ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মুজিব

    আফতাব হোসেন লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ জানুয়ারি ২০২২ | ১৫১ বার পঠিত
  • (১)

    শেষ বারের মত নিজের বাকাঁন বিষদাঁতটা পনেরো বছরের শরীরে জোর করে ঠেলার পরও যখন সাড় পেল না তখন চেৎরে যাওয়া, সুখ না হতে পারা জন্মগর্ত টাকে সালি বাঁচোদ বলে গালি দিয়ে একগাদা থুতু ফেলে শরীরটাকে ভাসালো মহানন্দায়। নিজের আক্রোশেই শালী রেন্ডি বলে পাশের দেশটাকে একগাদা গালি দিয়ে বাকি বোতলটায় মন লাগালো মুজিব। ওপারের সীমান্ত গ্রামের ডাকসাইটে পাচারকারী। পুরো নাম মুজিব দেওয়ান মুন্নি। শেষের দুটো ওর আব্বা আর মায়ের নাম। ও জুড়েই বলে সবসময়। পুরো বোতল শেষ করার পর বুঝলো আজকেও হল না প্রতিশোধটা। আজকেও হল না। শালী হাফ মরাই ছিল। কড়া বোতলে ডুবে যাবার আগে মা এর মুখটা ভেসে উঠেই হারিয়ে যেতে ধড়পড় করে উঠে বসে দেখলো ভেসে যাওয়া লাশের মুখটা ওর মায়ের মতই দেখতে খানিকটা। ভাঙা গলায় চিৎকার করতে গিয়ে হড়হড় করে বমি বেরোলো একগাদা। তারপর একটা গুলির আওয়াজ। মুজিবের বুকে এফোঁড় ওফোঁড়  হয়ে যাবার পর আবার সব শান্ত। শুধু নদীর জল বওয়ার আওয়াজ এলো। একটানা।

    (২)

    জুলাই মাস থেকে এদিকের পাটের কাজ শেষ করে নতুন ধান রোয়ার সময় চলে আসে। মেলা কাজ। পাথরের মত চকচকে মরদগুলা সারাদিন মাঠে পড়ে থাকে অন্যবছর এ সময়। এ বছরটা বদ। বাতাসে বড্ড বারুদ। লোকে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। নতুন দেশ হয়েছে জানে সব্বাই। তার চাপা টেনশন সবার। অনেক লোক ফিরে যাচ্ছে। অনেকে আবার এদেশের হয়েও ওদেশে যাচ্ছে পাকাপাকি। থেকেও যাচ্ছে অনেকে। সব্বাই শুনেছে কাঁটাতার দিয়ে নাকি আলাদা করবে জমি, ঘর দুয়ার, তার আভাস জলপাই রঙের পোশাক গুলো দিয়েছে। ওপারের লোকগুলো যারা এতদিন এপারে, এগায়েঁ এক হয়ে ছিল, তাদের মুখেও উত্তেজনা। 'দ্যাশ' ডাকলেই ওরা নাকি ফিরে যাবে। নিজেদের দেশে। ঘরের জোয়ান গুলো সব্বাই চাপা উৎকণ্ঠায়। কোন বারুদে কার ঘর কখন পুড়ে, কার হাতের সবুজ চুড়ি কখন ঝরে, তার ভয়ে বউ মেয়েরাও খুব আনমনা সব সময়।

    বাদ শুধু ফুলি। বাপ মায়ে নাম দিয়েছিল ফুলবানু খাতুন। সাত নম্বরটাকে জন্ম দিতে গিয়ে যেবার ফুলবাণুর মা টা মরলো, তখন ফুলবানু চোদ্দ সবে। এক বছরের মাঝেই নতুন মা এর গালি আর ফুরকান এর আদর এলো জীবনে। তখন থেকেই  ফুলবানু শুধুই ফুলি। ফুরকানের ফুলি। নতুন মায়ের ফুলি। যেদিন মোহর বাঁধতে এলো ফুরকানের ঘরের লোকেরা,সেদিন জীবনে প্রথমবার লাল ভাত খেয়েছিল ফুলি। ফুরকান আড়ালে বলেছিল তুই আমি দুজনেই ফু দিয়ে শুরু .. একদিন ফুরুত করে উড়বো তোকে নিয়ে … কি লজ্জা আর কি লজ্জাই পেয়েছিল ফুলি সেদিন। কাটা মুরগির মত থরথর করে কেঁপে উঠে ভয়সুখে থম মেরে ছিল।  রাতে ঘুমানোর সময় প্রথমবারের জন্য মায়ের বদলে ফুরকানের মুখটা মনে পড়লো ফুলির। রাতে স্বপ্ন এলো ফুলি আর ফুরকান একসাথে উড়ছে, উড়েই চলছে, স্বপ্নের দেশে। মেঘ ডিঙিয়ে। যে মেঘে বাজ পড়ে না।

    (৩)

    - " ফ্রেস মাল চাই, না  হলে রেকর্ড রইলো তোর।  বর্ডার পুলিশ জানলে  আট দশ বছর এমনিই যাবি। জেলে। সালা জেলে গোস্ত দেয়না জানিস তো "…
    মুখ ঢাকা পুলিশ টা মাথা নামিয়ে বললো।  
    ইশারায় পাশের লোকটাকে ধমকালো - ' কিরে বোঝা এটাকে'।
    থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে আমীর আলী বুঝলো জেল জায়গাটা ভালো না। দোষ ছিল কিনা নিজেই জানে না। কাশেম চাচা সাহস দিয়েছিল। একটা ওধারে পের করতে পারলেই একরাতে হাজার দুব। হাতে হাতে। আমি বুড়া হয়েছি। একা মানুষ। পারব নাই। তুই শিখে নে। এসব কথা খুব কাছের ছাড়া বলতে নাই। তুই আমার ব্যবসা দেখ। জামাই হয়ে থাক। 
    আমীর এর বয়স কাঁচা। পারলো কই। হাজারবার হাজার চেষ্টা করে মন ঘুরিয়েও বুঝলো হবার নয়। পাপ কাজে মন সায় দেয় না। তাই এক আধ বারের পর কাশেম চাচা কে  ' না ' বলতে গিয়ে টের পেল ভালো হয়নি মনে হয় কাজটা। কাশেম চাচার পাওয়ার ভালো। সব দলের সঙ্গেই উঠবোস। দাঁত চেপে শুধু বলেছিল - ' এসব এ ঢোকা র রাস্তা আছে ছোঁড়া, বেরোনোর নেই '।
    দু দিন পর কাশেম চাচার  ' পাওয়ার ' টের পেল থানার লক আপে বসে।    জুম্মার নামাজের থেকে পুলিশ  কখন তুললো,কেন তুললো ভালো করে বোঝার আগেই বুঝলো কাশেম চাচা শত্রু হল বোধহয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে লকাপে হাজার মিনতিতেও যখন কেউ শুনলো না। তখন পাশে বসা লোকটা আগ বাড়িয়েই অফারটা দিল।
    বললো শোন। সব সেটিং আছে। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত্য, সওওব ...
    বুঝতে না পেরে যখন ফ্যালফ্যালিয়ে আমীর, তখন পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললো লোকটা।
    বললো শোন, সব সেটিং আমার। তোদের জাতে বর্ডার গ্রামে কাম পুছে না।   শুধু মোহর বাঁধলেই মেয়ে পাবি। কাম জিজ্ঞাসা করলে বলিস রাজমিস্ত্রি। নয় কাঠমিস্ত্রি। তারপর মোহর বেঁধে নিয়ে আয়। ফুর্তি কর। তারপর একদিন দিয়ে দে। আমরা  কাঁটাতার ডিঙিয়ে নদী   পের করে উদিকে পাঠাই।  ওকে বলে দিস তোর খালা বাড়ি  উদেশে।  উ দ্যাশ টা নতুন এখন। কেউ অবিশ্বাস করবে না। ব্যাস ...  বাকি আমাদের সেটিং। নগদ চার হাজার পাবি। সাথে সুহাগ রাত ফ্রি। 
    খ্যাক খ্যাক করে হাসলো লোকটা। 
    সারা রাত ভেবে দ্বিতীয়বার আর না করার সাহস করলো না আমীর। জেল থেকে ছাড়া পাবার আর কোন উপায় না দেখে লোকটার সঙ্গে হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলালো।
    সব ব্যবস্থা লোকটাই করলো। ফুলিকেও লোকটাই জোগাড় করলো। শুধু লোকটা বলেছিল এ কাজে অরিজিনাল নাম রাখতে নাই।
    আজ থেকে তোর নাম ফুরকান।

    (৪)

    মুজিবের তখন খুব বেশি বুদ্ধি নাই ঘটে। পাকিস্তানের দৈত্য গুলো যখন মুক্তিযোদ্ধাদের কচুকাটা করছে তখনও বোঝার বয়স হয়নি পুরোটা। বোঝার বয়স হয়নি কেন রাস্তায় রাস্তায় এত রক্ত। কেন ওর বাবা দেওয়ান হুসেন আর মা মুন্নি বিবি তাদের এত্ত বড় উঠোন ছেড়ে অন্যদেশে পালাচ্ছে। এ দেশটা অবশ্য খারাপ লাগেনি মুজিবের। ফারাক ও খুঁজে পায়নি অবশ্য খুব একটা। বারো বছরের প্রাণ তখন নিজের উঠোন, উঠোনের পেয়ারাগাছটার মায়া, নিজের দেশ ছেড়ে মহানন্দার মাছের পেছনে বেশি সময় কাটাচ্ছিল। বেশ কাটছিল। কি হল কেউ জানে না। মুক্তিযোদ্ধা দের দল এসেছিল জলপাইগুড়ি আর শিলিগুড়ি লাগোয়া পাঙ্গার চর থেকে অস্ত্র কিনতে। সাথে ছিল মুজিবের বাবার পরিচিত চাচার ছোট ভাই। মুজিবের বাপ কে বললো চল ফিরে চল। লড়তে চল। আল্লা রক্ত চায়। তবে তো আসবে নতুন 'দ্যাশ'। মুজিবের আব্বা সেই যে গেল আর ফিরলো না। তবে নতুন 'দ্যাশ' ফিরলো। এদিকের সরকার কাগজে ছাপ দিল,তারপর ফেরত পাঠালো উদিকে। মুজিব আর ওর মা খুব কাঁদল আসার আগে। বারবার এ দেশের পুলিশদের বুঝিয়েও যখন থাকতে পেল না তখন বাধ্য হয়েই এলো নতুন দ্যাশে। যে 'দ্যাশের' জন্য মুজিবের বাপ সব ছেড়েছিল, ছোট মুজিব এসেছিল যে উঠোন ছেড়ে সে উঠোন তখন দখল। সব হারান মুজিবের মা  পেটের টানে লজ্জা ছাড়লো। মেয়ে মানুষের দাম তখনও অনেক। দুটো পেটের জন্য তো বটেই। মুজিবের দু কুলই গেল। ঘর ছাড়ার আগের পেয়ারাতলার উঠোন তখন স্মৃতিতে নাই। আর স্মৃতিতে থাকা মহানন্দায় মাছে তখন অধিকার নাই।
    সতেরো বছরে যখন মুন্নি বিবির উলঙ্গ আসল রূপ জানলো মাঝরাতের পেচ্ছাপের তাড়ায়, তখন মা কে নিজে হাতে মহানন্দায় ভাসিয়ে মুজিব হল মুজিব দেওয়ান মুন্নি। তখন থেকেই ও দেশের ওপর রাগ। তখন থেকেই ওদেশে থাকতে না দেওয়ার কারনে যতগুলো বিষদাঁত মায়ের শরীরে গেছে, সেভাবেই ওদেশের মেয়ে পেলেই আগে নিজের বিষদাঁত দিয়ে ওপারের মেয়েগুলোকে  ছিবড়ে করে  প্রতিশোধ নেয়। তারপর ডুবে যায়। ডুবে যায় কড়া বোতলে। স্বপ্ন দেখে সেই বড় উঠোনের পেয়ারাগাছটার। মহানন্দার মাছ গুলোর ছটফটানি মনে পড়লে নিজের ছোটবেলা মনে পড়ে। মায়ের আধসিদ্ধ ভাত আর শীতের দুপুরের গল্প মনে পড়ে। মনে পড়ে 'আমাগো একখান দ্যাশের' কথা। নেশা বাড়লে মনে পড়ে উটকো মাতালটার মুন্নি বিবিকে ঘাঁটার কথা। কাপড় ধোয়া পাথরটায় থেতলে যাওয়া মায়ের মুখটা মনে পড়লেই নেশা কেটে যায় মুজিব এর। চিৎকার করে ওঠে শূন্য আকাশে।
    -' লড়কি চাই আমার ওদেশের, আমাকে পেটে ধরাটাকে যারা তাড়িয়ে বেশ্যা বানালো, উদের সব ম্যায়াদের আমি বে-বুশ্যে বানাবোই ..

    (৫)

    লোকটা বলেছিল আমীরকে
    - 'বেশি কথা বলিসনা। তুই এখন ফুরকান'।
    আমীরের অবশ্য ফুলিকে দেখে খারাপ লাগেনি। শরবত দেবার সময় নরম হাত হাতে লাগার সময় একগোছা সংসারের স্বপ্ন এলেও 'ফুরকান' নামটা শুনেই ঘোর কাটলো। বুঝলো এটা কাম তার। এ কামে স্বপ্ন দেখা বারণ। তার পর থেকে আর ফুলির দিকে তাকানোর সাহস করেনি। বাধাও দেয়নি কোনকিছুই। জেলে এই কদিনে আমীর বুঝে গেছে 'পাওয়ার' সব জায়গায় মানুষকে বড্ড অসহায় করে। দম না থাকলে নামে 'আমীর' হয়ে কিছু লাভ নেই। তাই 'আমীর' কে মেরে ফুরকান এখন নতুন মানুষ। যন্ত্রের মত মোহর, নিকা সব শেষ হবার পরের সকালেই লোকটা র বলা ঘরটায় নতুন বিবিকে নিয়ে চলে আসে ফুরকান।
    ক্লান্ত, লজ্জা, ভয়ে কুঁকড়ে ঘুমিয়ে থাকা ফুলির দিকে তাকিয়ে বড্ড 'আমীর' হতে ইচ্ছে করলেও ইচ্ছে গুলোকে গলা টিপে শুয়ে পড়ে ফুরকান। মনে মনে ভাবে আর মাত্র তিনদিন। তারপরেই…

    (৬)

    এমন হাঁ করে ঘুমাতে কাউকে দেখেনি কখনো ফুলি, লোকটা বড্ড অনমনা সবসময়, শুধু খায় আর ঘুমায়। শরীর লাগিয়ে যখন লোকটার মুখের সামনে নিজের মুখ আনে ফুলি লোকটাকে আরো ভালো করে দেখার জন্য লোকটা তখন কিসের দ্বিধায় মুখ, শরীর সব সরিয়ে নেয় বুঝে না ফুলি। তবে লোকটা যে ভেতর থেকে বড্ড অস্থির সেটা  বড্ড বুঝতে পারে। শুধু অনমনা হয়ে মাঝরাতে শরীর যখন আর সাথ দেয়না তখন ফুলির বুকে মাথা লুকিয়ে বারবার এক কথায় আগড়ে ওঠে ..
    - 'খালা বাড়িতে একটু মানিয়ে নিস ফুলি'...

    নিজের লোকটার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ভাবনাগুলো শুষে নেবার সময়ও ফুলি বুঝতে পারে লোকটা অন্য দিকে তাকিয়ে। ফুলি বোঝে লোকটার শরম বেশি। বুকের ওমে ঘুমিয়ে পড়ে আলতো সুরে ফুলি। সেই মেঘে ভেসে বেড়ানোর স্বপ্নটা আবার আসে যদি।

    (৭)
                                  
    - 'কি বে। নরম নরম মালে ডুবলি নাকি' ?

    লোকটা ফিসফিসিয়ে চিবিয়ে বলে ফুরকানকে।
    আজ ফুরকান এর ফুলি খালা বাড়ি যাবে। ওপারে। লোকটা পই পই করে সব বুঝিয়েছে। ফুলিকে মহানন্দার পারে নিয়ে আসার আগে সব বুঝিয়েছে ফুরকান। বুঝিয়েছে ওপারে খালা বাড়ি। বুঝিয়েছে ওদেশে মুসলমানদের কাম কাজের অভাব নাই। বুঝিয়েছে কদিন পরে ফুরকানও যাবে। বুঝিয়েছে কম খরচে এভাবেই  লুকিয়ে যেতে হয়।
    মাঝরাতের কাঠের ভেলায় মহানন্দার উত্তাল জলে হাত ছাড়ার আগে ফুলি দেখেছিল প্রথমবার ফুরকান এর চোখগুলো। চোখের কোনে চিকচিক করা কষ্ঠের দিকে তাকিয়ে দুঃখের মধ্যেও বুকের মধ্যে একটা লজ্জার ওম পেল ফুলি। প্রথম বার লজ্জায় ফুলির চোখ সরল ফুরকানের চোখ থেকে। চোখ নামিয়ে বললো
    - 'কয়টা তো দিন মাত্র। তাড়াতাড়ি এসো'।
    কথাগুলো ভাসতে ভাসতেই ডিঙ্গিটা মহানন্দার উত্তাল জলে হারালো। ডিঙ্গির লোকগুলো এসব ব্যাপারে এক্সপার্ট। ফুলিকে পাউডার গুঁড়া মেশানো পানি দিতেই পনেরোর শরীরটা বেহুশ। ডিঙ্গির চারজন মহানন্দার ঠান্ডা জলের কামড় থেকে বাঁচতে প্রায় অচেতন্য ফুলির শরীরে নিজেদের সেঁকলো। তারপর নিপুণ দক্ষতায় ফুলিকে সাজিয়ে গুছিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া শরীরটাকে নিয়ে নামলো ওপারে।
    ওপারে সব একদম রুটিংয়ে। ওখান থেকে মাল নিয়ে যাবার দায়িত্ব মুজিবের। মুজিব নিখুঁত ভাবে সব সামলায় এসব। কত মাল আসে। প্রায় সব রাজ্যের মাল নিখুঁত ভাবে ডেরায় পৌঁছে দেয়। মাল অনুপাতে ডেলিভারিতে পয়সা। শুধু বাঙালি জানতে পারলেই মুজিব এর রক্তে নেশা চেপে যায়। বদলার নেশা।  আজও নিচ্ছিল। নিতে গিয়ে বুঝলো সালা ডিঙ্গির হারামিগুলো বেশি পাউডার মিশিয়ে এমনিতেই মেয়েটাকে আধমরা করে দিয়েছে। আর বাকিটা এত বার চিঁড়েছে তাতে মেয়েটার পাঁচ ভাগ ও বেঁচে নেই। ফুল বোতল টানার পর বাকি পাঁচ ভাগ জীবনটাকে নিপুণ ভাবে শেষ করলো মুজিব। তারপর বুঝলো আজকের ডেলিভারিটা লস। প্রতিশোধটাও। শালী ঠান্ডা মাল। লাশটা জলে ভাসিয়ে দেবার পরেই চিৎকার করে বমি করার পরেই গুলিটা লাগলো বুকে। মুজিব বুঝলো একটা গরম রস বেরোলো বুক চিরে। চোখগুলো ঠেলে বেরিয়ে শ্বাস বন্ধ হবার ঠিক আগেই দেখলো মেয়েটার ভেসে যাওয়া লাশটার মুখটা ঠিক মুন্নি বিবির মত। ব্যাস। ওটাই মুজিবের শেষ দেখা।
    প্রথম দেখাও ওটাই ছিল।

    (৮)

    ডিঙ্গির লোকগুলোকে ভালো লাগেনি আমীরের। ফুলির শেষ কথাগুলো বাড়ি ফেরার সময় পর্যন্ত্য ভাসছিল। কুটুরি তে নগদ চার হাজার টাকা নিয়ে ফিরে দেখলো ফুলি গুছিয়ে গেছে বিছানা, পাশে পরিপাটি করে সাজান রাতের খাবার।
    বিছানায় ঘুমিয়ে ফুলির গন্ধ পেল অনেকটা। বৃষ্টি নামলে আমীর বুঝলো কিছু একটা ভুল হয়েছে মনে হয়। খুব ভুল।তীব্র বেগে ঘরছেড়ে ছুটলো সদ্য কাঁটাতারের পাশেই বর্ডার ফোর্সের ক্যাম্পে। হড়হড় করে খুলে বলে অনুনয় করলো যদি ফেরানো যায় ফুলিকে। বর্ডার কমান্ডার কি বুঝলেন কে জানে। মেশিননৌকা সমেত আমিরকে নিয়ে ওপারে যাবার মাঝ নদীতে ফুলির লাশ পেল ওরা। ওদিকে র বর্ডার পুলিশকে ওয়াকি টকিতে কিছু বলার অল্প ক্ষনের মধ্যেই একটা গুলির আওয়াজ শুনলো সব্বাই। গুলি দোষ ঢাকলো মনে হয় সবার। সবার। শুধু আমীর জল পেয়ে ফুলে ওঠা লাশটা নিয়ে চুপ থাকলো। একদম চুপ।
    যত ক্ষণ না সবাই এপারে আসে।
    বর্ডারের লোকেরাই করলো সব কিছু। মাটি খুঁড়ে কবর দেওয়ার লোকটাকে পকেটের চার হাজারের পুরোটাই দিল আমীর।
    সব কাজ শেষের পর যাবার আগে  বড়বাবু বললেন আমীরকে সব ভুলে যেতে।
    শুধু যাবার আগে জিজ্ঞাসা করলেন - 'তা নামটাই তো জানা হল না  হে তোমার...'

    (৯)

    আমীরের, চোখগুলো জ্বলছিল ....প্রতিশোধের আগুনে হয়ত ...
    ফুরকানের, বুকের ধুকপুকানি একদম শান্ত .....ঝড় ওঠার আগের মত হয়ত...
    ফুলির বরের, শিরায় শিরায় রক্ত একদম শীতল .... মানুষ শরীর টা জন্তুতে পুরপুরি পাল্টে যাবার মুহুরত হয়ত ...
    হাতদুটো মুঠো করে শান্ত চোখে বড়বাবু র চোখে চোখ রেখে বললো ...
    - 'আমার নাম মুজিব' ....

    ********** সমাপ্ত ********

    #কাল্পনিক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন