• হরিদাস পাল  গপ্পো

  • দেশদ্রোহী 

    Chayan Samaddar লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২৯১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ভেস্তালিয়া উৎসব শুরু হয়েছে। রোম নগরীর বর্ষিয়সীরা খালি পায়ে হেঁটে চলছেন মন্দিরের দিকে। প্রত্যেকের মাথায় ধরা পূজার অর্ঘ্য। এই মন্দিরের দ্বার পূর্বাস্য। প্রতিটি নতুন দিনের সূর্যের কিরণ বন্দনা করে চিরকুমারী দেবী ভেস্তাকে। রোমের সুখ, সমৃদ্ধি, পরিবার, পবিত্র অগ্নি সব কিছুর রক্ষয়িত্রী ভেস্তা। তাঁর মন্দিরে প্রবেশাধিকার কেবল অক্ষতযোনি ভেস্তাল কুমারীদের। কঠোরতম ব্রহ্মচর্য তাঁদের সাধনা। ভেস্তালিয়া চলে তিনদিন। রোমের সমস্ত কাজ বন্ধ থাকে তখন।

    নিজেদের দোমাস থেকে রাস্তায় নামল তাইপিয়া। তার বাবা, সেনাপতি ম্যাক্সিমুস কুতুলুস, নগরীর ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্রগণ্য। সেই কারণেই প্রশস্ত অঙ্গন সম্বলিত , তাঁর ত্রিতল মর্মরপ্রসাদ সকলের নজর কাড়ে। তাইপিয়া দ্রুত পায়ে হেঁটে চলল।  এই কটা দিন, তাড়াতাড়ি হাঁটলে বা মাথা না ঝুঁকিয়ে চললেও বেহায়া, অসভ্য বলবে না কেউ। বড় রাস্তাকে কেটে ডান দিকে, বাঁ দিকে ছোট ছোট রাস্তা চলে গেছে। তাদের দু'পাশে পাঁচতলা বাড়ির সার। সাধারণ নাগরিকদের বাসস্থান, ইনসুলা। প্রতি বাড়ি চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন মানুষের বাস। একতলায় দোকান। ফলের, মসলার, গন্ধদ্রব্যের। কাপড়ও বিক্রি হয়। দোতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত আবাসস্থল। প্রতি পরিবারের জন্য বরাদ্দ  দু'টি ছোট আর অপ্রশস্ত কামরা। রাস্তায় ছোট ছোট ছেলেরা দৌড়োদৌড়ি করছে। লোম ঝুমঝুম কুকুররা খিঁউখিঁউ করে ডাকছে। এই সব বালসুলভ চপলতার দিকে,পরম তাচ্ছিল্য ভরে, আধবোজা চোখে চেয়ে আছে বিড়ালেরা।

    এই  রাস্তার শেষের বাড়িটা পস্তমিয়াদের। বাবা নেই। মা ক্যালপুরনিয়া আর দাদা অগাস্তুস -এর সঙ্গে থাকে। অগাস্তুস আগে নবম লিজিয়নের সেনানী ছিল। ভীই-এর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয়ের জন্য সেনেট যে জরিমানা ধার্য করেন, তা দিতে গিয়ে, বাড়ি-ঘর, আসবাবপত্র সব বিক্রি করতে হয়েছে। উঠে আসতে হয়েছে ধনীপল্লী থেকে সাধারণের মাঝে। পস্তুমিয়া পথেই দাঁড়িয়েছিল। তাইপিয়াকে দেখে হাত নাড়ল। মেয়েটা খুব উচ্ছ্বল, চোখে মুখে বুদ্ধির আভা। ছোট হাতা, লম্বা ঝুলের স্তোলা, আর তার ওপর দিয়ে জড়ানো পালা -শাল, পরে আছে। খুবই কম দামী, কিন্তু পরার ধরণই এমন যে তার পাশে তাইপিয়ার দামী পোশাক নিষ্প্রভ লাগছে। দুই বন্ধু পাশাপাশি হেঁটে চলল। একটা দোকানের সামনে বিরাট ভিড়। দোকানি বুক বাজিয়ে বলছে,

    - এক থান কাপড়, একটা আংটির মধ্যে দিয়ে টেনে নেওয়া যায়, এত সূক্ষ্ম। এর কোনও দাম নেই। সবচেয়ে বেশি যিনি দেবেন এ কাপড় তাঁর।

    যত্ত বুজরুকি! ঠোঁট বাঁকালো তাইপিয়া। পস্তুমিয়া হাসল,

    - না, ঠিকই বলছে। পুব দিকে ইন্দোস্ বলে একটা দেশ আছে। সেখান থেকে এসেছে এই কাপড়। মাসলিনুম নাম।

    - তুই কত জানিস রে পস্তুমিয়া!

    - আরে ধ্যুৎ! মেয়েদের আবার জানা। খালি পবিত্র আছি কি না, মেনে চলছি কি না, তার ওপরই সব কিছু নির্ভর করে! কিন্তু মন? তাইপিয়া, ওটা তো আমার নিজের?

    নীচু গলায়, গানের মতো করে আবৃত্তি করলো পস্তুমিয়া,

    - ভুললে আমার প্রীতি
    মনে করে দেখো মোদের অর্ঘ্যে
    সাজেন অ্যাফ্রোদিতি।

    পর্ণে পুষ্পে সাজাই ও কেশ রাশি
    গোলাপমাল্য হোক আভূষণ -
    তরুণী গো! ভালোবাসি।

    তাইপিয়া মুগ্ধ হয়ে গেল।

    - কী সুন্দর রে! তোর লেখা?

    পস্তুমিয়া কেমন করে যেন তার দিকে চেয়ে আছে। গা শির শির করছে। হঠাৎ, ও জোরে হেসে উঠল।

    - আরে না রে! তবে, এক মেয়ের লেখা বটে! অনেক দিন আগে, এই কবিতা লিখেছিলেন, গ্রীস দেশের সাফো। দাদার কাছে অনুবাদ করা একটা পুঁথি আছে। লুকিয়ে চুরিয়ে পড়েছি। আর মুখস্ত করেছি। ধরা পড়লে তো সর্বনাশ! মেয়েমানুষ আর ক্রীতদাসের মধ্যে কোনও পার্থক্য আছে রোমে?

    বলতে বলতেই আবার হাসি।

    - ওই চুটকিটা জানিস তো? একজন অন্যএকজনকে, এক ক্রীতদাস বিক্রি করলো। তা, কাজের চাপে একদিন দুম করে মরে গেল সেটা। এরপর একদিন, পরের মালিকের সঙ্গে দেখা। বললেন, এটা কীরকম হলো? যেটা বেচলেন আমায়, সেটা মরে গেল যে? আগের মালিক বললেন, সমস্ত দেবদেবীর দোহাই! আমার কাছে এতদিন কাজ করেছে, একবারও মরেনি, বিশ্বাস করুন!

    খিলখিল করে হেসেই মুখে হাতচাপা দিল তাইপিয়া। কে কোথায় দেখে ফেলবে! পস্তুমিয়ার লজ্জা ভয়ের বালাই নেই! হেসেই যাচ্ছৈ। একটা লোক পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চোখ পাকিয়ে তাকালো। মেয়েমানুষ কবিতা লিখত? সে কবে? জল আনত? কাপড় কাচত? মানে মেয়েদের কাজগুলো করেই কবিতা লিখত কি? পস্তুমিয়া কী যেন বলল।

    - অ্যাঁ? কিছু বললি?

    - বললাম, প্রচুর  সাবাইন মেয়ে ধরে এনেছে রোমান সৈন্যরা। হঠাৎ, আক্রমণ করে। কোথায় রেখেছে জানিস? তোর বাবা তো সেনাপতি!

    - আমি তো একথা এই প্রথম শুনছি! ধরে এনেছে? কেন? তুই জানলি কী করে?

    - দাদা, ফৌজি বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছে। কেন?  ভেস্তার মন্দিরে পুজারিনী করবে বলে! তুই ন্যাকা না বোকা আমায় বল্ তো? সৈনিকদের কাম তৃপ্তির জন্য। বুঝলি? এক একটা মেয়েকে কতজন করে যে করবে, জোভ জানেন!

    আতঙ্কে মুখে হাত দিয়েছে তাইপিয়া। গালে নখ বসে যাচ্ছে। এসব কী শুনছে সে? কিন্তু, কথা আর এগোলো না। ভেস্তার মন্দির এসে গেছে।

    সেনাপতি ম্যাক্সিমুস কুতুলুস তাঁর সেনা অর্থাৎ নৈশভোজে খুব বেশি পদ পছন্দ করেন না। তুলতুলে হরিণমাংস, হালকা আঁচে সেঁকা ফেজান্ট, বাঁধাকপিপাতা, গাজর আর জলপাই দিয়ে বানানো স্যালাড এবং
    এক জাগ আঙুরের রসে বানানো ওয়াইনেই তাঁর চলে যায়।  তাঁর সামনে স্ত্রী অগাস্তা ও কন্য তাইপিয়ার প্রয়োজনাতিরিক্ত কথা বলার অনুমতি নেই। কিন্তু, আজ নিয়মের ব্যতিক্রম হলো। প্রথমে তিনি নিজের কানকে অবিশ্বাস করেছিলেন। তবে, দ্বিতীয়বারও যখন তাইপিয়ার মুখ থেকেই শব্দগুলো বেরোল, সেনানায়ক বিশ্বাস করতে বাধ্য হলেন, তাঁর কন্যাই ওই অবিশ্বাস্য কথাগুলি উচ্চারণ করেছে।

    - সাবাইন মেয়েদের কেন ধরে আনা হয়েছে পিতা?

    ম্যাক্সিমুসের হাত তরবারির দিকে এগিয়ে থেমে গেল। জলদকন্ঠে তিনি বলদেন,

    - কন্যা, এই মুহূর্তে তুমি দুটি অপরাধে অপরাধিনী। প্রথম, নারীর অধিকারের সীমা লঙ্ঘন। দ্বিতীয়, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন। অন্য কেউ এই ধৃষ্টতা করলে, এই মুহূর্তে তাকে বধ করতাম। কিন্তু, তুমি আমার একমাত্র সন্তান। তাই বলছি, দ্বিতীয়বার প্রয়োজনাতিরিক্ত একটি শব্দ উচ্চারণ করলে তোমার গলায় পাথর বেঁধে, টাইবারে ফেলে দেব। পেতার ফামিলিউস - পরিবার প্রধান - হিসেবে সে অধিকার আমার আছে।

    তাইপিয়া মুখ নীচু করে আছে। সেনাপতি এবার কিছুটা সদয় কন্ঠে বললেন,

    - তুমি এসব শুনলে কোথা থেকে?

    অস্ফুট স্বরে তাইপিয়া বলল,

    - পস্তুমিয়া।

    - অগাস্তুস ভালেরিউসের বোন? বুঝেছি!

    পরের দিন সকালবেলা। ম্যাক্সিমুস বেরনোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক ক্রীতদাস একখানি পত্র দিল তাঁর হাতে। পড়তে পড়তে ভ্রু কপালে তুললেন সেনানায়ক।

    - তাইপিয়া।

    - পিতা।

    - পুরোহিত সভা তোমাকে স্বাক্ষ্য দিতে আহ্বান করেছেন। বাইরে দূত দাঁড়িয়ে। সঙ্গে যাও। সব সত্য বোলো। এর মধ্যে আমি সংবাদ নিচ্ছি।

    ক্যাপিটোলাইন সিটাডেল। ধর্মাধিকরণ। প্রধান দেবতাদের পুরোহিতরা বিচারক। অভিযুক্ত কে? একী! পস্তুমিয়া? জোভের পুরোহিত সিনা তাঁর শান্ত, গম্ভীর স্বরে বললেন,

    - অভিযোগকারী হিস্তোফাস দোমিনিকুস, এগিয়ে এস।

    আরে! এ তো সেই লোকটা! পাশ দিয়ে যেতে যেতে যে পস্তুমিয়ার পানে কটমটিয়ে চাইছিল।

    - আমি হিস্তোফাস দোমিনিকুস, নগরীর সংবাদ সংগ্রাহকদের একজন, আমার অভিযোগ লিখিত আকারে ইতিপূর্বেই পেশ করেছি।

    - এই মেয়েটি কি নজরবন্দিনী ছিল?

    - দীর্ঘদিন। এর দাদা অগস্তুস পদচ্যূত সেনাধ্যক্ষ্য। আর, এই মেয়েটির আচরণ সম্বন্ধে সম্ভ্রান্ত নাগরিকরা অভিযোগ করে আসছিলেন অনেকদিন যাবৎ।

    - তুমি এর বিরুদ্ধে ব্যাভিচারের অভিযোগ এনেছ। প্রমাণ কী?
  • আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar


  • - এই নারী নির্লজ্জা, উচ্চরবে হাসে, নিজেকে ব্যক্তিত্বময়ী প্রমাণের জন্য ভিন্নভাবে পোশাক পরিধান করে, চুটকি বলে, শুচিতার কথা না ভেবে, রাজনীতি নিয়ে কথা বলে।

    - সব যদি মেনেও নেওয়া হয়, তাহলেও ব্যাভিচার প্রমাণিত হয় কী করে? একে সাবধান হতে বলা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকে না।

    - পুরোহিত মহোদয়। আমার প্রকৃত অভিযোগ এমন এক অশুচিতা, এমন বীভৎস অনৈসর্গিকতার বিরূদ্ধে , যে মূল অভিযোগপত্রে আমি তা লিপিবদ্ধ করতে পারিনি। আমি চাইনি, আর কেউ এই জঘন্যতা বিষয়ে অগ্রিম জানুক। ক্ষমা করবেন, কিন্তু, আপনাদের কাছে আসার আগে, করণিকদের অভিযোগপত্র পাঠের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না। নারী সম্বন্ধীয় কুৎসা তাঁরা উপভোগ করেন, আমরা জানি। আমি মূল অভিযোগ লিখে সঙ্গে এনেছি। এই যে।

    সিনার মুখ দেখে মনে হচ্ছে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। বাকী পুরোহিতদের মুখেও নিঃসীম ঘৃণার ছাপ। সিনা ধরা গলায় বললেন,

    - প্রমাণ?

    - সেনানায়ক ম্যাক্সিমুসের কন্যা তাইপিয়াকে স্বাক্ষ্য দিতে ডাকার কথা এই কারণেই বলা হয়েছিল।

    - তাইপিয়া, তোমায় একটি পংক্তি শোনানো হচ্ছে। শুনে বলো, এটি তোমার পূর্ব পরিচিত কিনা।

    ভুললে আমার প্রীতি
    মনে করে দেখো মোদের অর্ঘ্যে
    সাজেন অ্যাফ্রোদিতি।

    পর্ণে পুষ্পে সাজাই ও কেশ রাশি
    গোলাপমাল্য হোক আভূষণ -
    তরুণী গো! ভালোবাসি।

    - হ্যাঁ, পরিচিত। সাফোর লেখা। পস্তুমিয়া শুনিয়েছিল।

    - তুমি কি জানো সাফো বিকৃতকামে বিশ্বাসী ছিলো?

    - তার মানে?

    - আচ্ছা, এই কবিতা বলার সময়, অভিযুক্ত কি তোমায় স্পর্শ করে?

    - না।

    - কুৎসিতভাবে তোমার দিকে তাকায়?

    - না তো! তবে, কেমনভাবে যেন ...

    - ওকে ছেড়ে দিন। আমি সব অপরাধ স্বীকার করছি।

    - সব অপরাধ অভিযুক্ত পস্তুমিয়া? অজাচার, বিকৃতকাম, সব?

    - হ্যাঁ, সব।

    - পুরোহিত সভা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে এসেছে যে, এই প্রাণীটির জন্য কঠিনতম দণ্ডই বিধেয়। পোইনা কুল্লেই! লাঠির আঘাতে মস্তকচূর্ণ করার পর, একটি থলিতে একে পুরে, থলিটি সেলাই করে নদীতে ফেলে দেওয়া হবে। থলির মধ্যে অপরাধী ছাড়াও থাকবে একটি মোরগ, একটি কুকুর, একটি সাপ ও একটি বানর।

    - সেনাধ্যক্ষের কন্যা জ্ঞান হারিয়েছে ওকে কেউ দেখুন।

    কতমাস কেটেছে? নাকি কতযুগ বলা উচিত? বিছানা থেকে উঠতে ভালো লাগে না তাইপিয়া। এখন প্রচণ্ড যুদ্ধ চলেছে। সাবাইন সেনাবাহিনী রোম আক্রমণ করেছে। এমনভাবে নগর অবরোধ করা হয়েছে যে কারওর নগর ছাড়ার উপায় নেই। শুধু, দুই পক্ষের সেনানায়করা নগরীর নারীদের প্রাচীরের বাইরে, নদীতে জল আনতে যেতে দিতে রাজী হয়েছেন। আজ সকাল থেকেই নগরীর দ্বারের কাছে প্রবল যুদ্ধ চলেছে। মা জল আনবেন বলে উঠেছেন। তাইপিয়া দেখছে তাঁর যন্ত্রণাকাতর মুখ।

    - কী হয়েছে মা?

    - পেটে অসহ্য ব্যথা রে!

    - তুমি বিশ্রাম নাও মা। আমি নিয়ে আসছি।

    কিন্তু, রাস্তায় বেরোন মাত্র, বিশাল বিশাল আগুনের গোলা প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে এসে পড়তে লাগল। প্রাণ বাঁচাতে সবাই ছুটছে। তাইপিয়াও ছুটলো। ছোটার সময় দিক ঠিক করেনি। হঠাৎ দেখল, ক্যাপিটোলিনে সিটাডেলের মধ্যে সে দাঁড়িয়ে। যুদ্ধদেবতা মার্সের মৃর্তির পেছনে গিয়ে লুকোল তাইপিয়া। দুহাতে জড়িয়ে ধরল পা। বুক ধ্বক ধ্বক করছে। হাঁটু কাঁপছে। হঠাৎ, কাঁপা হাঁটুর ধাক্কা লাগল মার্সের গুলফের ওপর। তৎক্ষণাৎ ঘুরে গেল মূর্তি। ভারসাম্য হারিয়ে নীচে পড়ে গেদ তাইপিয়া। লাগল বেশ। একটু জিরিয়ে উঠে আশপাশে তাকালো তাইপিয়া। ডানদিকের দেওয়ালের গায়ে একটা হাতল। যে উচ্চতায় আছে, তা তাইপিয়ার নাগালের বাইরে। যতদূর বোঝা যাচ্ছে, এটা একটা বিশাল সুড়ঙ্গ। আবছা আলো যখন আসছে, নিঃশ্বাস যখন নেওয়া যাচ্ছে, তখন এর  আর একটা মুখ আছেই। আপাতত, সুড়ঙ্গকে অনুসরণ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। কতক্ষণ চলল হিসেব নেই। হঠাৎ একটা পাথরের ফাঁক থেকে দিনের আলো বেরোতে দেখল তাইপিয়া। তার গায়ে সেই রকম একটা হাতল। ঘোরাতেই সরে গেল পাথর। তাইপিয়া দেখল, নদীর উলটো দিকে ক্যাপিতোলিনে পাহাড়ের গায়ে একটা তাকের মতো জায়গায় সে দাঁড়িয়ে। সামনে দিয়ে এঁকেবেঁকে পথ নেমে গেছে। উতরাই নামতে লাগল তাইপিয়া। আচমকা, সামনে পড়ল একদল সারবাইন সৈন্য। দুপক্ষই পটে আঁকা ছবির মতো পরস্পরের পানে চেয়ে। হঠাৎ, সৈন্যদের মধ্যে নেতাগোছের একজনের চোখ সরু হয়ে উঠল।

    - আপনার হাতের আংটিতে কুতুলুস বংশের চিহ্ন। এ চিহ্ন আমি চিনি। সেনাপতি ম্যাক্সিমুসের সঙ্গে অসিযুদ্ধ করেছি আমি, মারকুস ওরেলিউস। আপনি তাঁর কে হন?

    - কন্যা।

    - মাননীয়া, একবার আমাদের মহামান্য নরপতি তাতিয়াসের কাছে চলুন। আপনাকে শ্রান্ত দেখাচ্ছে। একটু বিশ্রাম করে নেবেন।

    সম্মোহিতের মতো সঙ্গে চললো তাইপিয়া। এরকম ব্যবহার একেবারে নতুন তার কাছে। রাজা তাতিয়াসকে দেখে শ্বাস ফেলতে ভুলে গেল তাইপিয়া। মানুষ এত সুন্দর হয়! মারকুস রাজার সঙ্গে নীচু গলায় কীসব কথা বললো। তারপর হাসলেন তাতিয়াস।

    - আমি ক্ষমাপ্রার্থী দেবী। যুদ্ধ আমার ভালো লাগে না। তবু, করতে হচ্ছে। আমাদের নারীদের জন্য।

    - আপনারা নারীদের এত সম্মান করেন?

    - উঁ? ক্ষমা করবেন। অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম। আমার সমস্ত প্রজা আমার পুত্র কন্যা। আমার কন্যারা কষ্ট পাচ্ছে, এই ভাবনা আমায় চঞ্চল করছে। হ্যাঁ, আপনি কী বলছিলেন? সম্মান? আমরা, রোমানদের নারীজাতির প্রতি ব্যবহার ঘৃণ্য মনে করি। সাবাইন নারীরা স্বাধীন নাগরিক। পুরুষের সমান অধিকার তাদের। তোমাদের নগরীর নারীরা এই যুদ্ধে কী কষ্ট পাচ্ছে আমি বুঝি মা! কোনওভাবে নগরে প্রবেশ করতে পারলে, যুদ্ধ জিতে যেতাম। তারপর আমার কন্যাদের নিয়ে ফিরে যেতাম। আমরা যে দুঃখে কাতর হয়ে, প্রার্থীরূপে এসেছি তা বুঝতেই চাইছে না রোম। তুমিই বলো মা, এই অনর্থক হানাহানিতে কার লাভ?

    - আচ্ছা, আপনারা জিতে গেলে তো আপনাদের কথাই চলবে। তখন, আমাদেরকে পুরুষের সমান বলে ঘোষণা করবেন?

    - মা, আমি তাতিয়াস, দেবরাজ জোভের নামে শপথ করছি, সে অধিকার সর্বপ্রথম তুমি লাভ করবে। তুমি হবে আমার রাষ্ট্রদূত। তারপর, নারীকল্যাণের জন্য তুমি যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি পূর্ণশক্তি দিয়ে তাকে সমর্থন করব।

    - চলুন, আমি রাস্তা দেখাচ্ছি।

    বাছাই করা একশ জন সাবাইন যোদ্ধা চলেছে। নেতৃত্বে স্বয়ং তাতিয়াস। তাইপিয়া যেখানে পড়ে গিয়েছিল সেখানে দাঁড়িয়ে, আঙুল দিয়ে হাতলটা দেখালো। একজন যোদ্ধা দেওয়ালে পিঠ দিয়ে দাঁড়ালো। তার বাড়ানো হাতের ওপর হালকা পায়ে লাফিয়ে উঠে অপর এক যোদ্ধা হাতলটা টানলো। ঘড় ঘড় আওয়াজে সরে গেল মূর্তি। বাঁ দিক দিয়ে একটা ঢালু পথ ওপরে উঠেছে, এই প্রথম লক্ষ্য করল তাইপিয়া। ঝড়ের মতো উঠে গেল সৈনিকরা। তাতিয়াস নির্দেশ দিচ্ছেন।

    - মূল দ্বার দখল করো। আমি আসছি এখনই। মারকুস, সব সৈন্যর মেয়েছেলে চো--র পূর্ণ অধিকার রইলো। আমাদের জিনিস তুলে এনেছে যারা, তাদের ঘরে ঘরে সাবাইন বাচ্চা জন্মাবে!

    বোবা আতঙ্কে হাঁ হয়ে গেছে তাইপিয়ার ছাইবর্ণ মুখ। তার দিকে চেয়ে হাসলেন তাতিয়াস।

    - জোভের নামে শপথ করেছি মাতঃ, তোমাকে পুরুষের সমান অধিকার দেব। কথা রাখব। যেখানে সবাই সমান সেখানেই পাঠাচ্ছি রে তোকে মাগী! এই নে!

    তলোয়ার ঝলসে উঠলো। ভালো পোশাক পরার সময় পায়নি। ঘরে পরার টিউনিকের সামনেটা রক্তে ভেজা। তবে, কোনও ব্যথা নেই। তাইপিয়ার চোখের সামনে টলটলে জল, তার মধ্যে নীল আকাশে সাদা মেঘের ছায়া। নদীর ওপরে দুহাত বাড়িয়ে পস্তুমিয়া হাসছে। সেই অলজ্জ হাসি।

    গলা খুলে হাসতে হাসতে জলে ঝাঁপ দিল তাইপিয়া।

  • বিভাগ : গপ্পো | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২৯১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কৌশিক সাহা | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৫১498439
  • @Chayan Samaddar
     
    ভাই চয়নবাবু , আপনার গল্পে  কালক্রমের গোলযোগ বড়ই বেশি। 
     Sabine নারীদের অপহরণ / ধর্ষণ Romeএর প্রাক্ সাধারণতন্ত্র যুগের ঘটনা। অর্থাৎ খৃ: পূ:অষ্টম শতাব্দীতে ঘটেছিল এবং Titus Livius মোটামুটি খৃ: পূ: 30-25 নাগাদ ঘটনাটি   Ab Urbe Condita নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। 
    এখন সমস্যা এই যে Roman সেনাবাহিনী খৃ: পূ:অষ্টম শতাব্দীতে Legion, Cohort ইত্যাদিতে বিভক্ত ছিলনা। তারা তখন মূলতঃ লুন্ঠনকারী ডাকাতদলের মতো আলগাভাবে সংঘবদ্ধ হতো। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের Century নামক  একশো যোদ্ধার এককে ভাগ করে সংগঠিত করা হতো। অতএব Augustusদার নবম legionএর সেনানী হবার অসম্ভাব্য।  
     
    খৃ: পূ:অষ্টম শতাব্দীতে, অর্থাৎ প্রাক্ সাধারণতন্ত্র যুগে, সাধারণ Roman নাগরিকরা Insulae জাতীয়   apartmentএ  বসবাস করতো না।  এ ধরণের apartment এর নির্মাণ  সাধারণতন্ত্রের শেষ দিকে বা Punic যুদ্ধের সমসাময়িক কালে আরম্ভ হয়।  (Ref:   Rome: A Living Portrait of an Ancient City. Dyson, Stephen L. JHU Press. 2010,  ISBN 978-1-4214-0101-0. pp. 216–220)| সুতরাং এ কাহিনীতে বর্ণিত insulaeর অস্তিত্ব সেকালে অসম্ভাব্য। 
     
     
    Sapphōর জীবৎকাল খৃ: পূ: 630-570 যা Sabine নারীদের অপহরণ / ধর্ষণের ঘটনার অন্ততঃ এক শতক পরে।  তাই এই কাহিনীর নায়িকা বা উপনায়িকার পক্ষে তাঁর কবিতার উদ্ধৃতি দেওয়া অসম্ভাব্য। তাঁর সমসাময়িক বা পরবর্তী কালে Sapphō মোটেই নিন্দিতা ছিলেন না বরং কবিশ্রেষ্ঠ রূপে আদৃতা ছিলেন। তাঁকে Homer এর তুল্য গণ্য করা হতো এবং তাঁর রচনা যত্নের সহিত সংরক্ষিত  ও প্রকাশিত হতো। 
    (Ref: Hallett, Judith P. . "Sappho and her Social Context: Sense and Sensuality". Signs. 4 (3): pp 447–464, 1979
    "Sappho Schoolmistress". Parker, HoltTransactions of the American Philological Association. 123, 1993. )
     
    আপনার নায়িকার নাম Tarpeia, Taipeia নয় এবং তাঁর পিতা ছিলেন সেনাপতি Spurius Tarpeius, Maximus
  • কৌশিক সাহা | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:০৯498440
  • Cutulus নয়। Catullus Maxumus প্রায় সাতশো বৎসর পরের Roman কবি ছিলেন।  আপনার বর্ণিত ঘটনার পর Tatius এর ​​​​​​​নেতৃত্বে Sabine এবং Romulus এর ​​​​​​​নেতৃত্বে Roman দের মধ্যে  ​​​​​​​ভয়ানক যুদ্ধ ​​​​​​​আরম্ভ ​​​​​​​হয় এবং ​​​​​​​পূর্বে ​​​​​​​অপহৃতা / ধর্ষিতা Sabine নারীরা ​​​​​​​মধ্যস্থতা ​​​​​​​করে ​​​​​​​সেই ​​​​​​​যুদ্ধ রোধ করে। এ তথ্যের স্বপক্ষে   নিম্নে  Titus Livius এর Ab urbe Condita থেকে উদ্ধৃত করছি।  Bold অংশটি ​​​​​​​অনুধাবন ​​​​​যোগ্য। 
     
    "Tum Sabinae mulieres, quarum ex iniuria bellum ortum erat, crinibus passis scissaque veste, victo malis muliebri pavore, ausae se inter tela volantia inferre, ex transverso impetu facto dirimere infestas acies, dirimere iras, hinc patres, hinc viros orantes, ne sanguine se nefando soceri generique respergerent, ne parricidio macularent partus suos, nepotum illi, hi liberum progeniem. "Si adfinitatis inter vos, si conubii piget, in nos vertite iras; nos causa belli, nos volnerum ac caedium viris ac parentibus sumus; melius peribimus quam sine alteris vestrum viduae aut orbae vivemus." movet res cum multitudinem tum duces; silentium et repentina fit quies; inde ad foedus faciendum duces prodeunt. Nec pacem modo sed civitatem unam ex duabus faciunt. Regnum consociant: imperium omne conferunt Romam. Ita geminata urbe ut Sabinis tamen aliquid daretur Quirites a Curibus appellati. Monumentum eius pugnae ubi primum ex profunda emersus palude equus Curtium in vado statuit, Curtium lacum appellarunt.
     
    Ex bello tam tristi laeta repente pax cariores Sabinas viris ac parentibus et ante omnes Romulo ipsi fecit. Itaque cum populum in curias triginta divideret, nomina earum curiis imposuit. Id non traditur, cum haud dubie aliquanto numerus maior hoc mulierum fuerit, aetate an dignitatibus suis virorumue an sorte lectae sint, quae nomina curiis darent. Eodem tempore et centuriae tres equitum conscriptae sunt. Ramnenses ab Romulo, ab T. Tatio Titienses appellati: Lucerum nominis et originis causa incerta est. Inde non modo commune sed concors etiam regnum duobus regibus fuit."
     
    একটু উটের পাকস্থলী হয়ে গেছে ভাই , পরের বার একটু দেখে শুনে নেবেন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন