• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  নববর্ষ

  • ও শান্তি ও স্বদেশ

    রুখসানা কাজল
    ইস্পেশাল | নববর্ষ | ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ৪০১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ও শান্তি ও স্বদেশ


    এসপি নূরতাজ মন্ডল কোনো রকমের জানান না দিয়েই সাতসকালে থানায় এসে হাজির হয়েছেন। থানার পিয়নের কাছে খবর পেয়েই ওসি হামিদুল্লা ছুটে আসে।
    জী স্যার, সালাম স্যার। ইয়েস স্যার, কোন কেসটা স্যার? বুঝেছি স্যার। শুয়োরেরবাচ্চাটা প্রায় ম্যাসাকার করে ফেলছেলো স্যার। দাঙ্গা হয় নাই এই রক্ষে। নাস্তা করেন স্যার। অনেকদিন পর আমাদের মনে করলেন স্যার।
    নূরতাজ মন্ডল হাত তুলে হামিদুল্লাকে থামিয়ে নাস্তা করবে বলে জানিয়ে দেয়। আজ সারাদিন সে এই থানায় কাজ করবে।
    হামিদুল্লার বর্ণিত শুয়োরের বাচ্চাটার ঘটানো ম্যাসাকারের ঘটনাটা ধীরে সুস্থে ভাল করে শুনতে হবে। এ কারণেই এত ভোরে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।
    নাস্তার আগে এক মগ কড়া রঙ চা দিতে বলে বাঁ হাতের কব্জি তুলে ধরেন।
    সকাল ছটা উনিশ মিনিট।
    তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, জগতের এই শুভক্ষণে মানুষের বুদ্ধিকে শুদ্ধি করতে রঙ চায়ের কোনো জুড়িদার নাই। খানিকটা গা ছেড়ে আরাম করে চেয়ারে বসে তিনি রুমটি দেখতে থাকেন। এটি তার ছেড়ে যাওয়া থানা। এই রুমটি তার ছিল। তিনি যেভাবে ছেড়ে গেছিলেন, এখনো তেমনি পরিচ্ছন্ন আর সাজানো রয়েছে সবকিছু।
    এই ঘরটা পুবমুখী। ফলে রুমের ভেতরে বসে উদিত সূর্যের গতিবিধির সাথে আলোর বিন্যাস খুব সহজেই বোঝা যায়। নূরতাজ মন্ডল নিজ হাতে এই থানার অফিস সাজিয়ে নিয়েছিলেন। পুলিশ হলেও একটু আধটু সৌখিনতা তিনি বজায় রেখেছেন।
    ঘরে ঢুকলেই চোখে পড়বে দেয়ালে জাতির পিতার ছবির পাশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ছবি। চেয়ারে বসলে দেখা যাবে সামনে দেওয়ালে কালো ডায়ালের বড় ঘড়ি। তাছাড়া থানা চত্বরে দেশি বিদেশি ফুলের মনোরম একটি বাগান করে রেখে গেছিলেন তিনি।
    খুব ছোট বেলায় জাতির পিতাকে চাক্ষুষ দেখার অভিজ্ঞতা আছে নূরতাজ মন্ডলের। তিনি যে শহরের ছেলে, বঙ্গবন্ধু সে শহরে বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন। তখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত নতুন বাংলাদেশ। রিলিফে পাওয়া পনির বিস্কিট ছাতু দিয়ে সে সময় শহরের অনেক মধ্যবিত্ত বাসায় বিকেলের নাস্তা দেওয়া হত। তখনো কারো মনে কোনো ক্ষোভ ছিল না। সবাই জানত, বঙ্গবন্ধু এসে গেছেন। এইবার দেশটার পু্নর্গঠন শুরু হবে। চিন্তা কি !
    কিন্তু ক্লাশ নাইনে উঠতে উঠতেই দূর শহর থেকে তারা জানতে পারেন, আকস্মিকভাবে হত্যা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। আর তারপরেই সংবিধানের মূলস্তম্ভ থেকে মুছে দেওয়া হয় ধর্মনিরপেক্ষতাকে। বাঙ্গালী জনজীবনে নেমে আসতে থাকে সাম্প্রদায়িকতার ঘন বুনোট । মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের মানুষগুলো আবার তৎপর হয়ে ওঠে।
    তার শহরের কয়েকটি পাড়া থেকে সনাতন ধর্মের অনেক পরিবার উধাও হয়ে যেতে থাকে। অনেক বন্ধু এমন কি শিক্ষকও চলে যায় বাংলাদেশ ছেড়ে। সারা বাংলাদেশের হাল তখন এক রকম নাজুক হয়ে পড়ে।
    দ্বিতীয়বার ছবিদুটো দেখে নূরতাজ মন্ডল মনে মনে কিছু হিসাব করে নেন।


    ওসির এই রুমে একসময় তিনি নিয়মিত বসতেন। প্রমোশন পেয়ে এখন বড়সায়েব হলেও ওসির সাথে বন্ধুতার সম্পর্ক আগের মতই রয়েছে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে এরকম অনেক জুনিয়রকে তিনি সময়, পরিস্থিতি, ব্যক্তি, সমাজ, সম্প্রদায় অনুযায়ী কাজ করতে শিখিয়েছেন। যে কোন জটিল কেস হাতে এলে, এরা এখনো তার স্মরণ নেয়। প্রয়োজন পড়লে তিনিও এদের ডেকে পাঠান।
    হামিদুল্লা খান এদের মধ্যে সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট। পুলিশ দপ্তরের উপর মহলে ভাল অফিসার হিসেবে বেশ নাম সুনাম অর্জন করেছে । আকস্মিক যে কোনো ঘটনায় সৃষ্ট মব নিপুণভাবে সামলাতে শিখে গেছে। গেল কালকের ঘটনা সত্যি মিথ্যে যাই হোক, অনেক কিছু ঘটে অনেক দূর যেতে পারত। এমনকি উত্তেজনায় উন্মত্ত ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীদের হাতে ছেলেটা খুন হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু ছিলো না। দাঙ্গাও হয়ে যেতে পারত। ক্ষমতাসীন দলের নগর কমিটির এক পাওয়ারফুল নেতা তো মুঠোফোনে বলেই দিয়েছিলো, সামনে ইলেকশন। এ সময়ে এই ঘটনা ঘটলো ! সরকারের দুর্নাম হয়ে যাবে। শালাকে ছারপোকার মত পিষে মেরে ফেলা দরকার ছিল !
    সরকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও ওঁৎ পেতে আছে।
    থানা পুলিশ আর ঘটনা সৃষ্ট গ্রামবাসীদের তারা তীক্ষ্ণ ও কঠিন দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষমতাসীন সরকারকে ফাঁদে ফেলার সামান্যতম সুযোগ, এমনকি সূঁচ মাপের হেলাফেলা দেখলেই কোন প্রকার ছাড় দিতে নারাজ এরা। দেশ বিদেশের পত্র পত্রিকায় ঢালাও খবর চলে যাবে মুহুর্তের মধ্যে।
    যদিও খুব মামুলি আর ছক কাটা ফাঁদ এগুলো। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার থাকলেই এসব হবে। হচ্ছে। ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বাদ নেই কোন দেশেই।
    আদতে নূরতাজ মন্ডল অন্য খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন। একেবারে ইনোসেন্ট সূত্র তাকে সেই খবরটা পেয়েছেন। যারা দিয়েছে তারাও অই গ্রামের একই সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। নামধাম গোপন রাখার শর্তে অনুরোধ জানিয়েছে, ছেলেটাকে বাঁচান স্যার। ঘটনাটা হঠাত ঘটে গেছে। একেবারে আকস্মিক স্যার। মুহুর্তের মধ্যে কি যে হয়ে গেলো স্যার। বোকাসোকা সরল টাইপের ছেলে স্যার। একজন নারী মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কান্না রুখে বলেছিল, ও ইচ্ছে করে এসব করেনি স্যার। ঠেলাগাড়ি চালায়ে খায় । আমাদের চেনাজানা ছেলে স্যার। যা ঘটেছে একেবারে অঘটন। মা দুগগার কিরে স্যার।
    মাঝরাতে দুটি হোন্ডায় চেপে এসে তারা ছেলেটা সম্পর্কে খবরটা দিয়ে গেছে। তাদের অনুনয় শুনেই তিনি ঘটনা যাচাই করতে এসেছেন। তাছাড়া এটা তার এলাকার ভেতরে ঘটেছে। কমবেশি দায়িত্ব তো তাকে পালন করতেই হবে।
    তিনি ওদের কাছে খোঁজ নিয়ে আরো জেনেছেন, গত বছর দুয়েক ধরে গৃহস্থ বাড়ি ঘুরে ঘুরে মা বউ ঝিদের কাছ থেকে কলা পেঁপে ডাব নারকেল কিনে নেয় ছেলেটা। সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে দেয় কোন বাজার বা হাটে। এতে গৃহস্থেরও উপকার হয়। আবার ছেলেটারও কিছু আয় রোজগার হয়। কাজটা ও একাই করে । আজ পর্যন্ত কারো সাথে কোনো অসৈরণ ঘটেনি। বরং নারীকূলের মা বউ ঝি আর বুড়ো বুড়িরা ছেলেটাকে বেশ পছন্দই করে। কারণ কিছু টাকা ধরে দিয়ে তারা শহর থেকে অনেক দরকারি জিনিস এই ছেলেটাকে দিয়ে আনিয়ে নেয়। আবার কুসংস্কার ভেঙ্গে অনেক সময় অনেকেই এটা সেটা খেতে দেয়। কোনো কোনো দিন দুপুর বেলা মুখ শুকনো দেখলে কেউ কেউ স্নেহের বশে দুটো ডালভাত না খাইয়ে কিছুতেই ছাড়ে না। খাওয়া শেষে আদাড়ে কলাপাতা ফেলে হাতমুখ ধুয়ে আরাম করে সিগারেট ধরাতেই কেউ কেউ সিগারেট চেয়ে খায়। কোন রকমের বেচাল কিছুই ঘটেনি এই দুবছর ধরে। কাল হঠার কী যে হয়ে গেলো !


    সাদা টোষ্ট আর চা নিয়ে এসেছে সদ্য গোঁফ ওঠা এক অচেনা ছেলে। তিনি কিছুটা অবাক হয়ে ছেলেটাকে দেখেন। কেননা তিনি এসেছেন শুনলে জব্বার দোকানী নিজেই চলে আসে স্পেশাল রং চা নিয়ে। ক্রমশ বিস্তৃত টাকে হাত বুলিয়ে নূরতাজ মন্ডল ভাবেন, জব্বারের হয়ত শরীর টরির খারাপ হয়েছে। দোকানে বসেনি আজ।
    প্রায় বছর দুই এদিকে আসা হয় না। মোবাইলটা চার্জে বসিয়ে টেবিল ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে তিনি ভাবেন, একবার জব্বারের সাথে দেখা করতে হবে। জব্বার তার এক্সক্লুসিভ স্পাই ছিল। ঘটনার পেছনের ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে নিখুঁত তথ্য একমাত্র জব্বার ছাড়া আর কেউ তাকে এনে দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে জব্বার শতভাগ সৎ এবং সত্য অনুসন্ধানী।

    টেবিলের উপর ট্রে রেখে নূরতাজ মন্ডলের পা ছুঁয়ে সালাম করে কিশোর ছেলেটি। অবাক হন না তিনি। এরকম সালাম দিনে রাতে বহুবার তিনি পান। তাকে নিতে হয়। কিন্তু একজন কিশোরের সালাম করায় তিনি কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েন । এক শ টাকার একটি নোট দিতে চাইলে ছেলেটি লজ্জা পেয়ে দ্রুত চলে যায় রুম ছেড়ে।
    কে বলেন ত স্যার ? কিশোর ছেলেটা চলে যেতে হামিদুল্লা হাসতে হাসতে প্রশ্ন করে। অবাক হয়ে তিনি জিজ্ঞাস্য চোখে জানতে চান, কে ?
    জব্বারের ছেলে স্যার।
    জব্বারের। আরে বলেন কি! সে কেমনে করে হয়। জব্বার ত—
    হামিদুল্লার হাসি এবার কানের দু পাশে লেপ্টে থাকা টুপি ছুঁয়ে যায়। বিগলিত রহস্যে পরিপূর্ণ সে হাসি। কিন্তু বস্‌ এর প্রতি সম্ভ্রমের ফ্রেমে বাঁধাই করা। নূরতাজ মণ্ডল হামিদুল্লাকে দেখে মনে মনে তারিফ করেন। নাহ তার শিক্ষা ব্যর্থ হয়নি। হামি্দুল্লা মনে প্রাণে তাকে ফলো করে শুনেছিলেন বটে। এখন সামনা সামনি দেখছেন।
    স্যার শরীফ ছেলেটা হচ্ছে জব্বারের সেই চলে যাওয়া বউএর ছেলে স্যার। ওর বউ মরে গেছে দু বছর আগে। জব্বারই ছেলেটাকে নিয়ে এসেছে ওর কাছে। ইশকুলে ভর্তি করে দিয়েছে। ছেলেটা জানে জব্বার ওর বাপ। আসলে ওর বাপ বলে কেউ নাই স্যার। প্রস্টিটিউটের ছেলেমেয়েদের কি নির্দিষ্ট কেউ বাপ থাকে স্যার –
    হামিদুল্লার লম্বা বয়ান শুনে এবার নূরতাজ মণ্ডলও হাসেন। সাধারণ আড্ডার সাধারণ মানুষের মত সে হাসি। এই সাতান্ন বছর বয়সে তিনি জেনে গেছেন, মানুষের মনের মত চিত্রবিচিত্র প্রাণী এই পৃথিবীতে আর একটাও নেই।
    জব্বারের পুরুষত্বহীনতাকে চ্যালেঞ্জ করে পালিয়ে গেছিল জব্বারের বউ কারিমা। সেই বউকে জব্বার ঘরে ফিরিয়ে না আনতে পেরে চুরির অভিযোগে থানায় মামলা করেছিল। শোনা কথা জেল পর্যন্ত খাটিয়েছিল অই বউকে ! জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বউটি আর ঘরে ফেরেনি।
    জব্বারকে অবশ্যই তার সাথে দেখা করতে বলে আসল প্রসঙ্গে ফিরে আসেন তিনি , অই ছেলেটাকে একবার আনো হামিদ। টপ সিক্রেট।

    মার খেয়ে ঢোল হয়ে গেছে ছেলেটার চোখ মুখ। ফেটে যাওয়া জায়গাগুলোতে রক্ত জমে কালো হয়ে আছে। হাতের আঙ্গুলগুলো ভাঙ্গা। কেউ কেউ এত জোরে চুল টেনে নিয়েছে যে মাথার চাঁদির কিছু অংশের চুল উঠে গেছে। সেই ফাঁকা জায়গায় কালো কালো রক্তের দানা জমাট বেঁধে আছে ছেলেটার মাথায়। কেবল কি করে যেনো হাঁটুর নিচ থেকে পাদুটো অক্ষত রয়ে গেছে। থানার হাজত থেকে হেঁটেই এলো ছেলেটা।
    নূরতাজ মন্ডল ঘাগু পুলিশ। ছেলেটা যে সাগু পাবলিক তা এক নজর দেখেই বোঝা যাচ্ছে। অপরাধ করতে হলে এলেম লাগে। ছেলেটাকে মোটেও এলেমদারি লাগছে না। তাছাড়া এ ধরণের অপরাধ যারা করে তারা থাকে সদলবলে। অভিজ্ঞতা বলে, ওরা প্রতিমা ভাঙ্গতে আসে গভীর রাতের নির্জনতায়। সংঘবদ্ধভাবে থাকে বলে ধরা পড়ে না সহজে।
    আবার ওদের কেউ যদি ধরা খায় তো প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে দ্রুত থানায় যোগাযোগ করে নেত্বৃস্থানীয় কেউ কেউ। কখনো সখনো মুচলেকা দিয়ে অপরাধীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে। আবার কখনো জনতাকে সাক্ষী রেখে থানা পুলিশ এবং অভিযোগকারীদের দেখিয়ে মারপিটও করে তাদের ছেলে বা দলীয় কর্মীদের।
    এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। গ্রামবাসীরাও জানিয়েছে তারা আর কাউকে দেখেনি।
    তার মানে ছেলেটা একা ছিল।
    কিন্তু অপরাধ হয়েছে।
    এবং আর কেউ নয়, কেবল এই ছেলেটিকেই হাতে নাতে অপরাধ সংঘটনের জায়গা থেকে পাকড়াও করে রঙ ধোলাই করেছে গ্রামবাসীরা।
    নূরতাজের কেমন জানি অস্বস্তি হয়। অনেক বছর তিনি এরকম তৃণমূল পর্যায়ের অপরাধীদের নিয়ে কাজ করেন না। এখন তার অপরাধীরা বিত্তবান, অভিজাত কমবেশি শিক্ষিত আমলা, ব্যবসায়ী , শিক্ষক, সাংবাদিক, ধনী ঘরের উচ্চাকাঙ্ক্ষী বখাটে ছেলেমেয়েরা। এদের চোখের উপর কয়েকবার হাই পাওয়ারের টর্চের আলো ফেললে এরা গড়গড় করে অপরাধ স্বীকার করে নেয়। তিনি হামিদুল্লাকে ডেকে ছেলেটিকে জেলের হাসপাতালে পাঠিয়ে কিছুটা ফ্রেস করে আনতে বলেন।


    গ্রামবাসীদের মারপিটে ক্যারিশমা নেই তেমন। মেরেছে অনেক কিন্তু শরীরের কোথাও তেমন কায়দার মার নেই। ছেলেটা সুস্থ হয়ে যাবে দ্রুত।
    হামিদুল্লা খানিকটা ভাবিত হয়ে পড়ে। এরকম একটি সাধারণ কেস এ স্যারের এতখানি সময় ব্যয় করার কি কারণ থাকতে পারে কে জানে ! সরকার পক্ষের স্থানীয় নেতারা ত বলেই দিয়েছে হাড্ডি ভেঙ্গে কয়েক বছর জেলের ঘানি টানাতে।
    বুদ্‌বুদের মত হাসি উঠে মিলিয়ে যায় হামিদুল্লার মনে। এখন আর জেলে ঘানি কোথায় ! বন্দিরা সবাই জামাকাপড় সেলাই করে। আচার বানায়। কুটির শিল্পের কাজ করে। অপরাধীদের কেউ কেউ আবার পড়াশুনাও করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দাগী অপরাধীদের নিয়ে গান বাজনা, নাটক টাটকও হয়েছে বলে সে পত্রিকায় দেখেছে।
    ছেলেটাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় হামিদুল্লা। স্যার লাঞ্চ করতে পারে ভেবে জব্বারের দোকানে তেলমশলা কম দিয়ে মাছ মাংস রান্নার অর্ডার পাঠিয়ে দিয়ে নকু ময়রার দোকানে ছোটে । নূরতাজ মন্ডলের দুর্বলতা হচ্ছে দই। সর পড়া টাটকা দই খেতে স্যার খুব ভালোবাসে। আর স্যারের আরেকটি গুণ হচ্ছে কখনো কোনো খাবার তিনি একা খান না। সবাইকে দিয়ে থুয়ে খেতে স্যারের জুড়ি নেই।

    এরমধ্যে জব্বার এসে যায়। নিজ হাতে বানানো চায়ের কেটলির নলে ছিপি এঁটে, লাল আটার দুটি রুটি, ডিমের সাদা অংশ আর সেদ্ধ সব্জিতে গোল মরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে নিয়ে এসেছে। সালাম দিয়ে হাসি হাসি মুখে টেবিলে নাস্তা লাগাচ্ছে জব্বার।
    দেখে সহজেই বোঝা যায় জব্বারের দড়ি পাকানো শরীরে স্নেহমমতার ধাবিত বৃক্ষটি বেশ শক্ত করেই বাসা বেঁধেছে। ফুলফল লতাগুল্মে ভরভারান্ত সে মায়াবৃক্ষ। জব্বার এখন কথা বলে সুখি মানুষের মত।
    শরীফরে নিয়ে আলাম স্যার। আমার কম্মে ত আর সন্তান হলো না স্যার। ফাউ পালাম। আল্লাহর দান স্যার। ফেলি কি করি কতি পারেন ! পিতৃত্বের গৌরব মাখা ব্যক্তিত্ব ছড়িয়ে পড়ে জব্বারের কথায়।
    কেটিলির ছিপি খুলে ঝকঝকে সাদা কাপে ধোঁয়া ওঠা চা ঢেলে দিতে দিতে মাখনের মত হাসে, তয় স্যার, বাবা হওয়ার মেলা সুখ স্যার। কেমন যেনো মন জুড়ে স্বপন আসে স্যার । ঘুমে জাগরনে, চোখে মুখে মনে স্বপন খালি বাড়ে আর বাড়ে। বাড়তি বাড়তি বঙ্গোপসাগরের মত বিশাল হয়ি যায় স্যার। ঘর বাড়ি মাঠ ঘাট নদী পারায়ে কোথায় কোথায় যে ভাসায়ে নিয়ে যায় স্যার ! কিছুতেই থামাতে পারিনা সে স্বপনরে। স্যার, আমি কি ভালো বাপ হতি পারবো স্যার !

    লাঞ্চের আগেই ছেলেটা ফিরে আসে। মাথা মুখে কয়েকটি ছোট ছোট ব্যান্ডেজ। ডান হাতের আঙ্গুলগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ থাকায় ডাক্তার হাত ঝুলিয়ে দিয়েছে ওর গলার সাথে। এছাড়া মোটামুটি ভালো দেখাচ্ছে এখন ছেলেটাকে।
    কথা বলতে পারবি ? হামিদুল্লা থানায় থাকা একটি টুলে বসিয়েছে ছেলেটাকে। স্যারের একেবারে মুখোমুখি। গোপনীয়তার স্বার্থে ও রুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে নূরতাজ মন্ডল ওকে থাকতে বলে ছেলেটিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
    শুক্রবারের হাঁটে আনা পাকা চালকুমড়োর মত সাদাসিধে চোখে চেয়ে আছে ছেলে্টা। দাগ আঁকলে এখুনি দাগ বসে যাবে এমন সরল মুখ।
    কেন গেছিলি অই গ্রামে ?
    বলাই সাহার বাড়ি থেকি কলা আনতি গেছিলাম স্যার। কাকিমা কয়েছিল কলা পাকিছে। আসি নিয়ে যাস।
    তাইলে মন্দিরে ঢুকলি কেন ?
    মাথা নীচু করে ফেলে ছেলেটা। নূরতাজ লম্বা শরীরটা টেবিলের দিকে ঝুঁকিয়ে নরম গলায় জানতে চায়, তোর ত কলার গাড়ি নিয়ে চলে আসার কথা ছিল। মন্দিরে গেলি কিভাবে ?
    পেরেচ্ছাপ পাইছিল স্যার। মন্দিরের পাশে কলা ক্ষেতে বসতি গিয়ি দেখি --- ছেলেটার সাদা চোখের অংশ ফুলে ওঠে । চঞ্চল হয়ে ওঠে দুচোখের মণি, মনে কয় স্যার ভূতপেত্নি ! না না স্যার জীনপরি-- সন্ধ্যাকাল ছেলো ত স্যার – দেখতি পারি নাই ভালো করে--- তয় তেনারা মারামারি করতিছিল স্যার—একজন ছুটি আসলো আমারে দেখি--- আমি স্যার পলাতি গিয়ি মন্দিরে – দুগগা ত সবার মা স্যার --- যদি বাঁচায় –
    ভালো কথা। তা মূর্তি ভাঙলি কেন ?
    অই ভূতরাও যে মন্দিরে আসি পড়লো স্যার। আমি স্যার একিবারি দুগগা মার পায়ের কাছি পলাতি গেছিলাম স্যার। মাগো বাঁচাও বলি পা দুখান জড়ায়ে ধরতি গেছি---তখনই গণেশের নাক ভাঙি গেলো ---- আর কারিগররা চেঁচায়ে গ্রাম মাথায় করি ফেলালো স্যার।
    থকথক করে কেঁদে ফেলে ছেলেটি , আমি মোছলমান বলি মা আমারে বাঁচায় নাই স্যার— যাতি আসতি কতবার ভালো ভালো কলা দিছি দুগগা মার পায়ের তলায়—বলাইকাকার সাথি কতবার ডাকিছি মা, ওমা জগজ্জননী আমারে একটু বুদ্ধি দাও মা --
    প্রাণ খুলে শ্বাস নেন নূরতাজ মন্ডল। যাক বলাই সাহা্রা তাহলে মিথ্যে বলেনি কাল মাঝরাতে। ছেলেটা সত্যি নিরীহ। বলাই সাহার বউ কি যেন বলেছিল, গোপাল। তা গোপালই বটে ! একটু বেশি ভালো মানুষ। সমাজের লোকেরা যাদের বোকা বলে তেমন সোজা সরল মানুষ।
    কৃস্টালের পেপার ওয়েটটা টেবিলের কাঁচের উপর ঘুরাতে ঘুরাতে নূরতাজ মন্ডল উপলব্ধি করেন, এই ছেলেটার ভালোমানুষি মনে এবার পাপ ঢুকে পড়বে। জেল বাস হয়ত তিনি রক্ষা করতে পারবেন। কিন্তু ছেলেটা এবার সাম্প্রদায়িক হয়ে যাবে। ওর মনে মানুষকে সহজে বিশ্বাস করার সরলতা মুছে গিয়ে অন্যদের মত জেঁকে বসবে আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবানকে ভাগ করে নেবার শিক্ষা। জন্ম নিবে ঘৃণা । মানুষকে ধর্ম দিয়ে ভাগ করতে শিখে যাবে ছেলেটা।
    এক হাতের চেটো দিয়ে অন্য হাত মুছে নিয়ে তিনি মনে মনে হাসেন, এই তো এই জগতের বাস্তব শিক্ষা। ছেলেটার বুদ্ধির কমতি ছিল। এবার তা পূর্ণ হলো।
    নাম কী তোর ?
    আল আমিন স্যার। মোহাম্মাদ আল আমিন মিয়া স্যার। আব্বা নাই। মরে গেছে। নাম ছেলো মোহাম্মাদ হাতেম মিয়া। আমাগের কিরিসোক পরিবার স্যার। আম্মা আছে। গ্রামে---- --
    মোহাম্মাদ আল আমিনকে হাজতে পাঠিয়ে তিনি হামিদুল্লার সাথে পরবর্তি কর্মসূচী নিয়ে বসেন। সিদ্ধান্ত নেন সরাসরি যে গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা সেখানেই সালিশ বসাবেন তারা।


    বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের এই সমস্ত গ্রাম এক সময় ছিল একেবারেই হিন্দু অধ্যুষিত। যদিও সাত চল্লিশের দেশভাগের ফলে অনেকেই ইন্ডিয়া চলে গেছে। মাতৃভূমির মায়ায় যারা ছিল তারা দেশ ত্যাগ না করে নিজেদের একাত্মতা বজায় রাখতে পেরেছিল বহুদিন ধরে। এক ঘর মুসলিমেরও বসতি ছিল না তখন এ সমস্ত গ্রামে। জাতপাতের নিয়ম অনুসারে এদের কাছে সাতচল্লিশেরও আগে থেকে মুসলিমরা ছিল অচ্ছুৎ । সাতচল্লিশের দেশভাগের পরে সেই মুসলিমরাই হয়ে গেছিল মহা শত্রু। একাত্তুরে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধ হিন্দু মুসলিমের ভেতরকার এই দূরত্ব কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছিল।
    স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার প্রায় দশ বছর পর চাকুরি জীবনের প্রথমে নূরতাজ মন্ডলের পোস্টিং হয়েছিল এই অঞ্চলে। সে সময় তিনি দেখেছেন, নতুন দারোগা মুসলিম জেনে গ্রামের অনেক মহিলা অবাক বিস্মিত হয়ে দূর থেকে তাকে দেখে ঘোমটা টেনে দ্রুত সরে যেত। এই সমস্ত মহিলারা এর আগে এত কাছ থেকে কখনো মুসলিম মানুষ দেখেনি। তাছাড়া মুসলিমদের সম্পর্কে এরা ধারণা পেয়েছে যে, ইসলাম হচ্ছে জালেমদের শাসন। মুসলিমরা হচ্ছে মহা জালেম। এরা হিন্দুদের মেরে কেটে হত্যা করে। দেবদেবীর মুর্তি ভেঙ্গে মন্দির লুটে নেয়। হিন্দু নারীদের ধর্ষণ করে অথবা জোর করে বিয়ে করে মুসলিম বানিয়ে ফেলে।
    স্পর্শকাতর এই গ্রামগুলোতে সরকারের প্রতিটি অফিসারই তাই অত্যন্ত সচেতন হয়ে কাজ করত। এখন ডিজিটাল সময়। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর অনেক হিন্দু পরিবার দেশ ছেড়ে চলে গেছে। এছাড়াও সংখ্যালঘুর নিরাপত্তাহীনতা, আত্মীয় ও ধর্মীয়সংস্কৃতির নৈকট্য ও পালনের স্বাধীনতা এবং আধুনিকতার আহবানেও অনেকে দেশ ত্যাগ করেছে। অনেকে আবার নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
    যারা এখনও আছে তারা অত্যন্ত স্বাভিমানী। একটি অশিক্ষিত মুসলিম ছেলে ভূতপ্রেত, জিনপরির ভয়ে দুর্গা মায়ের আশ্রয় নিতে পারে এটা কিছুতেই বিশ্বাসযোগ্য হবে না গ্রামবাসীদের কাছে। অবিশ্বাস করার যুক্তিগ্রাহ্য কারণও রয়েছে। গ্রামেগঞ্জে অনেক উগ্র মুসলিম আছে যারা গোপনে প্রতিমা ভাঙচুর করে। প্রকাশ্যে হিন্দুদের হুমকি দেয়। দেশছাড়া করার ভয় দেখায়। ফলে গ্রামের অবস্থা খুবই নাজুক। হামিদুল্লা এসব ভেবে কিছুটা চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
    কিন্তু নূরতাজ মন্ডল অঙ্ক কষে নেমেছে। জব্বারকে ডেকে আনে। আল আমিনের কথা অনুযায়ী অই মন্দির এবং মন্দির সংলগ্ন এলাকার খোঁজখবর আনতে বলে। একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনার বর্ণনা চাই তার। সেদিন সন্ধ্যায় মন্দিরের পাশের কলা ক্ষেতে কারা বা কে কে ছিল তাদের হদিস আনতে হবে। সেই সময় প্রতিমা নির্মাণ কারিগরদের চীৎকার শুনে প্রথমেই কে কে মন্দিরে এসেছিল তাদের ঠিকঠাক হিসেব আনতে হবে।
    সালিশ হবে সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ সাধারণ গ্রামবাসীদের নিয়ে। কোন রকম আড়াল গ্রহন করা হবে না বুঝলে হামিদুল্লা।

    সাদা ভাতে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে দিতে নূরতাজ মন্ডল তিন পুরুষ আগের ঘটনাটা মনে করতে চেষ্টা করেন। এমনই এক ভুল বোঝাবুঝির খেসারত দিতে তার বাবার বাবা জন্মজন্মান্তরের মাতৃভূমি হুগলি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
    স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়া ? সে এক সান্ত্বনার ব্যাপার। কিন্তু জোর করে দেশ ছাড়ানো !
    সে যে মনের ঘরে আজন্মের বিষফোঁড়া হয়ে যন্ত্রণা দিতে থাকে !

    "তীরন্দাজ" এ পূর্বপ্রকাশিত।
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ৪০১ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সুকান্ত দে | 2409:4061:2dc7:61a::db88:ea0c | ৩০ এপ্রিল ২০২১ ০২:০১105283
  • খুবই ভালো লাগলো। আরও কয়েকটা পড়ার সুযোগ যখন আছে সেসব পড়েই মতামত দেবো

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন