• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  নববর্ষ

  • দ্য প্যারাগন হাউজিং

    রুমা মোদক
    ইস্পেশাল | নববর্ষ | ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ৬০৮ বার পঠিত
  • ঋষিপাড়ার সবচেয়ে বড়ো ঘরটাতে পরীক্ষার হলের মতো পিনপতন নীরবতা। ঘরের সদস্যদের মাঝে কিছু লিখতে না পারা অসহায় ছাত্রের মতো দুঃসহ কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা। আর তার চেয়েও বেশি ভার সে বিষাদের, সদ্যমৃত বাড়িতে মরদেহ পুড়িয়ে আসার পর যে দুঃসহ নীরবতা নামে, শাস্ত্রীয় কৃত্য চলে আপন গতিতে, কিন্তু আর্তনাদ থেমে যায়। অন্তর ফেটে যায় অথচ দম মেরে থাকে সবার মুখের কথা, সেরকম।

    ঘরটা নীতেশ রবিদাসের। কেউ মারা যায়নি। তবু এ বেদনার ওজন যেন মৃত্যুর অধিক। কিংবা বেঁচে থাকা মানুষদের অনিশ্চিত মৃত্যুর নিশ্চিত সময় জেনে যাওয়ার মতো আতঙ্কময় এই যাপন। বুঝি মা দশভুজা সত্যি গ্রহণ করেন না নিম্নবর্ণের নিষাদদের অঞ্জলি। তাই এ লাঞ্চনা! নাকি এ আর কোনো ভয়াবহ বিপদের বার্তা! দুইশো বছরেরও বেশি সংসার এই পাড়ায়, উত্তরাধিকারে, স্মৃতিতে। বংশানুক্রমে শোনা গল্প, সেই রানি ভিক্টোরিয়ার আমলে উড়িষ্যা থেকে কিছু পায়ে হেঁটে কিছু রেলের গাড়ি কিছু নৌকায় কিছু গোরুর গাড়ি করে পার হয়ে এই জনপদে এসে উঠেছিল তারা। কিন্তু এমন বাঁধভাঙা জোয়ারে তলিয়ে যাওয়ার মতো বিপন্ন বোধ করেনি তারা কখনও। সত্যি কি এখানে পাট ফুরাল এবার!

    এই ঘরেই পূজার উপাচার আয়োজন জমা হয় গত কয়েক বছর ধরে। দেবীপক্ষের শুরুতে কারও মুখে কথা নেই। ঘরের আসবাবে আসবাবে, ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে, আলনার কাপড়ে, দাওয়ায় মেলে দেওয়া গামছায়, স্তূপ করে রাখা নারিকেল মালায়, কলতলায় এই আধাসকালেও ছিটিয়ে থাকা অমাবস্যার অন্ধকারের মতো নীরব উদ্‌বিগ্নতা।
    ফিসফাস আতঙ্কগ্রস্ত কণ্ঠে নীতেশ রবিদাস ছেলেকে ডাকে, বেইল হইছে বাপ, ওঠ। তাঁর সামনে জ্বাল দেওয়া গুড়ের চা। মাড় তোলা ফেনা ভাত খেয়ে এক কাপ গুড়ের চা খাওয়া দীর্ঘদিনের অভ্যাস তার, সাথে হুক্কা। নিশীথ কতদিন বলেছে, বাবা হুক্কাটা ছাড়ঐন একবার৷ সিগারেট খান। এখন কেউ হুক্কা খায়? নীতেশ রবিদাস কান দেয় না। সেই ছোট্টবেলার অভ্যাস। পাকিস্তান আমল তখন। দুইদিন পরপর মিছিল মিটিং হট্টগোল। বাপের সাথে বাজারের শেষ মাথায় জুতা সেলাই শিখতে যেত সে। তুমুল আলোচনা গাঁয়ের দোকানে দোকানে। নীতেশ রবিদাসের বাপ আধাসেলাই টায়ারের জুতা ফেলে দৌড়ে যেত দোকানের সামনে। সেই ফাঁকে হুক্কায় দুইটা টান দিয়ে দিত নীতেশ। হুক্কা খাওয়া কি আজকের অভ্যাস? পোলায় কইলেই ছাড়া যায়?

    নিশীথ উঠে কলতলায় নামে দাঁতের ব্রাশ নিয়ে। সারা পাড়ায় যে দু-চারজন ব্রাশে দাঁত পরিষ্কার করে তার মাঝে সে একজন। শহরের কলেজে অনার্স শেষ বর্ষে পড়ে সে। ভদ্রলোকের নানা কায়দাকানুন রপ্ত করার চেষ্টা করছে। নিশীথকে কলতলায় দেখে গামছা দিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে এগিয়ে আসে রণজিত রবিদাস, সঞ্জীব রবিদাস সহ আরও কয়েকজন। তখন মাথার উপর একদল শরতের মেঘ মিনিট খানেকের জন্য সূর্যকে ছেড়ে সামনের দিকে যায়, উজ্জ্বল রোদ ঘাই মারা মাছের মতো চিলিক দেয়, খানিকক্ষণ মাত্র। আর-একদল মেঘ এসে ঢেকে দেয়...।
    তারা এতক্ষণ নিশীথের অপেক্ষাতেই ছিল। তাদের মধ্যে একজন গলা খ্যাঁকারি দেয় উঠোনে মার্বেল খেলতে থাকা বছর দশেক বয়সের বাবুলকে। ওই হারামজাদা কলে চাপ দে। মার্বেলগুলা ছুড়ে ফেলে দৌড়ে আসে বাবুল। পারলে রঞ্জিত, সঞ্জীবের মতো প্রৌঢ়রা নিজেই এগিয়ে আসে কলে চাপ দিতে। নিশীথের প্রতি অসীম সমীহ তাদের। ভরসাও। পুরো পাড়া জুড়ে যে হতাশার নীরব দহন, আজ নিশীথই তাদের বাঁচতে পারে এই দহন থেকে। আজ এসপি অফিসে মিটিং। ঋষিপাড়ায় দুর্গাপূজা হবে কি হবে না আজই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। ঋষিপাড়ার একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত থাকবে নিশীথ। সেই রাতের একমাত্র সাক্ষী।



    মোমের স্তূপে জ্বলে নিরাশ্রয় আলো

    পাড়ার ঠিক মাঝখানে একটু খোলামতো জায়গায় কালির থান। রূপসি গাছের নীচে বাঁধানো বেদিতে মানতের মোমবাতি জ্বলতে জ্বলতে ফুরিয়ে ফুরিয়ে বসে গেছে একটার উপর আর-একটা, যেন ছোটোখাটো টিলা এক-একটা। এবড়োখেবড়ো বেদিটা পাড়ার মানুষগুলোর জীবনের মতোই। আশার উৎসাহ আসে বারবার, কিন্তু নিরাশার বেদনা নেই। নিরাশ হওয়াই স্বাভাবিক এদের। বাচ্চা বিয়ানোর সময় সমীর রবিদাসের বউয়ের মরে যাওয়া কিংবা একঘর ছেলেমেয়ে রেখে বউকে বিধবা করে হঠাৎ পা ফুলে মাঝবয়সী স্বপন রবিদাসের মরে যাওয়া.... কত কী। মদ খেয়ে চুরচুর হয়ে অসিতের মাতলামি কিংবা অবিবাহিতা মৌসুমির শিকড়বাকড় খেয়ে পেট খালাস করা কোনোটাই কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা নয় এই পাড়ায়।
    এ পাড়াটি ঠিক কবে পত্তন হয়েছে নিশীথ জানে না। জানার প্রয়োজনও বোধ করে না। এ নিয়ে ওর কোনো কৌতূহল বা আগ্রহ কিছুই নেই। এসএসসি পাসের পর কলেজে ভরতি হয়েই সে পড়েছে প্রবহমান ছাত্র রাজনীতির স্রোতে। গড্ডালিকা প্রবাহের স্রোতে ভেসে যাওয়া কুচুরিপানার স্রোতে সেও একখানা। অচিহ্নিত। ঝাঁকের কই। ঝাঁকহীন কেউ নেই আর। এখন থাকতেও পারে না।
    তবে এই ঝাঁকের কইয়ে বদরুল ভাই হঠাৎ হঠাৎ তাঁকে খোঁজে, বিশেষ ভাবে খোঁজে। কারণ সে বাংলাটা লেখে বেশ ভালো। সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে। প্রাইমারিতে আলি স্যার হাতে ধরে লেখা শিখিয়েছেন। এটাই এখন কাজে লাগে। বদরুল ভাই ডেকে পাশে বসায়। পত্রিকা অফিসে পাঠানোর জন্য প্রেস রিলিজ, ডিসি, এসপির কাছে পৌঁছানোর জন্য স্মারকলিপি লেখালেখির যা কিছু কাজ নিশীথকে বলে দিলেই হয়। সবচেয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখে কম্পিউটারে টাইপ করে দেয়। ডাকলে যখন তখন পাওয়া যায় তাকে, যে-কোনো কাজে। ফলে নিজের প্রিয় শার্টের মতো আলাদা প্রশ্রয় আর সোহাগের চোখে তাকে দেখে বদরুল ভাই।
    এসএসসি পরীক্ষার পর ক্লিক কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে তিন মাসের ট্রেনিং করেছিল সে। নিজ তাগিদে অন্যদের চেয়ে ভালো শিখেছিল। ফলে সংগঠনের যে-কোনো কাজে তার উপর ভরসা করে বদরুল ভাই। এটাই নিশীথের শক্তি। যে-কোনো দরকারে বদরুল ভাই নিজে তাকে ফোন দেয়। সে ফোন দিলে বদরুল ভাই প্রথমবারেই ধরে। তাকে বদরুল ভাইয়ের প্রয়োজন। কিন্তু বদরুল ভাইকে আজ পর্যন্ত তার কোনো প্রয়োজন পড়েনি। বদরুল ভাইয়ের পেছনে সবাই মিছিলে স্লোগান ধরে, সেও ধরে। এর বেশি কিছু ছেঁকে নেওয়ার মতো সুবিধা খোঁজেনি নিশীথ, কমিটি, পদ ইত্যাদি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য নিয়ে অন্যদের মতো মরণপণ তো দূরে থাক, বিন্দুমাত্র কাঙ্ক্ষাও তার ছিল না।
    কিন্তু আজ পুরো ঋষিপাড়া তাকিয়ে আছে তার দিকে। আসন্ন উৎসব ঘিরে আছড়ে পড়া কালবৈশাখীর ধ্বংসস্তূপ আর হতাশা থেকে গা ঝাড়া দিয়ে উঠার জন্য আজ নিশীথই তাদের ভরসা। আর নিশীথের ভরসা বদরুল ভাই। একমাত্র বদরুল ভাই তাদের বাঁচাতে পারএ নিমজ্জিত এই হতাশার ঘূর্ণি থেকে, কথা দিয়েছে বদরুল ভাই। নিশীথের পাশে সে আছে।



    শাখাপ্রশাখায় কত বিচিত্র পত্র পুষ্প কীট

    মাঝখানে ডিভাইডার রেখে রাস্তার ওপাশে দ্য প্যারাগন হাউজিং নামে অ্যাপার্টমেন্টটা তৈরি হয়েছে কয়েক বছর আগে। লোকজনে ভরে উঠতেও সময় নেয়নি বেশি। বড়োজোর মাস ছয়েক। দেখতে দেখতে ভরে গেছে ফ্ল্যাটগুলি। নানা কিসিমের মানুষে। অফিসের অবসরপ্রাপ্ত বড়োকর্তা। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল। মূলত এই শ্রেণির মানুষ ছাড়া এমন অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য যার তার নেই। তারা ফ্ল্যাটে ওঠার আগেই সর্বপ্রথম নজর করে এই ঋষিপাড়াটি। না-শহরকে শহর বানানোর চেষ্টায় এই পাড়াটি পাতের কিনারে জমে থাকা এঁটোকাঁটার মতো অযাচিত উচ্ছিষ্ট।

    ফ্ল্যাট কিনতে এসে প্রথম ফিরে যাওয়া লোকটির নাম হাজি মনোয়ার আলি। তিনবার হজ করে আসা মানুষ তিনি। ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই বেপর্দা মেয়েমানুষের দল দেখে তিনি দিন শুরু করবেন নাকি। শেষবয়সে যতই মফস্বলে থাকার প্ল্যান করুন তাই বলে এই বেপর্দা বিধর্মী পাড়ার মুখোমুখি!

    নিশীথের মা পিসি, শ্যামদুলালের বিধিবা বোন, রঞ্জিতের বউরা সকাল সকাল বাসি ভাত আর শুকনো বাসি ডাল শুকিয়ে মরিচ পুড়িয়ে কাঁচা পেঁয়াজে ভর্তা করে ঘরের পুরুষদের খাইয়ে বিদায় দিয়েই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে নতুন গড়ে ওঠা দ্য প্যারাগন হাউজিং-এর দিকে। বারান্দার বাগানে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে কেউ। বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়তে পড়তে চা খাচ্ছে কেউ, ছাদে বেলাজের মতো হাতকাটা গেঞ্জি পরে লাফায় সোমত্ত মেয়েগুলা। নিজেদের ব্লাউজহীন শরীর মলিন রংচটা শাড়িতে ঢেকে তারা দ্যাখে আর অবাক হয়। অপার কৌতূহলে তারা নিজেদের উনুন জ্বালাতে ভুলে যায়। দুপুরবেলা এরা কী খায়, কেমনে রাঁধে, এদের জামাইয়েরা কি মাতাল হয়ে বউকে পেটায়, কত চিন্তাই যে পীড়িত করে এদের!

    মনোয়ার আলি ফ্ল্যাট না কিনে ফিরে গেলে ডেভেলপার কোম্পানি নড়েচড়ে বসে। শুরু থেকেই ছিল এই খুঁতখুঁতানিটা। উপজেলা সদরের শ্যাওলা পড়া বিলের জীবনে পদ্মফুল ফোটে ওঠার মতো যখন এই হাইরাইজ কমপ্লেক্সটি ওঠে তখন থেকেই কোম্পানি তো বটেই, যারা ফ্ল্যাট বুকিং করতে আসে তাদের সবার কমপ্লেইন ছিল এই ঋষিপাড়াটি নিয়ে। ডেভেলপার কোম্পানি পাড়াটি স্থানান্তরের নানানুখী চেষ্টা তদবির করে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য পর্যন্ত গিয়েছে। বদরুল ভাইই তখন রক্ষা করেছে তাদের। বিপদের আঁচ চেপে রাখা যায় না, উনুনে রান্না করা সিঁদল ভর্তার গন্ধের মতো। ঋষিপাড়া উচ্ছেদের ভাসা ভাসা খবর নিশীথের কানে যেতেই নিশীথ হত্যে দিয়ে পড়েছে বদরুলের কাছে। এটা হতে দেওয়া যায় না। যেবার খালি ভোট সেন্টারে যখন কেউ ভোট দিতে যায়নি, প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে তারাই দলে দলে ভোট দিয়ে পাস করিয়ে এনেছে সংসদ সদস্যকে। নিশীথ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব ভোট কাস্ট করেছে। বদরুল সাক্ষী। আজ এদের উচ্ছেদের প্রশ্নে সেই সংসদ সদস্যই টাকা খেয়ে হোক কিংবা ডেভেলপার কোম্পানির দ্বারা প্রভাবিত হয়েই হোক বদরুলকে প্রথমে ধমক দেন। এদের তো উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে। বদরুল তখন একা দাঁড়ায় সম্মিলিতের প্রতিরোধ হয়ে। না, এদের বসতি আগে। পরে এই ডেভেলপাররা জায়গা কিনেছে! এই জাতীয় আইনের কথার বাইরেও বদরুল খুব দৃঢ়তায় যা উচ্চারণ করেছে তা হল, এদের অসহায় গরিব সংখ্যালঘু পেয়ে যা ইচ্ছা তাই চাপিয়ে দেবেন, পারতেন আমাদের গ্রামের কোনো একটি পাড়া উঠিয়ে দিতে?

    সাংসদ এবার থেমে যান। মূলত যে গ্রাম থেকে তিনি উঠে এসেছেন সেই গ্রাম তাঁর ভোটব্যাংক। আর এই বদরুল তার কাণ্ডারি। বদরুলকে খ্যাপালে তার চলবে না। এলাকার যোগসূত্র, শহরে দাপট, ভোট কাস্টিং সবকিছুর জন্য বদরুলের উপর তার সর্বাংশে নির্ভর করতে হয়। তা ছাড়া বদরুল যে যুক্তি উত্থাপন করল, তা সুপরিকল্পিত কি না নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, সুচিন্তিত যে এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। মিডিয়া ঝাঁপিয়ে পড়ার আশঙ্কা মনে পড়তেই তিনি হঠাৎ থেমে যান, মনে পড়ে সেবার এক কন্ট্রাকটারের সাথে টেলিফোনে ঝগড়া করে কী বিপদে পড়েছিলেন, পুরো প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়াপাড়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল তার পেছনে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া মৌচাকের চাকচ্যূত দলবাঁধা মৌমাছির মতো।
    বদরুল কেন এদের এত অন্ধভাবে সমর্থন করছে তার অন্তর্নিহিত কারণ বের করার উদ্দেশ্য মনে গোপন করে তিনি প্রকাশ্যে বললেন এরা যেখানে আছে সেখানেই থাকবে।
    যদিও পরে তিনি তেমন কিছুই বের করতে পারেননি, আর মাথাও ঘামাননি। কারণ মাথা ঘামানোর মতো হাজারটা কাজ তাঁর প্রতিদিন তৈরি হতে থাকে। সেই বদরুলের ভরসাতেই আজ নিশীথ সালিশ বৈঠকে যাবে। সেই রাতে ঢাকায় প্রতিনিধি সম্মেলন শেষ করে বদরুল ভাই ভোররাতে তাকে পাড়ার মুখে নামিয়ে দিয়েছিল। আর দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যক্রমে নিশীথ মূর্তি ভাঙার নিঃশব্দ প্রলয়টুকুর সাক্ষী হয়ে গিয়েছিল নিঃশব্দেই। বদরুল ভাইকে জানিয়েছে সে একথা।



    পুষ্প যেমন বিচিত্র রং-এর হয় কীটেরাও হয় নানান বিষের

    প্রথমবার পূজা করার খবর জানাতে গিয়ে স্থানীয় হিন্দু নেতাদের কাছে গিয়েছিল ঋষিপাড়ার মুরুব্বিরা। এক-একজনের কাছে এক-একজন। যেমন, একদিন সকালে নীতেশ রবিদাস গিয়েছিলেন শহরের সম্ভ্রান্ত পরিবারের মুরুব্বি সীতেশ সেনগুপ্তের কাছে, যিনি আবার হিন্দু কমিউনিটির নেতাও বটে, তাঁর বারান্দায় সিঁড়িতে গিয়ে দাঁড়ালে তিনি জাতপাত ছোঁয়াছুঁয়ির ধার না ধেরে মেয়েকে বলেছিলেন বারান্দায় মোড়া পেতে দিতে। চা খাইয়েছিলেন আর ধবধবে চিনেমাটির প্লেটে বিস্কিট। আর নিজের উদারতার গর্বে নিজেরই আনন্দ উপচে উঠছিল। কত ভালোমন্দ গল্প করছিলেন, সেই যে ঋষিপাড়াটি শহরের ঢালে পড়ে থাকত। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে। এই তো বছর পনেরো আগেও। বিনা কারণে ওদিক মাড়াত না কেউ। দেখতে দেখতে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে মহাসড়কের সাথে সংযোগ সড়ক বানিয়ে দিল। রাতারাতি বিদ্যুতের পিলার বসল। এখন তো রাজধানীমুখী বাসগুলোর প্রথম পেট্রোল পাম্পটি এখানে। আর তা ঘিরে কত বাহারি দোকান। খাবারের, পোশাকের। আরসিসি রাস্তার পাশে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিগুলো ভরাট হয়ে গত পনেরো বছরে ভদ্রস্থ পাড়া হয়ে উঠেছে বিয়ের কন্যার গোল্ড প্লেটেড গয়নার মতো। আর সদ্য সমাপ্ত দ্য প্যারাগন হাউজিং অ্যাপার্টমেন্টটি সেখানে কনের মাথার তাজের মতো চকচক করছে।



  • সীতেশবাবু সুযোগে নিজের বদান্যতার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেন না। আরে সেবার যখন দ্য প্যারাগন হাউজিং তোমাদের উঠাইয়া দেয়ার জন্য উইঠা পইড়া লাগল, আমিই সবাইরে ডাইকাডুইকা একসাথে কইরা এমপি সাবের কাছে লইয়া গিয়া কত বুদ্ধি খাটাইয়া আটকাইলাম।

    সে কি আর নীতেশ রবিদাস জানে না? পৌরসভার নোটিশ পেয়ে কার কাছে না গিয়ে ধর্ণা দিয়েছে তারা। ব্রিটিশ আমল পার হয়ে পাকিস্তানি আমল, জয়বাংলা, কেউ তাদের ওঠাতে চায়নি। ফুলে ফেঁপে বড়ো হয়েছে তাদের পরিবার। বাঁশের বেড়া দিয়ে খোপ খোপ বিভক্ত হয়েছে পরিবার। চামড়া সেলাইয়ের কাজ ছেড়ে রংমিস্ত্রি, রিকশা মিস্ত্রি, কত পেশায় ছিড়িয়ে গেছে তারা। কিন্তু সন্ত ঋষি সন্তানদের ওঠানোর চিন্তা করেনি কেউ। দ্য প্যারাগন হাউজিংই প্রথম এদের উৎখাতের প্রসঙ্গ ওঠায়। কেউ তখন পাশে দাঁড়ায়নি একা বদরুল ছাড়া। তাও নিশীথের কারণে। সব জানা আছে নীতেশের। মনে আছে তখন আর কেউ এগিয়ে আসেনি।

    এ নিয়ে সীতেশবাবুর সাথে তর্ক বাড়িয়ে লাভ নেই। সে এসেছে তারা এবার মা দুর্গার পূজা করবে এটা জানাতে। বাঙালি না হলেও দীর্ঘদিন এই বাঙালি সমাজে থেকে তারা মনেপ্রাণে বাঙালি সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে। আর এ যেন সেই দুর্গোৎসব শুরুর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, খেয়ে পরে সবাই ভালো আছে তাই উদ্‌বৃত্ত টাকায় শারদীয় ঊৎসবের আয়োজন। মূল স্রোতে মিশে যাওয়ার চেষ্টা।

    সীতেশবাবু চুপ মেরে যাবার আগে একবার বলেন, তোরা কেন এত টাকা খরচ করবি? এতগুলো বারোয়ারি মণ্ডপ শহরে, যেখানে ইচ্ছা আইসা ফুলপাতার অঞ্জলি দিবি, পাত পেড়ে প্রসাদ খাবি। সে ও দমবার পাত্র নয়। সবাই মিলে মানত করেছে বাবু, মায়ের পায়ে পুষ্পাঞ্জলি দেবে। আপনি একটু দায়িত্ব নিয়ে যদি ব্যবস্থাটা করে দেন।

    নীতেশ উঠে যাবার পরপরই সীতেশবাবু সবাইকে ফোন লাগায় একে একে। হোমড়াচোমড়া নেতা মুরুব্বিদের। কেউই তেমন উচ্ছ্বাস দেখায় না। শহর পেরিয়ে প্রায় না শহরে এক ঋষি পট্টি। দু-দশ ঘর রবিদাস। আশেপাশে আর কোনো হিন্দু বসতি নেই। এরা করবে দেবী দুর্গার পূজা। এদের নিরাপত্তা দেবে কে, আর এই দুঃসাহসকে প্রশ্রয়ই বা দেয় কী করে! বিশাল খরচই বা জোগাবে কে।

    প্রথম চোটেই পরস্পর ফোন পেয়ে সবাই বিব্রত হলেও পরে আর ঋষিপাড়ার যুবকদের উৎসাহে বাধা দেওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারে না তারাও। যুগটা তো আর মুচিকে মুচি বলে প্রকাশ্যে অবজ্ঞা দেখানোর নয়। তবু এক অপ্রকাশ্য অসহযোগিতা জারি রাখে তারা। এখানেও পাশে দাঁড়ায় বদরুল। সাহস দিয়েও, ভরসা দিয়েও, অর্থ দিয়েও। যদিও স্থানীয় এমপি মহোদয় তখন তার কারণ খুঁজতে ভুলে গেছেন। কিন্তু যেখানে বদরুল ছায়ার মতো সেখানে কথা বলার কেউ নেই।

    এরই মাঝে ঘটনাটা ঘটে। পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে মাতৃপক্ষে পড়তেই কে যেন মাটির প্রতিমার মাথা মুড়িয়ে ফেলে রেখে গেছে মণ্ডপের সামনে। টিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী মণ্ডপ। সামনে ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। ঢোকা এবং ভাঙা খুব সহজ হলেও কে বা কারা পাড়ার এমন ভেতরে ঢোকে এমন কাজ করার সাহস করল তারা ভেবে পায় না। বিশ্বাস ভরসা সব যেন মাটির মূর্তির সাথে মাটিতে আহত রক্তাক্ত হয়ে শুয়ে থাকে। ঘরে ঘরে উৎসব থেমে যায়। তখনও পাশে দাঁড়ায় বদরুল।

    শহরের সব হিন্দুরা সন্ত্রস্ত হয়। এ অশনি সংকেত। তাঁরা অদৃশ্য মায়ের চরণ উদ্দেশ্যে কপালে হাত ঠোকে। মা গো দয়া করো মা। রুষ্ট হয়ো না মা।
    কেউ কেউ তাদের গালি দেয়, চামারের দল, কে বলেছিল পূজা করতে তোদের! কই এতদিন তো শহরে এমন ঘটেনি। সাফ জানিয়ে দেয় আমরা তোদের সাথে নাই।
    তারই জরুরি মিটিং আজ। এসপি স্যার ডেকেছে।
    এলাকার সবাই নিরাপত্তা চায়। বদরুল ভাই এদের সাহস। নিশীথের অনুরোধে এককথায় রাজি হয়ে যায়। যাবে না মানে অবশ্যই যাবে।
    মিটিং হয়। পূজার সিদ্ধান্ত হয়। পূজা হতেই হবে। সব নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।

    এসপি স্যার নিজে দশ হাজার টাকা ডোনেশান দেন। ডিসি স্যার খবর পাঠান তিনিও এলআর ফান্ড থেকে পঞ্চাশ হাজার দেবেন। তারা যেন মন বেঁধে আবার আয়োজনে নামে। বদরুল ভাই নিজে দেন হাজার দশ, সংসদ মহোদয় দেবেন আরও পঞ্চাশ, এমন বার্তাও বয়ে নিয়ে আসেন। হ্যাঁ নিশ্চিন্তে অন্যান্য বারের চেয়ে জমজমাট পূজা হবে এবার। খরচের টাকার জন্য ভাবতে হবে না মোটেই।

    মিটিংয়ের বাইরে অপেক্ষারত রবিদাসদের আনন্দ আর ধরে না।
    পশ্চিমাকাশে সূর্যের যখন চরাচর অন্ধকারে ঢেকে দিয়ে যাবার আয়োজন তখন মিটিং থেকে শুধু একরাশ অবসাদ নিয়ে বের হয় নিশীথ রবিদাস। বদরুল ভাই সরাসরি দোষ দিচ্ছিলেন শহরের পয়সাওয়ালা উচ্চবর্ণের হিন্দুদের। তারা চায়নি নিম্নবর্ণের হিন্দুরা পূজা করুক। তাই তারা এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
    অথচ সে রাতে নিশীথ নিজ চোখে দেখেছে, আজ যে ছেলেগুলো বদরুল ভাইকে ঘিরে বসেছিল তারা যখন মূর্তি ভাঙে তখন অদূরে দ্য প্যারাগন হাউজিংএর পরিচালক দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল।
    বদরুল ভাই দলবল সমেত বাইরে আসে সিগারেট টানতে টানতে। অভিমানে কিংবা ক্ষোভে দূরে নিজেকে আড়াল করতে চায় নিশীথ।



    স্বার্থের খতিয়ান

    বদরুল সিগারেটটা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মোড়ায় মিনিট খানেক। অসহায়ত্বে নাকি অক্ষমতায় বোঝা যায় না। চারদিকে তাকিয়ে কী যেন খোঁজে, নিশীথকেই কি? গত কয়েকদিন সংসদ সদস্য, দ্য প্যারাগন হাউজিং-এর মালিকপক্ষ আর গ্রামের উঠতি এই যুবকদের চাপে তার মনে হচ্ছিল, নিজের অসহায়ত্ব হয়তো নিশীথের মুখোমুখি প্রতিরোধের শক্তি হয়ে ফিরে আসবে। কিন্তু না, আজ সে বুঝল তার একার শক্তি, ইচ্ছা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা মতামত সব কত তুচ্ছ স্বার্থের খতিয়ানে।



    "ইরাবতী" তে পূর্বপ্রকাশিত।
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ৬০৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন