এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  দোল

  • মহারাজা ছনেন্দ্রনাথের রংবেলুন ও একপাটি চটির গল্প

    রমিত চট্টোপাধ্যায়
    ইস্পেশাল | দোল | ২৬ মার্চ ২০২৪ | ১০৯৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১০ জন)
  • অলংকরণ: রমিত চট্টোপাধ্যায়


    "ফ্যাচ !"

    মানেই আরো এক জন শত্রুসৈন্য ঘায়েল, কেল্লা থেকে ছোঁড়া বোমা একদম সঠিক নিশানায় গিয়ে পড়েছে। আর নিচে আহত সেনামশাইটি রাগে তিড়িং বিড়িং করে উঠে, ওপর দিকে তাকিয়ে অদৃশ্য গোলন্দাজকে খুঁজে না পেয়ে, বাছাই করা কিছু বিশেষণ ছুঁড়তে ছুঁড়তে নিজের সদ্য রঙিন জামার দিকে তাকিয়ে এলাকা ছাড়লেন।

    তর্জনের তোড় থামলে ছেনু একটুকুনি মুখ বাড়িয়ে একফাঁকে লোকটার অবস্থা দেখে নিয়েছে, আর ওমনি তার মুখ জুড়ে খেলে গেছে স্বর্গীয় হাসি। আজ যখন এই কেল্লার গোলন্দাজির দায়িত্ব ছেনুর কাঁধে পড়েছে, সে, কাজে কি আর ফাঁকি দিতে পারে। তাই সক্কাল বেলা উঠেই দুই দিদিকে ঘুম থেকে তুলে দিয়েছে ঠেলে ঠেলে। তারা ঘুম ভেঙে বকুনি দিতেই ছেনু বলে দিয়েছে, বাঃ রে, অতগুলো বেলুন কি আমি একলা ভরতে পারি ? আর কোনোমতে ভরে ফেললেও, আমি তো আর গিঁট বাঁধতে পারিনা। ওগুলো একটু বেঁধে ছেঁদে দে। সেই সজল চক্ষুর দিকে তাকিয়ে তাদের রাগ গলে জল। তিনজনে মিলে ছাদে উঠে বালতিতে রং গুলতে বসল। একটু করে গোলা রং পিচকিরি দিয়ে বেলুনে ঢুকিয়ে বাঁধে আর দরজার দিকে তাকায়। দরজা দিয়ে যদি দুম করে সে উঠে আসে ওমনি সব গোলমাল হয়ে যাবে আর দুই দিদি বিপদ বুঝে পিঠটান দেবে। তারা ছেনুর জন্য বেলুন বাঁধতে রাজি হয়েছে কিন্তু কানমলা খেতে নয়। আসলে ছোড়দা (ছোড়দা শুনে মোটেই পুঁচকে ভাববেন না পাঠকেরা, ওদের দুটি লম্বা লম্বা দাদার মধ্যে ইনি বয়সে ছোট, তাই নাম ছোড়দা, কিন্তু তার গলার বিষম আওয়াজে মাঝে মাঝে গুলিয়ে যায়, কে ছোড়দা আর কে বড়দা) এই সব রং খেলা টেলার ঘোর বিরোধী। তার দাবি এইদিনেও নাকি কেউ কোন হুল্লোড়পনা না পাকিয়ে সুবোধ বালক হয়ে চুপটি করে ঘরের কোণে বইখাতা নিয়ে বসে লেখাপড়া করবে, নেহাৎ পড়াশুনোয় মন না বসলে সাহিত্য পড়বে, কিন্তু পাড়া বেড়িয়ে রং খেলতে যাওয়া নৈব নৈব চ। তার কথায়, রং খেলে কে কবে মহৎ হয়েছে ? ছেনু মিনমিন করে উত্তর দিতে যাচ্ছিল বটে, কেষ্ট ঠাকুর, কিন্তু ছোড়দার বোমার মত চোখের দিকে তাকিয়ে চেপে যেতে হয়। আগের দিনই ছোড়দা বাড়িজুড়ে ঘোষণা করে দিয়েছে, ছেনুর মতো পুঁচকে ছেলের কোথাও রংটং খেলতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, এক বারান্দা থেকে বসে বসে রং খেলা দেখতে পারে, এই অব্দি। কিন্তু বাড়ির সবাই তো আর এরকম পাষাণ হৃদয় নয়। তাই বড়দা আগের দিন রাতে বাড়ি ফেরার সময় দু কৌটো রং আর এক প্যাকেট বেলুন এনে গোপনে ছেনুকে চালান করে দিয়েছে। এক দিদি আলমারির পিছন থেকে পুরোনো পিচকিরিখানা ঝুল টুল ঝেড়ে উদ্ধার করে এনেছে। আর রং গোলার জন্য ভাঙা বালতিটা জোগাড় হয়েছে তেতলার পিসিমার কাছ থেকে। সেই সব নিয়ে আজ ছাদে বসে তিনজনে মিলে সকাল সকাল সব বেলুন টেলুন বেঁধে ফেলে, চিলেকোঠার ঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

    এরপর তিনজনে একে একে নেমে, ঠাকুরঘরে গিয়ে ঠাকুরের আর মা'র পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করেছে। ঠাকুরকে প্রণাম করলে তবেই প্রসাদের মিষ্টি মিলবে, মা হাতে সন্দেশটা দিতেই ছেনু খপ করে পুরোটা মুখে পুরে দিয়েছে, আর চিবোতে পারে না। তারপর একটু জল দিতে তবে গলা দিয়ে নামল। ছোড়দা আবার ঠাকুরকে প্রণাম টনাম করে না, তাই সে সকালে কমলা থেকে সন্দেশ কিনে আনার সময়ই নিজেরটা টপ করে খেয়ে নিয়েছে। সন্দেশটা একসাথে মুখে পোরার জন্য মা একটু বকাবকি করে বলল, যা এবার দিদিদের প্রণাম কর। ছেনু মিচকি হেসে বদ্দিকে একগাদা আবির দিয়ে প্রণাম করে পায়ে খিমচে দিতেই, বদ্দিও পাল্টা ছেনুকে ধরে খুবসে কাতুকুতু দিয়ে দিল। আর ছোদ্দিকে প্রণাম করার পালা এলে ছেনু সোজাসাপ্টা জানাল, ওকে বড়জোর মুখ ভেঙিয়ে দিতে পারে, প্রণাম করা সম্ভবপর হচ্ছে না। তাতে ছোদ্দি আবির হাতে নিয়ে ছেনুর টোবলা গালদুটোয় লাগিয়ে চুলটা একটু খেবলু খেবলু করে দিল। দিদিরা আজ যাবে লালবাড়িতে বসন্ত উৎসবে, ওখানে ওদের নেমন্তন্ন, লালবাড়ির মেয়েদের সাথে দিদিদের ভারী ভাব কিনা। ছোড়দাও মানা করতে পারে না, কারণ ওখানে রং টং খেলা হয়না, শুধুই একটু আবির ছোঁয়ায়, আর আসল কথা হল লালবাড়ির লোকেদের চটানো মুশকিল, কারণ ওরাই ছেনুদের বাড়িওলা। তবে বাড়িওলা হলেও লালবাড়ির লোকজন ছেনুদের বড্ড ভালোবাসে, ছেনু মাঝে সাঝে খেলতেও যায় ওই বাড়িতে কিন্তু আজ ছেনুর গন্তব্য অন্য জায়গা - তেতলার বারান্দা। মাকে ছেনু বলে রেখেছে, বসে বসে রং খেলাই যখন দেখব, তখন তেতলার বারান্দা থেকেই দেখা ভাল, আরো উঁচু হবে। তাতে গ্রিল শক্ত করে ধরে থাকার শর্তে ছেনুর ছাড় মিলেছে।

    তেতলায় গেলে ছেনুর একচ্ছত্র আধিপত্য, কেউ কিচ্ছুটি বলার নেই, সবাই তাকে মাথায় করে রাখে। ছেনু যেতেই পিসিমা একটা নারকেল নাড়ু বের করে ছেনুর গালে দিয়ে দিল। তারপর ছেনু গিয়ে সেই চিলেকোঠা থেকে নড়তে নড়তে বেলুন, বালতি, পিচকিরি সব টেনে এনে সেসব জিনিস বারান্দা জুড়ে সাজিয়ে রাখল। তারমধ্যে এক ফাঁকে নিচে গিয়ে দেখে নিয়েছে ছোড়দা কি একটা গাবদা বই খুলে পড়ছে, সুতরাং সেদিক থেকে আপাতত কোনো ভয়ের আশঙ্কা নেই। তা এইসময়ে তাদের পুরোনো লঝঝড়ে বাড়িটার তিনতলার বারান্দা থেকে নিচের রাস্তায় লোকজনের গতিবিধি দেখতে দেখতে তার মনে হল, সে আর নিতান্ত পুঁচকে ছেনু নয়, এখন তার নাম মহারাজ ছনেন্দ্রনাথ, কলকাতার বুকে তার এই বিশাল কেল্লার ঝরোখা থেকে সে এখন শত্রু সৈন্যদের ওপর নজর রাখছে। এই সময় একটা চেয়ার সিংহাসন হিসেবে পেলে মন্দ হত না, বা নেহাৎ একটা কাঠের ঘোড়া। যাইহোক, নিচের পরিস্থিতি দেখে ছেনু ঠিক করল, আহত সৈন্যদের বোমা মারার কোনো মানে হয়না। তাদের আশেপাশের কিছু বাড়ির ছাদ থেকেও মাঝে সাঝে শেলিং হচ্ছে, তাই যেসব সৌভাগ্যবান সেসব এড়িয়ে তাদের বাড়ি পর্যন্ত বেরঙিন, বেদাগ জামায় আসতে পেরেছে, শুধুমাত্র তাদেরকেই সে নিশানা করবে। পুঁচকে হলেও তার হাতের টিপ মারাত্মক। সে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে তাক করে টপাটপ রং-বেলুন ছুঁড়ছে আর গায়ে ঠিকমতো পড়লেই বারান্দা থেকে ছুট। এভাবে অন্তত গোটা ছাব্বিশ লোককে সে উজালার খরিদ্দার বানালেও দুঃখের বিষয় উজালা কোম্পানি এতবড় উপকারের প্রতিদান কোনো দিনই তাকে দিতে পারেনি, হয়ত বিষয়টা তাদের গোচরেই আসেনি, কে জানে।

    তা মহারাজ ছনেন্দ্রনাথের বোমাবর্ষণ দিব্যি চলছিল, বেলুনরাও আজ দারুণ সার্ভিস দিয়েছে, খুব কমই ফুটো বেরিয়েছিল। মাঝে মধ্যে পিচকিরি দিয়েও সে কয়েকজনকে রং ছুঁড়েছে। তার শিকারদের জামা বিতিকিচ্ছিরি ভাবে রঙিন হয়ে গেলেও, মহারাজের জামা এখনো একদম পরিষ্কার। তার মধ্যে মৃদু মন্দ মলয় বাতাস এসে মেজাজটা ফুরফুরে করে দিচ্ছে। এই সময় দূর থেকে দেখা গেল ওনার কিছু বন্ধু এইদিকে আসছে। তারা ইতিমধ্যে রং খেলে ভূত হয়ে গেছে। ছেনু তার মধ্যে থেকেও দিব্যি চিনতে পারলো, বাচকুন, বুলটু, তোড়া, লুচকাই, অভু সবাই আছে। এরা সম্ভবত দ্বারিকের দোকানের দিকে রং খেলতে গেছিল, যেখানে একেবারে চৌবাচ্চার মধ্যে রং গোলা হয়, আর কেউ বেশি বেগড়বাই করলে ধরে সেই বিচিত্র সব রং-গোলা চৌবাচ্চায় ঝুপপুস করে চুবিয়ে দেওয়া হয়। বাঁদুরে রং, ভুতুড়ে রং, কালি, গ্যামাক্সিন এসব তো মামুলি ব্যাপার। তা বন্ধুদের আসতে দেখে ছেনু মনস্থির করল, এরা যা রং খেলেছে, তাতে বেলুন টেলুন একেবারে সামান্য ব্যাপার, পিচকিরি দিয়ে ছুঁড়লেও কামানের সামনে নকুলদানা মনে হবে, তাই গোটা বালতি ধরেই এদের মাথায় রং ঢালতে হবে। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। বালতিটা কোনো মতে ধরে তুলে (বালতিটা আসলে অনেকটা খালি হয়ে এসেছিল তাই রক্ষে) রেলিংয়ের ধার ঘেঁষে এসে ছেনু ঠিক তাক করে ওদের মাথায় গুলে রাখা রংটা ঢেলে দিল। আর বালতি ঢালতে গিয়ে ছেনুর পা-ও পিছলে গেছে। রেলিং না থাকলে বিপদ হত, কিন্তু এযাত্রা একপাটি চটি ছেনুর পা থেকে খুলে নিচে একদম রাস্তার ওপর পড়ে গেল। ওরা ওপর থেকে রং ঢালায় একটু বিভ্রান্ত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু চটিটা দেখে আর কোনো সন্দেহ রইল না। এই চটি তাদের ভীষণই চেনা, এইসব চটিকে সময় বিশেষে গোলপোস্ট বা উইকেট বানিয়ে আকছার তারা গলিপথকে মাঠে রূপান্তরিত করে থাকে। তাই তারা দেরি না করে চটির মালিকের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল। অন্যদিন এই দরজা সারাক্ষণ খোলা থাকলেও আজ ছোড়দার নির্দেশে বন্ধ করা ছিল। মা দরজা খুলে বিস্ফারিত চোখে ভৌতিক অবয়বদের দেখে জানালেন, ছেনুর শরীর মোটে ভাল নেই, সে তাই রং খেলতে যেতে পারছে না। তারা সেই শুনে ভালোমানুষের মতো জানাল, একবার ডাকুন না ওকে, ওর চটিটা পড়ে গেছিল তো, দিয়েই চলে যাবো। আর ঠিক এই সময়ই ছেনু তার হারানো চটির সন্ধানে তেতলা থেকে গুটি গুটি পায়ে নেমে এসেছিল। বয়সজনিত কারণে তার উচ্চতা খুব বেশি না হওয়ায় বন্ধুরা যে তার বাড়িতেই ঢুকেছে এটা আর তেতলার বারান্দার রেলিং থেকে মুখ বাড়িয়ে দেখা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ওদের আর দেখতে না পেয়ে ছেনু ভেবেছে ওরাও বুঝি সেই আহত সৈন্যদের মতোই এলাকা ছেড়েছে। আর সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমেই পড়বি তো পর একদম বাচকুনের সামনে। আর যায় কোথায়। সবাই মিলে ছেনুকে চেপে ধরে ভুতুড়ে, বাঁদুরে, গিরগিটিয়ে, কিম্ভুতুড়ে, মানে আর যা যা বিদঘুটে রং সম্ভব, যা ওদের কাছে ছিল, সব আচ্ছা করে আগাপাশতলা মাখিয়ে দিল। তাতে এমনি খুব একটা অসুবিধে কিছু হয়নি, খালি পাড়ার গার্জেনরা এরপর আর হপ্তাদুয়েক ছেনুকে রাস্তায় দেখে চিনতে পারতো না, এই আরকি।






    বলছি বটে গপ্পো, কিন্তু এইসব ঘটনা আসলেই কলকাতায় ঘটেছিল, তা ধরে নিন আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছরেরও আগে। এখন বোধহয় আর রাস্তা জুড়ে সেই লেভেলের দোল খেলা হয়না সেইখানে। ছেনু তখন যেমন দুষ্টু মিষ্টি ছিল, এখনো মনে মনে তেমনই আছে। তবে লেখক কিছুটা শৈল্পিক স্বাধীনতা নিয়েছেন আর কি। সময় সুযোগ পেলে ছেনুর আরো কিছু ঘটনা এবং দুর্ঘটনার কথা আপনাদের সাথে ভাগ করে নেওয়া যাবেখন :-)

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ইস্পেশাল | ২৬ মার্চ ২০২৪ | ১০৯৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৬ মার্চ ২০২৪ ১৪:৫৬529824
  • বাহ ভারী চমৎকার মন ভাল করা গপ্প ছবি। 
    মহারাজা ছনেন্দ্রনাথের আরো গপ্প শুনতে চাই। 
  • Somnath Pal | ২৬ মার্চ ২০২৪ ১৮:০০529828
  • খুব সুন্দর
  • Kishore Ghosal | ২৬ মার্চ ২০২৪ ১৯:২৪529832
  • অনবদ্য ভাই - ছোটবেলায় উত্তরকলকাতার জলরঙের  ছবি - চোখের সামনে ফুটে  উঠল।  ফেলে আসা স্মৃতির আনন্দ...   
  • kk | 2607:fb91:87a:43fe:884d:6a78:c8db:cf7d | ২৬ মার্চ ২০২৪ ২০:১২529836
  • খুব ভালো লাগলো গল্প আর ছবি দুইই। মহারাজা ছনেন্দ্রনাথ সিরিজ হোক। হোক হোক।
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ২৬ মার্চ ২০২৪ ২৩:২২529846
  • যেমন চমৎকার গল্প, তেমন চমৎকার ছবি। 
    ছনেন্দ্রনাথ সিরিজ এসে যাক।
  • অরিন | 119.224.61.73 | ২৭ মার্চ ২০২৪ ০০:১৮529848
  • মিষ্টি!
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৭ মার্চ ২০২৪ ০০:৩৮529849
  • কিশোরবাবু, kk, অমিতাভবাবু ও অরিনবাবুকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 
    আপনারা সবাই যখন অভয় দিচ্ছেন, ছনেন্দ্রনাথ সিরিজ তাহলে করতেই হবে মনে হচ্ছে :-)
  • Anirban M | ২৭ মার্চ ২০২৪ ০৬:৫৩529857
  • চমৎকার! ছোটদের জন্য লেখা সহজ নয়। ভেতরের ছোট্ট মানুষটিকে খুঁজে পেতে হয় তার জন্য, যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যায় প্রায়শই। রমিত তাকে হারাতে দেন নি। অবশ্যই একটি সিরিজ করুন। 
  • বিপ্লব রহমান | ২৭ মার্চ ২০২৪ ০৭:৪২529858
  • দুষ্টু মিষ্টি মহারাজ ছনেন্দ্রনাথ জিন্দাবাদ!! 
    খুব ভালো heart
  • বিপ্লব রহমান | ২৭ মার্চ ২০২৪ ০৭:৪৪529859
  • *ছনেন্দ্রনাথ সিরিজ এখন জনতার দাবি
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:8b1:a765:87e0:a4a8 | ২৭ মার্চ ২০২৪ ০৮:১১529860
  • সকাল সকাল লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো। আর ছোটবেলার কতো ঘটনা যে মনে পড়ে গেলো! আমিও ওরকম বারান্দায় লুকিয়ে রং বেলুন ছুঁড়ে মারতাম, আর ছুঁড়েই এক দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়তাম। আরও বড়ো হওয়ার পর তো নিজেই রং খেলতে বেরিয়েছি। 
     
    ছনেন্দ্রনাথ সিরিজ অবশ্যই করুন। 
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৭ মার্চ ২০২৪ ১১:৫৬529864
  • খাসা লাগলো। সাবলীল লেখা। “আহত সৈন্যদের বোমা মারার কোনো মানে হয়না।” - এটা একদম অব‍্যর্থ হয়েছে - আমরাও তখন খুজতাম কোনো বেদাগ বাদশা। দোল ছেড়ে সমাজের দিকে তাকলে - এখন হয়তো তা খুঁজে পাওয়া ভার। এ লেখায় ৫ দিতেই হয়। 

    দুটো ছোট্ট টুসকি - 
    ১. লেখায় আছে - “সে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে তাক করে টপাটপ রং-বেলুন ছুঁড়ছে” - ছবিতে আছে রেলিং‌য়ের মাথা ছেনুর পেটের কাছে - তাই সে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে নয় - ওপর দিয়ে‌ই শেলিং করছে। চেয়ার‌ও ছেনু পায়নি যে তাতে দাঁড়িয়ে ছুঁড়বে।
     
    ২. জ‍্যোতি ল‍্যাবরেটরিজের উজালা বাজারে এসেছে ১৯৯৩ তে, পঞ্চাশ বছর আগে মহারাজা ছনেন্দ্রনাথ হয়তো টিনোপালের বিক্রি বাড়িয়েছিল 
     
    পুনশ্চঃ - 
    বছর দশেক বয়সে একবার দোলের সময় ইনোভেটিভ পেজোমি করতে গিয়ে বাতিল এভারেডি ব‍্যাটারি ভেঙে, সেই কালি কাপড়ে চেলে, সরষের তেলে গুলে, তালুতে মেখে ভালোমানুষের মতো পেছনে দুহাত মুঠো করে গিয়ে খপাৎ করে হঠাৎ কারুর গালে মাখিয়ে দিয়েছি। বাবা দেখতে বলেছিলেন, এটা করিস না, ব‍্যাটারি‌র কালি বিষাক্ত, কারুর বা তোর‌ই চোখে লেগে গেলে মুশকিল। অজান্তে বদমায়েশী করলেও, কেউ বুঝিয়ে বললে, সে জিনিস আর কখনো করিনি - কেবল একটি ব‍্যতিক্রম ছাড়া।

    অল্পবয়সে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে - kleptomaniac syndrome এ বেশ কিছু‌দিন আক্রান্ত ছিলাম। বছর পনেরো বয়সে তা কেটে যায়। সেই প্রসঙ্গে কখনো লিখতেও পারি কিছু রূদ্ধশ্বাস, অকল্পনীয় এপিসোডের কথা। আজ ভাবলে মজা লাগে - তখন তার জন‍্য সম্মানহানি‌ বা বিপদ‌ও হতে পারতো।   
  • প্রতিভা | 2401:4900:7068:f86c:7dc1:1a70:ea9d:a01d | ২৭ মার্চ ২০২৪ ১৩:১০529868
  • এই দোল হারিয়ে গেছে। বাচ্চাদের আর অনুমতি দেওয়া হয় না। অনেকটাই মনে করিয়ে দিলেন ছেনু- মহারাজ। 
     
    লেখার সঙ্গে অলংকরণ অপূর্ব !  গুরুতে ইতোপূর্বে এই ব্যাপার চোখে পড়েনি! 
  • দোলন চাঁপা | 49.37.11.53 | ২৭ মার্চ ২০২৪ ১৯:৪৭529870
  • বিশুদ্ধ আনন্দ পেলাম। ছেনুবাবুর আরও কীর্তি এভাবেই বলে চলুন। 
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৭ মার্চ ২০২৪ ২০:০৯529871
  • অনির্বাণ বাবু, বিপ্লব বাবু, সমরেশ বাবু, dc, প্রতিভা-দি, দোলন চাঁপা সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ধৈর্য ধরে লেখাটা পড়ার জন্য। ভীষণ উৎসাহ পেলাম আপনাদের মন্তব্য থেকে।
     
    সমরেশবাবু দুটি টুসকিই একেবারে মোক্ষম জায়গায় দিয়েছেন। উজালার নাম এত বহুল প্রচারিত এবং এত দিন ধরেই প্রচারিত যে সেই সময় উজালা ছিলনা, এটা খেয়ালেই আসেনি। যা হোক, পরবর্তীতে শুধরে নেওয়া যাবে। আর ছবিতে রেলিং মাথা অব্দির বদলে কোমর অব্দি করার কারণ হলো নান্দনিকতা। রেলিং এর পিছনে ছেনুর মুখটা ঢাকা পড়ে গেলে অতটা ভালো লাগতো না দেখতে এই আরকি। :-) 
     
    যাক, আপনি যে ভীষন মনোযোগী পাঠক এই সব টুকরো মন্তব্যে বেরিয়ে আসে। আবারও ধন্যবাদ।
     
     
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৭ মার্চ ২০২৪ ২১:৫৪529877
  • না, না, সে ঠিক আছে - মানে বাঁ-হাতে Anti-Gravity পিচকারী বাগিয়ে (তাই হাতল না চিপে‌ও তা থেকে চিরিমিরি রঙিন জল বেরোচ্ছে) Multitasker ছেনু ডানহাতে এবার রঙবেলুন ছুঁড়বে - ফ‍্যাচ। নান্দনিকতা‌র নিরিখে এখানে রেলিংয়ের ওপর থেকে‌ই মুখ বার করা দুষ্টু ছেনু‌কে মিষ্টি লাগছে। 

    কিন্তু লেখা ও ছবির খটকা না রাখতে লেখায় রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে ছুঁড়েছেটা একটু অন‍্যভাবে লেখা যায়। যেমন ধরুন, রেলিংয়ে‌র কাছেই ছিল একটা বাতিল বাক্স‍, তাতে চড়ে বেলুন ছুঁড়ে‌ই ছেনু টপাস করে বসে পড়েছে - তাই তো রাস্তায় আহত সেনামশাই মুখ তুলে বাক্সের আড়ালে ছেনুকে দেখতে পায়নি। না হলে ইঁটের নয়, গ্ৰিলের রেলিং‌য়ের ওপাশে গোলন্দাজ ছেনু অত দ্রুত অদৃশ‍্য হবে কি করে? তাছাড়া রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে হাত গলিয়ে ছোট্ট ছেনুর পক্ষে রাস্তা অবধি বেলুন ছোঁড়াও একটু শক্ত - যদি না বাড়িটা রাস্তা ঘেঁষেই উঠে থাকে।  

    লেখক একটু শৈল্পিক স্বাধীনতা নিয়েছেন - আমিও একটু পাঠকের স্বাধীনতা নিয়ে - অতি সংক্ষিপ্ত বা আলুনী মন্তব্য না করে - দোলের বাজারে টুকুন রম‍্যরসময় মন্তব্য করেছি। অন‍্যভাবে নেবেন না। অযথা খুঁত ধরে লেখকের মুড অফ করতে চাইনি। লেখাটি‌ খাসা‌ই লেগেছে। অঙ্কনে যে আপনি দক্ষ তা গুরুর প্রকাশিত ব‌ইয়ের প্রচ্ছদ বা আভি জিতের কার্টুনে‌ই বুঝেছি। এবার লেখাতেও বোঝা গেল। চালিয়ে যান চুটিয়ে এই যুগলবন্দী - ওটাই আপনার USP.


     
  • Dipak Kr Roy | ২৭ মার্চ ২০২৪ ২২:৫৭529881
  • কি সুন্দর লেখা 
  • অভিভূষণ মজুমদার | 2001:4490:888:7666::1 | ২৮ মার্চ ২০২৪ ০৯:২৩529895
  • অসাধারণ 
  • হীরেন সিংহরায় | ৩০ মার্চ ২০২৪ ১৩:০৪529973
  • রমিত
     
    মনে হলো আপন বাল্যকালের ( যদিও তা বিহারে কিন্তু স্থান আলাদা হলেও পাত্র এবং তাদের আচরণ অভিন্ন ) একটি তথ্যচিত্র দেখলাম অলঙ্করণ সহ  - এই অলঙ্করণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আমার কাছে ; একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রনাট্যে সংলাপের পাশে স্কেচ আঁকতেন ! এবার আসুক বাজি পোড়ানর দিন, রঙ মশাল তুবড়ির সঙ্গে ছনেন্দ্রনাথের মোকাবিলা ? 
     
    যা ফেলে এসেছি যেখানে কখনো আর পৌঁছুনো যাবে  না  এ জীবনে তার স্মৃতির এক ঝলক দেখে বলতে ইচ্ছে করে 
     
    'দেখেছি যা হ'লো হবে যা হবার নয় ' 
     
    পুঃ ' ওমনি ' বানানটা সংসদে পেলাম না ।তুমি কোথায় পেলে ? অ্যাকাডেমি না আনন্দবাজারি ? আমার স্কুলের শিক্ষক নগেন বাবু বেঞ্চের ওপরে দাঁড় করিয়ে দিতেন । 
  • সমরেশ মুখার্জী | ৩০ মার্চ ২০২৪ ১৪:২০529975
  • রমিতবাবু যা ভেবে "ওমনি" লিখেছেন তা ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বাংলা অভিধানে দেখলাম। মনে হোলো অমনি এবং ওমনি দুটোই গ্ৰাহ‍্য। ৫ নং দ্রষ্টব্য।
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১৭:০৮530065
  • অসংখ্য ধন্যবাদ দীপক বাবু ও অভিভূষন বাবুকে।
     
    হীরেনবাবু যেসব কীর্তিমানেদের তুলনা এনেছেন মন্তব্যে সেদিকে তাকালেও লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিতে হয়। লেখা ও রেখায় আমি নেহাতই শিক্ষার্থীমাত্র। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনি সময় নিয়ে  লেখাটি পড়েছেন ও ভালো লাগা জানিয়েছেন। 
     
    সমরেশবাবুকে অনেক ধন্যবাদ, ওমনি শব্দের জন্য অভিধানের ছবিও পোস্ট করে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে হীরেনবাবু ঠিকই বলেছেন যে এই বানানটা বাংলায় কিছুটা কম প্রচলিত। আসলে অমনি লিখলে যে ভাবটা প্রকাশ পায়, ওমনি তে ভাবটা একটু আলাদা, হয়তো আরেকটু আদরমাখা। সেই কারণেই এই বানানটি ব্যবহার করা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন