এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  দোল

  • সত্যবতী

    প্রতিভা সরকার
    ইস্পেশাল | দোল | ০৯ মার্চ ২০২৩ | ২২১২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)


  • রাস্তার ধারে ঝুপসি গাছপালাগুলো অব্দি কুয়াশার কম্বল মুড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একটু বাতাস বইলে দেখায় বিশাল দৈত্যের মাথা নাড়ার মতো। ধোঁয়া-ওঠা বুক নিয়ে এলিয়ে পড়ে থাকা নদীর দিক থেকে কেমন একটা গোঁওওও শব্দ ভেসে আসে, যেন কেউ কাঁদে, কষ্টে গা মোচড়ায়, নিজের গলায় নিজের দশ আঙুল চেপে ধরে।
    তাতে গা শিরশির করলেও অষ্টমী ভালোই জানে আসল বিপদ লুকিয়ে আছে পেছন বাগে। সে বিপদ যে কখন বিদ্যুতের মতো ঘাড়ের ওপর অব্যর্থ লাফিয়ে পড়বে কেউ জানে না। সে এক আশ্চর্য হলদে আগুনের শিখা, তাকে দেখার আগেই নিজের কানেই শুনতে পাবে নিজের ঘেঁটি ভাঙার মট মট শব্দ, আর কিছু বোঝার আগেই এতো আলহাদের শরীরখানা তেনার কষে ঝুলতে থাকবে। যেন তুমি আর মানুষ নও হে, দাঁত বার করা মরা বেড়াল একটা। শিউরে উঠে অষ্টমী তার কালো ফাটা হাতখানি কোঁকড়া চুলে ঢাকা ঘাড়ের ওপর আলগোছে বুলিয়ে নেয়। রক্ষে কর সোনার বন্ন বনবিবি, মা আমার!

    ভয় তাকে পেড়ে ফেলে, হঠাৎ এমন কাঁপুনি দেয় যে শরীরের সমস্ত রোঁয়া খাড়া দাঁড়িয়ে ওঠে।

    বাঘের ভয়-বসা এই রাস্তাতেও চলতে ফিরতে তার পেছন থেকে কে যেন রোজ সিটি মারে। ঘাড় ঘুরিয়েও কিছু দেখা যায় না। মাঘ মাস শেষ হতে চলল, তবুও রোজ বেলা বসলেই পরদিন বেলা ওঠা অব্দি অন্তরীক্ষ থেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতো টুপটাপ কুয়াশা ঝরতে থাকে যে। জল জল কুয়াশা, তুলোর আঁশের মতো ইতিউতি ভেসে বেড়ায়, তার ভেতর নিজের হাত মেলে দিলে সে হাতও হারিয়ে যায়। কে সিটি মারে, অষ্টমী দেখে কী করে!

    খরাঠি ধান বা খরার সময় যে ধান হয় তা রুইবার কাল এখন। বাবুরা একেই বলে বোরো ধান। সেই ধানপাতা রুইতে ক্ষেতে গিয়ে নেমেছ কী, অমনি তলতলে কাদায় ভরা মা ধরিত্রী তোমার পা দুখানিরে নিজের বুকের গভীরে টেনে নেবেন। ফ্যাঁচ করে শব্দ হবে, পাঁক ছিটকে উঠে শাড়ি ছুঁতে চাইবে, কিন্তু অষ্টমীরা কী কম সেয়ানা, শাড়ির ঘের হাঁটু অবধি আগে থাকতেই তুলে রাখে। কোমরে বাঁধা একখান লাল গামছা, মাথার পুরুষ্টু খোঁপাখানি সবসুদ্দু আরেক খানের আড়ালে অদৃশ্য। কানজোড়া ঢাকা থাকলে জাড় তেমন লাগে না একথা সবার জানা। তাছাড়া সারা দিনমান কোমর নুইয়ে চারা পোঁতার সময় পাঁকের ছিটা তো ছিটা, বেলা বাড়লে মাথার ওপরের গনগনে আগুনের তাত থেকেও অনেকটা যেন বাঁচা যায়। নাহলে নীচে নরম কাদা, ওপরে এই তাপ, দিনের শেষে অষ্টমীরা খোলা মুচি নামের সেদ্ধ পিঠে হয়ে বেরতো বোধহয়।

    অবশ্য খোলা মুচি হবার আর বাকী থাকে কী ! যখন বেলা চারটে সাড়ে চারটেয় তিনশ টাকা ব্লাউজের ভেতর ঢুকিয়ে অষ্টমী বাড়ি ফেরে, তার কোমর বাঁশের ডগার মতো কেবলই নুয়ে পড়তে চায়, চোখ ঢোকে কাঁকড়ার গভীর গর্তে, পোড়া বেগুনের বন্ন ধারণ করে মুখ আর হাতের চামড়া, বুক ভর্তি থাকে তেষ্টা আর মনে বাঘের ভয়। অন্ধকার হবার আগেই তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে এসে গ্রামের সবচেয়ে জনবহুল এলাকায় ঢুকে পড়তে হবে তাকে। কোমর দুলিয়ে ছোটে অষ্টমী, আবছা অন্ধকারে মনে হয় বাঘের ভয়ে পুরুষ্টু হরিণ ছুটছে।
    সেইসময়ও পেছন থেকে কেউ যদি ঘন ঘন সিটি মারে, মেয়েটার মনের অবস্থা কেমন হয় !

    তো অষ্টমী এইভাবে সিটি খেতে খেতে কাজে যায়, কাজ থেকে ঘরে ফেরে! আসলে সে তো খোলা মেয়ে। তাকে ঘিরে ধরবার, মাথার ওপর ছায়া ফেলবার কেউ নেই, কারণ বিয়ের পর একমাস যেতে না যেতেই তার স্বামীকে বাঘে খেয়েছে।

    সে বেচারা পেটের দায়ে কাঁকড়া ধরে বেড়াত। নির্জন ঝোপঝাড়ের পাশ দিয়ে, বালুচরের বুকের ওপর দিয়ে ছোট ছোট ঝোরা যেখানে বড় নদীর সঙ্গে এসে মেশে, ঠিক সেই মুখে আঁটোল পেতে রাখতো মুশকো জোয়ান লোকটা। খুব সরু সরু ক'রে ছিলে নেওয়া বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি চৌকো লম্বা বাক্সের মতো আঁটোল, ভেতরে ঢোকার ব্যবস্থা করা আছে, বেরোবার নাই কো। বুগিমাছ আর সাতহাতিয়া মাছ খন্ড খন্ড করে কেটে, নুন মাখিয়ে, কড়া রোদে শুকিয়ে সেই চারা ছড়িয়ে দেওয়া হয় আঁটোলের সর্বত্র। এই চারা কাঁকড়ার বড় প্রিয় খাদ্য, গন্ধ পেলে গর্ত ছেড়ে তারা গুটি গুটি বেরবেই । তারপর নদীর মাঝ বরাবর নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করে থাকো, চাঁদের মরা আলোয় একটু পরেই দেখতে পাবে, দুহাতে ধরে ওঠাতে পারবে না এমন বড় বড় কাঁকড়া অষ্ট পদে বালি সরিয়ে আঁটোল ভরতে ছুটে আসছে। মনে হবে বিশাল সাদা চর জুড়ে অসংখ্য গোলাকৃতি সচল ছায়া ! ভোরের বাতাস যখন নৌকার নড়া ধরে নাড়িয়ে দেয় একটু, তীরের দিকে তাকে যতটা নেওয়া যায় নিয়ে গিয়ে অষ্টমীর ঘরের লোকটা চুপিসারে জলে নেমে আঁটোল তুলে নিয়ে আসত। ভর্তি খাঁচাটায় তখন ছোট বড় কাঁকড়া কাঁটা লাগানো পায়ে এ ওকে জড়িয়ে ধরছে, ওপরে উঠছে, নীচে নামছে।

    একরাতে, না রাতে না, ভোররাতে, নৌকা মিঠে হাওয়ায় অল্প দুলতে লেগেছে, তাতে নদীর জল একটু একটু কুঁচকে উঠছে, আঁটোল তুলতে গিয়ে অষ্টমীর বর দ্যাখে ইয়াব্বড় এক রাজা কাঁকড়া আঁটোলের পাশেই গর্ত থেকে গতরখানা বার করে তাকে দেখছে। কাউরে কিছু না বলে সে নি:শব্দে সেদিক পানে যায়। কিন্তু যেই না ছুটন্ত পায়ে পায়ে বালিচরের অন্তরে মৃদু কাঁপন জাগে, অমনি সে ক্যাঁকড়া টুপ। গর্তের ভেতর ঢুকে গেছে। কিন্তু অতো নধর গতরখানা দেখে ফেলার পর আর কি তারে ছেড়ে দেওয়া যায় ! লোভে নাল-পড়া মানুষটা তার কড়াপড়া খেটে খাওয়া হাতখানি সঙ্গে সঙ্গে গর্তের ভেতর সেঁধিয়ে দেয়। যাবি কোথায় রে নাদুস, বারউঠোনে তিন মাথাওয়ালা মাটির উনুনে কাঠকুটোর আঁচে তোরে রান্না করলে ঝোল যে পুরো লাল বন্ন ধারণ করবে! বাজারেও তুই অনেক টাকায় বিকোবি !

    কে আর কোথায় যাবে, বাঁকানো ছুরির ফলা বসানো দাঁড়া দিয়ে সে কাঁকড়া তো ততক্ষণে চেপে ধরেছে ঘাতকের শক্ত হাত। যন্ত্রণায় চোখ উলটে যেতে যেতেও লোভী লোকটা ভাবে, এটা নিশ্চয়ই মেয়ে কাঁকড়া, এই শীতকালে ওর সারা শরীরে থকথকে ঘেনু জমে আছে, জমাট ঘিয়ের মতো, তরকারীতে দিলে ডিমের কুসুমের মতো ঝোলে ইতিউতি ভেসে বেড়াবে, কী তার আস্বাদ!

    কিন্তু তার শতেক টানাটানি বৃথাই যায়, উলটে ক্রমে হাতের মাংসে গেঁথে বসতে থাকে ছোটবড় ধারালো চারটে ফলা, শালা গর্তও এমন মাপে মাপে যে শত টানাটানিতেও মোটা পুরুষালি হাত উঠে আসে না কিছুতেই । আর না পেরে নৌকোতে কালঘুমে ঘুমিয়ে থাকা পাড়ার ছেলে সুদামকে কাতর কিন্তু গভীর কন্ঠে হালকা ডাক দেয় লোকটা, আমারে বাঁচা রে সুদাম।
    বাঘের ভয়ে সে তো বাপ রে মা রে বলে চিৎকার দিতেও পারছে না!

    ভোরের মিঠে হাওয়ায় সে ডাক কোথায় ভেসে যায়। সুদামের নিদ্রা ভাঙে না, কিন্তু দূরে ঝোপের আড়ালে হাঁড়ির মতো বড় মাথা নিয়ে লুকিয়ে থাকা বনের রাজার ছোট ছোট কান মূহুর্তে নড়ে ওঠে। সারা শরীর টান টান আর লেজ শক্ত হয়ে যায়। সুদাম নাকি কিছুই টের পায়নি, তবে ঘুমের ঘোরে কারও বিলাপ শুনেছে ছেঁড়া ছেঁড়া, ওরে আমারে এখনও উঁচায় তোলেনি রে, ঘেঁটিটায় দাঁত বসেনি তেমন, ছুইট্যে আয় ভাই, আমারে বাঁচা! কেঁকড়ার গত্ত থেকি হাত তুলতি না পেরি এ আমার কী হল রে বাপ!

    কিন্তু সুদাম তো ভেবেছে স্বপনের ঘোর! তাছাড়া বাদাবনের অতৃপ্ত আত্মাদের রাতবেরাতে কাঁদনের কথা কে-ই বা না জানে। সেসবে কান দিলে ভুলিয়ে নিয়ে যাবে কোন দূরে! ঘুমের মধ্যেই সুদাম গামছা চাপা দিয়েছে কানে, পাশ ফিরে শুয়েছে, ভোরের এই সময়টায় নিদ্রা দেবী যেন নিজে তার চোখের ওপর হাত চাপা দিয়ে রাখেন! কিছু পরে কী মনে হওয়াতে ধড়মড়িয়ে উঠে দেখে সঙ্গী হাওয়া। আঁটোলের পাশে বালিতে ভারী জিনিস ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাবার দাগ কিছুদূর অব্দি, তারপর নিশ্চয়ই লোকটাকে মুখে তুলে নিয়েছিল, ঝোপেঝাড়ে তার ছেঁড়া জামা, লুঙ্গি, চাপ চাপ রক্ত, এ-ই নাকি পড়ে ছিল।

    এই বনজঙ্গল নদীনালা পশুপাখি রকমারি মানুষ মিলে রাতদিন যেন এক যাত্রাপালার আয়োজন, এইরকম মনে হয় অষ্টমীর। সারাক্ষণ গরীবের মাথার ওপরে তলোয়ার ঘুরছে বনবন, চুপিচুপি কাঠ কেটে আনো বা বাগদার মিন ধরতে যাও, মধু যোগাড়ে ছোটো কী মাছ ধরো, পার্টি কত্তে যাও কী সরকারি সাহায্য যোগাড় কর, তলোয়ারটির ঘোরার বিরাম কই! মাথা ঝুঁকিয়ে, নাড়িয়ে, ঘুরিয়ে, নানা কায়দা করে পারো তো নিজেকে বাঁচাও, নাহলেই পর মূহুর্তে তোমাকে কন্ধকাটার সাজে নাচতে গাইতে হবে। পেটের গর্তে আগুন নেভে না, খাবার পড়লে একটু কমে থাকে শুধু, তাই এখানে ঝলমলে রাজসাজ থেকে ন্যাতাকানি পরা বা উলঙ্গ হয়ে যেতে লাগে দুটো টুসকি বা চোখের পাতা ফেলার মতো সময়। যেদিন তার সিঁদুর ঘসে ঘসে তুলে দিল সবাই মিলে, সেদিন থেকে অষ্টমীর এই ভাবনা। গরীবের ঘরেও বিয়েসাদিতে বর কনে নতুন কাপড় পরে, দু পাঁচজন ভাত ডাল খায়। মাত্র একমাস আগে সেসব অষ্টমীর জীবনে ঘটেছিল। ভাঙা চালা চুইয়ে পরা জোছনায় হুমদো বর হামলে পড়ে তাকে সোহাগ করেছে। আর আজ সে খিদের আগুন কমাবার জন্য নিরিবিলি অন্ধকারে বাঘে-ধরা রাস্তা দিয়ে ধানপাতা রুইতে যাচ্ছে। এখন কান-ফাটানো সিটির আওয়াজ হলেও সে স্বস্তি পায়, একেবারে একা তো নয়, পেছনে কেউ আছে তাহলে।

    সেদিন আকাশ খুব মেঘলা করে এলে প্রায় সবাই চলে গিয়ে ক্ষেত ফাঁকা। আগে কাজ শুরু করেছে যারা, তারা আগে যাবে, পরে এসেছে যারা, তারা পরে। এটাই নিয়ম। অষ্টমীর শরীলটা সকালের দিকে লাগছিল যেন ন্যাতাকানি, কতো দিন জ্বরে ভুগে উঠেছে বা। রোগাসোগা মায়ে বলছিল বটে, অষ্টা আজ আর যাসনি, কিন্তু সেই সর্বদা জ্বলতে থাকা আগুনের তাত চেগে উঠতেই দে ছুট ছুট। হুমড়ি খেয়ে ধানের চাতোরে পড়ে গামলায় ধানপাতা তুলে ক্ষেতে নিয়ে আসতে আসতেই চারদিক ফর্সা। তাই চটপট হাত চালাচ্ছিল অষ্টমী, এমন সময় চোখ না তুলেও মনে হল তার দিকে কেউ নজর পেতে রেখেছে। জঙ্গলের সীমানা-ছোঁয়া এই জমি, একথা মনে হতেই লাফিয়ে ওঠে অষ্টমী। বাঘ নয়তো? তারা নাকি ঝোপেঝাড়ে লুকিয়ে থেকে শিকারের ঘেঁটি তাক করে বসে থাকে অনেক্ক্ষণ। আকাশে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দূরের সবুজ প্রান্তরেখার দিকে তাকায় সে, চোখ দুখান দিয়ে জরিপ করে জমির গা ঘেঁষে আসা হলুদ ঘাসের থোপা, তাদের পেছনের হেতালি খেজুর গাছের ঝোপ। অনেকক্ষণ ধরে দূরে তাকিয়েও তার অস্বস্তি যায় না, কে যেন তাকে দেখতেই আছে! অবশেষে নিজের ডানদিকে তাকিয়ে অবশ শরীরে একটু বল পায় অষ্টমী, বাঘ নয়, আল-কাটা পাশের জমিতে খালি গামলা হাতে তার দিকে চেয়ে আছে সুদাম। চোখে চোখ পড়তেই থতমত খেয়ে সে ছেলে চোখ নামায়, জলকাদায় থেবড়ে দেওয়া চওড়া পায়ের পাতায় ছপছপ শব্দ তুলে রাস্তার দিকে হাঁটতে শুরু করে।

    অষ্টমী জানে, সুদামের সাহস নেই তার চোখে চোখ রাখার। একই গ্রামে বড় হয়ে উঠেছে তারা। ছোটবেলা থেকে দেখছে সে সুদামেরে। কেষ্ট ঠাউরের মতো চেহারা। বাবরি চুল, বাঁশির মতো নাক। সম্পর্কে তার মরা বরের মাস্তুতো ভাই। চেরকাল অষ্টমীরে আড়েঠারে দেখতো। এক একদিন তাদের ঘরের চৌকাঠে অনেকক্ষণ বসে থাকত, যেন যা বলার আছে তা উগরাতে কষ্ট হচ্ছে। তার মা জিজ্ঞাসা করলে লজ্জা লজ্জা করে হেসে কইতো, কিছু না মামী। অষ্টমীর বিয়ের পর বৌদির সঙ্গে কথাবার্তা বিশেষ হতো না, তবে নিজের মাস্তুতো দাদার সঙ্গে কাঁকড়া, মধু, কী গোলপাতার জন্য বনেবাদাড়ে যেত। সবাই বলে, ওর মন নাকি ভারী নরম । মিঠে মিঠে কথা কয় আর ভদ্র ব্যবহার বলে এ তল্লাটে সবাই ছেলেটাকে ভালবাসে। তাই কারোরই অবিশ্বাস ঘটেনি, যখন সে নিজেই সকলকে বলেছে ভোর রাতে স্বপনের ঘোর কাটেনি তার, তার অজ্ঞাতে অষ্টমীর স্বামীরে নিশ্চুপে বাঘে টেনে নে গেছে। এই ঘটনা নাকি তাকে এমনই মরমে মেরে রেখেছে যে সদ্য বিধবা দু:খী মেয়েটার সঙ্গে কথা বলা দূরে থাক, মুখোমুখি হলেও সে রা-টি কাড়ে না, অষ্টমী-বৌদির পায়ের পাতায় চোখ রেখে তাড়াতাড়ি পাশ কাটিয়ে ধাঁ হয়ে যায়।

    এই সবই অষ্টমী লোকমুখে শুনেছে। তাই সুদামের চলে যাওয়া দেখে সে আশ্চর্য হয় না। বরং খানিক দূর গিয়েও আজ সে ফিরে আসছে দেখে তার অবাক লাগে। অমন হুড়মুড়িয়ে ফেরত আসে ক্যান! সুদাম অবশ্য চোখ তোলে না, কাদাজলে চোখ ডুবিয়ে বলে, হয়নি তোমার? তো আমারেও দাও খানিকটা। বেলা তো বইসতে চললো, আমি কিছুটা রুইয়ে দি।

    অষ্টমী এমনিতেই ঠান্ডা মেয়ে, কারুর সঙ্গে চোপা করা, গলা তুলে চেঁচানো, তার ধাত নয়কো। আর সে ভালো করেই জানে, বাঘের দেখা, কপালে লিখা। স্বামীকে বাঘে টেনে নিয়ে গেছে বলে সে নিজের ভাগ্যকে দোষে, কিন্তু অন্য কারও ওপরে তার রাগবাগ নেই। যাকে ভালমতো চেনেইনি, মুখটাও আর স্পষ্ট মনে পড়েনা, বয়সে অনেক বড় সেই মানুষের জন্য তার খুব কাঁদন আসে না। তবে অন্যেরা নেই-কারণে কাঁচাখাগী, অমঙ্গুলে ডাক পাড়লে মন খারাপ হয় বৈকি। যে কোনো শুভ কাজে তার আমের পল্লব, ঘট, কলাগাছ দিয়ে সাজানো বাড়িতে ঢোকা নিষেধ। গঙ্গা নিমন্ত্রণে কাঁখে কলসি নিয়ে গান গাইতে গাইতে যায় সধবা আর কুমারী মেয়েরা, মুখোমুখি হয়ে গেলে অষ্টমী নিজেই নয়ানজুলিতে নেমে দাঁড়ায়। হাঁপ-টানা বুড়ি মা মরলে কোথায় যাবে সে জানে না। এইসব ভেবে মন খুব বেশি খারাপ হলে পুকুরে নেমে ডুব দিতে দিতে চোখের জল ফেলে আরও ঠান্ডা হয়ে সে ঘরে ফেরে। কিন্তু কখনও গলা উঁচু করে না, গালমন্দ করা দূরে থাক। এমন কী তার সোয়ামীরে খেয়েছে যে, সেই বাঘের ওপরেও তার তেমন রাগ নেই। বাঘ হচ্ছে বনের তালুকদার, স্বয়ং দক্ষিণ রায় তারে এই অধিকার দেছেন, আর সেই তাকেই তালুক ছাড়া করে মানুষ সব কিছুর দখল নিতে চাইলে, তার খাবারে বিষ মিশিয়ে দিলে, তারে ফাঁদে ফেলে কুপিয়ে মারলে, সে তো দাঁত নখ বার করবেই।

    আসলে সর্বগ্রাসী এক অসহায় দু:খ ছাড়া আজকাল অষ্টমী যেন কিছুই অনুভব করে না। তাই এখন নিশ্চুপে এক গোছা ধানপাতা সে সুদামের হাতে তুলে দেয়। দুজনেই মন দিয়ে ধান রুইতে লাগে, বেশি সময় হাতে নেই, খুব আন্ধার করে এসেছে চতুর্দিক। রোয়ার কাজ যখন প্রায় শেষ, মাটির ওপর নুয়ে থেকেই অষ্টমীর কানের কাচে মুখ এনে সুদাম প্রায় ফিসফিসিয়ে বলে, শহরে যেতি মন চায়নি তোমার? কত মেয়েছেলেরা তো বাবুর বাড়ির কাম নিয়ে চইলে যেতিছে। এতো কষ্ট নাই সেখানে। স্বামী স্ত্রী দুইজনা মিলে বাবুর বাড়ির গ্যারেজে থাকে। দুইজনেই খাইটে খায়। যাবা?

    আকাশে মেঘ হুহুঙ্কার ছাড়ে, বনের দিক থেকে বাতাস এসে ঠেলা দেয় দুজনকেই। দূরে কোথায় বাজ পড়ে, অষ্টমী কেঁপে ওঠে৷ বনের রাজা বুঝি ডাক ছাড়লেন গো! ভয়ের কাঁপুনি ছাড়াও সে কাঁপে, কারণ আকাশ থেকে দু একটি ঠান্ডা জলের ফোঁটা তার উদোম হাতে আর কন্ঠায় এসে পড়ে। অমনি সুদাম নিজের কাদা মাখা গামছা খুলে সেইসব জলের ফোঁটা মুছতে মুছতে অষ্টমীর উঁচু বুক ঘেঁষে দাঁড়ায়। আশ্বাস দেবার মতো করে বলে, ভয় নাই, ভয় নাই, ও বাঘের ডাক নয়, বাজের ডাক। আমি থেকতি তোর ভয় কী পাগলি!

    হাওয়ার ঝাপটায় তার বাবরি চুল হু হু করে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটার চোখেমুখে। বন-ছোঁয়া আকাশের গম্বুজ, সেখান থেকে কুয়াশার মতো মিহি বৃষ্টির অবিরল ধারাপাত, হাওয়ায় পাগলের মতো মাথা হাঁকড়ানো গাছের দল, সবাই মিলে যেন একটি আড়াল তুলে দিয়ে তাদের বাইরের পৃথিবী থেকে আলাদা করে দেয়। সেখানে অষ্টমী আর সুদাম ছাড়া আর জনপ্রাণী নেই। এমনকি পায়ের নীচের জলকাদা, কচি সবুজ ধানপাতা, সব অদৃশ্য হয়ে গিয়ে যেন রায়মঙ্গলের থেকেও এক চওড়া ক্ষেপা নদ তাদের ফিরে ফিরে নাচায় ঢেউয়ের মাথায়।
    কতক্ষণ কে জানে, দুজনেই কাদাজলে ওলটপালট খায়, দুজনেই দুজনার দেহের নৌকায় দাঁড় বায়। কোনো চাঁদনি রাতে এইরকম কিছু একটা তার সঙ্গে ঘটেছিল এইরকম ছেঁড়া ছেঁড়া মনে পড়ে অষ্টমীর। অপ্রস্তুত সলজ্জ শরীরে মনে তাকে জবরদস্তি ছাড়া সেদিন আর কিছু মনে হয়নি। আজ কিন্তু এমন নেশা লাগে অষ্টমীর, সে এঁটুলি হয়ে লেগে থাকে সুদামের বুকে। ঘরে ফিরলে মাথার চুল থেকে পা অব্দি কাদা মাখা পেত্নীকে দেখে মা আঁতকে উঠবে এই বোধও যেন তার বিলুপ্ত হয়েছে। বাঘে-ধরা, ভুতে-পাওয়া মানুষের মতোই সে গোঁ গোঁ করে বলে, আমারে দেখলে আড়াল থিকে কোন ব্যাডায় যেন সিটি বাজায়। সুদাম তার বুকের ধুকপুকি শুনছিল উবুর হয়ে শরীর ছেড়ে দিয়ে। এবার সে কাদা-মাখা মাড়ি বার করে হাসে, নিজের বুকে আঙুল ঠোকে, এই যে সেই ব্যাডা, তোমার দাস। মাথা উঁচু করে অষ্টমী, তুমি, তুমি সিটি বাজাইতে! সুদাম এবার মাটির ওপর উঠে বসে। মহা উৎসাহে বলে ওঠে, আরও যা করিছি, শুনলে চমকে উঠবা নে।

    অষ্টমী স্থির তাকায় কাদা-মাখা ভুতের চোখে, সেখানে বাঘের মুখে ঝোলা এক মানুষের ছায়া চমকায়, জাগন্ত থেকেও কে যেন নৌকার ভেতর গামছায় কান ঢেকে গুটিসুটি শুয়ে। অন্যের মরণ-বিলাপ শুনেও এগোয় না। বিলাপ মিলিয়ে গেলে ভয়ে ঝপাস ঝপাস দাঁড় বেয়ে দূরে মিলিয়ে যায়।

    যেন সে নিশ্চয় জানে সুদাম কী বলবে, এইভাবে অষ্টমী ঝটাস হাত চাপা দেয় তার মুখে, ফিসফিসিয়ে বলে, ওসব কথা শুনতি চাইনে, কোনও দিন বলবা না! বাঘে খাবে তবে তোমারেও, এই দিব্যি রাখলাম।




    ছবিঃ সংহিতা
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ইস্পেশাল | ০৯ মার্চ ২০২৩ | ২২১২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • এস এস অরুন্ধতী | ০৯ মার্চ ২০২৩ ০৯:৩০517166
  • বাংলার সেরা ছোটগল্প লেখকদের তালিকায় আপনার নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে। 
  • সুস্মিতা দত্ত | 2401:4900:382d:c660:1:1:cd39:fa7c | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১০:০৮517167
  • অসাধারণ, কেন যেন বেদেনীর কথা মনে পড়ে গেল। লেখকের কলম দীর্ঘজীবী হোক। 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১০:১৯517168
  • smiley অষ্টমীর মনে মাথার উপর তলোয়ার ঘোরার চিন্তাটা অষ্টমীর বদলে গল্প কথকের হওয়া স্বাভাবিক মনে হয়। তবে প্রতিভাদি কি আর হোমওয়ার্ক না করে লিখেছেন? মনে হয়না। কাজেই অষ্টমীর অমন ভাবনা স্বাভাবিক বলেই ধরে নিচ্ছি‌। বাদবাকি আর সব ত একেবারে নিপুণ বুনট।
  • Prativa Sarker | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১১:৫৯517173
  • অমিতাভ  সোঁদর বনের মানুষ-বাঘিনীদের মধ্যে ছোট্ট ক্ষেত্র সমীক্ষায় আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। কী তাজা প্রাণ, স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা অথচ কী ব্যাপ্ত অপুষ্টি আর রাজনীতির বিষ ! তাদের মুখে ব্যবহৃত উপমা আমায় চমকে দিয়েছে।
    আসলে তলোয়ার বা খাঁড়া বললেই আমাদের ডেমোক্লিসের কথা মনে পড়ে যায়। আমি ক্রমাগত unlearn করছি।
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১২:১৭517174
  • প্রতিভাদি, রাজনীতি অনেক কিছু শেখায়,  তার মধ্যে ভাষাও একটি। হয়ত তাই চিন্তা প্রকাশের বাহন ভাষা ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। 
  • স্বাতী রায় | 117.194.37.27 | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১৩:৩৫517175
  • পরিবেশ বুননটি ভারি চমৎকার। ভাল লাগল।  
  • মৃণাল শতপথী | 2401:4900:3bfb:70a8:4848:a0a5:c1b2:8dd8 | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১৪:০০517176
  • কাহিনিটি পাঠক হয়তো আগেই খানিক আন্দাজ করতে পারেন কিন্তু যা পারেন না তা গল্পটির অনবদ্য উপস্থাপনা! 
  • তানিয়া | 51.191.210.124 | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১৬:১৭517178
  • এই প্রথম প্রতিভা সরকারের লেখা পড়লাম। ভালোলাগার চাইতেও আফসোসে মন ভরে উঠলো, এমন লেখিকার কলমের সাথে আগে পরিচিতির সুযোগ না পাওয়ার জন্য
  • শুভ্রা মজুমদার | 2409:4060:2e1c:30c3::5c89:5d0f | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১৮:৩৯517179
  • কোথায় তোমার পা পড়ে না, সই! 
    তোমার সঙ্গে যাই উড়ানে--এমন ডানা কই!! 
    ন্যাংটো সত্যগুলোকে মায়া আবরণে ঢেকে এমন আশ্চর্য শ্রীমণ্ডিত করে তোলো তারা লাবণ্যে টলমল করে... আলো ছড়ায় 
  • | ০৯ মার্চ ২০২৩ ১৯:৪৮517180
  • ভারী চমৎকার গঠন গল্পের। ভারী সুন্দর। 
  • Sumitra Sinhachowdhury | ০৯ মার্চ ২০২৩ ২০:০০517182
  • উঃ। প্রতিভা, তোমার লেখা দিনে দিনে তলোয়ারের মতো ধারালো হয়ে উঠছে। 
  • নৈশন্তি মিত্র | 2402:3a80:1173:cfe:e0a5:49c4:41a0:b6bd | ০৯ মার্চ ২০২৩ ২০:০৮517184
  • প্রতিভাদি শহরের মানুষ হয়েও যে কি করে গ্রামের মানুষের মনের এমন খোঁজ রাখেন কে জানে! শুধু কি মন, তাদের জীবনচরিত ভিন্ন পরিবেশে কেমন ভাবে বদলে যায় তাই বা কি করে এমন নিগূঢ় ভাবে জানেন বুঝতে পারি না। চমৎকার একটি গল্প, এমন গল্প যা পরে ভাবাতে থাকে। 
  • জয়দীপ চক্রবর্তী | 2409:4060:391:6391::2491:70a0 | ০৯ মার্চ ২০২৩ ২১:০৪517191
  • প্রতিভা সরকার-এর ঝকঝকে-তকতকে কলম নিখুঁত গদ্যে প্রথম শব্দ থেকে পাঠকের মন-কে আঁকশি দিয়ে গিঁথে নেয়। অনবদ্য আর একটি গল্প পড়লাম।
  • সুমনা ভট্টাচার্য | 2402:3a80:1989:6758:8820:f3f8:acf2:3076 | ০৯ মার্চ ২০২৩ ২১:৪১517198
  • প্রতিভাদি, আপনার লেখা পড়তে শুরু করেছি খুব বেশিদিন নয়। কিন্তু প্রত্যেকটি লেখাই কেমন যেন থমকে দেয় একটু। 
  • শিবাংশু | ০৯ মার্চ ২০২৩ ২৩:৫৫517203
  • কনটেন্ট বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলছি না। যেটা উল্লেখ করতে হয়, সেটা হলো লিখনশৈলীর মধ্যে মাত্রাভেদের স্তরগুলি ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। নিখুঁত ন্যারেটিভ তৈরি করার জন্য গদ্যবিন্যাসে যে ছায় বৈচিত্র্য প্রয়োজন হয়, তার স্পষ্টতা বর্ধমান। লেখকের একটা নিজস্ব, প্রতিষ্ঠিত গদ্যরীতি রয়েছে, তা আমরা জানি। কিন্তু তার মধ্যে ক্রমাগত ছিলে কাটার প্রক্রিয়া হয়ে চলেছে। প্রতিফলিত আলোর বিচ্ছুরণ বহুধা বিস্তৃত হচ্ছে। নিজেকে সংস্কৃত করে তোলার শ্রমে কোনও ফাঁকি নেই। এই ব্যাপারটা খুব ভালো লাগে। ফিকশন লেখাটা কোনও ডেস্কজব নয়, তার জন্য 'মাঠে' নামতে হয়। আমার মনে হয় লেখকের বড়ো মাঠে নামার সময় এসে গেছে। 

    জয় হোক...
  • তপতী বিন্দু | 2401:4900:1043:2f3b:3270:adb3:ec67:8d0b | ১০ মার্চ ২০২৩ ০০:৩৩517206
  • এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। 
    মেদহীন টানটান লিখন শৈলী। আরও পড়তে মন চায়।
  • Biman Kumar Maitra | ১০ মার্চ ২০২৩ ১৫:২৯517217
  • দারুন সুন্দর পড়লাম। অনবদ্য। লেখককে ধন্যবাদ জানাই।
  • বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় | 103.18.170.27 | ১০ মার্চ ২০২৩ ১৭:০২517220
  • মারাত্মক ভালো লেখা।বাঘ ও জঙ্গলের মধ্যে মানুষের লড়াই ও বেঁচে থাকার অনুপম কাহিনি।
  • অপর্ণা দেব | 117.205.191.191 | ১০ মার্চ ২০২৩ ২২:১৪517242
  • পড়লাম দিদি, ঋদ্ধ হলাম।
  • saswati bhattacharjee | ১১ মার্চ ২০২৩ ০০:১৯517246
  • উপমাগুলো বারবার করে পড়লাম। কি নিষ্ঠুর বাস্তব লেখা। 
  • মোহাম্মদ কাজী মামুন | ১১ মার্চ ২০২৩ ০১:২৬517247
  • প্রতিভাদির গল্পে আমি অনেক সময় গল্প থেকে ছুটে যাই ভাষার আর শব্দের যাদুতে লুটোপুটি খেতে থাকি । বাঘের গল্পে অনেক বাঘ চলে এল। বাঘ নামে যে জন্তুটিকে চেনে পাঠক  তাকেও ছাড়িয়ে গেলে সেসব বাঘ শিকার ধরার কৌশলে। বাঘের শৌর্য বির্য অটুট রইল। বাঘকে ভয় করেও তাকেই যে ভালবাসে মানুষ। কী ভীষন সুন্দর উন্মোচন সম্পর্ককে বাঘের ছুতোয়,সুতোয় বুনে যাকে নিবিড় করে তোলা হল বাঘের পশমের মতই। জবাব নেই প্রতিভাদি! 
  • শান্তনু | 106.196.3.98 | ১১ মার্চ ২০২৩ ০৮:১০517253
  • অসাধারণ লাগলো 
  • সৌমিত্র বৈশ্য | 117.205.188.210 | ১১ মার্চ ২০২৩ ১৮:০৫517286
  • মনে হচ্ছিল, যেন ছবির মতই দেখছি, চোখের সামনে; এমনই বাস্তব এই উপস্থাপনা । 
  • প্রতিভা | 115.96.196.16 | ১২ মার্চ ২০২৩ ১১:১৯517303
  • সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সুন্দর বন নামের এই বিশাল ভূখণ্ডকে যতই জানছি ততই অবাক হচ্ছি। এবার গিয়ে থাকার ইচ্ছে কিছুদিন। এর ওপর ভালো বইপত্র থাকলে সাজেস্ট করবেন এই অনুরোধ রইল সবার কাছে।
  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২৩ ১৭:১৪517319
  • লেখার বুনোট অসাধারণ।
     জয় হোক!
  • Sara Man | ১২ মার্চ ২০২৩ ২২:১১517330
  • অসাধারণ গল্প প্রতিভা ম‍্যাডাম। আমি কলকাতার মেয়ে, তবে বাপের বাড়ির আদি সাকিন বসিরহাট। আপনার গল্পের কুশীলবদের ভাষাটি বড় চেনা, কানে মধু ঢালে। আমাদের আড়বেলের লোক বলে, "ওসব কতা শুনতি চাইনে, কোনও দিনও বলবা না! বাঘে খাবে তবে তোমারেও, এই দিব্যি রাখলাম বলো।"
     
  • প্রতিভা | 115.96.196.16 | ১২ মার্চ ২০২৩ ২২:২৩517332
  • সারা মান, আপনার মন্তব্যটি বড় তৃপ্তি দিল। সদ্য শিখতে শুরু করেছি, যেন ভাষাটির পরীক্ষায় পাস করে গেলাম। সত্যি খুব মিষ্টি ভাষা। আর বলার সময় জিভের টানগুলো!  অপূর্ব,  অপূর্ব ! 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন