ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  অপার বাংলা  ইদের কড়চা

  • আমার বঙ্গবন্ধু আমার ইলিয়াস

    দেবর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়
    অপার বাংলা | ০৩ মে ২০২২ | ৪৩৮ বার পঠিত
  • তন্ময় ভট্টাচার্য | প্রতিভা সরকার | হেমন্ত দাস | শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় | মৃণাল শতপথী | কল্পর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় | দেবাশিস মল্লিক | মণিশংকর বিশ্বাস | সুকান্ত ঘোষ | সাদিক হোসেন | ডাঃ সেখ নূর মহাম্মদ | মোহাম্মদ সাদেকুজ্জামান শরীফ | সোমনাথ রায় | রুমা মোদক | জয় গোস্বামী | দেবর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় | সুপর্ণা দেব | সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় | স্বাতী রায় | অনিন্দিতা গোস্বামী | ফারুক আব্দুল্লাহ | খান শামিমা হক | নীলু ইসলাম | সারিকা খাতুন | দময়ন্তী | সাদাত হোসাইন | গোলাম রাশিদ | মহুয়া সেন মুখোপাধ্যায় | শারদা মণ্ডল | অমর মিত্র | হামিরউদ্দিন মিদ্যা | ইমানুল হক | নীলাঞ্জন দরিপা | চিরশ্রী দেবনাথ | সায়ন কর ভৌমিক | কৌশিক বাজারী | ঐন্দ্রিল ভৌমিক | চৈতালী চট্টোপাধ্যায় | যাজ্ঞসেনী গুপ্ত কৃষ্ণা | মোজাফ্‌ফর হোসেন | অনুরাধা কুন্ডা | মাজুল হাসান | জগন্নাথদেব মন্ডল | যশোধরা রায়চৌধুরী | কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায় | শ্রীদর্শিনী চক্রবর্তী | দীপেন ভট্টাচার্য | মৌ সেন | পায়েল দেব | তনুজ | রুখসানা কাজল | পার্থসারথি গিরি | ইদের কড়চা


    বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সম্প্রতি অঞ্জন দত্ত একটি গান বেঁধেছেন। 'স্বাধীন চিন্তা যত বারই হবে খুন/মনে পড়ে যায় তোমাকে বন্ধু আমার..' গানটি ক্রমেই যত এগোয় ততই রাষ্ট্রের হাতে স্বাধীন চিন্তকদের হত্যার আখ্যান শোনাতে থাকে। একে একে সে গানে এসে পড়েন চে গেভারা-রবি ঠাকুর-মার্টিন লুথার কিং আর তার সাথেই মুজিবুরl। এমন এক সময় এ গান শুনছি, যখন ভারতে প্রতিনিয়ত স্বাধীন চিন্তকদের খুন করছে ফাশিস্ত সরকার। কখনও তা গৌরী লঙ্কেশকে হত্যার মধ্যে দিয়ে তো কখনও ভারভারা রাওকে বন্দি করার মধ্যে দিয়ে।
    তাই বাংলাদেশের ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে অন্য এক রেলেভেন্স ব্যক্ত করছে অচিরেই এই সময়।

    বস্তুত, আজ, বাংলা ভাষার অস্তিত্ব গভীর সংকটে তথা বাংলা সংস্কৃতি ভীষণ রকম বিপন্ন। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস তাই আজ, ২০২১ এর বাংলায় শুধু নস্টালজিয়া না, লড়াইয়ের অস্ত্র। স্বাধীনতা, এই একটি মাত্র শব্দই অনিবার্য হয়ে উঠেছিল তাঁর হাত ধরে আপামর বাংলাদেশে। আর আজ, সেই একই শব্দ অর্জনের জন্য সময়ের ফেরে লড়াই করছে যৌবন৷ দেশভাগ আমরা দেখিনি ঠিকই কিন্তু দেশ বিক্রি দেখছি, রাস্তায় গুলি চলতেও দেখিনি ঠিকই কিন্তু ঘরে ঘরে গুলি চলতে দেখছি। ডিপ্রেশান আর সেপারেশানের সাথে আজ লড়াই প্রতি ঘরে। সাইকোটিক একটা ডিপলিটিসাইজড সময় যেখানে ডিস্টোপিয়াই নিয়তি। পোস্ট মর্ডান, পোস্ট ট্রুথ, পোস্ট প্যান্ডেমিক একটা ডিজিটাল সময়, যেখানে সমস্ত স্বাধীনতাই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রিত এবং অনুমোদিত। এ হেন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর কাজ অন্যতর আত্ম খোঁজার গভীর নির্জন পথ। আর সেই ইতিহাসের পথেই আপাতত আগামীকে খুঁজে পাচ্ছি আমি।

    প্রতিটি দেশের যেমন একটা ল্যান্ডস্কেপ থাকে, তেমনই একটা সাউন্ডস্কেপও থাকে। কথাটা কবীর সুমনের। আমি তার সাথে জুড়তে চাই, আরেকটি শব্দ এ আলোচনার সূত্রে। তা হল, মাইন্ডস্কেপ। প্রত্যেক শিল্পীর যেমন নিজের একটা ভাষা থাকে, তেমনই থাকে নিজের শহর। বুড়ো আঙুলের ছাপ। শিরার ভেতর কানাগলি। কেন বিলাসবহুল শহরের হাতছানি পেরিয়ে, নিজের ভাঙা শহরে থেকে যান শিল্পীরা? হাজার অসুবিধের পরেও? কারণ, তা না করলে, মনে ভেসে উঠবে না আদত ইমেজারি। দৃশ্যকল্প। নুয়ানসেস। মেঝের লাল রং। জানলার গরাদের জং। স্যঁতস্যাঁতে কলতলা। আসন্ন হেমন্তের কুয়াশা। মায়াবী ছাতিমের গন্ধ। সমস্ত স্বর-সুর-গন্ধ, যা অনুবাদ হয় না। অনুবাদ করা যায় না। আর, তাই পরবাসে যখন নানা রাজনৈতিক-সামাজিক কারণে বাধ্য হতে হয়েছে শিল্পীদের থাকতে, তখন সে হতাশা ধরা দিয়েছে ঋত্বিক ঘটকের ফ্রেমে দেশভাগের ট্রমায়। লোরকার কবিতায় ড্রাগনের মত গিলতে আসা নিউ ইয়র্কের রক্তের ছিটেতে। উলফ বিয়ারমানের গানে, জীবনানন্দ দাশের কবিতায়। বদলে গেছে সুর। বদলে গেছে শব্দের মানে। ধরতে চেয়েও ধরতে পারেননি ইমেজারি শিল্পীরা। কারণ তাঁর সমাজের মন থেকে তিনি বিচ্যুত। ডিপ্লেসড। বাস্তুহারা। আর শুধু নিজের মন থেকে শিল্প তৈরি হয় না। সমাজের আত্মা এসে শিল্পীর আত্মায় মিশলে, অনেকের না-বলা কথা বলেন শিল্পী। তখন তা শিল্প হয়ে ওঠে বলে মনে করেন কমলকুমার মজুমদার। সেভাবেই মার্কস ও বুদ্ধ। সেভাবেই কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো থেকে ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের আর্কেড প্রোজেক্ট। সেখানেই মুজিবুরের ভাষণের পর ভাষণে আবেগ..সংবেদন..

    কথাগুলো লিখতে হল, কারণ আমার প্রজন্ম নতুন করে দেশভাগ-মন্বন্তর-মহামারী দেখছে। নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে আবার স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ের পর। আমার ঘরে এসে আমাকেই ভাড়াটে বানাতে যায় আগন্তুক! বাংলাদেশের বরিশালের বাসিন্দা ছিলেন আমার দাদামশাই। মুকুন্দ দাসের দলে গান করতেন। ব্রিটিশ বিরোধী গান করে জেলে গেছেন। এপারে এসে দক্ষিণ কলকাতার এই কলোনির বাসিন্দা হন তিনি। এই উদ্বাস্তু কলোনি তখন দিকে-দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ঋত্বিক ঘটকের ছবিতে আমরা দেখেছি আজাদগড় কলোনি। ঋত্বিক ছাড়াও বিজন-দেবব্রত-জ্যোতিরিন্দ্র-সলিলদের কাজে বারবার ধরা দিয়েছে এই যন্ত্রণা। এই প্রজন্মকে আজীবন স্ট্রাগলার হয়েই অনন্য কাজের নজির রাখতে হয়েছে। বারবার ঘর ভেঙে গেছে বিজন-ঋত্বিকদের। তবু তাঁদের কাজে অটোগ্রাফ খোদাই করে দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু ফিরে ফিরে এসেছে সেই প্রশ্নই তাঁদের কাজে, ঘর কোনটা? ঘর?

    'র/ড়' লেখার সময় বুঝি আমি ওপার বাংলার মানুষ। 'স' উচ্চারণের সময়েও বুঝি। ভালোবাসার উপর কোনও কাটা দাগ দেওয়া যাবে না। মানচিত্রেই দেওয়া যাবে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখায় বা অমর একুশে আমার চেতনায়। সে চেতনায় লালন থেকে রুদ্র মহম্মদ আছেন। আছেন অবশ্যই বঙ্গবন্ধু। আছে আজকের প্রজন্মের অর্ণব-আনুশের গান। শাহবাগ আন্দোলন। এসবই তো আমার আত্মার অনিবার্য এক্সটেনশান। আমার স্বাভাবিক উচ্চারণ। আমার এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে সত্যজিৎ রায়ের কথা। মুক্তিযুদ্ধর পর বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে এক ভাষণে তিনি প্রকাশ্যেই জানান, সারা দুনিয়ার ডাক সত্ত্বেও তিনি এই বাংলাতেই থেকে যাবেন। কারণ তাঁর শেকড়গুলি এখানে। বাইরে কাজে অবশ্যই যাবেন তিনি। কিন্তু এই বিন্দুতেই তাঁর সিন্ধু। এর বাইরে গেলে তাঁর পা 'নড়ে যাবে।' কতকটা একই কথা বলছেন, মৃণাল সেন। আর তাই কান-বার্লিন ঘুরে এসেও তাঁরা কেউ সন্দেশ পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। তো, কেউ রাসবিহারী মোড়ে দাঁড়িয়ে ফ্রন্টিয়ার পড়ছেন। বা ক্যামেরার এঙ্গেল ঠিক করছেন রেড রোডে শুয়ে পড়ে। বাদল সরকার তাই মৌলালি মোড়কেই করে তোলেন তাঁর মঞ্চ। মধ্যবিত্ত বাঙালির আধুনিতায় ছিল ভবানীপুর; ম্যাটিনির সস্তা টিকিটে স্বপ্নের ঔদ্ধত্য। তার বদলে আজ রাজারহাটের পয়সা হলেও সে ভিখিরি। আজকের বং উইকেন্ডে সিঙ্গাপুর যেতেই পারে কিন্তু সে চাঁদের পাহাড় লিখতে পারত এককালে ঘাটশিলায় বসেই। আফ্রিকায় গিয়ে তা ফ্রেমবন্দি করতে গিয়ে ছড়াতো না।

    মানুষের অবচেতনে থাকে তার স্মৃতি। বহু মানুষের স্মৃতি জমেই হয় গণস্মৃতি। মানুষের ইতিহাস। লেভি স্ত্রস প্রমুখ তাত্ত্বিকরা বলছেন, এর পাশেই থাকে, মিথ। দেশভাগের মত যন্ত্রণা একটা জাতির গণস্মৃতিতে ছেদ বসায়। ঋত্বিক ঘটকের ফ্রেমে তাই রেললাইনে রাপচারের অন্ধাকার নেমে আসে। আমাদের বাঙাল পরিবারের ঠাকুমা-দাদুদের অনেকেরই স্মৃতি কাজ করত না। থমকে যেত। সত্তর দশকের নকশাল আন্দোলনে শহিদ বহু সন্তানের বাবা-মায়েরা যেমন। কাশীপুর-বরানগরে আজও ভীত-সন্ত্রস্ত। স্মৃতি নেই। কিছুটা প্যারানইয়া। কিছুটা হিস্টিরিয়াগ্রস্ত। ট্রমাটাইজড। ধারাবাহিক ইতিহাসের বদলে তাই মিথ অনেকটাই তাঁদের স্মৃতিজুড়ে। কিন্তু মায়েরা যেভাবে সন্তানের মুখ দেখে বলে দিতে পারে সব, সেভাবেই, অনুভূতির একটা ইনটেলিজেন্সও অবচেতনে কাজ করে। তাই কিছু কিছু প্রবণতা বা প্যাটার্ন অজান্তে ফুটে বেরোয় পরের প্রজন্মে, যেমন গান না শিখেও গলায় সুর থাকা বা ভালো রাঁধতে পারা অজান্তেই। স্বয়ংক্রিয় এসব প্রবণতা থেকেও একটা জাতি বেঁচে যায়। মধ্যবিত্ত সাধারণ লোকেদের মধ্যেও থাকে এসব প্রবণতা। কেউ কেউ সে গুণকে শাণিত করেন। তাঁরাই উত্তম কুমার থেকে লেনিন। তাঁরাই কফি হাউস থেকে লিটল ম্যাগাজিন। একটা জাতির প্রাণভোমরা। যারা 'কেউ না' হয়তো,কিন্তু তারাই বাঁচিয়ে দেয় একটা জাতিকে শেষবেশ। যেভাবে আজও তাঁদের মনেই চির-জাগরূক বঙ্গবন্ধু..

    আজকের গণস্মৃতি অবশ্য ডিজিটালে রেস্টোরড। সেখানে গুগল ক্লাউডেই সবাই রেখে দিচ্ছে যা কিছু সব। অর্কুট উড়ে গেলেও, এখন একাধিক মাধ্যম মারফত চালাচালি হয় সমস্ত তথ্য। স্নোডেন সরকারের নজরদারি করা বেআইনি তথ্য প্রকাশ্যে এনে কি কাণ্ডই না বাঁধালেন ক দিন আগে। এভাবেই একটা পোস্ট-ট্রুথ কালচার তৈরি হচ্ছে। যেখানে সবাই সবকিছু জানতে পারছে, অনধিকার সত্ত্বেও। কাজেই কার্যকারণহীন একটা রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক জায়গা তৈরি হয়ে গেছে বিগত বছরগুলোয়। বিজেপি যার একটা রাজনৈতিক এক্সপ্রেশন মাত্র আজ। এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র ইতিহাস। গোটা দুনিয়াটাকে এক রকম বানানোর এই রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে ইতিহাস। তাই আমার প্রজন্ম প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ইতিহাসের কথা বলছে নতুন ভাবে। সেখানেই নিউ মিডিয়ার হাত ধরে আসছে নিউ লেফট। জিজেক-ব্যংক্সি-ওয়ালস্ট্রিট-ইয়োলো ওয়েস্ট আরও কত নাম করা যায় এ প্রসঙ্গে। সেখানেই ফিরে ফিরে আজ ইউটিউবে গিয়ে শুনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ..নড়ে উঠি..রক্তে টান দেন শহিদরা..অজান্তে উঠে দাঁড়াই..মাথা নিচু হয়ে আসে..

    মরিয়া হয়ে খুঁজে বেড়াই তারপর বাংলার ইতিহাস এ শহরেও। খুঁজতে খুঁজতে..খুঁড়তে খুঁড়তে..দেখতে পাই গত তিন দশকে, সত্তর দশকের পর থেকেই ক্রমেই বাংলার প্রতি ঔদাসীন্য ফাটকা বেনিয়াদের। সেই চেতনায় রাঙিয়ে সন্তানদের বিশ্বায়িতভাবে বাজারসফল করে তুলেছেন 'বাম' মনোভাবাপন্ন বাবা-মা'রা। বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তাঁরা পরের প্রজন্মের সাথে। বাংলা ভাষা বাঁচাও আন্দোলন করে নিজের সন্তানদের এলিট ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো দিয়ে যে বিশ্বাসঘাতকতার শুরু। তারপর জয়েন্ট-জয়েন্ট করে এবং পরবর্তীতে জয়েন্টের বাজার মরে গেলে ব্যাঙ্কের পরীক্ষা দিয়ে কোনও রকমে কেরিয়ার নির্ধারণ করতে বাধ্য করায় যার শেষ। আজ একটা আস্ত প্রজন্ম ইতিহাস-বঞ্চিত, ছিন্নমূল, ডিপ্রেসড, সেপারেটেড, সাইকোটিক। এরাই আচ্ছে দিন, এরাই বিজেপি। এদের হাতে লেট ক্যাপিটালিজমের সস্তা টাকা। এরা ঘুরতে যায় মেক মাই ট্রিপে, খায় সুইগিতে, থাকে ওয়োরুমে, চাপে ওলা-উবরে। অন্য দিকে দুনিয়ার বড় বড় কর্পোরেটরা আজ শেকড়ে ফিরে যাচ্ছে চাকরি ছেড়ে। চাষবাস করছে গ্রামে গিয়ে৷ গো ব্যাক টু দ্য রুটস। শেকড়ে ফিরে যাওয়ারই নানা ফিকির দেখা দিচ্ছে আবার নানা ভাবে।

    আমি তাই স্বপ্ন দেখি, একদিন সত্যি ভেঙে যাবে বার্লিন দেওয়ালের মতোই আমাদের পদ্মার বুক ভেদ করে চলে যাওয়া ব্যবধান। দুই বাংলা এক হয়ে যাবে আবার। কোনও উগ্রপন্থার হাত ধরে না। স্বাভাবিক ভাবেই। বরিশালের মাটিতে দাদুর সুরে আমার গলা দিয়ে বেরবে আবার মুকুন্দ দাসের গান..সেদিন...আমার অজানা পূর্বপুরুষের বহু কিছু জানিয়ে দেবে বরিশালের আকাশ-বাতাস আমায়....আমি মানুষ হিসেবে পূর্ণ হয়ে উঠব.. প্রণত হব আরেকবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে..

    'ছোটলোক' র কথাকার আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    যে শহরে যৌন-পার্টনারের অভাবে প্রবল একাকিত্বে একজন ইন্ডিভিজুয়াল হস্তমৈথুন করতে বাধ্য হয়, সে শহর কখনওই সুস্থ হতে পারে না৷ কথাটা পড়ছিলাম সেদিন ইলিয়াসের একটা লেখায়। ইলিয়াসের ধারাবাহিক লেখা-ইন্টারভিউ-প্রবন্ধগুলি পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, ঠিক কি ধরণের সংকট দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে? প্রচলিত বামপন্থী সাহিত্যিকের ছকে তাঁকে ফেলা যাচ্ছে না, ফেলা যাচ্ছে না মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে গর্জে ওঠা সাহিত্যের ছাঁচেও পুরোপুরি, আবার আধুনিক-মনা কিন্তু রাজনীতি-বিমুখ সাহিত্যের ধারার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান তাঁর, এমনকি আধুনিক পেপারব্যাক নভেলার বদলে তাঁর আখ্যানের নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছে মহাকাব্যিক বাস্তবতা অথচ ব্যক্তি আখ্যানের কথাই তিনি বলছেন।

    লেখার ভেতরে যে লেখা থাকে, বিষয়ের নেপথ্যে থাকে যে অনুষঙ্গ, রাজনীতির আড়ালে যে ব্যক্তিমন থাকে, বাংলাদেশের ভেতর থাকে যে প্রকৃত বাংলার আত্মা-লেখকের কাজ সেই নতুন চিন্তাপ্রণালির সলতেতে দপ করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া। ইলিয়াস সমকালের আন্তর্জাতিক সাহিত্যের ধারায় সে কাজটাই তাঁর বাংলাদেশে বসে করছিলেন। তাঁর সমকালের বাংলা-সাহিত্য বেশিটাই যখন মুক্তিযুদ্ধের নামে বীরগাথার বন্দনা করছেন বা নারীদের আবহমান মায়ের রূপকল্পে দেখতে চাইছেন, ইলিয়াস তাঁর সমসাময়িক গার্সিয়া মার্কেজের মতই একটা নতুন মানচিত্রের খোঁজ করছেন বাংলা দেশের। তিনি অবশ্য একশো বছরের নিঃসঙ্গতার বদলে বলছেন 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু'। আর, এই সেতু নির্মাণের পটভূমিকাতেই বাকি জীবনে বারবার খুঁজে পাওয়া যাবে ইলিয়াস ও তাঁর সাহিত্যকীর্তিকে।

    আসলে, আন্তর্জাতিক পরিসরে সত্তর পরবর্তী সময় থেকে ধারাবাহিক ভাবেই সমালোচিত হচ্ছিল বামপন্থা। মার্কেজ ছাড়াও সেই ধারায় নাম উঠে আসে সারামাগো, বোলানো, গালেয়ানো, ফুয়েন্তেস, গুন্টার গ্রাসদের। মানুষের থেকে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল বামপন্থা, হয়ে পড়ছিল স্বৈরাচারী সারা দুনিয়াজুড়েই। আর পাল্লা দিয়ে নিজেদের উপন্যাসে স্বদেশ আত্মার স্বাধীনতা খুঁজতে গিয়ে মরীয়া হয়ে পড়ছিলেন এই সব লেখকরা। তাঁরা বুঝতে পারছিলেন যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তা মুক্তি দেয়নি, কেবল রাজধানী হস্তান্তর ঘটেছে, আমাদের রাজনীতি আর মানুষের কথা বলছে না-এখান থেকেই প্রচলিত আখ্যানের ভেতর ঘুণপোকা ঢুকে পড়তে শুরু করে। নানাবিধ টুকরো টুকরো ঘটনা অবিন্যস্ত ভাবে জুড়তে জুড়তে আধুনিক ব্যক্তি মানুষের সংকটের কথাকার, তাঁর পরিচয়হীনতার বাস্তবতার কথাকার হয়ে ওঠেন ইলিয়াস। যেভাবে কুন্দেরা বা পামুক স্বদেশ তথা নিজের শহর ও ভাষাকে আধুনিকতার মোড়কে পুনঃস্থাপন করেন, সেই ধারাতেই ইলিয়াসের বাংলাদেশকে খুঁজে পাই আমি।

    ধারাবাহিক ভাবে যদি তাঁর 'চাকমা উপন্যাস চাই', ' সংস্কৃতির ভাঙা সেতু', 'বাংলা ছোটগল্প কি মরে যাচ্ছে', ' 'গুন্টার গ্রাস ও আমাদের গ্যাস্ট্রিক আলসার' প্রবন্ধগুলি পড়া যায়-এসব আশংকা ও উত্তরণই ঘুরে ফিরে আসতে দেখি। পাশপাশি দেখি ধারাবাহিক ভোগবাদ আর সমানতালে চলতে থাকা জাতিসত্তার গঠনের মাঝে ব্যক্তির চেতনা ও ভাষা নিয়ে নিরন্তন সন্ধান। ইলিয়াসের লড়াইটা আসলে স্মৃতিহীনতা থেকে স্মৃতির দিকে যাওয়ার লড়াই। বড় নির্মোহ তাঁর দেখা। 'চিলেকোঠার সেপাই' ও 'খোয়াবনামা'জুড়ে যেন স্মৃতি, সত্তা, ভবিষ্যত নিয়ে সোল্লাস গর্জন করছেন ইলিয়াসের চরিত্ররা। চিৎকারে চিৎকারে নির্মিত হচ্ছে এক নতুন বাংলাভাষা যা বিপদজনক। প্রায় সমকালের দেবেশ রায়ও মহাকাব্যিক পটভূমিকা তথা রিপোর্টাজ-ধর্মীতা লেখায় এনেছেন, কিন্তু ইলিয়াসের গদ্য আত্মা ও চামড়ায় ব্যক্তিমনের অবচেতনের গভীরের ভাষ্য এবং তা মহাসময়ের যাত্রা। দেবেশের চরিত্ররা ঘটনার ভেতর দিয়ে প্রান্তিকতা চিহ্নিত করে আর ইলিয়াসের জেহাদ যেনবা কনজিউমারজিম সরিয়ে সরিয়ে মানবাত্মার সারকে খুঁড়ে বের করতে।

    লেখক হিসেবে ইলিয়াস কীভাবে প্রভাবিত করেন আমার লেখা? তাঁর উত্তরে এটাই বলার, জলা জমি বুজিয়ে বহুতল উঠছে, এই ইমেজ আমার সমস্ত চেতনাজুড়ে আজকাল রাগের কারণ, লেখার প্রতিরোধ। এই বহুতল অবশ্য নানাভাবে উঠছে। কখনও তা বিশ্বাসে তো কখনও পাড়ায় তো কখনও বাড়ির ভেতরে। যত বড় হচ্ছি, টের পাচ্ছি, কনজিউমারজিমের সাথে একটা নতুন স্তরের লড়াই লেগে গেছে চেতনায়। দমবন্ধ করা লড়াই। আর সেখানেই খুঁজে পাচ্ছি ইলিয়াসকে বারবার। জন্মাবধি সেখানে হেরে বসে আছি। চেতনার যে জলাজমি তা দখল নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে চারপাশ। কখনও তা বন্ধুর লাখটাকার বিয়ের প্যাকেজের মধ্যে দিয়ে তো কখনও মাল্টিন্যশানালের ব্যাক অফিস কাজের এঁটোকাটা ছোড়ার মধ্যে দিয়ে। এ যেন ধর্ষণের পর 'সরি' বলা। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের ব্যবধান এইভাবে বেড়েই চলেছে ক্রমাগত। তাতে মদত জোগাচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থা। দাস-ব্যবস্থার এ এক নতুন চেহারা, যেখানে ভিখিরি আরও ভিখিরি হয়ে ফতুর হবে আর বড়লোকেরা আরও বড়লোক হয়েই চলবে। এ এক অসম শেষহীন লড়াই। প্রাচ্য দেশের দর্শনে আমি মুক্তি খুঁজি আজকাল তাই। আমার কলোনি পাড়াকে সেখানে ঘিরে ধরে না মাল্টিন্যাশানাল বহুতল। বিয়ের নামে সেখানে কেনাবেচা হয় না, ৩২ ইঞ্চি এলইডি, বিঘেবিঘে জমি বা ট্র‍্যাভেরা-টয়োটা..

    এ আসলে এক অনন্ত সাফারিং বুঝে গেছি৷ হাতে পেরেক গেঁথে জানতে চাওয়া, 'লাগছে না তো?' এক অনন্ত ছক, যেখানে, যে বন্ধু গান করত, বিয়ের পর তাকে গান ছেড়ে অফিসার হতে হবে। তারপর, ফ্ল্যাট ভাড়া করে লোন করতে হবে। কারণ, ইতিমধ্যে তাকে বাড়ির লোকেরা কাঠি করে বের করে দেবে। সেই লোন চোকাতে বছর দশেক লাগবে। এই দশ বছরে চিরতরে হারাবে তার গান। চির-দাসত্বে সিসিফাস পাথর ঠেলেই চলবে খুড়োর কলের দিকে। এ ঘটনা আজ গলিতে গলিতে। বাগুইহাটি বা রাজারহাটের নিউলি ম্যারেড হ্যাপি কাপেলের অনেকের রাতে ঘুম হয় না। অনেকেই আত্মহত্যার কথাও ভেবেছে গত দু বছর বারবার। কারণ, লোনের টাকা শোধ করা যাবে না। যেমন শোধ করা যাবে না, জলা জমির অপচয়। ফলে, অসময়ে মেঘ করে আসবে। প্রকৃতি প্রতিশোধ নেবে। অল্প বয়সে প্রেশার আর সুগার হবে সেক্টর-ফাইভের চকচকে আইটির নব্য-দাসত্বের কারণ। এই সমস্ত প্রেক্ষিতের ভেতরেই আমার লেখায় বারবার সত্য হয়ে ওঠে ইলিয়াসের জগত। অসম লড়াইয়ে গলায় ইলেক্ট্রটির তার প্যাঁচানো জেনেও চিঁচিঁ করে যাই, চকচকে দাসেরা সকাল দশটায় কার্ড পাঞ্চ করে নিজেদের শ্রেষ্ঠ সুখী ভাবছে, দান্তের লেখাতেও এত বীভৎস ভাবে শয়তানের হাতে আত্মা সমর্পণ করা হয়নি। এখানেই সত্য আনোয়ার, ওসমানরা আজও, আমার মত করে..যে কোনও মুহূর্তে স্টোভ-বার্স্টও করতে পারে তাই..

    ইলিয়াসকে এ পার বাংলায় যারা শুরুর দিকে নিয়ে আসেন, নবারুণ তাঁদের অন্যতম। নবারুণের লেখাকেও গভীর ভাবে প্রভাবিত করেন ইলিয়াস। আমাদের ভোগবাদ-আমাদের স্বৈরাচার-আমাদের প্রিভিলেজ-আমাদের চুদুরবুদুর সুখ-আমাদের কর্পোরেট স্বার্থপর ঢ্যামনা বালিগঞ্জ-টালিগঞ্জ কিন্তু নবারুণ তথা ইলিয়াসকে ভুলে যেতে পারল না..এখানেই আমাদের জয়, কারণ এই না ভুলতে পারা মানে একটা দু-নম্বরি সময়কে না মেনে নেওয়া..এখনও মেরুদণ্ড সোজা রেখে রেগে উঠতে পারা.. একটা বিরল কমান্ড, একটা গভীর আত্মদীপ আর বিশ্বাস ফিরে পাওয়া, সে বিশ্বাসের দ্রোহ এতটাই সখাতসলিলের যে হিমশৈল অনায়াসে ডুবে যেতে পারে..চুল্লি বার্স্ট করতে পারে..শিরা ছেতরে যেতে পারে..একটা রিস্ক থেকেই যাচ্ছে

    আসলে, একটা ডিবেস, ডি-পলিটিসাইজড সময়ে মানুষের ভোগান্তিগুলো/কনফিউশানগুলো এরকমই হয়। সে তাঁর জাতির-ইতিহাসের জোরের জায়গাগুলো চিনতে পারে না। বাড়ি, সরকার বা সম্পর্ক, যাদের কাছে তাঁর আনকন্ডিশানাল একসেপ্টেন্স হওয়ার কথা ছিল, প্রত্যেকের সাথেই তাঁকে গেরিলা লড়াই করে অনন্ত সাফারিংয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে হয়। এ দুই লেখকের লেখাই আজ ইতালো কালভিনো, রোবার্তো বোলানোদের সাথে অনুদিত হচ্ছে দুনিয়াজুড়ে। ইলিয়াস ও নবারুণের ভাষা বুলেট। এক ধরণের একটিভিজম। স্রেফ বিদেশি ফাঁপা দর্শন টুকে দেননি তাঁরা। দেশজ ঐতিহ্য থেকে বারুদ আর বিদ্রোহ দিয়ে চুল্লি সাজিয়েছিলেন।

    অমিতাভ মালাকারের তথ্যচিত্রে দেখি প্রয়াত হওয়ার ক দিন আগে বাড়িতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন ইলিয়াস। রাজকীয় তাঁর মেজাজ। কথা হচ্ছিল অমিতাভদার সাথে, বলছিলেন, ইলিয়াসের সাধারণ প্রতিবেশে খুব সাধারণ ভাবেই তাঁর রোজনামচা ধরতে চেয়েছিলেন তিনি। ছিল না কোনও দ্যাখনদারি। যেমন ইলিয়াসের জীবন বা শিল্পেও বড্ড বেশি 'ছোটলোক'দের ভিড়, আর তাই অজান্তেই কখন রোজনামচা মহাকাব্য হয়ে ওঠে, জানা যায় না..

    তন্ময় ভট্টাচার্য | প্রতিভা সরকার | হেমন্ত দাস | শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় | মৃণাল শতপথী | কল্পর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় | দেবাশিস মল্লিক | মণিশংকর বিশ্বাস | সুকান্ত ঘোষ | সাদিক হোসেন | ডাঃ সেখ নূর মহাম্মদ | মোহাম্মদ সাদেকুজ্জামান শরীফ | সোমনাথ রায় | রুমা মোদক | জয় গোস্বামী | দেবর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় | সুপর্ণা দেব | সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় | স্বাতী রায় | অনিন্দিতা গোস্বামী | ফারুক আব্দুল্লাহ | খান শামিমা হক | নীলু ইসলাম | সারিকা খাতুন | দময়ন্তী | সাদাত হোসাইন | গোলাম রাশিদ | মহুয়া সেন মুখোপাধ্যায় | শারদা মণ্ডল | অমর মিত্র | হামিরউদ্দিন মিদ্যা | ইমানুল হক | নীলাঞ্জন দরিপা | চিরশ্রী দেবনাথ | সায়ন কর ভৌমিক | কৌশিক বাজারী | ঐন্দ্রিল ভৌমিক | চৈতালী চট্টোপাধ্যায় | যাজ্ঞসেনী গুপ্ত কৃষ্ণা | মোজাফ্‌ফর হোসেন | অনুরাধা কুন্ডা | মাজুল হাসান | জগন্নাথদেব মন্ডল | যশোধরা রায়চৌধুরী | কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায় | শ্রীদর্শিনী চক্রবর্তী | দীপেন ভট্টাচার্য | মৌ সেন | পায়েল দেব | তনুজ | রুখসানা কাজল | পার্থসারথি গিরি | ইদের কড়চা
  • | বিভাগ : অপার বাংলা | ০৩ মে ২০২২ | ৪৩৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সারমিন রহমান | 2409:4060:88:4cb::877:e0a4 | ০৪ মে ২০২২ ১০:০৮507212
  • সমৃদ্ধ একটা লেখনী।যেমনটা দেবর্ষি লিখে থাকেন বরাবর।ধন্যবাদ জানাই।
  • রুখসানা কাজল | 103.217.111.30 | ২৪ মে ২০২২ ১২:৫৮508029
  • খুব সুন্দর লিখেছেন। এরকম লেখায় মন ডুবে যায়। কিছু কিছু অসম্ভব স্বপ্নের দোলা আছে লেখায় কিন্তু আদৌ কি অসম্ভব বলে কিছু আছে !  বেদনাদায়ক দেশভাগেরও কিছুটা লাভালাভ আছে। পূব বাংলার দলিত মুসলিম চাষী মুনিশ নিরক্ষর  মুসলিমরা অর্থ-  শিক্ষা- সংস্কৃতির আলোতে আলোকিত হয়ে উঠছে।  স্বপ্নরা বলবান হয়ে ভেঙ্গে ফেলুক সীমানা ।  এমন লেখার জন্য ধন্যবাদ। 
  • যোষিতা | 194.56.48.114 | ২৪ মে ২০২২ ১৯:২৬508044
  • "মার্কেজ ছাড়াও সেই ধারায় নাম উঠে আসে সারামাগো, বোলানো, গালেয়ানো, ফুয়েন্তেস, গুন্টার গ্রাসদের। ...."

    গুন্টার গ্রাসকে এই লিস্টি থেকে বাদ দিলে ভালো হয়, তার ফ্যাসিস্ট রেকর্ড আছে।

    লেখাটা বেশ ভালো লাগল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন