
গত কালের প্রায় পূর্ণাঙ্গ আদালতের বিবরণী। এআই এর অনুবাদ নয়। কানে ইংরিজি শুনতে শুনতে তাৎক্ষণিক অনুবাদ। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাবানুবাদ। কিছু অংশ ছোটো করা হয়েছে। মোটামুটি কী হয়েছে বুঝতে পারবেন। তাতেও মিডিয়ার বিবরণের থেকে ভালো। কারণ, তারা শুধু পছন্দমতো টুকরো তোলে। আর আরেকটা কথা। ছাত্রদের আইনজীবী আসলে ছিলেন দুজন। তাঁরা ছাত্র এবং ডাক্তারদের প্রতিনিধি। লেখা হয়েছে ছাত্রদের আইনজীবী বলে। ... ...


ব্যাপারটা হল, আমি কবিতা খারাপ লিখিনা। কিন্তু জাস্ট সাহসের অভাব আছে বলে প্রকাশ করিনা (অনেকেই ভাবেন আমি খুব সাহসী, কিন্তু সেটা গুল)। সাহসের অভাব কেন বুঝিয়ে বলি। কদিন আগেই 'এখনও যে দর্শক, সে ব্যাটাই ধর্ষক' শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা বিখ্যাত রবীন্দ্রকাব্য লিখেছিলামঃ অন্যায় যে কহে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা তারে যেন 'তৃণ'সম দহে। ... ...

কর্মবিরতির জেরে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রবল সংকট সংক্রান্ত কিছু খবর এবং ভিডিও সামনে এসেছে। এর আগেই খবর ছিল বিচা চিকিৎসায় সাতজন রোগির মৃত্যুর (টেলিগ্রাফ)। আজক একটি খবর এসএসকেএম এর। সেখানে বলা হয়েছে, কার্ডিওলজিতে মাত্র একজন ডাক্তার উপস্থিত (বর্তমান)। আরজিকরেও রোগী ভর্তি হচ্ছেনা বলে অভিযোগ (বর্তমান)। একটি ভিডিওও সামনে এসেছে। দুর্ঘটনায় আহত হন এক যুবক। তাঁকে আরজিকরে পাঠানো হলে ভর্তি করা যায়নি। কোনো ডাক্তার ছিলেননা। বিনা চিকিৎসায় মারা যান যুবক। অভিযোগ জানিয়ে মা বলেছেন, সুবিচার চাই। আন্দোলনরত ডাক্তাররা একে অস্বীকার করে কোনো বিবৃতি এখনও দেননি। দিলে আপডেট করে দেওয়া হবে। ... ...

এইসবের মাঝেই সীমান্তে আবার এক কিশোরীর লাশ! ফেলানি থেকে স্বর্ণা দাস! অষ্টম শ্রেণিতে পড়া একটা মেয়ে। কত দুর্ধর্ষ চোরাকারবারি ছিল স্বর্ণা দাস? গুলি করে মেরে ফেলল বিএসেফ। ত্রিপুরায় ওর ভাই থাকে, দালালের মধ্যমে সীমান্ত পার হচ্ছিল মায়ের সাথে। গুলি খেয়ে মরল স্বর্ণা দাস। বিএসএফ বরাবরই বলে আসছে সব অপরাধী। সব চোরাকারবারি! চোরাকারবারি সব বাংলাদেশের? এখান থেকে এমনে এমনেই চোরাকারবারি করা যায়? ওই পাশের কারও সাহায্য লাগে না? গুলি খায় শুধু আমাদের লোকজন? এমন একটা পরিস্থিতি যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত! ভাইরে কী একেবারে চলছে এইখানে যে এত মানুষ মরছে এখানে? আরে ভারতের নিজের দেশের আইনেই গুলি মারার আইন নাই, তবুও চলছে হত্যা! প্রথম আলো থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি, "জয়েন্ট ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গাইডলাইনস ফর বর্ডার অথোরিটিজ অব দ্য টু কান্ট্রিজ প্রটোকলের ধারা ৮(আই) অনুসারে, এক দেশের নাগরিক যদি বেআইনিভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করে বা কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আত্মরক্ষায় যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে, তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করাটাই বাঞ্ছনীয়।" ... ...


রেখা ঢাকায় থাকে, স্বামী একটি বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রডাকশান ম্যানেজার। উন্নত বাসা, সিকিউরিটির চোখ সর্বত্র, বাসায় সাহায্যকারী লোকেরও নেই অভাব। তারপরো এক ফোঁটা চোখ বোঁজা আর দম নেয়ার অবকাশ নেই রেখার! ওর কেবলি মনে হয় এই বুঝি ছেলেটাকে কেউ ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গেল! অথবা, এই বুঝি সে কোন অ্যাকসিডেন্ট করল! ... ...

দুর্নীতি নিয়ে অনেক অভিযোগ আসছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষের নাম-ধাম করে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি (এর আগে কিছু থাকলে দেখিয়ে দেবেন, জুড়ে দেব)। আজ ডাক্তার নেতা বিষাণ বসুর লেখা পেলাম। পুরোটা প্রাসঙ্গিক নয়, বড়ও, তাই নিজের মতো করে ছোটো করে লিখলাম। মূল পোস্টের লিংকও থাকবে নিচে, পুরোটা পড়ে নিতে পারেন। বিষাণ লিখেছেন, গত কয়েকবছর ধরেই ডাক্তারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মেডিকেল কলেজগুলোয় বিক্রি হয়। পরীক্ষার কত ঘণ্টা আগে কে প্রশ্ন পাবে, তার উপর দাম নির্ভর করে। অর্থাৎ পরীক্ষার আধঘন্টা আগে পেলে একরকম দাম, দুই ঘণ্টা আগে পেলে আরেকরকম (বেশি দাম)।কেনাবেচা কিন্তু সবার জন্য নয়। প্রশ্নপত্র বিক্রির সার্কিটের মূল কেন্দ্র - রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। সুহৃতা পাল যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তখন থেকেই এই ব্যবস্থার শুরু। সঙ্গে চক্রের পরিচালক হিসেবে মূল - অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। সুহৃতা উপাচার্য থাকাকালীন নিজের ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মেন্টর’ হিসেবে নিয়োগ করেন - ছেলে নিয়মিত মাসোহারাও পেত - নিয়োগ ঘটে পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ ছাড়াই। এছাড়াও ছেলের নবগঠিত কোম্পানিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের কন্ট্র্যাক্ট পাইয়ে দেন। সন্দীপ ঘোষ, সুশান্ত রায়, অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস প্রমুখ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ... ...

১। শতরূপ ঘোষ সন্দীপ ঘোষের ভাইপো। অসত্য ২। পুলিশের দাবী, ঘটনাস্থলে বাইরের লোক ছিলেন না। ( আগের সেকশনের পয়েন্ট ২০) আংশিকভাবে অসত্য। খুব সম্ভবত দুজন ডাক্তার ছিলেন, অভীক দে এবং বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। ( ১০০% নিশ্চিত না। কিছু বদল হলে বদলে দেওয়া হবে) ... ...

ইন্টারকমে রামাকৃষ্ণানজীর একটা ফোন এল, মিনিট তিনেক কথা বলে অধৈর্যভাবে ঘড়ির দিকে তাকাল সে, বিনীতার কাছ থেকে কোনও ফোন এল না এখনও। অরুণাভর বিরক্তি বাড়ছে, এইটার একটা ডিসশন নিয়ে নিলে অফিসের কাজে মন বসাতে পারে। এখনও অনেক কাজ বাকি, পরে শরীর কেমন থাকবে কে বলতে পারে? তাই এই প্রজেক্টটা শেষ হলে নিশ্চিন্ত হবে সে। ... ...

আজ জাতীয় শিক্ষক দিবস। আমি নিজে পেশায় একজন শিক্ষক-অধ্যাপক, উচ্চশিক্ষাকর্মী। সেই পেশায় অর্থ, প্রতিপত্তি, খ্যাতি, যশ সব-ই বেশ দুর্লভ, অন্ততঃ আমার অভিজ্ঞতায়। কেউ কেউ পেয়ে থাকলেও সিংহভাগ কর্মীই আলোর বৃত্তের বাইরেই কাটিয়ে দেন জীবন, আর সামগ্রিকভাবেই সম্মান বা সামাজিক প্রতিষ্ঠাও গত দুই-তিন দশক ধরে ক্রমশঃ নিম্নমুখী, শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন দুর্নীতি ও বিষাক্তচক্রের কথাও প্রায় সবাই জানেন, এবং সেই ধ্বংসের দায়ভার কেন্দ্র-রাজ্য, সবার-ই। নিয়োগ দুর্নীতি কী সাংঘাতিক আমাদের সামান্য ধারণা আছে। সে ক্ষত সারবে না কোনোদিন। তার উপরেই, এই কিছুদিন আগেই নীট পরীক্ষা নিয়ে বীভৎস কেলেঙ্কারি হয়ে গেলো। যদিও সে এখন অতীত, রিয়ারভিউ মিররে অপসৃয়মাণ দৃশ্য। এইগুলো তাও খুব বড়ো দুর্নীতি – খবর হয়, চোখে পড়ে, অল্প লেখালিখি হয়, এর আড়ালে খুচরো দুর্নীতিও কম নয়। ভেতরে ভেতরে যতই ঝাঁঝরা করে দিক, সেইসব দুর্নীতির বিচার দূরস্থান, সবসময় যে সেগুলো দুর্নীতি – তাইই প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এর-ই পাশাপাশি আরেক দৈত্য লাগামছাড়া বেসরকারিকরণ – ফলতঃ অকল্পনীয় অসাম্য, আর শিক্ষাকে ক্রমশঃ মানবাধিকার থেকে মুনাফাজাত পণ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া। গত ২০ বছর ধরে ফুলেফেঁপে এই দৈত্য গোলেম এখন আমাদের হাতের বাইরে। গতকাল প্রোফেসর অম্বর হাবিবের লেখায় পড়ছিলাম, এই বছরেই শুধু ২৪ লাখ ছাত্র পরীক্ষায় বসেছে ১ লাখ এমবিবিএস আসনের জন্য, যার আবার মাত্র অর্ধেক সরকারি, অর্থাৎ সাধারণের আয়ত্তে। ওদিকে ১১ লাখ ইউজিসি-নেট পরীক্ষায় রেজিস্টার করেছেন মাত্র চার হাজার ফেলোশিপ, আর চার হাজার লেকচারারশিপের সার্টিফিকেটের জন্য প্রতিযোগিতায়। অন্যদিকে জোর করেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কুয়েট, কমন ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন টেস্ট, তাতে শুধুই মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন অর্থাৎ এমসিকিউ-র জ্বলন্ত জঞ্জাল। সেই এমসিকিউতেও বিচার্য শুধুই গাদা মুখস্থবিদ্যা আর অপ্রাসঙ্গিক খুচরো তথ্য-উপাত্ত। এর-ও ফল সেই এক-ই। ‘পেটের মধ্যে শুকনো পুঁথির শুকনো পাতা খসখস গজগজ’। স্কুলশিক্ষাকে, বৃহত্তর শিক্ষাকে আরও একটু অপ্রাসঙ্গিকতার দিকে ঠেলে দিয়ে খুব সংকীর্ণ ঐ কম্পিটিশন-সাকসেস মার্কা কিছু ট্রেনিং-এর দিকে ঝুঁকে পড়া ছাড়া গতি নেই ছাত্রদের। প্রোফেসর হাবিব এক্কেবারে শেষে যথার্থই লিখেছেন, ‘coaching no longer supplements the regular education, but supplants it.’ ... ...

আফগানিস্তান, বেলারুশ, বুরনিকা ফাসো, মিয়ানমার, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, হাইতি, ইরান, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, মালি, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইউক্রেন, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এই দেশের নাম গুলোর সাথে এখন বাংলাদেশ! কিসের তালিকা এইটা? এইটা হচ্ছে আমেরিকা তার নাগরিকদেরকে এই সব দেশে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এখানে এতদিন বাংলাদেশ ছিল না। মাশাল্লাহ এক মাসে বর্তমান সরকার কৃতিত্বের সাথে এই তালিকায় নাম লেখিয়ে ফেলতে পারছে। আমি গত এক মাস ধরেই এই প্যাঁচাল লিখে যাচ্ছি যে দেশে আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছু নাই। আমেরিকা তাদের সতর্কবার্তায় লেখা হয়েছে, "বেসামরিক অস্থিরতা, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ ভ্রমণ করবেন না। সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে সতর্ক করে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এতে আরও বলা হয়, এই সময় স্বল্প বা আগাম সতর্কতা ছাড়াই সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন গন্তব্য, বাস–ট্রেন স্টেশন, বাজার বা শপিংমল, রেস্তোরাঁ, ধর্মীয় স্থান, স্কুল ক্যাম্পাস এবং সরকারি স্থাপনা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।" এমন পরিস্থিতিতে সরকারের জবাব তৈরিই আছে, সব আওয়ামীলীগের ষড়যন্ত্র! তারাই দেশেকে অস্থিতিশীল বানাচ্ছে। এদিকে চোখের সামনে বিএনপির নেতাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ। এক মাসের মধ্যে এইটা কী চাইছিলাম আমরা বলা শুরু হয়ে গেছে। ... ...

তন্ময়ের বাবা চিৎকার করে বললেন- বুলি মুখ সামলে কথা বল। বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাও শিখিস নি। জানিস আমি কি করতে পারি? আর যাকে নিয়ে এসেছিস সে অন্য কোথাও নোংরামিটা করে প্রেগন্যান্ট হয়নি তার কোন প্রমাণ আছে। অর্চনাও সূর চড়িয়ে বলল- মামা একদম চোখ রাঙিয়ো না, এতক্ষণ অনেক বাজে বাজে কথা বলেছ। ছোটলোকের বাবা অন্যকে ছোটলোক বলছে। লজ্জা করে না! তুমি খুব ভাল করেই জান যে কার সন্তান তা প্রমাণ করতে সময় লাগেনা। আর তনু, তোর থেকে তো রাস্তার কুকুর বেড়াল ভাল রে। তারা অনেক বেশি বিশ্বস্ত। চেনা লোক বিপদে পড়লে তারা এগিয়ে আসে, তোর মত নিজের বাপের ভয়ে পালায় না। তুই একটা মেরুদণ্ডহীন অমানুষ। আর মামা তুমি আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। তোমার এই বড় বড় কথা, রোয়াব, দম্ভ, সব না একদিনে ঘুচিয়ে দেব। আর তার জন্য থানায় একটা অভিযোগ লেখালেই যথেষ্ট, এই কেসে কোনো মাতব্বর তোমাদের বাঁচাতে পারবে না। এরপর আমি তো নয়ই, আমার বাড়ির কারো সাথে কোনোরকম যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করবে না। আমরা ভদ্রলোক তাই নীচ, ছোটলোকদের সাথে সম্পর্ক থাকাটা কাম্য নয়। ... ...

এ আমি কি করলাম! নিজের সম্পত্তি নিজেই লুঠ করে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় সারারাত ছটফট করেছি। সকালের দিকে চোখটা একটু লাগতেই আবার দেখলাম এক ভয়ঙ্কর স্বপ্ন। ‘আমি একটা জলাশয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। কয়েকটা ছায়ামূর্তি দূর থেকে আমার দিকে সমানে ঢিল ছুঁড়ছে। নিজেকে বাঁচাতে আমি ছুটতে ছুটতে জলাশয়ের অন্য দিকে চলে গেলাম। খুব ঘেমে গেছি, চোখে মুখে জলের ছিটে দেওয়ার জন্য জলাশয়ের দিকে একটু ঝুঁকতেই আঁতকে উঠলাম। একটা হায়নার প্রতিবিম্ব জলে ভেসে উঠল। ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম, ঘুম ভেঙে গেল। ... ...

বলা হচ্ছে যারা ভারত বিরোধিতা না করবে তারা দেশপ্রেমিক না! কোন বিকল্প নাই! বুঝেন এখন! সেতু উপদেষ্টা পদ্মা সেতুর টাকা বাঁচিয়ে কত বড় কাজ করছে এই কৃতিত্ব নেওয়ার পরে গতকাল বলছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ জনগণের কোন উপকার হয় নাই! এই বিষয়টাও বুঝতে হবে আপনাদের। পদ্মা সেতুতে রেললাইন হলে কেন জনগণের উপকার হবে না? পশ্চিম, দক্ষিণ বঙ্গের ওই অংশ পুরোটা রেলের আওতায় এসে যাচ্ছে, এইটা ভালো না? না! কেন? কারণ বহুদিন ধরেই একটা গুজব বাতাসে ঘুরছে এই রেল লাইন বানানোই হচ্ছে ভারতের ট্রেন যেন সোজা কলকাতা থেকে ঢাকা আসতে পারে এই জন্য! দেশের উপর দিয়ে রেল করিডর দেওয়ার কথা এই জন্যই এই পদ্মা সেতুতে রেলের ব্যবস্থা, অনেকে আরও একটু এগিয়ে বলে পদ্মা সেতু বানানোর জন্য সরকারের যে এত প্রবল ইচ্ছা ছিল তা এই কারণেই, ভারতকে দেশের ভিতর দিয়ে রেল করিডর দেওয়া! খুলনা, যশোর, বরিশাল জেলার মানুষকে কেউ জিজ্ঞাস করে না কেন এই সেতু কেন বানাইছে? জীবনে দুই একবার যে ওইদিকে গেছি, তাতেই গলা ছেড়ে কান্না আসছে যে কেন সেতু নাই! ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে এই অঞ্চলের মানুষ। আমি অবাক হয়ে গেছি এই কারবার দেখে! যাদের সুযোগ থাকে তারা লঞ্চে যাতায়াত করত তখন। কিন্তু সবার তো সেই সুযোগ ছিল না। যশোর, খুলনা, বাগেরহাট এরা কই যাবে কী দিয়া যাবে? না, সেতু বানাইছেই ভারতের জন্য! ওই যে বিলো অ্যাভারেজ আইকিউ! এই কথার পরে এখন উপদেষ্টার বুদ্ধিও মাপতে পারেন আপনারা, কোন সমস্যা নাই! ... ...


যতক্ষণ কোনো প্রকল্প ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব এবং ধর্মীয় মৌলবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায় ততক্ষণই তা ভালো। ধর্মনিরপেক্ষতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে বিপুল ধার্মিক জনতার নৈতিক বোধকে অসাম্প্রদায়িক লক্ষ্যে চালিত করার এ এক উপায় হতে পারে। তবে এই উপমহাদেশে রাষ্ট্রশক্তির কাছে মৌলবাদ প্রশ্রয় পায়। সেখানে লোকধর্ম তার বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়তে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ... ...

মার কোলে মাথা রেখে শুলাম, মা ধীরে ধীরে চুলে বিলি কাটতে লাগল। আর তো কটা দিন, একটু মায়ের আদর খেয়ে নিই। বিয়ের পর অমিতের মাঝে বিলীন হয়ে ভালবাসায় প্লাবিত হব, মিলনসুখের মধুর তরঙ্গে দোল খাবে তৃপ্ত শরীর ও মন তবু থেকে থেকেই মিস করব পৃথিবীর সবথেকে নিশ্চিন্ত আশ্রয়, স্নেহময়ি মায়ের কোল। ঈশ্বর দুঃখকষ্ট দেওয়ার সময় কত বেহিসেবি হয়, সুখের বেলায় এত নিক্তি মেপে কাজ করে কেন বুঝিনা। একটা পেতে গিয়ে অন্য একটাকে হারাতে হবে কেন? একটু উদার হয়ে দুটোই কি একসাথে দিতে পারে না। ... ...

এটা আগস্ট ৩১ পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত নোট। যাঁদের ধৈর্য্য আছে একটু দেখতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাদ গেলে ধরিয়ে দেবেন। ভুল থাকার সুযোগ কম, তবু বাইচান্স কিছু থাকলে বলবেন। জুড়তেও থাকুন। আমিও থাকব। আপডেটও করব সময় মতো। সূত্রগুলোর লিংক সবকটা রাখা হয়নি। থাকলে সেটাও দেবেন। আমিও দেব। আর দয়া করে এই সুতোয় আবোলতাবোল লেখা থেকে বিরত থাকলে ভালো হয়, আমার কাছে এক নম্বর পয়েন্টটাই প্রতিবাদের জন্য যথেষ্ট। ... ...

সারা দেশে শিক্ষকদের অপমান অপদস্থের একটা মিছিল শুরু হইছে। কোথাও যদি না হয় তাহলে উশখুশ শুরু হয়ে যাচ্ছে, এখানে কেন কিছু হচ্ছে না? বয়স্ক শিক্ষকদের রীতিমত অপমান করে জোর করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। এই ব্যাপারে আমাদের আইন উপদেষ্টা বলেছেন এগুলা হওয়া ঠিক না, কিন্তু শিক্ষকরা এতদিন দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন দিয়েছে তাই এগুলা হচ্ছে। আইন উপদেষ্টার মতোই কথা না? একটা ভিডিও দেখছি যেখানে এক শিক্ষক পদত্যাগ পত্রে জোর করে সাক্ষর দেওয়ার পরে তিনি দুম করে কাঁপতে কাঁপতে পরে গেলেন।ধরাধরি করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সম্ভবত। গতকাল শুনলাম তিনি মারা গেছেন! এগুলার কোন মূল্য নাই। একদল মানুষ এখন যাই হচ্ছে, যে অনিয়মই হচ্ছে তাকেই চোখ বন্ধ করে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। প্রিন্স মাহমুদ, যিনি বাংলাদেশের খ্যাতনামা সুরকার। তিনি পুরো আন্দোলন জুড়েই অন্ধ সমর্থন দিয়ে গেছেন ছাত্রদের। এবং তিনি এখন পর্যন্ত ওই ঘোর থেকে বের হতে পারেন নাই। তিনি আরেকজনের একটা স্ট্যাটাস শেয়ার করছেন। যা তার নিজেরও বক্তব্য। সেখানে লেখা শিক্ষক যদি দলদাসে পরিণত না হয় তাহলে বখাটে ছাত্রও সেই শিক্ষকের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য। দলদাস শিক্ষক ইতর ছাত্র থেকেও অধম। এই যে মবের প্রতি উৎসাহ দেওয়া, তারা জানে কী হচ্ছে পুরো দেশে? তাদের উৎসাহ পেয়ে সামনে আরও কী কী হতে পারে? কালকে দেখলাম আরেকজন লিখেছে যারা এগুলা নিয়ে মায়া দেখাচ্ছে তারা জুলাই মাসে কই ছিল? একটা শ্রেণিই না কি জুলাইয়ে চুপ থেকে এখন এইসবের জন্য মায়া কান্না করছে! ফ্যালাসির কোন মাত্রা কোন ধারণা আছে কোন? ... ...