ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  সিনেমা

  • মন্দার -- ম্যাকবেথ তুইই রাজা

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    আলোচনা | সিনেমা | ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৩২৪৭ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (১১ জন)
  • হইচই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মন্দার নিয়ে এখন আলোচনা চতুর্দিকে। গুরুচণ্ডা৯র বাংলা বিষয়বস্তু নিয়েই কারবার। বাংলা ওটিটিকে গুরুচণ্ডা৯ খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। সে কারণেই প্রকাশিত হল 'মন্দার' এর একটি সমালোচনা।

    প্রথমেই বলে রাখা ভাল, ম্যাকবেথ আমার কস্মিনকালেও ভালো লাগেনি। তার মূল কারণ হল, সাইকোলজিকাল থ্রিলার, যেখানে জীবন এবং মৃত্যু নিয়ে লোফালুফি খেলা হয়েছে, অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং অ্যাকশান, শৌর্য এবং শঠতা যেখানে পাশাপাশি থাকে, তা, আমাদের সময়ের লেখালিখি এবং সিনেমার অন্যতম অভিজ্ঞান। এ নিয়ে বিস্তর কলাসৃষ্টি হয়ে গেছে। নানারকম কোল্ড-ওয়ার মুভি থেকে শুরু করে একদম হাল আমলের কম-বাজেটের ছবি সার্কল অবধি, ভাল-খারাপ যেমনই হোক, সবেতেই এসবের ছড়াছড়ি। বাস্তবতায়ও এসবের কমতি নেই। কিম ফিলবি, বা এলি কোহেন, বাস্তব চরিত্র, তাঁদের ওঠানামা চলার পথ, সব কিছু নিয়েই সিনেমা বা সিরিজ হয়েছে। তা এত নাটকীয়, এতই জটিল, যে, জায়গায় জায়গায় অলীক মনে হয়। কিন্তু বিংশ শতক এরকমই পরাবাস্তবতার কারখানা, তার হিংসা, অন্তর্দ্ন্দ্ব, স্বার্থের সংঘাত, ক্রোধ-ঘৃণা-প্রেম-যৌনতা-ছলনা-রিরংসার যে নক্সীকাঁথা, তার পাশে কয়েক শতক আগের ম্যাকবেথকে ম্যাড়ম্যাড়েই লাগে। এতে শেক্সপিয়ারের কোনো দোষ বা গুণ নেই। তিনি যে নাটক লিখেছিলেন, তা সময়ের চেয়ে নিঃসন্দেহে অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু সমস্যা হল, জল গড়িয়ে গেছে বিস্তর। সময় যে চেহারা নিয়েছে, তা শেক্সপিয়ারের পক্ষে ছোঁওয়া সম্ভব ছিলনা। 



    তার পরেও ম্যাকবেথের নানা চিত্রায়ণ আমি দেখেছি। তারও মূল কারণ একটাই। অ্যাডাপ্টেশন বা অবলম্বনে তৈরি শিল্পকীর্তি তো একজন শিল্পী এই জন্য বানান না, যে, ভাই, আগের ম্যাকবেথগুলো তেমন ভালো হয়নি, এবার একটু ভালো করে বানানো যাক। তাঁর কারণটা থাকে অন্য। তিনি কোনো একটা বা একাধিক বিশেষ জিনিস হঠাৎ আবিষ্কার করেন মান্ধাতার আমলের ওই নাটকে, যা, ইতিপূর্বে কেউ দেখতে পাননি। একজন দর্শক হিসেবে আমার আকর্ষণের জায়গাও ওইটাই। কী এমন জিনিস আবিষ্কার হয়ে গেল, যে, নতুন করে আবার বানাতে হচ্ছে, ওই মান্ধাতার আমলের নাটককে? কুরোসাওয়া ম্যাকবেথ অবলম্বনে বহুকাল আগে বানিয়েছিলেন 'রক্তসিংহাসন'। তিনি আবিষ্কার করেছিলেন, যে, স্কটল্যান্ডের এক পুরোনো আখ্যানকে সম্পূর্ণ জাপানি আখ্যান হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। এবং সম্পূর্ণ প্রাচ্য  পটভূমিতে, জাপানি কায়দায়, নিজস্ব আঙ্গিকে তিনি বানিয়ে ফেলেছিলেন ওই সিনেমা। কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন, সে এমনকি হাতিঘোড়া আবিষ্কার, ইউরোপ থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে দূর প্রাচ্য পর্যন্ত রাজারাজড়ার ষড়যন্ত্র, ক্ষমতা দখলের লড়াই, এই গল্প তো একই। প্রশ্নটা যৌক্তিকও, কিন্তু কুরোসাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল ওইটাই। আরেক বিশ্বখ্যাত পরিচালক, পোলানস্কি ম্যাকবেথ বানিয়েছিলেন, কাহিনী, পটভূমি, এবং সংলাপ প্রায় অক্ষুণ্ণ রেখে। তাঁর রাজা ডানকান, সেনাপতি ম্যাকবেথ, সবাই মূলানুগ, সময়ও প্রাচীন, তারা কথাও বলে শেক্সপিয়ারীয় ভাষায়। কেবল তিনি হিংসা এবং অন্তর্দ্বন্দ্বকে করে তোলেন সমসাময়িক। প্রতিযোগিতা, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং নির্মম সংঘর্ষই সেখানে নিয়তি। এই নৈতিকতা বিংশ শতকের, যদিও পটভূমি এবং সংলাপ সবই কয়েক শতকের পুরোনো। এখানেও সেই একই প্রশ্ন আসে, কেন? দর্শকরা নিরুচ্চারে এই প্রশ্নই তোলেন, যে, বিংশ শতকের বাস্তবতা, শেক্সপিয়ারীয় সংলাপ এবং ঘটনাপরম্পরার চেয়ে অধিক কিছু দাবী করেনা কি? যে কারণে সিনেমাটা তেমন চলেনি। বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছিল। এর কারণ একেবারেই এই নয়, যে, পুরোনো রাজরাজড়ার কাহিনী দেখতে লোকে অপছন্দ করে। প্রসঙ্গত এর বছর কুড়ি-পঁচিশ পরে বানানো অতিপুরোনো স্কটিশ বিদ্রোহের কাহিনী ব্রেভহার্ট সুপারহিট হয়েছিল দুনিয়া জুড়ে। ফলে, কাহিনী পুরোনো না নতুন, শেক্সপিয়ারের নাকি অ্যালিস্টেয়ার ম্যাকলিনের, সেটা ব্যাপারই নয়। ম্যাকবেথ দেখতে বসে, দর্শকদের মনে যে প্রশ্ন ছিল, থাকে, তা, সংক্ষেপে, ১)কেন ম্যাকবেথ? ২)ম্যাকবেথ কি আদৌ সমসাময়িক?   



    হইচইয়ের 'মন্দার' নামক এই সিরিজ দেখতে বসে, সমকালীনতা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশই থাকেনা একদম প্রাথমিক কিছু দৃশ্যের পর। দেখা যায় সমুদ্রতীর, দেখা যায় মোটরসাইকেল। দেখা যায় পোলানস্কিসুলভ 'আধুনিক' হিংস্রতা। সিরিজের একদম শুরুতে সমুদ্রতীরে ডাইনি এবং তার চেলা যখন মাছকে গেঁথে ফেলে বর্শায়, সেই দৃশ্যের সঙ্গে পোলানস্কির প্রথম দৃশ্যের অদ্ভুত মিল। আলোর তফাতটুকু বাদ দিলে স্কটল্যান্ড এবং বঙ্গের সমুদ্রতীর একদম এক হয়ে যায় মরা মাছ আর মরা সৈনিকের ছটফটানিতে। ডাইনিদের পদচারণা এবং আচার-অনুষ্ঠানে। পোলানস্কির সিনেমায় ঘোড়সওয়াররা টগবগিয়ে আসে সৈকতে। মন্দারে ঘোড়া নেই, তার জায়গায় আছে মোটর সাইকেল। ধূধূ সমুদ্রসৈকত দিয়ে মন্দার মোটরসাইকেল চালিয়ে যায় পিছনে একজন আরোহীকে নিয়ে। শুধু শুরুর দৃশ্যে নয়, উঁচু-নিচু রুক্ষ-সবুজ জমির যে নক্সা এবং তার মধ্যে দিয়ে ঘোড়সওয়ারদের দৌড়ে যাওয়া, সেই একই রকম নক্সা পরপর পাওয়া যায় নানা দৃশ্যে। দৃশ্যগুলো নিঃসন্দেহে পোলানস্কির সিনেমার থেকে বেশি উপভোগ্য, পোলানস্কির হাতে এত ভাল ক্যামেরা বা ড্রোন কোনোটাই ছিলনা। বলে রাখা ভাল, এসব ঠিক টুকে দেওয়া নয়, বরং প্রভাব বলাই ভাল, যার থেকে আন্দাজ পাওয়া যায়, ম্যাকবেথকে ঘিরে তৈরি হতে চলেছে, পোলানস্কির মতোই রুক্ষ এই সময়ের এক আখ্যান, যা একাধারে তীব্র এবং হিংস্র।


    পোলানস্কির সিনেমার শুরুর সমুদ্রতটে ডাইনিরা

    পোলানস্কির সিনেমার শুরুর সমুদ্রতটে মৃতদেহ

    মন্দার সিনেমার শুরুর সমুদ্রতটে ডাইনিরা

    মন্দার সিনেমার শুরুর সমুদ্রতটে মৃতদেহ

    একদম প্রথম অংশে কাস্তে-হাতুড়ি দেখে এরকম সন্দেহও অবশ্য হয়েছিল, যে, এর একটা প্রথাগত বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গীও থাকবে। কিন্তু পরিচালক এবং ম্যাকবেথের ডাইনিকে ধন্যবাদ, আরেকটা তথাকথিত 'আর্ট ফিল্ম'এর দিকে গপ্পো এগোয়নি। পরিবর্তে নতুন আরেকটা মাত্রা এই সিরিজে পাওয়া যায়, যা পোলানস্কিতে ছিলনা। তা হল যৌনতা। গোটা আখ্যান জুড়ে তীব্র যৌনতার ছড়াছড়ি। সঙ্গমে অক্ষম ম্যাকবেথ (মন্দার), অতৃপ্ত লেডি ম্যাকবেথ(মন্দারের বৌ লায়লি), নারীলোলুপ পুলিশ অফিসার, এবং পরস্ত্রী সম্ভোগী ডানকান (ডাব্লু), যৌনতা গোটা সিরিজের সর্বত্র বর্ষার মেঘের মতো ছায়া ফেলে আছে। কুরোসাওয়া হোক বা পোলানস্কি, তাঁদের সৃষ্টিতে ম্যাকবেথ যৌনতাশূন্য পুতুল যেন। উচ্চাশা এবং অথবা অন্তর্দ্বন্দ্বই তার মূল চালিকাশক্তি। পোলানস্কি অবশ্য স্বভাবগুণে কয়েকটি নুড দৃশ্য তাঁর ছবিতে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু কেন করেছেন, তার মাথামুন্ডু খুঁজে পাওয়া যায়না। তুলনায়, যৌন অর্থে এখানে মন্দার একজন জ্যান্ত মানুষ। একাধারে যৌন ঈর্ষা এবং অক্ষমতা, তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়, অন্য পাঁচটা গুন্ডাসর্দারের মতোই। লায়লিও এখানে পুতুল না, তার যৌনতা সুস্পষ্ট। বস্তুত কালো কাজল পরা স্বল্পবাস লায়লিকে দেখে প্রথম কয়েকটা দৃশ্যে যৌনতার দেবী মনে হয়। কিন্তু সমস্যা হল, যৌনতাকেই অন্যতম মূল প্রতিপাদ্য বানাতে গিয়ে কিছু পরেই মাত্রা হারিয়ে যায়। গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের বোন এত সহজে ভেড়ির গুন্ডার ছেলের সঙ্গে প্রেম করতে থাকে, মনে হয়, গ্রামীণ ভেড়ি এলাকার নৈতিকতা নয়, এ হল ঈশ্বরের সুখের ইডেন। লায়লিও সিরিজের একটা লম্বা সময় কালো স্লিভলেস ব্লাউজ আর সায়া পরেই কাটিয়ে দেয়, এবং ক্লান্তিকর লাগতে শুরু করে। একটা সময় অন্য শাড়ি পরা লায়লিকে দেখে মনে হচ্ছিল, এ কি শাড়ি পরেছে কেন? যৌন অভিঘাতের মূল কথাই হল চমক। যৌনতার চমকটা সম্পূর্ণ হারিয়ে যায় সিরিজ থেকে।



    তবে এ সবই খুচরো সমস্যা। যৌনতা থেকে রুক্ষতা, ভেড়ির হিংস্রতা থেকে দুনিয়ার নির্মমতা, সমকালীনতাকে যেভাবে তুলে ধরার কথা ভেবেছেন পরিচালক, ঠিক সেভাবেই তুলে ধরেছেন। নিসর্গের সঙ্গে খাপ খেয়েছে আবহ। যৌনতার সঙ্গে মিশে গেছে হিংস্রতা। প্রায় প্রতিটি অভিনয়ই মাপমতো। সম্পাদনা খুবই ভালো। কয়েকটা জায়গায় ফ্রেমে কিছু জিনিস অত্যন্ত দাগিয়ে দেখানো হয়, যেমন লায়লি আর মন্দারের মধ্যের ফাটল বোঝানোর জন্য যে দৃশ্য, তাতে দেখানো হয়, মধ্যিখানে একটা বাঁশ, তার দুদিকে মন্দার আর লায়লি। এই এক আধটা জিনিস বাদ দিলে পরিচালনাও চমৎকার। লায়লির ঘরকে সবসময় অন্ধকার করে রাখা হয়, কীকরম একটা চোখে লাগে সেটা, এতদ্ভিন্ন আলোকসম্পাতও খুবই ভাল। এসবে কোনো সমস্যা নেই, বস্তুত সমকালীনতার প্রশ্নে একে দশে সাড়ে-নয়ই দেওয়া যায়। 



    কিন্তু এ সিরিজের সমস্যা অন্যত্র। সমস্যা হল, স্বয়ং ম্যাকবেথ। দর্শক হিসেবে মূল প্রশ্ন যদি এটা হয়, যে, কেন ম্যাকবেথ? কী এমন পুনরাবিষ্কার হল, যে, এই সময়ে দাঁড়িয়ে আবার ম্যাকবেথই করতে হল, সমকালকে ধরার জন্য? এর উত্তর খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। প্রথম থেকেই নির্মাতারা জোর দিয়েছেন এই প্রশ্নের উত্তরে নয়, এটা যাতে 'যথার্থ' ম্যাকবেথ হয়ে ওঠে সেই দিকে। এর শুরুতে লেখা "বেসড অন ম্যাকবেথ"। প্রতিটি চরিত্রে ম'র অনুপ্রাসের ছড়াছড়ি। যাতে কেউ পাছে বুঝতে না পারে, তাই ম্যাকবেথ হয়েছে মন্দার, ডানকান ডাব্লু, বঙ্কো বঙ্কা, ইত্যাদি প্রভৃতি। এরকম আগে হয়নি তা অবশ্য নয়। যেমন ম্যাকবেথের পটভূমিকা বদলে বানানো হাল আমলের 'স্কটল্যান্ড, পিএ' তে মূল নাটকের প্রতিটি চরিত্রের নাম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। কিন্তু তার একটা শিল্পসঙ্গত কারণ ছিল। সেই সিনেমা ফাস্টফুড চেন তৈরির পটভূমিকায় বানানো। সেখানে ম্যাকডোনাল্ডসের অনুকরণে তৈরি হয়েছে ম্যাকবেথস (সঙ্গের ছবিতে বানান এবং ফন্ট দেখে নিন)।



    ম্যাকবেথকে নিয়ে এরকম ফুক্কুড়ি সারা পৃথিবীতে আর কেউ করেছেন বলে মনে হয়না। সেই ফুক্কুড়ির জন্য অবিকৃত নামের প্রয়োজন ছিল। এখানে সেরকম কোনো শিল্পগত কারণ নেই, কেবল চোখে আঙুল দিয়ে "আমরা বাবা ম্যাকবেথ বানিয়েছি" বলে দাগিয়ে দেওয়া ছাড়া। এর চেয়ে সিরিজের নাম "মেদিনিপুরের ম্যাকবেথ" দিয়ে দিলেই ভালো হত ( প্রসঙ্গত কুরোসাওয়ার সিনেমায় এরকম নামের মিলের ছড়াছড়ি নেই)। 



    অর্থাৎ, সোজা কথায়, ম্যাকবেথই এখানে রাজা। আমার সমসময়কে ধরার প্রকল্পে তাকে আমি ব্যবহার করছিনা। বরং নৃপতি ম্যাকবেথ এসেছেন মেদিনিপুরের মাটিতে, তাঁর আপ্যায়নে যেটুকু সমসময়কে গুঁজে দেওয়া যায়, সেটুকু দেব, কিন্তু নৃপতির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্নচিহ্নের অবকাশই নেই। এই আধা-ঔপনিবেশিক মনোভঙ্গী জ্বলজ্বল করতে থাকে গোটা সিরিজ জুড়ে। ম্যাকবেথের কম্পোজিশনকে যে প্রশ্ন করা যেতে পারে, দরকারে উল্টে-পাল্টে দেওয়া যেতে পারে, দরকারে 'স্কটল্যান্ড, পিএ'র মতো খিল্লি করা যেতে পারে, এইটা তাঁরা ভেবে উঠতে পারেননি। একটা সহজ এবং মোটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ম্যাকবেথ নাটকের মূল আখ্যানের উপসংহারেই একটা সমস্যা আছে। কী সেটা? না, ডাইনিদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, বঙ্কোর ছেলে হবে রাজা। অথচ রাজা কে হল? ডানকানের ছেলে। তাহলে কি ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যে হল? আমার ম্যাকবেথ কাহিনীর ভূমিকা পড়া বিদ্যেয় যা জানি, তা হল, শেক্সপিয়ারের সময় দর্শকদের কাছে ওটা কোনো সমস্যাই ছিলনা। কারণ সে সময় 'সাধারণজ্ঞান' ছিল, যে, পরবর্তীতে বঙ্কোর ছেলেরাই বংশপরম্পরায় রাজা হয়। কিন্তু 'সমসাময়িকতা' সে সুযোগ বিংশ বা একবিংশ শতকের স্রষ্টাদের নেই। ফলে তাঁরা নানাভাবে এই সমস্যাটার সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। পোলানস্কির এই সুযোগ ছিলনা। তিনি হুবহু নাটকটাকেই ব্যবহার করেছেন। কিন্তু কুরোসাওয়া কে রাজা হল, ব্যাপারটাকেই উড়িয়ে দিয়েছেন। ম্যাকবেথের মৃত্যুতেই তাঁর গল্প শেষ। অন্যত্র, কোথাও এই ভবিষ্যৎবাণীটাকেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গল্পের প্রয়োজনে, কোথাও অন্য কোনো সমাধান ব্যবহার করা হয়েছে। মন্দারের ক্ষেত্রে কী হয়েছে? পোলানস্কির মতোই, মন্দারেও ডাব্লু তথা ডানকানের ছেলেই রাজা হচ্ছে। কেন, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। সিরিজের সিজন টু হলে (শেষ দেখে সেরকমই মনে হল) অবশ্য একটা ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব, কিন্তু সেটা 'বেসড অন ম্যাকবেথ' হবেনা।  



    এটা উল্লেখ করা হল, এই কারণে, যে, শুধু এই দৃশ্যে নয়, গোটা সিরিজের প্রতিটি পর্বেই কাহিনীনির্মাতা এবং পরিচালককে প্রমাণ করে চলতে হয়েছে, তাঁরা এলেবেলে কিছু বানাচ্ছেননা। ম্যাকবেথ বানাচ্ছেন। এবং তাতে বাস্তবতাকে গুঁজছেন। বাস্তবতার কারণে ম্যাকবেথ ব্যবহার নয়, বরং ম্যাকবেথ করতে হবে, এইটা ধরে, তাতে সমকালীনতাকে গোঁজার চেষ্টা হয়েছে। তাঁরা কি মূল কাহিনী থেকে সরেননি? সরেছেন। কিন্তু তারপরই, নার্ভাস গায়ক যেমন ঝপ করে কোনোমতে সমে ফিরে আসে, তাঁরা ফিরে এসেছেন কোনো একটি ম্যাকবেথীয় অনুষঙ্গে। যাতে কেউ সন্দেহ না করতে পারে, এটা যথার্থ ম্যাকবেথ নয়। এতে করে কাহিনী ঝুলেছে নানা জায়গায়, এমন অনেক জিনিস ঢুকে গেছে, যা না থাকলেও হত। বস্তুত সত্যবাদী কোনো ডাইনি না থেকে স্রেফ একটি পাগল, যে আটভাট বকে, কোনোটা মেলে কোনোটা মেলেনা, এমন হলে এ আখ্যানের মনে হয় উপকারই হত। কিন্তু ডাইনি রাখতে হয়েছে। কারণ ম্যাকবেথে আছে। এ অনেকটা কোটপ্যান্ট পরা রেস্টুরেন্টে গাঁয়ের লোকের নার্ভাসনেস। কেউ যেন না ভেবে বসে, আমি ইংরিজি জানিনা। আমি ম্যাকবেথ পড়িনি। ফলে, কেন ম্যাকবেথ, এই প্রশ্নানুসন্ধানটাই এখানে বাদ পড়ে গেছে। অথচ সত্যি বলতে কি, জরুরি প্রশ্ন সেটাই। ম্যাকবেথ কি আদৌ তার কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখে এই সময়কে ধরতে সক্ষম? এর সরাসরি হ্যাঁ-নাতে উত্তর দেওয়া কঠিন। তবে যুক্তি বলে, তেমনটা হওয়া কঠিন। কারণ, ম্যাকবেথের কাহিনীটাই এমন, যাতে করে প্রথম থেকেই মনে হয়, সে পতনের জন্যই জন্মেছে। কুরোসাওয়া যেমন দেখিয়েছেন, সে রাজা হয়, নেহাৎই ঘটনাপরম্পরার ঘাত-প্রতিঘাতে, নিয়তির খেলায়। পতনেই এর শেষ হতে পারত। গণতন্ত্র এবং উপনিবেশ পত্তনের আগে, পৃথিবী সম্পর্কে, ট্র‌্যাজেডি সম্পর্কে, মানুষের সম্ভবত এইরকম ধারণাই ছিল। সেটা আজ আর নেই। কয়েকটা বিশ্বযুদ্ধ, লম্বা ঠান্ডা লড়াই এবং তারপর এই এককেন্দ্রিক দুনিয়া, আমাদের নৈতিকতার ধারণাকে বিলকুল বদলে দিয়েছে। আমরা এখন জানি, জানি মানে তথ্য নয়, মর্মে মর্মে জানি, হাড়ে হাড়ে জানি, ষড়যন্ত্রের নায়ক মাত্রেই বলিপ্রদত্ত নয়। আমরা জানি, ইরাক যুদ্ধটা মিথ্যে কথা বলে ঘটানোর পরও,  সেসব ধরা পড়ে যাবার পরেও, তার নায়ক আরামকেদারায় বসে জ্ঞান বিতরণ করেন। আমরা জানি, কিম ফিলবি হোক, এলি কোহেন হোক, এমনকি হালের ড্রাগসম্রাট এসকোবার, এরা কেউকেউ ট্র‌্যাজেডির নায়ক হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কেউই বলিপ্রদত্ত ছিলেন না। এঁদের নিয়ে লেখা বা চলচ্চিত্র, ভালো বা মন্দ যাই হোক না কেন, তাতে এঁদের এই দিকটা পরিষ্কার করে তুলে ধরা থাকে। ম্যাকবেথ রাজা হয়ে একটা যুদ্ধও জেতেনা, কিন্তু 'বাস্তবধর্মী' আধুনিক ট্র‌্যাজেডির নায়ক একটাও যুদ্ধ না জিতলে তাকে নিয়ে লেখা বা সিনেমাই হবেনা। সে ততটা দুষ্টু হয়ে উঠতে পারেনি, যাতে সে ট্রাজেডির নায়ক হতে পারে -- এমনটাই ভাবা হবে। সমসময়ের এই তীব্রতা এবং নৈতিকতা ম্যাকবেথে নেই। ফলত ম্যাকবেথকে আক্রমণ না করে, ভেঙেচুরে না ফেলে, শ্রদ্ধায় নতমস্তক হয়ে থাকলে, তাকে নিয়ে সমসময়ের আখ্যান সম্ভব নয়।

  • | রেটিং ৪.৪ (১১ জন) | বিভাগ : আলোচনা | ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৩২৪৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ০৯:৪৫501445
  • গোটা সিরিজ নাকি মেদিনীপুরের আঞ্চলিক ভাষায় বানানো? তাই নিয়ে লোকজন উচ্ছসিত দেখলাম। আঞ্চলিক ভাষায় হয়ে থাকলে খুবই ভাল বলব।
  • সিএস | 103.99.156.98 | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:১৬501450
  • একটা ইঞ্জিরি ম্যাকবেথ সিনেমা হয়েছে পড়লাম, রিলিজ করবে, ডেনজেল ওয়াশিংটন অভিনীত। কিন্তু পড়ে মনে হল, নাটকটিকে সিনেমায় এনেছে, সিন - সিনারি ভাল করে করবে নিশ্চয়। তার চেয়ে, এই 'মন্দার' অন্য মনে হল।
     
     
  • b | 14.139.196.16 | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:৪২501451
  • আমিও দেখলাম। ওই কি বলে, চলে যায়, মন্দার ভালো । 
  • Suvankar Chakraborty | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:৪৫501452
  • অনির্বান ভট্টাচার্য্য ভালো অভিনেতা, তাই ভালো পরিচালক হবেন,এমন একটা প্রত্যাশা মন্দার তৈরির সময় থেকেই ফেনিয়ে উঠেছে।আর সিরিজ বার হবার পর যথারীতি তা কারো কাছে প্রত্যাশা পুর্ণ করেছে,কারো কাছে সেরকম মানের হয়নি।এই প্রত্যাশা পুরণের চাপে মন্দার কে নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করার প্রবণতা হারিয়ে গেছে বলে আমি মনে করি।এই প্রত্যাশা আবার দু রকম..এক হচ্ছে বিখ্যাত অভিনেতার হাতে এক দূর্দান্ত ক্লাসিক তার মান বজায় রেখেই নির্মিত হবে আর দ্বিতীয় উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের অন্যতম ট্র‍্যাজেডির এডাপ্টেশন কতটা ম্যাকবেথ আর কতটা শুধুই মন্দার !! 
    দেখার পর  আমার নিজস্ব মতামত,ডিরেকটর এই ক্লাসিককে যেভাবে রাজকীয় আখ্যান থেকে দীঘার স্থানীয় মাছের ভেড়ির  আন্ডার ওয়ার্ল্ডের আখ্যান হিসেবে গড়ে তুলেছেন ম্যাকবেথের কাহিনীর সিলভার লাইনিং আর সিম্বোলিসমের মাধ্যমে,তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।কিন্তু গোল বাধে লেডি ম্যাকব্যাথের চরিত্রে লায়লির  যৌন রিরংশায় যা কিছু ক্ষেত্রে অনাবশ্যক আর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
    যদিও এই উপরিউক্ত রিভিউ লেখকের সঙ্গে এ ব্যাপারে আমি একমত যে ছবিটার কিছু অংশ পোলানস্কির দ্বারা প্রভাবিত,কিন্তু তাকে নকল না বলে প্রভাবিত হওয়াই বলা যায় যাতে সিরিজটির সৌকর্য বৃদ্ধিই হয়েছে।
  • Prasanta Seal | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১৩:০৭501453
  • আচ্ছা, একটা কথা মনে এল - Shakespeare কে এতদিন পরে ধরে টানা টানি কেন ? মন্দার কি নিজের পায়ে দাঁড়াতে অক্ষম ? 
  • প্রতিভা | 2401:4900:1047:fc0:0:41:ea20:4d01 | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১৩:০৮501454
  • ছবিটি দেখিনি। এটা পড়ার পর দেখতে ইচ্ছে করল। বঙ্কো নয় তো, মূল নাটকে ঐ সেনাধ্যক্ষের নাম ছিল ব্যাঙ্কো। 
  • Emanul Haque | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১৭:৩৯501457
  • ভাবনার বিষয়।
    ভাবালেন
  • Ranjan Roy | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১৭:৫৮501458
  • তারাদাস বন্দ্যো একটা গল্প লিখেছিলেন--'ব্যাংকোর চেয়ার' নামে। কারও কাছে আছে?
     
    প্রশান্তবাবুর প্রশ্নটি আমারও। মনে হয় সৈকতও খানিকটা সেই অভিযোগ করেছেন। মন্দার কেন নিজের পায়ে দাঁড়াবার চেষ্টা না করে বার বার দর্শকদের আসলি ম্যাকবেথ থেকে অনুপ্রাণিত গোছের প্যাঁচ পয়জার কষেছে!
  • Sobuj Chatterjee | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১৮:৩২501461
  • লেখকের সাথে  খানিকটা একমত, পুরোটা নয়।
    তবে অনির্বাণ কে ধন্যবাদ জানাই অত্যন্ত মুন্সিয়ানা এবং সাহসের সঙ্গে মন্দার‌ উপহার দেওয়ার জন্য। তবে ডাইনিকে অন্যভাবে বা আরো বিশ্বাসযোগ্য করে আনা ই যেতো। এই বিষয়ে লেখকের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।
  • Subhadeep Ghosh | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ১৯:০১501462
  • একদম যথোপযুক্ত লেখা। ম্যাকবেথের adoptation-এর সত্যিই আজ আর তেমন মূল্য নেই যদিনা তাকে সম্পূর্ণ ভেঙেচুরে ফেলা যায়। আর সম্পূর্ণ ভেঙেচুরে ফেললে adoptation কথাটার আর কোনো মূল্য থাকে না, অনুপ্রাণিত হতে পারে বড়জোর। কিন্তু করবে কে!!
  • anandaB | 50.125.252.150 | ২৬ নভেম্বর ২০২১ ২৩:৫১501464
  • গোটা লেখাটার কোথাও মকবুল এর নাম এলো না দেখে কিছুটা অবাক ই হলাম , ম্যাকবেথ এর অত ভালো আত্তীকরণ ভারতীয় ছায়াছবির ইতিহাসে হয়েছে বলে জানা নেই 
     
    শুধু পঙ্কজ কাপুর এর জন্যই ছবিটা বার বার দেখা যায় , আর দেখা যায় তুনাক তুনাক তুন এর বাইরে দালের মেহেন্দী কত উঁচুদরের আর্টিস্ট (হতে পারতেন ) সেটা জানার জন্য 
     
    হয়তো এই এড়িয়ে যাওয়া সচেতন ভাবেই , লেখক বোম্বের ছবি কে ধর্ত্যব্যের মধ্যেই আনতে চান নি 
  • বিপ্লব রহমান | ২৭ নভেম্বর ২০২১ ০৮:০৫501466
  • ছবিটি দেখতে হবে। 
    উস্কানি দেওয়ায় ধন্যবাদ সৈকত দা 
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৭ নভেম্বর ২০২১ ১০:২৮501469
  • এডমিন একটু আমার প্রথম কমেন্ট টা ডিলিট করে দিলে ভালো হয়।
  • অনিন্দিতা | ২৭ নভেম্বর ২০২১ ২২:১৯501485
  • আনন্দবাবুর সাথে সহমত। পঙ্কজ কাপুর ছাড়াও তাবু এবং ইরফান অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন। 
  • &/ | 151.141.85.8 | ২৮ নভেম্বর ২০২১ ০৪:২৭501489
  • এই মুহূর্তে 'মকবুল' দেখছি। এত্ত ভালো! এই প্রথম দেখছি। হিন্দি সিনেমা খুব কম দেখি বলে আগে দেখা হয় নি। কিন্তু না দেখলে আফশোস থেকে যেত।
  • শুদ্ধসত্ত্ব দাস | ২৮ নভেম্বর ২০২১ ০৮:৪৪501495
  • দারুণ লাগলো পড়ে। এই ভাবে ভাববার অভ্যাস আমার তো নেই-ই অনেকেরই নিশ্চয় নেই। যদিও সিরিজটা দেখিনি বেশি,আপনার প্রেক্ষিতগুলি খুবই মূল্যবান লাগলো ,  সিনেমার বা পুনরমঞ্চস্থ করা নিয়ে বেশ কিছু বিচার্য্য বিষয়ের সন্ধান পেলাম। 
  • Alokmay Datta | ২৯ নভেম্বর ২০২১ ০১:৩৫501516
  • ক্ষমতার লড়াই দেখাতে গেলেই মেছোভেড়ি ইত্যাদির আমদানি করার প্রয়োজন কেন? আমাদের আয়নার মুখোমুখি হতে খুব খারাপ লাগে, তাই? আর শেক্সপিয়ার মানেই ম্যাকবেথ, হ্যামলেট, রোমিও-জুলিয়েট আর সীজার? বরং লিয়রের সমস্যা তো আমাদের নিত্যদিনের জিনিস। 
     
  • ঝর্না বিশ্বাস | ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:০৫501776
  • দেখলাম কাল।.... যদিও হতাশ হতে হলো...একমাত্র ভাষা ছাড়া আর তেমন কিছু ভালোলাগেনি...এমনকি অনির্বানকেও ...
    আপনার লেখাটি যথাযথ...নিঁখুত বিশ্লেষন।।.ভালোলাগলো...  
  • Saikat Mistry | ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:৩১501802
  • ম্যাকবেথকে এতটা টনাটানি করা বুঝলাম না। সিরিজে একঘেয়েমি আছে বেশ অনেকটা জায়গায়। 
  • আকাশ দীপ গগি বোস | 2402:3a80:a66:d90d:0:62:af68:1101 | ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:১৫501805
  • এইসব  লেখা সময় বের করে লিখতেই হবে এমন  মাথার দিব্বি কে দিয়েছে? 
  • Shibir | 106.200.224.186 | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:৩৪502437
  • ম্যাকবেথ এর ভাঙাচোরা ভার্সন দেখতে হলে deelish pothan এর মালায়ালম সিনেমা Joji দেখতে পারেন | 
  • Neptune_Pluto | 45.125.222.84 | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০১:০৮504140
  • First Witch- When shall we three meet again/ In thunder, lightning or in রেইন? 
     
    Second Witch- When the hurly_burlys done/ When the battles lost and ওঁন 
     
    Third Witch- That will be ere the ste of সুন্। 
     
    Very good review. Refreshing. An urban is really genius. 
  • বিপ্লব রহমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৯:১১504175
  • এই লেখা পড়ে ছবিটি একটু দিরীতে দেখলাম।
    ভাষা ও গল্প বাদে, সব কিছু বি গ্রেড মনে হয়েছে। তারকারাই যেন ছবি ধরে রেখেছেন। খুব চড়া অভিনয়, যেন যাত্রা! 
    আর যথেচ্ছ যৌনতার ব্যবহার তো আছেই। ১৮+
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

Mandaar web series review, Mandaar -- Hoichoi review, Mandar -- Hoichoi review
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন