এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা  রাজনীতি

  • ডাঃ কুণাল চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সমূহ

    রমিত চট্টোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ৩০ মার্চ ২০২৪ | ৫২৮ বার পঠিত
  • বাঙালির ব্যবচ্ছেদ

    অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ একদা তাঁর প্রতিষ্ঠানের demography research unit এ কবি বিষ্ণু দে কে নিয়োগ করেছিলেন। কবির কাজ ছিল খবরের কাগজে প্রকাশিত পাত্র-পাত্রীর কলম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটা demographic study করা। বিষ্ণুবাবু কবি, কদিন পর 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ' লিখবেন। এই ধরণের গবেষণা তাঁর cup of tea ছিল না। অচিরেই তিনি রণে ভঙ্গ দিয়ে কলেজ অধ্যাপনায় যোগ দেন।

    আজ থেকে ৩৬ বছর আগে এবং সম্প্রতি (২০২১) এক ই ধরণের দুটি গবেষণায় যুক্ত থাকার কারনে আমাদের কলকাতা কেন্দ্রিক বাঙালিদের সম্পর্কে একটা ধারণা উঠে এসেছে, যেটা একান্তভাবেই আমার ব্যক্তিগত। আমার এই অনুসন্ধানটি Economic and Political Weekly র মতো পত্রিকায় প্রকাশযোগ্য না হলেও investigative journalism নয়। বরং এটাকে cursory study বলা যেতে পারে।

    এর পর মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করার আগে এই বঙ্গের জনসংখ্যার সর্ব শেষ জাতি ধর্ম ও ভাষাগত বিন্যাস টা সেরে নিতে চাই।

    নাম।                         শতকরা হার

    মুসলিম বাঙালি।                      ‌২৭
    মুসলিম অবাংলাভাষী বাঙালি।  ৩              
    বাঙালি তফসিলী জাতি।          ২৫           
    বাঙালি তফসিলী উপজাতি।      ৫             
    ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য বাঙালি    ১৭
    অন্যান্য বর্ণ হিন্দু বাঙালি            ৫
    গোর্খা বাঙালি                           ১২     
    অ-বাংলাভাষী বাঙালি                ৬

    (সূত্র: এন এস এস ও, সেনসাস ও অন্যান্য)
     
     
    প্রখ্যাত সমাজতাত্ত্বিক অধ্যাপক রামকৃষ্ণ মুখার্জির কাছে শোনা- লন্ডন এ কোন কলেজে একবার পেশার সাথে প্রাপ্তির সম্পর্ক জানতে কোন স্কুলের প্রথম শ্রেনির ছাত্রদের অভিভাবকদের পেশা জানা ও সেই ছাত্রদের দৈহিক ওজন ও উচ্চতা মাপা হয়েছিল। দশ বছর পর ঐ ছাত্রদেরই ওজন এবং উচ্চতা দেখে জানা গিয়েছিল যাদের অভিভাবক white collar job এ ছিল তাদের সন্তানদের উচ্চতা ও ওজন blue collar job এ থাকা অভিভাবকদের সন্তান অপেক্ষা প্রত্যাশা মতো বেড়েছে এবং বেশি হারে বেড়েছে। আমাদের সমীক্ষা দুটির মধ্যে সময়ের ব্যবধান দির্ঘ ৩৬ বছর হওয়ায় ভেবেছিলাম কিছু বদল হবে। কিন্তু তথ্য বিশ্লেষন করে তেমনটা পাওয়া যায় নি। দুটো বছরেই রবিবারের আনন্দবাজার পত্রিকায় দেওয়া ব্রাহ্মণ পাত্র চাই এবং ব্রাহ্মণ পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনে অন্য বর্ণ ও চলবে বলা ছিল। দুটো বছরেই পাত্রর সংখ্যা পাত্রী অপেক্ষা কম হলেও গড়ে যথাক্রমে ২০০ এবং ৩০০ মতো ছিল। Caste  এর ক্ষেত্র open ended হলেও ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও বৈদ্য র সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

    যেটা লক্ষ্যণীয় সেটা হল ৮০ শতাংশের বেশী উত্তর এসেছে কলকাতা, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার শহরাঞ্চল থেকে। কিছু নদীয়া, মেদিনীপুর ও দু একটা বর্ধমান থেকে। সেনসাস প্রতিবেদন জানাচ্ছে আমাদের রাজ্যে যে ১৭ শতাংশ ব্রাহ্মণ, বৈদ্য, কায়স্থ তারা মূলত শহরবাসী। এই concentration আমাদের এই matrimonial response এর মধ্যেও দেখা গেছে।

    দ্বিতীয় যে বিষয়টা সামনে এসেছে সেটা হল ফারাক্কার উত্তরের প্রায় অনুপস্থিতি। এমন কি কলকাতার নিকটবর্তী দক্ষিন ২৪ পরগনাও প্রায় নেই। বেশ কিছু উত্তর দুটি বছরেই পাওয়া গেছে দুর্গাপুর, জামশেদপুর এবং খড়গপুর থেকে।

    এছাড়া তৃতীয় উল্লেখ্য observation টি হল ২০২১ এর বিজ্ঞাপনে পাত্র চাই এর ক্ষেত্রে বিরাট সংখ্যক পাত্রের উপস্থিতি তারা পশ্চিম বঙ্গের বাইরে কর্মরত। শতাংশের বিচারে সংখ্যাটা ৭০ শতাংশ মতো।
     
    (চলবে)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ৩০ মার্চ ২০২৪ ০০:৪৯742673
  • কুণালবাবুর বক্তব্যের দায় সম্পূর্ণ ওনার নিজস্ব। আমি ওনার বক্তব্যকে কোনো ভাবে সমর্থন বা প্রচার করার জন্য এই টই খুলিনি। সাইটে লেখার ক্ষেত্রে ওনার অপারগতা হেতু শুধু ওনার বক্তব্যটা গুরুচন্ডা৯র হোয়াটস্যাপ গ্রুপ থেকে তুলে এখানে দিলাম। এক্ষেত্রে আমি বার্তাবাহক মাত্র। নিন সবাই এবার আনন্দে কাটাছেঁড়া, ঝগড়া, ভালবাসা যা ইচ্ছে করুন।
  • Arindam Basu | ৩০ মার্চ ২০২৪ ০৪:৩৯742674
  • লেখাটা সমাপ্ত না হওয়া অবধি আর মন্তব্য করা উচিত নয় হয়ত, কিন্তু আনুপাতিক সংখ্যাটা বিশ্বাসযোগ্য ঠেকেছ না। ৩০% মুসলমান আর ৫২% হিন্দু বাঙালী (যদি তফসিল জাতি উপজাতি সবাইকে হিন্দু ধরে নিই, কোন বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নেই!), এ কিরকম স্যাম্পল সার্ভে ডাটা?
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ৩০ মার্চ ২০২৪ ১০:৪৭742679
  • আমরা যদি কার্জনের সময় থেকে বাংলার মানচিত্রের ক্ষয়িষ্ণু অবয়বের কথা ভাবি তা হলে দেখবো রাজ্যের এই চেহারা বদলের সাথে সাথে কলকাতা সর্বস্ব এই ১৭ শতাংশের প্রভাব ও শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে সর্বত্র। স্বাধিনতার আগে ইংরেজরা প্রশাসক নিয়োগ করার সময় সারমেয়র পে ডিগ্রি দেখার মত প্রার্থীর পদবী দেখতো বলে শোনা যায়। অনেকের মতে মহাকরণের প্রশাসনে পরবর্তীকালে বৈদ্যদের প্রাধান্যর মধ্যে সেই ট্র্যাডিশন কিছুটা হলেও থেকে গেছে।

    কলকাতাকে কেন্দ্র করে যে বাংলাকে নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই দেখা যাবে অঙ্গচ্ছেদের সাথে সাথে তার ভর এবং ভার দুটোই কমেছে। যুক্ত বঙ্গে কলকাতার সাথে সাথে কটক, ভাগলপুর, মানভূম প্রভৃতি অঞ্চল শিল্পে, সাহিত্যে, বিজ্ঞানে, প্রশাসনে যেভাবে বাংলার প্রগতিতে শক্তি জুগিয়েছিল পরবর্তীতে  তা দেখা যায়নি। সামগ্রিক ভাবে বাংলাভাষী এই ভূখন্ড ঐতিহাসিক  ঐতিহ্যের বিচারে খুব ই দীন। ব্যতিক্রম কেবল ইংরেজ অধ্যায়টুকু। চার্ণক, ক্লাইভ, মহারানি, কার্জনের হাতে যে অঞ্চলটির ধূমকেতুর মত উত্থান, মাউন্টবেটনের ব্যাটন ধরে তার দ্রুত পতন। অনেকে বলে ইংরেজ কলকাতায় বন্দর, বিশ্ববিদ্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট বা দেশের রাজধানী পত্তন না করে বালেশ্বরে করলে রবীন্দ্রনাথ ওড়িয়া হতেন।

    গ্রিক ও লাতিন লেখকদের বিবরণী থেকে জানা যায় খ্রিষ্ট পূর্ব চতুর্দশ শতকের গোড়ায় গঙ্গারিডি রাজ্য গড়ে উঠেছিল।পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে প্রাপ্ত বৌদ্ধ ও জৈন নিদর্শন ও মোগল মারিতে হিউ এন সাঙ এর অবস্থানের কথা জানা যায়। কিন্তু এর কোনটাই কলকাতা কেন্দ্রিক দক্ষিনবঙ্গের স্ফীতোদর অংশে পড়ে না। উপনিষদোত্তর বৌদ্ধ যুগে যে ষোড়শ জনপদের উল্লেখ আছে সেখানেও বঙ্গ বাংলা গৌড় সমতট কোনটাই নেই।

    পরবর্তী কালেও হিরণ্যাক্য, বিম্বিসার, অজাতশত্রু, শিশুনাগ, নন্দ, শক, মৌর্য, কুষাণ, সুঙ্গ, কান্ব, সাতবাহন, পান্ড্য, চোল, চেরা, সঙ্গম, গুপ্ত, পুষ্যভুতি, রাষ্ট্রকূট, গঙ্গা পল্লব প্রভৃতি রাজবংশগুলির মধ্যে কোথাও আমাদের বাংলা নেই। পাল রাজাদের সময়ে যে গৌরবময় বৌদ্ধ যুগের সন্ধান মেলে সেটাও বরেন্দ্র, কামরূপ অঞ্চলের।

    যখন কোথাও কোন শিল্প সংস্কৃতির কেন্দ্র গড়ে ওঠে তখন বকুল বনে গন্ধে আকুল মৌমাছিদের মত প্রতিভারা ধাবিত হয়। আমাদের গর্বের মহাপ্রভু ধাবিত হয়েছিলেন অনন্ত বর্মন সৃষ্ট কৃষ্টিকেন্দ্র পুরীধামে। শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক হয়েও হুসেন শাহ নবদ্বীপকে নব নালন্দা করতে পারেনি।

    কলকাতাকে আধুনিক করতেও বহিরাগতদের অবদান সুবিদিত। প্রথম বাংলা বই ছাপা হয় সুদূর লিসবনে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ পুঁথি আবিস্কার করলেন নেপালে, কলকাতায় নয়। এমন কি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতিতে দ্বার-বঙ্গ দ্বারভাঙ্গার মহারাজার অবদান বাঙালি মাত্রই স্মরণ করবে। এই নান্দিপটেই বীরসিংহ র বিদ্যাসাগর, কটকের সুভাষ বোস, কাটোয়ার নরেন দত্ত, বসিরহাটের রাজেন মুখার্জি, বিক্রমপুরের জগদীশ চন্দ্র ছুটে এসেছিলেন। এত অল্প সময়ে বৃটিশ সাম্রাজ্যের কোন শহর এমন উচ্চতায় উঠতে পারেনি।

    কিন্তু ব্রিটিশ বিদায়ের কয়েক শতকের মধ্যেই এই কলকাতার উল্টো পথে যাত্রা দেখে মনে হতেই পারে ব্রিটিশ ভুল জমিতে বিলেতী আপেলের কাটিং করা চারা পুঁতেছিলো। তাই প্রথম দিকে বৃদ্ধির চাঞ্চল্য দেখালেও এবং কয়েকটি ফল ফললেও মাটি ও জলবায়ুর স্বাভাবিক প্রভাবে শুকিয়ে গেল সেই transplanted চারাটি। অক্ষমের ক্ষমতা লাভের পর ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বিদ্যারম্ভের শুরুতেই আইন করে নিষিদ্ধ করা হল। আধুনিক প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে বাতিল মতাদর্শের চাষ শুরু হল। আজ শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই আমাদের প্রথম পছন্দ চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, পুণে, হায়দরাবাদ। কলকাতা নয়। তীরকে অনেক দূরে পাঠাতে হলে ধনুকের জ্যাকে অনেকটাই পিছনে টানতে হয়। কলকাতা সর্বস্ব বাংলার সতেরো শতাংশের যেহেতু পিছনের দূরত্ব খুব ই কম তাই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তা বাড়বেই।

    চলবে
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ৩১ মার্চ ২০২৪ ১৫:০৮742687
  • বেদ এবং উপনিষদের যুগে যখন বর্ণাশ্রম বিভাজন মহাকাব্যের যুগের মত ছিল না তখন ব্রাহ্মণ অব্রাহ্মণ নির্বিশেষে কৃষি কাজে অংশ নিতো। এখানে ডগবত্গীতার অষ্টাদশ অধ্যায়ের একটি শ্লোক স্মরণীয়:
    ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বিশাং শূদ্রানাঞ্চ পরন্তপ।
    কর্মাণি প্রবিভক্তানি স্বভাবপ্রভবৈর্গুণৈ:
    এই শ্লোকটির শংকরাচার্য ভাষ্য হল-ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ছাড়া আর সব মানুষ ই শূদ্র এবং তাদের কারোর ই বেদ অধ্যয়নে অধিকার নেই। এভাবে দেখলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে গীতা রচনা কালে শূদ্রেরাই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং এক মাত্র উৎপাদক ছিল-প্রধানত শ্রমিক ও কৃষক। ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, ক্ষত্রিয়রা মুষ্টিমেয় পরগাছা শ্রেণী, তারা উৎপাদন ব্যবস্থায় কায়িক শ্রম বা অন্য কোন ভাবেই অংশ গ্রহণ করতো না। এই ব্রাহ্মণরাই নিজেদের আর্য ও প্রভু বলে ঘোষণা করতো।

    বাল্মীকি রামায়নে উত্তর
    কান্ডকে বাদ দিলে প্রায় ৭৫ জন মুনি ঋষির নাম পাওয়া যায়। তার মধ্যে সর্বাধিক  ২৪ জনের সন্ধান পাওয়া যায় অরণ্য কান্ডে এবং সব চেয়ে কম দুজনের সাক্ষাৎ মেলে কিষ্কিন্ধা কান্ডে।  এমন কি লঙ্কা কান্ডেও এমন তিন জন প্রজ্ঞাবানের সন্ধান পাওয়া যায় তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ব্রহ্ম রাক্ষস। আমরা অনুমান করতে পারি পবিত্র কৈলাশ যাত্রাকালে একদিকে রাক্ষসতাল,  অন্যদিকে মানস সরোবরের মাঝে গুর্লা লা নামের দেবদুর্লভ সৌন্দর্যের গিরিপথে যে মান্ধাতা ব্রহ্ম হত্যার পাপ মোচনের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করতে সাধনা করেছিলেন তিনি একজন ব্রহ্ম রাক্ষস ছিলেন।

    আমার বিচারে মুনিরা যদি শিক্ষক/ অধ্যাপক হয় ঋষিরা গবেষক। ঋষিদের মধ্যেও শ্রেণী বিভাগ ছিল যেমন রাজর্ষী, দেবর্ষী, মহর্ষী প্রভৃতি। এইসব মুনি ঋষিরা  সাধারণত অরণ্যবাসী হতেন এবং রাজেন্যবর্গের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় করে কম্মে না হলেও পরমানন্দে থাকতেন। রামচন্দ্র তাঁর ১৪ বছর অরণ্যবাসে এমন বহু মুনি-ঋষির আশ্রয়ে প্রায়শই ছিলেন।

    আমাদের সমাজে তথাকথিত এই উচ্চবর্ণের বিশেষ মর্যাদা লাভ আজও অপরিবর্তিত। আজও দেখা যায় ব্রাহ্মণ জমির মালিক আলে দাঁড়িয়ে কাশিম শেখ রামা কৈবর্তদের নির্দেশ দিচ্ছে। নিজে  কি হাল দিতে কি শস্য কাটতে জমিতে নামছে না।

    আমাদের অষ্টবক্র মানচিত্রের পশ্চিমবঙ্গে ১৭ শতাংশ ৬২ শতাংশের বিভাজনে তাই দেখা যায় সর্বত্র ১৭ শতাংশের প্রাধান্য। মুর্শিদাবাদে তিন সন্তান সহ কোলের টিকে নিয়ে আজ ও আনোয়ার বিবি বিড়ি বাঁধে। আমাদের রাজ্যে আট জন মুখ্য মন্ত্রীর সকলেই ১৭ শতাংশের। একজনও ৬২ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধি হয়ে উঠে আসে নি। প্রয়াত দলিত গবেষক পশুপতি মাহাতো একবার আমাকে বলেছিলেন ফ্রান্সের পারির ভারতীয় দূতাবাসে টয়লেট পরিচালকের পদ খালি হলে একজন তথাকথিত উচ্চ বর্ণের কর্মীকে নিযুক্ত করা হয়। হাজার হোক প্যারিসের মেথর তো।
     
    চলবে
  • হ্যাঁ | 109.70.100.2 | ০১ এপ্রিল ২০২৪ ০০:০৩742688
  •  রেখা পাত্রকে পরের বার মুখ্য মন্ত্রী করা হোক
  • Kunal Chattopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৪ ২১:৪৮742690
  • বৈদিক যাগ যজ্ঞ, ও পরবর্তীকালে মহাকাব্যের  ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদী হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ। বস্তুতপক্ষে তিনশো বছর হিন্দু ধর্ম এই বৌদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে কোন রকম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে নি। ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই গৌরবময় বৌদ্ধ জাগরণকে স্মরণে রেখেই বিবেকানন্দ বলেছিলেন অশোকের পরবর্তী ৩০০ বছরে ভারত উন্নয়নের যে উচ্চতায় উঠেছিল তেমনটি আর কখনো হয় নি। বিরাট সংখ্যার দলিতদের প্রতি মুষ্টিমেয় উচ্চ বর্ণের শোষণ ও অত্যাচারের বাস্তব রূপ সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছিল তাঁর শূদ্র জাগরণ সংক্রান্ত ভাবনায়। তথাপি ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গ এই কলংকিত ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ভারতীয় পেনাল কোডে সংগঠিত প্রথম মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত মহারাজা নন্দকুমার তাঁর শেষ ইচ্ছায় একজন ব্রাহ্মণের হাতে ফাঁসির দড়ি পড়ানোর কথা বলেছিলেন বলে শোনা যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষজনের মধ্যে ব্রাহ্মণদের প্রতি অন্ধ ভক্তি কোন পর্যায়ে গেলে এমন ঘটনা ঘটে।
    স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও, দলিত রাষ্ট্রপতি ও সংবিধানে সংরক্ষণ ব্যবস্থা কেবলই  প্রতীকী থেকে গেছে। এর প্রতিবাদে বাবা সাহেবকে শেষ জীবনে বৌদ্ধ হতে হয়েছে।

    আমাদের এই বাংলায় বেঙ্গল ল্যাম্প বা সঞ্চয়িতা থেকে সারদা, রোজভ্যালি, আই কোর, নারদ, বা সরকার স্বীকৃত নিয়োগ দুর্নীতিতে যে সকল নাম উঠে এসেছে তাদের পদবী দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায় হাজার হাজার বছর ধরে পরজীবী ব্রাহ্মণ কায়স্থ বৈদ্যরা শাসক শ্রেণীর থেকে অপরিমিত দাক্ষিণ্যের সুবাদে কী বিপুল ক্ষমতা ও বিত্তের অধিকারী হয়েও অপরাধপ্রবন হয়েছে। ইংরেজরা একদা শবরদের অপরাধ প্রবন জাতি বলে ঘোষণা করেছিল। মেকলে সাহেব বলেছিলেন কুঁজ ছাড়া যেমন ষাঁড় হয় না, হুল ছাড়া মৌমাছি হয় না তেমনি তঞ্চকতা ছাড়া বাঙালি হয় না। মাউন্টব্যাটেন চলে না গেলে  সরকারি ও 'দরকারি' কাজে নিযুক্ত এই প্রজাতির উচ্চকোটির বাঙালিদের সঙ্গে শবরদের মতো কোন বিশেষন যোগ করলেও করতো। সেন আমলে নয়টি গুণের অধিকারী হলে কৌলিন্য লাভের অধিকার জন্মাতো। একে একে প্রায় সব কটি ত্যাগ করেও ১৭ শতাংশের অনেকেই ৬২ শতাংশকে কবলই সংরক্ষিত করে রেখেছে। আজ কারারুদ্ধ যত মন্ত্রী, সান্ত্রী, বিধায়ক, আধিকারিক থেকে উপাচার্য আছে তাদের মধ্যে কোনো টুডু, টোপ্পো, রাভা, সরেন, টোটো নেই। তপশিল জাতি ভুক্ত বন্দি ও নেই বললেই হয়। অভিযুক্ত, কারাবন্দী বা জামিনে মুক্ত ধনুকধরদের মধ্যে চট্টোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, ভট্টাচার্য, ঘোষ, বোস, মিত্ররাই দলে ভারী। 

    অর্থনীতিতে marginal utility of money কে constant (ধ্রুবক) ধরা হয়। এই অনুমানটির সত্যতা আজকের এই ব্রাহ্মণ্যবাদি, তথাকথিত মান্য সমাজে প্রতিভাত হচ্ছে প্রতি নিয়ত। নোবেলজয়ীরাও বাদ যাচ্ছে না। কবি তো বলেছেনই 
    এজগতে হায় সেই বেশি চায়
    আছে যার ভুরি ভুরি।
    চাওয়ায় অন্যায় যতো, চুরিতে অন্যায় অনেক বেশি।

    সমালোচনা হতেই পারে, দলিতরা প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠা পায়নি বলে এই তালিকায় নেই বা কম। প্রতিবেশী রাজ্যে দলিত মন্ত্রীও জেলে আছে। আজকের বাঙালির ব্যবচ্ছেদ করলে সেই সম্ভাবনা 'বহু শতাব্দীর মনীষীর কাজ' মনে হতে পারে।
  • Kunal Chattopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৪ ২১:৫০742691
  • বাঙালির ব্যবচ্ছেদের শেষ অংশ পাঠালাম।সব রকম সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করবো।
  • upal mukhopadhyay | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ০০:২৭742693
  • কোলগেটের সঙ্গে হোয়াইট বল ক্রিকেটের একটা সম্পর্ক আছে ।একটা দাঁত যে অন্যটা ক্রিকেটকে সাদা করেছে ।
  • অরিন | 119.224.61.73 | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ০৭:৫৪742694
  • "আমরা যদি কার্জনের সময় থেকে বাংলার মানচিত্রের ক্ষয়িষ্ণু অবয়বের কথা ভাবি তা হলে দেখবো রাজ্যের এই চেহারা বদলের সাথে সাথে কলকাতা সর্বস্ব এই ১৭ শতাংশের প্রভাব ও শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে সর্বত্র"
     
    এই ১৭ শতাংশ আপনার হিসেবে ২০২১ এর স্যামপেল সার্ভে। তা সেটা যে ৪০০ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে সেটার স্বপক্ষে কোন প্রমাণ আছে কি? মানে ইংরেজদের করা সার্ভে ইত্যাদি? 
  • Kunal Chattopadhyay | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৬:৫৫742696
  • আমি কার্জনের পরবর্তী সময়টা বিশেষ করে উল্লেখ করেছি। ইংরেজ আমলে ১৮৭২ এ প্রথম জন গননা আমাদের দেশে শুরু হয়। এই হিসেব Indian Census histry এশিয়ায় প্রাচীন তম। ১৯০১ থেকে প্রতিটি সেনসাস রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেই সময় থেকেই caste specific census data সংগ্রহ করা হতো।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:323c:d36c:b897:7f90 | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৭:২০742697
  • আজ কারারুদ্ধ যত মন্ত্রী, সান্ত্রী, বিধায়ক, আধিকারিক থেকে উপাচার্য আছে তাদের মধ্যে কোনো টুডু, টোপ্পো, রাভা, সরেন, টোটো নেই। তপশিল জাতি ভুক্ত বন্দি ও নেই বললেই হয়।
     
    মন্ডল আছে। সর্দার আছে। হাজরা আছে। মুসলমানও আছে। মল্লিক কোন জাত বলা শক্ত। আঢ্য মনে হয় বণিক, জলচল না জল অচল জানিনা। ধরে লিস্ট না করলে দাবীর সত্যতা বিচার করা মুশকিল।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:323c:d36c:b897:7f90 | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ১৭:২৩742698
  • মোটের ওপর কথাটা কি? বাঙালীর কোন কালেই কিছু ছিলোনা। এখনো নেই। শুধু ব্রিটিশের কৃপায় মাঝে কিছুদিন লাফিয়ে নিয়েছিল।
     
    নাকি অন্য কিছুও আছে?
  • Kunal Chattopadhyay | ০২ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:৪৪742699
  • একটি আধুনিক তঞ্চকতা
     
    কাঁটা গাছে
    কেবল জীবন ই ভরে আছে
    অন্য কিছু নয়
    অন্য কিছু হলে পরে 
    জীবনের হতো পরাজয়।
     
    গ্রামের নাম দলপতিপুর। নামতে হবে দ্বীপে রথতলায়। আমাদের তিনজনকে নামিয়ে দিয়ে বাসটা চলে গেল চাঁপাডাঙার দিকে। রথতলা ঠাকুরবাড়ি ছাড়াতেই উন্মুক্ত হল ধানক্ষেত। ধানকাটার মরশুম চলছে। কোথাও জমি তৈরি হচ্ছে আলুর জন্য। মিঠেকড়া রোদে মন্দ লাগছে না। আমাদের লক্ষ্য দলপতিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপলক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের অর্জিত বিদ্যার মান পরীক্ষা করা।
     
    এসে গেলাম। খড়ে ছাওয়া মাটির ঘর। মাঝে আলমারির পার্টিশন। বাচ্চা বাচ্চা ছাত্ররা মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। দুজন মাষ্টারমশাই আমাদের দেখে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। পাশের ক্ষেতে স্যালোর ভ্যাট ভ্যাট শব্দ। স্যাম্পলে যে সব স্কুল উঠেছে এটা তাদের একটা। ব্যানার্জিদা দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর রেজিস্ট্রি দেখে ছেলেমেয়েদের নির্বাচন করে দিলেন শিক্ষক মদন চন্দ্র ঘোষকে। আমি দেখছি মাটির দেওয়ালে মনীষীদের ছবি। বিধান রায়, রবীন্দ্রনাথ, এক হাতে লাঠি নিয়ে অন্য হাতে চড় দেখানো গান্ধীজি। তার পাশে একটা ছবি ছিল, এখন নেই। আছে ফ্রেমে বাঁধানো কাঁচ।
     
    পাশের ঘরে নাম ডাকা চলছে, তছলিমা খাতুন, নিতাই ভড়, নন্দ পাখিরা, অপর্ণা হাতি, সুষমা মাকাল, পম্পা শবর।.. এরা হবে আমাদের সাবজেক্ট।  statistics  এর ভাষায় ইভেন্ট। এদের পরীক্ষা করা ডেটা সিট চলে যাবে কম্পিউটার ফ্লোরে। বেরিয়ে আসবে রেজাল্ট। Ravens Progressive Metrics নিয়ে একে একে পরীক্ষা সেরে বাইরে এসে হাত পা গুলো ছাড়াচ্ছি। মদনবাবু র সঙ্গে কাশিনাথ মুখার্জি এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'কেমন দেখলেন?' বললাম খুব খারাপ। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরদের অক্ষর পরিচয় ই হয়নি। অনেকে তো রঙ ই চেনেনা।
     
    লক্ষ্য করলাম মাস্টারমশাইদের মুখ শুকিয়ে গেলো। কাশিনাথবাবু বললেন, 'দেখুন তৃতীয় শ্রেণীতো নামেই। পরীক্ষা নেই, মূল্যায়ন পদ্ধতি গোলমেলে। আগের দিন যে প্রশ্নপত্র দিয়ে গেলেন তেমন ছাপা প্রশ্নে তো ওরা অভ্যস্থ নয়। একবার আমরা পরীক্ষা চালু করেছিলাম। সে কী কান্ড। ডাক্তারবাবু ছাপা খরচ দেওয়ায় তাঁকে অপমানিত হতে হলো।
    জানতে চাইলাম এর মধ্যে ডাক্তারবাবু কেনো? 
    কাশি বাবু বললেন চিকিৎসার জন্য নয়। আসলে ওনার জমিতেই তো এই স্কুল। স্কুলটা হওয়ার কথা ছিল পাশের গ্রামে। ডাক্তারবাবু বললেন, না ওখানে হাই কাস্টের বাচ্চাদের সুযোগ আছে। এখানেই হবে। তাই মায়া পড়ে গেছে। এই সব দুঃখে উনি ভিটেটুকু রেখে পাকাপাকি ভাবে শ্যামবাজারে থাকেন।
    জানতে চাইলাম এখানে মিড ডে মিল দেওয়া হয় না? 
    বললেন হ্যাঁ দেয় বছরে তিন মাস। গড় হাজিরা দেখে। যখন দেয় হাজিরা বেড়ে যায়। মাথা পিছু ৫৫ থেকে ৬০ গ্রাম পাউরুটি। তাও চালের গাদ পাইল করা। ওজনে বাড়ে। তার ওপর বাড়তি ছাত্ররা আসে। এখানে যারা আসে তারা এক বেলা খেতে পায়।
     
    আমি চমকে উঠে ঘড়ি দেখলাম। দুটো বাজে। এতক্ষন এরা আমাদের গবেষণার গিনিপিগ হল। আমাদের ইনস্টিটিউট সেন্ট্রালি এ সি হচ্ছে। বুঝি শিক্ষা কাঠামো জাপানে কেনো পিরামিড আকৃতির আমাদের কেনো উল্টো।
     
    কাজ শেষে উঠতে যাব এমন সময় মুড়ি দানদার এলো। ক্ষিধে পেয়েছিল ভালোই। তৃপ্তির সাথে নরক গুলজার হচ্ছে।ব্যানার্জিদাকে প্রশ্ন করলাম দেওয়ালে এত ছবি থাকতে গান্ধীজির লাঠির অর্ধেক উই এ খেল কেন বলতে
    পারেন? দানাদার মুখে ফেল তিনি বললেন উনি রাজনীতির লোকদের বেশী পছন্দ করে।দেখবেন এর পর ডাক্তার রায়কে খাবে।মদনবাবুর কাছে জানতে চাইলাম যে ফ্রেমে ছবি নেই সেখানে কার ছবি ছিল ?উনি বললেন নেতাজীর। সঙ্গে সঙ্গে ব্যানার্জিদা বললেন দেখলেন উই দের পছন্দ। ওখানে স্বামীজী থাকলে খেতো না।
     
    শেষ দানাদার টা তখন গলা দিয়ে নামছে ঠিক তখন ডালিয়া খাতুন নামের দ্বিতীয় শ্রেণী র মেয়েটি দু হাতে ধরে আমাকে এক গ্লাশ জল দিয়ে গেল। অনাহারে আক্রান্ত একটি কচি বালিকার থেকে জল পান করে আমি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললাম। জীবনে কখনো কোন দিন নিজেকে এমন ধিক্কার দিইনি।
    দারিদ্র্য যেখানে যত প্রকট আপ্যায়নের বহর সেখানে তত বেশি ও উষ্ণ।
    রকট
  • প্রশ্ন গুরুগুরু | 2409:40e6:0:dae2:8cc4:d0ff:fe99:6184 | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০০:৩৬742700
  • এই ভাট মালটাই কি সঞ্জীব সান্যাল?
  • অরিন | 119.224.61.73 | ০৩ এপ্রিল ২০২৪ ০১:০৭742701
  • কুণালবাবু, আপনার ২২% বর্ণহিন্দুর যে ডাটা আপনি দেখাচ্ছেন সেইটা যদি শুধু ১০২১ এর sample survey ভিত্তিক হয়, তাহলে এর আগের হিস্টরিক ডাটা নিয়ে তো কিছু বলা যাবে না, তাছাড়া সেনসাস আর sample survey এক নয়, আপনার এখানে বর্ণহিন্দুদের হয়ত আণ্ডারস্যামপ্লিং হয়েছে। 
    সেটা একটা দিক, কিন্তু কেন বর্ণহিন্দুরা উচ্চ শিক্ষা এবং অপেক্ষাকৃত বিত্তশালী, তার সহজ ব্যাখ্যা নেই, আপনি বর্ণহিন্দুদের মধ্যেও খুবই গরীব এবং অর্থাভাবে দীর্ণ মানুষের সন্ধান পাবেন। 
    তাছাড়াও কে বাঙালী তার একটা ডেফিনিশন দিলে আপনার লেখাটি বুঝতে সুবিধা হত। আপনার বক্তব্যটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না যে কি বলতে চাইছেন। 
    রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে একটি counterfactual statement দিয়েছেন বটে, তবে কোন সংস্কৃতি তো কেবল বাইরের প্রভাবে গড়ে ওঠে না, সেই assumption টুকু বিবেচনা করলে দেখবেন রবীন্দ্রনথ খুব isolated কোন ব্যক্তিত্ব নন, তাঁর একটি প্রেক্ষিত আছে। সেগুলোকে তো বিবেচনা করতে হবে। 
  • Kunal Chattopadhyay | ০৪ এপ্রিল ২০২৪ ২২:০১742706
  • অরিন বাবুর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। লেখাটা সংগঠিত প্রবন্ধ বা নিবন্ধ কোনটাই হয়ে উঠতে পারেনি। তবে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমার একান্ত ব্যক্তিগত একটা ধারনা আছে। অনেকেই হয়তো এক মত হবেন না। কেউ কেউ হয়তো রে রে করে তেড়ে আসবেন।
    আমি মনে করি আমাদের রবিঠাকুর একজন ইহুদী বাঙালি ছিলেন।
    অভয় দিলে আমার এই বিশ্বাসের পক্ষে আমি দু একটা যুক্তিও রাখতে পারি।
  • &/ | 151.141.85.8 | ০৪ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:৩৪742707
  • রবিঠাকুর ইহুদী বাঙালি? বলেন কী মশাই? শীগগীর শীগগীর লিখুব দেকিনি এর বিস্তারিত! আরে মশাই এ তো থ্রিলার! আর দেবেন ঠাকুর, উনিও কি ইহুদী বাঙালি? আর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উনিও?
  • Arindam Basu | ০৪ এপ্রিল ২০২৪ ২৩:৪০742708
  • ইহুদী বাঙালী কি ব্যাপার মশাই? 
  • Kunal Chattopadhyay | ০৫ এপ্রিল ২০২৪ ০৬:৫৭742709
  • আমার তথ্যসূত্র ১৯৯২ সালের অক্টোবর ১৯ এ কলকাতার The Statesman কাগজের একটি সংবাদ। তাতে দাবি করা হয়েছিল কবি কেবল ইহুদীই নন pro-Israel ও হয়ে থাকবেন। এই দাবির সমর্থনে ঐ সাংবাদিক (special correspondent) ইজরায়েলি দূতাবাস থেকে প্রকাশিত News from Israel এ বিশ্বভারতীর ইংরেজির জনৈক প্রাক্তন অধ্যাপক Alen Aronson  এর একটি প্রবন্ধর উল্লেখ করেন।
     
    Aronson এর বক্তব্য ইহুদীদের সম্পর্কে কবির ধারণা ও ঘনিষ্ঠতা অতীতের অনেক লেখক ও দার্শনিক অপেক্ষা বেশি ছিল। Aronson তাঁর Tagore and the Jewish People লেখাটিতে The Statesman এ ২১ জুলাই প্রকাশিত একটি চিঠির উল্লেখ করেন। ঐ বছর এক ভাষণ দান কালে একজন তাঁকে বলেন তিনি কি জানেন কবি একজন ইহুদী এবং তাঁর আসল নাম Rabbi Nathan. তিনি এক ইহুদী বাঁশ ব্যবসায়ীর কন্যা ওপেনহাইমারকে বিবাহ করেছেন। সর্বোপরি তাঁর সম্পদের অনেকটাই যৌতুক হিসেবে পেয়েছেন। ইহুদী ব্যবসায়ীর কন্যাকে বিবাহ কোন নতুন কিছু নয়। আমাদের অমর্ত্য সেনও তো ইহুদি সুদের ব্যবসায়ী রথসচাইল্ড পরিবারের জামাই হয়েছেন তাদের মোট সম্পদ মূল্য ৪০০ বিলিয়ন ইউ এস ডলার (তথ্যসূত্র:নেট)
     
    ইউরোপ এবং আমেরিকার ইহুদীরা প্রায় সকলেই কবির রচনা বা সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত। তাঁর প্রায় সব বই ই প্রথমে Yiddish ও পরে হিব্রুতে অনুবাদ করা হয়েছে। প্যালেস্টাইনে কবি বহু পঠিত হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। Aronson বলেছেন কবির মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাঁর নাম Keren Kayemet এর সোনার বই এ খোদাই করা হয়।
     
    এই তথ্য রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন কি না জানি না। থ্রিলার হওয়ার মশলা তো আছেই। কেবল দেবেন ঠাকুর বা অবন ঠাকুর কেনো প্রিন্স দ্বারকানাথের অনেক কিছুই ইহুদী রক্তের ফসল বলে আমার মনে হয়। এটা অবশ্য আমার একান্ত ব্যক্তিগত মত। কারো বিশ্বাসের স্বাধীনতায় আমি হাত দিতে চাই না। অনেকেই তো বৃন্দাবনের কৃষ্ণে এবং মার্কসবাদে একসাথে বিশ্বাস করে। 
     
    আমাদের রামকৃষ্ণ মিশন এরিয়া লাইব্রেরিতে যখন News from Israel আসতো সদ্য প্রকাশিত চে গেয়েভারার ডায়েরীর সঙ্গে News from Israel ও পড়তাম। তখন সদ্য কমিউনিজমে ব্যাপ্টাইজড দাদা বলতো, 'ওই ম্যাগাজিনটা পড়বি না। ওটা সি আই এর দালাল'। দাদা তখন দলাই লামাকেও সি আই এর দালাল বলতো।
     
    প্রিন্স দ্বারকানাথের বিষয়টা না হয় পরে বলা যাবে।
  • Arindam Basu | ০৫ এপ্রিল ২০২৪ ০৯:৪৩742710
  • @কুণালবাবু, 
    আপনি যে লেখাটির কথা বলেছেন, সেটি Alex Aronson 1943 সালের ২৪ এ ডিসেমবার মেলবোর্ণ থেকে প্রকাশিত The Australian jewish news নামে একটি সংবাদপত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর লিখতে গিয়ে লিখেছিলেন, নীচে পুরোটা দিলাম। 
     
    https://trove.nla.gov.au/newspaper/article/262117298
     
    তবে এই যেটা লিখেছেন, সেটি হিটলারের আমলে জার্মান নাজিদের রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলেই অ্যারনসন লিখেছেন
    পুরো লেখাটা তুলে দিলাম,
     
    "In a recently published book “Rabindranath Through Western Eyes” (Kitabistan, 1943), I have attempted an analysis of European reactions to Tagore’s poetry and personality. The fact that among his best friends in the West were many Jews, especially in Germany, could not but incite the chauvinist right-wing and Fascist press to violent anti-semitic outbursts. Already in 1921 voices were heard in Germany to the effect that Tagore’s poetry “is only a concern of Jewish editors and publishing agents who want to 'push’ this otherwise perfectly sympathetic poet on the market.”. (Volkszeitung, 10-8-210). The solemnity with which some of the Fascist writers discussed already at that time the racial origin of Tagore, their insistence in particular, on the “Indo-Germanic” race, is pathetic and not without an unconscious humour. “He certainly is not of Semitic race,” exclaims one Aryan writer, “and that would qualify him to wear a Swastika, although his pacifism might give rise to’ suspicions.” (Der Gegner, Berlin, 20-6-1921). [ And another Aryan paper from Vienna quotes an old “German” saying: “What the Jew praises accept Critically! For only what he treats with contempt or silence, is useful to your kind!” And it comes to the conclusion that “this Jewish showiness and enthusiasm (for Tagore) is suspicious and makes us think.” (Deutschoesterreichische Tageszeitung, Vienna, 18-6 1921). Hitler’s rise to power made thinking an altogether difficult proposition and henceforward Tagore was dismissed as a Jew and an enemy of the Aryan race. On the occasion of a lecture on Tagore in 1933, “somebody got up and said that it was improper to speak about such people. He asked whether the lecturer was unacquainted with the well-known fact that Dr. Tagore was a Jew, whose real name was Rabbi Nathan, that he had married a rich Jewess from Bombay by the name of Oppenheimer, daughter of a bamboo-dealer and that his wealth came from this marriage.” (In a letter to “The Statesman” Calcutta, 21-7-1933). The confusion became worse confounded when, a few years later Tagore, Was again claimed as belonging to the “Indo-Germanic” race. ©

    These quotations taken at random out of many others, show us Tagore the Indian poet, "exposed to violent political and racial criticism because of his very genuine friendship with many leading Jewish personalities in Europe."

    এটা একদল জার্মান লোকের কবির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন