

প্রসন্ন এ প্রাতে ----- তোমার করুণা পথ উঠিতেছে জাগি। বাদ্য নিষিদ্ধ এই পথে --- শব্দহীন শিশিরের লাগি। ... ...

শেরপুরে ফিরে আসার পরে শেরপুর জিমে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হল। ওই ছেলে শাবিপ্রবিতে পড়েছে। যথারীতি জাফির ইকবালকে দেখতে পারে না। তখন আমিও দিন দুনিয়া চিনি। কথাবার্তায় বুঝলাম শিবিরের ছেলে। যেহেতু নিজের শহর আর জিম হচ্ছে আমার স্টেডিয়ামে, যা আমার বাড়িঘরের মতো ছিল এক সময় তাই একদিন কথার ফাঁকে ধরলাম, কেন পছন্দ না। কোন কারণ নাই, ভালো লাগে না ভাই! এর তো কোন জবাব নাই! তবে এই ছেলে সৎ ছিল। বলছে ভাই পছন্দ না কিন্তু এইটাও ঠিক উনার মতো শিক্ষক আমি কোনদিন দেখি নাই। বলল ভাই যত সমালোচনা দেখবেন অন্য নানা জিনিস নিয়ে। কেউ কোনদিন জাফর ইকবাল সম্পর্কে উনার পড়ান বা উনার শিক্ষকতার কোন গাফেলতি নিয়ে একটা শব্দও বলতে পারবে না। বলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কত জ্ঞানী গুণী মানুষ আছে, শিক্ষক আছে। দেখবেন এরা ক্লাস নিতে গিয়ে ব্যারাছ্যারা লাগায় দেয়। সময় মতো পরীক্ষা নিতে পারে না। কোর্স শেষ করতে পারে না। আজ পর্যন্ত জাফর ইকবালের ক্ষেত্রে এমন একবারও হয় নাই! উনি যখন শিক্ষকতা করেছে তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। সকাল বিকাল তারে মারতে যায় কেউ না কেউ। তখন সমানে হরতাল হত দেশে। অথচ উনি ঠিকই কোর্স সময়মত শেষ করেছেন, প্রতিবার। জাফর ইকবাল ঘড়ি ধরে ক্লাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকত। ঠিক সময়মত তিনি ক্লাসে ঢুকে যেতেন! ... ...

একটা বিষয় খেয়াল করার মত - মোরসালিন মারুফের মধ্য কেমন যেন সংকোচ, লোকলজ্জার ভয়! আর আছে এক ধরণের সীমাহীন আকুলতা! দিন নেই, রাত নেই, সমানে নক করে যাচ্ছে সম্পাদকের ইনবক্সে। রুম্পার ধারণা, লোকটা যারপরনাই নিঃসঙ্গ। কেউ কি এসেছিল তার জীবনে, আর মিলিয়ে গেছে কোন জানান না দিয়েই? হঠাৎ বিগলিত স্বরে ডেকে উঠলো ফোনটা, নিশ্চয়ই সুব্রত, কোথাও আটকে গেছে…অনেক বড় বড় অফিসিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট তার হাজবেন্ডের চওড়া কাঁধে… উঠতে যাচ্ছিল রুম্পা ল্যাপটপ ছেড়ে, কিন্তু পর্দায় কিছু একটা ভেসে উঠতে দেখে থমকে দাঁড়াল, ‘প্রিয় সম্পাদক, ভালবাসা নেবেন। আমার লেখাটা একটুখানি পড়ে দেখার সময় পেয়েছিলেন? যদি বিব্রত করে থাকি…...বিনীত, মোরসালিন মারুফ।’ শুরু হয়ে গেছে ... ... ...


জাকির নায়েকের আগমনের পরে একটা ধারা তৈরি হইছে তা হচ্ছে ইংরেজি বলা! বক্তারা স্মার্ট ভাব আনার জন্য মাঝে মধ্যেই ভুলভাল ইংরেজি বলে। ইংরেজি বলে একটা শব্দ পরে ওইটাকে আবার বাংলা বলে! এই চলতে থাকে, মানুষ ভাবে, বাপরে, কত্ত জানে হুজুর! এদিকে হুজুর গল্প বলে যাচ্ছে নীল আমস্ট্রং চাঁদে গিয়ে আজান শুনে আসছে! পৃথিবীতে এসে এক মসজিদে এই আজান শুনে মসজিদের ইমামকে জিজ্ঞাস করছে এইটা কোন গান? ইমাম কইছে এইটা গান না, এইটা আজান! নীল বেচারা এমন কাণ্ড দেখে আর থাকতে পারে নাই, তখনই কলেমা পরে মুসলমান হয়ে গেছে! আরেক বাটপার আছে, চোখ বন্ধও করে না মিথ্যা কথা বলতে, হাসতে হাসতে বলে যায় সে অক্সফোর্ডের সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কয়েকবার, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলেছেন! কেন বলেন? আল্লাই জানে আর ওই জানে। এমন করে মিথ্যা বলে আবার একেই ভাড়া করে নিয়ে যায় মানুষ। ... ...

মিনিট পনের পরে ফোন পায় বিনীতা। ডাক্তার তাকে চেম্বারে যেতে বলছে। বিনীতা ভেতরে গেলে ইন্দ্রনীল বলে, “বসুন ম্যাডাম। বলুন কী ব্যাপার? হঠাৎ জরুরী তলব?” অরুণাভর ব্লাড টেস্টের রিপোর্ট দেয় বিনীতা। ইন্দ্র রিপোর্ট খুলে দেখে। “এটার তো তাড়া দিল না। যে দিন দেখাতে আসতেন সে দিন আনলেই হত,” বলে ডাক্তার। বিনীতা বলে, “আর একটা কাজ আছে। আমার সঙ্গে যেতে পারবেন? ঘন্টা খানেকের জন্য?” “কোথায়?” “আসলে ফ্ল্যাটটা দেখতে যাব, একটা চেকও দেওয়ার আছে। ওর যাওয়ার কথা ছিল, কাজে আটকে গেছে। বলল যদি আপনি যেতে পারেন।” ইন্দ্রনীল ঘড়ি দেখল। বলল, “ঘন্টা খানেকের ব্যাপার হলে অসুবিধে নেই। আসারও দরকার ছিল না, একটা ফোন করে দিলেই হত।” “ফোন করলে তো আসতেন না। বলে দিতেন ইমার্জেন্সি কেস আছে। সেদিন সিনেমাতেও তো এই কথা বলে এলেন না।” ... ...



সহজেই মানুষকে এই সব দিয়ে ভুলিয়ে রাখা গেছে, যাচ্ছে। ভারত বিরোধী বাতাস প্রবল ভাবে চালানো হচ্ছে, হিন্দুরাই সব ঝামেলার উৎস, আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে এমন সব কথা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা যাচ্ছে সব ব্যর্থতা। এদিকে আরাকান আর্মি মায়ানমার বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলের দখল নিয়ে নিয়েছে, নাফ নদীতে নৌকা চলতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আরাকান আর্মি! কেউ এইটা নিয়ে লং মার্চও করে না, কেউ গরম গরম বক্তব্যও দেয় না, কোন সাবেক আর্মি অফিসারকেও দেখলাম না রাস্তায় মিছিল করতে যে চার দিনেই আরাকান আর্মির ঘর দখল করে ফেলবে! কোন সারা শব্দই নাই। অথচ এইটা বাস্তব সমস্যা, ভয়ংকর সমস্যা। আরাকান আর্মির সাথে আমাদের কোন যোগাযোগ নাই। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুকি চিনের সাথে দহরম মহরম। এমনেই মায়ানমারের সাথে আমাদের সম্পর্ক যতখানি খারাপ হওয়া সম্ভব তারচেয়ে ঢের বেশি খারাপ। তার মধ্যে এই যন্ত্রণা। অথচ এইটা নিয়ে ভাবার সময় নাই কারো। এদিকে কলকাতা চারদিনে দখল করে ফেলতে পারলে আজকেই রউনা দিয়ে দেয়! ... ...

দিদিমা বললেন, “ছাড়ো বৌমা, বেঋয়ে পড়ি। তোমার বাবার যত্তো ছিটিয়া৯ কারবার, সারাজীবন মাষ্টাঋ করে মাথার মধ্যে ছিটমহল বানিয়ে ফেলেছেন। নী৯মা আমার বেরোচ্ছি...” গলা তুলে নৃপেনবাবুকে চেঁচিয়ে বললেন, “শুনছো, আমরা বেরোচ্ছি”। তারপর নমুর গাল টিপে বললেন, “তুমি তো লক্ষ্মী ছেলে, দাদুর দিকে একটু নজরদাঋ করো, কেমন? দাদু যেন দুষ্টুমি না করতে পারে। আমরা বেরোলে দরজাটা বন্ধ করে ওপরেই থেকো”। ... ...


বৃন্দা গ্রোভার এবং তাঁর বাহিনী তিলোত্তমার বাবা-মার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। কাল এই মামলা তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন। বিকাশ ভট্টাচার্যের পর এই দ্বিতীয় আইনজীবী। বিকাশকে বাবা-মাই সরিয়েছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল, এক্ষেত্রে পাওয়া গেছে বৃন্দার একটা বিবৃতি। পুরো বিবৃতিটা মিডিয়ায় নেই। ব্যক্তিগত সূত্রে পাওয়া। টুকে রাখলাম। খুব বড় ব্যাপার নয় বলে আর ডাবলচেক করিনি। ... ...


বুয়েটের পরে আরও কয়েকটা জায়গায় ভারতের পতাকা ফুটপাথে আঁকা হল। ( এখন পর্যন্ত আঁকা আছে এই পতাকা) ভারত থেকে যথারীতি প্রবল বিক্ষোভে ফেটে পড়ল মানুষ। বাড়াবাড়িও হল। আগরতলায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনারে হামলা করে বসল। এর আগ পর্যন্ত খেলা এক রকম ছিল। কিন্তু এইটা পট পরিবর্তন করে দিল। আমাদের দূতাবাসে হামলা হবে এইটা আমি সমর্থন করব না। এইটা সমর্থন না করার জন্য ইউনুসকে সমর্থন করার দরকার নাই। এরপরেই ডাক আসল সরকার প্রধানের কাছ থেকে, জাতীয় ঐক্য! প্রথমে ছাত্ররা দেখা করে জাতীয় ঐক্যের প্রতি সমর্থন জানাল, এরপরে গেল রাজনৈতিক দলের নেতারা, গেল ধর্মীয় মহাজনেরা! ভারত আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপরে আক্রমণ করবে আর আমরা এক হতে পারব না? বাহ! কী উচ্চ চিন্তা ধারা! সবাই জাতীয় ঐক্যকে সাধুবাদ জানাল! দেশে এমন কাণ্ড জীবনে হয় নাই, এমন পুরুষ এই ভূখণ্ডে আসে নাই, বাহ বাহ বাহ হা হা হা! ... ...


বেচা কেনা সাঙ্গ করে বন্ধ চোখ দোকানের ঝাঁপ নিতে চায় নীরব এ বিশ্রামের স্বাদ --- ফিরতি পথে --- মাতৃ পথে-- পাড়ি দিতে চায় আজ যত পুণ্য পাপ --- সেই পথ ঘিরে রাখে সে আদিম অনাহত নাদ। ... ...

নির্বাচনী বন্ডের যে ডেটা প্রকাশিত হয়েছে তা নিয়ে আমি আর মৈত্রীশ-দা (মৈত্রীশ ঘটক, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স) বেশ কিছুদিন ধরে নাড়াচাড়া করছি। ইতিমধ্যে আমরা এই ডেটা নিয়ে লিখে ফেলেছি তিনটি লেখা -- দুটি বাংলা, একটি ইংরিজি। বাংলা লেখাদুটি বেরিয়েছে এই সময় সংবাদপত্রে এবং অনুষ্টুপ শারদীয়াতে। ইংরিজি লেখাটি ইন্ডিয়া ফোরামে। এর মধ্যে অনুষ্টুপের প্রবন্ধটি দীর্ঘতম এবং আমাদের মতে তার বিশ্লেষণটি এই তিনটি প্রবন্ধের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত এবং গভীর। সেই প্রবন্ধটিই আমরা আরেকবার আমার এই ব্লগের মাধ্যমে আন্তর্জালে রাখলাম মূলত তাঁদের জন্য যাঁরা অনুষ্টুপের শারদীয় সংখ্যাটি সংগ্রহ করতে পারছেন না। লেখাটি বেশ দীর্ঘ, আমার অনুরোধ ধৈর্য ধরে পুরো লেখাটি পড়বেন। পড়লে, আমার বিশ্বাস, ভারতের অর্থনৈতিক রাজনীতি নিয়ে চিন্তার খোরাক পাবেন। ... ...

ক্লান্ত পায়ে বিছানা থেকে ওঠে বিনীতা, হাউসকোট পরে নেয় ঠিক মত। বাথরুমের দরজা খোলে। বেসিনের কল থেকে চোখে মুখে ঘাড়ে জল দেয়, আয়নায় একবার মুখ দেখে। মনে পড়ে যায় কয়েকমাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হওয়া একটা কথা। অনেক দিন পরে রঙিনকে খাইয়ে দিয়েছিল অরুণাভ সেই দিন, পরে বিনীতাকে বলেছিল, “যে কোনও কাজ আমরা কোনও না কোনও দিন শুরু করি। খুব মেজর কিছু হলে প্রথম দিনের ঘটনাটা মনে থাকে, শেষ দিনেরটা থাকে না।” উত্তরে বিনীতা জানিয়েছিল, “বেশির ভাগ সময়ে তো জানাই থাকে না যে এই কাজটা এই বারই শেষ বার করছি।” বিনীতা তাকিয়ে থাকে আয়নার দিকে, বেসিনের কল থেকে জল পড়তে থাকে। ... ...
