• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নকল ভ্যাকসিন সহজেই চেনা সম্ভব; রাজ্যের সংস্থারা ব্যবস্থা করতে পারেন

    ANIRBAN MITRA লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৩ আগস্ট ২০২১ | ৪০০ বার পঠিত
  • সম্প্রতি WHO জানিয়েছেন যে ভারত এবং উগান্ডায় নকল কোভিশিল্ড টিকার সন্ধান পাওয়া গেছে। একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এক খবর প্রকাশিত হয়েছে।


    অবশ্য, এটা পড়েই সবাই বলবেন - এ আর নতুন কি? কারণ, সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর তৎপরতায় কলকাতায় জাল ভ্যাকসিন দাতা'র ধরা পড়ে যাবার খবর, প্রায় একই সময়ে মুম্বাই ও হায়দ্রাবাদে ভ্যাকসিন প্রতারণা এগুলি আমাদের অনেকেরই জানা, এবং দুশ্চিন্তার কারণ।

    আর, frankly speaking, এগুলো হবারই ছিল। যে দেশে এত কিছু জাল হয়, অতিমারীর সময়ে অক্সিজেনের জন্যে হাহাকার ওঠে সে দেশে করোনা ঠেকাবার ব্রহ্মাস্ত্র ভ্যাকসিন নিয়ে দু নম্বরী হবে না (বিশেষত যখন ভ্যাকসিন অর্ডার দেওয়া এবং সাপ্লাই দুই ব্যাপারেই ভারত বিচ্ছিরি দেরি করেছে ) এটা ভাবাই অবাস্তব।

    সুতরাং, যে ভ্যাকসিন সাপ্লাই আসছে সেটা নিয়ে সচেতন থাকতেই হবে। সাধারণ মানুষের পক্ষে তো এটা করা সম্ভব না, যে সংস্থা টিকা দিচ্ছেন (সরকারি হাসপাতাল বা পুরসভা, বা প্রাইভেট হাসপাতাল ) তাঁদেরই এটা কিছুটা pro-actively বা আগ-বাড়িয়ে করতে হবে।  সাবধানের তো মার্ নেই। অসাধু লোকজন আছে, এবং থাকবে। আর, বারবার টিকা সত্যি না জাল বিচার করার জন্যে পুনে বা হায়দ্রাবাদের ল্যাবে পাঠালেও দেরি হবে, জনসাধারণে বিভ্রান্তি ছড়াবে। তাই, যে সব ব্যাচ ভ্যাকসিন রাজ্যে আসছে সেগুলি নিয়ে কোন সন্ধেহ হলে, বা randomly দু-একটা শিশি তুলে নিয়ে, দুটি সহজ পরীক্ষা করলেই অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যাবে আসল কোভিশিল্ড / কোভাক্সিন না 'ডাল মে কালা হ্যায়'। 
     
    ভ্যাকসিন'র সহজ টেস্ট

    কোভাক্সিন'র জন্যে পরীক্ষা।

    ভারত বায়োটেকের তৈরী এই টিকা'র মূল বস্তু নির্জীব-কোরোনাভাইরাস। অর্থাৎ, যে ভাবে বহুকাল নানা টিকা তৈরী হয়ে এসেছে। এই নির্জীব ভাইরাস শরীরে inject করে দিলে আমাদের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই 'ভাইরাসের ডেড বডি' দেখে চিনে রাখে। ভবিষ্যতে যদি জ্যান্ত ভাইরাস ঢোকে তখন 'মারমার মেরে ক্যালেন্ডার করে দে' করে দ্রুত ছুটে যায় রক্তের WBC ও অন্যান্য সেনা-পুলিশ কোষ।

    অর্থাৎ, ভ্যাকসিনের নির্জীব-ভাইরাস আর আসল জ্যান্ত-ভাইরাসের মধ্যে যথেষ্ঠ মিল আছে।

    এবার ভেবে দেখুন, সংক্রমণ হয়েছে সন্দেহ হলে আমরা কোন টেস্ট ব্যবহার করি - RTPCR আর rapid antigen. আর এই এন্টিজেন পরীক্ষা (অর্থাৎ RAT) কি করে? ভাইরাসের শরীরে যে বিভিন্ন প্রোটিন আছে তাদের চিনতে পারে। যদি টেস্ট এসব ভাইরাল প্রোটিন দেখতে পায়, তখনই সিগন্যাল দেয় - পজিটিভ।

    তাহলে এবার দুয়ে দুয়ে চার করলে কোভাক্সিন ভায়ালে যে নির্জীব ভাইরাস আছে তাকেও তো চট করে এন্টিজেন পরীক্ষা করে টেস্ট করে নেওয়া যায়। পজিটিভ থাকলে সিগন্যাল দেবে, যেমন আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেয়। তাই না? অর্থাৎ যে টেস্ট দিয়ে সংক্রমণ ধরা jay, সেটা দিয়েই ভ্যাকসিন ঠিক আছে কিনা বোঝা সম্ভব। 

    অবশ্য, গবেষক মাত্রই জানেন, যে কোন experiment একবারে সফল হয় না। কিছুটা standardize করতে হয়। মানে যেমন নতুন নতুন রান্না শিখলে নুন কতটা চিনি কতটা আন্দাজ হয় না, একটু সময় লাগে ... এখানেও মোটামুটি একই ব্যাপার। প্রতি ডোজে কতটা ভাইরাস আছে, কতটা টেস্ট করা যাচ্ছে, সেটা সিগনালের জন্যে যথেষ্ঠ কি না, কম হলে ডোজের পরিমান বাড়াতে হবে বা concentrate করতে হবে এই টুকটাক। আর এসব যেকোন standard গবেষণাগারে করা যায়। সম্ভবত সব স্বাস্থ-জেলাতেই ব্যবস্থা আছে।
     
    কোভিশিল্ড'র জন্যে পরীক্ষা।
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar



    রাজ্যে যা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে তার ৮৫%র বেশি হচ্ছে কোভিশিল্ড। তবে এর টেস্ট ও সহজ। এবং তার সঙ্গে সংক্রমণের অন্য পরীক্ষা - RTPCRর বেশি মিল। দেখুন, কোভিশিল্ড হল এক নতুন ধরণের ভ্যাকসিন। এডিনোভাইরাস নাম একটি নিরীহ ভাইরাসের মধ্যে cloning করে আমাদের কোরোনাবাবাজির স্পাইক প্রোটিনের জীন (gene ) ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মানে এক্ষেত্রে শরীরে গোটা 'করোনাভাইরাসের লাশ' inject করা হয় না। কিন্তু, এই এডিনোভাইরাস-বাহিত স্পাইক জীন আমাদের কোষে ঢুকে ওই ভাইরাল স্পাইক প্রোটিন তৈরী করতে থাকে। এবং তখনই শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাকে প্রথম দেখতে পায় এবং 'এত আমাদের দলের নয়, নিশ্চয়ই শত্রু' বলে চিনে রাখে। ভবিষ্যতে, জ্যান্ত ভাইরাস ঢুকলে - 'আর এত সেই সিঁধেল চোর-টা , আবার এসেছে' বলে তেড়ে যায়।



    মোদ্দা কথা, কোভিশিল্ডের মধ্যে আছে কোরোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের জীন . তার মানে, এই ভ্যাকসিনের শিশি থেকে একটু সল্যুশন নিয়ে স্পাইক জিনের জন্যে Polymrase Chain Reaction (ওই RTPCRর PCR ) করলেই বুঝতে পারা উচিত শিশিতে ভ্যাকসিন আছে না জল না স্যালাইন।

    PCR ব্যাপারটা নিয়ে বললাম না, কারণ এটার মূল ব্যাপার আজকাল হয় স্কুলেও পড়ানো হয়। তবে এও খুব সহজ পরীক্ষা (in fact , সংক্রমণ পরীক্ষা করতে যে RTPCR করতে হয় তার থেকেও সহজ), এবং রাজ্যের বহু মলিকিউলার বায়োলজি /বায়োটেকনোলজি গবেষণাগারে সহজেই করা যায়। দরকার শুধু স্পাইক জিনের জন্যে দুটো primer, আর সে তো অর্ডার দিলে ১০০০-২০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে। পুনে'র কোম্পানিকে বললে তারাই ব্যবস্থা করে দেবে।

    অবশ্য, এখানেও কিছুটা standardize করতে হবে। তবে সেটা সম্ভবত এক-দু দিনের ব্যাপার।

    প্রসঙ্গত বলে রাখি, যে এই রাজ্যে যাঁরা টিকাকরণ কাজে নিযুক্ত তাঁদের সমালোচনা করা কোনো মতেই আমার উদ্দেশ্য না। in fact, ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা কাটিয়ে, প্রত্যেক শিশি থেকে শেষ বিন্দু ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে যেভাবে তাঁরা কাজে লাগাচ্ছেন (এ খবর ও জাতীয় মিডিয়ায় বেরিয়েছে) তার জন্যে কোনো প্রশংসাই যথেষ্ঠ নয়। রাজ্যের সেন্ট্রাল স্টোর থেকেও আরো সাবধানতার সঙ্গে টিকা'র আমদানি ও বন্টন হচ্ছে। এঁদের কর্মদক্ষতার জন্যেই আজ পশ্চিমবঙ্গের ৩৭% নাগরিক অন্তত এক ডোজ টিকা এবং ১৪% দুই ডোজ টিকা পেয়ে গেছেন, বড় জন-সংখ্যা রাজ্যগুলির মধ্যে যা বেশ ভাল । 

    তাই, অযথা 'জ্ঞান দিচ্ছি' প্লিজ মনে করবেন না। সম্ভবত রাজ্যের কেন্দ্রীয় স্টোর এরমধ্যেই এসব পরীক্ষা করছেন। আমার জানা নেই, কোন নোটিশ ও স্বাস্থ দপ্তরের ওয়েবসাইটে দেখলাম না (internal memorandum থাকতেই পারে, আমি জানব কোথা থেকে ?)। এই অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াইতে আমরা সবাই আছি, তাই এইটুকু লিখলাম। যদি কোন কাজে আসে। দ্রুত সফল টিকাকরণ হয়ে সবাই সুস্থ থাকুন এটাই কাম্য।

    Reference:

    1) https://www.anandabazar.com/india/who-published-report-of-fake-vaccination-scam-that-took-place-across-india/cid/1299668
    2) https://www.bbc.com/news/world-asia-india-58253488
    3) https://www.livemint.com/science/health/who-issues-medical-alert-on-fake-covishield-vaccines-11629224524851.html
    4) https://www.who.int/news/item/16-08-2021-medical-product-alert-n-5-2021-falsified-covishield-vaccine
    5) https://www.nytimes.com/interactive/2020/health/oxford-astrazeneca-covid-19-vaccine.html
  • বিভাগ : ব্লগ | ২৩ আগস্ট ২০২১ | ৪০০ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন