এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কালবেলার রৌদ্রছায়া - ১

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৩১ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • ( ১ )

    অনিন্দ্য বসু একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিন বছর আগে অবসর নিয়েছেন। সকাল ন'টা নাগাদ তার রাসবিহারী এভিনিউয়ের তিনতলার ফ্ল্যাটের ড্রয়িংরুমে বসে খবরের কাগজের পাতা উল্টোচ্ছিলেন। টেবিলের ওপর বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে মোট পাঁচটা কাগজ।

    ছোট ছেলে অনুমিত সকাল ছ'টায় বেরিয়েছিল। জিম করে বাড়ি ফিরছে। অনুমিতের এখন পঁচিশ বছর। তার বড়দা থাকে নিউ ইয়র্কে আর মেজদা চেন্নাইয়ে। প্যাসেজ দিয়ে ঢোকার সময় ডান দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল বাবা ঘরে বসে খবরের কাগজ পড়ছে খুব মন দিয়ে। সে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে কী একটা চিন্তা করল, তারপর ঢুকব কি ঢুকব না ভাবতে ভাবতে ঢুকে পড়ল ঘরে।
    অনিন্দ্যবাবু খবরের কাগজ থেকে মুখ তুললেন অনুমিতের পায়ের আওয়াজ পেয়ে।
    --- ' বল... জিম থেকে ফিরছিস ? '
    --- ' হ্যাঁ... একটু আগে চলে এলাম। বেরোব একটু... '
    --- ' লাঞ্চ করে ? '
    --- ' না, লাঞ্চ বাইরে করব... '
    --- ' ও... ', বলে অনিন্দ্য বসু আবার খবরের কাগজে মন দিলেন।
    অনুমিত একপাশে বসে আছে। ওকে উসখুস করতে দেখে অনিন্দ্যবাবু কাগজ থেকে চোখ না তুলেই বললেন, ' কিছু বলবি ? '
    অনুমিত ঝট করে বলে ফেলল, ' কিছু টাকার দরকার ছিল... '
    --- ' কত ? '
    --- ' এই... ওয়ান ল্যাক '
    অনিন্দ্যবাবু আবার মুখ তুললেন। কাগজটা একপাশে রেখে দিলেন।
    --- ' এত টাকা কিসের জন্য ? এই তো পঞ্চাশ হাজার নিলে দিন পনের আগে... '
    --- ' আরজেন্ট দরকার আছে। পরে বলব তোমাকে... '
    অনিন্দ্যবাবু ভালোভাবেই জানেন এই 'পরে' টা কখনও আসবে না। তিনি সরাসরি কিছু জিজ্ঞাসা করেন না ছেলেকে। সেটা তার স্বভাববিরুদ্ধ কাজ। কিন্তু তিনি নানা সূত্র মারফৎ সব খবরই পান। অনুমিতের এত টাকা খরচ হয় বান্ধবীদের পিছনে। একটা নয়, বিভিন্ন বান্ধবী।
    অনুমিত তার দাদাদের মতো পড়াশোনায় মনোযোগী কোনদিনই ছিল না। কোনরকমে বি.কম. পাশ করে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। তাই বলে তাকে অলস বা অকর্মণ্য বলা যাবে না। হরেকরকম আমোদপ্রমোদে তার প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহ। বিনোদনের রকমারি পদ্ধতি উদ্ভাবন দক্ষতায় তার জুড়ি মেলা ভার। এ সব কর্মসূচিতে অতি ব্যস্ত থাকায় তার হাতে এক মুহূর্ত ফুরসত নেই।
    অনুমিতের মা মানুষটি সরল সাদাসিধা এবং নির্বিকার প্রকৃতির। দিনের বেশির ভাগ সময় ঠাকুরঘরে কাটান।

    অনিন্দ্যবাবু বুঝতে পারলেন নতুন কোন ফিঁয়াসিকে কিছু গিফ্ট দেবার দরকার পড়েছে। মাঝেমাঝেই এরকম দরকার পড়ে। প্রেস্টিজ বলে কথা। টাকা খরচ করার ক্ষমতা না থাকলে এসব মেয়ে জালে উঠবে কেন।
    অনুমিত এখনও বসে আছে বাবার কাছ থেকে সম্মতিসূচক কিছু প্রত্যুত্তর আসার অপেক্ষায়। তার মরীয়া ভাব অনিন্দ্যবাবুর অভিজ্ঞ চোখ এড়াল না।
    তিনি বললেন, ' এত টাকা এখন আমার কাছে নেই ... '
    কথাটা অনুমিতের বিশ্বাসযোগ্য মনে হল না। বলল, ' এবারটা দাও। এরপর আর দরকার হবে না... '
    --- ' এবারই বা কিসের দরকার শুনি '
    --- ' বললাম তো পরে বলব... আরজেন্ট দরকার তাই ... '
    --- ' তোমার এত যখন নেসেসিটি, ফিনান্সিয়ালি সেল্ফসাফিসিয়েন্ট হবার চেষ্টা কর। এভাবে কতদিন চলবে... '
    --- ' সে চেষ্টাই তো করছি। তোমাকে বোঝাতে পারছি না ... '
    --- ' শুনি না, অন বোর্ড প্ল্যানটা কী ? '
    --- ' বললাম তো, পরে ডিসকাস করব। এখন এই ইস্যুটা সলভ করতে দাও প্লিজ... '
    --- ' কী ইস্যু ক্লিয়ারলি বল... সব ইস্যুরই সলিউশান আছে। কিন্তু কোন টাকাপয়সা চেয় না... '
    --- ' কী আর বলব তা'লে ? দেখি... অন্য যদি কেউ... খুব আরজেন্ট ছিল ... প্রবলেম হয়ে গেল... '
    অনিন্দ্যবাবু তবু নমনীয় হলেন না। আবার খবরের কাগজটা খুললেন। বললেন, ' নিজের ওপর কন্ট্রোল আনার চেষ্টা কর। লাইফ কিন্তু একটাই। সেটা এইভাবে নষ্ট ক'র না। আমরা খুব কষ্ট পাই ...'
    অনুমিত কোন কথা না বলে উঠে দাঁড়াল এবং আস্তে আস্তে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    অনিন্দ্যবাবু ঘাড় ঝুঁকিয়ে বসে কী একটা ভাবলেন। তারপর টেবিল থেকে মোবাইলটা তুলে নিয়ে গৌরীশঙ্করের নম্বরে আঙুল ছোঁয়ালেন।
    --- ' হ্যাঁ স্যার বলুন... ' গৌরীবাবুর আওয়াজ পাওয়া গেল।
    --- ' তুমি এখন কোথায় আছ ? '
    --- ' বাসে আছি, ডালহৌসির দিকে যাচ্ছি। কেন,কিছু দরকার আছে স্যার ? '
    --- ' হ্যাঁ দরকার একটু ছিল... '
    --- ' ঠিক আছে স্যার সন্ধে সাতটা নাগাদ যাব... '
    --- ' ঠিক আছে, তাই এস... '
    গৌরীশঙ্করের সঙ্গে অনিন্দ্যবাবুর অনেকদিনের চেনাশোনা। শিয়ালদা কোর্টে একসময়ে মুহুরীর কাজ করত। তখন থেকেই ঘটনাক্রমে অনিন্দ্যবাবুর সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং এ বাড়িতে গৌরীশঙ্করবাবুর যাতায়াত। রাজনীতির সব দলের মেজ সেজ ছোট দাদাদের কাছে তার যাতায়াত আছে নানা কারণে। নানা দরকারে গৌরীবাবুকে কাজে লাগে তাদের।

    গৌরীশঙ্কর চক্রবর্তী সন্ধেবেলায় এলেন।
    বললেন, ' আপনার শরীর টরির ঠিক আছে তো স্যার। হঠাৎ জরুরি তলব... '
    --- ' তোমার একটু সাহায্য দরকার... খোঁজ খবর করতে হবে... চিন্তায় আছি, কোথায় যে কী করছে... '
    --- ' কার কেস বলুন তো। খোঁজ খবরটা কি স্যার রাজনৈতিক না অরাজনৈতিক ? '
    --- ' পার্সোনাল পার্সোনাল... পারিবারিক... '
    --- ' অ আচ্ছা... বলুন... '
    অনিন্দ্যবাবু কোন ভূমিকা না করে বললেন, ' আমার ছোট ছেলে অনুমিতের ব্যাপারে একটু খোঁজখবর করতে হবে। কেমন যেন ঠেকছে। মাঝেমাঝেই মোটা টাকা চাইছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে কিছুই খুলে বলছে না। বুঝতে পারছি না কোন বদ চক্রের পাল্লায় পড়েছে কিনা। ফাইনালি কোন সর্বনাশ হবার আগেই তো স্টেপ নিতে হবে। বুঝতে পারছ তো... '
    --- ' হ্যাঁ বুঝেছি। কিন্তু আপনি অত কিছু ভাবছেন কেন ? সর্বনাশ কেন হবে... অল্প বয়সে ওরকম একটু আধটু হয়। খুব আদরে মানুষ হয়েছে তো, তাই ... '
    --- ' সেটাই তো ভুল। আপব্রিংঙ্গিং প্রপারলি হয়নি। আমি কিছুই দেখাশোনা করার সময় পাইনি। আর ওর মা তো শুধু প্রশ্রয় দিয়ে গেছে। কখনও কন্ট্রোল করেনি... '
    --- ' হ্যাঁ... ওই তো হয়। তবে স্যার আপনার অন্য দুই ছেলে তো ওরকম হয়নি। আসলে যে যেমন ধাত নিয়ে জন্মায় আর কি। কারও কিছু করার নেই। এই ধরুন, আপনার জজসাহেব বন্ধুরা কি সবাই সমান ? অনেকেই তো অন্যরকম খেলা খেলে... '
    কথাটা মুখ বেরিয়ে যাবার পর গৌরীবাবুর মনে হল, কথাটা না বললেই হত।
    অনিন্দ্যবাবু গৌরীশঙ্করের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
    গৌরীবাবু তাড়াতাড়ি বললেন, ' ঠিক আছে স্যার আমি খোঁজ লাগাচ্ছি, আপনি ভেঙে পড়বেন না... '
    এই সময়ে ডোর বেলে পাখির কিচিমিচির বেজে উঠল। অনিন্দ্যবাবু গলা তুলে বললেন, ' সনৎ দেখ তো, কে এল... '

    সনৎ এসে বলল, ' একটা লোক এসেছে। চিনি না। বলল, আপনার সঙ্গে কথা বলতে চায়। '
    --- ' ঠিক আছে, আসতে বল। নিশ্চয়ই চাকরি বাকরির ব্যাপারে বলবে... ' জজসাহেব বললেন।
    গৌরীশঙ্কর বললেন, ' আমি তা'লে এখন আসি স্যার... খবর পেলে জানাব... '
    --- ' দেখ কিন্তু, চিন্তায় আছি... '
    গৌরীবাবু বললেন, ' নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই... আপনি বলেছেন যখন... '
    গৌরীশঙ্কর চক্রবর্তী বেরিয়ে যাবার পরই এক ভদ্রলোক ঢুকলেন। দেখে মনে হয় পঞ্চাশের আশেপাশে বয়স। পরিষ্কার গাল। মনে হচ্ছে একটু অগেই দাড়ি কামিয়েছেন। হয়ত এখানে আসবেন বলে। ফর্সা দোহারা চেহারা। চোখের চাহনিতে বিনীত এবং ভীরু ভাব।
    ঘরে ঢুকে বুকের কাছে দুহাত রেখে বিনীতভাবে বললেন, ' নমস্কার স্যার... '
    অনিন্দ্যবাবুও প্রতি নমস্কার করলেন।
    --- ' বসুন... '
    ভদ্রলোক জজসাহেবের উল্টোদিকের কাউচে বসলেন।
    --- ' বলুন... ' অনিন্দ্যবাবু বললেন।
    ভদ্রলোক কোলের ওপর দুহাতের আঙুলে আঙুল
    ঢুকিয়ে চুপ করে বসে দ্বিধাজড়িত ভঙ্গীতে বসে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে কি ভাবতে লাগলেন।
    অনিন্দ্যবাবুর মনে হল, ভদ্রলোক কোন কারনে বিপন্ন বোধ করছেন, তাই ইতস্তত করছেন। তার পেশার সূত্রে এরকম মানুষ তিনি অনেক দেখেছেন।
    তিনি যতটা সম্ভব কোমল স্বরে বললেন, ' বলুন না ভাই ... হেজিটেট করছেন কেন। আমি একজন সাধারণ মানুষ। কোন নেতা তো নই... '
    যে কারণেই হোক কথাটা সম্ভবত ভদ্রলোকের বুকের ভিতর নাড়া দিল।
    তিনি বললেন, ' না না স্যার... কি যে বলেন। বরং আমিই একজন অতি সাধারণ মানুষ। লেকের ওদিকে বাড়ি। মানে, ভাড়া বাড়ি আর কি। একটা ছোট স্টেশনারি দোকান আছে। একদম সাধারণ লোক স্যার। আমার নাম রবীন্দ্রনাথ দত্ত। বড়লোকদের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা নেই... '
    অনিন্দ্যবাবু আন্দাজ করলেন ভদ্রলোক বোধহয় কোন মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন এবং উকিলের খরচ বহন করতে পারছেন না।
    তিনি আর কথা না বাড়িয়ে সরাসরি বললেন, ' কোন কোর্টে মামলা উঠেছে ? '
    --- ' না না, ছি ছি, ওসব কিছু না। কোর্টে যাব কেন ?'
    --- ' ও... তা'লে ? '
    --- ' স্যার, আপনাকে বিরক্ত করার কোন ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু আর কোন উপায় না পেয়ে... '
    অনিন্দ্যবাবু এবার একটু ধৈর্য হারালেন।
    --- ' ম্যাটারটা কী বলে ফেলুন ... আসল সমস্যাটা কী ? '
    --- ' হ্যাঁ, তাই তো তাই তো... মিছিমিছি আপনার সময় নষ্ট করছি... অপরাধ নেবেন না... '
    বলে রবীন্দ্রনাথবাবু আবার একটু বিরতি নিলেন।
    জজসাহেব বুঝতে পারলেন, ভদ্রলোকের মনের ভিতর একটা আলোড়ন চলছে। তার ফলে মনের কথা মনেই আটকে থাকছে। বাইরে বেরতে পারছে না। অনিন্দ্য বসুর মনে হল ওর পাশে দাঁড়ান দরকার। বললেন, ' আহা... আপনি এত ঘাবড়াচ্ছেন কেন ? এখানে তো আমরা দুজন ছাড়া আর কেউ নেই। আপনি বলুন। আমি আমার সাধ্যমতো আপনাকে সাহায্য করব... '
    --- ' হ্যাঁ স্যার, তা জানি। সেই ভরসাতেই আপনার কাছে আসা। মানে, আমার তো কোন সামর্থ্য নেই।
    সত্যি কথা বলতে কী ভয়ে গুটিয়ে থাকি। কিন্তু সন্তানের বিপদে কী করে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকি বলুন। আমার মেয়েটা খুব আতঙ্কে থাকে। কলেজে যেতে চাইছে না। খুব ভয় পাচ্ছে... '
    অনিন্দ্যবাবু এরকম অপ্রত্যাশিত একটা বয়ান শুনে একটা ধাক্কা খেলেন।
    বললেন, ' কেন কী হয়েছে ? কোন লুম্পেন রাসকেল টিজ করছে। ওই কলেজের ছেলে কি? একদম ভয় পাবেন না। প্রিন্সিপালের কাছে একটা কমপ্লেন্ট দিয়ে রাখুন। কাজ না হলে... '
    --- ' না স্যার, কলেজের ছেলে নয়... '
    --- ' ও... বাইরের ছেলে ? '
    --- ' হ্যাঁ। কলেজ যাবার সময় রাস্তায় প্রায় রোজ দাঁড় করিয়ে কথা বলছে। নানা কুপ্রস্তাব দিচ্ছে... টাকার লোভ দেখাচ্ছে। বলছে ওর সঙ্গে দীঘা যেতে। তিরিশ হাজার টাকা দেবে বলেছে। আমার মেয়েটা দেখতে শুনতে বেশ ভাল। সেটাই হয়েছে কাল। বলছে, ওর কথা না শুনলে নাকি আমাদের পুরো ফ্যামিলির জিনা হারাম করে দেবে। ওর হাত নাকি অনেক লম্বা। মেয়ে এত ভয় পেয়ে গেছে যে, আজ তিনদিন ধরে বাড়ি থেকে বেরয়নি। কলেজ, পড়াশোনা সব মাথায় উঠেছে... '
    এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে ফেলে রবীন্দ্রনাথবাবু হাঁফাতে লাগলেন।
    অনিন্দ্য বসু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ভদ্রলোকের দিকে। প্রবল ক্রোধে তার মুখমন্ডলের পেশি তিরতির করে কাঁপতে লাগল। অস্ফূট শব্দে বললেন --- ' পেডিগ্রি বা... স্টার্ড.... '
    রবীন্দ্রনাথবাবুর দিকে তাকিয়ে বিচারকসুলভ ভঙ্গিতে কঠোর গলায় বললেন, ' এখনও থানায় এফ আই আর করেননি কেন ? কাল সকালেই এফ আই আর করে রিসিভড কপিটা আমাকে দিয়ে যাবেন। তারপর দেখছি... '
    --- ' স্যার... সেটা আমার মতো সামান্য লোকের পক্ষে অসম্ভব... সবই তো বললাম স্যার। অত বড় বুকের পাটা আমার নেই। তাছাড়া শুনেছি ওর পলিটিক্যাল কানেকশান খুব স্ট্রং। সেই কারণে পাড়ার কারও সাহায্য পাচ্ছি না.... একমাত্র আপনিই পারেন ওকে সামলাতে। সেজন্যই আপনার কাছে এলাম স্যার। অপরাধ নেবেন না...'
    --- ' তার মানে ? আমি কি চিনি তাকে ? '
    রবিনবাবু একটু চুপ করে থেকে ম্লান বিব্রত মুখে বলল, ' হ্যাঁ স্যার... '
    অনিন্দ্যবাবু চমকে উঠে বললেন, ' আচ্ছা ! কে বলুন তো... নামটা শুনি... '
    রবীন্দ্রনাথবাবু সংকোচে, লজ্জায়, বিড়ম্বনায় মাটিতে প্রায় মিশে গিয়ে মাথা নীচু করে কার্পেটের দিকে তাকিয়ে বললেন, ' আপনার ছেলে অনুমিত ... '
    অনিন্দ্য বসুর মনে হল একশ'টা শঙ্খচূড় তাকে একসঙ্গে ছোবল মারল সারাদেহে।

    ( ক্রমশ )

    *************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Srimallar | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৫738541
  • পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করব।
  • aranya | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪৫738546
  • বেশ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দিন