• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • মালিক

    Chayan Samaddar লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২৫২ বার পঠিত
  • কার একটা হাত চুলের মুঠি ধরে টেনে তুলে নিল আবু তাহিরকে। কৃষ্ণানদীর অথৈ জলের মধ্যে ডুবে যেতে যেতে আল কুরানের সূরা বলছিল সে।

    - তিনিই যিনি তোমাদিগকে মৃত্তিকা দ্বারা সৃজন করিয়াছেন, তৎপর মৃত্যু নির্ধারণ করিয়াছেন, এবং এক কাল তাঁহার নিকট নির্ধারিত আছে...

    আবু চোখ মেলে তাকালো। হুজুর - এ - আলা তার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে রয়েছেন, যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। একটু পেছনে ছোটখাটো একটা ভিড়। কৃষ্ণার তীরে, এই বদ্রিগ্রামে, দাক্ষিণাত্যের সুবাদার দরবার বসিয়েছিলেন। ছোট খাটো, সাধারণ মানুষদের কথা শোনার জন্য। তার মধ্যে এই উৎপাত! মুখ খুললেন সুবাদার, 
     
    - এ কি বাওরা নাকি? আমি পীর না দরবেশ যে শিষ্য করব? এভাবে কেউ নদীতে লাফিয়ে পড়ে? বয়স তো বেশি না ছোকরার। সাতাশ আটাশ হবে মনে হচ্ছে। এই বয়সে মাথা বিগড়োল কেমন করে? কেউ একে সরহিন্দ শহরের মিঞা মুহম্মদ নফির কাছে নিয়ে যাও। উনি শাগির্দ করে নেবেন। 
     
    হাউমাউ করে কেঁদে উঠল আবু। কান্না জড়ানো গলায় বলতে লাগল, 
     
    - তার চেয়ে আমায় কতল্ করুন বান্দা নওয়াজ। এমনিতেই আমি বাঁচতে চাই না। দিলের গহেরী চোট খুব দর্দনাক হুজুর। ইসলামের সহি রাখওয়ালা বলে আপনার নাম শুনে, আপনার খিদমদ করব বলে এলাম, আর আমার নসিব হলো রুপেয়া? আমি কি সেই জন্য এসেছিলাম? 
     
    আমীর ওমরারা শিউরে উঠলেন। এইবার মরল নালায়েক! একেই তো হুজুরের দেওয়া বকশিস মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে, তার ওপর এখন তকরার করছে গুসতাখ! একমাত্র সুবাদারেরই কোনও বিকার নেই। মর্মর খচিত মুখমণ্ডল আর অনিন্দ্য দেহসৌষ্ঠব নিয়ে এক দৃষ্টে দেখছেন আবুকে। এবার অল্প হেসে তিনি সরাসরি ওর সঙ্গে কথা বললেন,
     
    - তুমি জান, আমার জেবে প্রায় শতখানেক রুপৈয়া ছাড়াও সোনা আর রুপোর টুকরো ছিল? সবটাই তোমাকে দিয়েছিলাম? যা ছুঁড়ে ফেললে তার মূল্য সম্বন্ধে ধারণা আছে কি তোমার? 
     
    - না নেই মালিক! আর আমি চাইও না থাকুক। হে বিশ্বাসিগণ আল্লাহ্ যাহা তোমাদের জন্য বৈধ করিয়াছেন, তোমরা সেই পবিত্র বস্তুকে অবৈধ করিও না, এবং সীমালঙ্ঘন করিও না। আল্লাহ্ সীমালঙ্ঘনকারীদিগকে প্রেম করেন না। 
     
    - সূরা মায়দা, আয়াত সাতাশি! ইয়া আল্লাহ্! পুরো আল কুরান তোমার মুখস্ত নাকি?
     
    - জি মালিক। 
     
    সুবাদার পাশ ফিরে দু'জন আমীরকে কীসব বললেন। তারপর এগিয়ে গেলেন। আবু মাটিতে বসে রইল। একটু বাদেই এক ফৌজি সর্দার এসে হাত ধরে টেনে দাঁড় করালো তাকে। লোকটা খুব ফুর্তিবাজ মনে হলো। হো হো করে হেসে বলল,
     
    - আমি হায়দার বক্স। তুমি কে দোস্ত?
     
    - আবু তাহির। 
     
    - বেশ বেশ! দোস্ত আবু, হুজুর এ আলার হাভেলি থেকে তাঞ্জাম আসছে। তুমি এখন তাঁর খাস মেহমান! দু'দিন কাটিয়ে এস। 
     
    - সে কী!
     
    - আরে আমাদের মালিক এমনই দরিয়া দিল। পঞ্জাবের হাসান আব্দালে কী হয়েছিল জান না? হাভেলির পাশে গরীব বুড়োর দোকান ছিল। হাভেলির বাগিচা থেকে যে জল বাইরে গিয়ে পড়ত, তাই দিয়ে জাঁতা ঘোরাতো সে। গম ভেঙে ময়দা করত। আর, তাই বেচে পেট চলত তার। তা, একদিন নোকররা জল বার হওয়ার পথ দিল আটকে। সে বুড়োর তো না খেয়ে মরার জোগাড়! একজন সদাশয় আমীর হুজুরকে ঘটনাটা জানালেন। তাঁর সে কী অনুতাপ! খালি বলেন, তওবা, তওবা! পানির কষ্ট! শরম কি বাত! তারপর লোক পাঠিয়ে বুড়োর কাছে মাফি মাঙলেন। তাকেও তাঞ্জাম করে এনে মেহমান করে রাখলেন। শাল দোশালা, মোহর গয়না, প্রচুর বকশিস! তার সব কর মাফ, এমনকি তার চোখের ইলাজ, বেটির শাদির ইন্তেজাম পর্যন্ত! ভাব একবার! হুজুরের দিল কী দরাজ দেখছ?
     
    - হবেই তো হায়দার ভাই! সাচ্চা মুসলমান যে! আমি চারবছর হলো ঘর ছেড়েছি। আমাদের অঞ্চলে ইসলাম আর ইসলাম ছিল না। অথচ আমি সাচ্চা মুসলমান হতে চাই। আমাদের মালিকের কথা শুনি বারানসীতে। তারপর, পতা করতে করতে এখানে এসে, অবশেষে দেখা পেলাম।
     
    সাচ্চা মুসলমান। এক বছর পর সামুগড়ের যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে কথাটা মনে পড়ল আবু তাহিরের। শোনা যাচ্ছে নিজের দাদার সঙ্গে লড়ছেন মালিক। সঙ্গে আছেন তাঁর আর এক ভাই। আবু যুদ্ধে অংশ নেয়নি। হায়দরকে বলে সঙ্গে চলে এসেছে। যতটা পারা যায় মালিকের কাছাকাছি থাকা। সারাদিন শিবিরে বসে সে শুনেছে হাতির ডাক, কামানের গর্জন, তলোয়ারের ঝনঝন। চারপাশে লাশ আর লাশ। মাটিতে শুকনো রক্তের দাগ। আবু আকাশের দিকে চাইল। রাতের আকাশ। ওখানেই বেহেস্ত। ফরিস্তারা তারার বাতি জ্বেলে সাজিয়ে রেখেছেন তাকে। তারও ওপর আল্লাহ্ মিঞার আসন। অ্যায় খোদা! অ্যায় পরবরদিগার! কাফেরের সঙ্গে যুদ্ধ জায়েজ, তুমি বলেছ। শুনেছি মালিকের দাদা প্রায় কাফের। তাহলে আমার এত কষ্ট হচ্ছে কেন? কেন মনে হচ্ছে, এই এতগুলো মুর্দা কারওর আব্বা, কারওর ভাই, কারওর ছেলে? সাচ্চা মুসলমানের কি এত নির্দোষ মানুষ মারার হক আছে? তোমার বান্দা জবাব পাচ্ছে না। বলে দাও আল্লাহ্ পাক। 
     
    রাতের আকাশ স্মিত মুখে নীচে চেয়ে আছে। আবুর মনটা হঠাৎ শান্ত হয়ে গেল। উত্তর সে পাবেই। আল্লাহ্ ঠিক রাস্তা দেখাবেন। 
     
    নূর মঞ্জিল। সামনে আগ্রা শহর। আবু অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রথম তিন দিন বীরা নামের এই শহরতলিতে মালিকের বিজয়ী সেনারা বীভৎস অত্যাচার করেছে। পৈশাচিকতার রকমারি কিসসা শুনে উলটি হওয়ার উপক্রম হয়েছে আবুর। তারপরই, মালিকের বড় ছেলে সৈন্য নিয়ে গিয়ে শহরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আগ্রা থেকে দলে দলে মানুষ আসছেন মালিকের কাছে। দেখেই বোঝা যায় উজির, নাজির হবেন। আগ্রায় এখন মালিকের পক্ষের সকলের ঢালাও নেমন্তন্ন। তাই, আজ বেরিয়ে পড়েছে আবু। আগ্রা পৌঁছতে পৌঁছতে দুপুর হলো। একটা সরাই খুঁজে পেতে অসুবিধে হলো না। কিছু খেয়ে নিয়ে একটু জিরিয়ে নিল। তারপর, রোদ পড়তে বাইরে বেরোল। সরু সরু পথ। কত রং বেরং -এর পোশাক পরা রাহী। আবু আরও এগোল। এবং দাঁড়িয়ে পড়ল। নীল যমুনার জলের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো অপরূপ তাজমহল। আবুর চোখের পলক পড়ছে না। দেখতে দেখতে সন্ধে নেমে এল। তাজের মাথার ওপর এখন বাঁকা চাঁদ। শুভানাল্লাহ্! জন্নত! কিন্তু, আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। এবার ফেরা উচিৎ। শহরে ঢোকার পর দুটো বাঁক নিয়েই আবু বুঝল, সে পথ হারিয়েছে। পথের ধারের দোকান, এই সারি সারি কোঠা বাড়ি কিছুই চেনা ঠেকছে না। হতাশ হয়ে সে এক কোঠার সামনে বসে পড়ল।
     
    - আরে এইও! বুড়বক! বেহুদা আদমি! দরজা আটকে বসে আছে! আমি ভিতরে যাব কীকরে শুনি? 
     
    আবুর বোধহয় একটু চোখ লেগে এসেছিল। তা নাহলে, এই বিশাল তাগড়াই মর্দানীকে না দেখতে পাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। নির্ঘাৎ দশ জোয়ানের মওড়া নিতে পারবে একাই। থতমত খেয়ে আবু বলল,
     
    - আ- আমায় একটু পানি দিতে পারেন? 
     
    সেই ভীষণা চিৎকার করার জন্য ঠোঁট ফাঁক করেছিল, তার আগেই খুট করে দরজা খোলার শব্দ হলো। একটা পাখির গানের মতো গলা ভেতর থেকে বলল, 
     
    - হামিদা, ভেতরে নিয়ে আয়। 
     
    হামিদা ইশারা করে ভেতরে যেতে বলল। অন্ধকার সিঁড়ি। হাতড়ে হাতড়ে উঠতে লাগল আবু। পেছনে হামিদা। ওপরে উঠে একটা বড় ঘর। মেঝেতে গালিচা। 
     
    - বোসো। 
     
    আবু ফিরে তাকালো। আলবোলা টানছে যে তার রূপের বর্ণনা দিতে গেলে গজল থেকে উপমা নিতে হবে। তাও পুরোটা বোঝানো যাবে না। পূর্ণ যুবতীটির চোখের নীচে গাঢ় কালির ছাপ। পাশে বসে আছে এক তরুণী।
     
    - কী গো? বোসো। হামিদা পানি নিয়ে আয়। নাম কী মিঞা সাব? 
     
    - আবু তাহির। সরাইয়ে যাওয়ার পথ হারিয়ে ফেলেছি। 
     
    - বুঝলাম। তবে অন্ধকারে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে রাহাজানের হাতে জানটা দিতে হবে, এই আর কী! 
     
    - তাহলে? 
     
    - তাহলে আর কী? আমরাই মেহমাননওয়াজি করি। এই গরীব খানায় কামরার অভাব নেই। রুটি গোস্তও জুটে যাবে। ভালো কথা, আমি আমিনা আর এ হলো নূরী। 
     
    মাথা হেলিয়ে আদাব জানালো আবু। হঠাৎ, আমিনা সামনে ঝুঁকে বসল, 
     
    - চেহারা তো চশমে বদ্দুর! কিন্তু, এত শরম কেন? আউরত দেখনি আগে? 
     
    কী বলবে বুঝতে না পেরে মাথা নাড়ল আবু। খিলখিল করে হেসে গড়িয়ে পড়ল আমিনা। 
     
    - তাই? আচ্ছা, তাহলে এই ব্যাপার? এটাই আসল কথা তবে? 
     
    কিছুই না বুঝে, চুপ করে থাকাই শ্রেয় মনে করল আবু। হামিদা জল আনল। তারপর দস্তরখান বিছিয়ে বিরিয়ানি, কাবাব, কোর্মার বিশাল আয়োজন। টানা বারান্দার শেষ মাথার একটা ঘরে আবুর শোয়ার ব্যবস্থা হলো। সেই রাতে, আচমকা শ্বাস কষ্টে আবুর ঘুম ভেঙে গেল। তার ঠোঁটের ভেতর খুব নরম দুটো ঠোঁট। বক্ষলগ্ন নারীশরীরটা নামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আবু আবিষ্কার করল, তার দেহ অবাধ্য হয়ে উঠেছে। অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করতে হলো। সুগন্ধি শ্বাসের হলকা পুড়িয়ে দিচ্ছে মুখ। নিজেকে গেঁথে ফেলে তার সঙ্গে বারবার মিশছে এক বেতসলতা তনু। 
    ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মেজেতে ছড়ানো পোশাক পরে নিল আবু। গতরাতের অতিথি তাকে নিংড়ে নিয়েছে। কে এসেছিল? আমিনা? নূরী? হামিদা? বমি আসছে। তার নিজের শরীর যে আবু তাহিরের চেয়ে এত শক্তিশালী এটা জানত না সে। দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নীচে এসে দরজা খুলল আবু। বেরিয়ে এল পথে। তারপর, উন্মাদ দৌড় দিল একটা। যে ভাবে হোক এই বাড়ি থেকে যতটা সম্ভব দূরে চলে যেতে হবে। ছুটতে ছুটতে একসময় থামতে হলো। কোমরে দু'হাত রেখে, ঝুঁকে পড়ে হাফাচ্ছে। বুকের খাঁচা ভেঙে ফুসফুস বেরিয়ে আসতে চাইছে। হাতে কে যেন একটা ছোট ভিস্তি ধরিয়ে দিল। আকন্ঠ জলপানের পর মুখ তুলল আবু। তার প্রাণদাতা তার মুখের পানে চেয়ে হাসছেন। শিশুর হাসি। ভোরের আলোর মতো হাসি। ইয়া আল্লাহ্! ইনসান এত খুবসুরত হয়? নীল চোখ, খাড়া নাক, লালচে চুল। কিন্তু, ইস! এ কী? এ তো একেবারে নাঙ্গা! ছি! লজ্জায় চোখ বুজে ফেলল আবু। 
     
    - শরম আসে নজর করে শুদ্ধ সহজ নগ্নতাকে? 
    তোমার, আমার, সবার মালিক এরই মাঝে মগ্ন থাকে। 
     
    এ স্বর এই দুনিয়ার হতে পারে না। সাতটা সুর খেলা করছে যেন। অপার্থিব! চোখ খুলল আবু।
     
    - কে আপনি? 
     
    - সারমাদ। 
     
    নামটা শোনা মাত্র কেন জানি ঝর ঝর কেঁদে ফেলল আবু। 
     
    - নাপাক করেছি, অপবিত্র করেছি এই শরীরকে। হায় আল্লাহ্! দোজখ ডাকছে আমায়। 
     
    - আনাল হক্! 
     
    প্রচণ্ড জোরে চেঁচিয়ে উঠেছেন সারমাদ। আবুর কান্না থেমে গেল।
     
    - আনাল হক্! আমিই সে। আল্লাহ্ মিঞার ইবাদতখানা এই মানবদেহ। কার সাধ্য তাকে নোংরা করে? তোমরা কুরান আওড়ে বলবে, এবং তিনিই আল্লাহ্ যিনি স্বর্গে ও পৃথিবীতে আছেন, কিন্তু, তার অর্থ বুঝবে না! আল্লাহ্ পৃথিবীতে আছেন। সেটাই স্বর্গ। দেখ চারপাশে। আকাশে, বাতাসে, জলে, আগুনে, সমস্ত প্রাণীর মধ্যে তিনি। তাঁকে ছোঁয়া যায়। তুমি আল্লাহ্-র বসতভূমি। নিজেকে তুচ্ছ কোরো না। 
     
    মেঘমন্দ্র স্বরে গান ধরলেন সারমাদ, 
     

  • জাগো, জাগো, জাগো প্রিয় 
    অনলচুমোয় আকুল আঁধার 
    তোমার সোহাগ অন্ত বাধার 
    জলে, স্থলে, ব্যোমে - 
    তোমার পরশ দিও 
    চরাচর ডাকে -
    চোখ মেলে চাও প্রিয়। 
     
    সারমাদ হাঁটছেন। তাঁর গান ছড়িয়ে যাচ্ছে সবার গায়ে। 
     
    প্রতি প্রাণকণা তুমি 
    সকল দেহের অকুল প্রণয় 
    তোমায় জড়ায়, ভোলে সব ভয়। 
    ধুলোখেলা শুচি, পুণ্য বিশ্বভূমি। 
    প্রিয়তম, জানি, আমার মাঝেই তুমি। 
     
    সম্মোহিতের মতো হেঁটে চলেছে আবু। সমস্ত পৃথিবী একটা প্রবল ঝাঁকুনি খেয়ে আবার ছন্দে ফিরছে। আবুর শুধু আর কিছুই আগের মতো নেই। এমনকি হাত পাও আর তার কথা শুনছে না। দূরে একটা মন্দির। আবু দেখল তার পা দুটো সেদিকেই চলেছে। একটা গানের সুর ভেসে আসছে। এবার কথা বোঝা যাচ্ছে। অবাধ্য চোখ দুটোয় আবার জল ভরে আসছে। কাফেরদের ব্যাপারে আবুর কোনও আগ্রহ নেই। কিন্তু, গানের ভাষাটা তাকে বেএক্তিয়ার করে ফেলছে। তার মাতৃভাষা। বাংলা। ওগো মালিক, যেখানেই থাক, পথ বলে দাও নবদ্বীপের আবু তাহিরকে। 
     
    সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম 
    কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো
    আকুল করিল মোর প্রাণ।।
     
    গলায় কন্ঠি, অঙ্গে রসকলি নিয়ে চোখ বুজে গাইছেন গায়ক। যুবাপুরুষ। পাশে ও কে? হিন্দুদের রাইকিশোরী? আবু নিঃশ্বাস ফেলতে ভুলে গেল। 
     
    - জয় রাধে, জয় গৌর। 
     
    গায়ক বেড়িয়ে এসেছেন। 
     
    - মহাশয় বাঙ্গালী? 
     
    উত্তরটা এল আবুকে চমকে দিয়ে, আবুরই গলায়।
     
    - জয় নিত্যানন্দ। আজ্ঞে হ্যাঁ। ম্লেচ্ছ আবু তাহির। নিবাস নবদ্বীপ।
     
    - আমি গোবিন্দদাস। কে ম্লেচ্ছ? প্রভু সবাইকে বুকে টেনে নেন। শুধু একবার হরি বলার অপেক্ষা।
     
    - মানে, হিন্দু এক দেবতার নামই করতে হচ্ছে। আর, এই সবাই সমানটা আপনারা মানেন? তাহলে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মধ্যে উচ্চ বর্ণেরই প্রতাপ কেন? আপনি ভুলে যাচ্ছেন আমার জন্ম নবদ্বীপে। কিন্তু, এত কথা বলছি কেন? আজ আমার সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। নিজের ভাষা, নিজের মাটির গন্ধে এত নেশা হয় কে জানত? কতদিন পর বলছি! 
     
    - প্রসাদ নাও। খাবে তো?
     
    রাইকিশোরী উঠে এসেছে।
     
    - খাব না কেন? সকাল থেকে কিছু খাইনি। খেতে খেতে আবু প্রশ্ন করল,
     
    - তোমরা কোথাকার? 
     
    - সপ্তগ্রাম। 
     
    - তোমার নাম? 
     
    - হরিপ্রিয়া। 
     
    আবুর মুগ্ধ চোখ মুখের ওপর থেকে সরছে না। হরিপ্রিয়ার গাল দুটো লাল হলো। গায়ের আঁচলটা টেনে দিল। সব গুলিয়ে যাচ্ছে। কোনটা ঠিক পথ? নবদ্বীপে থেকে কৃষ্ণনগর যাওয়ার সময় ডাকাতের হাতে পড়ে। কালু মিঞার দল। প্রায় কপর্দকশূন্য হলেও কোনও অজ্ঞাত কারণে প্রাণটা গেল না। তবে, বদনার এঁটো জলে গেল জাত। হিন্দুসমাজ কাউকে বার করে দিতে ভারি পোক্ত। কাছে টানতে তেমন দড় নয়। সমাজপতিদের দরজায় দরজায় কেঁদে ফিরে, যখন তুষানলে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া ছাড়া, অন্য কোনো নিদান পাওয়া গেল না, তখন হরনাথ শর্মা মরে জন্ম নিল আবু তাহির। সে স্থির করলো, সাচ্চা মুসলমান হবে। এই ধর্ম উদার, সকলকে বুকে টানে। কিন্তু, গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা আর সারমাদের গান শোনার পর, আবু কী বিশ্বাস করে আর কী করে না, সেটাই ভালো করে বুঝে উঠতে পারছে না। মন্দির থেকে সরাইতে ফেরার পথে আবু বুঝতে পারল তাকে একটা কিছু করতে হবে। অসম্ভব কিছু। নাহলে সে ঠিক পাগল হয়ে যাবে। আবার মন্দিরে ফিরে চলল সে। 
     
    হরিপ্রিয়া সিঁড়িতে বসা। আবুকে দেখে চমকে বলল, 
     
    - দাদা বেরিয়েছে। 
     
    - গোবিন্দ মহাশয়ের সঙ্গেও কথা বলব। আগে তোমায় বলি। আমাকে বিবাহ কর হরিপ্রিয়া। 
     
    হরিপ্রিয়ার চোখ বড় হয়ে উঠেছে। আবু বলে চলল, 
     
    - আমি হরি বলব না তুমি কলমা পড়বে, নাকি কেউই কিছু করব না - ওসব পরে ভাবব। আমায় জানতে হবে আমার মালিক কোথায় থাকেন। কুরান শরীফে? মানবদেহে? মাতৃভাষায়? খুন, রক্ত, অত্যাচার এসবের মধ্যে থাকেন না নিশ্চিত। 
     
    আবু আপন মনে বলে যাচ্ছিল। হঠাৎ, একটা ঝনাত শব্দে তাকিয়ে দেখল হরিপ্রিয়া মন্দিরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। 
     
    পরদিন, বীরা ফেরৎ যাওয়ার পথে মন্দিরটার সামনে এসে চমকে উঠল আবু। একদল ঘোড়সওয়ার। সামনেই হায়দার বক্স। 
    - কী ব্যাপার হায়দর ভাই
     
    - আর ভাই, হুজুরের হুকুম। আগ্রায় কাফেরদের মন্দির যত আছে লুট করতে হবে। ওরা ওদের দেবতাদের অনেক সোনা, জহরত দিয়ে সাজায়। সেসব চাই। যুদ্ধের খরচ তুলতে হবে। পুরুতদের সপরিবারে নির্বাসন। রাহা খরচ দেওয়ার হুকুম আছে। তবে, ওটা আমাদের খিদমতেই লাগছে। হা হা হা হা! 
     
    বিস্ফারিত চোখে চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে চলা শুরু করল আবু। নূরমঞ্জিলে এসে পৌঁছল সন্ধেবেলা। বিশাল বাগানে সারি সারি তাঁবু। তারপর একটা ঝিল। মালিক আর ক'জন আমীর ঝিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে। আবু এগোল। হুজুরের মখমলি গলা শোনা যাচ্ছে, হাসিভরা স্বর,
     
    - আগ্রা দুর্গে যমুনা থেকে জলসরবরাহ বন্ধ হওয়ার জন্য আমার আব্বা হুজুর কিঞ্চিৎ তৃষ্ণাকাতর হয়ে আমাকে পত্রাঘাত করেছেন। বলছেন জল দেওয়ার চাকরের অভাব। যমুনার তীরে ফৌজ আছে। জল আনা কষ্টকর ইনশাল্লাহ্! আবার কাব্যও করেছেন আব্বাজান! আফ্রিন বর হনুদ দর্ হর বাব্ ইত্যাদি। মানে, হিন্দুদের ধন্য বলি। তারা মৃত আত্মীয়কেও জল দেয়। কিন্তু, তুমি এমন অদ্ভুত মুসলমান যে জীবিত পিতাকে জল পান করতে দিচ্ছ না। জবাব লিখব। তার আগে বলে নিই। ময়ূর সিংহাসনে আমিই বসব। কেননা সব ভাই যখন মৃত, - মানে অচিরেই জীবনজ্বালা জুড়োবে তাঁদের - তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকেই বসতে হবে! আচ্ছা, তাহলে জবাবটা লিখুন মীর মুনসী। একটাই পংক্তি। যেমন কর্ম তেমনি ফল; অধিক বলা বেয়াদবি। আমার পুরো নামটা তলায় লিখুন। আবুল মজফফর মহীউদ্দিন মুহম্মদ আওরঙ্গজেব বাহাদুর আলমগীর বাদশা গাজী। 
     
    পায়ে পায়ে পিছু হঠছে আবু। এ কে? মানুষ তো কিছুতেই হতে পারে না। এর মুখটা এখান থেকে অবিকল একটা সাদা সাপের মুখ মনে হচ্ছে। এর কাছ থেকে পালাতেই হবে। দৌড় শুরু করে একটা খোলা মাঠে এসে না পড়া পর্যন্ত থামলো না আবু। 
     
    - মাঃলেক! 
     
    বুক চিরে ওঠে এল দীর্ঘশ্বাসটা। ওগো প্রভু, কোথায় আছ তুমি? ধর্মে, কর্তব্যে, প্রেমে, কামে - কোথায়? একটা স্থির কেন্দ্র তো চাই অস্তিত্বের? তোমার নামে চলছে মানুষ খুন, লুট তরাজ, বুড়ো বাপকে জল না খাইয়ে মারা, ছোঁয়াছুঁয়ি, তুষানলের বিধান দেওয়া। এসব যদি তোমার অভিপ্রায় হয়, তবে আমার কোনো মালিক চাইনে। কিন্তু, আমার ভেতর থেকে মানতে কষ্ট হচ্ছে, তুমি নেই। বলো। উত্তর দাও। ওপরে জ্যোৎস্না ধোয়া আকাশ, চারপাশের জড়প্রকৃতি উত্তর দিল না। তাহলে কি সারমাদই ঠিক? দেহের মধ্যে বাস তোমার? আবু চোখ বুজলো। চিন্তার গভীর স্তর থেকে উঠে এল বাণী। 
     
    - বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ্। আল্লা-হুচ্ছমাদ্। লাম্ ইয়ালিদ্ অলাম্ ইয়ূলাদ্। অলাম্ ইয়া কুল্লাহূ কুফুওয়ান্ আহাদ্। শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বল, তিনি আল্লাহ, এক, ও আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি, এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। 
     
    আবুর মুখ ধ্যান সমাহিত। যেন অপর কোনো জন্মলোক থেকে ভেসে আসছে শ্লোক। 
     
    যদ্ যদ্ বিভূতিমৎ সত্ত্বং শ্রীমদূর্জিতমেব বা। 
    তত্তদেবাগচ্ছ ত্বং মম তেজোহংশসম্ভবম্।। 
     
    অথবা

    বহুনৈতেন কিং জ্ঞাতেন তবার্জুন। 
    বিষ্টভ্যহমিদং কৃৎস্নমেকাংশেন স্থিতো জগৎ।। 
     
    যে সব সত্তা বিভূতি বা ঐশ্বর্য সম্পন্ন, শ্রী বা সমৃদ্ধি অথবা শোভা-সম্পন্ন, বা শক্তি সম্পন্ন, জেনে নাও, সেই সব সত্তা আমার তেজের অংশ থেকেই উৎপন্ন। অথবা, হে অর্জুন, এত জেনে তোমার প্রয়োজন কি? আমি এই সমস্ত জগৎ জুড়ে ব্যাপ্ত হয়ে আছি। 
     
    আবুর চোখ খুলে গেল। 
     
    পেয়েছি! এই বিশ্বচরাচর শব্দ দ্বারা, বাণী দ্বারা অনুবিদ্ধ হলে, তবে তুমি প্রকট হও মালিক। সারমাদের গান, কুরানের সূরা, গীতার শ্লোক - যাই উচ্চারণ করি, তোমার প্রকাশ ঘটে। তুমি আছ বাণীর মধ্যে অক্ষর হয়ে - অক্ষয় হয়ে। মিথ্যেই আওরঙ্গজেবের কাছে আসা হয়েছিল। 
     
    উঠে দাঁড়ালো হরনাথ আবু তাহির শর্মা। 
     
    আকাশভরা তারার আলোয় সামনে বিছানো পথটা আবছা দেখা হচ্ছে। ওর মধ্যেই চলতে হবে। 
     
    সামনে। আরও সামনে।
  • বিভাগ : গপ্পো | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২৫২ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন