প্রায় চারশো বছর ধরে আপেলটা অশ্বমেধের ঘোড়ার মত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উপত্যকায় প্রবেশ করতেই প্রহরীরা ধরে 'নিয়া'গেল জঙ্গি বলে। - হঠাৎ ঘুম ভেঙে শুনি 'বিবর্তন' বাদ!!
মোঘলদের ব্যুরোক্রেসি ছিল একাধারে সামরিক ও প্রশাসনিক। সেটা নির্দিষ্ট সংখ্যার কোড দিয়ে চিহ্নিত হত। যেমন ধরা যাক শাহাজাদা খুররাম মির্জা বা শাহজাহানের কোড ছিল ১০০০০/১০০০০ তার লবটা হল শাহজাহানের মাস মাইনে টাকায় আর হরটা হল কত সেপাই বা সওয়ার তাঁর অধীনে অর্থাৎ দশ হাজারি মনসব। সেই মনসবের খরচ তোলার জন্য জাগির দেওয়া হতো যার মানে হল নির্দিষ্ট এলাকার রাজস্বের নগদানগদি অধিকার ... ...
দেখতে দেখতে বৈশাখ মাস এসে গেল। এই মাস টা আমাদের সবার কাছে ই বেশ প্রিয়। গ্রীষ্মেরদাবদাহ তো থাকবেই। কিন্তু আম, কাঁঠাল,লিচু সমস্ত জিভে জল আনা ফল গুলো তো এই সময়েই পাওয়া যায়।আমি কিন্তু বলছিলাম "রবীন্দ্র জয়ন্তী" র কথা। আমাদের ছোট্ট পাড়ায় আমরা খুব যত্ন আর নিষ্ঠার সাথে এই "রবীন্দ্র জয়ন্তী" পালন করতাম। কে কোন গান টা করবে ? বা কোন নাচ? কোন আবৃত্তি ? বা কোন নৃত্যনাট্য হবে কিনা। এই সব ব্যাপার এ স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হবার জন্যে ঘন ঘন মিটিং হতো। পরের দিকে আমরা একট নাটিকা ও করতাম। বাপ্পার মা অর্থাৎ অনীতা কাকিমা তাঁর দুপুরের ঘুম নষ্ট করে আমাদের রিহার্সেল দেওয়াতেন।অবশ্য দুষ্টু ছেলে ... ...
পবিত্র জাহ্নবীতীরে, গোধূলী বেলায় আলাপরত দানবীর কর্ণ এবং পাণ্ডব কুলমাতা কুন্তী - এ হয়তো কবির কল্পনা বা মহাভারতের লেখকের কল্পনা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে, সেই প্রেক্ষাপটে দানবীর কর্ণ ইতিমধ্যেই রিক্ত। প্রায় অপরাজেয় স্তর থেকে তিনি ধরিত্রীর কাছাকাছি নেমে এসেছেন বাসুদেবের ছলনায়। বীরশ্রেষ্ঠ কর্ণের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং মানসিকতাকে দুমড়ে, মুচড়ে এক সাধারণ স্তরে নামিয়ে আনার শেষ প্রচেষ্টাকেই কবির কল্পনায় "কর্ণ - কুন্তী সংবাদ" নাম ... ...
দারুন
Chokhye amar trishna
জীবনের থেকে বড় ক্যানভাস আর তো কিছু নেই। এর মধ্যেই আছে সমস্ত সত্য, তা সুখের হোক, দুঃখের হোক বা নির্মম। সেই পথ পেরোতে হবে। বছর পাঁচেক বয়সে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে মা বাবা দিদিদের সাথে চলে এসেছিলাম নিজেদের বাড়িতে। আসার সময় বেশ বুঝেছিলাম নিজেদের বাড়ি বিষয়টা বেশ স্পেশাল। এখন বুঝি সম্ভ্রমের। তবে সেই বয়সে এই স্থানান্তর মনে রাখার আরও কিছু কারণ ছিল। প্রথম কারণ কারেন্ট। নতুন বাড়িতে এসে কারেন্ট ছিল না বেশ কয়েকমাস। নতুন কানেকশন পেতে সেরকমই সময় লাগত তখন। তিনটে বাচ্চা নিয়ে মা বাবার অসহায় অবস্থা। দ্বিতীয় কারন পরিবেশ। আগে ছিলাম টাউনশিপ এর প্ল্যানড ... ...
দুছর আগে,আজকের দিনে আদিত্য দা চলে গেছেন। আমার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার মশাইবাপি 40 বছর( 1968-2008) প্রেসিডেন্সি তে স্ট্যাটিসটিক্স পড়িয়েছেন। তার ফলে 1994 এ যখন CU তে ঢুকলাম তখন দেখি হেবববি চাপ। সৌমেন্দু দা, মণীষা দি, আশিস দা,সুগত দা বাবার ছাত্র। শৌটির বাবু, শ্যামাপ্রসাদ বাবু বাবার মাস্টারমশাই। অধীর বাবু বাসুদেব বাবু বাবার সমসাময়িক। নৃপেশ দা, কল্যাণ দা, উত্তম দা আর তথাগত দা আশুতোষ থেকে এলেও বাপির বিশেষ পরিচিত। সেকেন্ড ইয়ারে পেলাম নিপাট ভালোমানুষ গৌরাঙ্গ দা কে। উনি নরেন্দ্রপুরের। বাংলা কথা হল ক্লাস কাটা বেশ চাপের হয়ে গেল। সবাই জানে BD র ছেলে। তাই আশুতোষের (91-94) সেই সুখের তিন বছর যা কিনা হোস্টেলে 29 ... ...
"হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন... অনু, পার্থ, কুন্তল; তাপস, অয়ন মক্ষিরাণী অর্পিতা, কৃষ্ণ জীবনজনগণের গাঁ* মারে বরাহ
সিপাহী বিদ্রোহকে একটা ডায়নামিক মডেলে ফেলা একান্ত দরকার। এ নিয়ে অনেক কাজও হয়েছে। লাস্ট মোঘলে তার কিছু কথা বলেছেন ডেলরিম্পল। ওরিয়েন্টাল ডেসপটিজম/ এশিয়াটিক মোড অফ প্রোডাকশন সম্পর্কেও অধ্যাপক হাবিব এক বক্তৃতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতামত রাখছেন দেখলাম। প্রাক পূুঁজিবাদী মোঘল অর্থনীতিতে মুদ্রাসঞ্চালনের প্রায়াধুনিক প্রাবল্য ভারতীয় সামন্ততন্ত্র সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে। এটা মার্কসবাদীদের এতাবৎ নজর পড়েনি। দেখলাম হাবিব সেটা মাথায় রেখেই বলছেন ... ...
পূবের আকাশে তখনও শুকতারাটা টিমটিম করে জ্বলছে। আজানের সুর ভেসে আসছে পশ্চিম থেকে। ঢং ঢং ঢং। ওই শোনা যায় ক্যাথলিক চার্চের ঘন্টাধ্বনি। শুরু হয়েছে প্রভাতী সংগীত। সূর্যের প্রথম কিরণ এসে কড়া নাড়ছে কার্নিশে কার্নিশে। একটু একটু করে জেগে উঠছে
১৮৬৩ সালে মার্কিন সরকার পেন্সিলভানিয়া অয়েলফিল্ড থেকে ওহাইও পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করে। ১৮৬৫ সালে জন ডি রকফেলার নামে একজন ব্যবসায়ী ক্লিভল্যান্ডের আশেপাশের সমস্ত অয়েল রিফাইনারীর মালিক বনে যান। ১৮৭০ সালে সবগুলো একত্রে করে তিনি নাম দেন স্ট্যান্ডার্ড অয়েল অফ ওহাইও। বাংলাদেশেও এই কোম্পানির তেলের ব্যবসা ছিল। নারায়ণগঞ্জের একটি জায়গা এখনো এস ও ( SO ) নামে পরিচিত। মাত্র ১০ বছর পরেই দেখা গেল রকফেলার একাই আমেরিকার ৯০% অয়েল প্রোডাকশন ... ...
উফ্ যেন সাঁড়াশি ছাড়া গরম জলের পাত্র হাতে ধরে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দিয়েছে কেউ! খোলা আকাশের নিচে, চামড়ায় ৪০ ডিগ্রির ছ্যাঁকা খেতে খেতে বিশ্বাস করুন ঠিক এই কথাটাই মনে হচ্ছিল সেদিন। ভরন্নি দুপুরবেলা। ছুটির দিন। বছর শেষের বিকিকিনির হাট বসেছে সর্বত্র। গড়িয়াহাট মার্কেটের পসরাগুলোতে একবার ঢুঁ মারার লোভ আর সামলাতে পারলাম না। উঠল বাই তো দরগা যায়। বেরিয়ে পড়লাম। সঙ্গে নিলাম ছয় বছরের ননীর পুতুল আর ছত্রিশ বছরের চওড়া কাঁধকে। দিনভর ঘুরুঘুরু আর দেদার কেনাকাটার স্বপ্নে ... ...
নবান্ন অর্থে নব অন্ন, অর্থাৎ নতুন অন্ন। নতুন অন্ন বলতে আদিম আমল ধরলে বলা যায়, দীর্ঘক্ষণ বা দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকার পরে কোনো খাদ্যের সংস্থান হওয়াটাকে নতুন অন্ন বলা যায়। আবার মধ্যযুগ বা আধুনিক যুগের কথা মানে, চাষবাস রপ্ত হওয়ার পরের কথা ধরলে বলা যায়, নতুন ফসল ওঠার পরে নতুন করে খাদ্যের সংস্থান হওয়া। মানুষের প্রাথমিক চাহিদাগুলো অর্থাৎ খাদ্য, বাসস্থান, জন্মের পর থেকে গড়ে ওঠা মৃত্যুভয় ইত্যাদির মধ্যে কিন্তু অদ্ভুতভাবে লক্ষ করা যায় ধর্মের অনুপস্থিতি ... ...
(অফিস সিরিজ - ৩) রিপ্পা রিপ্পা রি রাপা রিপ্পা রি../বত্রিশ ইঞ্চি চানাচুর বিজ্ঞাপনের নীচে গড়গড়িয়ে যাচ্ছিলো দুর্নীতির গাড়ি।আমি খুব সম্ভবত.. ছানি কাটা চশমার ভেতরে দুটো চোখ, জমা রেখে চলে যাবো, বেঁচে থাকবে এল সি ডি।ওতে ভরা থাকবে দুর্নীতির ক্ষতিয়ান, আটটার বিতর্ক আর সুগন্ধি সাবান। হাত ধুয়ে ফিরে এলে ফের নতুন করে আবর্জনা স্নান। ওঠো ওঠো টোটোওয়ালা ওঠো, সাধ্যসওয়াল নিয়ে মাতাবো ... ...
বিদ্যুৎ বেগে নেমে এসেছে গুনমান দশক আগেও তো দশের কাছাকাছি আজকে প্রায় শতকের অপমান সাইকোফ্যান্ট খেলছে কানামাছি। তিলোত্তমায় বদ্ধজীবিরা নিদ্রামগ্ন ফকিরের নেই নোবেল, চাই প্রতীচী প্রতিহিংসার আগুন হিংস্র নগ্ন অশীতিপর বৃদ্ধই হোক দধীচি!!
ধুনো পড়া কি? ধুনো শব্দের বাংলা অর্থ গন্ধদ্রব্যবিশেষ যা শালগাছের নির্যাস। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সমকালীন, জনপ্রিয় বনেদি বাড়ির পুজো জলেশ্বরীর পুজো প্রসঙ্গ এলেই ‘ধুনো পোড়া’-র কথা আসে যায়। এই পুজোর ঐতিহ্যে এক বিশেষ আকর্ষণ ‘ধুনো পোড়া’। ভক্তরা দেবীর কাছে মানত করেন ধুনো দেওয়ার, আর মানত পূরণ হলে দেবীকে ধুনো অর্পণ করেন। কৃষ্ণনগরের মালোপাড়ার মা জলেশ্বরীর পূজাতে এই বিশেষ রীতি ... ...
"Historical understanding is what I am after, not agreement, approval, or sympathy." — Eric Hobsbawm (1917-2012), Historian Extraordinaire ২০২২ সালের মে ৫ থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল ২২ পর্যন্ত আমার সময়রেখা ব্লগটি পরিদর্শন করেছেন ২২৯৯ জন। পোস্ট সংখ্যা ৭৪, ভিউ হয়েছে ৭০৪৬ বার। এসময় ব্লগের গ্রাহক হয়েছেন মোট ২৪ জন। ব্লগ পোস্টগুলো শুরু থেকেই দেশ অনুযায়ী ছিল। পোস্টগুলোকে পরবর্তীকালে আমি মহাদেশ অনুযায়ী ক্যাটেগরাইজ করেছি। অ্যান্টার্কটিকায় স্থায়ী মানববসতি নেই, ওটা বাদে ছয়টা। তো, দেখলাম যে, অধিকাংশই এশিয়া আর ইওরোপের। আফ্রিকা, ওশেনিয়া, দুই আমেরিকা সামান্যই গুরুত্ব পেয়েছে। এটা একটা খামতি। সামনে এটা পূরণ করার চেষ্টা করা হবে। সময়রেখার পেছনের মানুষটি তরুণ জৈবপ্রযুক্তিবিদ খোরোশকোভা লিলিয়া, যিনি ২০২০ সালের ৩ জুন মাত্র ... ...
তীব্র দহনে গা, হাত, পা যখন চিরবির করছে সূর্যের প্রখর তাপ মাথায় নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অটোয় উঠে বসলাম। কতক্ষনে তা ভরবে জানি না। ছ জনের গুনতি শেষ হলে তবে ড্রাইভার অটোর চাবি ঘোরাবে। একজন দুজন সবে এসেছে। সকলেরই গলদঘর্ম
মুহুর্তরাই আসল। এক একটা মুহুর্ত প্রজাপতির জাল দিয়ে ধরতে পারলেই রঙিন হয়ে উঠবে তারা। সেগুলোই জুড়ে জুড়ে একদিন স্মৃতিরাই হয়ে যাবে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম। এই ছিল সত্যি, ভেলকিবাজিতে তাই হয়ে গেল চরম মিথ্যা, ডাহা ছেলেখেলা। সত্যর চাদর গায়ে দিয়ে মিথ্যে কখন সব কিছুর ওপর থেকে বিশ্বাসকে শুষে নিয়ে চলে যাবে ধরা যাবে না। তাই একটা ঘটনা, সুন্দর ঘটনা ... ...