
"ছাত্র-উপদেষ্টারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিচ্ছে, এটা তো খুশি হওয়ার মতো সংবাদ ছিলো, কিন্তু জনগণ খুশি না হয়ে সন্দেহের চোখে দেখছে কেন? কারণ আপনার বিহ্যাভিয়োরাল প্যাটার্ন ভালো নয়। সারা জুলাই শেখ মুজিবের ভাষণ বাজিয়েছেন, মুজিবের বই থেকে মুক্তিবাক্য উদ্ধৃত করে মানুষকে শুনিয়েছেন, মুজিব দিয়ে কার্যোদ্ধার করেছেন, কিন্তু বিজয়ের প্রথম মুহুর্তেই মুজিবের শেষ স্মৃতিচিহ্ন ৩২ নম্বর পুড়িয়ে দিয়েছেন। ৩২ নম্বর তো শুধু মুজিবের বাড়ি নয়। এটা বাংলাদেশেরও বাড়ি। আপনি বাংলাদেশের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিচ্ছেন, মুজিবকে পচাত্তর-পূর্ব গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন, এটা হাইলি সাসপিসিয়াস মুভ। এবং এটা কখন করছেন? যখন বুঝতে পেরেছেন যে আপনার অবস্থা লেজেগোবরে, জনগণের সাথে আপনার দূরত্ব প্রকট, জনগণ আপনাকে শত্রু ভাবছে, তখন। ৫ আগস্টের পর থেকেই দেখা গেলো বাংলাদেশের জন্মশত্রু জামাতের জরায়ুতে আপনাদের মাতৃঋণ। সবাই জামাতের সাথে হ্যান্ডশেক করছেন। আস্কারা দিচ্ছেন তৌহিদী জনতা নামক ইবলিশী জনতাকে। ২৪ দিয়ে ৭১-কে মোছার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবকে মোছার সর্বোচ্চ আয়োজন চোখে পড়েছে। বেগম রোকেয়ার ছবিতে ‘মাগী’ লেখা হয়েছে। কালি লেপ্টানো হয়েছে।" - মহিউদ্দিন মোহাম্মদ। ... ...

যে বিপুল বেগে ছিটকে পড়েছিল নীচে, বাঁচার আশা একদম ছিল না। কিন্তু বেশ কিছুটা সময় পর জ্ঞান ফিরে এল তার, একটু একটু করে চোখ খুললো, তখনো ব্যথাটা পুরো বিদায় নেয়নি, নিজের গায়ে চিমটি কাটলো সে… যাদুমাখা সেই জগৎ যা তার মর্মে মর্মে জাগিয়ে তুলেছিল অজানা শিহরন, নিজেকে আবিষ্কার করল তার কুসুম-কোমল পিঠে। মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠেছিল প্রথমে, পরে সামলে নিয়ে চারধার ভাল করে দেখতে শুরু করে সে, খুটিয়ে খুটিয়ে লক্ষ্য করতে থাকে প্রতিটা বস্তু, শেষমেষ আশু বিপদের কোন সংকেত না পেয়ে ফের হাঁটা শুরু করে। ... ...

আমার একটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে এবারের বইমেলায়। তারই বিজ্ঞাপন। শিরোনামে ৩ কারণ এটি আমার তৃতীয় বই-এর বিজ্ঞাপন। ... ...

“খেলাটা খুব সোজা। আমি একটা সংখ্যা আপনাদের জানাবো। তারপর প্রথম জন বলবে তার ঠিক আগের সংখ্যাটা, তার একে একে অন্যরা আগের সংখ্যাগুলো বলতে বলতে যাবেন। এক জন ভুল বললে নতুন করে শুরু হবে নতুন ফিগার দিয়ে। এক রাউন্ড কমপ্লিট হলে লাইনের প্রথম জন চলে আসবে কন্ডাক্ট করতে আর আগের কন্ডাক্টর চলে যাবে কিউ-এর শেষে,” বুঝিয়ে বলল ইন্দ্রনীল। “ইয়ে আবার ক্যায়সা গেম হ্যায়? বহুত ইজি হ্যায়,” বলল বিনয়। “খেলেই দেখুন না,” হাসল ইন্দ্র। “আবার বলছি, আমি একটা নাম্বার বলব, বলে কুইকলি তিনটে তুড়ি দেব। তার মধ্যে আপনি প্রেসিডিং নাম্বারটা বলবেন। ঠিক বললে আবার আমি তিনটে তুড়ি দেব, তার মধ্যে আপনার পরের জন তার আগের নাম্বার বলবেন। এই ভাবে চলবে। ভুল হলে আউট, নো সেকেন্ড চান্স। দু’ মিনিটে একটা রাউন্ড শেষ হবে। ক্লিয়ার টু এভরি ওয়ান?” সবাই মাথা ঝাঁকাল। বিনয় বলল, “ইয়েস। হাম রেডি হ্যায়।” “ওকে,” বলে ইন্দ্রনীল মোবাইলে দু মিনিটে সময় সেট করে নিল। খেলা শুরু করার আগে সবার দিকে তাকিয়ে দেখলো একবার। লাইনে প্রথমে রঞ্জিত, তারপর গায়ত্রী, বিনয়, অরুণাভ, রঙিন, বিনীতা আর কবিতা। “রেডি,” বলে ইন্দ্রনীল দ্রুত তিনটে তুড়ি দেয়, বলে, “টুয়েন্টি এইট।” বলেই ফের তুড়ি দিতে থাকে। “টুয়েন্টি সেভেন,” সামান্য ইতস্তত করে বলে রঞ্জিত। মাথা ঝাঁকায় ডাক্তার, তুড়ি “টুয়েন্টি সিক্স,” গায়ত্রীর জবাব। “টুয়েন্টি সেভেন,... না না… টুয়েন্টি এইট… ধ্যুৎ” বলে বিনয়। সবাই হেসে ওঠে, আফশোস করে সে। “মামু তুমি আউট,” বলে রঙিন। ... ...

নতুন চীনা জিপিটি ডিপসিকের আবির্ভাবে আমেরিকার টেক মার্কেট কিভাবে টলোমলো হয়ে গেছে। জিপিটির পেছনে এত খরচা কি যুক্তিযুক্ত ? ... ...


ভারতে ধনী দরিদ্রদের ফারাক ক্রমশ বাড়ছে। ... ...

সম্বর্ধনায় এমন বিড়ম্বনা জুটবে কে জানত...তবে শেষমেষ যা পাওয়া গেল, সে সম্বর্ধনা অমূল্য। ... ...

আবার কালো এক রাত হাজির হইছে। রাত দেড়টার সময় যখন লিখতে বসেছি তখনও তুমুল অ্যাকশন চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। দেশের সব খবরের চ্যানেল গুলো লাইভ দেখাচ্ছে। রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঢাবির ক্যাম্পাস, নীলক্ষেত এলাকা। কয়েকটা চ্যানেলের সরাসরি দেখেও আমি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত না পুলিশ কোন পক্ষের সাথে আছে! পুলিশ সাত কলেজের ছাত্ররদের দিকেও টিয়ার শেল মারছে আবার ঢাবির ছাত্রদের দিকেও মারছে। তাই বুঝা মুশকিল যে হচ্ছে কী! ... ...

বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কলকাতার গাড়িবারান্দা আমাদের সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে কিভাবে জড়িয়ে আছে ! ... ...


"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ৩৪ - বিকেলে পশ্চিম উপকূল ধরে কোঙ্কন রেলের অনবদ্য নৈসর্গিক শোভার মধ্যে দিয়ে যখন ট্রেন যাচ্ছে ওদের খুশি আর ধরে না। একবার এই দরজায় একবার ওই দরজায় মা, মেয়ে ছুটোছুটি করে গিয়ে দেখছে বাইরের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। হয়তো নিজেদের দেশের প্রকৃতির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে ওদের। অরণ্য, পাহাড়, নদী, উন্মুক্ত আকাশ এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক দেশেই প্রায় একই রকম ... ...


প্রাণের সঙ্গে জমে এ প্রাণের খেলা। আলোছায়া হাসি রাগ কান্না অভিমান --- সময়ের তন্তুতে গাঁথা সেই মালা--- দ্বি কোটিক বিভাজন করেনা আহ্বান। ... ...


দুইজন সাদা পোশাকের পুলিশ আমাকে আর জি কর হাসপাতালের একটি হলে নিয়ে যান। সেখানে একজন আইপিএস অফিসার ছিলেন এবং আজ আদালতে প্রদর্শিত সিসিটিভি ফুটেজ (Mat Exbt. LVII) আমাকে দেখানো হয়। আমি ওই ফুটেজে নিজেকে শনাক্ত করি। এরপর আমাকে সেই কক্ষে বসতে বলা হয় এবং পরে দুই সাদা পোশাকের পুলিশ আমাকে নিয়ে যান। বাইরে এসে দেখি একটি প্রিজন ভ্যান এবং অনেক মিডিয়া ও লোকজন জড়ো হয়েছেন। এটি ০৯.০৮.২০২৪ তারিখের রাত। আর জি কর থেকে আমাকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় আমার ফোন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। ... ...

ধরা যাক, রাস্তার ধারে একটি কৃষ্ণচুড়া আপাদমস্তক সিঁদুর মেখে দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও এতটুকু জায়গা ফাঁকা নেই আর। মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে থাকবে নাইম। ধ্যানমগ্ন মুনীর মত সে চোখ দুটো জড়ো করে জড় হয়ে পড়বে! আবার, কোন অপূর্ব নকশাকাটা দালান, তাও টানবে তাকে জন্মজন্মান্তরের বাঁধন ছাড়িয়ে! বলতে কী, পাতা বা পাথর দুই-ই সমান করে টানে তাকে। কিন্তু এখানেও সে এক দর্শক, তার কাজ যেন শুধু দেখে যাওয়া, আর ভাল লাগা! এভাবেই হয়ত তার ভাল লাগত ফুটফুটে কোন মেয়েকে। সে দেখত আর চলে যেত। কিন্তু একজন জীবন্ত মানবী পাথরের মত নয়; সেখানে জীবন্ত সাড়া থাকে, বিধি বিধান থাকে – আর এসব যেন অজানাই ছিল নাইমের। তাকে কখনো যেচে আলাপ করতে দেখা যায়নি কোন মেয়ের সাথে। অথচ সেও তো একজন জীবন্ত প্রাণী, সেও তো একটি মেয়েকে নিজের করে নেয়ার জন্য যত প্রকার বুজরুকি আছে, প্রয়োগ করতে পারত। কিন্তু নিজে থেকে মন্ত্র পড়া, তাকতুক তো দূরের কথা, কোন মেয়ে তার প্রতি আকৃষ্ট হলেও সেই সংকেত কখনোই পৌঁছুতো না তার বন্দরে। আসলে সে তো একজন দর্শক, সে তো চলচ্চিত্রটি উপভোগ করতে এসেছে, অ্যাক্টিং করতে নয়! ... ...

‘আলু’ নামের একজনকে প্রায় প্রত্যেক ক্লাসেই পাওয়া যায়। কারণটা সহজবোধ্য, তারা মোটা। আলুর জুড়ি হিসেবে পেঁয়াজ বা রসুনকে কিন্তু কখনোই পাওয়া যায় না। যদিও ‘আদা’ নামের একজনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বড় শরীর বা মাথাওয়ালা লোকদের অন্য নামও হয় - ‘কাতলা’। শুধু মোটা নয়, রোগাসোগা মানুষদেরও নিকনেম থাকে। যেমন ‘ডান্ডা’, ‘শসা’, ‘আড়াইশো’ (মানে ব্যক্তির ওজন আড়াইশো গ্রাম আর কি)। আর একজন রোগা লোকের নিকনেম ছিল ‘বোতল’। তাকে নিয়ে একবার বেশ কেলোর কীর্তি হয়েছিল। যে সেই কীর্তিটি ঘটিয়েছিল তার মুখেই শোনা যাক। “আমি প্রায় ৪০ বছর পরে অতনুর কাছ থেকে বোতলের ফোন নম্বর পেয়ে ফোন করেছি। ওদিক থেকে এক গ্রাম্ভারি গলায় ‘হেলো’ শুনে বললাম, ‘বোতল আছে?’ ওদিক থেকে উত্তর এল, ‘এখানে বোতল পাওয়া যায় না, এটা ভদ্রলোকের বাড়ি।’ কানেকশন প্রায় কেটে দিচ্ছে, প্রায় মরিয়া হয়ে মেমরিকে কম্পিউটার স্পীডে চালিয়ে বললাম ‘সরি সরি, দেবজিত আছে?’ ওদিকের গলা বলল, আমিই দেবজিত। বলুন?’" ... ...

আদিবাসী শব্দটায় সমস্যা কোথায় জানেন? সমস্যা হচ্ছে আদিবাসী সংজ্ঞা অনুযায়ী আদিবাসীদের অস্তিত্ব যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে! এইখানেই আপত্তি। অধিকার দেওয়া যাবে না! জাতিসংঘ বলেছে আদিবাসীদের ভূমি রক্ষার অধিকার, নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার ইত্যাদি দিতেই হবে। এগুলা কেউই, কোন সরকারি দিতে রাজি না। রাষ্ট্র, আমাদের এই প্রাণের রাষ্ট্র মনে করে এই অধিকারের প্রতিষ্ঠা করতে দিলে এক সময় এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে! এইটার থেকে বাঁচার জন্য সবচেয়ে সহজ সরল সমাধানের পথে হেঁটেছে রাষ্ট্র, কী? দেশে আদিবাসীই নাই! যেহেতু আদিবাসীই নাই তাই তাদের অধিকারেরও প্রশ্ন নাই। খেল খতম পয়সা হজম! যেটা কেউই বুঝে না তা হচ্ছে আপনি না করলেই সত্য মিথ্যা হয়ে যাবে না। আপনি মুখ দিয়ে বলে দিলেই তা সত্য হবে না। যার যা প্রাপ্য অধিকার তা দিলে বিচ্ছিন্নতার কোন প্রশ্নই উঠবে না বরং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করলেই বিচ্ছিনতার প্রশ্ন আসবে, ক্ষেত্র তৈরি হবে। আমরা গায়ের জোরে আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করছি, এরপরে তাদের অধিকারকে বন্দুকের নল দিয়ে আটকে দিতে চাচ্ছি। তারপরে কেউ টুঁ শব্দ করলে বলছি এই দেখো এরা বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য এমন করছে, এরা দেশের শত্রু! ... ...

সবাই মিলে আলোচনা করে ঠিক হয় ইলিশ ভাজা আর ঝাল হবে। আর ফিলে করা আনা ভেটকি রেডি করে রাখা ছিল লাঞ্চ-এর শুরুতে ফ্রাই-এর জন্য। সেটা বরং পরিবেশন করা হবে হার্ড আর সফট ড্রিংকসের সাথে। কিছুক্ষণ পরের কথা। ফিশ ফ্রাই সহযোগে হুইস্কি খাচ্ছে সবাই। বিনীতাকে দেখা যাচ্ছে রান্নার জায়গায়। একটু দূরে ড্রাইভাররা গল্প করছে। ওদিকে ব্যাডমিন্টন খেলছে গায়ত্রী আর কবিতা। ফেদার দূরে চলে গেলে ছুটে গিয়ে নিয়ে আসছে রঙিন। নিচু হয়ে একটা শট মারতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে যায় গায়ত্রী। কবিতা ছুটে আসে, “লাগেনি তো?” গায়ত্রী মাথা নাড়ে। তারপর উঠতে গিয়ে ফের বসে পড়ে। তার চোখেমুখে যন্ত্রণার ছাপ ফুটে ওঠে। মদের গ্লাস ছেড়ে দৌড়ে আসে রঞ্জিত। অন্যরাও আসে। গায়ত্রী বাঁ পায়ের গোড়ালি চেপে ধরে আছে। ... ...