এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  কূটকচালি

  • কুস্তিগীরদের ধর্ণা এবং দেশের সম্মান

    সৌরাংশু
    কূটকচালি | ০১ মে ২০২৩ | ১৪২০ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৭ জন)

  • একটা সংস্থার কথা জানি, যেখানে সর্বোচ্চ পদাসীন ব্যক্তির একটি দুর্নীতি, যা সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে সেই কারণে তাঁকে যখন বহিষ্কার করা হচ্ছে বা অন্যভাবে বলতে গেলে তাঁকে যখন পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে, তখন কার্যকরী সমিতির বেশ কিছু সদস্য সিসিটিভি ফুটেজ কে জনসমক্ষে এনেছে এবং তার উদ্দেশ্য কী সেই নিয়ে মাথা ঘামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের মাথায় সংস্থার সম্মানের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করে কে ভিতরের দুর্নীতি বাইরে এনেছে!
    বস্তুত আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও বারবার এটা দেখতে পাই। কৃষকরা যখন ন্যায্য দুরভিসন্ধিমূলক কৃষিবিলের প্রতিবাদে ধর্ণায় বসে মাসের পর মাস তখন আমাদের দেশের সেলিব্রিটিদের মাথাব্যথা থাকে না। কিন্তু যেই রিহানা বা গ্রেটা থর্নবার্গ এই বিষয়টি নিয়ে ট্যুইট করেন তখনই তাঁরা ‘রে রে’ করে ওঠেন। সে সচিন তেন্ডুলকরই হোক, অমিতাভ বচ্চন বা স্বর্গীয় লতা মঙ্গেশকর। দেশের সম্মান তখন বড় হয়ে দেখা দেয়। ঘোমটার তলায় খেমটা চললে ক্ষতি নেই, কিন্তু সামনে আসবে না।

    ঠিকই একই ব্যাপার পরিলক্ষিত হচ্ছে বর্তমানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুস্তিগিরদের ধর্ণা উপলক্ষ্যে আইএর চেয়ারপার্সনের মন্তব্যে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বা আইওএর সর্বময় কর্তা হচ্ছেন পি টি ঊষা। ঊষা, সেই আমাদের ছেলেবেলার হিরো, পায়োলি এক্সপ্রেস পিলভুলাকান্দি থেকেপরমপিল ঊষা। ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের অন্যতম বৃহত্তম তারকা। অথবা ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ। আমরা অনেকেই নাচানাচি করি, যখন কোনও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নিয়মক সংস্থার মাথায় বসেন। সে সেবাস্তিয়ান কোই হন বা সৌরভ গাঙ্গুলি, প্লাতিনিই হন বা নওয়াল এল মৌতাওয়াকেল। মনে করি যে এদ্দিন ধরে যে সমস্ত দুর্নীতি খেলাটিকে পিছনে বেঁধে রেখেছে তিনি পয়গম্বরের মতো এসে সমস্ত অন্ধকার দূর করবেন এবং ‘সিস্টেম’কে পরিষ্কার করবেন!

    কিন্তু কোনোভাবে যেন কখনও না কখনও আমাদের প্রিয়তম ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে সিস্টেমের দাসে পরিণত হতে দেখি। ঊষার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে না।

    কিন্তু ঊষা কী মন্তব্য করেছেন? ধর্ণায় বসা কুস্তিগিরদের উনি বলেছেন যে কুস্তিগিররা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করলেই পারতেন, পথে নেমে ধর্ণায় নাকি দেশের ছবি খারাপ হচ্ছে। এ নাকি নিয়মানুবর্তিতার পরিপন্থী।

    কুস্তিগিররা ধর্ণায় বসেছেনই বা কেন? আসুন সে নিয়ে মন্তব্য করার আগে দেখে নিই ঘটনাটা কী!
    তারও আগে জেনে নিই ব্রিজভূষণ সরণ সিং-এর বিষয়ে। ব্রিজভূষণ কে? ব্রিজভূষণ উত্তর প্রদেশের গোন্ডা জেলার কাইজারগঞ্জ থেকে শাসকদলের সাংসদ। কুস্তি নিয়ে বরাবরের একটা আগ্রহ ছিল, তাই বিভিন্ন আখড়ায় স্থানীয় কুস্তির প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে করতে সর্বভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি হয়ে গেছেন সে প্রায় এক দশক হল। তবে তাঁর বায়োডেটার দুটি উল্লেখযোগ্য অঙ্গ হল, ১৯৯২তে দায়ুদ ইব্রাহিমকে সাহায্য করার অভিযোগে টাডায় গ্রেফতার হন, ছাড়া পান ১৯৯৯তে। আর অবশ্যই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের অভিযোগে সিবিআই দ্বারা অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। যদিও ২০২০তে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ক্লিন চিট পেয়ে গেছেন। তবুও অভিযোগগুলো ছিল।

    সে যা হোক, গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিনেশ ফোগট, সাক্ষী মালিক, অংশু মালিক, বজরং পুনিয়া সহ ৩০জন কুস্তিগীর দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্ণায় বসেন। অভিযোগ, ২০১২ থেকেই মহিলা কুস্তিগীরদের উপর যৌন শোষণের। অভিযোগ, কুস্তিগীরদের শাসানোর, মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করার।

    বেশ কিছুদিন ধর্ণা চলার পর কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক হস্তক্ষেপ করে এবং ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর কথা দেন যে সঠিক তদন্ত হবে। সেই মতো কুস্তিগীররা তাঁদের ধর্ণা তুলে নেন এবং অলিম্পিয়ান মেরি কমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ব্রিজভূষণ সিঙ্গকে কুস্তি ফেডারেশনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়। তদন্ত হয়, রিপোর্ট জমা পড়ে ৫ই এপ্রিল, ২০২৩। কিন্তু তারপর কুড়ি দিন কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনও ‘অ্যাকশন’ নেয়নি। ব্রিজভূষণ সিং বহাল তবিয়তে সভাপতির দায়িত্ব ফিরে আসেন এবং কাজ করতে শুরু করেন। এর মধ্যে ২১শে এপ্রিল, ২০২৩ সাতজন মহিলা কুস্তিগীর ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট দায়ের করতে গেলে দিল্লি পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত না করে এফআইআর নিতে অস্বীকার করে।
    কুস্তিগীররা চারদিক থেকে চাপে কোণঠাসা হতে শুরু করে, উপায়ান্তর না দেখে বিনেশ, সাক্ষী, বজরংরা আবার জনপথে ফিরে আসেন ধর্ণায়।

    এইবারেই শুরু হয় মজা। বিনেশ অভিযোগ করেন যে তাঁর জাঠতুতো বোন ববিতা কুমারীর পরামর্শে তাঁরা ধর্ণায় বসেন, ববিতা বললেন যে কোনও রাজনৈতিক নেতা, বিশেষতঃ বিরোধীরা যেন ধর্ণা মঞ্চে না আসেন। তাহলে এই ধর্ণায় রাজনীতির রঙ লেগে যাবে। এই বলে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়ে নেন। কিন্তু যখন কুস্তিগীরদের জন্য ন্যায় বিচার আসে না, তখন ববিতা কোনও হেলদোল দেখাননি। তাঁর শাসক দলে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ব্যাস।
    পিটি ঊষার কথা শুরুতেই বললাম। তিনি তো নিয়ম কানুনের কথা শুনিয়ে দিয়েছেন প্রতিবাদী কুস্তিগীরদের। কুস্তিগীরদের নাকি আইওএ-র অভিযোগ প্রতিকার কমিটির কাছে যাওয়া উচিত ছিল, তা না গিয়ে পথে নেমে আন্দোলনকারীরা দেশের ছবি তো খারাপ করছেনই, সঙ্গে অনুশাসনহীনতার কাজ করছেন। দেশের ক্রীড়া নিয়ামক সংস্থার প্রধান দিনের পর দিন খেলোয়াড়দের শোষণ করে চলবেন, তাতে দেশের সম্মানহানী হচ্ছে না, কিন্তু প্রতিবাদে যদি খেলোয়াড়রা পথে নামেন তাহলেই হচ্ছে!
    কেন বলুন তো? কর্তাভজা সংস্কৃতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে নিজের অতীত ভুলে দ্রুত উপরে ওঠা যায়, সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে। কিন্তু মানুষ হিসাবে কি নিচে নেমে যাওয়া হয় না? নাকি স্বল্পকালীন সাফল্যে চোখ এমন ধাঁধিয়ে গেছে যে বিবেকের ডাক শুনতেই পান না!

    আশার কথা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ এফআইআর নিতে সম্মত হয়েছে এবং এবারে সত্যিকারের তদন্ত শুরু হবে হয়তো। হয়তো বললাম কারণ শিব ঠাকুরের আপন দেশে শেষ পর্যন্ত যে কোন গনেশ উলটে যায় সেটা বোঝাও যায় না।
    কুস্তিগীর বা যেকোনও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা আমাদের গর্ব। বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেন। কিন্তু তাঁদেরই যখন অন্ধকার পথে হেঁটে হেঁটে কাদা ঘাঁটতে হয় তখন ক্রীড়া দেবতা অপ্রসন্ন যে হন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গোদের উপর বিষফোঁড়া প্রাক্তন বা বর্তমান খেলোয়াড়দের শিরদাঁড়ার অভাব। যতক্ষণ না পর্যন্ত নিজের গায়ে আঁচ আসছে, ততক্ষণ পিপুফিসুর দল চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভাণ করতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করে। আর নিজের গায়ে আঁচ এলে?
    তবে বলতেই হয়, ক্রীড়াবিদদের মধ্যে সবার আগে জ্যাভেলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া কুস্তিগীরদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরপর আস্তে আস্তে কপিল দেব, বীরেন্দ্র শেহওয়াগ প্রমুখ। আর বাকিরা?

    তাদের জন্য শেষ করি মার্টিন নিম্যোলারের কবিতা ‘ফার্স্ট দে কেম’ দিয়ে:

    “যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিল, আমি কোনো কথা বলিনি,
    কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
    তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে নিয়ে গেল, আমি নীরব ছিলাম,
    কারণ আমি শ্রমিক নই।
    তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,আমি তখনও চুপ করে ছিলাম,
    কারণ আমি ইহুদি নই।
    আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,আমি টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করিনি,
    কারণ আমি ক্যাথলিক নই।
    শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
    আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না, কারণ, কথা বলার মত তখন আর কেউ বেঁচে ছিল না।”


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • কূটকচালি | ০১ মে ২০২৩ | ১৪২০ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ইঁদুর  - Anirban M
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০১ মে ২০২৩ ১০:০০519252
  • ভাল লেখা। বেশ বিস্তারিত, তথ্যগুলো ডিস্টার্বিঙ্গ। 
     
    যৌন হেনস্থায় ভারতীয় পরিবার যা যা বলে পিটিউষা সেই লাইনেই বলেছেন আর কি। কুস্তিগির হয়েও রেহাই পাচ্ছেন না মহিলারা এবং ন্যায় বিচারও পাবার আশা অতি ক্ষীণ। 
     
  • হীরেন সিংহরায় | ০১ মে ২০২৩ ২৩:০৮519268
  • সচিন তেনদুলকার  এখনো লেখেন নি যে এই মেয়েরা দেশের অবমাননা  করছে। আশ্চর্য হবার কথা 
  • সৌরাংশু | ০২ মে ২০২৩ ২১:০৭519329
  • আমি আশা করিনি সচিন লিখবেন। তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু দেশের সম্মান নষ্ট হচ্ছে টাইপ লিখলে কামড়ে দেব!
  • Ranjan Roy | ০২ মে ২০২৩ ২২:৫১519342
  • আমাদের গর্ব মেরি কম ওই বিষয়ে একটি আভ্যন্তরীণ  তদন্ত কমিটির প্রধান।  কিন্তু নিজে মহিলা হয়েও কোন মন্তব্য করছেন না।
     আর যতদূর  শুনেছি (২৪ ঘন্টা চ্যানেলের  দায়িত্বশীল অ্যাঙ্কর সন্দীপ চৌধুরির বয়ান অনুয়ায়ী) ওই অপ্রকাশিত রিপোর্টে  অভিয়ুক্ত ব্রিজবূষণ শরণ সিং এর উল্লেখ পর্য্যন্ত নেই। তাতে নাকি বলা হয়েছে যে ফেডারেশন  এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছু স্ট্রাকচারাল সমস্যা আছে, সেসব দূর করতে হবে।
     এদিকে অধ্যক্ষ ব্রিজভূষণ পাঁচ বারের সাংসদ। তার নামে অন্ততঃ চল্লিশটা পুরনো এফ আই আর রয়েছে--- খুন, খুনের চেষ্টা, বলপ্রয়োগ , ঠ্যাঙানো, ধমকি ইত্যাদি।
     ১.০  নামকরা চ্যানেল "লল্লন টপ" এর অ্যাঙ্কর সৌরভ দ্বিবেদীকে দেওয়া লম্বা একঘন্টার ইন্টারভিউয়ে (আমি নিজে দেখেছি, আপনারাও ইউটিউবে দেখতে পারেন) ওই হীরের টুকরো সাংসদ নিজের মুখে স্বীকার করছেন যে একটা খুন  উনি করেছেন। তার পুংখানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়ে উনি সাফাই দিচ্ছেন যে ওই খুন উনি আত্মরক্ষার্থে করেছিলেন! 
     
     ২.০ প্রাক্তন একজন ফিজিও মহিলা স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন যে উনি নিজে দেখেছেন ট্রেনিং ক্যাম্পে অল্পবয়েসি খেলোয়াড় মেয়েদের রাত্তিরে   অধ্যক্ষের ঘরে যেতে বাধ্য করা হয়। ওরা কাঁদে, কিন্তু সিকিউরিটির লোক এবং ব্রিজভূষণের ড্রাইভার এসে ওদের নিয়ে যেত।
     ৩.০ বিনেশ ফোগট বলছেন যে উনি অলিম্পিক থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সংক্ষেপে বলেছিলেন যে ফেডারেশনের ক্যাম্পে মেয়ে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা/ সম্মান নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, আপনি একটু দেখুন।
    ওনাকে আশ্বাস দিয়ে বলা হল-- খেল মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন, সব ঠিক হয়ে যাবে।
      খেল মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর সব শুনলেন।
     কিন্তু কী করে যেন এই অভিযোগের খবর দ্রুত ব্রিজভূষণের কাছে পৌঁছে গেল। শুরু হল খেলোয়াড়দের ধমকানো--শারীরিক এবং পেশার ক্ষতির হুমকি।
     
    ৪.০   সাত জন অবিযোগ করেছেন আলাদা করে। কিন্তু এফ আই আর হয়েছে মাত্র দুটো-- একটা নাবালিকের অভিযোগে পস্কো আইনে, আর বাকি ছ'জনের জন্যে একটা কমন এফ আই আর।
      আচ্ছা, একটি লোকের বিরুদ্ধে যদি ছ'জনকে খুন করার অভিযোগ থাকে, (পড়ুন শ্লীলতাহানি)  তাহলে ছ'টি এফ আই আর হবে কি সিভিল কমন কজের মত একটি? 
    আসলে সলিসিটর জেনারেল শেষ মুহুর্ত পর্য্যন্ত বলছিলেন-- আগে তদন্ত হবে, তারপর এফ আই আর। শেষে সুপ্রীম কোর্টের বকুনিতে এক দিনে এফ আই আর করালেন বটে, কিন্তু তাতে নরম সরম ধারা লাগানো হয়েছে। যেমন অপমানজনক মন্তব্য এবং স্টকিং। কোথাও শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে একটি কথাও নেই। 
     
    ৫.০ এহ বাহ্য। যতদূর জানি, নির্ভয়া কেসের পর বর্মা কমিশনের অনুশংসার হিসেবে যে সংশোধন করা হয়েছে তাতে নাবালিকের অভিযোগ হলে (পস্কো আইন) এফ আই আর করে অ্যারেস্ট করার কথা, নাবালিকের সুরক্ষার প্রশ্নে। তদন্ত তার পরে। 
      কিন্তু উনি ঘুরে ঘুরে বাইট দিচ্ছেন, পেটোয়াদের দিয়ে অভিযোগের খিল্লি করছেন আর বলছেন ইস্তফা দেব না। তবে যদি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বা অমিত শাহজী বা নাড্ডাজী বলেন তাহলেই দেব। 
     
      আমার মনে পড়ছে অনেক দশক আগে কোলকাতায় চেতনা নাট্যগোষ্ঠীর "ভালমানুষের পালা" নাটকের এই কবিতাটিঃ 
        "ওরে হতভাগ্যের দল!
       তোদের ভায়ের উপর হল অত্যাচার, তোরই দোরগোড়ায়,
       তুই রইলি মুখ বুজে! 
       অত্যাচারী দাপিয়ে বেড়ায়,
       তুলে নেয় শিকারটা তাল বুঝে"।
  • প্রলয় জাষু | 2402:8100:26db:4c60:0:48:2f76:7201 | ০৩ মে ২০২৩ ১২:০৮519389
  • ভীষণ ভালো লাগলো।  খুবই ইনফরমেটিভ। অনেক শুভেচ্ছা।
  • প্রতিভা | 223.191.27.220 | ০৫ মে ২০২৩ ০৭:৩১519437
  • এইরকম পরিবেশেও যে কুস্তিগিররা এতো মেডেল আনছেন এটাই অবাক করে। যতবার ওদের ধর্ণার ছবিগুলো খুঁটিয়ে দেখেছি, দেখেছি তরুণ মুখগুলোতে সর্বব্যাপী হতাশা। ওরা নিজেদের জীবন, কেরিয়ার, সামাজিক সম্মান কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই প্রতিবাদে নেমেছেন। অথচ বড় বড় নাম নাহয় বাদই দিলাম, সাধারণ মানুষ তেমন ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন কি? 
     
    সৌরাংশু সিনহার দরদী, তথ্যনিষ্ঠ কলম ছাড়া ওদের কথা এমন ভাবে লিখবে কে !  
  • উজ্জ্বল | 146.196.33.151 | ১৩ মে ২০২৩ ১০:০৫519736
  • মহিলা কুস্তিগীর দের নিয়ে সিনেমা করেছিলেন না আমির খান ? তিনি কিছু বলছেন কি ? মনে পড়ে মিটু নিয়ে অমিতাভ পাশ কাটিয়ে যাওয়া। এরা কোন সম্মানের যোগ্য নয়, অথচ সবাই এদের একটু সঙ্গ পাবার জন্য লালায়িত। অসহ্য দমবন্ধ করা অবস্থা
  • Ranjan Roy | ১৩ মে ২০২৩ ১২:২৮519748
  • ধর্ণার সমর্থনে মানুষ এগিয়ে আসছে।  বিশাল পুলিস ব্যারিকেড সত্ত্বেও কৃষক মোর্চা ও খপ পঞ্চায়েতের সদস্যরা পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পুলিশ কমিশনারকে 15 দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। 
    উকিলদের একটি দল অভিযুক্ত সাংসদের বাংলোর সামনে বিরোধ প্রদর্শন করেছেন।
    প্রধান বিরোধীদলের নেতারা ধর্ণা স্থলে গিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। 
    অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত ধর্ণা চলবে।
     
    অবশেষে পরশুদিন cr. Pc section 164(1) अनुयायी নাবালিক মেয়েটির এজাহার ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে একদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 
     
    তারপর আজকের কর্নাটকের নির্বাচনী ফলাফল। 
    মনে হয় পকসো আইনে গ্রেফতার সন্নিকট।
  • দীপ | 42.110.136.108 | ১৭ জুন ২০২৩ ২২:০৪520468
  • প্রধানমন্ত্রী মোদীর নাম না নিয়ে তাঁকে "অন্ধ বোবা কালা রাজা" বলে সমালোচনা করে কুস্তিগীর Vinesh Phogat একটি কবিতার কিছু অংশ আজ রাতে post করেছেন 
    # Wewantjustice দাবি করে। আসলে অমিত শাহের পুলিশ বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যে ভাবে হাল্কা চার্জশিট পেশ করেছে তাতে যে ভিনিসরা হতাশ। তাঁদের একেবারেই বিশ্বাস নেই যে তাঁরা যৌন হেনস্থার বিচার পাবেন। ব্রিজভূষণ জেলে যাবে। 

    পুষ্পমিত্র উপাধ্যায় এর এই কবিতা উদ্বৃতি করে পোস্ট করাই তার প্রমাণ। 

    যাঁরা হিন্দি পড়তে পারেন না, তাঁদের জন্য  বাংলায় সারমর্ম অনুবাদ করে দিলাম। যদিও কবিতার যে জোর, এই সারমর্ম তার কাছে কিছুই নয়। কিন্তু Vinesh, সাক্ষীদের লড়াই বুঝতে এটা জরুরি ছিল।  

    "শোনো দ্রৌপদী অস্ত্র তুলে নাও/ গোবিন্দ অর্থাৎ কৃষ্ণ আর আসবে না।

    হাতের মেহেন্দি ছাড়ো/ খড়গ সামলাও
    নিজেই নিজের লজ্জা বাঁচাও
    পাশা চারিদিকে বিছিয়ে বসে আছে শকুনি/ ওদের সবার মাথাই বিকিয়ে যাবে
    শোনো দ্রৌপদী অস্ত্র  তুলে নাও
    গোবিন্দ আর আসবে না।

    কতক্ষণ আশা নিয়ে বসে থাকবে
    বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরের কাগজের দিকে/কী করে তুমি দুঃশাসনের দরবারে  সুরক্ষা ভিক্ষা করছ 
    যে নিজেই নির্লজ্জ ভাবে পড়ে আছে
    সে কী করে তোমার লজ্জা বাঁচবে
    শোনো দ্রৌপদী অস্ত্র তুলে নাও 
    গোবিন্দ আর আসবে না।

    কাল অব্দি রাজা কেবল অন্ধ ছিল
    এখন বোবা কালাও হয়ে গিয়েছে
    মানুষের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে
    তাদের কানেও তালা লাগিয়েছে 
    তুমিই বলো/ এই অশ্রু তোমার
    কাকে কি বোঝাবে
    শোনো দ্রৌপদী অস্ত্র তুলে নাও
    গোবিন্দ আর আসবে না।"

    ****** 

    নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীকে এই ভাবে চড় যে কেউ মারতে পারেন, তাও আবার একজন মহিলা কুস্তিগীর, যাঁকে বাড়িতে ডেকে নিমন্ত্রণ করে প্রধানমন্ত্রী ছবি পোস্ট করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, সত্যি ভাবতে পারিনি। 
    সাবাস ভিনিস। 
    তোমরা এই ধর্মযুদ্ধে জিতবেই।

    C@ Prasun Acharya
  • দীপ | 42.110.136.108 | ১৭ জুন ২০২৩ ২২:০৫520469
  • হীরেন সিংহরায় | ১৮ জুন ২০২৩ ০০:০৩520473
  • शस्त्र उठाলো द्रौपदी
    उठालो आज ही 
    कल कि राह ना देखो
    लड़ना तो है आज ही 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন