ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • আফগানিস্তান নিয়ে তসলিমা নাসরিন 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৯০৯৬ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)
  • তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ প্রতিদিনে আফগানিস্তান ইত্যাদি নিয়ে একটি লেখা লিখেছেন। তার সারকথা মোটামুটি এইঃ
     
    ১। আমেরিকা আফগানিস্তানে গণতন্ত্র গড়ে দিতে গিয়ে অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে।
    ২। সাধারণ মুসলমানরা এখন আফগানিস্তান থেকে পালাচ্ছেন, বা পালাতে চাইছেন, কারণ মুসলমানরাই সপ্তম শতাব্দীর ধর্মীয় আইনকে খুব ভয় পায়। 
    ৩। তালিবানি আইন চূড়ান্ত নারীবিরোধী। সামান্য স্বাধীনতা উপভোগ করতে গেলেই মেয়েদের তারা পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলে। এবারও ফেলবে। বিয়ের নামে যৌনদাসী বানাবে। 
    ৪। এই তালিবানি আইন এক দেশের ব্যাপার না। সিরিয়া এখন এসে গেছে আফগানিস্তানে, আফগানিস্তান বাংলাদেশে। এ হল প্যান ইসলামিজম। গোটা উপমহাদেশকে তার ফল ভুগতে হবে। 
    ৫। বর্বর এই জঙ্গীরা নারীর সর্বনাশ করবে। তাদের মদত দেবার দায় পাকিস্তান, চিন, রাশিয়ার। 
    ৬। দুনিয়ার মুসলমানরা নারীর এই অবমাননার বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদ করছেনা, যেমন তারা করে থাকে পালেস্তাইনের ক্ষেত্রে। মুসলমান মৌলবাদীরা তো জায়গায় জায়গায় তালিবানের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে।
    ৭। নারীর পরনে যে দাসত্বের শৃঙ্খল, তা ভেঙে ফেলতে কয়েক শতাব্দী লেগেছে। এখন দুদিনেই আবার পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মের আরেক নাম পুরুষতন্ত্র। কিন্তু ধর্মন্ধতা, মৌলবাদ, নারীবিদ্বেষ পুরুষকে রক্ষা করবেনা।
     
    এই সারসংক্ষেপ আমার তৈরি (শুধু পরের মুখে ঝাল না খেয়ে আসল লেখাটি অবশ্যই পড়ুন -- https://www.bd-pratidin.com/editorial/2021/08/19/681973 ) । আলোচনার জন্য। না, তসলিমাকে নিয়ে কিছু বলার নেই, বরং ধন্যবাদই দেবার আছে। এই ধরণের একটি ন্যারেটিভ আভাসে ইঙ্গিতে টুকরো-টাকরায় পশ্চিমী এবং প্রাচ্যের মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে, সেটাকে গুছিয়ে স্পষ্ট করে লিখে ফেলার জন্য। না লিখলে আলোচনাটাই করা যেতনা। 
     
    তা, এই ন্যারেটিভের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নিয়ে কথা বলা যাক। এই ন্যারেটিভের প্রথম লক্ষণ হল, আফগানিস্তানকে আফগানিস্তান বানানোর জন্য পাকিস্তান, চিন এবং কখনও সখনও দুষ্টু রাশিয়াকে দায়ী করা। আর আমেরিকাকে স্রেফ একটু ব্যর্থতার জন্য সমালোচনা করা। আমেরিকা আফগানিস্তানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লাট করেছে, সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু উদ্দেশ্য তো ভালোই ছিল, গণতন্ত্রই তো গড়তে গিয়েছিল। মানুষকে ধর্মান্ধতা থেকে স্বাধীনতা দিয়েছিল, মেয়েদের দিয়েছিল ওড়ার আকাশ। কাইট রানার সেই পশ্চিমী স্বাধীনতার প্রতীক, মালালা হল মুখ। এখন আমেরিকার পিছিয়ে আসায় সে আকাশ ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, এবার অ্যাসিড বৃষ্টি আসন্ন -- এরকম একটা ভাব। 
     
    তো, এ ন্যারেটিভ এতই মোটাদাগের, এবং এতটাই অলীক, যে, আলাদা করে সমালোচনা করার এমনি কোনো কারণই নেই। তবু লেখা যখন হচ্ছে, তখন সংক্ষেপে, স্পষ্ট করেই বলা যাক, বাস্তবতা থেকে এসব অনেক দূরে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আফগানিস্তান হয়ে আরব পর্যন্ত মৌলবাদীদের উত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, মদৎ ছিল কাদের তা কোনো গোপন তথ্য নয়। আফগানিস্তানে মুজাহিদিনদের প্রশিক্ষণ, সৌদি আরবের অগাধ কনট্র‌্যাক্ট, এবং তালিবানদের সঙ্গে চলমান আলোচনা, এসব নিশ্চয়ই গণতন্ত্র এবং নারীর অধিকারের স্বার্থে করা হয়নি। বস্তুত জঙ্গী ইসলাম, মূলত প্রত্যক্ষভাবে পশ্চিমের তৈরি।  
     
    এই ন্যারেটিভের দ্বিতীয় লক্ষণটি আরও কৌতুহলোদ্দীপক। লেখাটিতে, এই ধরণের লেখাগুলির সবকটিতেই, দুইটি বর্গের রমরমা। নারী এবং ইসলাম। এই দুটিকে ঘিরেই চর্চা চলে অবিরত। তা, এই নারী বর্গটি নিয়ে বিস্ময়ের কিছু নেই। গোটা পশ্চিমী মিডিয়াতেই এখন তথাকথিত 'অপর'দের প্রাধান্য। নারী হোক বা কালো রঙের লোক। এও এক নির্মিতি। কিন্তু তার গতিবিধি আলোচনা এখানে করা হচ্ছেনা। যেটা আকর্ষণীয়, সেটা হল, অন্য এক 'অপর'এর ক্ষেত্রে এই অপরবান্ধবতা একেবারেই ভেঙে পড়ছে। সেই অপর হল 'ইসলামিজম'। ইসলামও পশ্চিমের এক 'অপর'। পশ্চিমী সভ্যতার আলোর উল্টোপিঠ। কিন্তু এই 'অপর'কে গৌরবান্বিত করার ব্যাপার তো নেইই, বরং পুরোটাই ভিলেনের রঙে আঁকা। প্যান ইসলামিজম এখানে ভিলেন। দুষ্টু লোক। 
     
    এটা একটু কঠিন করে বলা হয়ে গেল। সোজা করে বললেই ব্যাপারটা বোঝা যাবে। ধরুন, হিলারি ক্লিন্টন ছিলেন যুদ্ধবাজ। বা মার্গারেট থ্যাচার উজিয়ে ফকল্যান্ডে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু এঁদের জন্য নারীবাদকে বা নারীকে পশ্চিমী মিডিয়ায় কেউ ভিলেন ঠাওরায়না। যদি আদৌ কথাটা ওঠে, তখন বলা হয়, ওগুলো ব্যক্তির লক্ষণ, নারী নামক বর্গের নয়। কথাটা অবশ্য ওঠেইনা, বস্তুত এঁদের গৌরবের প্রশ্নে এই লক্ষণগুলোকে সযত্নে আড়াল করা হয়। যেমন হিলারি ক্লিন্টনের পক্ষের মিডিয়া ন্যারেটিভ ছিল 'গ্লাস সিলিং ভাঙা'। যুদ্ধ টুদ্ধ তার অনেক পিছনে। এই সমর্থন  বা সহমর্মিতা কিন্তু ইসলামিজম পায়না। আড়াল করার তো প্রশ্নই নেই, বরং হিলারির সম্পূর্ণ উল্টোদিকে গিয়ে লাদেন একজন বিচ্ছিন্ন মানুষ নন, একটি প্রতীক হয়ে যান, যদিও হিসেব করলে দেখা যাবে, লাদেনের আদেশে একটি শহরের একটি বহুতল ভেঙেছে, হিলারির আদেশে হয়তো একশটি। মুসলমানরা সদলবলে তালিবানদের নিন্দে না করে ভিলেন হয়ে যান, কিন্তু দুনিয়ার পশ্চিমীরা, মিডিয়া সহ, বুশ নামক এক রাষ্ট্রনায়কের স্রেফ গুলবাজি করে ইরাক নামক একটি গোটা দেশকে ধ্বংস করে দেবার নিন্দে সজোরে কখনই করে উঠতে পারলনা, তাই তারা গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক। এই অন্তর্নিহিত দ্বিচারিতা, আলোকজ্জ্বল পশ্চিমে আছে। ফলে লিঙ্গ বা গাত্রবর্ণ নিয়ে যতই ঢক্কানিনাদ চলুক, আদতে অপরবান্ধবতা, বোঝা যায়, পশ্চিমের আর পাঁচটি গিমিকের মধ্যে একটি।
     
    তৃতীয় এবং সর্বশেষ লক্ষণটি এখানে লক্ষ্যণীয়, যে, শুধু ইসলামিজম-বনাম-নারী দ্বৈত নয়, আরও একটি দ্বৈতও এখানে প্রকট। সেটি হল নারী বনাম পুরুষ। নারীকে শুধু জঙ্গী ইসলামই পীড়ন করছে তা নয়, সামগ্রিক ভাবে পুরুষও একই দোষে দুষ্ট। অর্থাৎ শুধু 'ঐস্লামিক' পুরুষ নয়, এই ক্ষেত্রে বৃহত্তর ভিলেনটি হল পুরুষ। এর জন্য নির্মান করা হয়েছে একটি নতুনতর বর্গ, পুরুষতন্ত্র। ইংরিজিতে যে কথাটি ব্যবহৃত হত, বা এখনও হয়, তার বাংলা হল পিতৃতন্ত্র। সেটা ব্যবহার করা হত, বা হয়, একটি নির্দিষ্ট কারণে। পিতৃতন্ত্র একটি ব্যবস্থা, যা পুরুষ এবং নারীর জন্য অসমঞ্জস অবস্থান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, পুরুষ যুদ্ধ করবে, দেশনেতা হবে, নারী বাড়ির কাজ করবে, নার্স ও শিক্ষিকা হবে -- মোটাদাগে বললে, এইরকম। নারীর স্বার্থে এই ব্যবস্থাটা বদলানো দরকার, বিংশ শতকের নানা ঢেউএর নারীবাদ, সেই কথাই বলত, আভ্যন্তরীন নানা বিতর্ক এবং মতভেদ সত্ত্বেও। এখানে কাঠামোগতভাবে কোনো ভিলেন ছিলনা। কিছু পুরুষ নিশ্চয়ই বদ, পুংরা জাতিগতভাবেই ভিলেন না, ভিলেন হল কাঠামোটা। একবিংশ শতকে জনপ্রিয় আখ্যানে বিষয়টা বদলাতে শুরু করে। ব্যবস্থা নয়, সরসরি 'ম্যান'কে ভিলেন তৈরি করা হয়। পুরুষের বৈশিষ্ট্য আলাদা করে চিহ্নিত করে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। তৈরি হয় 'টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি' বা 'ম্যানসপ্লেনিং' এর মতো বর্গ। বিংশ শতকের 'এমসিপি' জাতীয় বর্গের সঙ্গে এর তফাত হল, এমসিপি বা মেল-শভিনিস্ট-পিগ বলা হত কিছু ব্যক্তিকে। কিন্তু 'বিষাক্ত পৌরুষ' জাতীয় বর্গ সামগ্রিকভাবে পুরুষের লক্ষণকে উদ্দেশ্য করে তৈরি। ইংরিজিতে পিতৃতন্ত্র বর্গটি এইভাবেই তার পুরোনো অর্থ থেকে নড়েচড়ে গেছে। শব্দটি যদিও বদলায়নি। বাংলায় সোজাসাপ্টা ভাবে শব্দটিই বদলে পিতৃতন্ত্রের জায়গায় পুরুষতন্ত্র করে ফেলা হয়েছে। এই বর্গের ব্যবহার একটুও আপতিক না, কারণ তসলিমার আখ্যানও এই একই লক্ষ্যে ধাবিত। 
     
    এটাও একটু কঠিন করে বলা হয়ে গেল। সোজা করে বললে, ধরুন, আপনার চারদিকে 'প্রগতিশীল' মনে করেন এমন একজন মানুষকেও দেখেছেন, যিনি তালিবানদের সমর্থক? লিঙ্গ বা ধর্ম নির্বিশেষে? খবরের কাগজে এরকম লোকেদের কথা নিশ্চয়ই পড়েছেন, কিন্তু কাছে পিঠে? সম্ভবত দেখেননি। কারণ তালিবানি কথাটিই প্রায় সর্বজনস্বীকৃত নিন্দাসূচক শব্দ। খোদ আফগানিস্তানেও পুরুষরা কি খুন হচ্ছেন না, না লড়ছেন না? নিশ্চয়ই তালিবানরা সংখ্যায় অনেক, কিন্তু উল্টোদিকটাও, কম হলেও তো আছে। তার মরছে টরছেও। তাহলে ধর্ম পুরুষদের রক্ষা করছে, বা চিরকাল করবেনা, এই কথাটার মানে কী? 
     
    মানে একটাই। এই কথাটা শুধু নয়, সামগ্রিক ভাবে তিনটি লক্ষণেরই। একবিংশ শতকে রাজনীতির নতুন বয়ান তৈরি হচ্ছে। এগুলো তার অংশ। সেখানে আমেরিকা বা সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদ আর ভিলেন নয়। মূল ভিলেন সন্ত্রাসবাদ, বা পড়ুন প্যান ইসলামিজম। খুচরো ভিলেন সামগ্রিকভাবে পুরুষরা। এবং সহমর্মিতা ধাবিত হবে, নারী, কালো, নিচু জাত এই বর্গগুলির দিকে। বিংশ শতকের রাজনীতির থেকে যা অনেকটাই আলাদা। 
     
    বিংশ শতকের রাজনীতির এরকম নির্দিষ্ট কেন্দ্রিকতা ছিলনা। পশ্চিমী দুনিয়ায় মূল শত্রু ছিল কমিউনিজম। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত। তৃতীয় বিশ্বে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো ছিল। সেখানে চিরশত্রু ছিল পুঁজিপতিরা এবং আমেরিকা। দুই জায়গাতেই এই রাজনীতিই মূল প্রাধান্য পেত। নারী বা কৃষ্ণাঙ্গ বা সমকামীদের ইস্যু ছিল পিছনের সারিতে। তারা মাঝেমাঝে উপচে পড়ত মূল ধারায়। চলত বিতর্ক। এখন হয়েছে ঠিক উল্টো। লিঙ্গ-বর্ণ-জাত -- শুধু উপচে পড়েছে নয়, নির্ণায়ক জায়গা নিয়ে নিয়েছে রাজনীতিতে। অবাস্তবরকম চরম জায়গায়ও চলে যাচ্ছে থেকেথেকেই। উল্টোদিকে পুঁজিবাদ আর ভিলেন নয়, নতুন ভিলেন হয়েছে, আগেই যা বলা হল, সন্ত্রাসবাদ, পুং ইত্যাদি। 
     
    রাজনীতি এভাবেই বদলায়। বিতর্ক হয়। আবার বদলায়। তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একবিংশ শতকের রাজনীতির একটা জায়গাই খুবই বিপজ্জনক। তার রাজনীতির এককেন্দ্রিকতা। বিতর্কের অভাব। বিংশ শতকের রাজনীতি, তার সমস্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বিতর্কের অভাবে কখনও ভোগেনি। বিতর্কের অভাব, পৃথিবীর ইতিহাসে, বরাবরই টোটালিটারিয়ান বা প্রায়-টোটালিটারিয়ান ব্যবস্থা ডেকে এনেছে। সে ম্যাকার্থির আমেরিকাই হোক, বা হিটলারের জার্মানি। শুধু তসলিমা তো নন, তাঁর লেখায় যে তিনটি লক্ষণের কথা বলা হয়, বাম-দক্ষিণ নির্বিশেষে সেগুলি সকলেরই গ্যান্ড ন্যারেটিভ হয়ে উঠছে। ভয়টা সেখানেই। গ্র‌্যান্ড ন্যারেটিভের ভয়। দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ এর ভয়। যে ভয়, বিংশ শতকে কেউ কখনও পায়নি। 
  • | রেটিং ৪.৪ (৫ জন) | বিভাগ : আলোচনা | ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৯০৯৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kallol Dasgupta | ২৬ আগস্ট ২০২১ ০৯:৫২497108
  • তসলিমার কথাগুলো নতুন কিছু না। পশ্চিমী মিডিয়ায় এখন অহরহ এই কথারই চাষ। অ্যাঞ্জোলিনা জোলি বা ঐরকম নামের কেউ এক আফগান কিশোরীর চিঠি সমাজমাধ্যমে দিয়ে খুব উদবেগ প্রকাশ করেছেন - আফগান মেয়েরা এবার জাহান্নমে যাবে। অথচ আমেরিকার দখলদারীতে তারা যে কি জন্নতে ছিলো সেকথা নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই, কারন তারা তো বুরখাধারী হিজাব পরা "পিছিয়ে থাকা" "পুরুষতন্ত্রের শিকার" হতদরিদ্র আফগান নারী। তারা ইংরাজিতে চিঠি লিখতে পারে না, তাই জোলিরা তাদের খবর রাখেন না। প্রচুর বাম মনস্ক মানুষ, নারীবাদী এই গেলো গেলো কোলাহলে গলা দিচ্ছেন, যেন এতো দিন সব ঠিক ছিলো। 
    অন্য একটা স্বর আছে - এই গুরুতেই ছাপা হয়েছে RAWA-এর কথা। তারা আবার তালিবান আর আমেরিকার আঁতাত দেখছেন, অনেকটা বিজেমূলের মতো। যদিও তাদের অনেক কথাই বেশ যুক্তিযুক্ত। 
    তালিবান ভালো নয়। শরিয়া আইনে দেশ চালালে তা কতোটা "সভ্য" ও "মানবিক" হয় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ সৌদী আর ইরাণ। সেখানে ধর্ষনের শাস্তি ধর্ষিতকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা আর ধর্ষকে কে চাবুক মেরে ছেড়ে দেওয়া। সেখানে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ ঘটে। হিজাব না পড়লে চাবুক। মেয়েদের স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল দেখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেখানে ২০২০তে মেয়েরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলে আমরা উলুতপুলুত হই। সেখানে চাকরী পেলে হৈ হৈ করে ছুটে যাই। একবারও মনে রাখি না ওটি "বর্বর"দের দেশ। শুধু আফগানিস্তানের বেলায়..................
    শোনা যাচ্ছে পাকিস্তান, চীন আর আর রাশিয়ার দূতাবাস কাবুলে খোলা আছে। অন্যেরা প্রায় ঝাঁপ ফেলে দিয়েছেন। এই নতুন সমীকরণটি কৌতুহলোদ্দীপক। বিশেষ করে যখন চীনের ডিজিটাল পুঁজি টক্কর দিচ্ছে পশ্চিমের প্রথাগত পুঁজির সাথে। এই টক্কর দেবার একটা বড় জায়গা চীনের "রেয়ার আর্থ"এর ভান্ডার। শোনা যাচ্ছে আফগানিস্তানেও এর হদিশ পাওয়া গেছে প্রচুর পরিমানে। ফলে তালিবান উত্থান যে খুব একটা একরৈখিক তাও নয়। 
     
    তালিবানেরা খারাপ, সে তো আরএসএসও সমান খারাপ। তাই বলে কি আমরা আরএসএস ও তার দলবলের বিরুদ্ধে না লড়ে আমেরিকা, রাশিয়া বা চীনকে ডাকবো আমাদের "উদ্ধার" করার জন্য ??
  • Amit | 203.0.3.2 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১০:৩৩497109
  • ইয়ে কল্লোলদা - কতটা লড়বেন আর কতটা কাকে কখন ডাকাডাকি করবেন উদ্ধারের জন্যে, সেটা মনে হয় অনেকটাই  ডিপেন্ড করবে তখন কার হাতে কি আছে -বাঁশের লাঠি না একে-৪৭ -তার ওপর। যখন দ্বিতীয়টা আসবে আরএসএসের হাতে তখন নাহয় ই সেটা দেখা যাবে। ততদিন এই আরএসএস আর তালিবানের ওয়ান টু ওয়ান তুলনাটা একটু সাইড লাইনে রাখলেই ভালো। মানে ইডিওলজি সিমিলার হলেও স্কেল অফ ভায়োলেন্স এর তুলনা করলে এখন এটা জাস্ট হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে। 
     
    আর সৈকতবাবু কিছুদিন আগে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজকে নিয়ে একটি টই শুরু করেছিলেন (যেটাতে কলম্বিয়ায় মার্কেজের নামের এয়ারপোর্ট র নাম পাল্টানো নিয়ে বিতর্ক হচ্ছিলো যে ওনার নিজেরই  আত্মজীবনীর লেখা একটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ওনাকে সেক্স অফেন্ডার বলা যায় কি না ).  সেখানে সৈকতবাবু নিজেই একটু গর্ব ভরেই মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি নিজে ২০১৬ ইলেকশন এ ডেম এবং হিলারির হয়ে ক্যাম্পেনে অংশ নিয়েছিলেন। খুঁজলে ঠিক পেয়ে যাবো লিঙ্কগুলো। একটু ল্যাদ খাচ্ছি। 
     
    একদিকে এখানে হিলারিকে যুদ্ধবাজ বলে ক্লেম করা আর  অন্যদিকে তার হয়ে ভোটে অংশ নেওয়াটা কি হিপোক্রেসি নয় ? এবার যদি সেটা জাস্টিফাই করতে যদি ট্রাম্প আর হিলারির মধ্যে লেসার এভিলের তত্ত্ব আনা হয় তখন গোল পোস্ট সরে যাবে কিন্তু অনেক (সক্কলের জন্যেই )। 
  • হেহে | 172.82.134.67 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১০:৫৩497110
  • অমিতচাড্ডীর মত দাপটের সঙ্গে গাধামি জদি আর কেউ করে!! টইগুলোতে কেবল ভরভরিয়ে ছড়িয়ে বেড়ায়। প্রথমত ওটা কলম্বিয়া ও মার্কেজ নয়, চিলি ও নেরুদা। দ্বিতীয়ত হিলারি ক্লিন্টন সম্পক্কে সেখানে বলা হয়েছে -
     
    Ishan | 89900.222.34900.92 | ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:৪৯
     
    বাকি রইলাম আমি। আমি এই তর্ক করছি কেন? কারণ আমি এই ফ্রেমওয়ার্কটায় বিলং করিনা। নেরুদা সম্পর্কে আমার দুর্বলতা আছে। হিলারি ক্লিন্টনের গ্লাস সিলিং তত্ত্ব যে খায়নি, সেই গুটি কয়ের মধ্যে আমি একজন। ফলে আমার অন্য ফ্রেম ওয়ার্ক। এই তো কথা। একদম ইগো ফিগো বাদ দিয়ে সৎ ও সরল স্বীকারোক্তি করলাম। আমার স্বীকারোক্তিতে কোনো অসুবিধে নেই। বরং উল্টো। তক্কের বেসিক প্রেমাইস ওটাই বলে আমি মনে করি। :-)
     
     
    অমিতের যথারীতী মগজে ঘুঁটে , ফলে বাক্য পড়ে মানে বোঝে না।
  • Kallol Dasgupta | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১২:২৬497113
  • অমিত। মানে যদি আরএসএসের হাতে একে৪৭ চলে আসে তবে তুমি আমেরিকাকেও ডাকবে উদ্ধার পাবার জন্য !!!!
    অসাধারণ। 
    মুস্কিল হলো তোমরা ঘাড়ের উপর এসে না পড়া অবধি কিছু বুঝতে চাও না। যখন এসে পড়ে তখন দিশা পাও না। ভোটের আগে বুঝলে না তৃণমূল আর বিজেপি এক নয়। ভোটের পরে বুঝলে। এই আর কি।   আরেসএসের হাতে একে৪৭ কেন আরও অনেক কিছু আছে। আরএসএস শুধু লাঠি নিয়ে লড়ে না। ভারতের আর্মিতে কি পরিমান আরেসএস আছে তার খবর রাখো ? যে কোন হিন্দু আর্মির মানুষের সাথে টুকটাক আড্ডা মেরে দেখো। আমার সুবিধা হলো, এখন যেখানে পেটের জন্য কাজ করি সেই সংগঠনের একটা বড় অংশ এক্স-আর্মি। তাদের ৯০% বিজেপি। 
    আর কি বললে ? "স্কেল অফ ভায়োলেন্স" ????? ওহো গুজরাট বড্ড পুরোনো হয়ে গেছে বুঝি ?? আর মনে নেই কিছু ?   
    যাক, এখন আরেসএসকে ততো খারপ লাগছে না তোমার। ভালো। 
     
  • Amit | 118.211.26.57 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৩:০৫497114
  • বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় ইন্ডিয়া পাশে না দাঁড়ালে কতদিন খানসেনাদের ম্যাসাকার চলতো আর টোটাল ডেথ কাউন্ট কত হতে পারতো ? এই যুক্তি বিন্যাস থাকলে সেখানে তো তাহলে বলতে হয় পাকিস্তানের ইন্টারনাল সমস্যা মেটাতে ইন্ডিয়া বাইরে থেকে অন্যায় ভাবে নাক গলিয়েছে। 
     
  • র২হ | 49.37.33.94 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৩:২০497115
  • ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে একটা দীর্ঘ তর্ক হয়েছিল। কল্লোলদা বলেছিল রাজনৈতিক বা তাত্ত্বিক দিক থেকে ভুল আমি বলেছিলাম মানবিক দিক থেকে ঠিক।
    খুঁজে পেলে দেবো।
     
    আরএসএস আর আইসিস আলাদা ঠিকই।
     
    তবে সে আমাদের কাছে। গোমাংস লিঞ্চিঙে যাঁরা এতদিন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন তাঁরা সুযোগ পেলে দ্বিমত হতেন - এতে সন্দেহ নেই।
  • Amit | 118.211.26.57 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৩:৩০497116
  • ইডিওলজি র দিক থেকে আরএসএস বা তালিবান সিমিলার অলরেডি লিখেছি।কিন্তু আদৌ কেন তুলনা করতে হবে এদের ?কল্লোলদা বা সৈকত বাবু বা আরো কয়েকটা লেখায় তালিবান র প্রতি একটা প্রচ্ছন্ন সমর্থন বা সহানুভূতি উঠে আসছে , সেটা আপত্তিকর। চাড্ডিদের মোকাবিলা করতে গিয়ে শেষে নিজে ছাগু সমর্থক হতে চাইলে আর কিছু বলার নেই। 
  • র২হ | 49.37.37.120 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৩:৩৪497117
  • আমি অবশ্য সহানুভূতি দেখিনি, জানি না, হয়তো বুঝতে পারিনি।
     
    আমার কাছে ব্যাপারটা - ৪৬ - ৪৭ এবং তার পরবর্তী সমস্যার জন্য ভারতীয়দের একটি হিংস্র বিশৃঙ্খল জনগোষ্ঠী হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে আগের দুশো বছরের বৃটিশ মামদোবাজি ভুলে যাওয়ার বিরুদ্ধে বলার মত।
  • chomsky | 37.120.147.90 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৩:৪১497118
  • Humanitarian intervention cases can be discussed in the basis of its precision because they are very controversial and difficult to define. As Chomsky mentions, two interferences can be defined as literal humanitarian intervention. First, India’s intervention on Pakistan to liberate East Pakistan which trying to gain its independence from Pakistan in 1971. The conflict emerged because the ethnic difference between East and West. For example, while East Pakistan spoke the Bengali language, West Pakistan spoke Urdu. Chomsky’s justification to the intervention relies on very obvious evidences. Ethnic cleansing, mass murder, genocidal rape and deportation was used by West Pakistani Army since the very beginning of the conflict. Estimated death was 300.000 to 3.000.000 East Pakistani people. As a result of the war and the humanitarian intervention of India, the massacre in East Pakistan ceased and it caused the establishment of a sovereign state, Bangladesh. According to Chomsky, the second example was the Vietnamese intervention in Cambodia in 1978 in order to stop mass killings, forced labour, and undernourishment which was being perpetrated by the Khmer Rouge. The main aim of the Khmer Rouge regime was the creation of an agrarian society which was influenced by Maoist and Stalinist ideology. Approximately 25 percent of the population was killed by the Khmer Rouge administration. Although, the justification of the humanitarian intervention was very clear, Vietnam could not find the support from international community and was also embargoed by United States. Also, the United States persuaded other countries for sanctioning Vietnamese and the regime was excluded from international community. According to Chomsky, both interventions were not counted as “humanitarian intervention” because the United States rejected both interventions because they did not maintain its national benefits. Moreover, the United States propagandized international community in order to find public support. Therefore, two actual humanitarian intervention were not counted as humanitarian intervention because of the loss of the support of international community.
  • dc | 122.164.111.43 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৪:০৪497120
  • যাক চমস্কির ভয়েসও এসে গেছে। যেকোন বিষয়ে মার্ক্স, লেনিন, রবীন্দ্রনাথ আর চমস্কির বক্তব্য না জানতে পারলে কেমন যেন লাগে।  
  • র২হ | 2405:201:8005:9947:5449:be24:2a1a:9ca0 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৪:৪৪497124
  • আমি ঠিক বুঝলাম না, চমস্কিসাহেব কি আমার সঙ্গে একমত হলেন, নাকি হলেন না। শুরুটা পড়ে মনে হচ্ছিল এই সুযোগে লোকে ভাববে আমি চমস্কি পড়েছি। কিন্তু পরের দিকটায় কনফিউজড হয়ে গেলাম।
  • r2h | 2405:201:8005:9947:3ca4:c885:2314:2d58 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৭:১৪497126
  • ১৩:২০এ যে তর্কের কথা বলছিলামঃ https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=10124&page=10, মোটামুটি ০৬ জুন ২০১১ ১৮:৩৪ থেকে শুরু।

    বেশ কয়েক পাতা পর কুলদা রায় লিখেছেন - "আমার মেজো ঠাকুরমা একাত্তরে বাড়ি থেকে যান। আমার বাড়িটি আর শেখ মুজিবের বাড়িটি একই পাড়ায়। গোপালগঞ্জে।অআমার ঠাকুরমা বুড়ো মানুষ। শুক কাকাও ছিলেন ওনার সঙ্গে। কাকীমা, ওদের ছেলেমেয়ে- ছোটো ছোটো। আমাদের বাড়িতে রাতে রাজাকার এল। ওরা ছিল টায়ার্ড এবং কিছুটা ভিতুও বটে। কাকীমা--ঠাকুরমাকে দিয়ে রান্নাবান্না করিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমোল। ভোর বেলা পাক মিলিটারি আসবে। সকালবেলা সবাইকে মেরে ফেলা হবে। মাঝে ভোরের খাবারটা ওদের দিয়ে রান্নার করিয়ে রাখবে। ওদের করা হল বন্দী।

    মিলিটারি আসার আগেই ভোর রাতে মুক্তিবাহিনী শহরে ঢুকে পড়ল। পাক আর্মি পালিয়ে গেল। আর ঠাকুরমা, কাকারা বেঁচে গেল। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কী হত? আমার মেজঠাকুরমারা মারা যেত। সুতরাং বিপ্লব ফলিয়ে লাভ নেই। আগে প্রাণ বাঁচানো দরকার। বিপ্লব হলে বিপ্লবীদের দুএকজনের পরিবার রাজাবাদশা হত। আবার পুনর্মুষিকো ভবৈ হত। তার চেয়ে আমার ঠাকুরমার প্রাণ বাঁচানো দরকার। রাজাবাদশাদের জন্য প্রাণ দিয়ে লাভ নাই।"

    তো ঐ আরকি। তত্ত্ব, চমস্কি, আমেরিকা সত্য, তবে শেষ সত্য নয়। শেষ সত্য হলো প্রাণে বেঁচে থাকা।
  • r2h | 2405:201:8005:9947:3ca4:c885:2314:2d58 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৭:১৯497127
  • তবে এই তর্কটা আমার মনে থাকে অন্য কারনে। হনুদা ওখানে আমাকে নিয়ে লিখেছিল "...brilliant and incredibly talented young intellectual..."। আমার আত্মজীবনী বেরুলে এটা আমি ব্যাক কভারে রাখবো। যদিও তারপর বলেছে আমার "arguement is bag of tosh", তবে সেটা কিছু না। জগতে নিরবচ্ছিন্ন ভালো বলে কিছু হয় না। এই কথাটা শুরু হওয়ার আগে তিনটে ডট দিয়ে কোটেশন শেষ করে দিলেই চলবে।
  • Kallol Dasgupta | ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৭:৩৫497128
  • অমিত।  আমি খুব গোটা গোটা করে লিখেছি - তালিবান ভালো নয়। শরিয়া আইনে দেশ চালালে তা কতোটা "সভ্য" ও "মানবিক" হয় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ সৌদী আর ইরাণ। সেখানে ধর্ষনের শাস্তি ধর্ষিতকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা আর ধর্ষকে কে চাবুক মেরে ছেড়ে দেওয়া। সেখানে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ ঘটে। হিজাব না পড়লে চাবুক। মেয়েদের স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল দেখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেখানে ২০২০তে মেয়েরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলে আমরা উলুতপুলুত হই। সেখানে চাকরী পেলে হৈ হৈ করে ছুটে যাই। একবারও মনে রাখি না ওটি "বর্বর"দের দেশ। শুধু আফগানিস্তানের বেলায়..................
    তারপরেও "প্রচ্ছন্ন সমর্থন" কোথায় সেটা দেখিয়ে দিলে আমার ভাষা শিক্ষার উপকার হয়। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে "সব পাখী মাছ খায়, দোষ হয় মাছরাঙ্গার" - এতে মাছরাঙ্গাকে "প্রচ্ছন্ন সমর্থন" আছে কি ? নাকি যারা শুধু মাছরাঙ্গার দোষ ধরে তাদের একচোখো বলা হলো। 
    তুমি ধরেই নিয়েছো আমি তালিবানকে "আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আজকের ভিয়েতকং" বলে মনে করি। খুব স্পষ্টতঃ বলছি, আমি তা মনে করি না। তালিবান আজকে আমেরিকার বিরোধী, গতকাল ছিলো না, আগামীকাল থাকবে কি থাকবে না জানিনা। চীন তালিবানদের নিয়ে খেলছে। তাদের উদ্দেশ্য আদৌ মহান কিছু নয়, অন্ততঃ আমেরিকার চাইতে মহান নয় বলেই আমার বিশ্বাস। 
  • guru | 103.151.156.123 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:৪৪497136
  • তালিবান এর একটি পদক্ষেপ আমার মনে হয় এখানে অনেকেই এড়িয়ে গেছেন | তালিবানের একজন বড়সড় ধর্মীয় নেতা কাবুলের পতনের কিছু আগেই নিজেদের সঙ্গে সৌদি আরবদের দূরত্ব মেনে নিয়েছেন | তালিবানদের কাবুল জয়ের পরে এখনো সৌদি বা ওয়াহাবিরা তালিবানদের সমর্থন করেনি | এই ব্যাপারটি আমার মনে হয় এখানে এড়িয়ে গেলে ভুল হবে | তালিবান , ISISআর ওসামা Bin লাদেন বা ওয়াহাবীদের স্বার্থ কখনোই এক নয় |  (https://www.newindianexpress.com/states/kerala/2021/aug/23/salafis-call-to-resist-extremist-groupsmisinterpreting-islam-2348400.html)
     
    আফঘানিস্তান এর ইতিহাস , সমাজ ও অর্থনীতি আমেরিকা বা ইউরোপের মতো নয় | আজকে ইউরোপ বা আমেরিকাতে যে সমাজ দেখা যায় সেটি একটি বিশেষ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিবর্তনের কয়েকশো বছরের ইতিহাসের পরিণীতি | তসলিমা মালালা বা আয়ান হিরসি আলী মুসলিম বিশ্বের সমাজের খুব ক্ষুদ্র একটি এলিট অংশের প্রতিনিধি যারা তাদের পারিবারিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পাশ্চাত্য জগতের মডেল কেই তাদের নিজেদের জাতিদের মডেল ভেবে নিয়েছিলেন | এরা আমেরিকা তার ইতিহাস এবং তাদের নিজেদের দেশের ইতিহাস কোনোটাই বোঝেননি |  ওয়েস্টার্ন আধুনিকতার je মডেল টির প্রচার  তসলিমা বা আয়ান হিরসি আলী করেন সেটির কোনরূপ প্রাসঙ্গিকতা আফগানিস্তানের মতো দেশে নেই যেহেতু দুটি দেশের ইতিহাস ও সমাজ সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন |                                                                     
     আফগানিস্তানের মতো দেশে সামাজিক বা অর্থনৈতিক আধুনিকতার পাশ্চ্যাত্য মডেলের থেকে ভিন্ন্যতর নতুন কোনো মডেল প্রয়োজন যা আফগানিস্তানের ইতিহাস ও সমাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হবে | সেটা আফগানিস্তানের মানুষকেই করতে হবে সে তারা তালিবান বা অন্য যে কেউই হোক | এতে কয়েকদশক বা কয়েকশতক লাগতে পারে | জোর করে কিছু চাপানো যাবেই না | ইরানের মানুষ ১৯৭৯ সালে তাদের নিজেদের মতো একটি আধুনিকতার মডেল বেছে নিয়েছেন | অবশ্যই তা আমেরিকার পছন্দ নয় | কিন্তু কি করা যাবে ? 
     
    আমাদের পাঠকদের অনেকেই ইরান আর সৌদি আরবকে এক করে নিয়েছেন | কোনোভাবেই এই দুটি দেশ ঐতিহাসিক ও সামাজিক ভাবে এক নয় | সৌদি আরবের জন্ম প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থ রাখতে | অন্যদিকে ইরানের সভ্যতা ও সংস্কৃতি প্রায় ২০০০ বছরেরও বেশি | কোনোভাবেই এই দুটি দেশের তুলনা হতে পারেনা | পাঠকেরা দয়া করে এতটা অতি সরলীকরণ করবেননা | 
     
    আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম |
  • dc | 122.164.111.43 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:৫৫497138
  • "তসলিমা মালালা বা আয়ান হিরসি আলী মুসলিম বিশ্বের সমাজের খুব ক্ষুদ্র একটি এলিট অংশের প্রতিনিধি যারা তাদের পারিবারিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পাশ্চাত্য জগতের মডেল কেই তাদের নিজেদের জাতিদের মডেল ভেবে নিয়েছিলেন"
     
    ইয়ে এখানে ​​​​​​​যদি ​​​​​​​ইঙ্গিতটা ​​​​​​​এরকম ​​​​​​​হয় যে ​​​​​​​তালিবান মডেলেই ​​​​​​​আফগানিস্তানের ​​​​​​​মেয়েদের ​​​​​​​থাকতে ​​​​​​​হবে, অর্থাত ​​​​​​​কিনা ​​​​​​​পড়াশোনার দরকার ​​​​​​​নেই, ​​​​​​​সেক্স স্লেভ হিসেবে ​​​​​​​থাকতে ​​​​​​​পারলেই ​​​​​​​যথেষ্ট, নারীস্বাধীনতা ​​​​​​​টাধিনতা ​​​​​​​ওসব ​​​​​​​তো পাশ্চাত্য ​​​​​​​মডেল, ​​​​​​​তাহলে ​​​​​​​খুবই ​​​​​​​সুন্দর একটা ​​​​​​​ভাবনা হবে। মালালার ​​​​​​​লাক ​​​​​​​ভালো ​​​​​​​যে ​​​​​​​গুলি ​​​​​​​খেয়েও ​​​​​​​বেঁচে ​​​​​​​গেছে, ​​​​​​​আরও ​​​​​​​অনেক ​​​​​​​মেয়ে নিয়মমতো ​​​​​​​নিকেশ ​​​​​​​হয়ে ​​​​​​​যায় ভাগ্যিস। 
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২২:২৭497143
  • সৌদি আরবে তো এইরকমই মডেল। গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা কেন সৌদি বা কাতারকে মুক্ত করতে যায়না, এটাই ভাবার। 
  • ? | 43.251.171.21 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২২:৫৬497144
  • কাতার না কুয়েত?
  • Amit | 118.211.26.57 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০১:৩৫497147
  • সৌদিকে অবশ্যই মুক্ত করা উচিত। কিন্তু রাস্তা টা কি? 
  • Amit | 118.211.26.57 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০১:৩৮497148
  • ইরানের ওপর তো স্যাংশন আছেই। তাতে যে কাজ হচ্ছে না সেটাও দেখা যাচ্ছে। সেখানেও রাস্তা টা কি ?
  • Tim | 2603:6010:a920:3c00:bc8e:e8f9:eaca:69b5 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৪:৪৮497149
  • guru | 103.151.156.123 | ২৬ আগস্ট ২০২১ ২০:৪৪৪৯৭১৩৬ 
     
    চারটে প্যারায় একটাই কথা ঘুরেফিরে লেখা হলো, যে সমাজ ইতিহাস ইত্যাদি আলাদা। তাহলে সেখানে ভিন্ন পথ যেটা নিতে হবে, সেটা কী? 
     
    দ্বিতীয়ত, এটা স্পষ্ট যে ওখানকার বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় অনেকেই খুশি নন, মেয়েরা তো সম্ভবত খুব বেশি করে অখুশি। সুতরাং একটা স্থিতাবস্থা নিশ্চয়ই কাম্য নয়। তাহলে এটাও ভেবে দেখার, হয়ত, যে আফগানিস্তানের নিজস্ব ইতিহাস বা সমাজের কাছাকাছি হলেও ব্যাপারটা পাল্টানোর দরকার আছে।
     
    বাকি,  আমেরিকার বদমাইশি নিয়ে দ্বিমত নেই।
  • Ranjan Roy | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৬:৫৫497153
  • আমেরিকার বিদেশনীতি চালিত হয় নিজের দেশের ক্ষুদ্র স্বার্থে, বৃহৎ স্বার্থে নয়। এর জন্যে মার্ক্স লেনিন দরকার নেই-- কয়েক দশক আগে নাট্যকার জন অসবোর্নের নোবেল প্রাইজ নিতে গিয়ে দেওয়া বক্তৃতায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী মার্কিন নীতির তুলোধোনা করা থেকেই বোঝা যায়।
    ইরাকের উদাহরণ যথেষ্ট।
  • Amit | 203.0.3.2 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:২২497154
  • এন্ড অফ দা ডে  সব দেশের বিদেশনীতি-ই চালিত হয় নিজের দেশের ক্ষুদ্র স্বার্থে। আম্রিগা একা নয়। 
    যেহেতু এখানে (অন্য টোয়িতেও দুটো জিনিস ​​​​​​​ফাটা রেকর্ডের ​​​​​​​মতো ​​​​​​​ঘুরে ​​​​​​​ফিরে ​​​​​​​এসেছে , সেই ​​​​​​​দুটো নিয়ে ​​​​​​​একটু ​​​​​​​স্পেসিফিক ​​​​​​​হওয়া ​​​​​​​যাক ​​​​​​​নাহয় গোল ​​​​​​​গোল ​​​​​​​না ​​​​​​​ঘুরে। 
     
    ১। সৌদির কথা বহুবার এসেছে। ওখানেও বার্বারিক শরিয়া আইন চলছে। সবাই জানে। কে সেটা নিয়ে উলুত পুলুত হচ্ছে জানা নেই যদিও (কল্লোলদা উবাচ)। সৈকতবাবু লিখছেন "গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা কেন সৌদি বা কাতারকে মুক্ত করতে যায়না, এটাই ভাবার। "- তো ​​​​​​​সেটা ​​​​​​​নিয়ে ​​​​​​​বাকি দুনিয়া হোক বা আম্রিগা - সবার ঠিক ​​​​​​​কি ​​​​​​​কি করা ​​​​​​​উচিত এদেরকে মুক্ত করার জন্যে ?  লেটস ​​​​​​​বি ​​​​​​​স্পেসিফিক। 
     
    আশা করি এই যুক্তিটা আসবেনা যে - যেহেতু সৌদি তে কিছু করা যাচ্ছেনা আফগানিস্তানে ও কিচ্ছু করা উচিত নয়। যেমন নাগপুর থেকে যুক্তি আসে আখলাক কে পিটিয়ে মারার প্রতিবাদ কেন হবে? কাশ্মীরি পন্ডিতদের বেলায় কি প্রতিবাদ হয়েছিল ? তাহলে ঘুরে ফিরে সব  এক গোয়ালেই পৌঁছবে। 
     
    2. এটাও ফাটা রেকর্ডের মত বহুবার বাজানো হচ্ছে যে আফগানিস্তানের ইতিহাস পশ্চিমের মত নয়। ওয়েস্টার্ন কালচার ওপর থেকে জোর করে চাপানো উচিত নয়। খুব ভালো কথা। সেক্ষেত্রে ঠিক কিভাবে এগোনো উচিত ? আজকে যে সেখানকার অসংখ্য মেয়ে বা লোক সেই তথাকথিত ইতিহাস বা সংস্কার নিয়ে অখুশি -তাদেরকে কি তালিবানের হাতে সেক্স স্লেভ হতে দেওয়া উচিত ? এগেন লেটস ​​​​​​​বি ​​​​​​​স্পেসিফিক এবাউট প্রোপোসড পাথ ফরওয়ার্ড। গোল গোল ঘোরা নয়। 
     
    অত ইতিহাসের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকলে রোহিত ভেমুলা মরার পরে তো কোনো প্রতিবাদ করাই উচিত নয়। ইকুয়ালিটি অফ কাস্ট -এসব তো পশ্চিমের জোর করে চাপানো সংস্কার। ওপর থেকে জোর করে চাপানো উচিত নয়-তাইনা ? বর্ণভেদ এসব তো আমাদের সনাতন সংস্কার। অন্য রাস্তা নেওয়া উচিত আফগানিস্তানের মতো (যদিও কি রাস্তা জানা যায়নি এখনো ).
     
    নাকি দেশ বিভেদে বুজিদের মাপার স্কেল পাল্টে পাল্টে যায় ? নিজেদের এজেন্ডার সাথে ফিট করানোর জন্যে ?
  • Kallol Dasgupta | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৩৭497155
  • গুরু। না সৌদী আর ইরাণ এক নয়। সৌদী মূলতঃ ওয়াহাবি-সুন্নী, ইরাণ শিয়া। ঐতিহাসিকভাবে দুটি দেশের অনেক কিছুই আলাদা। কিন্তু আমার প্রসঙ্গ ছিলো শরিয়ার শাসন। সেখানে দুটি দেশই এক রকম। 
     
    অমিত। সৌদী, ইরাণ বা পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের দেশেই অপশাসন থাকলে সেদেশের মানুষকেই তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। বাইরে থেকে "বিপ্লব" আমদানী করে খারাপই হয়, মানে, ঐ অপশাসনকে সে দেশের মানুষের মনে মান্যতা দেওয়া হয়। বাইরের বিপ্লব আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, কিউবা যেই চেষ্টা করুক, তাতে ক্ষতিই হয়। কিউবার কঙ্গো বিপ্লব মনে আছে আশা করি। 
    কিন্তু আমার বা সৈকতের কথা হলো, আমেরিকা সৌদীতে বা ইরাণে হামলা-টামলা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ভাবে না কেন ? এই তো আফগানিস্তানে বিস্ফোরণে বেশ কিছু আমেরিকান সৈন্য মারা গেছে বলে শুনছি। আমার তো পুলওয়ামা-পুলওয়ামা গন্ধ ঠেকছে। ওদিকে তালিবানেরা সৌদীর সাথে দূরত্ব বাড়াচ্ছে। 
     
    ডিসি। তসলিমা মালালা বা আয়ান হিরসি আলী  মডেল নয়, তার মানেই তালিবান মডেল - এই বাইনারী কেন ? তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম মডেল থাকতে পারে না ? আমি তো লিখেছি আবদুল গফফর খান কি মডেল হতে পারেন না ? উনি তো সেই কবেই পুশতুনদের মধ্যে গান্ধীর অহিংসা নিয়ে গিয়ে সফল। পাকিস্তান হবার আগেও উত্তর-পশ্চিম-সীমান্ত রাজ্যটিতে কংগ্রেসের নির্বাচিত সরকার ছিলো। 
     
    আমরা আর কবে নিজেদের অন্যের "মসিহা" ভাবার অভ্যাস ছাড়বো ? নিজের দেশের মানুষ ঢেলে ভোট দিয়ে মৌলবাদী হিন্দু দলকে পুষে রেখেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াই। আফগানদের ভাবনা তারাই ভাবুক। আমরা বড়জোর বিশ্লেষন করে - কেন এমন হলো, সেটা নিয়ে নিজেরদের মত তৈরী করতে পারি। এটুকুই।  
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৪২497156
  • কিচ্ছু করার দরকার নেই।মৌলবাদকে তোল্লাই দেবারও দরকার নেই, "গণতন্ত্র" চালান করারও দরকার নেই। দুটো যদিও একই জিনিস। 
    আজ থেকে ৩০ বছর আগে ইরাক ছিল মোটের উপর সেকুলার। সাদ্দামের অনেক দোষ ছিল, কিন্তু মৌলবাদী? কদাচ না। স্রেফ ডাবলিউএমডির ঢপ দিয়ে জায়গাটা দখল করা হল। আইসিসের মুক্তাঞ্চলে পরিণত করা হল। তার আগে আইসিস বলে কিছু ছিলনা। এর নাম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই। 
    আফগানিস্তানে ছিলেন নাজিবুল্লা। তাঁরও নামা দোষগুণ ছিল। কিন্তু আফগানিস্তানে ধর্মীয় জঙ্গী ছিলনা। তারপর ট্রেনিং দেওয়া  হল মুজাহিদিনদের। ব্যস।
    এভাবে আরও পিছনে যাওয়া যায়। লাভ নেই। পয়েন্ট হল আমেরিকাকে আর কিচ্ছু করতে হবেনা। অলরেডি শ্মশান বানিয়েছে। এবার সৌদি থেকে ইরাক থেকে আফগানিস্তান থেকে লাথিয়ে তাড়ানো উচিত। ওখানকার ভালমন্দ ওরাই বুঝে নেবে। "গণতন্ত্র " এক্সপোর্ট করার দরকার নেই। তাতে পাঁচ বছর তালিবান জমানা চললে চলুক। সে অবশ্য এমনিই চলবে। না চলার হলেও। আমেরিকা ডিল করে ফেলেছে। 
  • Amit | 203.0.3.2 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৪৬497158
  • হ্যা সাদ্দাম নিশ্চয় ইসলামিক মৌলবাদী নয়। তবে কুর্দদের ওপর নর্থ ইরাকে কেমিকাল গ্যাস আক্রমণগুলো গুলো নাহয় ভুলে যাওয়া যাক। 
  • কিন্তু | 144.48.39.114 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৪৭497159
  • কিচ্ছু না করলে লিথিয়ামের ওপর পুশ্তু নাচন চলতেই থাকবে। সেটা কি ভাল?
  • Amit | 203.0.3.2 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৫৩497161
  • তো সৌদিতে তো আম্রিগা সেটাই করছে। সৌদিরা যা ইচ্ছে করুক , আম্রিগা ওদের থেকে তেল কিনে আর ওদের অস্ত্র বেঁচে দিব্যি আছে। তাহলে তো কিছু না করাই হলো। তাতে আপনার আপত্তি কোথায় ?
     
    কল্লোলদা অবশ্য যুদ্ধে নামার কথা বলে দিয়েছেন অলরেডি :) ন্যাড়া কেন বারবার বেলতলায় যাবে সেটাও প্রশ্ন। কালকে বাংলাদেশ নিয়ে একটা কোশ্নো জিগিয়েছিলাম -যে যখন খানসেনারা ম্যাসাকার চালাচ্ছিল -তখন বাইরে থেকে ইন্ডিয়া কেন ওখানে বিপ্লব আমদানি করতে গেলো ?কাজটা কি ঠিক আপনার লজিকে ? ওদেরকে নিজেদের লড়াই কেন লড়তে দেওয়া হলোনা ?
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৫৫497162
  • কুর্দদের উপর তু্র্কি কিছু কম করছেনা। কুর্দরা লড়ছে। সমর্থন করি। তা বলে আমেরিকা এসে তুর্কিকে মুক্ত করতে চাইলে সমর্থন করব নাকি? প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ব্রিটেন আর আমেরিকা লুটে লুটে জায়গাটাকে আগ্নেয়গিরি বানিয়েছে। এবার বিদেয় করা আশু দরকার। আর সৌদিরও দুনিয়া জুড়ে ইসলামের হোলসেলারগিরি করাটা একদম আটকানো দরকার। পুসতুদের লিথিয়াম পুশতুরা বুঝে নিক।
  • Amit | 203.0.3.2 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৫৭497163
  • সেটাই তো আসল কোশ্নো ছিল। সৌদিরও দুনিয়া জুড়ে ইসলামের হোলসেলারগিরি করাটা একদম আটকানো দরকার- খুব সত্যি। কিন্তু ​​​​​​​কিভাবে ​​​​​​​?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন