আয়ু নিজের হাতে কোনওদিনও লেখেনি। যার মধ্যে সে থেকেছে, তাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে আয়ু। সেটা দীর্ঘ কিংবা নাতিদীর্ঘ— যাইই হোক না কেন, লিখিয়ে নিয়েছে। এটাই।পাখি হ’য়ে ... ...