• খেরোর খাতা

  • বাস্তু দোষ

    আফতাব হোসেন লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ৭৬ বার পঠিত
  • ঝামেলাটা আজকেই হল । বলে কিনা উত্তর দিকের দেওয়াল বরাবর কিছু রাখতে নেই ।
     
    বাস্তু দোষ হয় ...
     
    জীবনে কিচ্ছু লুকোতে পারিনি । না নিজেকে না নিজের কপালকে । বিয়ের ঠিক আগের দিনই বউকে লুকোতে গিয়েছিলাম নিজের ভাগ্য । পারিনি । শশুরবাড়িতে অম্বল লুকোতে গিয়েও একই অবস্থা । চাকরি জীবনের শুরুতে নিজের আঁতলামি আর বাবা হবার আগে ডাক্তারের কাছে নিজের জ্ঞান , সওওব লুকোতে গিয়েও বারবার ধরা পড়ে গেছি । ঘনিষ্ট লোকজনেরা বলে আমার ফাটা কপাল , তাই সব দেখা যায় । তা বেশ । সত্য স্বীকারে আমার অসুবিধা নেই ।
     
    সংসার যখন নিজের হল তখন থেকেই চেষ্টা করি নিজের ফাটা কপালের দোষগুলো প্রানপনে বাইরে রেখে ঘরে আসার সময় কপাল সেলাই করে আসার । যেমন ধরুন ঠিক যে সময় ফ্লিপ কার্টে দিনের বেলায় সেল শুরু হয় সেদিনই আমার বাইরের সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট কাজ মনে পড়ে । আবার রাতে যখন সহধর্মিনীর কোন অভাব অভিযোগের কথা শোনাতে ইচ্ছে হয় ঠিক তখনই সারাদিনের খাটুনির অজুহাতে এত তীব্র মাথা ব্যাথা হয় যে ওনার অভিযোগের থেকেও আমার ব্যথার চোটে কাহিল হয়ে যাওয়ায় উনি নিজেকেই অপরাধী ভেবে বসেন । এছাড়াও টুকটাক ব্যাপারে ইম্পর্টেন্ট ফোন তো আছেই । আমার মনে হয় নব্বই শতাংশ মধ্যবিত্ত পুরুষ মানুষ এভাবেই জীবন চালান । একেই মনে হয় সংসার বলে ।বেশ চলছিল । কেটে যাচ্ছিল বেশ । 
     
    লকডাউন এসেই সমস্যা শুরু হল । আস্তে আস্তে মনে হল ফেটে যাওয়া কপালটা আরো একটু একটু করে চওড়া হচ্ছে । এখন আর বাইরে যাবার তাড়া নেই । তাই লুকানোর কিছুই নেই । এখন সারাদিনের ক্লান্তি নেই ,তাই মাথাব্যথায় কাহিল হয়ে যাওয়াও নেই । চাকরিক্ষেত্র বন্ধ ,তাই ইম্পর্টেন্ট কল আসছে বলতে দ্বিধা লাগে মনে । সর্বপরি বাইরের খাবারও বন্ধ তাই অম্বলও হতভাগা সাথ ছেড়েছে । সমস্যা অন্য জায়গায় ।
     
    প্রায় প্রতিদিন অল্প অল্প করে ক্ষয়ে যাচ্ছি জানেন । শরীরে নয় । মনের দিকে । ঘটা করে ব্রাইট ফিউচারের আশায় ছেলে ইনজিরি মিডিয়ামে । সাধ্যের বাইরে তবে সাধের নয় । এখন শুনেছি বাংলা মিডিয়াম নাকি ন্যাস্টি । লকডাউন বেশ চলে ছেলের অনলাইন ক্লাস । এখন আবার গার্জেন রা মিলে হোয়াটস এপ গ্রূপে এড করেছে । ছেলের মা হাত তুলে স্বীকার করেছে ওসব গ্রূপে উনি নেই । ওই সব টেকনিক্যাল উনি বোঝেন না । অগত্যা আমার নম্বরই এড হয়েছে গ্রূপে । সমস্যা শুরু । যদিও এখনও পর্যন্ত্য খুলে দেখিনি গ্রূপে আছে টা কি । শুধু টুক টাক মেসেজের আওয়াজ আসতে বিরক্ত হয়ে মিউট করে রেখেছিলাম  । ছেলের মা ই দায়িত্ব নিয়ে রোজ রাতে সব চেক করে মন দিয়ে । 
     
    সকালে বউকে বাজারে পাঠিয়ে বাপ ব্যাটা মিলে ঘর পরিষ্কার করছিলাম । সব জিনিসপত্র ,আসবাব যা ছিল সব ঝাড়পুছ করে তকতকে ঝকঝকে করে নতুন ভাবে পজিশন করে বাপ,ব্যাটা মিলে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম ওর মাকে সারপ্রাইস দেব । একটা অদ্যিকালের পুরোনো সোফা কে বিছানার চাদর দিয়ে পরিপাটি করে ঠিক টিভির সোজাসজি করে রেখেছিলাম । ড্রেসিং টেবিল টা উত্তর দিকে বিছানার পাশেই রাখলাম । গত বছর কাঁচটা ভেঙেছিল । কিনবো কিনবো করেও কিনে উঠতে পারিনি নতুন । বাধ্য হয়ে বউ একটা আয়না নিয়ে এসেছিল তাও সাইজ ছোট  । ফাঁকা জায়গাটা কালারফুল রবিবাসরীয় দিয়ে সুন্দর ভাবে মেকাপ করে দিলাম ।  ছেলেকে ছোট বেলার স্নান করানোর টুলটা উল্টে কাপড় বিছিয়ে ওর ওপর জলের বোতল গুলো রাখলাম ।ক্ষয়ে যাওয়া আলনার পায়াটা ডিস্টার্ব দিচ্ছিল খুব । দেওয়ালের সঙ্গে সেট করে পুরো একটা ওয়ান বি এইচ কে মার্কা লুক দিয়ে বিজ্ঞ নজরে অপেক্ষায় ছিলাম উনি এসে কি বলেন  । কিন্তু বললাম না কপাল ফাটা । উনি এসেই হাউমাউ । নাম তো দূরে থাক । ছেলেকে একচোট নিল । বুঝলাম আমারটা পছন্দ হয়নি একবারে । আমারও পছন্দ হয়নি । হল ও খুব । দু ঘন্টা প্রায় । 
     
    রাগ হচ্ছিল বুঝলেন । সার্থক প্রেমিক কোন দিনই ছিলাম না । ব্যর্থ স্বামীও হলাম মনে হয় । রাগের চোটে জিজ্ঞাসা করতে বললো উত্তর দিকের দেওয়াল নাকি ফাঁকা রাখতে হয় । বাস্তু । আমিও নাছোড় । চললো অনেক ক্ষণ । আরো চলতো । মাঝে হাত থেকে পড়ে ফোনটা ভাঙলো । ভয়ে না লজ্জায় না আফশোষ এ কে জানে চুপ হয়ে গেলাম দুজনেই ।
     
    সালা তিন হাজার গেল । ফোন সারিয়ে নিয়ে এসে সব রিস্টোর করছি এক এক । ছেলের স্কুলের হোয়াটস এপ গ্রূপ সব্বার আগে রিস্টোর হল । ২৩৫ মেগাবাইট । জীবনে দেখিনি । আজ দেখলাম । পড়াশোনা সংক্রান্ত মাত্র ছয় কি সাতটা মেসেজ । 
     
    বাকি...
     
    বাকি গার্জেন দের এগারো টা সেনকো গোল্ড এর নতুন সোনার হারের ।
     
    প্রায় নটা নীলকমল এর লেটেস্ট মডেল এর ডাইনিং টেবিলের ।
     
    তিনটে কিং সাইজ ড্রয়ার দেওয়া বেড ।
     
    আঠারো খানা মালদ্বীপ ট্রিপের ছবি ।
     
    ডবল ডোর ফ্রিজের চারটা ।
     
    ফ্রন্ট লোডেড ফুললি অটোমেটিক ওয়াশিং মেশিন দুটো ।
     
    মাত্র দুটো থ্রি বি এইচ কে এর গৃহপ্রবেশ ।
     
    আর দেখতে পারিনি । এখন বুঝছি উত্তর দিকের দেওয়াল টা খালি রাখা খুব দরকার । অনলাইন ক্লাসে খালি দেওয়াল ই দেখায় শুধু । খালি কপাল না ।
     
    বললাম না । কপাল ফাটা । লুকোতে পারি না । বউ মনে হয় প্রথম বুঝেছিল ।
     
    এখন আমিও বাস্তু মানি ।

     

  • আরও পড়ুন
    গল্প - latifur rahman
  • ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ৭৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন