অস্থির সময়ের বি এন পি। (১)লাঠি হাতে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে এখনো চোখ বন্ধ করে খুঁজে পাচ্ছি। পোড়খাওয়া একজন রাজনীতিবিদ। আমার মনে হয় ওয়ান ইলেভেনের সময়ে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিয়ে টিকে থাকতে হয়েছিল বি এন পি কে। চারদিকে একটা গুমোট পরিস্থিতি। স্মার্ট ম্যান মান্নান ভূইয়া এক সময় সব রাজনৈতিক দলের জন্য আইডল ম্যান হিসাবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন বি এন পি আর বেগম খালেদা জিয়ার ছায়াসংগী হিসাবে পাশে ছিলেন। কথার মাধুর্য আর প্রখর মেধাবী সংসদ প্রান হয়ে আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, আঃ রাজ্জাককে ডিল করার কারিশমা আমরা দেখেছি যদি ও বর্তমান প্রযন্মের কাছে তা রুপকথার মতো। দেশে জরুরি ... ...
নিরাপদ জ্যান্ত লাশঅখিল রঞ্জন দে শহরে আজ উৎসবের স্তব্ধতা,খুনিরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে হাঁটে—অথচ হুকুম হয়েছে:সাধারণের বাইকের চাকা যেন না ঘোরে,গতিই নাকি আজ সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রদ্রোহ! অন্দরমহলে আজ অদৃশ্য সেন্সরের নজরদারি,নিজের ছায়াকেও আজ ‘বহিরাগত’ সন্দেহ হয়;রাজা বললেন, "রক্তের টান ষড়যন্ত্রের আঁতুড়ঘর, স্বজন আজ বারণ—নিরাপদ থাকতে হলে আজ থেকে তোমরা কেবল একে অপরের ‘ভোটার’! ছায়া যাতে শরীর ছেড়ে না পালায়—রাজা তাই সূর্যটাকেই আজ আকাশ থেকে নামিয়ে দিয়েছেন;এখন জমাট অন্ধকারে আমরা মুখ থুবড়ে পড়ে আছি—আর রাজা বলছেন, "দেখো, আজ থেকে তোমাদের কোনো শত্রু নেই!" পায়ের তলায় শিকল নেই, অথচ আমাদের নড়াচড়া আজ নিষেধ—কারণ স্থির থাকতে পারাই নাকি এই রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ নাগরিকত্ব।আমরা যারা অনেকদিন আগেই মরে গিয়েছি,তারা এই জমাট অন্ধকারেও ... ...
সে আসে না। আমি জানি। আসবে না। আজ রাতে যুদ্ধের আগের রাত, যেখানে সবাই প্রার্থনা করে, অস্ত্র ঘষে, বর্ম পরে, মন্ত্র পড়ে। আমি দাঁড়িয়ে বারান্দায়, হাতের তালুতে আগুন জ্বালিয়ে, সেই আগুনে পুড়িয়ে দিই তার নাম, যে নাম আমি কখনো উচ্চারণ করিনি, যে নাম আমার হৃদয়ের ভিতর খোদাই করা, রক্তাক্ত, যার প্রতিটি রেখা একটি যুদ্ধের দিন, একটি হারানো রাত, একটি অপূর্ণ আলিঙ্গন।আমি জানি সে মরবে। আমি জানি আগামীকাল সূর্য ডুবার আগেই তার রক্ত মাটি ভিজাবে, তার রথের চাকা আটকে যাবে কাদায়, তার তীর ফুরিয়ে যাবে, তার হাত কাঁপবে, তার চোখ খুঁজবে আমাকে, আর আমি দাঁড়িয়ে থাকব দূরে, একটি স্তম্ভের আড়ালে।আগামীকাল অনেক ... ...
কাঁটার বাগানে হাঁটি, পা ফুলে যায়, ফোসকা পড়ে, রাত জেগে ওঠে আমার পায়ের তলায়, লাল ফোঁটা ফেলে যায় পথ চিহ্নিত করে, যেন কেউ সেই পথ ধরে এসে বলবে, “এইখানে সে গেছে, এইখানে থেমেছে, এইখানে কাঁদেছে, এইখানে হেসেছে, এইখানে নিজের নাম ডেকেছে কিন্তু কেউ শোনেনি,” কাঁটা আমাকে চেনে, কাঁটা আমার বোন, কাঁটা জন্মেছিল আমার মায়ের পোড়া বুকে, যে মা আমাকে দুধ দেয়নি, দিয়েছে কাঁটার মুকুট, আমি সেই মুকুট পরে রাজ্ঞী হয়েছি, পাঁচ রাজার রাজ্ঞী, কিন্তু আমার রাজ্য এই কাঁটার বাগান, যেখানে পা রাখলে রক্ত বেরোয়, যেখানে বসলে উরুতে ফুটে কাঁটা, যেখানে শুতে চাইলে পিঠে বিঁধে কাঁটা, আর সেই ব্যথায় চিৎকার করি, ... ...
— যাঁরা সংখ্যা দিয়ে কবিতা লেখেন, তাঁদের জন্য একটি বিনীত নিবেদন। --- গল্পটা শুরু হয় যেখানে তৃণমূল সমর্থকদের একটি বিশেষ প্রতিভা আছে—তাঁরা রাজ্যের উন্নয়নের এমন একটি ছবি আঁকেন, যেখানে আলো এত উজ্জ্বল যে ছায়াগুলো আর দেখাই যায় না। Kanyashree আছে, Lakshmir Bhandar আছে, Duare Sarkar আছে—সব আছে। শুধু নেই পরিসংখ্যান, প্রেক্ষাপট, এবং সততার সামান্য একটু আলো। তো চলুন, সেই আলোটা একটু জ্বালাই। --- ১. অর্থনীতি: "বাংলা এগিয়ে চলেছে"—কোথায়? TMC-র আখ্যান: GSDP বাড়ছে, বাংলা উন্নতির পথে। বাস্তবতা: পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে নিচে। RBI-র রাজ্য অর্থনীতির তথ্য অনুযায়ী, বাংলার মাথাপিছু NSDP দেশের রাজ্যগুলির মধ্যে মাঝামাঝি থেকেও নিচে—মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা তো দূরের কথা, বেশ কিছু "পিছিয়ে পড়া" বলে ... ...
I have the greatest blessing of having Pratibha Sarkar in my life even when I was in my mom's womb and thereafter in my early childhood, I have read most of her works, this is by far the best of my Mashi' s works and I am overtly critical . I am hoping the publishers would have "Guru" translated in major Indian languages as also in Urdu and English, grateful, keep going Mashi best work in Bengali literature in recent times . This was written in great personal crisis and is a labour of love that has ended up ... ...
শংকর হালদার শৈলবালা-র রাজনৈতিক দর্শন: ভোট সংকটের ভবিষ্যৎ ও পরিণাম লেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১. নৈতিক অবক্ষয় ও গণতন্ত্রের সংকট ১. বিকৃত ভোট যদি আজ হয় রাজনীতির জয়গান,গণতন্ত্রের কফিনে তবে বিদ্ধ হবে শেষ অপমান।২. বুথ দখল যেদিন বীরত্বের তিলক হয়ে হাসবে,দেশপ্রেমিকেরা সেদিন ঘরে বসে কেবলই দীর্ঘশ্বাস ফেলবে।৩. ভোটারহীন নির্বাচন যদি হয় আগামীর নিয়ম ও প্রথা,জনমতের আয়নায় চিরতরে ঢাকা পড়বে সত্যের সকল কথা।৪. অর্থের জোরে কেনা ভোট হলো জাতির মেরুদণ্ডের ক্ষয়,পঙ্গু প্রজন্মের জন্য এ এক বিষাক্ত নীল নকশার ভয়।৫. যে রাজ্যে ভোটারের নিরাপত্তা আজ তিমিরে হারায়,সেখানে সুশাসনের স্বপ্ন কেবল অলীক মরীচিকায় দাঁড়ায়।৬. মিথ্যে আশ্বাসে পাওয়া ভোট বিশ্বাসের মূলে হানবে ... ...
বাদ ও সংবাদ 'Psephologist ' শব্দটার মানে কী, বা আদৌ এমন একটা শব্দ যে হয়, সেটা জেনেছিলাম আপনার কাছ থেকে।সাদা কালো ফিলিপস চোদ্দ ইঞ্চি, ক্রিকেট, বুনিয়াদ বা নুক্কর সবার সাথেই দেখা উচিত, পরীক্ষা যার,সে দরকারে পাশের ঘরে, ছাদে,বা বন্ধুর বাড়ি গিয়ে পড়ো --- পড়শীরা ওয়ার্ল্ড কাপ দেখবে না তাই বলে? এমনি একটা সময় একজন দাড়িওয়ালা লোক শুক্কুরবার রাতে হাজির হত World This Week নিয়ে। গিলতাম জাস্ট।আর ভোটের সময় তার বিশ্লেষণ। সব বুঝতাম তাতো নয়, তবে আসতে আসতে মন, বুদ্ধি তৈরি হত পরিণততর কিছু গ্রহণ করতে। এখনকার মত তখন টিভি পর্দায় ঘোর গরমে বেগুনি শুট পরে কেউ চিৎকার করতে করতে ছুটে আসতনা,পর্দাটা কে ... ...
শংকর হালদার শৈলবালা-র রাজনৈতিক দর্শন: ২০টি কালজয়ী বাণী রাজনীতি ও জনসেবা১. রাজনীতি নয় কেবলি গদির সোপান,মানুষের চোখের জল মোছাতেই এর প্রকৃত সম্মান।২. জনতাকে শাসন করা নেতার কাজ নয়,জনতার হৃদস্পন্দন বোঝাই শ্রেষ্ঠ জয়।৩. উন্নয়ন যদি কেবল খাতা-কলমেই হাসে,বুঝবে আঁধার আজও সাধারণের ঘরেই বসে।৪. জনতার নীরবতা মানেই নয় শুধু মৌন সম্মতি,এই নিস্তব্ধতা হতে পারে বড় কোনো বিদ্রোহের সংহতি।গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার৫. ভোট তো অধিকার নয়, এক অব্যর্থ হাতিয়ার,গড়তে পারে সমাজ পরিবর্তনের নতুন এক জোয়ার।৬. স্বচ্ছ নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের মূল শ্বাস,এ ছাড়া জাতির জীবনে আসে না কোনো বিকাশ।৭. সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে গণতন্ত্রের সার্থকতা নাই,সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষাই হলো এর আসল পরিচয়।ক্ষমতা ও নৈতিকতা৮. ক্ষমতার মোহে যদি আঁধার ... ...
রাজনীতি জিনিসটা পাড়ার রকে বসে চা খাওয়া নয়, বরং দাবার বোর্ডে এমন এক চাল দেওয়া যেখানে বিপক্ষ কিস্তিমাত হওয়ার আগেই নিজের পরাজয়টাকে ‘ঐতিহাসিক বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করে দেয়। সম্প্রতি লোকসভায় ‘৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ২০২৬’ নিয়ে যে কাণ্ডটি ঘটল, তাকে খবরের কাগজে ‘পরাজয়’ বলা হলেও বুদ্ধির বাজারে একে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলতেই হবে। কেন? কারণ বিজেপি কেবল একটা রাজনৈতিক দল নয়, ওটা একটা সুশৃঙ্খল ‘কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান’, যেখানে স্ট্র্যাটেজি তৈরি হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে, আর তার ইমপ্যাক্ট পড়ে একদম তৃণমূল স্তরের ইমোশনে। বিজেপি জানে যে বিরোধীরা ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের গেরোয় পা দেবেই। দক্ষিণ ভারতের জনমিতি আর উত্তর ভারতের সংখ্যামাতাল রাজনীতির দ্বন্দ্বে বিলটি আটকে ... ...
ইরানের এই বর্তমান যুদ্ধ নিয়ে দেবজিৎবাবু গুরুচন্ডালীতে খুবই প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী একটা লেখা লিখছেন যেখানে উনি দেখিয়েছেন যে পেট্রোডলার সিস্টেম ও বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থার মধ্যে কিভাবে এটি এতো গুরুত্ত্বপূর্ন চালিকাশক্তি হয়ে উঠলো l ওনার লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমারও দুকথা বলতে ইচ্ছে জাগলো l ইরানের এই বর্তমান যুদ্ধের পিছনে এবং বর্তমান বিশ্বের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা পেট্রোডলার সিস্টেমটি নিয়ে অনেক কিছু সম্প্রতি জেনেছি দেবজিৎবাবুর লেখা থেকে l এখন এইযুদ্ধে মূল বিষয়গুলো একবার দেখা যাক l পেট্রোডলার সিস্টেমে ইরানের অন্তর্ভুক্তি : কিন্তু কোন ... ...
সেই বারান্দা থেকে নিচে নামি না বরং নামা আর ওঠা এক হয়ে যায় আমার শরীর একইসঙ্গে ওপরে আর নিচে থাকে সময় যখন গুলিয়ে যায় মাধ্যাকর্ষণও তার খেলা বদলায় তখন সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ আমাকে অতীতে ফেলে দেয় আবার ভবিষ্যত থেকে টেনে আনে আমি হাঁটতে থাকি এক পায়ে গতকাল আরেক পায়ে আগামীকাল আর মাঝখানে আমার শরীরটি দুলতে থাকে কোনো দোলনায় কোনো নৌকায় কোনো শূন্যেপায়ের তলায় মাটি জল নেই আছে শুধু এক ধরনের কাঁচের মতো স্বচ্ছ স্তর যার নিচে আমি দেখি অনেকগুলো জীবন ভেসে বেড়াচ্ছে একটাতে আমি শিশু আরেকটাতে আমি বুড়ি আরেকটাতে আমি মৃত আরেকটাতে আমি এখনো জন্মাইনি আমি সেই কাঁচের ওপর পা ... ...
কয়েকটি কথা: ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ১৯:১৩ র সময়ে গুরুর ‘পর্বে পর্বে কবিতা ৫৮’য় আমার এই কবিতাটা জমা করেছিলাম। লেখাটা আমার নিজের বেশ কাছের। আবারও আজকে প্রকাশ করলাম, খেরোর নতুন খাতায়... সময় থাকলে বা ইচ্ছে চাইলে, প’ড়ে দেখতে পারেন। যুদ্ধ মানুষ কত সম্ভাবনাময়মানুষ কত জটিলতায় মানুষফাঁকা মাঠে গোল তো সবাই দেয়,এবার মানুষ অন্য কিছু করুক।হাসিমুখের প্রতিক্রিয়াতেইভুলে যাচ্ছে অবসাদের কথা৷এমন কোনও প্রতিক্রিয়াই নেই,খালি চোখে সহজে যায় দেখা।রক্ত নিয়ে খেলা হচ্ছে কত...বদলা মানেই টুকরো ক’রে ফেলা।অন্ধকারে পিছিয়ে আসছি তত,ভরসা বলতে আকাশভরা তারা।আকাশ থেকেই বৃষ্টি পড়ছে আবারআকাশ দিয়েই উড়ে যাচ্ছে পাখি৷এই শহরে এইটুকুই তো চাওয়া—বিপদ এলে হাত বাড়াতে পারি।জ্বলতে জ্বলতে আগুন ধুন্ধুমারপোড়া গন্ধে সভ্যতা আজ ... ...
লেখা দৌড়চ্ছে। তার পেছন পেছন ছুটে চ’লেছি আমি। যাওয়ার সময়ে পাশ দিয়ে চ’লে যাচ্ছে—মৃতদেহ নিয়ে নবদ্বীপ শ্মশানের দিকে মনমরা গাড়ি।যাওয়ার সময়ে পাশ দিয়ে চ’লে যাচ্ছে—জীবন নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত এক যুবক। যে পরিবর্তনের আশায় শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে সম্ভবত... এক, দুই, তিন, চার—এইভাবে আরও আরও দৃশ্য আসছে যেতে যেতে। লেখার কাছে পৌঁছনোর আগে পরিশ্রমের পাঠ শেখাচ্ছে,লেখা নিজেই আমাকে। সবকিছু হাতে ধ’রে শেখানোর মতো এতভালো বন্ধু আর কখনও ছিল কি আমার?লেখার বন্ধু হ’তে পেরে, বেঁচে থাকা সার্থক মনে হচ্ছে। ... ...
আজকাল বাজারে সততার দাম ঠিক কত, সেটা জানার জন্য আপনাকে কোনো অর্থশাস্ত্রীর কাছে যেতে হবে না; পাড়ার মোড়ে নীল-সাদা রঙের একটা জীর্ণ ল্যাম্পপোস্ট দেখলেই বুঝবেন—এখানে উন্নয়ন এখন ফেরিওয়ালার হাঁকডাকের মতো। আমাদের প্রিয় রাজনৈতিক দলটির বিবর্তন অনেকটা সেই বিরিয়ানির আলুর মতো—আগে যা ছিল পার্শ্বচরিত্র, এখন তা-ই হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল আকর্ষণ। বাকি চাল-মাংসের (পড়ুন: সাধারণ জনতা) অস্তিত্ব এখন কেবল সেই আলুকে মহিমান্বিত করার জন্য। বাংলার আকাশ-বাতাস এখন এক অদ্ভুত 'ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে' বন্দি। আগে লোকে দলবদল করত আদর্শের টানে, এখন করে আর্দ্রতার টানে। বর্ষা নামলেই যেমন ব্যাঙেরা ডাক পাড়ে, তেমনি নির্বাচনের হাওয়া দিলেই এ-ফুল ও-ফুলে ঝাঁপ দেওয়াটা এখন কোনো নৈতিক স্খলন নয়, বরং একটি ... ...
লুকিয়ে বাড়ি আসি আজকাল। যদি লোকে চিনে ফেলে সর্বনাশ হয়ে যায় তাহলে। কেমন আছি জানার তাগিদে একবার জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে আমার সংখ্যালঘু মনে সংখ্যাঘুঘুর বাস নাকি বর্গীর। এড জুডিকেশন এর নোটিশ আসার পর আমার ন্যাঙটো বেলার বন্ধুরাও আমার অস্তিত্বের সরাসরি অস্বীকার করতে না পারায় ছোটবেলায় আমার বাপকে পাড়ায় দেখেছে নাকি সে নিয়ে আড়ালে বলে শুনেছি, নিজের কান পর্যন্ত এখনো আসেনি সেসব। তাই অপরিচিতদের কাছেই আমি কমফোর্টেবল বেশি। তাঁরা জানে আমার মত ভালো শ্রোতা এ জগতে নেই আর। আমার প্রত্যন্ত গ্রামের টপোগ্রাফীতে এখন প্রায় নব্বই শতাংশ হিন্দিলী। মানে টাইটেলে বামুন কায়স্থ চাষা কিম্বা তেলি ... ...
রাইত আটটার ঝটকাআরে মশয় শোনেন, এখন তো আর ভাষণ নাই, এখন হইলো গিয়া ‘ইভেন্ট’! আমাগো আগের কারবার আছিল আলাদা। প্রধানমন্ত্রী মুখ খুললে আমরা বুঝতাম দেশটা বুঝি কোনো বড় বিপদে পড়ছে কি না। বুকটা একটু ধড়ফড় করলেও একটা ভরসা আছিল। আর এখন? এখন রাইত আটটা বাজলে যদি টিভির পর্দায় ওই চেনা মুখ আর ‘মেরা পেয়ারে দেশবাসীয়োঁ’ ডাক শুনেন, তাইলে বুঝবেন পকেটের শেষ সম্বলটুকুও বুঝি গিয়াছে! আমাগো রাজা মশয় তো আবার পুরাপুরি ডিজিটাল। সংসদ-ফংসদ এখন যাদুঘরে পাঠাইয়া দিছে, সব কাম এখন একলাই সারেন টিভির ক্যামেরার সামনে।আরে কর্তা, গণতন্ত্রে তো একটা ‘চেইন অফ কমান্ড’ থাকে, না কি? সংসদে গিয়া কথা কবেন, বিপক্ষ দল ... ...
প্রিয় উনিজি আবার একটা ভাষণ দিলেন। সুখের ব্যাপার, এবার ভয়ানক কিছু ঘটেনি। সারা দেশের সব নোট বাতিল হয়নি। কাউকে এসআইআরের লাইনে দ্বিতীয়বার দাঁড়াতে হবে, এরকম ঘোষণা হয়নি। এমনকি সিঁদুর নামক আরেকটা গুলবাজিও শুরু হয়নি। বরং শুনে চমকে গেলাম, যে, উনি দেশের মহিলাদের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে শুরু করলেন। প্রথমে ভেবেছিলাম, অবশেষে চৈতন্য হয়েছে। উনি হয়তো মনিপুরের নারীদের কাছে ক্ষমা চাইছেন। উন্নাও-হাথরাসের ধর্ষকদের মালা দেবার জন্য ক্ষমা চাইছেন। কিন্তু নাঃ, সেই আশায় জল। এই লেকচার কেবলমাত্র ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে, যেটা আটকে দিয়ে ডবল ইঞ্জিনের মুখে ডবল জুতো মেরেছে বিরোধীরা। তাই উনি বিরোধীদের হয়ে ক্ষমা চাইছেন। খুব আবেগ দিয়ে বললেন, ... ...
"প্ল্যানড্ অবসলেন্স" এর বাংলা আমি জানি না। মানেটা মোটামুটি এরকম বাংলায় - কোনও ভাবে (অবশ্যই ইচ্ছাকৃত) পণ্যের মধ্যে এমন একটা কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া যাতে সেই পণ্য আর জোড়াতাপ্পি দিয়ে চালানো না যায়। আরও নতুন পণ্য বিক্রি, আরও লাভ, সেই লাভের টাকায় ফের অন্য নতুন পণ্য। এই কিছুদিন আগেও ফোনের ব্যাটারি বদলানো যেতো, এখন ব্যাটারি খারাপ হলে নতুন ফোন নেওয়াই সস্তা পড়ে। অনেকভাবেই এটা করা যায় - সবটা ঠিক প্রযুক্তিরও ব্যাপার নয়। নেট প্রভাবী তাঁর পুরানো ফোন ছুঁড়ে দিয়ে নিলেন নতুন ফোন... এই অবধি বোঝা তেমন কঠিন না। আমরা যারা মধ্য চল্লিশে পৌঁছে গেছি বা যাবো যাবো করছি ... ...
এই মুহূর্তে বাংলার রাস্তাঘাটে একমাত্র আলোচনার বিষয়বস্তু, গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া উচিত SIR প্রক্রিয়ার বাদ যাওয়া লক্ষ লক্ষ বাঙালির হয়রানি। এখানে হচ্ছে না। অন্তত পৃথিবীর আর পাঁচটা সভ্য সুস্থ জাত হলে তাই-ই হতো। অবাক হওয়ার বয়স পেরিয়ে গ্যাছে - তবু সহনাগরিকদের উদাসীনতা দেখে অবাক হই। হ্যাঁ এই উদাসীনতা এই সময়ে - যখন কমবেশি তিরিশ লক্ষ মানুষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন - বস্তুতঃ বিচার চলছে এঁদের নাগরিকত্বের। যাঁদের নাম উঠে গ্যাছে অন্তত কোলকাতা শহরে আমার পরিচিত বৃত্তে - এঁরা নিশ্চিত এই এতজন মানুষের কিছু না কিছু গণ্ডগোল আছে নথিতে। আমার নেই, আমি নিশ্চিন্ত। রবিবারে খাসির মাংসের দোকানে বেঁধে রাখা, তখনও জ্যান্ত খাসির কাঁঠাল ... ...