
ঘড়ি দেখে অনিকেত। ফালতু ফৈজতে আধ ঘন্টা নষ্ট হয়ে গেলো। সটান উঠে গেলেই হয়। কিন্তু কৌতুহল হচ্ছে। কী এতো শুটিং চলে আজকাল। কারা করে? কেই-বা এসব করাচ্ছে?? ... ...

পূর্ব ইউরোপে হাইওয়ে ছিল , হাইওয়ে রবারি ছিল না নরওয়ের প্রত্যন্ত শহর কিরকেনেস থেকে রাশিয়ান সীমান্ত পার হয়ে চমৎকার রাস্তায় তিনশো কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে মুরমান্সক পৌঁছেছি পথে কোন কর দিতে হয় নি। ১৯৯২ সালে বার্লিন থেকে প্রথম পোল্যান্ড প্রবেশের পরও নয়। পশ্চিম ইউরোপে মোটরওয়ে ব্যবহারের জন্য টোল ছিল তবে অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু এবার খেলা বদলে গেল। বার্লিন দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ার কয়েক বছরের মধ্যে পূর্ব ইউরোপের পথে পথে যে দিনে ডাকাতি শুরু হলো তার গুরু অস্ট্রিয়া (এবং খানিকটা সুইজারল্যান্ড )। তারাই প্রথম ভিনিয়েত (Vignette) নামক একটি খুড়োর কল আবিষ্কার করে। আপনি যদি হাবসবুরগ রাজাদের পুণ্য ভূমিতে স্বতশ্চলশকট যোগে পরিক্রমা করতে চান প্রথমেই সম্রাটের দরবারে অগ্রিম কর প্রদান করবেন। যেই আপনি অস্ট্রিয়া ঢুকলেন, পয়লা পেট্রোল স্টেশনে ভিনিয়েত নামক স্টিকারটি কিনে আপনার উইন্ডশিল্ডে লাগিয়ে প্রমাণ করবেন আপনার গাড়ি ইললিগাল ইমিগ্র্যানট নয় ! ফ্রান্স স্পেন পর্তুগাল ইতালির রাজপথ ব্যবহার করলে আমরা যে অর্থ দিয়েছি সেটা আপন ইচ্ছায় ; তাড়াতাড়ি কোথাও পৌঁছুতে চাই, অতএব জেনেশুনে টোল করেছি দান। আমরা সকলেই জানি অটোরুট বা অটোস্ত্রাদায় না উঠেও প্যারিস থেকে মার্সেই অথবা রোম থেকে নেপলস যাওয়া যায়। দের আয়ে পর দুরুস্ত আয়ে এই বাক্যটি স্মরণ করে একবার ফরাসি অটো রুটকে দূরে রেখে গোরু ছাগল, থলি হাতে বাজার থেকে ফেরা মহিলাদের পাশ কাটিয়ে ধীর মন্থর গতিতে উত্তর পশ্চিম ফ্রান্সের লে তুকে হতে রোদিকাকে চারশ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণের নানত অবধি পৌঁছে দিয়েছি ছ ঘণ্টায়; ফরাসি সরকারের খাজানায় একটি ফ্রাঁ জমা না দিয়ে। ... ...

এক বিস্মৃত চরিত্র হয়ে থেকে গেছেন বিভাগের প্রথম যুগের অন্যতম গবেষক ও অধ্যাপক বিধুভূষণ রায়। তাঁকে এখন কেউ মনে রাখেনি। পাদপ্রদীপের আলো তাঁর ওপরে পড়েনি, পদার্থবিদ্যা বিভাগের ইতিহাসে তিনি বরাবরই পঞ্চপাণ্ডবের ছায়ায় ঢাকা। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন ক্লাসঘরে বিধুভূষণের একখানা পোর্ট্রেট টাঙানো থাকতো, এখন সেই চিহ্নটুকুও নেই, হয়তো কোথাও ধুলোমাখা অবস্থায় অনাদৃতভাবে সেই তৈলচিত্রটি পড়ে আছে। উইকিপিডিয়ায় বিধুভূষণের সম্বন্ধে যে পাতাটি আছে, তাতে অবশ্য মাঝবয়সী মানুষটির সেই তৈলচিত্রের একটি ছবি পাওয়া যায়। বিস্মৃতির অন্ধকার থেকে সম্প্রতি জার্মানির ওল্ডেনবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজিন্দার সিং তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন... কিন্তু এই অন্ধকার একেবারেই বিধুভূষণের প্রাপ্য নয়। তাঁর গবেষণাজীবন যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল, এবং এ দেশে এক্স-রশ্মি বর্ণালীবীক্ষণের চর্চা তাঁর হাতেই শুরু হয়েছিল। ১৯৪৪ সালে মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণ হয়, সেই সময়ে তিনি পদার্থবিদ্যা বিভাগের খয়রা অধ্যাপক ছিলেন, এবং এক্স-রশ্মি বর্ণালীবীক্ষণ বিষয়ে ভারতের শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ... ...

ইনফোসিস কার্যত ঘাড়-ধাক্কা দিয়ে কর্মচারিদের বার করে দিল এই কদিন আগে। ট্রাম্পের সরকার এসেই কিছু লাখ সরকারি কর্মচারিকে পদত্যাগ করতে বলেছিল। কদিন আগে আবাপ কয়েকশো কর্মীকে চুপচাপ ছাঁটাই করে দিল। এইগুলো এখন চলবে। এবং আমরা কেউই এর আওতার বাইরে না। নব্বইয়ের দশকের উদারীকরণ যে নতুন কর্মসংস্থান, নতুন দিগন্তের আশা দেখিয়েছিল, সেসব এখন মৃত, উদারীকরণের কঙ্কাল বেরিয়ে গেছে। এইটা একটা নতুন ব্যাপার। আজ পর্যন্ত, নতুন প্রযুক্তি পৃথিবীতে আসেনি তা নয়, চাকা আবিষ্কার থেকে তথ্যপ্রযুক্তি পর্যন্ত, এসেই চলেছে। প্রতিটাতেই প্রচুর লোকের কাজ গেছে। চাকা আবিষ্কারের সময়ও আন্দাজ করতে পারি, ঘাড়ে করে মোট বইতেন যাঁরা, তাঁদের কাজ গিয়েছিল, আর তথ্যপ্রযুক্তির অটোমেশনে, ধরুন গাড়ি-কোম্পানির লোকেদের কাজ গিয়েছিল। কিন্তু এর প্রতিটাতেই নতুন কাজের দিগন্তও খুলে গিয়েছিল। চাকা আবিষ্কারের পর প্রয়োজন হয়েছিল প্রচুর গাড়োয়ান, প্রচুর পশুপালকের। তথ্যপ্রযুক্তিতে অজস্র মানুষ কাজ পেয়েছেন। চাকা পুঁজিবাদের বহু আগে আবিষ্কার হয়েছে, কিন্তু আধুনিক পুঁজিবাদে এই জিনিসটা অভাবনীয় গতি পেয়েছিল। বস্তুত বলাই হত, পুঁজিবাদ টিকে আছে উদ্ভাবনের উপর। একটা করে সংকট আসবে, আর নতুন উদ্ভাবন খুলে দেবে সংকটমুক্তির উপায়। কিন্তু পুঁজিবাদের জন্যও আজকের দিনটা নতুন। এমন একটা প্রযুক্তি আসতে চলেছে, খানিকটা এসেও গেছে, হ্যাঁ, আমি এআই এর কথাই বলছি, যে উদ্ভাবন নতুন কর্মসংস্থানের রাস্তা দেখাবে বলে কেউই বলতে পারছেননা, কর্মসংকোচনটা তো চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে, প্রিন্ট মিডিয়া ধীরে-সুস্থে উঠে যেতে চলেছে, টিভি হয়তো আরও কিছুদিন টিকবে, সিনেমার কী হাল হবে কেউ জানেনা। ওটিটি প্লাটফর্মগুলো সংখ্যায় মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেছে। সরকারি চাকরি যাঁরা করেন, একেবারেই নিরাপদ থাকবেন না। সরকারের আয় কমলে বাজে খরচ কমানোর দিকে মন দিতেই হবে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের লোকেদের আপাতত তেমন বিপদ নেই, এমনিতেই তাঁরা বেশ খারাপ অবস্থায় আছেন, কিন্তু খদ্দেরদের কাজ না থাকলে তাঁরাই বা বেচবেন কাদের। ... ...

বাবা-মায়ের কথা কাটাকাটি শুনতে অভ্যস্ত নয় রঙিন, মাকে একতরফা বকে যেতেই সাধারণতঃ দেখেছে সে। একটা পড়ার বই হাতে ভয়ে ভয়ে নিজের ঘরের দরজায় কাছে এসে দাঁড়ায় সে। শোনার চেষ্টা করে কী কথা হচ্ছে, তবে হাতের পেনসিলটা পড়ে গিয়ে একটু শব্দ হয়। তাড়াতাড়ি পেনসিলটা তুলতেই সে দেখে মা দাঁড়িয়ে আছে ওই ঘরের দরজায়। “ভেতরে গিয়ে পড়ো, আমি একটু পরে আসছি।” মায়ের কথায় রঙিন ফিরে যায় পড়ার টেবিলে, তবে পড়ায় মন দিতে পারে না। ... ...



এবছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার মহিলা সাহিত্যিক হান কাং। তার ‘হিউমান অ্যাক্ট’ নামে উপন্যাসে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার গাংজু (Gwangju) প্রদেশে ১৯৮০ সালের মে মাসে চলা গণবিক্ষোভ এবং ছাত্রবিক্ষোভ দমনে সামরিক শাসকদের দ্বারা ঘটানো ছাত্রদের ওপর গণহত্যা চিত্রিত করেছেন। ... ...



অবিশ্বাস্য রকমের অরাজকতা চলছে দেশে। বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গেছে কিন্তু বিচারের কোন খবর নাই। ডাকাতি হচ্ছে নিয়ম করে। এই লেখা যখন লিখছি তখন ফেসবুকে একটা খবর দেখলাম ঢাকার ধানমন্ডিতে ডাকাতি চলছে! মসজিদ থেকে মাইক দিয়ে বলা হচ্ছে কেউ যেন ঘর থেকে বের না হয়, ডাকাতরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করছে! প্রতি রিফ্রেশে একটা না একটা দুর্ঘটনার খবর দেখা যায়! ধানমন্ডির খবর দেখে লিখতে লিখতে দেখে ঠাকুরগাঁও সদরে অশেষ সরকার নামে একজনের বাড়িতে আগুন দিয়েছে! গতকাল ঈশ্বর ডাক্তার নামের একজনের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে! এখন দেখলাম রাত তিনটায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে! কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ দেখলাম লিখেছে এত রাতে যে সংবাদিকেরা এই সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে যাবেন তারা যেন মোবাইল মানিব্যাগ ঘড়ি সাবধানে রাখেন! এত রাইতে ঢাকা শহরে যা খুশি তাই হতে পারে! প্রসঙ্গত বলে রাখি, অনেকেই এই উপদেষ্টার পদত্যাগ চাচ্ছিল দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতির জন্য। হয়ত সেই ব্যাপারেই কিছু বলবেন। তবে আমার কাছে অবাক লাগছে মানুষ এইটা এই উপদেষ্টার দায় দেখছে দেখে! এর দায় সরকারকে দিচ্ছে না! এইটা যে এই উপদেষ্টার সমস্যা না, সরকারটাই যে একটা অথর্ব তা কেন বুঝছে না মানুষ? সরকারকে কেন আমি দায়ী বলছি? বলছি কারণ ঢাকা সহ সারাদেশে হুট করেই আইন শৃঙ্খলার অবনতি এমনে এমনেই হয়নি। যতগুলো শীর্ষ সন্ত্রাসিকে সরকার মুক্তি দিয়েছে তার প্রভাব পড়বে না? সুব্রত বাইন, পিচ্চি হান্নান সহ আরও যতগুলো টপ টেরর জেলে বন্দি ছিল তাদের মুক্তি দিয়ে এখন কইতেছেন এমন কেন হচ্ছে! যত জঙ্গি মুক্তি পেয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী মুক্তি পেয়েছে তার দায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার? কে তাদের মুক্তি দিয়েছে? আইন মন্ত্রণালয়ের দায় নাই? ইউনুস সাহেবের দায় নাই? সেনাবাহিনী এখনও আগের মতই রাস্তায় আছে, তারপরেও কেন এমন হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে? ... ...

আমাদের মেয়েরা সারি দিয়ে দাঁড়িয়েছে একে একে সেই জাল বেয়ে আকাশের কাছে পাড়ি জমানোর জন্য। তাদের কারোর চোখে অভিযাত্রীর আহ্লাদ তো কারোর করুণ দৃষ্টিতে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির আকুতি। দেখলাম পেল্লাই গাছেদের শরীর আর শক্ত শক্ত খুঁটির সঙ্গে বাঁধা ঐ জাল, দুপাশে দক্ষ ট্রেনারদের বজ্র মুঠি আর তীক্ষ্ণ নজরের আওতায় রয়েছে। পান থেকে চুন খসার জোটি নেই। দর্শক আমরা চারজন - বড় মাতাজী, ছোট মাতাজী, সঙ্গে বৈশাখী আর আমি দুই দিদিজী। সেদিন মাঠা পাহাড়ের আকাশ বড় নীল, পাহাড় বড় সবুজ, কাঁচা হলুদ সর্ষে ফুলের মত রোদ বুঝি সবার কানেই বাঁশি বাজাচ্ছিল। একটা মিঠেকড়া ঠান্ডা বাতাস সোয়েটার চাদরের ভিতর দিয়ে খালি লুকোচুরি খেলছিল। বাতাসে বন তুলসীর ঝাঁজ - এমনি দিনে মানুষের মুখোশ খুলে মুখ বেরিয়ে পড়ে। পাকা চুলের পর্দা সরিয়ে মুখ বাড়ায় কিশোরী মন। ২০২৫ কে সরিয়ে রেখে এতদিন বাদে বেরিয়ে পড়ে ১৯৮৫। কালোদি, লক্ষ্মীদি, বড় মিনুদি, প্রভাতীদি, মানসীদি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুপাশে পুঁচু পুঁচু বেণী বেঁধে তাতে অপটু হাতে লাল ফিতে বাঁধা শারদা মেয়েদের লাইনে দাঁড়ায় জাল বাইবে বলে। ... ...

এ এক দূর অতীতের অন্যরকম ভ্রমণ স্মৃতি। যে সব স্মৃতি মনের বাক্সে ভেলভেটে জড়িয়ে জমিয়ে রাখার মতো, সুমনের কাছে এটা সেরকমই … ... ...

ভাষা যদি নেহাত অর্থহীন না হয়, তবে শব্দের কিছু মানে থাকা আবশ্যিক, আর একটি শব্দ সাধারণভাবে যে কেবল অন্য কতগুলি শব্দকে বোঝায়, তা নয় – শব্দ এমন কিছুকে নির্দেশ করে, যার অস্তিত্ব আছে—সে আমরা তা নিয়ে কথা বলি বা না বলি। ধরো, তুমি জর্জ ওয়াশিংটনকে নিয়ে কথা বলছো। যদি ওই নামে কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র না থেকে থাকে, তবে নামটি (আপাতদৃষ্টিতে) অর্থহীন আর ওই নাম ব্যবহার করা বাক্যগুলি অবান্তর। পার্মেনিদিস জোর দিয়ে বলছেন – শুধু যে জর্জ ওয়াশিংটন অতীতে ছিলেন তা-ই নয়, কোনো না কোনোভাবে তিনি এখনো নিশ্চয়ই আছেন, নইলে তাঁর নাম এখনো বহুল ব্যবহৃত থাকতো না। এ যুক্তি স্পষ্টতই ভুল, কিন্তু একে এড়িয়ে যাবো কী করে? ... ...

বাংলা ভাষা এখন ভেসে চলেছে বেনো জলে – তাকে ফিরিয়ে আনবে ভবিষ্যতের কোন বিদ্যাসাগর-বঙ্কিম-শরৎ-রবিঠাকুর – কে জানে? ... ...


কিছুদিন আগে নেপালের প্রকৃতি লামসাল, যে ওড়িশার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল, হোস্টেলে মারা যায়। সমস্ত জায়গার মত এখানেও প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের পক্ষ থেকে মৃত্যুকে প্রেমঘটিত আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রকৃতির সহপড়ুয়ারা বেঁকে বসে ও দাবি করে প্রেমঘটিত নয়, নেপালি হবার জন্য প্রকৃতির প্রাক্তন প্রেমিক [ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র] তার ওপর অত্যাচার করত। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার ও তদন্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপিকা তাদের সঙ্গে সরাসরি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। নিরাপত্তারক্ষীরা পড়ুয়াদের মোমবাতি মিছিল করতে বাধা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় অবিলম্বে সমস্ত নেপালি পড়ুয়াদের হোস্টেল খালি করার ফরমান জারি করে ও তাদের অনেককে অল্প কয়েক ঘন্টার নোটিশে বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন ইত্যাদি জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়েরই বাসে করে ছেড়ে দিয়ে আসা হয়। ... ...

সময়ের সদ্ব্যবহার ও টাইম ব্যাংক। ... ...

“এদিকে এস,” বিরক্তি লোকানোর কোনও চেষ্টাই করে না এজিএম। সমসের টেবিলের সামনে এগিয়ে এলে তার দিকে একরকম ছুঁড়েই দেয় ফ্ল্যাট ফাইলটা। “ডু ইউ অ্যাপ্লাই ইয়োর মাইন্ড হোয়াইল ওয়ার্কিং, সমসের? কী লিখেছ এখানে?” সমসের বুঝতে পারে না কী ভুল তার হয়েছে। অস্বস্তির সঙ্গে জিজ্ঞাসা করে সেটা। “কী ভুল হয়েছে দেখতে হলে তো ফাইলটা তুলতে হবে, না কি?” বলে অরুণাভ। স্যারের এমন কণ্ঠস্বরের সাথে একেবারেই পরিচিত নয় সমসের, ফাইলটা ধীরে ধীরে হাতে তুলে নেয় সে, এবার কী করবে বুঝতে না পেরে অরুণাভর দিকে তাকায়। “পেজ নাম্বার থার্টিন, এনট্রি নামবার ফর্টি-টু, বার করো।” অরুণাভর আদেশ পালন করে সমসের, তবে ভুলটা বুঝে উঠতে পারে না। “স্যার, আমি… ঠিক…” “ডু ইউ নো দ্য ডিফারেন্স বিটুইন বাকেট হুইল এক্সক্যাভেটার অ্যান্ড বাকেট চেন এক্সক্যাভেটর?” ঢোঁক গেলে সমসের, “স্যার…।” “ইয়েস অর নো?” “ইয়েস স্যার।” “তো কী লিখেছ এখানে? ডোন্ট ইউ চেক হোয়াট ইউ রাইট? কে চেক করবে এ সব? ডু ইউ থিংক উই হ্যাভ প্লেন্টি অফ টাইম ইন আওয়ার হ্যান্ডস?” ... ...

পর্দায় তখন উত্তমকুমার। প্রসাদ, উল্টোরথ,নবকল্লোলের পাতায় ছবি দেখা উত্তমকুমার, জিজির মুখে শোনা শিঙাড়া স্টাইলের চুলওয়ালা উত্তমকুমার। ঘন্টা দেড়েক পরে ভাই আর দাঁড়াতে না পেরে আস্তে করে গিয়ে মা'র কোলে শুয়ে পড়ে। মা পর্দা থেকে চোখ না সরিয়েই জিগ্যেস করে কিরে সব পড়েছিস? ভাই দিব্বি ঘাড় নেড়ে আরাম করে শোয় যেন কতই ঘুম পেয়েছে। আমি একটু এগিয়ে দাঁড়াই ভাল করে দেখার জন্য। এদিকে কোথা থেকে কে জানে প্রায় জনা পনেরো বাচ্চা ছেলে, মেয়ে বড় মহিলা চলে এসেছেন টিভি দেখার জন্য। বড়মাইমা তাঁদের জন্য মেঝেতে ঢালা শতরঞ্চি পেতে দিয়েছে। সাড়ে সাতটায় বাংলা খবর হয়, খবর পড়েন ছন্দা সেন। ছোটদি খুব বিজ্ঞের মত বলে ‘জান তো ছন্দা সেনের মাথায় পরচুলা, ওঁর মাথায় এমনিতে চুলটুল বিশেষ নেই।' টিভি দেখতে আসা ছোট ছেলেমেয়েগুলো অবাক হয়ে একবার পর্দায় দেখে একবার ছোটদির দিকে। কেউ কেউ নিজের মাথায় হাত বুলিয়ে নেয়, কেউ কেউ খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। দাদু বিরক্ত হয়ে গলাখাঁকারি দেয়, দিদা আরো বিরক্ত হয়ে দাদুকে বলে ‘চুপ কইর্যা শুইয়া থাহো, ভালা না লাগলে পাশ ফিইর্যায় শোও।' আরো কতদিন যেন, প্রায় বছর চার পাঁচ, এরকম অনেক চেনা অচেনা লোক আসত টিভি দেখতে, সিনেমার দিন কিম্বা বিশেষ কোনও খেলা দেখানোর দিনে। কোনও কোনওদিন ঘর ভরে গিয়ে বাইরের বারান্দায়ও লোক বসে কিম্বা দাঁড়িয়ে দেখত জানলা দরজার ফাঁক দিয়ে। মস্তবড় প্রায় অচল রেডিওটা তখনও বসানো দাদুর আলমারীর মাথায়, দুপুরে কেউ হয়ত চালিয়ে মহিলামহল শুনল, কিম্বা সকাল সাতটা চল্লিশে রবীন্দ্রসঙ্গীত। কখনও দিনের পর দিন রেডিও চালালেই ঘরঘর করে আওয়াজ হয়, গান বাজে সঙ্গে বাজে ঘ্যাঁওওও আওয়াজ। কেউ না কেউ তখন কান মুচড়ে থামিয়ে দেয় রেডিওটাকে। প্রায় অচল দাদুও কখনও বসে কখনও শুয়ে থাকে। ঘরে অতিরিক্ত লোক, তাদের কথাবার্তা, উজ্জ্বল নীল আলো, কল্পজগতের হাসিকান্না মেলোড্রামায় বিরক্ত হয়ে, অতিষ্ঠ হয়ে কখনও কখনও বিরক্তি প্রকাশ করে ফেলে। কেউ না কেউ ততোধিক বিরক্তি প্রকাশ করে কিংবা ধমক দিয়ে বুঝিয়ে দেয় দাদুর বিরক্তি অসুবিধে, এসবই এখন নিতান্তই মূল্যহীন। চলে ফিরে বেড়ানো লোকগুলির অসুবিধে সৃষ্টি কেবলমাত্র। ছানিপড়া ঘোলা চোখে শুন্য দৃষ্টি নিয়ে টিভির দিকে পিছন ফিরে দেওয়ালের দিকে মুখ করে বসে থাকে দাদু, মেরুদন্ড সোজা রেখে। অল ইন্ডিয়া রেডিও ছেড়ে আমরা কলকাতা দূরদর্শন, দিল্লী দূরদর্শনের যুগে ঢুকে যাই। ... ...