এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  অপার বাংলা

  • সম্মানহানির সম্মেলন কিংবা রূপঙ্করের প্রশ্ন – এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি

    অভ্রতনু
    অপার বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৩ | ১৫৭০ বার পঠিত

  • উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলন ২০২৩। এই অনুষ্ঠানে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা এবং গুণী শিল্পীদের হেনস্থা প্রসঙ্গে অনেক কাহিনী সামনে এসে গেছে। এই বিশৃঙ্খল অনুষ্ঠানে যোগদানকারী একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে সামান্য দু-একটি কথা। প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক – কী কী বিষয়ে বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েছে। প্রথমদিনের অনুষ্ঠান প্রায় বাতিল হয়ে যায় সময়মতো ভেনু না পাওয়ায়। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান কোনো কারণ ছাড়াই বারবার বিলম্বিত হয়, জনশ্রুতি অনুসারে—শিল্পীরা পারিশ্রমিক না পাওয়া অবধি অনুষ্ঠান শুরু করতে চাননি। প্রধান মঞ্চে স্থানীয় অনুষ্ঠান চলতে থাকে, কোনো পেশাদার শিল্পীকে সেখানে জায়গা দেওয়া হয়নি। পণ্ডিত তেজেন মজুমদারকে অনুষ্ঠান শেষ করতে তাড়া দেওয়া হয়, তিনি অনুষ্ঠান শেষ করার আগেই স্থানীয় ব্যান্ডের লোকজন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে মঞ্চে উঠে পড়ে। পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর অনুষ্ঠানে স্থানীয় সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা গোলমাল বাধান (তাদের মঞ্চ দেওয়া হয়নি বলে)। খাবার জায়গায় স্বেচ্ছাসেবক না থাকায় দর্শকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। যে খাবার দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল—তা দেওয়া হয়নি, অর্থাৎ এখানেও ব্যয় সঙ্কোচন করা হয়। পরের দিন—সব শিল্পীদের মূল মঞ্চে অনুষ্ঠান করতে দিলেও—মাত্র ২০-২৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। ক্যাকটাসের অনুষ্ঠান আটকে রেখে স্থানীয় অনুষ্ঠান চলতে থাকে, শেষে দর্শকদের প্রতিবাদে মাঝপথে সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করে ক্যাকটাসকে ৪-৫ টি গান গাইতে দেওয়া হয়। মূল সমস্যার সূত্রপাত হয় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরের দিন। শিল্পীদের হোটেলের ঘরের চাবি অকেজো হয়ে যায়; তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি, অনেকের পারিশ্রমিকও মেটানো হয়নি – এমন খবর সামনে আসতে থাকে।

    অন্যদিকে দুটি হিন্দি গানের অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তাঁরা মঞ্চ প্রস্তুত করার জন্য তিন ঘণ্টা সময় পান। মোটামুটি নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। জনশ্রুতি অনুসারে—তাঁদের পারিশ্রমিক এবং অনুষ্ঠান পরিবেশনার খরচ সমস্ত বাঙালি শিল্পীর মিলিত পারিশ্রমিকের চেয়ে বেশি। এবার আসা যাক এই দুই শিল্পীর অনুষ্ঠানের উৎকর্ষের বিষয়ে। প্রথম শিল্পীর অনুষ্ঠান পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর অনুষ্ঠানের সঙ্গে একই সময়ে (অন্য মঞ্চে) থাকায় তা উপভোগ করার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবে মূল মঞ্চের পাশ দিয়ে আসার সময় মনে হয়েছে, ‘শব্দ নেহাত কম নয়’। (আশেপাশে ভাগ্নে থাকলে জানিয়ে দিতেন, ‘শব্দের পেছনে অর্থও নেহাত কম নয়’)। মূল শিল্পীর অনুষ্ঠানে জাঁকজমক এবং শব্দের মাত্রা আরো কয়েককাঠি ওপরে। কেউ যে নিজের গাওয়া অত্যন্ত বিখ্যাত কিছু গানের পিণ্ডি এইভাবে চটকাতে পারেন—তা না শুনলে বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। শিল্পীর যত না গানে মনোযোগ, তার কয়েকগুণ বেশি মনোযোগ কেশসজ্জায় কিংবা লাফালাফিতে। তবে যে পুজোর যা মন্ত্র—যেরকম মাল দু-তিন কোটি টাকায় বিক্রি হবে, গায়ক তো তেমন জিনিসই উপহার দেবেন। সুরমণ্ডল সহযোগে সঠিক সুরে গাওয়া গানের দাম যদি দু্-তিন কোটির সামান্য ভগ্নাংশ মাত্র হয় (এবং তাও যদি সঠিক সময়ে না পাওয়া যায়), তবে কর্কশ চেঁচামেচির রাস্তা বেছে নেওয়াই ভালো। তবে, মূল শিল্পীর অনুষ্ঠানের পর বাইরে যতজনের সাথে দেখা হল, তাঁরা কেউই দেখলাম সন্তুষ্ট নন। অনুষ্ঠান চলাকালীন বিশেষ কেউ নাচানাচিও করছিলেন না। ক্যাকটাসের পাঁচটি গানের সময় উন্মাদনা যেন অনেক বেশি ছিল। তবে কি তিন কোটি টাকার যে মাল কেনাবেচা হলো, তাতে কোথাও ভুল বোঝাবুঝি রয়ে গেল? যারা কিনলেন, তাঁরা কি অনুষ্ঠান শেষে ভাবতে বসলেন, “যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই…”

    রূপঙ্কর সম্ভবত এই প্রশ্নটিই তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, কী এমন সেই গায়কের পরিচয়, যাঁর গানের দাম পঁচিশ লক্ষ (মতান্তরে পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা? বঙ্গ সম্মেলনের মূল অনুষ্ঠানের পর আমাদের অনেকের মনেই এ প্রশ্ন জাগছে – কী এমন শুনলাম, যার মূল্য (পরিবেশনার খরচ ধরে) চার-পাঁচ কোটি টাকা? কলেজ জীবনে কেনা ১০০ টাকার সিডি-তে এই গায়ক ঐ একই গান অনেক শ্রুতিমধুরভাবে উপহার দিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন রূপঙ্কর, আবার আশ্চর্যভাবে উত্তরও তাঁর জানা। হোটেলের লবিতে ঘরের চাবি অকেজো হয়ে যাওয়ায় গুরুজি বসে আছেন, তাঁর সামান্য পারিশ্রমিক না দেওয়া কর্মকর্তারা ফোন তুলছেন না, ওদিকে হিন্দি গানের মূল শিল্পী গান শুরু করেছেন এ্যাকাউন্টে ২-৩ কোটি ঢোকার পর। উত্তর মনে হয় গুরুজিরও জানা। অবাঙালি চ্যানেল মালিকের রিয়েলিটি শোতে অবাঙালি হেঁড়ে গলার গায়িকার কর্কশ চেঁচামেচি, কিংবা ক্ষীণতনু গায়কের বেদনাবিধুর কান্নাকাটিকে দিনের পর দিন সুমধুর সঙ্গীতের মর্যাদা দিতে গিয়ে একটু একটু করে কমিয়েছেন নিজের ভাষায় গাওয়া প্রকৃত সঙ্গীতের দাম। মান্নাবাবুর গান সঠিকভাবে গাওয়া প্রতিযোগীকে চেঁচামেচির অগ্নিপরীক্ষা দিতে হলেও হেঁড়ে গলার গায়িকাকে ‘প্রিয়া ভোলো অভিমান’ গাইতে হয়নি। বাজারি অর্থনীতির মানদণ্ড ভারি নিষ্ঠুর। অবাঙালি চ্যানেল মালিকের তৈরি চিত্রনাট্যের ভিত্তিতে সে গানের মূল্যতালিকা তৈরি করে নিয়েছে। সম্পূর্ণভাবে বাঙালি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত বাঙালি দর্শকের অনুষ্ঠানে বাংলা গানের মূল্য তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এখনো সময় আছে, সতর্ক হোন। নিজেদের গানের দাম নিজেরাই কমানোর খেলায় মেতে উঠবেন না। একদিনের মহীরুহ আজ চারাগাছে পরিণত হয়েছে।



    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • অপার বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৩ | ১৫৭০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • comment | 138.121.203.146 | ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৫:২৩521096
  • এই ঘটনা নিয়ে অনেক লেখাতেই দেখছি হিন্দি গায়কদের মুণ্ডুপাত করা হচ্ছে। বাঙালি শিল্পীদের বাঙালি উদ্যোক্তারা টাকা দেয়নি , বাঙালিদের প্রব্লেম। হিন্দি গায়কের কি দোষ? তেনাদের ডাকা হয়েছে, তেনারা গিয়ে গান গেয়েছেন, টাকা না পেলে গাইতেন না। একেবারেই প্রফেশনাল ব্যাপার। লেখাটা বালের।
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৫:৪৬521097
  • একটা ফান্ডামেন্টাল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে, বাঙালি উদ্যোক্তারা কেন হিন্দি গায়কের সাথে প্রফেশনাল এপ্রোচ বজায় রাখছেন অথচ বাংলার দিকপাল সব শিল্পীদের সম্মন্ধে ভাবছেন যে ওদের খেতে না দিলেও চলবে, স্টেজে অপমান করাই যায়, চারটে নয়া পয়সা ছুঁড়ে দেওয়াই যথেষ্ট। এই ভাবনার বিষয়টাই আলোচিত হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। যদি বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষার শিল্পীই সমান ভাবে সম্মান পেতেন বা সমান হ্যাটা করা হত দুজনকেই তাহলে এই প্রশ্নটা উঠে আসার প্রয়োজন পড়ত না। তখন এই জঘন্য অব্যবস্থা নিয়েই আলোচনা হত শুধু। কিন্তু এখন এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
  • উত্তর তো জানা | 190.90.160.162 | ০৮ জুলাই ২০২৩ ১৬:০৭521098
  • বাঙালি উদ্যোক্তা আর বাঙালি শিল্পীর মধ্যে বেরাদরি থাকবে এই ধরে নেওয়াটা কেন? নর্থ আমেরিকার এনারাই বাঙালি জানে মহারাষ্ট্র বা সাউথের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ একটি ভিখিরি রাজ্য। সেখানে আর কিসুই নেই। তো বাঙালিদের স্বভাব যা, উঁচুতলার লোকের পায়ে তেল দেওয়া, নীচুতলার লোককে হ্যাটা করা, তাই করেছে। এসব হিন্দি-বাংলার ব্যাপার নয়। অজয় চক্রবর্তী পারিশ্রমিক পাননি লিখেছেন, একদম ঠিক করেছেন,  কিন্তু তিনিও অন্যসময়ে সর্বভারতীয় লেভেলে পাত্তা পেতেই বেশি আগ্রহী থাকেন। অমিত শাহকে বাড়িতে নেমন্তন্ন করেন। এ হবেই। টাকা যেদিকে, দুনিয়া সেদিকে। সুদু বাংলায় চাষার ছেলে চাষ করবে জাতীয় আমড়াগাছি চলে।
  • | ০৮ জুলাই ২০২৩ ২৩:৪৮521107
  • আচ্ছা এই টাকা দেওয়াটা আইনমাফিক?  ওয়ার্ক পার্মিট ছাড়া আমেরিকায় 'পারিশ্রমিক' নেওয়া যায়? ভারতেও আইনানুযায়ী বোধয় এটা যায় না।  তো তাহলে শিল্পীরা কেস টেস করতে পারবেন না। তাইজন্যই হয়ত এত সংস্কৃতির ঢাক তেরে কেটে তাক তাক। 
  • | ০৮ জুলাই ২০২৩ ২৩:৫০521108
  • শিল্পীরা তো বোধহয় ট্যুরিস্ট ভিসায় যান তাহলে পার ডিয়েম নিতে পারেন না।
    আমি ভুল জেনে থাকলে ঠিক জানাবেন।
  • r2h | 2601:c6:d200:2600:24c6:745:ec3f:26f2 | ০৯ জুলাই ২০২৩ ০০:১৯521109
  • পারফর্মারদের অন্য কী একটা ভিসা হয়। 
  • যোষিতা | ০৯ জুলাই ২০২৩ ০০:২৬521110
  • নিতে পারেন। পৃথিবীর সব দেশেই অতিথি শিল্পীদের অনুষ্ঠান করা এবং পারিশ্রমিক নেওয়াটা আইনসঙ্গত। তবে পরে সেটাতে আয়কর দিতে হয়। 
  • গৌতম চট্টোপাধ্যায় | 2409:4061:2e42:9e6c:8bf4:177a:3f0f:66ca | ০৯ জুলাই ২০২৩ ০৮:০৫521114
  • দেখতে চাই পরের সময়ে দুনিয়ার কোথাও এই অপমানিত গায়কেরা যাবেন না তো? এই অপমান শিল্পীদের প্রতি নয়  বাংলা গানের প্রতি অবমাননা। সব ক্ষেত্রে গর্জে উঠবেন তো? গুরুজী কোনো হিংবাং ধামাপানিসা শো-এ অলঙ্কৃত করবেন না তো?
  • | ০৯ জুলাই ২০২৩ ০৯:১৪521117
  • আচ্ছা ধন্যবাদ হুতো যোষিতা 
  • ষষ্ঠ পাণ্ডব | 103.98.204.123 | ০৯ জুলাই ২০২৩ ১৭:৫০521125
  • যোষিতা ঃ এমন অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত আয়ের আয়কর তাঁরা কোন দেশে পরিশোধ করেন, ভারতে নাকি আমেরিকাতে? যত দূর জানি, আমেরিকাতে পরিশোধ করতে হলে আয়টি যে সে দেশের আইন মেনে হয়েছে (মানে পি-১ ভিসার আওতায়) কিনা সেটি দেখাতে হবে, ইনভয়েসও দেখাতে হবে। এমন আয়োজনে সেগুলো হয় কিনা জানি না। আর ভারতে আয়কর পরিশোধ করতে গেলেও আমেরিকাতে কী কর্ম করে আয় করা হয়েছে তার প্রমাণ দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থাকার কথা।
  • যোষিতা | ১০ জুলাই ২০২৩ ২৩:০৬521145
  • অত ডিটেইল জানি না। তবে টাকাটা ব্যাঙ্কে জমা পড়লে আয়ের উৎস তো দেখাতেই হবে, নয় কি?
    আয়ের অঙ্ক তো নেহাৎ কম নয়।
    আরেকটা কথা, আয়ের কথা নয়।
    ইদানীং একজন ভুক্তভোগী শিল্পীর ভিডিও দেখছিলাম। ওঁদের খাবার দেওয়া হয় নি, পানীয় দেওয়া হয় নি, ইত্যাদি নিয়ে বলছিলেন। মানে বিখ্যাত সব শিল্পীরা প্রত্যেকেই এরকম অব্যবস্থার শিকার হয়েছিলেন। 
    অভুক্ত অবস্থায় সব প্রোগ্রাম করতে গেছেন। 
    নিজেদের পকেট থেকে অল্প কিছু খরচ করে সময়মত খেয়ে নিতে পারেন নি কেন? মানে আমি এই অব্যবস্থা কে ডিফেন্ড করছি না, কিন্তু এঁদের কেমন যেন ফ্রিতে সেবা পেয়ে পেয়ে এমন হাল হয়েছে যে একটা পয়সা পকেট থেকে বের করতে পারেন না।
    ঐ পণ্ডিত অনিন্দ্য চ্যাটার্জি সত্তরের দশকে সুইটজারল্যান্ডে প্রোগ্রাম করতে আসতেন ভাল অর্থ রোজগারের জন্য। হোটেল দেওয়া হতো না। কারো বাড়িতে থাকবার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো। 
    এদেশে প্রায় সকল বাঙালিরই ভাড়া ফ্ল্যাট। কম ঘর, জায়গা কম। পণ্ডিত অনিন্দ্য চ্যাটার্জি জুরিখের থেকে কিছু দূরে থালভিল নাম ছোট্ট টাউনে এক বাঙালির বাড়িতে থাকতেন। সেবাড়িতে ড্রইংরুমের মেঝেতে ওঁকে বিছানা করে দেওয়া হতো। ওবাড়িতেই দিব্যি ঝোলভাত খেতেন।
    আরও একটা খবর ষাটের দশকে পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও ওস্তাদ আল্লারাখা ও হোটেলে নয়, কারো কারো বাড়িতে অতিথি হতেন। পন্ডিত নিখিল ব্যানার্জিও বেড়াতে আসতেন। দাগমার দাশগুপ্তর বাড়িতে থাকতেন তিনি। এরা কেও ধনী হোস্ট নন। ভাড়া অ্যাপার্টমেন্টে ছোট্ট ঘরে কোনওমতে কুলিয়ে নিয়ে থাকা খাবার ব্যবস্থা করা হতো।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন