হটীমৌসুমী ঘোষ দাস ১৭৭৪ সালের এক সকাল। স্থান কাশীধাম, দুর্গামন্ডপের অনতিদূরে ‘কুরুক্ষেত্র তালাও’। দূরদূরান্তের মানুষ এসে ভিড় জমাতে শুরু করলো সেখানে। ওরা খবর পেয়েছে আজ একটা মস্ত বড় তামাশার আয়োজন হয়েছে। তামাশাটা হল বিশুদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় তর্কযুদ্ধ। যদিও ওই অং বং চং ভাষা জনসাধারনে বোঝে না, বোঝার আগ্রহও নেই। তবুও তারা উৎসাহিত এই তর্কযুদ্ধ দেখতে। কারণটা হল, পুরুষের বেশে একজন স্ত্রীলোক আজ অংশগ্রহণ করছেন। যিনি পুরুষের মতো কাছা দিয়ে ধুতি পরেন, উর্ধাঙ্গে পিরান( ঢিলেঢালা জামা) এবং নামাবলি, মুন্ডিত মস্তক, দীর্ঘ টিকি, হাতে কানে গলায় কোন অলঙ্কার নেই, কেবলমাত্র একটি রুদ্রাক্ষের মালা, কোন অবগন্ঠন বা পর্দার বালাই নেই – সর্বসমক্ষে পুরুষের সঙ্গে ... ...
এখন বাড়িতে কম খরচায় ১ কিলো ওয়াট এর উপর সোলার প্ল্যাণ্ট বসিয়ে অন গ্রীড পরিষেবা নেওয়া যাবে। এই পরিষেবায় ইলেক্ট্রিক বিল অনেক কমে যাবে। ইচ্ছুক ব্যক্তিরা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমার দূরাভাষ - ৮০১৭৩৫৩৮২২। এই নম্বরে হোয়াটস আ্যাপ ও আছে।
কাশেরা এখনো দেয়নি দোলা / পদ্মে আসেনি কুঁড়ি; / শিউলি ঝরেনি বর্ষা সরে নি / শরতের লুকোচুরি।
ঝিমপাহাড় আর সবুজ বনের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে গ্রামটা। দূর থেকে দেখলে 'হ্যামলেট' কথাটাই মনে আসে প্রথমে। গ্রামের এক প্রান্তে অতলস্পর্শী খাদ, সেখানে অতিকায় বৃক্ষরা জড়ামড়ি করে নেমে গেছে অরণ্যের বুকে। অন্যদিকে সবুজের সিড়ি ধাপে ধাপে উঠে গেছে বরফাচ্ছাদিত চুড়ার উদ্দেশে। ইজারায়েলের ব্যাকপ্যাকাররা বছর চল্লিশ আগে খুঁজে বের করেছিল এই রত্ন, চার দশকের শত হাঙ্গামাতেও তার ঔজ্জ্বল্য একফোঁটাও মলিন হয়নি। হয়নি যে, সেটা সত্যি আশ্চর্য! মাত্র ঘন্টা চারেকের দূরত্বে অবস্থিত পার্বতী নদীর ধারে একটা কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে উঠেছে প্রায়। পার্টি ক্রাউডের জ্বালায় গ্রামের মানুষ তো বটেই, বনের পাখিরাও অস্থির। কিন্তু তা সত্ত্বেও অবিশ্বাস্যভাবে এই গোপন গ্রামটা বেঁচে গেছে। ভাগ্যিস! এই অচিনপুরের ডাকে ... ...
খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় একজনই দাঁড়াতে পারেন। সুতরাং যিনি দাঁড়াতে পারেন তাঁর মূল্যায়ন কে করবেন? আর তাঁকে মূল্যায়ন করার সাহসই বা কার হবে? এই যেমন, একই স্বীকৃতি বিজ্ঞানে আছে, চিকিৎসা শাস্ত্রের আছে, সাহিত্যেও আছে আবার শান্তিতেও আছে। তাঁর সৃষ্টিতে লুকিয়ে আছে এক বিশ্বব্রম্ভাণ্ডের যে সাহিত্য, তার কাছে পৃথিবীর সমস্ত স্বীকৃতি অতি তুচ্ছ। আবার যে স্বীকৃতি শান্তিতে আছে সেই স্বীকৃতি সুরে নেই! কেন নেই, এর উত্তর আমি জানি না!! থাকলে কবীর সুমনের সুরের কাছে নোবেল কমিটির অনেক আগেই নিঃস্ব হয়ে যাবার কথা। ... ...
পরশু ছিলাম ইঞ্জিনিয়ার / আজকে সেজেছি আমলা / কাজ ফুরোলেই উকিল সেজে / লড়া বাকি আছে মামলাঝুলিয়ে স্টেথো দেখছি রোগী / লিখছি ওষুধ হরদম
#পুরোনোলেখা গল্প লেখার অভ্যেস আমার কস্মিনকালেও নেই। ওসব কঠিন জিনিস। কিন্তু গল্পের নামে নিজের জীবনের ঘটনা লিখে ফেলা বেশ মজার ব্যাপার। আমার গুরুদেব সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই পদ্ধতিতে উপন্যাস লিখে ফেললেন গোটাকয়েক, তাই আমি একইভাবে অণুগল্প/গল্প লেখার চেষ্টা করেছি একসময়। নামধামগুলো বদলে দিলেই হয়। কী সব আবোল তাবোল লেখা। পড়লেও হাসি পায়। বছর সাতেক আগের আনাড়ি হাতে লেখা এই জিনিসটা আবার হাতপাখা ব্লগে ছাপাও হয়েছিল ... ...
ভুলের জানলা দিয়ে কখন ঠিক দরজায় / পৌঁছে যাই; নিজেও জানি না। / বনপথবীণা, চুপে মনোলীনা / বেজে ওঠে ছায়াতপা রোদ্দুরে।
আমি একাকী হেঁটে চলেছি রুক্ষ মাটিতে / গাছপালা নদনদীকে অবহেলে
১। প্রথমেই মনে রাখতে হবে, বাঙালী শপিং করে না। তারা মার্কেটে যায় 'মার্কেটিং' করতে। আর দোকানদার শপ্ খুলে বসে থাকে, তাই সে করে শপিং। গ্রামার আর ইকনমির হাতে হ্যারিকেন, বাঙালীর জয়।২। দ্বিতীয়ত, বাঙালী দোকানে জিনিস কিনতে যায় -- কে বলেছে আপনাকে? তারা যায় দোকানদারের রিয়ালিটি চেক করাতে। প্রতিটা প্রোডাক্টেই প্রায় রে-রে করে তেড়ে যাওয়া -- কি বললি? ওইটা পাশের দোকানে (পাশে কোনো দোকান নেই, 'পাশের দোকান' হল ঈশ্বরের মতো অ্যাবসেন্ট প্রেজেন্স) তিরিশ টাকা বলল, আর তুই দেড় টাকা বাড়িয়ে বলছিস কেন? ইত্যাদি অন্তে দোকানদারের মুখে ফেনা তুলিয়ে জিনিসটা পঁচিশ টাকায় নামিয়ে না কিনে চলে যাওয়া (দাঁড়া পাশের দোকানে দেখে আসি)।৩। ... ...
আজকাল ঘর থেকে বেড়ানো হয় না। অফিস কাছারি নেই। থাকলে অবশ্যই ভুত বাবাজির সাধনা করতাম। নানা ভগবানের বা ঠাকুরদেবতার সাধনা করে কি হবে বলুন। ওনারা তো এখন সিরিয়াল করতে ব্যস্ত। যতই ডাকাডাকি করো আসবে না। তবে ভূতের বর পেলেই কাজ চলে যাবে। একটা হাততালি দিয়ে অফিসে হাজির হয়ে যেতাম। সোনারপুর স্টেশনে গিয়ে মারপিট করতে হত না। ... ...
একটি ননসেন্স ও অ্যাবসার্ড লেখা। আপনাদের মনে পড়ে, সেই যে সেই জানলাটা খোলা ছিল না? যে জন্য মাছিটা বেরোতে পেরেছিল, সেই জানলাটা খোলাই ছিল। ঐ খোলা জানলাটুকু দিয়েই লোকে শুনতে পেল, কয়েকটা কণ্ঠস্বর একযোগে বলে চলেছে, ক্যাট ব্যাট ওয়াটার ডগ ফিশ
পাহাড়ে দু' মাস কেটে গেল।মেঘ-বৃষ্টি-বরফ-বুগিয়াল নিয়ে সবুজের মাঝে দিন কাটে, গাড়িও দেখিনি বহুদিন। গ্রামের ধারে গেলে গাড়ি যাওয়ার রাস্তা চোখে পড়ে, গাড়ি চোখে পড়ে না। হিমাচলেও লকডাউন চলছে, বাস বন্ধ। হয়তো কিছু প্রাইভেট গাড়ি চলছে, কিন্তু দেখিনি। আপেল গাছের আপেল বড় হয়ে উঠছে, সবুজের আচ্ছাদন ঘন হচ্ছে রোজ। আগের চেয়ে শীত কমে গেছে অনেক, আজকাল আর কাঁপুনি দেয় না। কিন্তু সোয়েটার গায়ে দিতেই হয়।অভ্যস্ত চোখে ঘুরে বেড়াই, ঘাসফুল আর লাল গোলাপের ঝাড় দেখে থমকে যায় স্মার্টফোন। ছবি, ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক। সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার সাবকনশিয়াস চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।কয়েকদিন ঘরে বসে বোর হয়ে গেলে পাড়া বেড়াতে বের হই। উঁচুনিচু পাথুরে পথ, ... ...
গত এক বছরে কমপক্ষে পঁচিশ থেকে তিরিশজন পরিচিত ব্যক্তি মারা গেছেন, বেশিরভাগই কোভিডে। এমন বহু মানুষ, যাদের স্নেহছায়ায় ছোটবেলা কেটেছে, যাদের সঙ্গে একসময় নিত্যকার হাসিমজা বা খুনসুটির সম্পর্ক ছিল, তারা চুপচাপ বিদায় নিয়েছে মহামারির মধ্যেই। আচমকা বিদ্যুৎচমকের মতো একেকটা দুঃসংবাদ আছড়ে পড়ে, স্কুলের বন্ধুর মা বা পরিচিত কোনো বন্ধুর বাবা গত হয়েছেন, তখন কত কথা মনে পড়ে যায়। এরকম কত কত মানুষ যাদের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে দেখা সাক্ষাত নেই, তাদের ঘিরে ধরে থাকা সুখস্মৃতি নাড়া দিয়ে যায় তখন। বন্ধুর মায়ের হাতের রান্না বা প্রয়াত অগ্রজ বান্ধবদের স্নেহমাখা বকুনির কথা এসে ধাক্কা দেয় মানসপটে। কত কত সম্পর্ক! কত স্মৃতি! কালের নিয়মে ফ্যাকাসে ... ...
"ধুস। পাহাড়ে চলে যাব।"পনেরো বছর ধরে এই বুলি নিয়ে জীবন কাটানো চলছে, চিরাচরিত ঘুরে বেড়ানো আর ট্রেকিংয়ের ব্যস্ততার বাইরে সত্যি কিছুদিন যে পাহাড়ে গিয়ে কাটাব, সেই স্বপ্ন স্বপ্ন হয়েই রয়ে গেছে। পাহাড়ে এসে আমার আকুলিবিকুলি দেখে ঘড়ির কাঁটা তাই চিরদিন মুচকি হাসে। মেঘ-কুয়াশা-রোদ্দুর-এর স্বাভাবিক লুকোচুরি দেখে আমাদের শহুরে চোখ অভ্যস্ত নয়, তাই দিনকয়েকের ছুটিতে এসে বড়ই বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করি আমরা। এই সূর্যোদয়, এই সূর্যাস্ত, এই ট্রেল, ওই পয়েন্ট...হ্যানাত্যনা! ফলে 'পাহাড়ে চলে যাব' অ্যাটিটিউড হারিয়ে 'পাহাড়ে ঘুরতে এলাম'-টাই প্রধান হয় দাঁড়ায়। কুকুরগুলো বিকেল হলেই চেঁচিয়ে গালি দেয়, পাখিরা কাছে আসে না নিজের মতো, বনফুলের ঝোপ বা দেবদারুর বনের দৃষ্টি বহিরাগতদের প্রতি ... ...
সঘন বরষা করিল মগন প্রেয়সী রহিল দূরে বিরহী মরম ভুলিয়া ধরম গাহিছে বেহাগী সুরে।কতযুগ যেন হইল বিগত নয়ন তাহারে যাচে মুষ্টিফোনের কথোপকথনে মনের ময়ূর নাচে।মকমকি সহ বারিধারা ঐ রঙ্গ করিছে অনঙ্গকতকাল সহে মনের প্রবোধ মুষ্টিফোনের সঙ্গ।
কাছে ঘেঁষতে পারব না, ঘুমিয়ে পড় / তোমার চাওয়া- আনুগত্য নয়তো দাসত্ব- / পূরণ করা অসম্ভব; রাত হয়েছে।
আমার হাইট পাঁচ পাঁচ। আমার নামের হাইট ছয় চার। শুধু নামটাকে যদি ধরা হয়, সত্যজিৎ রায়ের মতো প্রেজেন্স। তারপর তো আমি এলাম, যাক গে, সে অন্য ব্যাপার। ছোটবেলায় কথা বলতে শেখার পর প্রবল উৎসাহে কেউ জানতে চাইলেই নিজের নাম বলতাম। কিন্তু ছোটরা খুব উৎসাহ নিয়ে কিছু করলে বড়দের উদ্ভট আচরণ করার স্বভাব প্রথাগত। তাই, আমি নাম বললেই দেখতাম স্বাভাবিক কথা বলতে পারা মানুষেরা হঠাৎ আউ-আউ করে আধো-আধো বোলে "বাব্বা কত্তো বয়ো নাম" বলে তালি দিচ্ছেন। আমার ভালো লাগতো না। বরাবরই, মানুষ যাতে কম কথা বলে, আমি সেই চেষ্টা করি। তাই তারপর থেকে কেউ নাম জানতে চাইলে বহুদিন অব্দি বলতাম "শুভংকর ঘোষ ... ...
(ভিয়েতনামী ও ফরাসী নামগুলির সঠিক উচ্চারণ আর তার বাংলায় বানান বেশীর ভাগই জানি না। দু এক যায়গায়, যেখান ইউটিউবে ডকুমন্টারী শুনে যা মনে হয়েছে সেটাই লিখেছি, বাকীটা যেরকম ইংরেজীতে লেখা আছে, সেই রকমই লিখেছি।) প্রেক্ষাপট :সময়টা ১৯৪০ থেকে শুরু করেছি। এর থেকেও পিছিয়ে গেলে মুষকিল। ভিয়েতনামের ইতিহাস বড়োই কুটিল। পাশাপাশি রাষ্ট্র, যেমন কাম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড - এদের ইতিহাস এতো রক্তাক্ত ছিলো না তখনো। ভিয়েতনামেরও সত্যিই কোনো উপনিবেশ হওয়ার যোগ্যতা ছিলো না। কী ছিলো ঐ দেশে? একেবারে সম্পুর্ণ কৃষি ভিত্তিক দেশ। খুবই গরীব। তাতে না আছে কোনো মুল্যবান খনিজ না আছে কল কারখানার প্রাচুর্য্য না কোনো ক্যাশ ক্রপ ... ...
#পুরোনোলেখা প্রতিটা শহরের একটা চরিত্র থাকে। পৃথিবীতে হাজার হাজার শহর থাকলেও প্রত্যেকটা শহর তার পরিচয় বহন করে নিজস্ব ভাবে, নিজস্ব স্টাইলে। উপর থেকে দেখে মাঝেমধ্যে অন্য কোনও শহরের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া অসম্ভব নয় কিন্তু খতিয়ে দেখতে গেলে প্রতিটা শহরের মেজাজ তার নিজস্ব। তাতে কোনও ভেজাল পাওয়া যাবে না। একটা শহরের আত্মার সঙ্গে যোগ পাতানো অত সহজ নয়।লন্ডনে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে যখন চেনাজানা সমস্ত কিছুই দেখা হয়ে গেছে, তখন আমি অনুসন্ধান শুরু করলাম তুলনামূলক ভাবে অখ্যাত জায়গাগুলোর। অবশ্য লন্ডনে আর অজানা কী আছে? হাজার হাজার বছর ধরে লন্ডনকে নিয়ে লক্ষ লক্ষ গল্প লেখা হয়েছে। ... ...