ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বাকিসব  মোচ্ছব

  • সূর্যমুখীর মেয়ে

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    বাকিসব | মোচ্ছব | ২৪ জুন ২০২২ | ১৮২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • সূর্যমুখীর মেয়ে
    নদীর পাড়ে সবুজ মাঠ। সেখানে আছে  ফুলের গাছ। তাতে ফুটেছে সূর্যমুখী ফুল।  হলুদবরণ ফুল, এই এত্তো বড়। তোমরা দেখতে চাও?
     তা সেই সূর্যমুখী কী করে? ওর সূয্যিমামা যা বলেন তাই করে। রাত পোহালে আকাশ ফরসা হলে ও ঘুম থেকে ওঠে। সু্য্যিমামা পূব আকাশে একটু একটু করে মুখ দেখান। আমাদের ফুলটি তখন একটু একটু করে চোখ মেলে। সূয্যি যখন মাঝ আকাশে ও তখন ঘাড় তুলে সেদিকে তাকায়। দুপুরের পর সূয্যিঠাকুর পশ্চিম দিকে হেলতে থাকেন। আমাদের ফুল ঘাড় ঘুরিয়ে সেদিকে তাকায়। তাকিয়েই থাকে।
     তারপর আকাশে সিঁদূর খেলে সূয্যি অস্ত যান। তখন সুর্যমুখী ফুলও মুখটি করুণ করে ধীরে ধীরে চোখ বোঁজে। পরের দিন ভোর বেলা আবার সেই- সূয্যিমামার কথা মত ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে থাকা।
     দিন যায়। এবার সুর্যমুখী ফুলের বয়েস হয়েছে। তার গজিয়েছে আরও দু’তিনটি ডাল। ওর পরিবার বড় হচ্ছে। কিন্তু বাদ সেধেছে আর একটি ফুল, ঠিক ফুল নয়, ফুলের কুঁড়ি। ছোট্ট এক খুকুমণি।  ওর এখনও চোখ ফোটেনি। তবে মুখে কথা ফুটেছে।
    -মা, ওমা! তুমি কোথায়?
    -এই তো বাছা। আমি তোর পাশেই আছি।
    -মা,ওমা! শীত করছে যে!
    -ভাবিস না, পাতা দিয়ে তোকে ঢেকে দিচ্ছি।
    মা সুর্যমুখী তার কুঁড়িকে শোনায় অনেক গল্প। সবুজ ঘাসের গল্প, প্রজাপতি ও ফড়িঙের  গল্প।
    হাওয়া বয়ে যায়। সেই হাওয়ার ভাষায় ফুলেরা কথা বলে। আমাদের ফুলের কুঁড়িও শিখে গেছে সেই ভাষা।
    -মা, ওমা আমি কেন তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না?
    -পাবে, পাবে। চোখ ফুটলেই দেখতে পাবে।
    -তোমাকে দেখতে পাব, আর  নদী? আর সবুজ মাঠ?
    --সব দেখতে পাবে, আগে চোখ ফুটুক।
    --কবে ফুটবে মা? আর কত দেরি?
    -রোজ সকালে আমার সঙ্গে এই মন্তর বলতে থাক। তাহলেই হবে।
    ‘সুপ্রভাতের সূয্যিমামা-
    ঘুম হোল তায় কেমনটি,
    তোমার ভয়ে চাঁদ আর তারা
    লুকায় কেন এমনটি?
    দেখেছিলাম কালকে
    তুমি সাঁঝের বেলায় শুতে গেলে।
    কষ্ট কিছু হয়েছিল কি,
    খাট বিছানা কোথায় পেলে’?
     খুকু সূর্যমুখী কুঁড়ি রোজ মন্তর পড়ে।

    একদিন আকাশ জুড়ে ধেয়ে এল কালো কালো মেঘ। ওদের আড়ালে ঢাকা পড়ল সুর্য। হু হু করে ছুটে আসছে পাগল হাওয়া। বলছে –পালা! পালা!
    কেঁপে উঠল শিশু কুঁড়ি।
    -মা,মা! শোঁ শোঁ আওয়াজ। কী হয়েছে?
    --ঝড় উঠেছে, বৃষ্টি নেমেছে। ভয় পাস নে। আমি তোকে বুকের মধ্যে আগলে রাখব।
    তারপর সূর্যমুখী তার গোটা শরীর দিয়ে ঢেকে দিল মেয়েকে।
    হাওয়ায় দুলে দুলে উঠছে ফুলগাছেরা। ছিঁড়ে ছিঁড়ে উড়ে যাচ্ছে পাতা, ফুলের রেণু। কিন্তু কিছুতেই হার মানবে না সূর্যমুখী মা।
     ঝড় বৃষ্টির শোঁ শোঁ আওয়াজে কিছু শোনা যায় না। আকাশ চিরে ঝলসে উঠছে বিদ্যুৎ। বাজের কড় কড়  আওয়াজে কানে তালা লাগার জো। ফুলকুঁড়ি আর শুনতে পায় না মায়ের কথা।
    এইভাবেই কেটে গেল তিন দিন তিন রাত। তারপর থামল ঝড়, থামল বৃষ্টি। নেমে এল শান্তি। সবাই চুপচাপ। সবাই গাঢ় ঘুমে।
    পরের দিন সকাল হল।  শোনা গেল পাখির ডাক। এবার ফুলকুঁড়ি সূর্যমুখীর ঘুম ভাঙল। রোদ পড়ছে ওর চোখে মুখে।
    একী! চোখের সামনে এত রঙ! নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, হলুদ হলুদ রোদ। তবে কি আমার চোখ ফুটল?
    কিন্তু মা কোথায়? হ্যাঁ, একটা বড় ফুল জলকাদায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বটে! কেঁদে উঠল ফুলখুকি।
    -মা, কোথায় তুমি?
    হাওয়ায় ভেসে এল মায়ের কথা।
    --আমি  আছি রে। চলে গেছি সূয্যিমামার দেশে। ভয় পাস নে। তুই এখন বড় হয়েছিস।  তোর চোখ ফুটেছে। রোজ সূয্যিমামার দিকে চোখ তুলে তাকাবি। তখন আমাকে দেখতে পাবি।
                           ----------------------
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ২৪ জুন ২০২২ ০০:২৯737609
  • লো ভোল্টেজে সর্বনাশ!
     
    অ্যাডমিন,
       প্লীজ পাঁচটা বাতিল করুন।
  • Kausik Banerjee | ২৭ জুন ২০২২ ২২:১১737633
  • রঞ্জন বাবুর গদ্যে প্রসাদগুণ চমত্কার - আগেও দেখেছি  |  জীবনের এক গভীর সত্যকে রূপকথার ভঙ্গিতে তুলে ধারার জন্য অশেষ ধন্যবাদ | 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন