• খেরোর খাতা

  •  গল্পের কাছে 

    ইন্দ্রাণী লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ মে ২০২১ | ৬৫৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • প্রত্যাশা নিয়ে গল্পের কাছে যাই নি তো। অক্ষরজ্ঞান হয়নি -প্রথম যখন গল্পের কাছে; মা রঙচঙে বই থেকে পড়ে শোনাচ্ছে, সেখানে একটা লাইন- আকাশ ভেঙে পড়েছে রে আকাশ ভেঙে পড়েছে; মা পড়ছে, আর বিশাল একটা কিছু আমাকে গিলে নিচ্ছে, মাথা, মুখ, নাক, কান আর চোখ ঢাকা পড়ছে, দমবন্ধ হয়ে আসছে - এইরকম অনুভূতি হচ্ছে আমার; কিন্তু বিশাল ব্যাপারটা যে কী আর বিরাটত্ব ঠিক কতখানি - সেইটা বুঝতে পারছি না। খাবি খাচ্ছি, তারপর তারস্বরে কেঁদে উঠছি একসময়। অথচ মা কে বারবার বলছি ঐ লাইনটাই পড়তে- ডুবে যাওয়ার অনুভূতি আবার পেতে চাইছি ; মা যখন বাড়ি নেই, বই হাতে আমি ঠাকুমার কাছে যাচ্ছি,তারপর জেঠিমার কাছে, জেঠুর কাছে - বলছি, ঐ লাইনটা পড়- আকাশ ভেঙে পড়েছে রে , আকাশ ভেঙে পড়েছে। কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠছে।

    সবে পড়তে শিখেছি, স্কুল শুরু হয় নি, জেঠু গল্পগুচ্ছ থেকে 'ছুটি' পড়ছে-এই নিয়ে বোধ হয় পঞ্চমবার- "ফটিক খালাসিদের মতো সুর করিয়া করিয়া বলিতে লাগিল, এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে — এ — এ না। ” আমি আবার সেই খাবি খাওয়া কান্না শুরু করে দিয়েছি, কারণ , এরপর ফটিকের মা আসবে আর ফটিক বলবে, “ মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি। ”

    সম্পূর্ণ অপরিচিত এক বালকের জন্য হাহাকার করে আমি কাঁদছি- নিজেই অবাক হতাম- এ আমার বকুনি খেয়ে কান্না নয়, আছাড় খেয়ে কপাল কেটে কান্না নয়, ইঞ্জেকশন নেওয়ার কান্নাও নয়- কেন কাঁদছি, কার জন্য কাঁদছি কিছুই স্পষ্টই নয়। বস্তুত মরে যাওয়া ব্যাপারটাই তখন আমার কাছে অস্পষ্ট। শব্দের পরে শব্দ সাজানো একটা বাক্য আমাকে কাঁদাচ্ছে আর সেই আশ্চর্য কান্না বারবার কাঁদতে চাইছি আমি-

    আবছা মনে হ'ত, এই অবোধ্য আশ্চর্য দাঁড়িয়ে থাকছে একটি কি দুটি লাইনের ওপর-বহু ক্ষেত্রেই তা কাহিনীর বা একটি পর্বের শেষ লাইন - "বড় হইয়া নীলকুন্তলা সাগরমেখলা ধরনীর সঙ্গে তাহার বড় ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটিয়াছিল। কিন্তু যখনই গতির পুলকে তাহার সারাদেহ শিহরিয়া উঠিত, সমুদ্রগামী জাহাজের ডেকে হইতে প্রতিমুহূর্তে নীল আকাশের নব-নব মায়ারূপ চোখে পড়িত, হয়তো দ্রাক্ষাকুঞ্জবেষ্টিত কোনো নীল পর্বতসানু সমুদ্রের বিলীনমান চক্রবাল-সীমায় দূর হইতে দূরে ক্ষীণ হইয়া পড়িত, অদূরে অস্পষ্ট-দেখিতে পাওয়া বনভূমি এক প্রতিভাশালী সুরস্রষ্টার প্রতিভার দানের মতো মহামধুর কুহকের সৃষ্টি করিত তাহার ভাবময় মনে--তখনই তাহার মনে পড়িত এক ঘনবর্ষার রাতে, অবিশ্রান্ত বৃষ্টির শব্দের মধ্যে, এক পুরনো কোঠায়, অন্ধকার ঘরে, রোগশয্যাগ্রস্ত এক পাড়াগাঁয়ের গরীবঘরের মেয়ের কথা--তাহার হারানো স্মৃতি। অপু, সেরে উঠলে, আমায় একদিন রেলগাড়ি দেখাবি?" অথবা "মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি", কিম্বা "দুঃসাহসিক ভবঘুরের উপযুক্ত সমাধি বটে। অরণ্যের বনস্পতিদল ছায়া দেবে সমাধির ওপর। সিংহ, গরিলা, হায়েনা সজাগ রাত্রি যাপন করবে, আর সবারই ওপরে, সবাইকে ছাপিয়ে বিশাল রিখটারসভেল্ড পর্ব্বতমালা অদূরে দাঁড়িয়ে মেঘলোকে মাথা তুলে খাড়া পাহারা রাখবে চিরযুগ" বা হয়ত "মহেশ আমার তেষ্টা নিয়ে মরেচে। তার চরে খাবার এতটুকু জমি কেউ রাখে নি। যে তোমার দেওয়া মাঠের ঘাস, তোমার দেওয়া তেষ্টার জল তাকে খেতে দেয় নি, তার কসুর তুমি যেন কখনো মাপ ক'রো না।" ঐ সময়ে যে কোনো আখ্যানের কাছে গিয়েছি শেষ লাইনের জন্য।

    প্রথম লাইন পেয়ে বসে আরো পরে -পার্ল বাকের গুড আর্থ আর দাফনে দ্য মুর এর রেবেকা পড়তে গিয়ে। ইট ওয়াজ ওয়াং লাংস ম্যারেজ ডে কিম্বা লাস্ট নাইট আই ড্রেমট আই ওয়েন্ট টু ম্যান্ডারলে এগেন - কাহিনীর প্রথম লাইন ছোটোবেলার সেই বিশাল আকাশের ভেঙে পড়ার মত অজানা সম্ভাবনার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।

    গোটা স্কুলজীবন এইভাবে প্রথম লাইন কিম্বা শেষ লাইন কখনও বা শুধুই শব্দ টুকিয়ে নিয়েছি - অ্যাসফল্ট শব্দটা ননী ভৌমিকের রাশিয়ান গল্পের অনুবাদে পেয়েছিলাম, কিম্বা ম্যালাকাইট অথবা যেদিন পড়েছিলাম, সরণিতে গৃহকোণে যেন , সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠে আলো, বায়োস্কোপের বাক্সে চোখ রাখার মত ব্যাপার ঘটেছিল- বরফ পড়া পথ, দুদিকে কাঠের বাড়িতে আলো জ্বলছে, আকাশে তারা- এই সবই দেখা হয়ে গিয়েছিল স্রেফ একটা শব্দে। সরণি, সরণি , সরণি- কী আশ্চর্য সুন্দর শব্দ- সমস্তদিন মাথার মধ্যে গুনগুন করল সরণি,তারপর রয়ে গেল।

    ছোটোবেলায় আমরা বলতাম হরেকরকমবা জিবারুদে রকা রখানা। বঙ্গলিপিতে গোটা গোটা ক'রে লিখে বলতাম-বলত কী? তারপর কালিপুজোর দুপুরে আমরা বাজিগুলি রোদে দিতাম; ঠাকুমার ঘরে দু’খানি খুব ভারি আয়তক্ষেত্রাকার পিঁড়ি ছিল-আমাদের বাড়ির সব বিয়ে ঐ পিঁড়িতে; ফলতঃ সেই সব পিঁড়িতে অতীতের বিয়ের কিছু স্মৃতি লেগে আছে অবশ্যম্ভাবী - সে হয়ত গঁদের আঠায় সেঁটে থাকা রঙীন কাগজ কিম্বা প্রায় মুছে যাওয়া আলপনা-সেই পিঁড়ি রোদে এনে তার ওপর বাজি সাজাতাম-রং মশাল, ফুলঝুড়ি তুবড়ি চরকি ইলেক্ট্রিক তার সাপবাজি রকেট। দুপুরের রোদ সরে সরে যেত, আমরাও সেইমত পিঁড়ি সরাতাম-রোদ যেন লেগে থাকে বাজিতে। সেই সব হেমন্তের বিকেলে কালি পুজোর প্যান্ডেলে সন্ন্যাসী রাজার গান আর ডায়ালগ শুনতে পাচ্ছি-'যে বাড়িতেই যাওনা সখি'... পরক্ষণেই সুপ্রিয়া দেবীর ভারি গলা; এদিকে রোদ পড়ে আসছে, হাওয়ায় হিম টের পাওয়া যায়, বাজিতে তখনও রোদের গন্ধ। অন্ধকার হ'লেই বাজি পোড়ানো আর একবার শুরু হলেই মুহূর্তে শেষ তারপর আর কিছু নেই, স্রেফ আর কিছু নেই-শুধু পড়া আর পড়া-দুদিন পরে স্কুল খুলবে-অ্যানুয়াল পরীক্ষা -সব মিলিয়ে সেই সময়্টায় ভারি একটা বিষাদ জন্ম নিত।

    স্কুলের শেষের দিকে ঐ বিষাদ একটা আলোর ময়ূরে বদলে গিয়েছিল-'অন্ধকার আকাশের তলায় দেখতে দেখতে একটি আলোর ময়ূর ফুটে উঠল। আলোর ফুলকিগুলো যেন ভাসছিল... ময়ূরটির আকার যতই বাড়ছিল তার প্রত্যঙ্গগুলি ততই গলে যাচ্ছিল-' অথবা জোনাকি-'চোখের পলকে, মাটির অন্ধকার এ একটি আলো দপ করে জ্বলে উঠল.. উঠল তো উঠলই, গাছের মাথা সমান উঁচু হয়ে রংমশালের তারার মতন তুবড়ির ফুলের মতন ফরফর করে পুড়তে লাগল।।দেখতে দেখতে চারপাশে যেন জোনাকির মেলা বসে গেল... মনে হচ্ছিল একদল লোক যেন অন্ধকারে জোনাকির পিচকিরি ছুঁড়ে মারছে আর পলকে অন্ধকারের বসনে জোনাকি ধরে যাচ্ছে।'

    গল্প যে মনে রাখার মত লাইন আর শব্দের বাইরে আরো কিছু দিতে সক্ষম সেইটা বুঝলাম।

    আসলে, এই সময় অবধি উপন্যাস, বড় গল্প, ছোটো গল্প আলাদা করি নি, শুধু লাইন কুড়িয়েছি, ঝিনুক খোঁজার মত শব্দ খুঁটে খুঁটে তুলে নিয়েছি ; তারপর কলেজ যেতে যেতে যেটা ঘটল- অজস্র ছোটো গল্প দেখতে শুরু করলাম চারপাশে-

    যেমন ধরুন, তখন প্রাক মোবাইল কাল- সেইদিনই পুজোর ছুটি পড়েছে। ছাতা বাগিয়ে হাঁটছি শিয়ালদা সাউথ থেকে নর্থ সেকশনে। কাঁধের ঝোলায় হাত দিয়ে রেখেছি- গত তিনমাসে তিনদিন পার্স মান্থলি খোয়া গেছে ঐ ঝোলা থেকেই। মাথায় মাথায় ঝুড়ি ভর্তি সব্জি সাউথের থেকে নর্থের দিকে যাচ্ছে। কাঁধে কাঁধে মাছের চারা, ছানা ( দুগ্ধজাত)। পা পিছলোচ্ছে মাঝে মাঝে কফে, জলে, কাদায়, পচা পাতায় বা কলার খোসায়। হিসির গন্ধ চত্বর জুড়ে। প্রচুর রুমাল বিক্রি হচ্ছে। অ্যানাউন্সমেন্ট, হকার, ভিক্ষুক, ক্যাসেট সব জড়িয়ে জট পাকিয়ে। প্রচুর লোক হুড়হুড়িয়ে বেরিয়ে এল নর্থ সেকশনের ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিক থেকে। আর চটিটাও পটাং করে ছিঁড়ে গেল। ঠিক এই সময় হঠাৎ একরাশ বুদবুদ মাথায় মুখে এসে পড়তে লাগল। মুখ তুলে তাকাতেই ফ্লাইওভারের ব্যাকড্রপে ঢাকের ঝালর - ঢাকীরা ঘুরে ঘুরে ঢাক বাজাচ্ছে। সব আওয়াজ ছাপিয়ে শুধুই ঢাকের বোল। আর দুপাশ থেকে রাশি রাশি সাবান বুদ্বুদ উড়ে আসছে। সবই অবশ্য ফেটে যেতে লাগল এদিক ওদিক। একটাই শুধু বাউন্স খেয়ে এদিকে এল তারপর গুঁড়ি মেরে পায়ের কাছে পোষাটার মত দাঁড়াল। ছেঁড়া চটি পায়ে, ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে 'অমল মহিমা' শব্দটা মনে পড়ল আমার -এই 'অমল' হসন্ত দিয়ে বলতে নেই। এদিক ওদিক তাকিয়ে ঐ বুদবুদটা ঝোলায় পুরে নিলাম।

    ছোটো গল্প পেড়ে ফেলল আমাকে।

    সেই সময় অলরেডি পড়ে ফেলেছি, , "মেজদা সামান্য নড়ল। আকাশের দিকে তার মুখটি তোলা, অমল জ্যোৎস্না তার সমস্ত মুখ লেপে রেখেছে, তার দুই অন্ধ নয়ন নিবিড় করে সেই আলো মাখছিল। মেজদা তার সাদামাটা মেঠো সুরেলা গলায় বলল, .. মা যে কত অন্ধ আমি জানতাম। এই অন্ধ চোখ মাকে আর দিতে ইচ্ছে করে না। মা আমার হৃদয়ের চক্ষু পাক"; অথবা, "অমৃত দেখল, এখানে ভগবানের কোনও শেষ নেই। যতই এগোয় ততই বেড়ে যায়"।

    বুঝতে পারছিলাম, এই সব গল্প পড়ার আগের মানুষ আর পরের মানুষ আলাদা- যেন পি সি সরকারের ম্যাজিক - বাক্সে ঢুকল একটা মেয়ে- হয় হারিয়ে গেল নয়ত বেরিয়ে এলো বাঘ হয়ে। গল্প সেই সময় থেকে আমার কাছে সার্কাসের আশ্চর্য তাঁবু। ঘুরে ঘুরে আবিষ্কার করতে থাকি সাইকেল মেসেঞ্জার, আবরণ, বিশ্বনাথের জাহাজ, সবুজ হিশেব, রৌদ্রশূন্যতা, হিরণ্যগর্ভ, বরফপড়া দিনগুলোয়, বর্ষামঙ্গল, ভূতজ্যোৎস্না, শঙ্খপুরীর রাজকন্যা, জন্ম, তোমার তুলনা তুমি, প্রাণ....

    কখনও মনে হত যেন অন্ধকারে , নীল আলো জ্বালিয়ে ট্রাপিজের মারাত্মক খেলা শুরু হয়েছে - এই দোলনা থেকে অন্য দোলনায় ঝাঁপ দিচ্ছে কেউ- আধো আলোয় অন্য দোলনা বা নিচের সেফটি নেট অদৃশ্য মনে হচ্ছে দর্শকের, সে শিউরে উঠে চোখে হাত চাপা দিচ্ছে অথবা জাদুকর টুপি থেকে খরগোশ, রুমাল থেকে ফুল বের করে আনছে আর হাততালির ঝড় বইছে অ্যারেনায়। আমি যেন ফার্স্ট রোয়ে বসে জাদুকরকে দেখছি, ম্যানড্রেক টুপি, কালো রোবে লাল সোনালী তারার ডিজাইন- আমার হাতে জাদুকাঠি ছুঁইয়ে দিল; কখনও সার্কাসের বাজনা উদ্দাম হয়ে কানে আসে, বাঘ সিংহের গর্জন শুনতে পাই ; কখনও লাল নীল আলো জ্বলে তাঁবু জুড়ে আর আমার জাদুকাঠি ছোঁয়া হাতের তেলোর ওপর একটি স্বচ্ছ নীল ডিম দেখি- আমার শৈশব, কৈশোর, প্রথম যৌবন গুটিয়ে এইটুকুনি হয়ে হলুদ কুসুমের মধ্যে ঘুমিয়ে আছে।

    গল্প একদম জ্যান্ত হয়ে এল অনেক পরে। ঝোলার মধ্যে টুকিয়ে আনা বুদবুদের নড়াচড়া টের পেলাম একদিন। খাঁচার দরজা খুলেই গিয়েছিল। আচমকাই হালুম করে গর্দান বরাবর ঝাঁপ দিয়েছিল গল্প। টুঁটি চেপে ধরেছিল। একদিন হাত ধরল। নতজানু আমিও কথা দিয়েছি, তোমায় যতনে রাখিব হে-

    এইভাবে চলছে। ভালবেসে।

    যে বীণা শুনেছি কানে, মনপ্রাণ আছে ভোর। আর কিছু চাহি না-

    [গল্পপাঠ , ২০২১]
  • বিভাগ : অন্যান্য | ০৮ মে ২০২১ | ৬৫৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • জীৎ ভট্টাচার্য্য | ০৯ মে ২০২১ ১৬:১৮105769
  • ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না । মহাকাশ থেকে একটা দুটো যোগাড় করে নিয়ে এলাম। কিন্তু সাজাতে পারছিনা । ভয় হয় সাজালে যদি নষ্ট হয়ে যায় সেইসব শব্দগুলোর ছন্দ, তখন ?


    প্রশ্ন একটাই । কি খান সকাল বিকেল দুপুরে যে এরকম লেখা লিখতে পারেন ? একটার পর একটা লেখা পড়ি আর অভিভূত হই।  

  • ইন্দ্রাণী | ০৯ মে ২০২১ ১৯:৫৮105782
  • আসলে দুটি ফরমায়েশি লেখা দিয়ে খেরোর খাতা খুলে রাখলাম। বিষয়, শব্দসংখ্যা সমস্তই বলে দেওয়া ছিল। স্বতঃস্ফূর্ত লেখা নয়।

    তবু আপনার ভালো লেগেছে। খুশি হয়েছি। ধন্যবাদ জানবেন।

  • আশ্চর্য্য | 165.225.8.108 | ০৯ মে ২০২১ ২১:৪৯105785
  • কি আশ্চর্য্য সমাপতন! গত দুদিন ধরে এই বিষয়টাই ভাবছিলাম! কিভাবে এক একটা শব্দ, বাক্য, অনুচ্ছেদ, চরিত্র, গান আমার নিজের মনটা গড়ে দিল আর অজান্তে ভাগ্য নির্ধারণ করে নিল!   সেসব স্মৃতির অনেক কিছু এখানেই ফিরে পেলাম। 


    বয়ঃসন্ধিকালে পড়া ধারাবাহিক পূর্ব-পশ্চিমের দ্বিতীয় খন্ড খুলে আজ বুঝতে পারি অলি চৌধুরির চরিত্র কিভাবে মনের এক কোনায় জমেছিল। ভেবেছিলাম হারিয়ে গেছে - শৈলেন ঘোষের গল্প পড়ে অল্প বয়েসে ফেলা অশ্রুর মত। ফিরে দেখি, সে রয়েছে নীরব নিয়তির মত। 


    শুধু কি শৈলেন ঘোষ? আরণ্যকের পাতায় পাতায় যখন ছায়া ফেলে মহাকাল, তখনই কি বাঁধ মেনেছে হৃদয়? আর, এই যে অনুচ্ছেদ - একেই কি লুকোতে পারি তুচ্ছ দোহাই দিয়ে? 


     পথের দেবতা হেসে বলেন পথ তো আমার শেষ হয় না... 

     

    তোমাদের সোনাডাঙা মাঠ ছাড়িয়ে, ইছামতী পার হয়েপদ্মফুলে ভরা মধুখালি বিলের পাশ কাটিয়েবেত্রবতীর খেয়ায় পাড়িদিয়েপথ আমার চলে গেছে সামনেসামনেশুধুই সামনেদেশ ছেড়ে বিদেশের দিকেসূর্য্যোদয় ছেড়ে সূর্য্যাস্তের দিকেজানারগন্ডী এড়িয়ে অপরিচয়ের উদ্দেশ্যে। দিন রাত্রি পার হয়ে, জন্ম-মরণ পার হয়েমাস বর্ষ মন্বন্তরমহাযুগ পার হয়ে লে যায়, তোমাদের মর্ম্মর জীবন-স্বপ্ন শেওলা ছাতার দলে ভরে আসেপথ আমার তখনো ফুরোয় নাচলেচলেএগিয়েই চলে….অনির্বাণতার বীণা শোনে শুধু অনন্ত কাল আর অনন্ত আকাশ... ”

  • ইন্দ্রাণী | ১০ মে ২০২১ ০৫:৪২105797
  • আশ্চর্য,

    নস্টালজিয়ায় অ্যালার্জি আছে বলে চেষ্টা করি এই ধরণের লেখা এড়িয়ে চলার। বস্তুত গল্প ছাড়া কিছু লিখি নি বহুবছর।

    এবছর দুটি একই ধরণের প্রস্তাব এসেছিল, দোনামনা করে লিখে ফেললাম। শব্দসংখ্যা সীমিত থাকায় সব লেখা সম্ভব হয় নি। নিজেও চাই নি উজাড় করে লিখতে। এই লেখাটিতে নস্টালজিয়া এড়ানো যেত, সেটা করি নি ঐ সম্পূর্ণ উজাড় করা এড়াতে।

    তবু আপনার ভাল লাগল, নিজের স্মৃতি ফিরে দেখলেন, এ' অনেকখানি।

    ধন্যবাদ জানবেন।

  • kk | 97.91.195.43 | ১০ মে ২০২১ ০৬:২১105798
  • জিৎ ভট্টাচর্য্যের প্রশ্নটা আমারও। জোকস অ্যাপার্ট, আজকাল একটা কথা আমার খুব মনে হয় -- সব ভাষার মধ্যেই শব্দের খুব অপ্রতুলতা। মনের মধ্যে যত রকম অনুভূতি হয়, সব প্রকাশ করার মত যথেষ্ট শব্দ পৃথিবীতে নেই। ইন্দ্রাণীদির লেখা পড়ার পর সেই অনুভূতিটা আরো বাড়ে। আমার কেমন লেগেছে সেটা বোঝানোর মত শব্দ আমি খুঁজে পাইনা। খুব বেশি কষ্ট না খুব বেশি ভালোলাগা সেটা একটা পয়েন্টে এসে গোলমাল হয়ে যায়। "এই এই কারণে ভালো" এমনি গদ্যময় মতামত আজ আর দিতে পারলামনা! ইন্দ্রাণীদি, তুমি হয়তো তবু আমার মত শব্দ-্গরীবের কথা বুঝতে পারবে। আশা রাখলাম।

  • আশ্চর্য্য | 165.225.8.108 | ১০ মে ২০২১ ০৭:৪৮105801
  • নষ্ট্যালজিয়া প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার মনে হল - এই রকম ফিরে দেখার মধ্যে নষ্ট্যাল্জিয়ায় নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকলেও একটা গঠনমূলক প্রক্রিয়ায় এ প্রয়াস আবশ্যিক। নিজের মনের চলন, তার গতিবিধি - সে কতটুকুই বা জানা হল? ইন্দ্রাণী ক্রিয়েটিভ লেখক, মন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করাই কাজ। আমরা তো লে ম্যান - কখন আর করতে পারি সেই শুদ্ধিকারী কর্ম? হটাত আলোর ঝলকানির মত এক একটা লেখা সেই চিন্তাগুলো উদ্দীপ্ত করে - এই আর কি! 

  • ইন্দ্রাণী | ১১ মে ২০২১ ০১:২২105842
  • কেকে,
    তুমি নিজেকে শব্দ-গরীব বললে !!
    কী আর বলব! যাই হোক, ভালো লেগেছে খুশি হলাম।

    আশ্চর্য,
    নস্টাল্জিয়া নিয়ে পরে একদিন বিশদ লিখব।
    ধন্যবাদ আপনাকে। কতটা ক্রিয়েটিভ, নিজেকে নিয়ে সংশয় আছে। তবু পাঠকের ভালো লাগায় চেষ্টা করে যেতে উৎসাহিত হই।

    সবাই ভালো থাকবেন।

  • &/ | 151.141.85.8 | ১১ মে ২০২১ ০৩:১০105845
  • ওহ্হ্হ, কী ভালো লেখা কী ভালো লেখা!!!!
    অন্ধকার আকাশের তলায় ওই আলোর ময়ূর ---ওটা কোন গল্পের?

  • প্রতিভা | 203.212.245.242 | ১১ মে ২০২১ ১০:৫৭105856
  • কান্নাটা খুব রিলেট করতে পারলাম। বড় হয়ে, বুড়ো হয়েও সেটা পিছু ছাড়েনি। ঢোঁড়াই চরিত মানস এখনো যতোবার পড়ি...। আর ঠিকই যতো গল্প জমেছে সারা জীবন, ভ্রূণের মতো তাদের নড়াচড়া টের পাই। শুধু প্রকাশ করতে পারিনা। 


    অপূর্ব লিখেছ। পড়ে আবার সেই কান্নাই পেল।

  • | ১১ মে ২০২১ ১২:৪৩105858
  • এই লেখাটা পড়তে ভাল লেগেছে। একটা জিনিষ বুঝেছি আমি এক সাধারণ পাঠক গল্পকে অন্যভাবে দেখি। আমার কাছে 'কী বলছেন, কাদের কথা বলছেন' এইটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে বলছেন এটা তত গুরুত্ব পায় না  আমার কাছে।  ইন্দ্রাণী 'কীভাবে' উপস্থাপন করবেন সেটা নিয়ে নানারকম ভাবনাচিন্তা করেন, নানাভাবে উপস্থাপন করেন। সেসব পাকা লেখকদের কাজ, জরুরী কাজ। খুবই প্রশংসনীয়। আমার ব্যক্তিগতভাবে একেবারে মাপে মাপে কাটা হীরে দেখতে ভাল লাগে নিশ্চয়ই, তবে হীরে তুলল যারা কাটল যারা তাদের কথা, কেমন করে তুলল, কাটল সেসব কথাই বেশী টানে। 


    এবারে ইন্দ্রাণীর অন্য পাঠকেরা  বলতে পারেন তুমি গোদা পাঠক, গল্পের কারুকৃৎ নিয়ে মাথা ঘামাও না, তোমার কথা কে জানতে চেয়েছে শুনি?  তা কেউ চায় নি বটে, তবু ঐ গুরুর মুক্তাঙ্গন,  তাই  এই  গোদা পাঠকের কথাটাও  লিখেই রাখলাম। 

  • ইন্দ্রাণী | ১১ মে ২০২১ ১৪:৪৫105864
  • এই তুচ্ছ লেখা সবার ভালো লেগে যাবে ভাবিই নি। টুক করে খেরোয় খাতায় তুলে দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলাম।

    &/, থ্যাংকু থ্যাংকু। কোন্্‌ গল্প? না বলা থাক ঐটুকু। তুমি নিজেই খুঁজে পাবে একদিন।




    প্রিয় পরিব্রাজক, নস্টালজিয়ার আড়ালে আমার ঘাপটি মেরে থাকা এই লেখায়। এর বেশি কিছু নয়। তোমার ভালো লেগেছে, অশেষ ধন্যবাদ।

    অশেষ ধন্যবাদ দ।
    গল্পের কাছে ভিন্ন জনের ভিন্ন চাহিদা তো হবেই। যেখানে মূল লেখাটি বেরিয়েছিল, সেখানে অনেকেই লিখেছিলেন গল্পের কাছে কী চান তাঁরা। সব ক'টি লেখাই আলাদা ।
    আর, লেখকই হতে পারলাম না এখনও- তায় আবার পাকা লেখক!
    উপস্থাপনা নিয়ে খুব কিছু ভাবনাচিন্তা করার যোগ্যতাই আমার নেই। শুধু গল্প বলা আর গল্প লেখার মধ্যে একটা ফারাক করতে চেয়েছি সব সময়- এই আর কী। এছাড়া, উপস্থাপন বা কৃৎ কৌশল তো সব নয়; হতেই পারে না। শুধুই উপস্থাপনা নির্ভর গল্প উৎরোয় কি?

  • &/ | 151.141.85.8 | ১৩ মে ২০২১ ০৮:০২105908
  • পেয়েছি, পেয়েছি, পেয়েছি ছোটাইদি। আসলে আগে তো বইটা পড়িনি, কেবল মুভিটা দেখেছিলাম, সেখানে তো শুধু মুগ্ধ তরুণ তরুণীর বিস্ময়োচ্ছ্বাসটুকুই টেনে রাখল। অনুমানে অনুমানে গিয়ে বইটা নামালাম, খুললাম। আহ, একদম শুরুতেই আলোর ময়ূর!!!
    অনেক অনেক ধন্যবাদ। ঃ-)

  • :|: | 174.255.1.224 | ১৫ মে ২০২১ ০৪:১৫105988
  • d প্রসঙ্গ তুললেন বলে ভেবে দেখলুম গল্পের প্রথম বা শেষ লাইন না কন্টেন্টও না ইন্দ্রানীর বেশীর ভাগ গল্প পড়ার সময় সেই লাইনটার অপেক্ষায় থাকি যেটার পর থেকে আর বাকী গল্পটা বুঝতেই পারবো না। কোনও কোনও সময় পুরোটা একবার পড়েই বুঝতে পারি। তখন খুব ভালো লাগে। আর অন্য সময়গুলোয় মনকে বলি কবিজী বলেছেন, কবিতা বোঝবার জন্য নয় বাজবার জন্য। তখনও খুব ভালো লাগে। 


    উভয় ক্ষেত্রেই উইন উইন -- ভালো লাগা। 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন