
সাদা-কালোর মধ্যে যে সম্পর্ক, ভালো মন্দের মধ্যেও অনুরূপ একই ধরনের সম্পর্ক বলা যেতে পারে। একে অপরকে ছাড়া সকলেই যেন গুরুত্বহীন। তবে ভালো ও মন্দকে পাশাপাশি রাখলে এমন কোনো মানুষ নেই যে সে ভালোকে পছন্দ করবে না।সকলেই ভালো থাকতে চাই। আর ভালো থাকার জন্যই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন রীতিনীতি, আচার অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ধরনের উৎসব অনুষ্ঠান। সেই সব উৎসব দেখা গেছে কখনও পরিবারকেন্দ্রিক আবার কখনও বা সমাজকেন্দ্রিক। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন উৎসব যেমন আবির্ভূত হয়েছে, আবার কিছু কিছু উৎসব কালের আবর্তে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায়। এমনকি কিছু উৎসব তার রূপের পরিবর্তন করেছে। যাইহোক না কেন উৎসব মানেই কতগুলো বৈশিষ্ট্য বহন করে থাকে, হতে পারে তা রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়। ... ...

এরপর কথা শুরু হতে গিয়ে দাগের ওপর দিয়ে আবার চলাচল করল। সুকুমারকে পাটা মারতে দেখা যায়। সব ঠিকঠাক থাকে। খালি পাটার আওয়াজ হয় ধুপ ধুপ ধুপ ধুপ থ্যাস। আর কোদালের আওয়াজ হয় খ্যারর খ্যারর। কর্নিকের আওয়াজ থ্যাস থ্যাস থুপুস। সব আওয়াজ থেমে গেলে নিঃশব্দ হয়। চারদিক নিঃশব্দ না হলেও একটুখানি জায়গা যেখানে কাজকাম হচ্ছিল নিঃশব্দ হয়ে পড়ল তারপর সেটা হয়ে উঠল এমন এক নরম সরম জায়গা যেখানে খুব শিগ্গির শক্তপোক্ত এক আস্তরণ গড়ে উঠবে। সে রোদ আসুক আর না আসুক। দিনের শেষে বা রাতের শুরু আস্তে আস্তে নরম সরম জায়গার সিমেন্ট জমাট হয়ে যাবে। সেখানে তখন দাগের সম্ভবনা তৈরি করতে তিনটে কুকুর ঘোরাফেরা করতে করতে নানান দাগ সত্যিই তৈরি করছিল। সে সব ঘুরে ঘুরে নরম জায়গার আসপাশে তৈরি করা দাগেরা। ... ...


লোকটি শাহানার দেবর। তাকে আমি প্রথম দেখি শাহানার বৌভাতে। খাওয়ার টেবিলে আমাকে খুব সমাদর করছিল। যে বিষয়টি অন্য সবার থেকে লোকটিকে আলাদা করে তোলে তা হচ্ছে তার অদ্ভুত হাসি। তার হাসিতে কিছু একটা ছিল। রহস্যময়। দেখে মনে হয় বলছে – আমি সব জানি। জানি না কেন, আমার খুব অস্বস্তি লেগেছিল। লোকটির নাম আমার মনে নেই। মাহমুদ, মাসুদ কিংবা মাহতাব হতে পারে। তবে কেউ একজন পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, লোকটি শাহানার দেবর। শাহানার শ্বশুরবাড়িতে ঐবারই আমার প্রথম এবং শেষ যাওয়া হতে পারতো, হয়নি। ... ...

শৈশবের যে সময়কালের বিচ্ছিন্ন কিছু স্মৃতি কেবল মানুষের মনে থাকে ঐ বয়স থেকে বাহ্রামের কাছে ‘পরী’ একটা আকর্ষণীয় বিষয়। বাহ্রামের মা বলতেন, বাহ্রাম যখন সবে হাত বাড়াতে শিখেছে তখনই সে কোন পরীর ছবি দেখলে খটখটিয়ে হেসে উঠে হাত বাড়াতো। সে কথা সত্যি হোক বা না হোক জ্ঞান হবার পর থেকে পরীর ব্যাপারে বাহ্রামের আকর্ষণ বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং দিনে দিনে তা একটু একটু করে বেড়েছে। ... ...


রহমান ৩০ বছর ধরে কামারহাটিতে থাকে। আজ থেকে ২৩ বছর আগে রহমানের আব্বা,আফজল, সুস্থ মানুষ,হজ করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায় নি। রহমানের মা সাকিরা আগে খুব কাঁদত। তারপর আল্লার কাছে দোয়া করত, জলজ্যান্ত লোকটাকে ফিরিয়ে দাও। তারপর শুধু চিৎকার করত। একদিন চুপ করে গেল। সারাদিন ধরে ঘরে বসে থাকত। কোনো সাড়াশব্দ নেই। তিনবার পানি খেতো, একবার ভাত। তার চোখে পানি নেই.. সব শুকিয়ে গেছে। রহমান বাসায় ফিরে এলে তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকত। লোকে বলে রহমানকে দেখতে তার হারিয়ে যাওয়া আব্বা আফজলের মতো। সেই রকম চোখ মুখ ভুরু। ... ...


চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েনসাং-এর বর্ণনায় এই গুহামালার উল্লেখ আছে। সপ্তম শতাব্দীর পর থেকেই বৌদ্ধধর্মের প্রাসঙ্গিকতা ক্ষীণ হয়ে আসে, ফলে অজন্তার গুরুত্ব হ্রাস পেতে থাকে। ইসলামিক অভ্যুত্থানের পর এই শিল্পসম্পদ সম্পূর্ণ ঢেকে যায় গভীর জঙ্গলে এবং অনাদৃত পড়ে থাকে প্রায় ১১০০ বছর, ফলে গুহার ভেতরকার অমূল্য চিত্রমালার ক্ষতিসাধন শুরু হয় তখন থেকেই। গুপ্তধনের মত এই সম্পদের পুনরাবিষ্কার ঘটেছিল হঠাৎই, ১৮১৯ সালে এক ইংরেজ সামরিক ক্যাপ্টেন জন স্মিথ বাঘ শিকারের নেশায় পৌঁছে গেছিলেন গভীর জঙ্গলে ঢাকা অজন্তা গুহামালার উত্তরদিকের এক পাহাড়ের মাথায়। ওয়াঘুর নদীর অন্য পারে স্মিথ লক্ষ্য করলেন—জঙ্গলের ফাঁক দিয়ে অস্পষ্ট এক গুহার আভাস। উৎসাহী স্মিথ স্থানীয় এক কিশোরকে সঙ্গী করে চললেন গুহামুখের অন্বেষণে। নদীর অপর পারের দুর্গম জঙ্গলের অনেকটা পার হয়ে আবিষ্কার করলেন সেই অনাদৃত সম্পদ। ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল এর খবর এবং ১৯৮৩-তে অজন্তা গুহামালা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা পেল। ... ...

আমি চমকে প্রথমবারের মত তার দিকে ভালো করে তাকাই। তার ছাপা শাড়ির আঁচল দিয়ে মাথায় ঘোমটা তোলা, ঘোমটায় কপাল ঢাকা আর দুই কানের পাশে আটকানো। ওর সঙ্গে আগে মুখোমুখি হইনি। টিয়াকে দেখে আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি ওরা মুসলমান। না এতে আমার আপত্তি কিছু নেই। আসলে এটা নতুন দেখলাম। আতি চাচা এত তো আমাদের বাড়িতে আসত। দাওয়ায় বসত, কিন্তু ঘরে বসতে দেখিনি। রান্নাঘরেও কোনদিন মুসলমান মেয়ে বৌকে কাজ করতে দেখিনি। আমি সহজ ভাবে টিয়ার মায়ের সঙ্গে আলাপ জমাই। ... ...

মুর্শিদাবাদ বাসীদের যেখানে বিশ্বাসঘাতক কিম্বা বিশ্বাসঘাতকের জেলার মানুষ হিসাবে গণ্য করা হয় সেখানে মীরজাফরের বংশধরদের কী অবস্থা হয়? তাঁরা কী তবে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখেন? পূর্ব পুরুষদের কর্মকাণ্ডের জন্য লজ্জা পান? নাকি তাঁদের পূর্ব পুরুষদের গায়ে লেগে থাকা 'বিশ্বাসঘাতক' তকমার বিরোধিতা করেন নিজস্ব যুক্তি দিয়ে? চলুন কেল্লায় বসবাসকারী নিজামত পরিবারের কিছু প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে এই বিষয়ে জানা যাক। ... ...

কত রকমের যে ঝাউ আর বাবলা পাওয়া যায় সে একেবারে দেখার মত, একটু খানি জায়গা পেলেই হল। বাবলা গাছ তো সর্বত্র আর এমন ভাবে তারা ডালপালা ছড়ায় যে কাফেলাগুলোর জন্য তারা ভারি যন্ত্রণার! কাঁটাগাছ ও গঁদের গাছগুলো অভিযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে ঝামেলার। কাঁটাগাছের প্রজাতিগুলো সমস্ত রকমের মারাত্মক কাঁটায় ভরা! আমার দোভাষী সেলিম একদিন আমাশায় কাতর হয়ে ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিল, তার ঘাড়ের একেবারে শিরার খুব কাছে বাবলার কাঁটায় এমন বিচ্ছিরি ভাবে কেটে যায় যে সেই দাগ তার মৃত্যুদিন অবধি রয়ে যাবে। ... ...

হঠাৎ শুনলাম আমাকে কেউ ডাকছে – তার গলার আওয়াজ খুবই মিষ্টি৷ “কে কথা বলছেরে বাবা? আমি ভয পেয়ে ওই ঘর থেকে দৌড়ে চলে গেলাম৷ কেউ যেন আমাকে তাও ডাকছিল মিষ্টি আওয়াজে৷ “ভয় পেও না আমি তোমায় সাহায্য করতে এসেছি...। ... ...

ঝুমুর এক হাত দিয়ে ডালটা ধরে, নিজেকে টেনে তুলল গাছের উপরে। ওর মনে পড়ে গেল, যে ঠিক এক মাস আগে কি হয়েছিল ঠিক এই জায়গাটাতে, এই গাছটার নিচে। ... ...

মেঘনার মন ভালো নেই। ওর মনে হচ্ছে দুটো কাছের মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে মেঘনা দেখল একটা চড়ুইপাখি... ... ...

মণিকা চোখ খুলল। কোন এক কারণে তার ঘুম ভেঙে গেছে, ঘড়িতে সময় দেখলো সকাল সাড়ে সাতটা। মণিকা জানে তার একবার ঘুম ভেঙে গেলে সে ঘুম আর আসবে না। ... ...
একদিন সকালে তিতলি ঘুম থেকে উঠল এক অজানা দুনিয়াতে। ... ...
একদিন অভীক, সময়, বিমান আর নবীন গ্রামের মাঠে ক্রিকেট খেলছিল। খেলতে খেলতে বলটা অভীক এত জোরে মারল যে সেটা মাঠের পাশের জঙ্গলে গিয়ে পড়ল। ... ...
আমার গল্পের ছোট্টো ছেলেটির নাম গোলগোল। গতবছর শীতকালে সে তার বাবা মায়ের সাথে কেরালা বেড়াতে গিয়েছিল। ... ...
এক রবিবার সকালবেলা আমি আমার বাড়িতে বসে দাবা খেলছিলাম। আমার বাবা ছিলেন আমার খেলার সঙ্গী। ... ...