এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  পরিবেশ

  • ভ্রমণের বিষ

    প্রতিভা সরকার
    আলোচনা | পরিবেশ | ০৫ জুন ২০২৪ | ৬৮৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৬ জন)

  • সদা আনন্দময় যে মানুষ

    হিমাচল প্রদেশে ঢুকলাম শিবরাত্রির সমারোহ মাথায় নিয়ে। জলুসের পর জলুস যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে, সবাই নিজেদের ট্র‍্যাডিশনাল পোষাকে সজ্জিত, মেয়ে পুরুষের মাথা আচ্ছাদিত, হিমাচলি রঙবেরঙের ঠাটু, টুপি, সব একেবারে জায়গা মত।




    জিজ্ঞাসা করে জানলাম, সবাই চলেছে মান্ডির তিনশ বছরের পুরানো শিবমন্দিরের দিকে, যে দেবতার এমনই মহিমা, গত বছর জুলাই মাসের বন্যায় আশেপাশে সব রসাতলে গেছে, কিন্তু মন্দিরটির কোনো ক্ষতি হয়নি। পেতলের পাল্কিতে জলুসের ঠিক মাঝখানে দেবতা যাচ্ছেন, তাঁর অঙ্গও পেতলের। নানা রঙের জাব্বাজোব্বা, মস্তকাবরণে তাঁকে প্রায় দেখাই যাচ্ছে না। কিন্তু যে মানুষদের কাঁধে চড়ে তিনি যাচ্ছেন তারা সবাই আনন্দময় গ্রামীণ মানুষ, সাদাসিধে আর বিশ্বাসী।

    তীর্থান গ্রামের পঞ্চায়েত কার্যালয় প্রাঙ্গণে আর একরকম আনন্দের বিস্ফার দেখলাম দুদিন পর, আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস উপলক্ষে। পঞ্চায়েত প্রধান মহিলা, সরকারি আধিকারিকও তাই। মাইকে তারা নারী সশক্তিকরণের উদ্দেশে গঠিত বিভিন্ন সেল্ফ হেল্প গ্রুপগুলিকে নানা উন্নয়নমূলক কাজ ও ঋণপ্রকল্প সম্বন্ধে অবহিত করাচ্ছিলেন। তাদের কথা শেষ হতেই মেয়েরা শুরু করল নাচগান।




    বিভিন্ন গ্রুপের বিভিন্ন ধরণের প্রোগ্রাম। নাম এবং ঠাটুও বিভিন্ন। লক্ষ্মী মহিলা মন্ডলের ঠাটু বা মস্তকাবরণ উজ্জ্বল সোনালী, জাগৃতি নারীশক্তি মন্ডলের বেগুনি, তাতে কুলু স্টাইলের ছাপছোপ। ধর্মীয় নয়, পরম্পরাগত নয়, তবু এই উৎসব গ্রামের বেশিরভাগ মেয়েদের অংশগ্রহণে ধন্য হচ্ছে দেখে ভালো লেগেছে।

    অনেক কথা হল লক্ষ্মী গ্রুপের প্রধান জি, বিদ্যার সঙ্গে। মেয়েরা এখানে লোনের টাকায় উলের পোশাক বানিয়ে ট্যুরিস্টদের কাছে বিক্রি করে, আচার ঘি জ্যামজেলি ছাড়াও পাইন ফলের অংশ দিয়ে নানা দৃষ্টিনন্দন হস্তশিল্প বানায়। মোটামুটি কিছুটা লাভ থাকে বৈকি বেশির ভাগ গ্রুপেরই। নাহলে হাড়ভাঙা খাটুনির পর মেয়েরা আরও কাজের দায়িত্ব নিতে যাবে কেন! এই জি, বিদ্যার চোখেই সব দেখা হল আমার।

    পাহাড়ের কোনো দেবতা নেই?

    তীর্থান গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে, দেবতা মানুষকে এবং জাগতিক সমস্ত কিছুকে রক্ষা করেন সব দুর্ভোগ দুর্বিপাক থেকে। এই বিশ্বাস তীর্থান বা হিমাচলের কেন, হয়ত ভারতবর্ষের সব গ্রামে গ্রামে সব উৎসবের প্রাণ, সব আনন্দের মূল। এই মানুষগুলো শ্রম ও অর্থ দান করে নিজেদের গ্রামের চৌহদ্দিতে মন্দির বানাবে, সেখানে নিত্য পূজার্চনা হবে, তবে না গ্রাম পূর্ণতা পাবে!

    আমি বিদ্যাকে শুধোই, শুধু পাহাড়ের কি কোনো একক দেবতা নেই, যিনি তাকে রক্ষা করতে পারেন লাগাতার ধ্বংস আর নির্বিচার আক্রমণ থেকে? তাকে বলি, সমস্ত পাহাড়ের রাণী যে হিমাচল প্রদেশ তার চেহারা দিনের দিনের পর দিন যেভাবে কুৎসিত হয়ে উঠছে, তা কল্পনাতীত। পাঞ্জাব পেরিয়ে হিমাচলের সীমানায় ঢুকলেই শুধু উন্নয়ন, নির্মাণ, জেসিপি আর ট্রাকের পর ট্রাক! ট্যুরিজম পয়সা আনে, এজন্য রাস্তার পর রাস্তা তৈরি হচ্ছে, সিঙ্গল লেন ডাবল হচ্ছে বিয়াসের পাশে, সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের মাথায় পৌঁছে যাচ্ছে জেসিপি। ধুলোভরা গাড়ি চলার রাস্তাই হয়ত খুব শিগগিরই উন্নয়নের একমাত্র প্রতীক হয়ে উঠবে।




    বিদ্যা বা অন্য মেয়েদের বেশি বাইরে যাওয়া হয় না। ক্ষেতি বাড়ি মন্ডলের কাজ সামলাতে অনেক সময় যায়। তবে তারাও শুনেছে পাহাড় ফুটো করা টানেলের পর টানেলের কথা! চল্লিশ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে না পেরোতে পাঁচখানা টানেল ধোঁয়া আর ধুলো ভর্তি বিরাট হাঁ-মুখে মানুষকে গিলে নেয়।

    টানেল আগেও ছিল, কিন্তু সে সংখ্যায় কম, যাত্রাপথ হ্রস্ব করা ছাড়া তার আর কোনো কাজ ছিল না। এখন তো ভঙ্গুর পাহাড়ের পেট ফুটো করে কেবলই টানেল, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে। এরকম চললে কোনো যুদ্ধ বাঁধার আগেই পাহাড় ধ্বসে পড়বে, কোনো নির্মাণই বাঁচবে না, সঙ্গে মারা পড়বে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ, ভেঙে পড়বে বাস্তুতন্ত্র।




    গতবারের সেই বন্যা

    বিদ্যারা বলে, প্রকৃতির রুদ্ররোষ যে কী ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে, তা দেখিয়ে দিয়েছে গতবারের বন্যা। মান্ডির শিবমন্দির বেঁচে গেলেও মানুষের প্রাণ, ঘরবাড়ি, জীবজন্তু, গাছপালা, কিছুই রেহাই পায়নি। বন্যার জল সঙ্গে নিয়ে এসেছে বিশাল ধ্বস, ব্রিজ উপড়ে, জনপদ ভাসিয়ে সে এক প্রলয়ংকর কাণ্ড!




    মেয়েরা দেখায়, তীর্থান নদীর ওপর এই ব্রিজের নীচে এখনও লেগে আছে এক বিরাট গাড়ির (টাটা হ্যারিয়ার) কংকাল। না বলে দিলে চেনার উপায় নেই।




    সেতুর মুখোমুখি পাহাড় উপড়ে ধ্বসের সঙ্গে নেমে এসেছে অজস্র ছোট বড় পাথর। ধ্বসের পথে পড়েছিল এক বিরাট গোশালা। দুধেলা গাই সমেত সেটি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। জল উঠে এসেছিল অনেকদূর।

    সেতুটিও বেশ খানিকটা ভেসে গেছে বন্যার জলে। কিন্তু কী আশ্চর্য, নদী সরে আসায় বন্যার পর বোল্ডার পরিকীর্ণ তীর সাফ করে এর মধ্যেই উঠে গেছে হোমস্টে নামের সব ছদ্মবেশী হোটেল। এখন নাকি আইন হয়েছে নদীর গায়ের ওপর নির্মাণ চলবে না। একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এতদিন এই আইন ছিল না! যেগুলো এরমধ্যেই মাথা তুলেছে সেগুলো আর একটা বন্যায় ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে বলে অপেক্ষা থাকবে আমাদের? লক্ষ্মী মন্ডলের লক্ষ্মী মেয়েরাও এই প্রশ্নের সামনে বিমূঢ় হয়ে পড়ে।

    সব দেখেশুনে মনে হয় ট্যুরিজম একটা ভয়ংকর দৈত্যের চেহারা নিয়েছে। হিমাচল প্রদেশে যেহেতু জমি কেনা যায় না, স্থানীয়দের জমি লিজ নিয়ে হোমস্টে-র নামে হোটেল ব্যবসা খুলে চলেছে রাজ্যের বাইরের ধনী ও প্রভাবশালীরা। স্থানীয়রা লিজের টাকা ও কর্মসংস্থানের অল্প সুযোগই পাওনা বলে মেনে নিয়েছে। কঠিন হাতে এর মোকাবিলা না করলে অচিরেই গোটা হিমালয় ধ্বংস হয়ে যাবে। পরিবেশের সেই নির্বিচার ধ্বংস প্রভাব ফেলবে সারা দেশেই।




    বিবর্তনের পথে এত সুন্দরের সৃষ্টি হল, সে কি শুধু ধ্বংস হবার জন্যই? তীর্থান গ্রামের মেয়েরা, সমস্ত অধিবাসীরা এ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল এবং চিন্তিতও। কিন্তু এই ধ্বংসযজ্ঞ আটকাবার উপায় তাদের অজানা। বৃহত্তর পরিবেশ ভাবনায় দেশের যে মাথারা ভাবিত হলে কাজ দিত, তারা কোথায়!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ০৫ জুন ২০২৪ | ৬৮৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাপাঙ্গুল | ০৫ জুন ২০২৪ ১৯:১৬532729
  • চন্ডীগড় থেকে বিলাসপুর, সুন্দরনগর হয়ে মান্ডির রাস্তায় এখন তিনখানা সুড়ঙ্গ। সেগুলোর আশেপাশে গাছ আর পাহাড়ের গায়ে এত মোটা ধুলোর আস্তরণ আর এত সাদা গুঁড়ো উড়ছে যে নির্মাণ শ্রমিক / গ্রামের মানুষদের সিলিকোসিস অবশ্যম্ভাবী। আগে কতক্ষণ সময় লাগত জানি না,  কুলু দিয়ে ঘুরে যেতে হত মনে হয়। এখন মোটামুটি চার ঘন্টা। 
     
    পর্যটন ব্যবসা নিয়ে কথা হচ্ছে বলে এটাও রেখে যাই -
  • Prativa Sarker | ০৫ জুন ২০২৪ ১৯:২৭532732
  • আমাদের দেশে আমাকে নিয়ে সবাই ব্যাড ট্যুরিস্ট। ইকো ট্যুরিজম কঠোর ভাবে আরোপ করা না হলে অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকবে। এই লিংকটি দেবার জন্য ধন্যবাদ। 
  • kk | 172.56.32.178 | ০৫ জুন ২০২৪ ১৯:৫৩532735
  • এই আলোচনার জন্য অনেক ধন্যবাদ। জানিনা পরিবেশ সম্পর্কে আর কবে, কীভাবে, মানুষের অ্যাওয়ারনেস আসবে। তবে এই ধরণের লেখাপত্র, আলোচনায় যদি কিছু হয়, যেটুকু হয় তাই লাভ।
  • প্রতিভা | 223.191.53.202 | ০৫ জুন ২০২৪ ২১:২৬532738
  • আমার সচেতনতাও পড়ে দেখে অর্জিত। তাই ভাবি যদি কেউ পড়েন, ভাবেন। ধন্যবাদ কে কে।
  • অরিন | 132.181.180.107 | ০৬ জুন ২০২৪ ০৬:১৫532746
  • "কঠিন হাতে এর মোকাবিলা না করলে অচিরেই গোটা হিমালয় ধ্বংস হয়ে যাবে। পরিবেশের সেই নির্বিচার ধ্বংস প্রভাব ফেলবে সারা দেশেই।"
     
    সারা দেশেই শুধু নয়, সারা পৃথিবীতে।
    একটা কথা মনে রাখা যেতে পারে যে হিমালয় সমগ্র দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মিষ্টি জলের ভান্ডার। কোনভাবে যদি হিমালয়ের ইকো-সিস্টেম নষ্ট হয় তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। হিমালয় পর্বতশ্রেণী পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ওয়াটার টাওয়ার। এটা দেখুন 
     
    পরিবেশ নিয়ে ছেলেখেলা করার পরিণাম আজকে যারা ভারতে থাকেন তারা যদি এখনো না টের পান তাহলে সত্যি আর কিছু বলার নেই।
  • b | 14.139.196.230 | ০৬ জুন ২০২৪ ১১:২৩532766
  • "সব দেখেশুনে মনে হয় ট্যুরিজম একটা ভয়ংকর দৈত্যের চেহারা নিয়েছে।"
    একদম একমত। মুশকিল হল অনেকের এখন বেড়াতে গেলেও ২৪ ঘন্টা নেট কানেক্টিভিটি চাই, ওয়াইফাই চাই, গরম জলের গিজার চাই, বাড়ির আরামটা (বা তার থেকেও বেশি আরাম) হোটেলে চাই। (আমি কি নিজেও এই চামড়ার দাসত্ব সম্পুণ বেরোতে পারলাম? মনে হয় না)
    এই জন্যে মনে হয় কিছু কিছু জিনিস কষ্টার্জিত হলেই ভালো। নইলে কেদারনাথকে এক এক দিনে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম সামলাতে হবে।
    কিন্তু আবার হয়ত এও ভাবি যে এর ফলে কিছু গরীবেরা পয়সা পাচ্ছে, হয়তো আধুনিক চিকিৎসার সুফল পাচ্ছে। অর্থাৎ পুরো জিনিসটাই একটা গোটা প্যাকেজ হয়ে আসছে, পরিবেশের ধ্বংস আর কিছু খেটে খাওয়া, পিছিয়ে থাকা, গরীব মানুষের অবস্থার উন্নতি ।
    এর থেকে বেরোবার উপায় কি?
  • | ০৬ জুন ২০২৪ ১১:৫১532767
  • আমরা দুয়েকজন যেটা বলি হিমালয়ের বা সারা ভারতেই ট্যুরিস্ট স্পট, অফবিট প্লেস ইত্যাদি জায়গায় যাবার জন্য রেসপন্সিব্ল ট্যুরিস্ট কার্ড প্রচলিত হওয়া উচিৎ।  ড্রাইভিং লাইসেন্সের মত পরীক্ষা দিয়ে পেতে হবে এবং বছর বছর রিনিউ করতে হবে। এই যে লোকজন চটকপুরে গিয়েও সন্ধ্যের পর ডিজে চালিয়ে নাচে এর জন্য মোটা ফাইন হবে,  প্ল্যাস্টিকের বোতল র‍্যাপার ইত্যাদি ফেলে এলে কড়া ফাইন হবে এবং কার্ডে নম্বর কমবে। 
    এবার এ তো গেল ব্যক্তি ট্যুরিস্টের কথা। সরকার যেখানে সমানে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে আর বাঁধ দিয়ে দিয়ে পরিবেশের চোদ্দটা বাজাচ্ছে সেখানে আমাদের দু একজনের কথা কানে তুলতে বয়েই গেছে। 
     
    কদিন আগে এক ভ্লগারের সিয়াচেন বেস ক্যাম্প থেকে লাইভ দেখছিলাম। একজন দর্শক দেখি বলছেন এখানে তো কিছুই নেই দেখার! তো সত্যিই তো, তাহলে যাবার দরকার কি ভাই তোদের? আর সিয়াচেন বেস ক্যাম্প বা গ্লেসিয়ারের পরিবেশ অতি ভঙ্গুর প্রকৃতির, সেখানে এরকম ভ্লগারের নাচানাচি দেখে আরো একশো পাবলিক হাজির হবে। তাদের অর্ধেকের বেশীর আবার দিল্লি বা কলকাতার মত সবকিছু হাতের গোড়ায় চাই...  সিয়াচেন আর কদ্দিন বাঁচে সেটাই দেখার। 
     
    ইসে ওটা যদ্দুর জানি  JCB.  P নয়।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b5bd:1a73:4b1d:a69a | ০৬ জুন ২০২৪ ১১:৫৮532768
  • "মুশকিল হল অনেকের এখন বেড়াতে গেলেও ২৪ ঘন্টা নেট কানেক্টিভিটি চাই, ওয়াইফাই চাই, গরম জলের গিজার চাই, বাড়ির আরামটা (বা তার থেকেও বেশি আরাম) হোটেলে চাই। "
     
    বেড়াতে গেলে ওআইফাই তো আমার চাইই চাই। গরম জল চাইনা, তবে ভালো হোটেলও চাই। আমার কাছে ভালো হোটেল বা হোমস্টে মানে অবশ্য ভালো সার্ভিস, আর পরিষ্কার ব্যবস্থা। আর হ্যাঁ, যদি বারান্দায় জাকুজির ব্যবস্থা থাকে তাহলে কেই বা না করতে পারে :-)
  • | ০৬ জুন ২০২৪ ১২:০০532770
  • কাজেই ডিসির ট্যুরিস্ট কার্ডে চটকপুর সান্দাকফু  কাজা লোসারের মত জায়গায় নো এন্ট্রি মার্ক করে দিলে কোন সমস্যাই হবে না।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b5bd:1a73:4b1d:a69a | ০৬ জুন ২০২৪ ১২:০৮532772
  • আরে নানা একি! কোন নো এন্ট্রি নেই laugh
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b5bd:1a73:4b1d:a69a | ০৬ জুন ২০২৪ ১২:১০532773
  • আসলে বারান্দায় জাকুজির কথা লিখলাম কারন মুন্নারের একটা হোটেল আছে ওরকম, হঠাত সেটার কথা মনে পড়লো। কোথাও ঘুরতে যেতে আমি পিছপা নই laugh
  • b | 14.139.196.230 | ০৬ জুন ২০২৪ ১২:৫৯532778
  • "রেসপন্সিব্ল ট্যুরিস্ট কার্ড প্রচলিত হওয়া উচিৎ।"
    লাও তো বটে , কিন্তু আনে কে ? 
    ভূটান যেমন এক ধাক্কায় সাসটেইনবল ডেভেলপমেন্ট ফি , হোটেলের, গাড়ির, গাইডের  কড়াকড়ি ইত্যাদি করে এন্ট্রি ব্যারিয়ার অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে । কিন্তু সেটাও সলিউশন হিসেবে ভাবতে মন খুঁতখুঁত করে। 
  • অরিন  | 2404:4404:1732:e000:c53a:843f:7f92:917e | ০৬ জুন ২০২৪ ১৩:১৯532779
  • দ "আমরা দুয়েকজন যেটা বলি হিমালয়ের বা সারা ভারতেই ট্যুরিস্ট স্পট, অফবিট প্লেস ইত্যাদি জায়গায় যাবার জন্য রেসপন্সিব্ল ট্যুরিস্ট কার্ড প্রচলিত হওয়া উচিৎ।  ড্রাইভিং লাইসেন্সের মত পরীক্ষা দিয়ে পেতে হবে এবং বছর বছর রিনিউ করতে হবে। এই যে লোকজন চটকপুরে গিয়েও সন্ধ্যের পর ডিজে চালিয়ে নাচে এর জন্য মোটা ফাইন হবে,  প্ল্যাস্টিকের বোতল র‍্যাপার ইত্যাদি ফেলে এলে কড়া ফাইন হবে এবং কার্ডে নম্বর কমবে। "
     
    ফাইন করার একটা সমস্যা হল যে লোকে জানবে অন্যায় করে ফাইন দিলে পার পেয়ে যাবে | তারপর ভারতের মত দেশে ঘুষের ব্যাপার স্যাপার তো রয়েইছে |  আসলে দুর্গম জায়গাগুলো দুর্গম করে রাখলে ক্ষতি নেই তো | নাহয় অল্প কিছু মানুষ যাবেন | 
     
     
  • | ০৬ জুন ২০২৪ ১৩:৩৯532782
  • হ্যাঁ ওই ভুটানের লাইনেই ভাবছিলাম। 
     
    অরিন, দুর্গম রাখা গেলে হয়ত ভালই হত কিন্তু এক তো সেটা রাখা যাচ্ছে না সরকারের উন্নয়নের ঠ্যালায়। অন্য আরেকটা কথআ হল সেখানকার আদি অধিবাসীরা কি চিরকালই আধুনিক সভ্যতার সুবিধাবঞ্চিত থাকবেন? উত্তরাখন্ডে কিছু গ্রাম আছে যেখান থেকে প্রায় সব লোক চলে গেছে কারণ সে গ্রামগুলো অতি দুর্গম।  একটা গ্রামে ঠিক  দুজন লোক, স্বামী স্ত্রী  অবশিষ্ট যারা ১৪-১৫ কিমি উজিয়ে গিয়ে প্রতিমাসে গ্যাসের সিলিন্ডার ঘাড়ে করে বয়ে আনে। আমি সম্ভবত গুরুতেই লাখ খেছিলামও এঁদের কথা
     এবার এঁদের গাঁও পর্যন্ত রাস্তা তো অতি অবশ্য হওয়া উচিত। 
  • | ০৬ জুন ২০২৪ ১৩:৪০532783
  • *লিখেছিলাম 
  • অরিন | 2404:4404:1732:e000:1833:f91f:521f:23af | ০৬ জুন ২০২৪ ১৩:৫৯532785
  • "প্রতিমাসে গ্যাসের সিলিন্ডার ঘাড়ে করে বয়ে আনে। আমি সম্ভবত গুরুতেই লাখ খেছিলামও এঁদের কথা  এবার এঁদের গাঁও পর্যন্ত রাস্তা তো অতি অবশ্য হওয়া উচিত। "
     
    সেটা অবশ্যই উচিৎ, কিন্তু সেই ব্যাপারগুলো এমনভাবে হওয়া চাই যাতে মানুষের সুবিধা হয় হোক, বা তারা নিজেরা যা চায়,সরকারের তরফে তার ব্যবস্থা করা হোক, কিন্তু তার সূত্রে যাতে বৃহত্তর পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি না হয়,সেইটাও কিন্তু সকলের দেখার। এই ব্যালান্সের কথাটা লিখলাম বটে, কিন্তু এও জানি যে একথা লেখা যত সহজ, কার্যক্ষেত্রে করাটা ততটাই দুঃসাধ্য।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:5910:b836:921b:1e3 | ০৬ জুন ২০২৪ ১৪:০৬532786
  • এই নিন আপনাদের সমস্যার সমাধানঃ 
     
  • প্রতিভা | 116.72.142.233 | ০৬ জুন ২০২৪ ১৫:৩৭532789
  • শুধু গ্যাস সিলিন্ডার নয়। পীর পঞ্জালের পথে দেখেছিলাম ঘাড়ে করে সিমেন্টের ব্যাগ নিয়ে গুটি গুটি উঠছে অনেক মানুষ। কপালের চওড়া ফেট্টিতে বস্তা বাঁধা। জিজ্ঞাসা করে জানি একটি দুর্গম জায়গায় রিসর্ট হবে, হাইক করে লোকে যাবে। ভার্জিন নেচারকে উপভোগ করবে। 
     
    এই ট্যুরিজম একটা সামনে পেছনে দুই মুখওয়ালা সাপ। নিজেই নিজেকে খাবে। আমিও তাই। খুব যেতে ইচ্ছে করে। যাই। তারপর পড়ে থাকে শুধু আপসোস! 
     
    সবাইকে আলোচনার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই।
  • kk | 172.56.32.178 | ০৬ জুন ২০২৪ ১৯:৪৩532796
  • রেস্পন্সিবল ট্যুরিস্ট কার্ডের আইডিয়া তো খুবই ভালো। কিন্তু হচ্ছে আর কোথায়? শুধু ভারতে বলে নয়, সব দেশেই ইরেস্পন্সিবল ট্যুরিস্টের সংখ্যাটা ভয়াবহ ভাবে বেশি। এই সদ্য শেনানডোয়া গেছিলাম। ট্র‌্যাশ ফেলার জন্য, রিসাইকল করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে বিন সব জায়গায় দেওয়া আছে, তবু দেখলাম লোকে পাহাড়ের ঢালে ফালে প্লাস্টিকের জলের বোতল ফেলে দিয়েছে। আর ফেলেছে ঠিক এমন ভাবে যাতে কেউ নাগাল পেয়ে তুলে না ফেলতে পারে। এগুলো কি এক ধরণের পার্ভারশন থেকে আসে? মানুষের এইদিকগুলো দেখে অবাক লাগে!
  • অরিন | 122.56.205.182 | ০৭ জুন ২০২৪ ০৩:৩৩532820
  • "আর ফেলেছে ঠিক এমন ভাবে যাতে কেউ নাগাল পেয়ে তুলে না ফেলতে পারে। এগুলো কি এক ধরণের পার্ভারশন থেকে আসে? মানুষের এইদিকগুলো দেখে অবাক লাগে!"
     
    ও ইচ্ছাকৃতভাবে বদমাইশি করে।
     
    হাতের নাগালে পেলে এদের দিয়ে ঐ ট্র্যাশগুলো ফেরত নিয়ে আসতে হয়। আমাদের এখানে মাঝখানে স্থানীয় লোকজন নিজেরা উদ্যোগী হয়ে সমুদ্রের তটে যেখানে পেঙ্গুইন আসে (হোইহো পীতচক্ষু পেঙ্গুইন) সে অঞ্চলগুলো পালা করে পাহারা দিত,যাতে বেচারাদের টুরিস্টদের উৎপাতের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। এও তাই। স্থানীয় মানুষ স্বতপ্রণোদিত হয়ে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তূলে নিলে কাজ নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু টাকা রোজগারের লোভের ফাঁদে পড়লে মানুষ ক্ষুদ্র স্বার্থ বা তাৎক্ষণিক দু পয়সাকে এতটাই প্রাধান্য দেয় যে বড় ছবিটা দেখতে পায় না। প্রকৃতির বিরূপতা কি আর মানুষকে রেয়াত করে?
  • হীরেন সিংহরায় | ১১ জুন ২০২৪ ১২:২২533009
  • অসাধারণ লিখেছেন। এখনো হয়তো সময় আছে যদি মানুষ সচেতন হয়।  এবার ভুটানে সাতদিন ঘুরে মনে হয়েছে  প্রকৃতিকে রক্ষা করে তার আনন্দ উপভোগ সম্ভব। 
     
    প্রসঙ্গত বলতে পারি সম্পূর্ণ বেখেয়ালী দায়িতবজ্ঞানশূন্য হুজুকে টুরিস্টের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে প্রাগ  দুবরোভনিক  রোডস ইবিথা দ্বীপ - তারা সশব্দে জানাচ্ছে , লিখছে এসো না এখানে , চাই নে তোমাদের টাকা। দেয়ালে লেখা হচ্ছে 
    তোমাদের বিয়ারে আমরা থুথু ফেলব। সাইপ্রাসে স্পেনের উপকুল শহরে রিগায় সান্ধ্য দৃশ্য এবং তথাকথিত সভ্য জাতির যে মাতাল উন্মত্ততা দেখেছি তা ভোলা শক্ত । রেইকইয়াভিক যোগ করতে পারি 
  • প্রতিভা | 115.96.29.203 | ১২ জুন ২০২৪ ২১:৫২533078
  • হীরেনবাবুকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। আপনার অভিজ্ঞতা অপার। সারা পৃথিবীতে এই ধ্বংসলীলা আপনি অনেক কাছ থেকে দেখেছেন। আপনার মতামত অমূল্য।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৬ জুন ২০২৪ ১৬:৫০533332
  • কালকের খবর
    Locals have previously slammed British tourists as "low-quality" visitors who "drink cheap beer, lay in the sun, and eat burgers and chips".
     
    Fury in Spanish seaside village as locals chain up entrances to keep out British tourists
    Locals have previously slammed British tourists as "low-quality" visitors who "drink cheap beer, lay in the sun, and eat burgers and chips".
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন