
ভাস্কর লিখেছিলেন ‘শেষ নেই এমন এক পাহাড়ে অনবরত চড়তে থাকার সঙ্গে কবিতা লেখার তুলনা করা যায় কিছুটা’... সেই বোবাপাহাড়ের ঠিক তলায় দাঁড়িয়ে আমি, সিসিফাসের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছি যেন, তবু বিশ্বাস করি এরপরের স্টপেই আলো-ভরা উপত্যকা আসছে একটা, আর অনেক চিঠি হাতে সেখানে আমার জন্য নিশ্চয়ই একটা আস্ত ডাকবাক্স বানিয়ে রেখেছেন একজন রুপোলি চুলের নিঃসঙ্গ মানুষ। ... ...

কয়েক দিন ধরে মনে হচ্ছে যে বাড়ি গুলোতে জীবনের দিন সব কাটিয়ে এলাম শেষ বেলায় তাদের কথা একটু লিখে যাই। যাই বলছি বটে যাওয়ার নাম গন্ধ নেই। জাঁকিয়ে বসেছি মাটি মায়ের কোল আঁকড়ে। লিখতে অসুবিধা হয়। আস্তে আস্তে লিখবো খণ্ড খণ্ড। সেভ করতে গিয়ে লেখা হারিয়ে ফেলি। অনেকের জীবন এক বাড়িতে কেটে যায়। আমাদের তা হয়নি। ছোটবেলা থেকে কতো বাড়িতে থাকলাম। যেটুকু মনে আছে লিখতে থাকি। সুখে জড়ানো না হোক স্বস্তি শান্তি তো ছিল। মা বাবা ভাইবোন, দুএকজন সহায়ক, গৃহপালিত নিয়ে মধবিত্ত পরিবার। হাসি খুশি মোটামুটি খেয়ে মেখে মন্দ কাটেনি বলতে পারি। যাঁরা পড়বেন জেনে বুঝেই অপ্রয়োজনের আনন্দে পড়বেন। ... ...



দেওয়ানি লাভ করার মাত্র ৭ বছরের মধ্যেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে একেবারে প্রান্তিক করা ও সমাজকে ক্রমশ পিতৃতান্ত্রিক করে তোলার জন্য বিভাজনমূলক আইন চালু করার উদ্যোগ নেয়। প্রথমে হেস্টিংস ও পরে কর্নওয়ালিসের উদ্যোগে তৈরি হয় ঔপনিবেশিক হিন্দু আইন, যার নিদর্শন প্রাক্-পলাশি বাংলায় ছিল না। ১৯৫৫ সালে হিন্দু কোড বিল পাস না হওয়া পর্যন্ত এই ঔপনিবেশিক আইনটি এ দেশে পুরোদমে বিদ্যমান ছিল। কোন প্রেক্ষাপটে ও কী উদ্দেশ্যে ঔপনিবেশিক শাসকরা এই আইন তৈরি করে, তার সুলুকসন্ধান করাই এই ধারাবাহিক প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য। ... ...

আহা, ফিরে আসি হাৎরাসে। এ যোগীনদাদা সে যোগীনদাদা নয়। শোনা যাচ্ছে যোগীরাজ্যের যোগীনদাদা এখনও হাৎরাসে গিয়ে উঠতে পারেননি। এমনকি, একটা এফ-আই-আরও হয়নি সাকারবাবার নামে। ভালোই। রেগেমেগে শেষ পর্যন্ত পৌঁছতেনও যদি দাদা (যোগীন অর্থাৎ যোগীরা বাবাও আবার দাদাও), তাহলে আবার অনত্থ হয়ে যেতে পারত, তাই না? যোগীনদাদা শুনেছি আজকাল বুলডোজার ছাড়া আর কিছু চড়েনই না! ... ...

'দেখুন আমাদের সমালোচনা ছিল মূলত দু'তিনটে জায়গায়। কোটেশ্বরের সাংগঠনিক ক্ষমতা, পার্টির প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কোনও কথা নেই। ওর মতো সাহসী সংগঠক পাওয়া মুশকিল। কিন্তু লালগড় আন্দোলনে ও সংযম রাখতে পারল না, তাই পার্টির মূল কাজ থেকে অনেকটা সরে গেল। ওকে আমরা বলেছিলাম, ভুল করছ। এভাবে মানুষ খুন করা ঠিক হচ্ছে না। যথেচ্ছভাবে মানুষ খুন করে দলের সংগঠনে বৃদ্ধি হবে না। বরং আমাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খারাপ হয়ে যাবে। তাছাড়া সংগঠনের বিস্তার করতে হবে গোপনে। গোপন পার্টিকে টেলিভিশন চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিয়ে, ফোনে ইন্টারভিউ দিয়ে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছিল কোটেশ্বর। যা আমাদের পার্টির অনেক ক্ষতি করেছে। ... ...

“সত্যিই তো… টেগোর কেন?” বলল বিনীতা। “ইয়েস। এই একটা প্রশ্ন লোককে হন্ট করবে। একজন জিজ্ঞেস করবে আর একজনকে - হোয়াই টেগোর? সে আবার জিজ্ঞেস করবে তিন নম্বর লোককে - হোয়াই টেগোর? এই চেন চলতে থাকবে আর দোকানের নাম ছড়িয়ে পড়বে ইন ওয়ার্ড অফ মাউথ। নতুন দোকান, তাও সেক্টর ফোরে। পাবলিসিটি তো লাগবেই,” ছদ্ম গাম্ভীর্যের সাথে বলল রঞ্জিত। “আইডিয়া আচ্ছা হ্যায়,” মাথা ঝাঁকিয়ে বলল অরুণাভ। “ওই নামের জন্যই লোকে দোকানে আসবে। আর বৃষ্টি যদি হয় তবে ছাট আসবেই,” বলল রঞ্জিত। “মানে দোকানে লোকজন এলে বিক্রিও হবে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আর ফ্যাশন…?” পুরোন কথায় ফিরে এল দাস সাহেব। ... ...

বাংলাদেশের অবস্থা যে ভয়াবহ, সে আর নতুন করে বলার কিছু নেই। ছাত্ররা গুলি খাচ্ছেন। ট্যাঙ্কও নামছে শুনলাম। আমার তালিকায় থাকা ছেলেমেয়েরা দেখছি "আন্দোলনে যাচ্ছি" লিখে রাস্তায় নেমে পড়ছেন। ইন্টারনেট নাকি জায়গায় জায়গায় বন্ধ। মেদিনিপুরের ভারত-ছাড়ো আন্দোলনের ইতিহাস মাথায় আসছে। যুবকরা পকেটে নাম-ঠিকানা লেখা কাগজ নিয়ে মিছিলে নামতেন সেই সময়। কেউ ফিরতেন, কেউ ফিরতেননা। আবু সাইদ ফেরেননি। ঢাকা তিয়েন-আন-মেন-স্কোয়ার হবে কিনা জানিনা, তবে আবুর ছবি তিয়েন-আন-মেন-স্কোয়ারের সেই যুবকের মতোই আইকনিক হয়ে গেছে। কোনো সন্দেহ নেই, হাসিনা সরকার বৈধতা হারিয়েছে। ভোটের ফলাফল যাই হোক, বিদায়ঘন্টা বাজছে। এইসব কান্ড ঘটানোর পর কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনা। এরশাদ পারেননি। সাম্প্রতিক কালে এর চেয়ে ঢের কম জনজাগরণে পশ্চিমবঙ্গেও উল্টে গিয়েছিল রাজ্যপাট। হাসিনার যাওয়াও সময়ের অপেক্ষা। ... ...

অশরীরীরা যখন বন্ধু হয়ে ওঠে - তারা অনেক মুশকিলই আসান করে দেয় - তেমন বন্ধু মানুষদের মধ্যে কোথায়? ... ...

দিলদারে স্বপ্নগুলি যায়নাতো ফাঁকি। ঘটে যাওয়া সত্যিগুলি ফিরে ফিরে বলে যায় --- জীবনের আছে আরো বাকি ! ... ...

সরকারের এ আক্রমণাত্মক আচরণে এটি স্পষ্ট যে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে শিক্ষার আন্দোলন থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিনত হওয়ায় শাসকগোষ্ঠী ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়েছে। নানা রকম হামলা-মামলার মধ্যেই বছর দুয়েক ধরে চলমান কোটা আন্দোলনে এই প্রথম "স্বৈরাচার!" "স্বৈরাচার!" শ্লোগান উঠেছে। ... ...

ধরুন শাহবাগ আন্দোলন হয়নি, গণজাগরণ মঞ্চ বলে কিছু এই দেশে হয়নি। সাকা, মুজাহিদ, নিজামি, কামরুজ্জামান সবাই এখনও এই ভূখণ্ডেই বাস করছে। জামাত আগের মতোই একটা ধরার মতো শক্তি। এমন একটা পরিস্থিতিতে কালকের ঘটনা ঘটল! অট্টহাসি চিনেন? আহ্লাদে আটখানা কাকে বলে জানেন? সব দেখতে পারতেন! পাকিস্তানের আগেরদিন নাই, থাকলে গতকাল যা হয়েছে পাকিস্তানের রাস্তায় মিষ্টি বিলানো হত। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিত যে আমাদের কোন ভাইকে যেন অন্যায় ভাবে অত্যাচার করা না হয়! তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের বোন! এগুলা এক সময় নিয়ম করে দেখছি আমরা। খান...র পুলায় নায়েবে আমির মনের ভিতরের সুখানুভূতি চাপা দিয়ে গম্ভীর স্বরে টিভি ক্যামেরার সামনে বলত, খুব অন্যায় হচ্ছে! বৈষম্য দূর করে সঠিক ইশতেহার দেওয়া হোক! আমাদের কপাল ভালো যে সেই দিন দেখতে হচ্ছে না। এখন একবার চিন্তা করেন যারা রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে আন্দোলন করল, এই দেশে রাজাকারদের শাস্তি নিশ্চিত করল তাদের কাছেই এই স্লোগান বুলেটের মতো বিঁধছে। আর যারা সংগ্রাম করছে, যারা রাজাকাদের অত্যাচারে স্বজন হারিয়েছে, সরাসরি অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তাদের কাছে কেমন লাগতে পারে এই স্লোগান? ... ...

“ ওঃ নো! ডেমন মীনা আগেইন! ও যাতে এই ম্যাচে অন্তত খেলতে না পারে সে ব্যবস্থা আমাদের করতেই হবে…” ১৯৫৪ সালের টেরেন্স শোন ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার আগে বিপক্ষের রোশনারা ক্লাবের মহিলা টিমের ক্রিকেটারদের তালিকায় থাকা ফাস্ট বোলারটির নাম দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসলেন ব্রিটিশ হাই কমিশন ওমেন্স ক্রিকেট টিমের মেমসাহেব খেলোয়াড়রা! দ্রুত শুরু হল সেই পঞ্চদশী কিশোরীকে বাদ দেওয়ার জন্য নানা চেষ্টা-অপচেষ্টা! ... ...

চারপাশের দুনিয়া ... ...


শিক্ষকপ্রতিম লেখক কুণাল বসুর পরামর্শে আমিন মালুফের লেখা পড়তে শুরু করেছি। আমি অশিক্ষিত পাঠক। কেউ যেন আবার "এদ্দিনে পড়লেন" ভেবে মনে মনে উপহাস শানাবেন না দয়া করে। গরীবের ঘোড়ারোগের মত অশিক্ষিত পাঠক উচ্চাঙ্গের লেখা পড়ে ফেলে ভারী অস্বস্তি বোধ করে। অনুভূতি বোঝানোর ভাষা নেই। মতামত দেবার যোগ্যতা নেই। সব চলে গেলে পড়ে থাকে কিছু রাবিশ লেখার ইচ্ছা। যেমন তেমন নয়। অনুপ্রাণিত রাবিশ। ... ...

এদিকে এক ইংরেজ সাহেব আসছেন, তিনিও পরেরদিন এই ট্রেনে সিলেট যাবেন। কিন্তু প্রথমশ্রেণীতে উঠতে গিয়ে শুনলেন এখানে তিনি আছেন, অন্য কামরাগুলোতেও তাঁরই লোকজন, তখন সাহেব তাঁদের ঘুমের ব্যাঘাত করা ঠিক হবে না ভেবে স্টেশনের বিশ্রামাগারে বসেই রাত কাটিয়ে দেন। তিনি কোন সময় কুলাউড়ায় এসে পৌঁছবেন এইটা হিসাব করে সিলেট থেকে অগ্রগামী এক দল রাতেই এসে হাজির হয়েছিলেন কুলাউড়ায়, সিলেটের স্বনামধন্য সব ব্যক্তিবর্গ। সবাই রাত কাটালেন স্টেশনে। কুলাউড়ায় পরেরদিন লোকে লোকারণ্য! সবাই ফুল মালা নিয়ে হাজির। একনজর দেখতে চায় সবাই। এর মধ্যে সিলেট থেকে আগত ওয়েলস প্রেসবিটেরিয়ান চার্চের মিসেস ইথেল রবার্টস রেলের কামরায় এসে কথা বলে গেলেন। সিলেটে তাঁদের বাড়িতেই উনার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। তাঁরা বাড়ি ঘর ছেড়েই ক্ষান্ত হন নাই, কুলাউড়ায় এসে দেখাও করে গেলেন! কুলাউড়ায় দেওয়া হল আরেক সংবর্ধনা। উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে ট্রেন চলল সিলেট মুখি। ... ...


এই কেল্লার ভেতর একখানা নতুন গির্জা, স্কুল, খেলার মাঠ এইসব আছে। শনিবার বলে সবই বন্ধ। সেখান থেকে আবার দেবকা সৈকতে এসে টানা পাঁচিলের ওপর বসে আরব সাগরের হাওয়া খাওয়া গেল। সাবুর পাঁপড়, ঝালমুড়ি, টকঝাল চানাচুর এইসব ফেরিওয়ালারা ঘোরাঘুরি করছে। এই সৈকত রোজ পরিষ্কার করা হয় বলে মনে হল, প্লাস্টিক বা অন্যন্য নোংরা নেই। একজায়গায় ধাপ ধাপ করা আছে সৈকতে নামার জন্য। সেখানে দুখানা চৌকো বারান্দাওলা ঘরের মধ্যে কিছু জলখাবারের কাউন্টার, এছাড়া কোনো স্থায়ী খাবারের দোকান নেই। একটু আগে যে নির্মীয়মাণ রাস্তা দিয়ে দেবকা সৈকতে এসেছি, সেখানেই ফেরত যেতে হল তন্দুরি পমফ্রেট ইত্যাদি খাবার জন্য। এই রাস্তার দুধারে যাবতীয় হোটেল, খাবার জায়গা, ট্যাটু পার্লার ইত্যাদি। রাস্তাতেও ট্যাটু করানোর জন্য কেউ কেউ বাক্স নিয়ে বসে আছে। ... ...