
মধ্যরাতে ইতিহাস লিখল মেয়েরা। আরজি করের ঘটনায় বাংলার বুকে ‘মেয়েরা রাত দখল করো’ ডাকের জেরে যে প্রতিবাদ, অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্ম নিল তা এককথায় অভূতপূর্ব, ঐতিহাসিক। এমনটা বাংলার বুকে আর কখনও ঘটে নি। ... ...

কলকাতায় রাত গভীর হচ্ছিল, আর আমি ফাঁকে ফাঁকে আপডেট দেখে যাচ্ছিলাম। প্রচুর সাধারণ মেয়ে রাস্তায়। দেখে, কোনো খবরাখবর না নিয়েই, ফুর্তি পেয়ে একটা পোস্ট করি, যে, শাঁখ-টাখ নিয়ে অনেক চুলোচুলি হয়েছে, কিন্তু তর্কটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। শাঁখ কেউ বাজাচ্ছেনই না। রাস্তায় নেমে পড়ছেন। আর প্রতিবাদ ছাড়াও রাত্তিরের জমায়েতের আরেকটা ভালো ব্যাপার হল, দলে দলে হিন্দু রমনী মধ্যরাতে হ্যাটাং হ্যাটাং করে রাস্তায় ঘুরবে, বীরদের পক্ষে এটা হজম করা কঠিন। ... ...

আরজিকর হত্যা নিয়ে সত্যি বলতে কি, আমি কিচ্ছু জানিনা, এবং খুবই দিশাহারা। বাকিদের মতই নানা জিনিস পড়ছি, দেখছি। 'ভিতরের খবর' কিছু জানা নেই। প্রথম দিন খবরটা পেয়ে বাকিদের মতোই শিহরিত হয়েছিলাম। পড়েছিলাম, অধ্যক্ষ প্রথমে মেয়েটির বাড়িতে খবর দিয়েছিলেন, আত্মহত্যা। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ। পড়লাম প্রথমে ঠিকঠাক ময়নাতদন্ত হচ্ছিলনা। ওদিকে অধ্যক্ষকে কিছুতেই সরানো হচ্ছিলনা। তারপর পুলিশ ঝপাঝপ একজনকে গ্রেপ্তার করে ফেলল। গরীব লোক, সিভিক ভলান্টিয়ার। শুনে সন্দেহ করেছিলাম, ধনঞ্জয়-২ হতে চলেছে। কাউকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। নানা জায়গায় নানারকম চক্র থাকে, শাসকদলের সঙ্গে যোগসাযোগও থাকে, তাদের পক্ষে নানারকম ষড়যন্ত্র অসম্ভব কিছু না। বিশেষ করে অধ্যক্ষটিকে না সরিয়ে যেভাবে অন্যত্র পাঠান হল, সে তো খুবই সন্দেহজনক। এখন যদিও ফাঁসানো অত সোজা না, সিসিটিভি আছে, ফরেনসিক উন্নত। তবুও। ... ...

বুদ্ধবাবুর সংস্কৃতিবোধ, সাহিত্য ও সিনেমা প্রেম নিয়ে আমি কিছু লিখব না। অনেকে লিখেছেন।আমি ওঁর রাজনীতি নিয়ে কিছু কথা বলব। সেখানে কিছু সমালোচনা যেমন থাকবে তেমনি ওঁর বিরুদ্ধে অতি বামদের কিছু সমালোচনার জবাবও থাকবে। ... ...

নির্বাচিত সরকার হয় ৫ বছরের। নেট খুলে দেখি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারই নাকি ৬ বছরের। প্রথমে ভাবলাম, গুল। তারপর মনে হল, হতেও পারে। কতকিছুই তো নতুন হচ্ছে। সেনাবাহিনী সমর্থিত, এনজিও পরিচালিত, বিপ্লবী সরকার - এরকম ভুতুড়ে জিনিস তো আগে দেখিনি। পড়িওনি। সিলেবাসের বাইরে। সবই সম্ভব। তারপর ইউনুসের একটা বক্তৃতা দেখলাম, কে জানে কবেকার। সেখানে তিনি আবেগ দিয়ে বলছেন চাকরি হল গোলামি, গোলামি থেকে মুক্ত হন। শুনে ভেবেছিলাম অ্যামওয়ের বিজ্ঞাপন। সেখানেও সবাই মুক্তি-মুক্তি করে চিল্লায়। তারপর ভেবে দেখলাম, সরকারেও সম্ভব। চাকরিই না করলে আর কীসের কোটা। সবই মায়া। পড়লাম, স্বাধীনতার চূড়ান্ত হয়েছে, ওদেশে কর্ণধাররা টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিচ্ছেন ঝপাঝপ, 'স্বেচ্ছায়', ছাত্ররা রাজনীতির অধিকার ছেড়ে দিচ্ছেন, 'স্বেচ্ছায়', সংবাদমাধ্যমে 'দুর্বৃত্ত' না বলে 'জনতা' বলা হচ্ছে, 'স্বেচ্ছায়', সংখ্যালঘুরা শাহবাগে প্রতিবাদ করছেন, সেটা না দেখিয়ে বাতাবীলেবুর ফলন নিয়ে বিপ্লবী প্রতিবেদন আসছে টিভিতে। সবাই স্বাধীন, সবই অনিত্য। ... ...

- ভাই, আমার বাসায় হামলা হতে চলেছে। - সে তো হবেই। পুরোনো রেজিমের ফাশিস্তরা তো এখনও সব মুছে যায়নি। চিহ্ন থেকে গেছে। - পুরোনো রেজিম না ভাই। এরা তো আগেরদিনই স্লোগান দিচ্ছিল। - কী যে বলেন, তারা আপনার বাসায় হামলা করবে কেন। ইন্টারনেটে দেখেননি সবাই হাতে হাত দিয়ে মন্দির রক্ষা করছে, মূর্তি আগলাচ্ছে? আপনার ওখানেও কিছু রক্ষা করতে গেছে মনে হয়। - না ভাই, রক্ষা না, আমারই রক্ষা নাই মনে হচ্ছে। পাশের বাসায় লুটপাট করছে। - আরে হতাশ হবেননা। একটু ধৈর্য ধরেন। আপনার বোঝার ভুল হতে পারে। তাছাড়া বিপ্লবের পর এসব একটু তো হবেই। ফরাসী বিপ্লবের পরও হয়েছিল। হয়নি? অরাজকতা কেটে গেলেই দেখবেন সকালে লাল সূর্য উঠছে। ... ...

এই মুহূর্তে, ঠিক বাংলাদেশের মতো আন্দোলন চলছে আরেকটা দেশে। প্রায় অবিকল। কেনিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ। আইএমএফএর ঋণে প্রায় আটকে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল নানা ভাবে। চিন তাদের উচ্চাকাঙ্খী বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বড় বিনোয়োগ করেছিল কেনিয়ায়। এবং চিনের সবসময়ই আইএমফএর বিকল্প একটা ফাইনান্সিং এর ব্যবস্থা থাকে। আর ছিল আইএমএফএর প্রেসক্রিপশন, যে, সরকারি খাতে খরচা কমাও, ভরতুকি বন্ধ কর। এই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী একটা আর্থিক বিল আনা হয় কেনিয়ায়, যেটাতে জনতার বহু সুযোগসুবিধা কাটছাঁট করা হয়। গরীব দেশ, সরকারি দুর্নীতিও প্রচুর। এর পরেই আন্দোলন শুরু হয়, কয়েক মাস আগে। সরকার প্রথমে দমনের চেষ্টা করে। তাতে আন্দোলন বেড়ে যায়। গোটা কেনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার কিছুদিন পরে পিছু হটে। মাসখানেক আগে প্রেসিডেন্ট রুটো বিলটা বাতিল করে দেন। ... ...

ঠিক কথা, বিপ্লব বা প্রতিবিপ্লব যাই হোক, তাতে সব সময় সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। রাশিয়ায় বিপ্লবে উইন্টার প্যালেস লুঠ হয়েছিল। শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি ভবন। রোমানিয়ায় চাওসেস্কুর ভবন লুঠ হয়েছিল, তারপর তো ফায়ারিং স্কোয়াড। কিন্তু এগুলো সবই চিহ্নিত শত্রুপক্ষ। তাদের উপর আক্রমনে নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। কিন্তু রুমানিয়ার হিংসায় একজন ইহুদির উপর আক্রমণের কথা শুনেছেন? শ্রীলঙ্কায় একটি তামিলও আক্রান্ত হয়েছে বিদ্রোহের সময়? কোনো গায়কের বাড়ি লুঠ হয়েছে রাশিয়ায়? হয়নি, কারণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও বিপ্লবীরা একটা প্রাধান্যমূলক অবস্থানে অন্তত থাকেন। তাঁদের অ্যাজেন্ডাতেই কাজ হয়। ভাবুন দেখি, লেনিন বিপ্লব করলেন রাশিয়ায় আর কার্নিলভ নিজের মতো লোক মেরে যাচ্ছেন, এটা হলে কীসের ছাতার বিপ্লব হত? ... ...

হইচইয়ে আমি শেষ সিনেমা, খুব সম্ভবত, দেখেছিলাম, কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন। তাতে বেশ কটা গান ছিল। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল "কেনিয়ার জঙ্গলে বিপদের তাঁবু / অপরাজিতের নাম আজও কাকাবাবু"। সত্যি, এটাই লিরিক ছিল। সিনেমায় অনেক দৃশ্যও ছিল(না হলে সিনেমা হবে কীকরে)। আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছিল যেটা, সেটা হল, কেনিয়ার জঙ্গলে সন্তুকে সাপে কামড়াল। সঙ্গে সঙ্গে সন্তু মাথা ঘুরে উল্টে পড়ে প্রায়। এত বিষ। কাকাবাবু ঝাঁপ দিয়ে পড়ে রক্ত চুষে থুথু করে ফেলতে লাগলেন। একটু পরে দেখা গেল, সন্তু, কাকাবাবু দুজনেই হাল্কা করে কেলিয়ে পড়েছেন, কিন্তু মোটের উপর সুস্থ। কীকরে হল? কাকাবাবু বললেন “বিষ টা আমরা শেয়ার করে নিয়েছি।” ... ...

দূরদর্শিতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ। সভ্যতা কেবল ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই প্রবৃত্তিকে লাগাম পরায়নি, সে কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল আইন, আচার আর ধর্ম। এগুলি বর্বর জীবনেরই উত্তরাধিকার, তবে প্রবৃত্তির প্রভাব এখানে কম, প্রকরণের বেশি। কিছু কার্যকলাপকে অপরাধ বলে দাগানো হল, আর যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও হল; অন্য কিছু কাজ—যদিও আইনের চোখে অপরাধ নয়—সমাজের চোখে ন্যক্কারজনক বলে চিহ্নিত হল। জমির ব্যক্তিগত মালিকানা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার ফলে তার পিছু নিয়ে এল নারীর বশ্যতা স্বীকার, আর প্রায়শই, একটি দাস-শ্রেণীর নির্মাণ। একদিকে যেমন গোষ্ঠীর ভালোমন্দের ভার ব্যক্তির ওপর চাপানো হল, অন্যদিকে তেমনই—নিজের গোটা জীবনকে নিয়ে ভাবার অভ্যেস তৈরি হওয়ার ফলে—ব্যক্তি আরো বেশি করে ভবিষ্যতের কথা ভেবে বর্তমানকে বিসর্জন দিতে শুরু করল। ... ...


আহা, ফিরে আসি হাৎরাসে। এ যোগীনদাদা সে যোগীনদাদা নয়। শোনা যাচ্ছে যোগীরাজ্যের যোগীনদাদা এখনও হাৎরাসে গিয়ে উঠতে পারেননি। এমনকি, একটা এফ-আই-আরও হয়নি সাকারবাবার নামে। ভালোই। রেগেমেগে শেষ পর্যন্ত পৌঁছতেনও যদি দাদা (যোগীন অর্থাৎ যোগীরা বাবাও আবার দাদাও), তাহলে আবার অনত্থ হয়ে যেতে পারত, তাই না? যোগীনদাদা শুনেছি আজকাল বুলডোজার ছাড়া আর কিছু চড়েনই না! ... ...

ধরুন শাহবাগ আন্দোলন হয়নি, গণজাগরণ মঞ্চ বলে কিছু এই দেশে হয়নি। সাকা, মুজাহিদ, নিজামি, কামরুজ্জামান সবাই এখনও এই ভূখণ্ডেই বাস করছে। জামাত আগের মতোই একটা ধরার মতো শক্তি। এমন একটা পরিস্থিতিতে কালকের ঘটনা ঘটল! অট্টহাসি চিনেন? আহ্লাদে আটখানা কাকে বলে জানেন? সব দেখতে পারতেন! পাকিস্তানের আগেরদিন নাই, থাকলে গতকাল যা হয়েছে পাকিস্তানের রাস্তায় মিষ্টি বিলানো হত। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিত যে আমাদের কোন ভাইকে যেন অন্যায় ভাবে অত্যাচার করা না হয়! তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের বোন! এগুলা এক সময় নিয়ম করে দেখছি আমরা। খান...র পুলায় নায়েবে আমির মনের ভিতরের সুখানুভূতি চাপা দিয়ে গম্ভীর স্বরে টিভি ক্যামেরার সামনে বলত, খুব অন্যায় হচ্ছে! বৈষম্য দূর করে সঠিক ইশতেহার দেওয়া হোক! আমাদের কপাল ভালো যে সেই দিন দেখতে হচ্ছে না। এখন একবার চিন্তা করেন যারা রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে আন্দোলন করল, এই দেশে রাজাকারদের শাস্তি নিশ্চিত করল তাদের কাছেই এই স্লোগান বুলেটের মতো বিঁধছে। আর যারা সংগ্রাম করছে, যারা রাজাকাদের অত্যাচারে স্বজন হারিয়েছে, সরাসরি অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তাদের কাছে কেমন লাগতে পারে এই স্লোগান? ... ...

“ ওঃ নো! ডেমন মীনা আগেইন! ও যাতে এই ম্যাচে অন্তত খেলতে না পারে সে ব্যবস্থা আমাদের করতেই হবে…” ১৯৫৪ সালের টেরেন্স শোন ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার আগে বিপক্ষের রোশনারা ক্লাবের মহিলা টিমের ক্রিকেটারদের তালিকায় থাকা ফাস্ট বোলারটির নাম দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসলেন ব্রিটিশ হাই কমিশন ওমেন্স ক্রিকেট টিমের মেমসাহেব খেলোয়াড়রা! দ্রুত শুরু হল সেই পঞ্চদশী কিশোরীকে বাদ দেওয়ার জন্য নানা চেষ্টা-অপচেষ্টা! ... ...

ব্রিটেনে তথাকথিত লেবারের বিপুল জয়ের পেছনে অনেক সত্য চাপা পরে যাচ্ছে। এই রচনাটি নির্বাচনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে নির্বাচনের প্রকৃত তাৎপর্য্য বোঝার একটি প্রয়াস। ... ...

রথযাত্রা- বৃক্ষরোপণ ... ...

অবশ্যই রাস্তা পরিষ্কার রাখবার প্রয়োজন। শহর থেকে রাজ্য তথা দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবার, আধুনিকীকরণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেই কারণে জনগণের রুজিরুটিতে আঘাত হানলে, তার মানে কী দাঁড়াবে? সরকারের এ কারণ তো সমাজের বুকে নিতান্তই এক অজুহাতে পরিণত হবে এবং লক্ষ্যবস্তু উচ্ছেদ। এ তো কোন সমাধান নয়। এর ফলে বেকারের সংখ্যা বাড়বে। এর থেকে সমাজে হিংসাত্মক চিত্র, চরিত্র বৃদ্ধি পেতে বাধ্য, সমাজ রসাতলের পথেই এগোবে। তাই রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়প্রাপ্ত নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থে, রাজনৈতিক ক্ষমতার আস্ফালনে বুক উঁচিয়ে যেখান সেখানে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালাতে পারেন। ফলে সমাজে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছোট ব্যাপারে হিংসার সৃষ্টি হয়, তার থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ভাবে দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আজ সমাজের গোড়ায় উচ্ছেদপূর্ণ মনোভাব গেঁড়ে বসে আছে। ... ...

প্রতিভাই সব নয় সফল হতে গেলে। কারণ সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিরা খুব কমই সব থেকে বেশী সফলতা পান। সাধারণভাবে দেখা গেল, মাঝারি-কিন্তু-ভাগ্যবান লোকেরা আরও-প্রতিভাবান-কিন্তু-অভাগা ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি সফলতা পান। সবচেয়ে সফল জনতা তারাই দেখা গেল যাদের প্রতিভা সাধারণ মানুষের গড় প্রতিভার থেকে সামান্য বেশি কিন্তু যারা সারাজীবন অনেক ভাগ্যের সাথ পান। ... ...

“প্রায় সব দেশের দেবতারাই দাবি করেন যে তাঁরা জগৎ সৃষ্টি করেছেন। অলিম্পিয়ানদের কিন্তু তেমন কোনো দাবি নেই। তারা যদি কিছু করে থাকে, তবে তারা সেই জগৎ জয় করেছে... এইসব দেশ জয়ের পরে তারা করলো কী? সরকার গঠন করলো? কৃষির প্রসার করলো? শিল্প-বাণিজ্য – এসবের বিস্তার করলো? মোটেই না। গায়ে গতরে তারা কেন খাটতে যাবে? খাজনার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা আর বেয়াদব প্রজার মাথায় আক্ষরিক বজ্রাঘাত করা বরং অনেক সহজ। এরা সব যুদ্ধজয়ী সর্দার, রাজানুগ্রহে পুষ্ট দস্যু। এরা লড়াই করে, ভোজ দেয়, এরা ক্রীড়ামোদী, সঙ্গীতপ্রেমী; এরা আকণ্ঠ পান করে, ফরমায়েশি ভৃত্যকে নিয়ে তামাশা করে অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে। নিজেদের রাজা ছাড়া তারা আর কাউকে ভয় পায় না। এরা প্রেম আর যুদ্ধ ছাড়া কখনো মিথ্যাচার করে না।” ... ...
