
“বিট্টু হাসছে। বিট্টু কতদিন পরে হাসছে, তুই জানিস না রে, ছবি...”! সদাশান্ত শুভময়ীদেবীরও কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে এল। ... ...



এবার আরেকজনের গল্প বলি। জিজ্ঞাস করলাম সব ওইপাশ থেকেই আসে, এদিক থেকে কী যায়? ও এক আশ্চর্য পণ্যের কথা বলল। কমন যেগুলা তা তো জানিই, আমি শুনে আশ্চর্য হয়েছিলাম যে এখান থেকে ফগ বডিস্প্রে যায়! ধমক দিয়ে বলেছিলাম, আরে ধুর, ফগ তো ইন্ডিয়ান জিনিস, ওইটা এই পাস থেকে যাবে কেন? ও হাসতে ছিল। আমি ওর হাসি দেখেই বুঝে ফেললাম কাহিনী কী! আমাদের মহান চকের মাল! চকে তৈরি হয় না এমন প্রসাধনী এই দুনিয়ায় সম্ভবত নাই। সেই দুই নাম্বার জিনিস দুই নাম্বার পথে ভারতে যাচ্ছে! চকের এই স্প্রেয়ের চাহিদা না কি খুব বেশি ভারতে, মানে দুই নাম্বার ব্যবসায়ীদের কাছে। ... ...

“হ্যালো, বিষ্ণুদা। আলপনা বলছি। আপনার পাঠানো গল্পটা, পড়লাম। থ্যাংকুউ, দারুণ মিষ্টি একটা গল্প। খুব সুন্দর মেসেজও রয়েছে একটা” ... ...


কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ছবি অস্ফুট স্বরে বলল, “ঠিক বলেছ, মিঠুদিদি, শেষমেষ সকলকেই বোধহয়, কোন একটা সময়, নিজের বোঝা নিজেকেই বইতে হয়”। ... ...

পূর্ব জার্মানির নেতা মদরো বললেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চুরমার হয়ে যাওয়া দেশকে গত চল্লিশ বছর যাবত অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা যেখানে নিয়ে এসেছি সেখানে মানুষের দারিদ্র্য নেই। মানি আমাদের রাজনীতি ছিল অন্য, তেমনই বিক্রির বাজার, মুদ্রানীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন সবই আলাদা। জানি পশ্চিমি বাজারি লড়তে গেলে যে পরিমাণ অর্থ নিবেশ, ইনভেস্টমেন্ট প্রয়োজন সেটা আমাদের হাতে নেই। আমরা চেষ্টা করেছি জীবনযাত্রার মানকে উন্নত রাখতে, বিদেশি দেনার বোঝা নামিয়ে আনতে। ফলে ঘাটতি পড়েছে বিনিয়োগে । পশ্চিম জার্মানির তুলনায় আমরা বাজারি দক্ষতায় পিছিয়ে আছি, পথ পরিবর্তনের কাল এখন, অনেক কিছু শেখার আছে তবে আমাদের বিশ্বাস যদি আর্থিক সহায়তা এবং টেকনিকাল সহযোগিতা পাই, ধীরে হলেও আমরা সঠিক নিশানায় পৌঁছুতে পারি -আপাতত আমাদের এই দুই দেশ চলুক সমান্তরাল রেল লাইনের মতন, থাকুক আমাদের মুদ্রা মার্ক, অবশ্যই বদলে যাবে তার ম্যানেজমেন্ট, ফিস্কাল পলিসি। আমাদের মিলিত উদ্যোগে এই দুটি লাইন একদিন আর সমান্তরাল থাকবে না, মিলে মিশে এক হবে। পশ্চিম জার্মানির নেতা হেলমুট কোল বললেন, পাশাপাশি দুটো জার্মানি নয়, আমি চাই একটাই লাইন, একই শৃঙ্খলা, দুটি দেশ নয়,চাই একটি দেশ – এক জাতি এক প্রাণ একটা ! পুনর্মিলন, রি ইউনিফিকেশান। একই স্টাইলের ডেমোক্রেসি, বাজারি অর্থনীতি, ব্যাঙ্কিং আর সবার আগে, একই মুদ্রা, কারেন্সি ইউনিয়ন ! ... ...

প্রতি বছর ১ জুলাই গুলশান দুইয়ে হোলি আর্টিজেন শহীদের স্মরণে তৈরি একটা ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হত। নিহত পুলিশ সদ্যসদ্যের জন্যই এইটা বানানো হইছিল। বিভিন্ন দূতাবাস যাদের নাগরিক মারা গেছে এই ঘটনায় তাদের লোকজন ফুল দিয়ে স্মরণ করত হোলি আর্টিজেন বেকারির ওই বাড়িটায়। মহান ৫ আগস্টের পরে হিযবুত তাহরীরের লোকজন ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এই ভাস্কর্য। দিয়ে খেলাফতের ঘোষণা সম্বেলিত পোস্টার লাগিয়ে দেয়। কোন দূতাবাস আর এবার সেই ৫ নাম্বার বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে জান নাই। ইতালির দূতাবাসের একটা ছবি দেখা গেছে, তাঁরা দূতাবাসের ভিতরেই স্মরণ করেছে তাঁদের নিহত নাগরিকদের। কতখানি নতজানু মৌলবাদের প্রতি তার আরেকটা উদাহরণ না দিলেই না। চিন্ময় দাস প্রভুকে দেশদ্রোহী মামলায় আটক করা হইছে। কী করেছেন তিনি? কোথায় জানি ইস্কনের পতাকা জাতীয় পতাকার ওপরে লাগানো ছিল! এই হাস্যকর কারণে তাঁকে দিনের পর পর বন্দি করে রাখা হচ্ছে। জামিন আবেদনে আইনজীবী দেওয়া হয় নাই প্রথম দিকে। চট্টগ্রামে এই নিয়ে গণ্ডগোলে একজন আইনজীবী মারা গেছে। এখন সেই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে চিন্ময় দাসকে! তিনি পুলিশ হেফাজতে থেকে ষড়যন্ত্র করে মেরে ফেলেছেন একজন আইনজীবীকে! আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রধান আসামি চিন্ময় দাস! এই হল নোবেল জয়ী সরকার প্রধানের কাজকাম! ... ...



কাল বাদে পরশু গণদেবতা আবার নতুন করে পথে নামবেন।উল্টোরথের দিন তিনি আবার মাসির বাড়ি থেকে ফিরে যাবেন তাঁর চেনা আস্তানায়। রথের মেলার সঙ্গে আমাদের ছেলেবেলার অগণিত স্মৃতি বিজড়িত। এই সময়ের বুকে দাঁড়িয়ে সেই সব ফেলে আসা সময়ের স্মৃতিচারণ এই নিবন্ধে। ... ...

আজব সে এক দেশ, আর গজব তাদের ব্যবসার রকম সকম। ... ...

অভিনেতাদেরকে চিনি না। কিন্তু সবাই অসাধারণ অভিনয় করেছে। বিশেষ করে প্রধান যে কয়টা চরিত্র ছিল তারা প্রত্যেকেই দুর্দান্ত ছিল। সিনেমাটোগ্রাফিতে কে কাজ করছে জানি না কিন্তু মুগ্ধ করে রেখেছিল প্রতিটা পর্বে। সব রেখে আমার আবার গল্পের গল্পই করতে ইচ্ছা করছে শুধু। বর্তমান পুঁজিবাদ সমাজ ব্যবস্থাকে এমন নগ্ন করে আর কেউ দেখিয়েছে কি না জানি না আমি। যে গেম গুলো জীবন মরণ হয়ে উঠে সেই গেম গুলোরও প্রতিটা জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। জীবন একেকজনের জন্যে একেক রকম, জীবনে শত্রুর সাথে জীবনের জন্য এক হতে হচ্ছে, একটু ভুল করলেই জীবন নিয়ে নিচ্ছে। এদিক সেদিক করার কোন সুযোগ নাই। ... ...

হলধর পোল্লের ভালোমানুষীর জন্যে মালতীর যে গর্ব ছিল মনের মাঝখানে, সেই ভিত আজ নড়ে উঠল। আসলে হলধর পোল্লে কি আহাম্মক নয়? ... ...

নিউ ইয়র্ক শহরে তুলকালাম কাণ্ড। প্রাক্তন স্টেট গভর্নর অ্যানড্রু কুয়োমোকে (Cuomo ) হারিয়ে আগামী নভেম্বর মাসে নিউ ইয়র্ক মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন পেয়েছেন চৌতিরিশ বছর বয়েসের গুজরাতি মুসলিম যুবক জোহরান মামদানি। তাঁর পিতা হার্ভার্ডের পি এইচ ডি, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মাহমুদ মামদানি, মাতা কুড়ি বছর বয়েসে রাউরকেলা থেকে হার্ভার্ডে স্কলারশিপ বিজেতা, স্বনামধন্যা চিত্র নির্মাতা মীরা নাইয়ার ( মিসিসিপি মাসালা, দি নেমসেক, মনসুন ওয়েডিং এবং অন্যান্য ) আমার কৌতূহল জাগলো অন্য কারণে। সম্পূর্ণ অনাবশ্যক তথ্য সংগ্রহ, তার তত্ত্বাবধান, ফ্যাক্ট চেকিং এবং সম্প্রচারে আমার নিষ্ঠা প্রগাঢ়। সিধু জ্যাঠাকে গুরু মেনে এসেছি; জানি মাঝে সাঝে আপাত অনাবশ্যক তথ্যও কাজে লেগে যায়। শিকা অকারণে ছেঁড়ে না। এবার আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হল এই যুবকের নামটির ওপরে - জোহরান কোয়ামে মামদানি। ফারসি জোহর শব্দের অর্থ আলো, জোহরান মানে উজ্জ্বল। কিন্তু কোয়ামে শব্দটি ইউরোপীয় বা ভারতীয় নয়, এটির মূল আকান, ঘানাইয়ান। জানা গেলো জোহরানের পিতা স্বাধীন ঘানার ( এবং আফ্রিকার) প্রথম প্রেসিডেন্ট কোয়ামে এনক্রুমার নামের স্মরণে পুত্রের মাঝের নামটি দিয়েছিলেন। ... ...


ভাঙন, ভাঙন সব খায়। ঘরবাড়ি, গাছপালা, স্কুল কলেজ, মন্দির মসজিদ, শ্মশানঘাট কবরস্থান, মানুষজন, গরুছাগল, রাস্তাঘাট, সংসার। নদী হল আগুনের মত, কিছুই রাখে না। ভুল হল, আগুন ছাই ফেলে রাখে, নদী আরও নির্মম -- সে রাখে শুধু স্মৃতি। কত স্মৃতি। তিন চার জন বন্ধুর সাথে আলপথে ছুটে যাচ্ছে যে বাচ্চাটা, সে দাদু নয়, কারো নাতি। ইস্কুল থেকে ফেরার পথে গাছ থেকে ঢিল ছুঁড়ে কুল পাড়ছে... নদীর ধারে ডাঙ্গুলি খেলছে, ক্লাস টেনে ফেল করে পড়াশোনা ছেড়ে দিল, বটতলায় পুঁটি (ভাল নাম পার্বতী)-কে দেখে শরীরে একটা কাঁপুনি তৈরি হল, বাবার কথায় একটু একটু করে চাষের কাজ শিখতে শুরু করল, জমিজমা ছিল কিছু, একদিন পুঁটি অন্য কারও বৌ হয়ে গেল, তারপর একদিন... ... ...


শ্যামাপ্রসাদ বাংলার রাজনীতিতে নেহাৎই খুচরো একটা বিষয় ছিলেন, প্রভাব কখনোই তেমন বিস্তার করতে পারেননি। ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, ১৯৪০ সালে যোগ দিলেন হিন্দু মহাসভায়। ঢুকেই নেতা। নেতা হয়েই কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনে গেলেন সুভাষের কাছে নির্বাচনী সমঝোতা করতে, এবং ঘাড়ধাক্কা খেয়ে ফিরলেন। সুভাষ বলেছিলেন, এইসব করতে গেলে, দরকারে গায়ের জোরে আটকাবেন। প্রাথমিক সাফল্য বলতে এই। ... ...