

৩৬ জুলাইয়ের আকাংখা ধরা পড়েছে সারাদেশে আঁকা অসংখ্য রং-বেরং এর গ্রাফিতিতে। এর একটিতে মওলানা ভাসানীকে উদ্ধৃত করে লেখা, 'শুনো, ধর্ম আর দেশ মিলাইতে যাইও না। শেষে ফুলের নাম কি দিবা, ফাতেমা চূড়া?' আরেকটিতে বড় বড় হরফে লেখা, ' স্বাধীনতা, সংস্কার, সভ্যতা!' মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, এই সব দেয়াল লিখন কি শিগগিরই খণ্ডন হচ্ছে? অজানাতন্ত্রের গন্তব্য কি তবে বাংলাস্তান!? ... ...

কাল কিঞ্জল নন্দর বক্তব্য নিয়ে খুব হইচই হয়েছে। ট্রোলও হয়েছে। কিন্তু ওই একই প্রেস রিলিজে পরিচয় পাণ্ডাও কিছু বক্তব্য রাখেন, কেন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এই নিয়ে। সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষেপে, ব্যাপারটা এই, যে, তাঁরা কিছু দাবী রেখেছিলেন। সরকার একটি চিঠি দিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে উনি জানাতে চান, যে, এই আন্দোলন কেবল কয়েকটি রেস্টরুম, কয়েকটি সিসিটি ক্যামেরার আন্দোলন নয়। এটি সামগ্রিক ভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পরিবর্তন এবং শুদ্ধিকরণের আন্দোলন। এটাকে এরকম ভাবে ছোটো করে দেবার কোনো মানে হয় না। এছাড়াও বলেন, দশ দফা দাবী থেকে তাঁরা নড়বেন না, এবং সরকার কোনো সদর্থক ইচ্ছা দেখায়নি এই দশ দফা দাবীকে নিয়ে। এবং তিনি নিজেও অনশনে যোগ দেন। শুনে সবই মিলিয়ে নেওয়াটা আমার স্বভাব। দশ দফা দাবীটা জানতাম। সরকারের চিঠিটাও দেখলাম, পাবলিক ডোমেনেই আছে। পরিচয় নিজের দশ দফা দাবী বা সরকারের চিঠি, কোনোটাই পড়েছেন কিনা জানিনা, তবে বিশেষ খাটাখাটনি না করেই দাবী এবং সরকারি প্রত্যুত্তরের তালিকাটা বানিয়ে ফেলা গেল। সেটা নিচে দিলামঃ ... ...

ছোটবেলায় বিজয়ার সময় ঠাকুর চলে গেলে অফুরন্ত খেলাধূলোর আনন্দ ছেড়ে আবার নিয়মবদ্ধ পড়াশুনোর জীবনে ফিরতে হবে এই ভেবে মনখারাপ হত খুব। আর এখন অফুরন্ত সময়।হাজারো নিয়ম-রীতি পাশাপাশি সাজিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে নেই মাথার পিছনে।তবুও ফেলে আসা দিনগুলোর জন্য বড় কষ্ট হয়।( পড়ে নিন গল্পটি) ... ...

বলার মতো তো কিছু খুঁজে পাইই না উল্টো রিসেট বাটন টিপে সমস্ত অতীত মুছে দিতে চান প্রধান উপদেষ্টা। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী বলছেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানের ইসলাম থেকে বাংলাদেশের ইসলামকে আলাদা করার জন্য। আজকে তিনি আবার তার ফেসবুক প্রোফাইলের কাভার ফোটো দিয়েছেন পাঁচজন নেতার ছবি। কে কে? সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা, আবুল হাশিম, যোগেন মন্ডল ও মাওলানা ভাসানি! হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন - ‘‘শেখ মুজিব দৈহিকভাবেই মহাকায় ছিলেন, সাধারণ বাঙালির থেকে অনেক উঁচুতে ছিলো তার মাথাটি, সহজেই চোখে পড়তো তার উচ্চতা। একাত্তরে বাংলাদেশকে তিনিই আলোড়িত-বিস্ফোরিত করে চলেছিলেন, আর তার পাশে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিল তার সমকালীন এবং প্রাক্তন সকল বঙ্গীয় রাজনীতিবিদ।" দেখা যাচ্ছে এগুলা মাহফুজ আলমের হিসেবে নাই বা তিনি বঙ্গবন্ধুকে ছাড়াই নতুন এক ইতিহাস তৈরির ফিকির খুঁজছেন। আংকেল স্যাম সাথে থাকলে সবই সম্ভব। অসম্ভব বলে কিছু নাই। ... ...

সময়টা বড় অদ্ভূত। গোলমেলেও বটে। একই সঙ্গে একদল মানুষ দেদার উৎসবে মেতেছে আর অন্যদল বলছে এ বড় সুখের সময় নয়। বাঙালির সেরা দুর্গোৎসবের চৌকাঠ পেরিয়ে এবার আসছে কার্নিভাল। ঠিক হয়েছে জেলা সদর চুঁচুড়ার বদলে এবার কার্নিভাল হবে মহকুমা সদর শ্রীরামপুরে। আর এতেই আপত্তি তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন শ্রীরামপুরের নাগরিক সমাজের একাংশ। ... ...

সাংবাদিকতা আগে দুরকম হত। এক, সূত্র উল্লেখ করে খবর পেশ করা। সেখানে সূত্র যদি বলেন সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে, তো দায় সূত্রের। আরেকটা হত সূত্রের নাম উল্লেখ না করে খবর দেওয়া। সেক্ষেত্রে সাংবাদিকরা পরিবেশনের দায় নিজের কাঁধে নিতেন। এবং অসম্ভব সতর্কতা অনুসরণ করতেন। ওয়াটারগেট থেকে স্নোডেন অবধি, এরকম নানা বিস্ফোরণ আমরা দেখেছি, কোনোটাই মিথ্যা বলে দেখা যায়নি। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে তিন নম্বর একটা সাংবাদিকতা আমরা দেখেছি। সূত্র উল্লেখ না করে সম্পূর্ণ গুল দিয়ে দেওয়া। সুধীর চৌধুরি বলেছিলেন মোদীর নতুন নোটে চিপ লাগানো আছে, যা স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। রীতিমতো গ্রাফিক টাফিক দিয়ে। নিঃসন্দেহে, সেটা ডাহ মিথ্যা। এবং এই করে সুধীর চৌধুরি সাংবাদিকতার জগতে একটা নতুন দিগন্ত খুলে দেন। শুভাশিস ঘটক, যদি কোনো ব্যাখ্যা না দেন, তো তিনিও ওই হল অফ ফেমে জায়গা পেতে চলেছেন। ... ...

এগুলো সবাই জানেন, তবু রেকর্ডের স্বার্থে লেখা যাক। দশ দফা দাবী নিয়ে জুডাদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছিল সাগর দত্তে গোলমালের পর। তারপর সেই কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হয় এবং আমরণ অনশনের ডাক দেওয়া হয়। প্রথমে ছ জন শুরু করেন অনশন। আরজি করের কেউ ছিলেন না। পরে অনিকেত মাহাতোও যোগ দেন। রিলে অনশন হচ্ছে কিনা এই নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছিল। কিন্তু জুডারা জানিয়েছেন, আদৌ রিলে না, টানা এবং আমরণ অনশন চলছে। ... ...

ভেবে আশ্চর্য লাগছে, অভিজ্ঞ ডাক্তাররা এটা এতদিনে টের পেলেন। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যখন সিবিআইকে এক কথায় তদন্তভার দিয়ে দেবার আবেদন করলেন, তাঁরা আপত্তি করেননি। সিবিআইয়ের কাছে আপডেটের দাবীটুকুও করেননি। বরং 'সূত্র' বলে যে আজগুবি জিনিসগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোকে ব্যবহার করেছেন (এমনকি এই লেখাতে বিষাণ নিজেও সম্পূর্ণ অসমর্থিত গুজবকে নিজের সন্দেহের কারণ বলে দাবী করেছেন)। এবং সিবিআইকে বস্তুত কোনো চাপ কখনও দেননি। যতগুলি মিটিং-মিছিল বড় ডাক্তাররা করেছেন , তার মধ্যে কেবল একটি সিবিআইয়ের কাছে কিছু পেশ করেছেন। তাতে আদৌ কিছু দাবী আছে কিনা জানা নেই, কারণ, লাইভ ইত্যাদি ছেড়েই দিন, দাবীপত্রটুকুও তাঁরা জনসমক্ষে আনেননি। ছোটো ডাক্তাররা একবার সিজিআই এর সামনে কিছু বক্তব্য রেখেছেন। কোনো ডেপুটেশন দেননি, এমনকি বক্তব্যেও কার্যত সিবিআইয়ের নামোল্লেখ করা হয়নি। এখনও যে অনশন চলছে, তার দাবীতে যদিও সুবিচার, দাবী করা হয়েছে, কিন্তু সেটা সিবিআইকে আদৌ জানানো হয়েছে বলে জানা নেই, পুরোটাই চলছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে। ... ...


যে চার্জশিট সিবিআই এর তরফ থেকে দাখিল করা হয়েছে, এটা তার সারসংক্ষেপ। পরিশিষ্টে বাজেয়াপ্ত জিনিস ইত্যাদির বহু তালিকা থাকে, সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকাতেও একই রকম নানা নাম ইত্যাদি থাকে, তাও বাদ। মাঝের অংশটুকু, যেখানে আসল বিবৃতি আছে, সেটা পুরোটাই আছে। কিন্তু হুবহু না। পয়েন্টগুলো হুবহু আছে, যদিও ক্রমিক সংখ্যাটা আসল চার্জশিটে ১৬ থেকে শুরু, এখানে সেটা ১। এছাড়াও লোকজনের লম্বা পদমর্যাদা ইত্যাদির বিবরণ বাদ। আইনী ধারা গুলো বাদ। পড়তে যাতে সুবিধে হয়। লম্বা প্যারাগ্রাফের সারসংক্ষেপও করা হয়েছে। মোট কথা হচ্ছে, পড়ে বুঝবেন ঠিকই, কিন্তু আসল আইনী পরিভাষা দেখতে গেলে আসল নথিটা দেখতে হবে। সেটাও পরে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। পড়তে গিয়ে কিছু তথ্যপ্রমাদ নজরে পড়েছে। সঞ্জয় রায়ের জন্মসাল দু জায়গায় দুরকম আছে। একজন ডাক্তারের নামের বানান ভুল আছে। ব্যাকরণ ভুল ধরছিনা। কিন্তু এই দুটো জরুরি বিষয়ে অমনোযোগের চিহ্ন। ... ...



তাহলে ছেলের অনুরোধটা রাখছেন না কেন – এ কথা আর আমি জিজ্ঞাসা করতে গেলাম না তাকে। কারণ এখন মনে হচ্ছে, মরণের আগ পর্যন্ত এই ব্যবসা ছাড়বেন না তিনি। জমিগুলো যেমন সবসময় এক রকম না – কখনো তৃণের দখলে চলে, কখনো পুড়ে যায়, কখনো ঝুরঝুর করে পড়তে থাকে, আবার, কখনো দুফাঁক হয়ে যায় বুক চিরে, উঁচু পাহাড় হয়… তেমনি জমির ক্রেতা-বিক্রেতার জীবনেও আসে পরিবর্তন, তারাও জলে বা বাতাসে এক সময় প্রস্তর হয়। জমির সাথে যেন তার ক্রেতা-বিক্রেতার একটা সমান্তরল জীবন, যা অন্তহীন ও অনিঃশেষিত। আর জগতদা মনে করেন, পৃথিবীতে তিনিই একমাত্র জমির ব্যবসাটা বোঝেন এবং তিনি না থাকলে ব্যবসাটা যখন আর থাকবেই না, ... ...


মাহফুজ আলমের একটা সাক্ষাৎকারের কথা বলাই হয় নাই। প্রথম আলোতে তিনি দীর্ঘ সাক্ষাতকার দিয়েছেন। কীভাবে কত বছর আগে থেকে সব শুরু, পরিকল্পনা সব কিছু সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়াও তিনি সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন অনেক গুলা। এবং আমার মূল চিন্তা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ তাই আমি সব বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তার ধরনা দিয়েই তাকে মাপতে গেলাম। কথার প্যাচ ধরতে পারলে দেখা যায় তিনি সুন্দর করে মুক্তিযুদ্ধের এক নতুন তত্ত্ব এনে হাজির করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানের ইসলাম থেকে এই মুল্লুকের ইসলামকে আলাদা করার জন্য! উদ্ধৃতি দিচ্ছে প্রথম আলোর সাক্ষাতকার থেকে, - "১৯৭১ হয়েছিল বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের দুটি বোঝাপড়া থেকে। ১৯৪৭ সালের আগপর্যন্ত ইসলামের সঙ্গে তার যে বোঝাপড়া ছিল, সেটা বদলে গিয়েছিল। তারা বুঝতে শুরু করল, বাংলার ইসলাম পাকিস্তানের ইসলামের সঙ্গে যায় না, এমনকি উত্তর ভারতের ইসলামের সঙ্গেও নয়। ফলে তারা পাকিস্তানি ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়াল।" মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে আমার লিটমাস পেপার। তুমি কোন ক্ষেতের মুলা তা এই পরীক্ষাই সহজে ধরা যায়। ব্রাত্য রাইসুরে এমনে আমি খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু এই সাক্ষাতকার প্রসঙ্গে তাঁর একটা ফেসবুক পোস্ট এখানে শেয়ার না করে পারছি না। ওইটা আমারও বক্তব্য বলেই শেয়ার করছি, তিনি লিখেছেন, - "মুক্তিযুদ্ধ মানে হচ্ছে পাকিস্তানি ইসলামের বিরোধিতার যুদ্ধ, এইরকম যারা বলতেছেন তারা ভয়ঙ্কর কথা বলতেছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধরে ধর্মীয় সিলসিলা রক্ষার যুদ্ধ হিসাবে সীমিত করার ষড়যন্ত্র আছে। অবশ্য ইসলামি দলগুলি যদি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চায় তবে মুক্তিযুদ্ধরে ধর্মের যুদ্ধ হিসাবে দেখানোটা অত্যন্ত কাজে লাগার মত বিষয় হবে। মুক্তিযুদ্ধ ধর্মের যুদ্ধ ছিল না। কোনো অর্থেই ছিল না।" ... ...

শ্রীনগর লেহ জাতীয় সড়ক বরাবর কিছুদূর এগোতে পাশ থেকে সঙ্গ নেয় দ্রাস নদী। দুপাশের সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী সম্পূর্ণ ন্যাড়া, বাদামী খয়েরি রয়েরি রঙ, কোথাও আলগা মাটি পাথর। কিন্তু নদীর দুপাশ একেবারে ঘন সবুজ গালিচা বিছানো। মূলত দেওদার গাছই বেশী চোখে পড়ল। কোথাও কোথাও ছোট ছোট খেত, অল্প কয়েকটা মাটির বাড়ি। রূপম আগেই বলেছিলেন ওয়্যার মেমোরিয়াল আর কার্গিল শহরের মাঝামাঝি কোথাও একটা দূরের ঘন সবুজ গাছের মধ্যে একটা মসজিদের ঝকঝকে সোনালি গম্বুজ দেখা যায়, সে নাকি অদ্ভুত সুন্দর লাগে দেখতে। জায়গামত সারথিকে বলে গাড়ি দাঁড় করিয়েও দিলেন। হুড়মুড়িয়ে নেমে দেখি সত্যিই বড় সুন্দর। চারিদিকে বাদামীর নানা শেডে উঠে যাওয়া সারি সারি পাহাড়, অনেক নীচে এক নদীকে ঘিরে ঘন গাঢ় সবুজ উপত্যকা, আর তার মাঝখানে ঝকঝকে সোনালী গম্বুজ আর তিনটে মিনার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক মসজিদ। বেলা প্রায় সাড়ে তিনটে, আকাশে এলোমেলো কিছু মেঘ ওদিকের কোণটা ছায়াছায়া করে রেখেছে আর একপাশ থেকে আসা প্রখর সূর্যকিরণ পড়ে সোনালী গম্বুজ আর মিনার যেন জ্বলছে। গোটা দৃশ্যটা মনে হচ্ছে ভার্মিয়ের আঁকা কোন ছবি, শুধু থ্রি ডাইমেনশানাল এই যা। এমন অপার্থিব আলোমাখা দৃশ্যকে ধরে রাখবে এমন ক্যামেরা আজও তৈরী হয় নি। তবু কিছু ছবি তো তুলতেই হয় যাতে পরে সেগুলোর দিকে তাকিয়ে এই মুহূর্তটায় ফিরে যাওয়া যায়। টিপিকাল ট্যুরিস্ট স্পটের বাইরে অপরূপ এই দৃশ্যটা দেখানোর জন্য রূপমকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু তিনখানা মিনার কেন? বরাবর তো মসজিদে চারটে মিনারই দেখেছি। আসিফভাইকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল শিয়া মসজিদে তিনখানাই মিনার থাকে। এই অঞ্চলে শিয়া মুসলমানের প্রাধান্য বেশী তাই পরেও আরো কিছু তিন মিনারওয়ালা মসজিদ দেখেছি। ... ...

ওদিকে ঠান্ডা বাতাস বইছে জোরে, টিপ টিপ করে বৃষ্টি শুরু হল। অরুণাভ হাঁটতে হাঁটতে এসে গেছে মাইনের কাছে। বড় বড় গাছগুলো একটু একটু দুলছে, উড়ছে শুকনো পাতা আর ধুলো, আর সেই সঙ্গে কয়লার গুঁড়ো। একটা লোডেড ডাম্পার চলে গেল কনভেয়র বেল্টের দিকে। অরুণাভ তাকায় নিচের মাইনের দিকে। হুইল লোডার দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটা, নড়ছে না। বর্ষা কালে জল জমে গেলে ওই লোডারগুলোর সামনের বাকেট অংশটা দিয়ে ঠেলে সরানো হয় মাটি, জমা জল একটা নির্দিষ্ট খাতে বইয়ে মাইন থেকে যতটা সম্ভব সরিয়ে দেওয়ার জন্য। অরুণাভকেও সরে যেতে হবে এক দিন ওই জলের মত, এই সব হাওয়ায় উড়ে যাওয়া পাতার মত। ... ...


মেঘের মধ্যে ভাসতে থাকা কোটি কোটি ওই বরফ-বিন্দুগুলোও চায়ের পাতার মতো মেঘের স্তূপের মধ্যে ওঠানামা করতে থাকে। ব্যাপারটা বোঝা গেল কিছুটা?” ... ...