• বুলবুলভাজা  পড়াবই  মনে রবে

  • কুমু ও জয়ন্তী অধিকারীঃ একের মধ্যে দুই

    রঞ্জন রায়
    পড়াবই | মনে রবে | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪৮৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • কুমুদি চলে গেলেন, ছয় মাস হল। কুমুদি রয়ে গেলেন। তাঁর গ্রন্থিত , অগ্রন্থিত গল্পে, প্রবন্ধে, কবিতায়।
    কুমুদি রয়ে গেলেন স্মৃতিতে।
    গুরুচণ্ডা৯ র 'মনে রবে' তে কুমুদি, এবং শুধুই কুমুদি।
    সবাই বলত কুমু বা কুমুদিদি। গুরুচন্ডালি তখনও পাঁচ বছরের বাচ্চা। ফলে এখনকার মত “গুরু” হয়ে ওঠেনি বরং ‘চন্ডালপনা’ই বেশি। কখনও কখনও ইয়ার্কি ফাজলামি বদলে যেত তিক্ততায়। কখনও রাজনৈতিক বিতর্ক পাঁচনের স্বাদ আনত। সে ছিল বামরাজের শেষের দিনগুলো। আর কে না জানে শেষের দিন সবসময়ে ভয়ংকর হয়। আমি এবং অনেকেই তখন উত্তেজনার আগুনে পুড়ে সৌজন্য ও সুস্থ বিতর্কের সীমারেখা লঙ্ঘন করেছি।

    কিন্তু এইসব গরম লু’ এর হলকার মাঝে টের পেতাম এক ঝলক স্নিগ্ধ হাওয়ার। কেউ একজন আঁকছেন দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত ছবির টুকরো টাকরা দিয়ে তৈরি কোলাজ। টুকরোগুলো বাস্তব, টুকরোগুলো আটপৌরে জীবনযাপনের। তাতে রঙের ছোপ কখনই চড়া করে লাগানো নয়, বরং ওয়াশের কাজ। সেই জীবনে সিপিএম-তৃণমূল-বিজেপি নেই, বোমাবারুদ নেই। কিন্তু আছে, খুব বেশি করে আছে সাধারণ মানুষ। বোঝা যায় যিনি লিখছেন তিনি সম্পন্ন বাঙালি পরিবারের। বড় হয়েছেন এমন পরিবারে যাদের কাজের লোকজন মালি ড্রাইভার ঘরের কাজের মহিলারা সবাই এক বৃহত্তর পরিবারের অংশ। এক উনিশ শতকীয় শুভবুদ্ধি ও কল্যাণবোধ সেই পরিবারের মূল্যবোধের অঙ্গ। তাই তাঁর সরস লেখায় এই সব কাজের মানুষেরা রূপ পেত পরম মমতায়।

    ধীরে ধীরে সবাই চিনল কুমুদিনী বা কুমুকে। জেনে গেল, রাজনৈতিক তরজায় উনি আসবেন না। মার্কসবাদের বা পোস্ট মর্ডানিজমের দুনিয়া নিয়ে ওনার কোন মাথাব্যথা নেই। কখনও বাধ্য হয়ে মুখোমুখি হলে কুমুদিনী হালকা হাসির সঙ্গে বলবেন -ওসব কটিন কটিন কতা। আমরা ধীরে ধীরে কুমুদিনী চরিত্রের স্নিগ্ধতায় মুগ্ধ হতে লাগলাম। কখনও অন্তহীন তরজায় মেতে উঠে ফের ক্লান্ত হয়ে পড়লে অপেক্ষায় থাকতাম—এবার একটা কুমুর লেখা আসুক, অনেক তো হোল।
    ওনার সঙ্গে আমাদের কি টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ ছিল? কারণ সেইসময়েই এসে যেত একটা এমন লেখা যে সঙ্গে সঙ্গে সুপারহিট! একেবারে সিগনেচার কুমুদিনী! তাতে হিউমার আছে, উইট আছে, কিন্তু স্যাট্যায়ার বা সারকাজম নেই।

    উনি কি আমাদের পি জি উডহাউস? না; উনি একান্ত ভাবে আমাদের অনাবিল বাঙালি হিউমারের ঘরানার। অল্প শিব্রাম, অনেকটা পরশুরাম আর একটুখানি প্রভাত মুখুজ্যে।
    ওঁর ধর্মবিশ্বাস কী ছিল জানিনা, কিন্তু সমস্ত রচনার শেষে মধুরেণ সমাপয়েৎ আমাদের ভাবতে বাধ্য করে –আছে দুঃখ আছে মৃত্যু; কিন্তু এ’সবের মধ্যেও আনন্দ ও সুন্দরের খোঁজ পাওয়া যায়। লেখার মধ্যে ফুটে ওঠে লেখকের প্রশান্তি । এই প্রশান্তির খোঁজ আমি আজও পাইনি, কিন্তু উনি আমার চেয়ে বয়েসে অনেকটা ছোট হয়েও পেয়ে গেছলেন। কীভাবে? সে রহস্য সমাধানের চাবি বরাবরের মত হারিয়ে গেছে।

    কিন্তু দিল্লি যাবার সময় একবার ভাটপাতায় অথবা মোবাইলে মেসেজ এল “ দিল্লিতে স্বাগত রঞ্জনদা; জয়ন্তী অধিকারী”। আমি অবাক, ইনি কে? ক্রমশঃ জানতে পারলাম -উনি দিল্লিবাসী, রাজৌরি গার্ডেনে থাকেন। তাহলে কুমু কে?

    সেই কুমু, যার হ্যাঁচ্চোর চোটে নানা অসম্ভব মজার কান্ড হয়ে গেল। যার চুলে কলম আটকে থাকায় হবু স্বামী কলেজ স্ট্রিটে অঝোর বৃষ্টির মধ্যে ‘চোর চোর” আওয়াজ তুলে পাবলিক খেপালেন? আমি অবাক, এ কেমন কোর্টম্যানশিপ?

    ততদিনে জেনে গেছি জয়ন্তী অধিকারীর অন্য অর্ধাঙ্গের নাম শ্যামলদা। উনি সবার শ্যামলদা। দিল্লির বইমেলায় গুরুচন্ডালির স্টল ওঁকে বাদ দিয়ে ভাব যেত না। কিন্তু ততদিনে আমি কোলকাতাবাসী। ফেব্রুয়ারি মার্চের দিল্লির শীতে বইমেলায় যাওয়ার আশা ছেড়ে দিই। ছবিতে দেখি সবাইকে- কুমুদিনী উরফ জয়ন্তী ও শ্যামল অধিকারীকে। তার সঙ্গে শমীক, স্বর্ণালী ও ফরিদা দম্পতিকে। কিন্তু শ্যামলদা সম্বন্ধে মনটা খোলে না। এ কেমন লোক যে পূর্বরাগ পিরিয়ডে পছন্দের মেয়েটিকে চোর চোর বলে লোক লেলিয়ে দেয়। অবশ্যি পরে ‘কেবলি’ কুমুর বৃষ্টিভেজা প্র্যাকটিক্যাল নোটবুক ইত্যাদি যতন করে গুছিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসে! মানুষটা খুব সুবিধের নয় মনে হচ্ছে।

    তারপর আরও কান্ড। বিয়ের দিন বাঙাল বর বিনা খবর ভরা বৃষ্টির মাঝে হাজির হয়ে যায়। আরে বিয়ে তো রাত্তিরে! কনেবাড়ির লোকজন ব্যতিব্যস্ত, অগোছালো ঘর, আবার কুমুকে অন্যদের মুখ টিপে খোঁটা। জামাইয়ের তর সইছে না!
    নাঃ, এই ভদ্রলোক সমস্ত বাঙালদের অপমান করেছেন। বাঙাল হলেই কি অমন কাঙাল বা হ্যাংলা হতে হবে?
    কিন্তু পিকচার তখনও বাকি ছিল। বাসরঘরে পন্ডিত বর কুমুকে বাধ্য করলেন শাড়ি ছেড়ে স্কার্ট পরে বই ও নোটস নিয়ে ওনার সঙ্গে আসনপিঁড়ি হয়ে বসতে। নাঃ, কনেচন্দন মুছতে বলেছিলেন এমন কথা জয়ন্তী লেখেননি।

    কিন্তু ব্যাপারটা কী? হরি হরি! পরের দিন কুমুদিনীর পিএইচডি’র ভাইভা। তাই উনি তার রেয়াজ করাবেন! মানে ভাইভার রিহার্সাল? উনি যে ওই বিষয়ে আগেই পিএইচডি।
    উরিত্তারা! এ তো পুরো হিন্দি ফিল্ম। নিঘঘাৎ কুমুকে বলে থাকবেন—তুম জিস স্কুল ক্যা স্টুডেন্ট হো, ম্যাঁয় উহাঁ হেডমাস্টার রহ চুকা হুঁ।
    আমার বুক গর্বে ফুলে ওঠে। ভুল বুঝেছিলাম শ্যামলদাকে। উনি বাঙালকুলের কুলতিলক। কী সংযম, কী স্যাক্রিফাইস। বাঙাল বলে কি স্কলার হতে পারেনা? কুমুদিনী ও শ্যামলদা, আহা, একেবারে রাম মিলায়ে জোড়ি!

    এর দু’বছর পরের এক দিন।


    চিত্তরঞ্জন পার্কে মেয়ের ঘরে বসে আড্ডা দিচ্ছি, ফোন বেজে উঠল। পরশু দিল্লিহাটে দিল্লিবাসী গুরু ও চন্ডালের ভাট হবে, সবাই আসছে। রঞ্জনদার কি সময় হবে? আমি জয়ন্তী বলছি।
    আরে জয়ন্তী মানে কুমু?
    খিলখিলিয়ে হাসি। হ্যাঁ, সেই কুমু। আদি এবং অকৃত্রিম। আপনি আসছেন তো?
    আলবাৎ আসছি, আর শ্যামলদা আসছেন তো? আলাপ করব। জিজ্ঞেস করব-- কেন আপনার পেছনে কলেজ স্ট্রিটের ঝুপ্পুস বৃষ্টির মাঝে আপনাকে ‘ধর ধর ওই চোর ওই চোর’ করে তাড়া করেছিলেন? সেটা কি খুব জরুরি ছিল?
    মানে?
    আরে সেই যে! সেই কেবলি মেয়ের গল্প! আপনার চুলে ওনার ফাউন্টেন পেনের ক্লিপ আটকে যাওয়া আর বৃষ্টিতে ভিজে আপনার বাধাবন্ধহীন হ্যাঁচ্চো?
    খানিকক্ষণ ওপ্রান্তে সব চুপচাপ। তারপর ঝর্নার মত কলকল হাসি, সে হাসি থামে না, থামতে চায় না।
    --কী হোল?
    --আপনি অদ্ভুত লোক, ওটা গল্প, নিখাদ গল্প।
    আমি যেন ডাল ভেঙে গাছ থেকে পড়ে গেলাম। গল্প, সত্যি বলছেন? পুরোটা বানিয়ে বানিয়ে লিখেছেন? নাকি অনেকটা সত্যি, তাতে ২০% খাদ মেশানো?
    --আরে সবটাই বানিয়ে লেখা, অমন কিচ্ছু হয়নি। গল্পের নায়ক মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারির সিনিয়র স্টুডেন্ট। শ্যামলদা অন্য লাইনে পিএইচডি।
    আমার বিশ্বাস হয় না। বলি - শ্যামলদা কাছে পিঠে আছেন? ওনাকে ফোন দিন।
    শ্যামলদা ফোন ধরলে প্রাথমিক আলাপ পরিচয়ের পর আমার কাজের কথায় আসি।
    --শ্যামলদা, কুমুদি কি অন্য ঘরে গেছেন/ এবার বলুন, উনি বলছেন যা লিখেছেন সব বানিয়ে লেখা, ওরকম কিছু আদপে ঘটেনি? ঠিক বলেছেন?
    --হ্যাঁ, সব বানানো।
    শ্যামলদা হাসছেন। আমি জানতে চাই তার মানে আপনি ভাইভার জন্য ওনাকে স্কার্ট পরিয়ে রিভাইজ করাননি বলছেন?
    -ওসব কিছুই করাইনি। জয়ন্তীর কল্পনার ফসল।
    আমার শেষ চেষ্টা। এবার বলবেন জয়ন্তী অধিকারীর, মানে আপনার গিন্নির ঘরের নাম কুমু নয়, বলুন-এটাও বানানো?
    -ঠিক তাই। কুমুদিনী বলে বাস্তবে আমাদের জীবনে কেউ নেই।

    বুঝে ফেলি জয়ন্তী অধিকারী কুমু নন; হতে পারেননা। উনি একটি রিসার্চ ল্যাবে ডায়রেক্টর। উনি গুরুর অন্যদের কাছে খোঁজ নেন -- ইন্টার্ন মেয়েটি পার্লারে গিয়ে থ্রেডিং ও ফেস ম্যাসাজের নাম করে তিনঘন্টা হোল অফিসে আসেনি। এসব ব্যাপারে কত সময় লাগতে পারে। জয়ন্তী লুরুতে ছেলের বাড়ি এসে একবার ঢুঁ মেরে যান কল্লোলের ঘরে লুরুর আড্ডায়। সেখানে হাজির একক, ডিডি, শুভজিৎ, ঈশানী, ব্যাঙ ও কয়েকজন। আর ঘি দিয়ে পায়া রাঁধছেন জনৈক ডক্টর সাহা। জয়ন্তী এসে মেলে ধরেন একগাদা ফিশ ফ্রাই। তারপর আমাদের অ্যালকোহলের গন্ধে ভারি বাতাসে স্বচ্ছন্দে একপাশে মাটিতে বসে পড়েন জয়ন্তী, উনি কেমিস্ট্রির ডক্টরেট যে! এসব গন্ধে ওনার কী করবে?

    কিন্তু যেই একক বলে ওঠে – বাংলা গানে জন লেননের কাছাকাছি হচ্ছেন হালিশহরের রামপ্রসাদ সেন, জয়ন্তী মুচকি হেসে বলেন- সব কটিন কটিন কতা।
    এদিকে গুরুচন্ডালির ডালি ভরে ওঠে এক ‘কেবলি মেয়ে’ কুমুদিনীর নানান গল্পে। স্কুলের নাটকের থেকে বড় হয়ে রাজৌরি গার্ডেনের দুর্গাপূজোয় নাটকের তোড়জোড়, আজাদ সবজি মন্ডিতে ষাঁড়ের গুঁতোগুঁতি, বা ছোটবেলায় অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরা ছোট্ট দস্যি মেয়ে কুমু।

    ধীরে ধীরে বিশ্বাস হয়- কুমু ও জয়ন্তী একই, এক শরীরে বাস করে দু’জনায়। সেই বিশ্বাস প্রত্যয়ে বদলে গেল দিল্লির মার্চ মাসের বইমেলায়—যখন নিজের বইয়ের রিলিজ প্রোগ্রামের হাততালির মধ্যে জয়ন্তীর ভেতর থেকে বেরিয়ে পড়ল দস্যি মেয়ে কুমু, চলে গেল অ্যাডভেঞ্চারের লোভে, কাউকে কিস্যু না বলে।
    ছবিঃ ঋতুপর্ণ বসু, কুমুদির রোমহর্ষক গল্পসমূহ থেকে।
  • বিভাগ : পড়াবই | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪৮৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৫৫498019
  • এই তাহলে ঘটনা? আহা, কি সব দিন! 
  • Reshmi Manna | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:৩৪498031
  • খুব ভাল লাগল| 
  • Mukti Goswami | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৯:৪২498075
  • বড় ভালো লাগলো পড়ে। 
  • অশোক রায় | 42.110.162.4 | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৫৮498108
  • বড়ো ভালো লাগলো। 
  • Sandipan Majumder | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:০৪498113
  • চমৎকার  মানুষ  সম্পর্কে  চমৎকার  লেখা।
  • শ্যামল অধিকারী | 2401:4900:1f34:5608:44ae:7c9a:68b:96f | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:৫৪498183
  • রঞ্জন দা একটি প্রাণবন্ত লেখা।প্রতিটি মুহূর্ত গভীরে ছোঁয়া দিল ... আপনার মনেও থাকে এত।
    আমি খুব একটা পড়াশুনা করি না তবে আপনার লেখা পড়ার একজন ভক্ত।
    আপনার লেখা আমার শুরু থেকেই ভাল লাগে।
    আবার কখনও দেখা হবে।আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। আর কল্লোলদাকেও একটু সামলাবেন।
    শ্যামল
  • Ranjan | 171.50.151.204 | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:২০498315
  • শ্যামলদা
    আপনার কথা মনে থাকবে। ভালো থাকবেন। 
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন