অষ্টম এবং অন্তিম পর্ব গাজন শেষ হয়েছে বেশ কয়েকদিন।ঢাকের শব্দ থেমেছে, আলপনার রঙ মুছে গেছে, গ্রাম আবার ফিরে গেছে তার চেনা ছন্দে—মাঠে চাষ, নদীতে জাল, উঠোনে রোদে শুকোতে দেওয়া ধান, সন্ধ্যায় ধূপের গন্ধ আর শঙ্খধ্বনি।সবকিছু আগের মতোই।তবু, সবকিছু আর আগের মতো নেই।এই স্বাভাবিকতার আড়ালে অদৃশ্য এক পরিবর্তন নিঃশব্দে বসে আছে।মানুষ যখনই রতনকে দেখে, একটু থেমে তাকায়।কেউ আশীর্বাদ করে মাথায় হাত তোলে, কেউ মৃদু হাসে, কেউ আবার দূর থেকেই নীরবে হাত জোড় করে প্রণাম জানায়। যেন সে আর শুধুই গ্রামের এক সাধারণ ছেলে নয়—সে এখন এক নীরব আস্থার প্রতীক।কিন্তু রতন নিজে বদলায়নি।সে আগের মতোই দৌড়োয়, হেসে ওঠে, উমার বকুনি খেয়ে চুপ করে ... ...
সপ্তম পর্ব গাজনের প্রথম সকাল। গ্রাম যেন এক অলৌকিক আলোর আবরণে মোড়া। উঠোন জুড়ে সাদা আলপনার নকশা, বেলপাতা ভেজানো কলসের পাশে ধূপের ধোঁয়া ধীরে ধীরে আকাশের দিকে উঠছে। দূরে ঢাকের তাল প্রথমে নরম, তারপর ক্রমে চড়া—যেন সময় নিজেই উৎসবের ছন্দে জেগে উঠছে। বাতাসে কাঁচা মাটির সোঁদা গন্ধের সঙ্গে মিশে আছে এক অদ্ভুত পবিত্রতা।আজ পরেশ খুব ভোরে উঠে পাটঠাকুরের কাঠ মুছে দিচ্ছিল যত্ন করে, যেন সন্তানের মুখ স্পর্শ করছে। সিঁদুরের লাল রঙ আঙুলের ডগা থেকে ছড়িয়ে পড়ল ঠাকুরের গায়ে। তার চোখে আজ এক গভীর নিবেদন।রতন পাশে বসে নিঃশব্দে সব দেখছিল।পরেশ মৃদু গলায় বলল,“আজ তুই আমার পাশে থাকবি, সবসময়।”রতন শুধু মাথা নাড়ল। কিন্তু ... ...
ষষ্ঠ পর্ব গাজনের আর মাত্র তিন দিন বাকি।কিন্তু গ্রামের আকাশে যেন উৎসবের রঙ নয়—জমে উঠেছে অদ্ভুত এক অশনি-সংকেত। কয়েকদিন ধরেই কালো মেঘ ঘিরে আছে আকাশকে। চৈত্রের শেষ প্রহরে এমন ভারী, নীচু মেঘ সচরাচর দেখা যায় না। বাতাসে চাপা গুমোট, যেন নিঃশব্দে জমে উঠছে কোনো অদৃশ্য অপেক্ষা।পরেশের বুকের ভিতর কেমন অকারণ অস্বস্তি।সে বুঝতে পারছিল—শুধু গাজন নয়, তার থেকেও বড় কিছু আসন্ন।সেই রাতেই আকাশ ফেটে নামল ঝড়।ভয়ংকর কালবৈশাখী।বজ্রপাতের ঝলকে আত্রাই নদী বারবার সাদা হয়ে উঠছিল, যেন অন্ধকারের বুক চিরে কেউ আলো ছুঁড়ে দিচ্ছে। বাতাসে বেলপাতা ছিঁড়ে উড়ছে, খড়ের চাল কাঁপছে, দরজা-জানালা উন্মত্তের মতো ঠকঠক করে কাঁপছে। ধূপ, মাটি আর ভেজা বাতাসের গন্ধে ভরে ... ...
হ্যাজ নামানো আদতে কোনো কষ্টসাধ্য কাজ নয়, এটি একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। একে শিল্প বলাটা বোধহয় শিল্পের অবমাননা, বরং একে 'পাবলিক টয়লেট'-এর সার্থক বিকল্প ভাবাই শ্রেয়। এই মহান কার্যে দীক্ষিত হতে কোনো সাধনার প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন পড়ে না কোনো ব্যাকরণ বা নন্দনতত্ত্বের। আপনার যদি পেট পরিষ্কার থাকে—এবং তার চেয়েও বড় কথা, যদি আপনার মাথায় আবর্জনা থিকথিক করে—তবে আপনিও অনায়াসে হ্যাজ নামাতে পারেন। সোজা কথায়, যদি আপনার মধ্যে ‘হাগার’ ক্ষমতা থাকে, তবে জনসমক্ষে হাগুন। বাঙালির বৌদ্ধিক চর্চা এখন অনেকটা এমনই; যেখানে ইনপুট যাই হোক না কেন, আউটপুট সর্বদা দুর্গন্ধযুক্ত একরাশ শব্দবন্ধ। নীতিনৈতিকতার ডিজিটাল ভণ্ডামি: আজকাল আবার একদল নতুন প্রজাতির বাঙালি বেরিয়েছে, যাদের নৈতিকতা ... ...
বাংলা ভাষার অসম্মানে প্রাণ কাঁদছে? শর্মিষ্ঠা রায় তাহলে শুনুন। বাংলা ভাষা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও অসম্মানিত হয়েছে, আমাদের রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পারলে সেখানে ফিরিয়ে দিন হৃতসম্মান।শিক্ষা এখনো যুগ্ম তালিকায় রয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীতে (১৯৭৬) শিক্ষাকে রাজ্য তালিকা থেকে যুগ্ম তালিকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এর অর্থ হল, শিক্ষা বিষয়ক আইন প্রণয়ন এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই সমান ক্ষমতা রাখে। অর্থাৎ, কর্পোরেট জায়েন্টদের লেখা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ লাইন বাই লাইন মানার দায় রাজ্যের নেই। রাজ্য নিজের শিক্ষানীতি নিজে ঠিক করতে পারে। বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলো খুলুন। পড়া ছেড়ে চলে যাওয়া শৈশব কৈশোরকে ফিরিয়ে আনুন। মাতৃভাষার মাধ্যমে সিরিয়াস শিক্ষা চালু করুন। ... ...
শনিবার দুপুরবেলা যে ছোটমামাকে এভাবে দেখতে হবে, সেটা আমার কেউই ভাবিনি। দরজাটা খুলে প্রথমে চমকে গেল মা।– “একী রে! কী অবস্থা করেছিস নিজের?”আমরাও সবিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলাম পুরোনো জামাকাপড় আর দীর্ঘদিন চুল-দাড়ি না কাটার ফলে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে ছোটমামাকে। এমনিতে দিদার বাড়ি গেলে আমার আর বোনের সর্বক্ষণের ফ্রেন্ড,ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড হিসাবে ছোটমামাকেই আমরা এতোদিন পেয়ে এসেছি। এম.টেক করার পর কোডিং শেখানোর tuition centre আর ছবি আঁকা নিয়ে দিব্যি ছিলো। দিদা কয়েকমাস অসুস্থ থাকায় খুব একটা যোগাযোগ ছিলো না। এরমধ্যে আমাদের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। তাই মায়ের নজরদারিতে আমরা তখন ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’। অর্থাৎ বাইরের জগতের সঙ্গে সবরকম সংযোগ বন্ধ। এতদিন পর ছোটমামার আগমন ... ...
অন্য ছত্রপতি শর্মিষ্ঠা রায় মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শিবাজি ভোঁসলের নাম আমরা সবাই জানি। তিনি তো এখন হিন্দুরাষ্ট্রের আইকন। কিন্তু, আরও এক ছত্রপতির কথা আমরা আজ এখানে বলব। বেশি পুরানো দিনের লোক তিনি নন, কিন্তু তাঁর নাম অনেকেই শোনেন নি। কেন তাঁর নাম ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে, এই নিবন্ধটি থেকেই তা কিছুটা বোঝা যাবে। নাম তাঁর রাজর্ষি সাহু। মহারাষ্ট্রের ভোঁসলে পরিবারেরই আর এক সন্তান ছিলেন তিনি। বংশপরম্পরায় রাজত্ব লাভও করেছিলেন। ছত্রপতি রাজর্ষি সাহু মহারাজ। রানি ভিক্টোরিয়ার দেওয়া নাইট গ্র্যান্ড কম্যান্ডার পদকপ্রাপ্ত। জন্ম ১৮৭৪ সালের ২৬ জুন। মৃত্যু ১৯২২ সালের ৬ মে। ২৮ বছরকাল (১৮৯৪ - ১৯২২) দেশীয় করদ রাজ্য কোলহাপুরের রাজা ছিলেন। এই সময়ের ... ...
ডেভিড হর্সব্রো ও তাঁর নীলবাগের রূপকথা শর্মিষ্ঠা রায় ১৯৪৩ সাল। এক ব্রিটিশ তরুণ এয়ারফোর্স অফিসার এলেন ভারতে। তখন পৃথিবী জুড়ে চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাপট। মাত্র কুড়ি বছর বয়স তার। নাম ডেভিড হর্সব্রো। বিমানে করে তাকে বোমা ফেলতে পাঠানো হয়েছিল বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। সুজলা সুফলা বাংলাদেশের প্রকৃতিকে আগে কখনো চোখে দেখেনি ডেভিড। বোমারু বিমানের জানলা দিয়ে যতদূর দেখা যায় সবুজ ধান খেত। জায়গায় জায়গায় সবুজের বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে নদী। ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রাম। এইখানে বোমা ফেলে তছনছ করে দিতে হবে তাকে? বিদ্রোহ করে উঠল তরুণ মন। না, এ অসম্ভব! বিমানের মুখ ঘুরিয়ে এসে নামলেন বিমানবন্দরে। সেখান থেকে সোজা অফিসে ফিরে ... ...
মাতৃভাষা মাধ্যম না হলে শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় নাশর্মিষ্ঠা রায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার ভিতটা কবে শুরু হয়েছিল জানেন? যেদিন মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম না করে একটা বিদেশি ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করা হয়েছিল। আপনি বলবেন, ইংরেজি না জানলে সারা পৃথিবীর জ্ঞানের জগৎকে চিনবো কী করে? এর উত্তর হল, তার জন্য ইংরেজি ভাষা শেখো, শিক্ষার মাধ্যম কেন মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষা হবে? ইংরাজিকে শিক্ষার মাধ্যম করা একেবারেই দু'শো বছরের পরাধীনতার লিগ্যাসি। এশিয়া ইউরোপ, লাতিন আমেরিকায় খোঁজ নিলে দেখা যাবে তারা কিন্তু শিক্ষার মাধ্যম মাতৃভাষাকেই রেখেছে। বাংলাভাষা হারিয়ে গেলে হারিয়ে যায় রসগোল্লা গোলাপজাম, রসোমালাই। পড়ে থাকে ক্যাডবেরি। এই বাংলায় তুমি কাকা, জ্যাঠা, পিসে, মেসো, মামাদের ডাকতে শিখেছো, ... ...
স্বতন্ত্র জগতের খোঁজ যশোধরা রায়চৌধুরী মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, সংক্ষেপে শংকর চলে গেলেন। একটা যুগাবসান ঘটল, এই বহুব্যবহৃত বাক্যটি অন্তত শংকরের ক্ষেত্রে একেবারেই অতিকথন নয়। বস্তুত যে দশকগুলোতে আমাদের প্রজন্মের বেড়ে ওঠা, সেই দশকগুলো অধিগত ছিল বা বলা ভাল অধিকৃত ছিল বাংলা গল্প উপন্যাসের লেখকদের, এবং শংকরের মতো সফল জনপ্রিয় লেখকদেরই। গৃহবধূ থেকে কেরানি, পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে, পুরোটা পড়ুন ... ...
পাখি হ’য়ে ব’সে আছে, কানের চারপাশ দিয়ে ঘুরে যাচ্ছে হাওয়া। পাশেই দু’টো শালিখ মারপিট করতে করতে... মারপিট করতে করতে... শূন্যে ভাসতে শুরু করেছে। এখন দু’জনেই মৃতপ্রায়। বেড়ালের সামনে দিয়ে একটা পিঁপড়ে যেতে যেতে, যেতে যেতে... শেষমেশ আর যেতে পারলো না। বেড়ালটা দ্রুত, বড় দ্রুতই নখ দিয়ে মেরে ফেলল পিঁপড়েটাকে। পিঁপড়েটা মেয়ের জন্য খাবার খুঁজতে বেরিয়েছিল। প্রথম এবং শেষ আক্রমণে, স্বপ্ন-প্রত্যাশা-ভালবাসা— সমস্তটাই নিঃশেষ হয়ে এলো। এলো— কেননা, আয়ু লেখা শেষ হল জীবনের। আয়ু। জীবন নিজের আয়ু নিজের হাতে কোনওদিনও লেখেনি। যার মধ্যে সে থেকেছে, তাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে আয়ু। সেটা দীর্ঘ কিংবা নাতিদীর্ঘ— যাইই হোক না কেন, লিখিয়ে নিয়েছে। এটাই।পাখি হ’য়ে ... ...
( ৬ ) দুপুরবেলায় বাড়ির উঠোন শুনশান। বাইরের দিকের ঘরের জানলা বন্ধ। ভিতরে নিশ্চয়ই মা ঘুমোচ্ছে। ভিতরের দিকের ঘরে কী হচ্ছে সেটাই হল চিন্তা। নিরূপমের বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল। সে ভাবল, দূর ... অফিসে হাফ সি এল না নিলেই হত। এখান থেকে ফিরে যাই... বউ কিছু করলে কি এইভাবে দেখিয়ে দেখিয়ে করবে নাকি। পলিটিক্স সবাই জানে। উঠোনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল কী করা যায়। ... ...
যে ভাষায় অনুভূতির নাম অভিমান আর প্রাপ্তির নাম আশীর্বাদ, যে ভাষায় স্মৃতির নাম জোনাকি আর ধৃতির নাম ধুতি-পাঞ্জাবি, আচারের নাম কুল আর বিচারের নাম বারোয়ারি, কথার নাম কিসসা আর ব্যথার নাম বিরহ, ডাকের নাম ওলো আর পাকের নাম জিলিপি...!!! (শিশির রায়ের অনুপ্রেরণায়)সেই ভাষাকে ভালো না বেসে থাকা যায় .... সকলকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই ... ...
লিলির যুক্তির খেলাআগের অধ্যায়গুলোতে আমরা শিখেছিলাম ফাজি লজিকের মৌলিক ধারণা, ফাজি সেট আর ফাজি রিলেশন। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, কীভাবে অস্পষ্ট জিনিসগুলোকে গাণিতিক ভাষায় লেখা যায়। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি লজিকের নিয়ম — কীভাবে ফাজি AND, OR, NOT আরও জটিলভাবে কাজ করে, আর কীভাবে ফাজি যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল, "মা, আমরা ফাজি সেট আর ফাজি রিলেশন শিখেছি। কিন্তু ফাজি লজিক দিয়ে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়? যেমন — আমি আজ বাইরে যাব কিনা, সেটা ঠিক করতে ফাজি লজিক কীভাবে কাজ ... ...
লিলির বন্ধুত্ব আর খাবারের সম্পর্কআগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম ফাজি সেট। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, কীভাবে জিনিসগুলোর মাত্রা দিয়ে সেট বানানো যায়। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি রিলেশন। এটা দুটো ফাজি সেটের মধ্যে সম্পর্ক বোঝায়। যেমন — লিলির বন্ধুদের সাথে তাদের প্রিয় খাবারের সম্পর্ক কেমন? এটা বোঝার জন্যই ফাজি রিলেশন।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি আর মিমি নাস্তা করছিল। লিলি বলল, "মিমি, তুই কি জানিস, আমার বন্ধুদের মধ্যে কে কোন খাবার পছন্দ করে?"মিমি বলল, "মোটামুটি জানি। কিন্তু এটা কি সেট থিওরি দিয়ে বোঝানো যায়?"লিলি বলল, "বুলিয়ান সেট দিয়ে কঠিন, কারণ পছন্দের মাত্রা ... ...
লিলির বন্ধুত্বের মাত্রাআগের অধ্যায়ে আমরা শিখেছিলাম, ফাজি লজিক হলো অস্পষ্ট জিনিসের গণিত। সেখানে মান হয় ০ থেকে ১-এর মধ্যে — পুরোপুরি সত্যি থেকে পুরোপুরি মিথ্যার মাঝামাঝি সব কিছু। লিলি আর মিমি এখন বুঝতে পেরেছে, পৃথিবীটা শুধু সাদা-কালো না — অনেক ধূসরও আছে। আজকের অধ্যায়ে আমরা শিখব ফাজি সেট। এটা বুলিয়ান সেটের মতোই, কিন্তু এখানে জিনিসগুলো শুধু 'আছে' বা 'নেই' না — এদের থাকার মাত্রাও থাকে।গল্প শুরু করি সেখান থেকে, যেখানে আগের অধ্যায় শেষ হয়েছিল। সকালবেলার ঘটনাপরদিন সকালে লিলি তার ডায়েরি খুলে বসেছিল। সে তার বন্ধুদের নিয়ে একটা তালিকা বানাচ্ছিল। মিমি এসে জিজ্ঞেস করল, "কী করছিস?"লিলি বলল, "আমার বন্ধুদের তালিকা বানাচ্ছি। কিন্তু ... ...
লিলির গরম-ঠাণ্ডার গল্পআগের বার রাজা সেট থিওরি আর বুলিয়ান বীজগণিত শেখার পর খুব খুশি হয়েছিলেন। লিলি আর মিমি এখন ওস্তাদ হয়ে গেছে। তারা বুঝতে শিখেছে, সত্যি আর মিথ্যা, ০ আর ১ — এই দুইয়ের মধ্যে পুরো পৃথিবীকে ফেলা যায় না। কিন্তু রাজা শুনলেন, পৃথিবীতে আরও এক ধরনের লজিক আছে — ফাজি লজিক। যেখানে সত্য আর মিথ্যার মাঝখানেও অনেক কিছু আছে।রাজা আবার শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে বললেন, "মন্ত্রী মহোদয়, এবার আপনি ফাজি লজিকের ওপর একটা বই বানান। ১৫টা অধ্যায় হবে, গল্পের মতো সহজ হবে, আর লিলি আর মিমি যেন সেটা পড়ে বুঝতে পারে। প্রথম অধ্যায়টা যেন খুব মজা হয়, যেখানে তারা বুঝতে পারে ... ...
আজ আর দত্যি-দানো,রাজপুত্তুরের পক্ষীরাজ অথবা রাজকন্যের সোনার সাজের গল্প শোনাবো না। আজকের গপ্পো মানুষকে নিয়ে। যদিও সন্দেহ আছে, তারা সবাই কি মানুষ? একজন মানুষ, একজন অন্যকিছু? তা এইভাবেই তো চলছে, পৃথিবী নিজের গতিতে আবর্তন করছে এতকাল ধরে। আর পৃথিবীর মানুষগুলো? মহাকর্ষ-অভিকর্ষের ভারসাম্য ঠিক রক্ষা পেয়ে যায়, প্রকৃতি মুক্তমনে সমান সম্পদ বিলিয়ে দিতে চায় সবাইকে, শুধু মানুষের এতটুকু সময় হয় না এই ‘সমান’ ব্যাপারটা বোঝার জন্য। জীবনের রসদ জোটাতে এত দৌড়ঝাঁপ দরকার ; যে এসব বাজে ভাবনার সময়ই নেই! কারণ ‘সমান’ শব্দটা ভারসাম্যের মতো প্রাসঙ্গিক আর নৈমিত্তিক হয়ে উঠলে যে আর কেউ রাজা-রানীর গল্প শুনবে না! সবাই কেবল মানুষের গল্প পড়বে, ... ...
“বাবা, নিরবচ্ছিন্ন মানে কী ?” একটা বই হাতে করে পড়ার ঘর থেকে বাবার ঘরে এসে ডেভিড জিজ্ঞেস করল। সময়, সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা। রিচার্ড ঘন্টাখানেক আগে দপ্তর থেকে ফিরেছেন। একটা আরামকেদারায় আধশোয়া হয়ে ‘ফেলুদা সমগ্র’-র দ্বিতীয় খণ্ডটা পড়ছিলেন। ছেলের প্রশ্ন শুনে, হাতের বইটা কোলের ওপরে রেখে, ছেলের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “কই, দেখি কোথায় লেখা আছে ?” ডেভিড বইটা বাবার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “এই যে, এই পাতার পঞ্চম সারির প্রথম বাক্যে শব্দটা আছে।“ রিচার্ড চশমা খুলে ধুতির খুঁটে মুছে নিয়ে ছেলের হাত থেকে বইটা নিয়ে পাতাটার ওপরে চোখ বোলাতে শুরু করলেন। ‘নিরবচ্ছিন্ন’ শব্দটা তিনি এর আগে পড়েছেন কিনা, মনে করতে ... ...
এই গল্পটার আগের তিনটে পর্ব পড়ুন এখানে | পর্ব ১ , পর্ব ২ , পর্ব ৩ | দুই রাজার ভবিষ্যদ্বাণী গ্রিক বণিকের ছদ্মবেশে হাসমোনিয়ান সম্রাট জন হিরকানুস আর তার কয়েকজন মন্ত্রী এসে পৌঁছলেন নাবলুসে সামারিয়দের শহরে | তারা নিজেদের পরিচয় দিলেন যে তারা ক্রিট দ্বীপের মার্বেল নিয়ে ব্যবসা করেন | সম্রাট জন হিরকানুস তার নিজের জন্যে একটা গ্রীক নাম গ্রহণ করলেন, ডিমন | তবে প্রথমেই তারা ভবিষ্যৎবাণী জানতে মাউন্ট গেরিজিমের যিহোবার মন্দিরে গেলেননা কেননা তাহলে হয়তো সন্দেহ হলেও হতে পারে | প্রথমে পুরো এলাকাটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন তারা তারপর মেলামেশা শুরু করলেন এলাকার এলিটদের সঙ্গে | সেনাপতিরা, রাজা ও তার পরিবার, মন্ত্রীরা, অন্য পুরোহিতেরা সবার সঙ্গে মিশলেন ... ...