• বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি  বুলবুলভাজা

  • শুখা স্লোগানে ফ্যাসিবাদ রোখা যায় না

    ছন্দক চ্যাটার্জি
    আলোচনা | রাজনীতি | ১১ মার্চ ২০২১ | ৩৩৯৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (৬ জন)
  • বহু বছরের ভোটের সময়কার অভ্যাস হলেও, এবার ফ্যাসিবাদ শব্দটি বেশি শোনা যাচ্ছে বাংলায়। এ নিয়ে তর্কও আছে বিস্তর। কাকে ফ্যাসিবাদ বলে, ফ্যাসিবাদ নামক শব্দবন্ধটি কতটা পরিচিত, তার রাজনৈতিক সীমানা কোথায় - এমত আলোচনাও অবিরত চলমান। এই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়েই ফ্যাসিবাদ ও তা প্রতিরোধের এক আদিকল্প এই নিবন্ধে উঠে এসেছে।

    ফ্যাসিবাদী উত্থান প্রসঙ্গে আমাদের মাথায় রাখতেই হবে বহুবার উচ্চারিত কথাগুলি, যেমন ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট কালপর্বে হিটলার-মুসোলিনি-ফ্রাঙ্কো-তোজোর উত্থান হয়েছিলো। পুঁজিবাদ যখন সংকটে পড়ে, তখন সে কম সময়ের জন্য হলেও একটি উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শকে হাজির করে, যাকে আমরা ফ্যাসিবাদ নামে চিনি। এখন বেশ কিছু তাত্ত্বিক এমনও বলে থাকেন, শ্রমজীবী মানুষের তীব্র গণরাজনৈতিক আন্দোলন যখন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তখন তা যেন বামপন্থী বিপ্লবের পথ না ধরে, তাই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়। জনগণের সামনে, সকলের কাজের অধিকারের সমাধানকে, সুচিন্তিত ভাবে পর্যবসিত করা হয় জাতিঘৃণায়, একটি অপর নির্মাণ করে, তাকে বিতাড়নের মাধ্যমে সব অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে বলে বর্ণনা করা হয়। যেমন জার্মানির সকল সমস্যার মূলে ইহুদিরা, তা খুব গভীরে প্রোথিত করা গিয়েছিলো, এবং ইহুদি নিধনের মাধ্যমেই যে সকল সমস্যার সমাধান এই লাইনটি জনপ্রিয় করা গিয়েছিলো। এখন সারা বিশ্ব জুড়ে বহু জায়গায়, যেমন ব্রাজিলের বলসোনারো, আমেরিকার ট্রাম্প, ব্রিটেনের জনসন বা ভারতের মোদী, এদের উত্থান হচ্ছে, একে অনেকেই ফ্যাসিবাদের উত্থান বলে অভিহিত করছেন। আসলে বিগত ২০ বছরে লিবারাল রাষ্ট্র মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করতে পারেনি, সারা বিশ্ব জুড়েই সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম অভিযান পরাজিত, সেখানে মানুষের নতুন আদর্শের এবং ব্যবস্থার প্রতি আকাঙ্ক্ষাকেই পরিপূর্ণ করছে ফ্যাসিবাদ, এ কথা অবশ্যই স্বীকার করে নিতে হবে। পুঁজিপতিদের লাগামহীন সমর্থন, বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার অপপ্রচার, ডেটা ম্যানুফ্যাকচার সব ধরে নিলেও এই ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পক্ষে বুঝে না বুঝে এক বিপুল সংখ্যক মানুষ আছেন। আমেরিকায় ট্রাম্প হেরে গেলেও, তিনি সেখানে ভোটের শতকরা হিসেবে খুব পিছিয়ে ছিলেন না। তারপর হাউজ দখলের কর্মসূচিতেও ব্যাপক পরিমাণ হ্যাভনট আমেরিকান অস্ত্র হাতে ট্রাম্পের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

    পিকেটি দেখাচ্ছেন ১৯২০’তে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সমাজের উপর তলায় বিপুল সম্পত্তি জমায়েতের কারণে ফ্যাসিবাদের উত্থান অবশম্ভাবী হয়ে উঠেছিলো, সেই সমস্যা সমাধিত হয় দুটি বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে। তারপর ৩০ বছর দেশে দেশে কল্যাণকামী ধরনের সরকার গঠন হয়েছে, অর্থনৈতিক বৈষম্যে একটা দূর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণেও ছিলো। আবার ৭০ পরবর্তীতে এই বৈষম্য বাড়তে শুরু করেছে, ২০১০-এ এসে সেটা চরম মাত্রা ছুঁয়েছে, এবং সেই কাল পর্ব থেকেই দেখবো দেশে দেশে এক ধরনের অতিদক্ষিণপন্থী ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা বিচার করবো পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির উত্থানকে। এই অর্থনৈতিক কারণ ব্যতিরেকেও ফ্যাসিবাদী যাত্রাপথ কাভাবে এতোটা সুগম হলো, তা বুঝবার চেষ্টা করছি।

    কর্তৃত্বের পক্ষে মনোভাব

    করোনা আবহে আমরা দেখতে পাবো, নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আহ্বান দিলেন করোনা ভাইরাস আটকাতে থালা বাজাতে, হাততালি দিতে, একদিন সন্ধ্যায় ঘোষণা করে দিলেন কাল থেকে লক ডাউন, আমরা দেখলাম সকল মানুষ কম বেশি ঘরে ঢুকে গেলেন, আসলে এর মধ্যে দিয়ে কর্তৃত্বের নির্দেশ পালনের মনোভাব কতটা গভীর সেটা বোঝা যায়। আমরা যখন বড়ো হচ্ছি তখন আমাদের পরিবারের মধ্যে, যখন স্কুলে যাচ্ছি, অফিস করছি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে অংশ নিচ্ছি, কম বেশি সব জায়গাতেই প্রশ্নহীন আনুগত্যের বিষয়টি এখনো প্রবল। বাড়িতে আমরা মূলত বাবার বিরুদ্ধে কথা বলি না, স্কুলে মাস্টারকে প্রশ্ন করিনা, মোদ্দায় মনে করি, এঁরা আমাদের ভালোর জন্যই শাসন করছেন। এটি প্রতিটি স্তরে আছে। ফলে আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী যা বলছেন তা মঙ্গলের জন্যই বলছেন, এমন মনোভঙ্গি থাকতে বাধ্য। সম্প্রতি আমি গিয়েছিলাম কোচবিহারে। সেখানে দীর্ঘদিনব্যাপী রাজতন্ত্র ছিল, এমনকী ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে কোচবিহারের মানুষ ব্যাপক মাত্রায় অংশ গ্রহণ করেননি, ওখানে এই রাজার (আজকের শাসক) প্রতি আনুগত্যের ভাব অন্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি। আবার যখন পাঞ্জাব আন্দোলনে যাই, যখন দেখি লাল কিল্লায় তারা নিশান সাহিবের পতাকা তোলে, সে নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে জানতে পারি, এই লাল কিল্লায় পাঞ্জাবের পতাকা উত্তোলন এই প্রথম নয়, মুঘল আমলে বহুবার সংঘর্ষে পাঞ্জাব দিল্লিতে পতাকা তুলেছে। লড়তে লড়তে একটা জাতির মানসিক গঠন একভাবে নির্মিত হয়। ৩৫ বছর এই রাজ্যে তথাকথিত বাম শাসন ছিলো, যেখানে বড় মাত্রায় সমাজের প্রায় প্রতিটি বর্গের মানুষ কোন না কোন ভাবে পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলো। রাজনৈতিক ভাবে কী হয়েছে, সে আলোচনা স্বতন্ত্র, কিন্তু আসলে গোটা সমাজ জুড়ে কোন দর্শন চারিয়ে গেছে তার দিকে নজর দিতে হবে। পার্টির সমর্থক পার্টির লোকাল কমিটির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে না, পার্টির লোকাল জোনালের বিরুদ্ধে, জোনাল জেলার বিরুদ্ধে, জেলা কমিটি রাজ্য কমিটির বিরুদ্ধে, রাজ্য কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং কেন্দ্রীয় কমিটি পলিটব্যুরোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারবে না। পলিটব্যুরো যা ঠিক করছেন তা স্তরে স্তরে পালন করার নির্দেশ আসছে, এর মধ্যে দিয়ে ‘কেন্দ্র’র প্রতি আনুগত্য এবং নির্ভরশীলতা তৈরি হয়, সেই সমাজে সব থেকে যা শক্তিশালী হয়, তা ফ্যাসিবাদী মনোভাব। এই মনোভাবের চাষ হতে হতেই এই পলিটব্যুরো পর্যবসিত হয় ফ্যুয়েরারে, ওখানে আপনি পলিটব্যুরোর বিরুদ্ধে কথা বলতে পারতেন না, এখানে সুপ্রিম নেতার বিরুদ্ধে আপনি আওয়াজ তুলতে পারেন না, আসলে এই সিস্টেমের জন্ম দিয়ে চলে আমাদের মধ্যে থাকা প্রশ্ন না করার মনোভাব। পরবর্তীতেও পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু একধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলের হাতে সরকার থাকায়, সেই মনোভাবের পালে হাওয়া বেড়েছে বৈ কমেনি, সবই আজকাল ‘অনুপ্রেরণা’র অংশ।

    ভারতীয় সংবিধান নির্মাতারা যেটুকু অধিকার সুরক্ষিত করেছেন, তা যদিও সবটুকু নয়, তবু সেটুকুও রক্ষিত হয় না, লঙ্ঘিত হলেও মানুষের কিছু যায় আসেনা, কারণ নিম্নবর্গীয় সচেতন মানুষের আন্দোলনের চাপে তা নির্মিত হয়নি। কিছু বুদ্ধিজীবী তাঁদের মতন করে সংবিধান রচনা করেছেন, কিছু কিছু অধিকার সুরক্ষিত করেছেন, কিন্তু তা যেহেতু উপর থেকে চাপানো, ফলে কার্যকর হয়নি।

    সাংস্কৃতিক শূন্যতা

    ফ্যাসিবাদের যেমন কতকগুলি অর্থনৈতিক কার্যক্রম থাকে, তেমনি থাকে কতকগুলি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যেমন ভারতে ফ্যাসিবাদ সকল মানুষের উপর হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুত্ব চাপাতে চায়, তারা মনে করে এটিই সব থেকে শ্রেষ্ঠ মতাদর্শ। প্রশ্ন হলো এই মতাদর্শ নির্মাণ হয় কীভাবে বা কী করে এর পক্ষে এতো মানুষ দুহাত তুলে সমর্থন জানান? কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। উত্তর বাংলায় এক বিখ্যাত লোকজ দেবতা হলেন মাসান, এ দেবতার বাস জলের ধারে ধারে, কথিত আছে, কেউ যদি চুনো মাছ ধরেন বা জলাশয়ের ক্ষতি করেন তবে তাঁকে মাসানে ধরে। নদী নালা বেশি হওয়ায় ওখানে বহু বিচিত্র রকমের মাছ পাওয়া যায়, এবং এই ২০২১ সালে দাঁড়িয়েও জানা যায়, ওখানে মাছ ধরবার ৫০ রকমের দেশিয় উপকরণ আছে, তাতে মা-মাছ রক্ষা পায়, যাদের পেটে ডিম থাকে, ছোট মাছ রক্ষা পায়। আসলে জেলে মাঝিদের মধ্যে এই রীতির প্রচলন সুপ্রাচীন, বোঝা যায় সেখান থেকেই এই মাসানের জন্ম। এর সঙ্গে ঠিক প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মকে এক করা যায় না, ওই অঞ্চলের আদিবাসী হিন্দু মুসলমান সকলেই মাসানকে মানেন। এবারে উত্তরবঙ্গ গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো, মাঠের আল দিয়ে চলেছি, সামনেই এক সাঁকোর ধারে মাসানের থান, তার ঠিক পাশেই বিকালে তিন সই গল্প করছে, তাদের জিজ্ঞাসা করলাম, তোমরা কোথায় পড়াশুনা করছো, জানতে পারলাম, তারা মাথাভাঙ্গা কলেজের ছাত্রী, তাদের মাসানের কথা জিজ্ঞাসা করায় তারা বলল বাড়ির বড়’দের জিজ্ঞাসা করতে হবে। এখানেই সাংস্কৃতিক শূন্যতা টের পাওয়া যায়।


  • ওখানে গিয়েই শুনেছিলাম সাহেব ঠাকুরের কথা, নামটা লক্ষ করুন- তিনি বেশভূষায় মুসলমান, মাথায় ফেজ টুপি, পরনে ফতুয়া আর লুঙ্গি, ভাবলে অবাক হতে হবে যে ওই অঞ্চলের সব হিন্দু পূজা পার্বণে প্রথমে সাহেব ঠাকুরকে তিনবার সালাম জানিয়ে সব কাজ শুরু করে।

    যদি বাংলার মধ্যভাগে আসা যায়, দেখা যাবে জঙ্গল মহল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতে আদিবাসীদের বাস, সেখানে বহু গ্রামে আজ পুরুষ-মহিলারা দুর্গা উৎসবে ডিজে বাজিয়ে নাচছেন। এদিকে লোকগাথায় আদিবাসীরা হলেন মহিষাসুর বা অসুরের বংশ‌ আপনি যদি ঝাড়খণ্ড ছত্তিসগড় চলে যান, দেখবেন, সেখানকার বাসিন্দাদাদের সঙ্গে দুর্গা পূজার বিরোধ নেই, কিন্তু তাঁরা মনে করেন আদিবাসী সমাজের বীর যোদ্ধা ছিলেন অসুর, সুর-অসুর বা আর্য-অনার্য যেভাবেই আখ্যায়িত করুন, তাঁরা মনে করেন অনার্য বা অসুর সম্প্রদায়ের বীর সন্তানকে হত্যা করা হয়েছিলো, তিনি শহিদ, ফলে তাঁরা ওই চার দিন অরন্ধন করেন। এখানে দেখা যাবে একটি ‘অন্য’ সংস্কৃতির রেশ, যার লেশমাত্র বেশিরভাগ পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী গ্রামে দেখা যাবে না।

    মনে রাখা দরকার এই লোকজ সংস্কৃতিগুলি জন্ম নেয় স্থান বিশেষে, তার একটি অঞ্চলগত ইতিহাস থাকে, ফলে সে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় আবেগের উপরে উঠতে পারে, সমগ্র জনগোষ্ঠীটি তাতে শামিল হয়। বিগত কুড়ি বছর ধরেই এই সংস্কৃতিগুলি কমে আসায় জোরালো হচ্ছে বাংলায় বজরংবলীর মন্দির, গণপতি বাপ্পা পূজা এবং জয় শ্রী রাম স্লোগান। বিগত কুড়ি বছর ধরে, বিশেষ করে কলকাতা তথা বঙ্গে জনপ্রিয় হয়েছে বলিউড ফলে আমাদের মধ্যে প্রোথিত হয়েছে হিন্দি সংস্কৃতি, আমাদের এখানের প্রগতিশীল সরকার, প্রগতিশীল বহু নকশালপন্থী দল, গণতান্ত্রিক সংগঠন, পত্রিকা গোষ্ঠী, কোনদিনই এই লোকজ সংস্কৃতিগুলি সম্পর্কে তলিয়ে ভাবেনি, মানুষকে উন্নত সংস্কৃতি দিতে তো পারেইনি, উপরুন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সাথে এগুলিকে মিলিয়ে ফেলে সামগ্রিক বিরোধ তৈরি করেছে, ফলে নতুন সংস্কৃতির জন্ম হয়নি, যেটা হয়েছে, মানুষ তার শিকড়কে ভুলেছে, কনফিউজড বাম সরকার বা দল, দুর্গা পূজায় কমিউনিস্ট বুক স্টল দিয়েছে, সেখানে যেমন ইচ্ছা রামায়ণ-মহাভারত-মহালয়ার পাঠ-বয়ান চলেছে, মধুসূদন দত্তের একটি মাত্র মেঘনাদ বধ কাব্য বাদ দিলে কোনো দিনই ভেবে দেখতে বলা হয়নি, রাম-লক্ষণ, শূর্পনখার সঙ্গে বা ভীম ঘটোৎকচ-হিড়িম্বার সঙ্গে যেটা করলেন তা কার্যত আদ্যন্ত নারী এবং আদিবাসী-অনার্য বিদ্বেষ। তাঁদের অংশিদারিত্ব বা সম্মান না-দেওয়া। একটি জনজাতি যখন তার নিজস্ব ইতিহাস সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়, তখনই সে নিপীড়নের ইতিহাসকে মহিমান্বিত করতে পারে। এর বিস্তারিত তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা এডোয়ার্ড সাইদ তাঁর ওরিয়েন্টালিজম গ্রন্থে দিচ্ছেন।

    আমরা এটা কখনই দক্ষিণ ভারতের ক্ষেত্রে দেখতে পাবো না, লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেও বিজেপি আরএসএস মোদ্দায় তামিল জনগোষ্ঠীকে তাদের দিকে আনতে পারছে না, কারণ তাঁরা তাঁদের ইতিহাস চেতনা, ভাষা ভুলে যাননি, তাঁরা নির্লজ্জের মতো বলিউডের নকলনবিশি করেনি, ভেগানিজমের লজিক দেখিয়ে সেখানে জালিকাট্টু বন্ধ করানো যাচ্ছে না, সেখানে অর্ণব গোস্বামীর মতো পেয়াদা নামিয়ে এক লহমায় হিন্দু-মুসলমান বিভাজন করা যাচ্ছে না, কারণ তারা পুছতা হ্যাঁয় ভারত দেখবে না, কর্তৃত্ববাদী ভারত রাষ্ট্রের আইডিয়ার সঙ্গেই তাঁদের মৌলিক বিরোধ আছে, তাই ওই অঞ্চলে ফ্যাসিবাদী রথ বারেবারে লাট খাচ্ছে।

    যেখানে যেখানে লোকজ সংস্কৃতি ভাষা ইতিহাস মানুষ ভুলবে সেখানে সেখানেই এই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ডিম পাড়বে, আস্তে আস্তে সেই ডিম দৈত্যের রূপ নেবে, যেখানে পঞ্চানন বর্মা ব্রাহ্মণ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধ্বে রাজবংশী ভূমি পুত্রদের ৬ গ্রন্থি পৈতা শরীরে তুলে দিয়ে লড়াইয়ে আনছেন (সেই আন্দোলন আজ সমর্থন করবো কিনা, তা স্বতন্ত্র প্রশ্ন), তা সম্পূর্ণ বিস্মৃত না হলে কোনো ভাবেই রাজবংশীদের আত্মীকরণ করা সম্ভব নয়। তেমন ভাবেই আদিবাসী মতুয়াদেরও নিজস্ব ইতিহাস আছে, বছরের পর বছর খ্রিস্টান মিশনারিরা ছত্তিসগড় ঝাড়খণ্ডে এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বাংলার আদিবাসীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ছলে বলে তাদের ধর্মান্তরিত করেছে, তারা সামগ্রিকভাবেই তাদের প্রকৃতি উপাসনা ভুলেছে, তাদের মধ্যেও গেড়ে বসেছে হিন্দি-হিন্দু আইকন।

    কেবল বিজেপিকে ভোটে হারিয়ে, বা আমাদের অসাম্প্রদায়িক বাংলা গড়তে হবে, এমন শুষ্ক ডাক দিয়ে এসব রোখা যাবে না।



    ছবি- রন্তিদেব রায়

    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন

  • বিভাগ : আলোচনা | ১১ মার্চ ২০২১ | ৩৩৯৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (৬ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ০৮:৫২103530
  • "কৃষ্ণকে লম্পট বানিয়ে প্রচার করে কারা?"


    গণশক্তি প্রেশ থেকে প্রকাশিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের কয়েকটি লাইন। গায়ক কমরেড সনাতন দ. বাউলভস্কি।


    এদিকে নিশি হল দ্বিপ্রহর/এল না শ্যাম নটবর


    খেদে রাধা কহে সখীগণে গো - "এখনও এল না কালীয়া/লম্পট বনমালীয়া.......


    ........................


    যদি সেই লম্পট আসে নিশি শেষে/ বলিও সরোষে বঁধু যেন  --যায় হেথা হতে চলিয়া " ।


  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২১ ০৯:০৮103531
  • আচ্ছা দীপবাবু, আমি শুধু মনুসংহিতা নিয়ে আপনার মতামত জানতে চেয়েছিলাম।  আপনার বলে দেওয়া লিস্টে আছে তা তো বলিনি। রেগে যাচ্ছেন কেন? 


    1 মহাভারতে বৃহদারণ্যক উপনিষদে শতপথ ব্রাহ্মণে বীফ খাওয়া নিয়ে যা বলা আছে সে বিষয়ে কিছু?


    2 হিন্দিবলয়ে দলিতের উপর অত্যাচার ধর্ষণ যেভাবে বাড়ছে এরপরেও বলবেন?


    3 রামায়ণে রাবণবধের পর সীতাকে রামচন্দ্র যা বলেছেন  সে নিয়ে দুই পয়সা?

  • nd | 2a06:e80:1:1:bad:babe:ca11:911 | ১২ মার্চ ২০২১ ১০:১৩103535
  • এক দিকগজ রাধার বয়ানের লম্পট নিয়ে হাজির। ওরে ভাই,প্রেমিকা অনেক কিছুই বলতে পারে। দিকগজের গিন্নি সখীমহলে বলতেই পারে 'আর বলিস না ভাই, এমন অসভ্য।' তাতে করে গণশক্তি যদি দিকগজের অসভ্যতা নিয়ে পেপার পাব্লিশ করে, দিকগজ খুশি হবে তো? গণোশক্তি আর আনন্দবাজার বাদ দিয়েও বাংলায় পড়ার জিনিস আছে এটা এদের মাথায় কবে ঢুকবে।


    এই রঞ্জন বাংলার কথায় মনুসংহিতা আর হিন্দিবলয় টেনে আনে কেন? রামায়ণে রাম কি বলেছে সে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধদেব বসু অনেকেই লিখেছে, একটু খুঁজে পড়তে কি হয়?


    Abhyu কেন এখনকার খবর চাইছে? RSS আর RKM গোড়া থেকে একই বলে ত RSSএর ফ্যানবয়রা বাকতাল্লা মেরেছে। নৈলে RSS লেজিটিমাইজ হবে কি করে?

  • Abhyu | 198.137.20.25 | ১২ মার্চ ২০২১ ১০:১৯103536
  • nd রাগ করেন না, আমি একবার লিখেছিলাম মতাদর্শগত ভাবে RSS আর রামকৃষ্ণ মিশন একই রকম। তাতে কেউ একটু ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন বইকি।

  • Bappa | 2401:4900:1227:b345:2:2:900b:1475 | ১২ মার্চ ২০২১ ১০:৩৬103537
  • একদমি তাই. 

  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২১ ১০:৫৫103538
  • nd


    দুটো কারণে।


    এক, আলোচ্য লেখাটি ফ্যাসিবাদের বিপদ নিয়ে যা এখন গোটা দেশের সমস্যা।


    দুই, বাংলা ভারতের বাইরে নয় বলে।


    আর রামায়ণ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব বসুর লেখা প্রথম যৌবনে পড়েছিলাম।  এখন বৃদ্ধ জরদ্গব হয়ে মূল বাল্মীকি রামায়ণের স্বাদগন্ধ নিচ্ছি। আপনিও নিন, ঠকবেন না --গ্যারান্টি।

  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ১১:১২103539
  • গোলপোস্টটা আগে শক্ত মাটিতে লাগান তারপরে গোল দেওয়ার চেষ্টা করুন। রাধা কিম্বা গাধা, যিনিই বলুন না কেন কৃষ্ণের "লাম্পট্য" বহুল চর্চিত। তবে কবেকার পলিটব্যুরোর মিটিংএ কৃষ্ণকে "লম্পট" আখ্যা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা যদি গণশক্তি ও আনন্দবাজারের বাইরের খবর রাখা পন্ডিতেরা জানাতেন তাহলে আলোকিত হতাম। 


    এমনকি রাধা নিজেও বাদ যায়নি। আর সেটা কৃষ্ণের বয়ানে নয়। 



    পলিটব্যুরোর আরেক সদস্যের বয়ানেও রাধা কলঙ্কিনী ও কানু "হারামজাদা"! (ওহে পটা এদেশে এসব গান আর গেওনা বাপু)


    দয়া করে হিন্দু সংস্কতির সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংস্কৃতি গুলিয়ে ফেলবেন না। বিশেষত পবর মাটিতে তো নয়ই।

  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২১ ১১:১৮103540
  • প্রসঙ্গক্রমে, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং ভারত সরকারের ইকনমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিবেক দেবরায় অনেক যত্ন ও পরিশ্রম করে মূল বাল্মীকি রামায়ণ এবং বেদব্যাস মহাভারত এর সংস্কৃত থেকেই ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। মহাভারতের জন্য পুণের ভান্ডারকর রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং রামায়ণের জন্য বরোদার ওরিয়েন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রামাণ্য পাঠ অনুসরণ করেছেন। 


    আমার মত সংস্কৃতে অজ্ঞ লোকের জন্য আশীর্বাদ। অনেক ফুটনোটস ও রেফারেন্স। 


    পড়লে জানবেন রামায়ণ লেখা হয়েছিল রাবণবধের অনেক পরে। রাম তখন অযোধ্যায় প্রতিষ্ঠিত। 

  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২১ ১১:৫০103543
  • একটু গীতগোবিন্দম? ভক্তকবিবর জয়দেব গোস্বামী বিরচিত? যিনি দশাবতার স্তোত্র রচনা করেছেন?


    সখী রাজাকে বলছেন: মদনভোলান  সাজুগুজু করে রতিসুখ পেতে অভিসারে যাচ্ছ? চটপট যাও। তোমার উনি অপেক্ষায় রয়েছেন।


    এরপর:


          ধীরসমীরে যমুনাতীরে বসতি বনে বনমালী।


          পীনপয়োধর পরিসরমর্দন চঞ্চল করযুগশালী।।


    এর বাংলা করতে আমার লজ্জা করছে। আপনারা বুঝে নেবেন। নইলে বিগত শতাব্দীর  কবি বিজয়লাল মজুমদারের চমৎকার বাংলা অনুবাদ রয়েছে।


    দেখুন, কৃষ্ণকে পূজো না করলেও বৈষ্ণব পদাবলী ও সাহিত্যের রসাস্বাদন করা যায়। উনি আমাদের প্যাস্টোরাল লোকগাথার মহানায়ক,  প্রেমিকপ্রবর।


    এসব ছেড়ে খামোখা গণশক্তি মহাশক্তি অপশক্তি শুরু করেছেন।

  • b | 14.139.196.16 | ১২ মার্চ ২০২১ ১১:৫৮103545
  • রঞ্জনদা, কালিসিঙ্গি  আর হেমচন্দর থাকতে খামোখা ইঞ্জিরি পড়তে যাবেনই বা  ক্যানো? 

  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২১ ১২:৩৩103546
  • কারণ রামায়ণ মহাভারতের দেশজুড়ে অনেক গাথা অনেক ভার্সন। আজকের ভাষাতাত্বিক রিসার্চ অনেক উন্নত।। পূণের আর জি ভান্ডারকরের নেতৃত্বের পন্ডিতমন্ডলী পঁচিশ বছরের সম্মিলিত পরিশ্রমে আজ মহাভারতের প্রামাণ্য পাঠ দাঁড় করিয়েছেন। একই কথা বরোদায় মহামহোপাধ্যায় পি ভি কাণের নেতৃত্বে রামায়ণ নিয়ে।


    বাংলায় সেরা হল রাজশেখর বসুর । কোন প্রসঙ্গ বাদ পড়েনি। অথচ পপুলার ভার্নাকুলার পাঠে বেশ কিছু প্রসঙ্গ বাদ। যেমন কৃত্তিবাস ও  তুলসীদাসে  শূদ্রক তপস্বীবধ ও সীতাকে কটুুু কথা নেেই।

  • @Ranjan Roy | 2405:8100:8000:5ca1::5a4:1634 | ১২ মার্চ ২০২১ ১২:৩৪103547
  • সবই করা যায় যতক্ষণ তার মধ্যে সেই ভালবাসাটা থাকে। কৃষ্ণকে অবতার না ভেবে গোপাল বলে আদরও করা যায়। তার বদলে "হ্যাহ্যা তোরা তো ঐ লম্পটকে নিয়ে নাচিস", "সব আফিমের কারবার", "রাম তোদের, রামমোহন আমাদের", আবার "রামমোহন তো সাহেবভজা" এসব ছাগলামি করলে আম পাবলিকের কাছে কি মেসেজ যায় সেটা একটু ভেবে দেখবেন। তারপর ফ্যাসিবাদ এসে সব খেয়ে ফেলল গো বলে নাকিকান্না? আরে নেতাজিকেও ফ্যাসিবাদি বানিয়ে দিয়েছিল কারা? সবাই সব ভুলে যাবে?

  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ১২:৪২103548
  • "হ্যাহ্যা তোরা তো ঐ লম্পটকে নিয়ে নাচিস"


    কে বলেছে ​​​​​​​এমন ​​​​​​​কথা? ​​​​​​​

  • দীপ | 2402:3a80:a57:ec96:8d59:9e26:b196:b127 | ১২ মার্চ ২০২১ ১২:৪৪103549
  • @b , ঊরুভঙ্গম ব্যতীত, পঞ্চরাত্রম, দূতবাক্যম, দূতঘটোৎকচম নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্র দুর্যোধন।


    @ Ranjan,  কে গরু খাবে, কে শুয়োর খাবে, সেটা তো তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর একসময় গোমাংস যে  ভারতীয়দের অন্যতম প্রধান খাদ্য ছিল, সেকথা যাঁরা ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেন, জানেন। বিবেকানন্দের বক্তৃতাতেও এর উল্লেখ আছে। কে বিজেপির ফতোয়া সমর্থন করে?


    উত্তরভারতে দলিত ও নিম্নবর্ণের উপর অত্যাচার চূড়ান্ত ঘৃণ্য। তা আপনার কি ধারণা রবীন্দ্রনাথ- বিবেকানন্দের চিন্তাধারা এই অত্যাচার বাড়িয়ে তুলবে? আপনি ভারতে বিবেকানন্দের বক্তৃতাগুলি পড়েন নি? "ভারতীয় ধর্ম অত্যন্ত উদার, কিন্তু ভারতীয় সমাজ চূড়ান্ত অনুদার, পৈশাচিক!" 


    আপনি কি হিন্দুধর্ম বলতে মনুসংহিতা বোঝেন? তাহলে আপনার ধারণা আদ্যন্ত ভুল! এগুলি স্মৃতিশাস্ত্র, সামাজিক আইন 


    পার্টিচোথা  মুখস্থ করে বিদ্যাসাগর-রবীন্দ্রনাথ-বিবেকানন্দকে বোঝা সম্ভব নয়! তাই সবকিছু গরুর রচনা হয়ে যায়!


    আবার বলছি বিজেপি একটি চূড়ান্ত ঘৃণ্য দল। কিন্তু তাতে প্রমাণিত হয়না যে বাকিরা ভালো। বরং তাদের ভণ্ডামি, দ্বিচারিতা বিজেপির আসার পথ প্রশস্ত করেছে! ভারতে রাজনৈতিক দলগুলো চূড়ান্ত বজ্জাত, কেউ ব্যতিক্রম নয়।

  • b | 14.139.196.16 | ১২ মার্চ ২০২১ ১২:৪৪103550
  • রাজশেখর বসু অতীব সুপাঠ্য, সেরা বলে মানতে পারলাম না। হেমচন্দ্র পড়ার পরে তো নয়ই। 

  • b | 14.139.196.16 | ১২ মার্চ ২০২১ ১৩:৩৬103552
  • ও হ্যাঁ, দীপকে ধন্যবাদ। 

  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২১ ১৩:৫৭103553
  • বি


    হেমচন্দ্র পড়িনি। কালীসিঙ্ঘি কাশীদাস পডেছি। কিন্ত  আপনার কথা শোনার পর পড়তেই হবে।


    দীপ ও চতুর্ভুজ, 


    মাইরি,  বাতাসের গলায় দড়ি বেঁধে ঝগড়া কচ্চেন? কেন মনে করছেন যে রবীন্দ্রনাথ এবং বিবেকানন্দ বিষয়ে আমার বা পিটির অভিমত আপনাদের থেকে অনেক আলাদা কিছু? 

  • দীপ | 2402:3a80:a57:ec96:8d59:9e26:b196:b127 | ১২ মার্চ ২০২১ ১৪:০৩103554
  • @ranjan, আপনিই তো মনুসংহিতা নিয়ে প্রশ্ন‌‌ তুললেন।‌ আমি তো আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। দ

  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ১৪:২৮103555
  • "ভারতীয় ধর্ম অত্যন্ত উদার, কিন্তু ভারতীয় সমাজ চূড়ান্ত অনুদার, পৈশাচিক!"


    এই সমাজই তো ঐ ধর্ম মানে? নাকি এতদিন অন্যকিছু জেনে বড় হয়েছি? ব্যাপক কন্ফ্যুশন।


    কিন্তু মনু সংহিতা বাদ দিলে চলবে? এমনকি ঘোর ঈশ্বর বিশ্বাসী প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ও মনু সংহিতার অনুশাসনকে তুলোধোনা করেছেন।

     
  • দীপ | 2401:4900:3a18:d984:f758:35fe:2c12:5c4e | ১২ মার্চ ২০২১ ১৫:০২103556
  • আজকের সমাজে প্রাচীন স্মৃতিশাস্ত্রগুলির কোনো ভূমিকা নেই। যা এগিয়ে চলার পথে অন্তরায়, তাকে ফেলে দিতে হবে। এটাই মূল বক্তব্য। বিবেকানন্দ একাধিক বক্তৃতা, কথোপকথন, চিঠিতে এইকথা বলেছেন।


    বিজেপিকে হারাতে হলে এই উদার আদর্শকে প্রচার করতে হবে, বুলি কপচিয়ে লাভ হবেনা! এতো বিপ্লবের ফল তো দেখতেই পাচ্ছি! কেন্দ্রে বিজেপি আর রাজ্যে পিসি!

  • দীপ | 2401:4900:3a18:d984:f758:35fe:2c12:5c4e | ১২ মার্চ ২০২১ ১৫:২৬103558
  • না মানে না। মুখে ধর্মের বড়ো বড়ো বুলি কপচায়, বাস্তবক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষের সঙ্গে পশুবৎ ব্যবহার করে। রবীন্দ্রনাথ-বিবেকানন্দ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন করে তোলেন!

  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ১৫:২৮103559
  • "বুলি কপচিয়ে লাভ হবেনা! এতো বিপ্লবের ফল তো দেখতেই পাচ্ছি! কেন্দ্রে বিজেপি আর রাজ্যে পিসি!


    যারা বিপ্লবের ঘোর বিরোধী তারাই তো বিবেকানন্দকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে আছে আর তাঁর আদর্শ "কপচিয়ে" চলেছে! এত সহজে ওরা বিবেকানন্দকে ব্যবহার করতে পারছে কেন? অথচ ওদের কাউকেই সুকান্তের একটা লাইনও আবৃত্তি করতে শুনিনি।

  • দীপ | 2401:4900:3a18:d984:f758:35fe:2c12:5c4e | ১২ মার্চ ২০২১ ১৬:৫৯103560
  • ঠিক যেমন আমাদের দেশের তথাকথিত বামপন্থীরা মুখে বড়ো বড়ো বুলি কপচান, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।


    মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বড়ো বড়ো বুলি কপচান, আর নিজের ছেলেমেয়ে, নাতি নাতনি কে আমেরিকায় পাঠান।‌ গণশক্তিতে বাংলা মাধ্যম স্কুলের সমর্থনে প্রবন্ধ লেখেন আর নিজের ছেলেমেয়েকে কলকাতার নামিদামি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে পাঠান!

  • দীপ | 2401:4900:3a18:d984:f758:35fe:2c12:5c4e | ১২ মার্চ ২০২১ ১৭:১৮103561
  • মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি কপচান আর একটি মৌলবাদী শক্তিকে তুষ্ট করতে তসলিমার ব‌ই নিষিদ্ধ করেন, তসলিমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করেন! যদিও তাতে কোনো লাভ হয়নি! 


    গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বড়ো বড়ো কথা বলেন আর বিন্দুমাত্র বিরোধী মত শুনলে তাকে দাবানোর চেষ্টা করেন। তখন বলা হয়, "উনি আমাদের লোক নন!"


    স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী রাইটার্সে দাঁড়িয়ে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর বিরোধিতার জন্য একটি সংবাদপত্রকে হুমকি দেন। যদিও পরের দিন সেই সংবাদপত্রের সম্পাদক সপাট চড় কষিয়ে ছিলেন। সরাসরি বলেছিলেন, "সাহস থাকলে আপনি আমাদের কাগজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, দেখি আপনার কতো ক্ষমতা!" 

  • দীপ | 2401:4900:3a18:d984:f758:35fe:2c12:5c4e | ১২ মার্চ ২০২১ ১৭:২৫103562
  • সবচেয়ে হাস্যকর ও বিরক্তিকর, প্রতিমুহূর্তে সাধারণ মানুষের কথা বলা হবে, অথচ সামান্য বিরোধী মত শুনলে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়ে যায়! কখনো বলা হয় পাবলিক কিছু বোঝেনা, কারণে অকারণে অন্যকে ছাগল, ধান্দাবাজ বলে গালাগালি দেওয়া হয়! বিরোধী মত মানেই চক্রান্ত আর বিভ্রান্ত! 


    অন্যকে ছাগল বলতে খুব ভালো লাগে! নিজের গায়ের চামড়া তো গণ্ডারের চেয়েও মোটা!

  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ১৭:৩৪103563
  • এতো তামাদি হয়ে যাওয়া গপ্প শোনাচ্ছেন। এসব নিয়ে হাজার হাজার বাইট খরচা হয়েছে অতীতে। বাম মুখ্যমন্ত্রীকে "সংবাদপত্রের সম্পাদক সপাট চড়" মারলে যে আপনি আনন্দ পান তাও বোঝা গেল। যদিও চড়টা বাংলার বেকারদের গালে মারা হয়েছিল কিনা সেটা অন্য আলোচনা।


    কিন্তু এসব আমড়াগাছী করে কোকেন আর কয়্লা চোরেদের হাত থেকে বিবেকানন্দকে তো বাঁচানো গেল না। 

  • দীপ | 2401:4900:3a18:d984:f758:35fe:2c12:5c4e | ১২ মার্চ ২০২১ ১৭:৪০103564
  • বাম মুখ্যমন্ত্রীকে নয় হে মহাপণ্ডিত, শাসকের ঔদ্ধত্যকে। ঠিক যে কারণে বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, গৌরকিশোর ঘোষকে শ্রদ্ধা করি! কামদুনি কাণ্ডের সময় টুম্পা ও মৌসুমী কয়ালকে সমর্থন করি! অন্যায়ের বিরুদ্ধে মহাশ্বেতা দেবী, শঙ্খ ঘোষের আহ্বানকে সশ্রদ্ধ নমস্কার জানাই!

  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ১৮:২৪103566
  • এই সম্পাদক কি সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম নিয়ে সেই সময়ে গুজব ও অর্ধসত্য ছাপতেন? আর তার পরে শাসকের পদলেহন করতেন (এখনো করেন?) সরকারী বিজ্ঞাপনের জন্য? তাহলে চড়টা জোড়াসাঁকো আর সিমলের দোরগোড়ায় পড়েছিল। 


    সমস্যা হচ্ছে যে ,বিবেকানন্দ, গৌরকিশোর, টুম্পা, মৌসুমী,মহাশ্বেতা, শঙ্খ সব্বাইকে চোরেরা পকেটে পুরে দিব্যি রাজত্ব চালাচ্ছে।


    কিন্তু বিবেকানন্দ আর রবীন্দ্রনাথকে কয়লা আর কোকেন চোরেদের হাত থেকে বাঁচানোর কি ব্যবস্থা হল? চোরেরা এখনো বেশ কিছুদিন এদের ব্যবহার করবে।

  • Ranjan Roy | ১২ মার্চ ২০২১ ১৮:২৪103567
  • দীপ ও পিটি,


       প্লীজ ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত হন। এসব 'তুই বিড়াল না মুই বিড়াল'  ভাটে, হীরকরাণী টইয়ে অনেকবার হয়ে গেছে। একই কথা ঘুরে ফিরে আসে।  বিষয় নিয়ে কথা বলুন।


    দীপ, 


    সব ধর্মেরই দুটো দিক থাকে--তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক। ইসলামের যেমন কুরানশরীফ ও হাদিস। হিন্দুদের শ্রুতি আর স্মৃতি। দুটোর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক। স্মৃতি হল ধর্মশাস্ত্র।  তার শ্রেষ্ঠ মনুসঙ্ঘিতা। গীতায় এবং  রামায়ণ মহাভারতে বারবার যে সব আচরণ বিধির দোহাই দেয়া হয় --সে স্ত্রীর ধর্ম, ব্রাহ্মণের সম্মান বা রাজার কর্তব্য এবং পাপের শাস্তি - তা সবই ধর্মশাস্ত্র বা বিশেষ করে মনুসংহিতা অনুযায়ী। তাই আড়াল থেকে বাণ মারার জন্যে বালী রামকে যে অভিযোগ করলেন তা মনুবিহিত যুদ্ধের নিয়মের লঙ্ঘন বলেই। আবার রাম যে তপস্যারত শূদ্রক তপস্বীর গলা কেটে ফেললেন তাও মনুর অনুশাসন মেনে। ব্যাসের নিয়োগ প্রথায় ভাইবৌদের গর্ভে সন্তান উৎপাদন বা নৌকোর মধ্যে পরাশর মুনির ধীবর কন্যার সঙ্গে সঙ্গম অথবা  অর্জুনের সুভদ্রাহরণ কিংবা ভীষ্মের কাশীরাজের তিন মেয়েকে হরণ-- সবই মনু  অনুমোদিত।


    মনুসংহিতাই হিন্দুধর্ম নয়, কিন্তু মনু হিন্দুধর্মের বাইরেও নয়। হিন্দু সিভিল কোড মনুকে মেনেই তৈরি হয়েছিল।


    আমি হিন্দি বলয়ের গ্রামে থেকেছি কয়েক দশক। তাই নিজের চোখে দেখেছি এর প্রভাব।  কোলকাতায় বসে শহুরে মন নিয়ে বিতর্ক করে নিজেদের পিঠ চাপড়ে একে ঠেকানো যাবেনা। গ্রামজীবনে আমাদের বকবকানির প্রভাব কতটুকু?


    বামশাসনেও কি গ্রামের স্কুলে মিড-ডে মিলে দলিত পরিবারের মহিলা রান্না করলে গার্জেনদের প্রতিবাদ দেখা যায় নি? বা দুই আলাদা ধর্মের স্কুল টিচার নিজেরা বিয়ে করলে ছাত্রছাত্রীদের তাঁদের চরিত্রহীন  দেগে দিয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা?


    আজ যখন সমস্যা হল ফ্যাসিবাদের প্রভাব ঠেকানো তখন ভাবা দরকার কীভাবে আমাদের ঐতিহ্যের পজিটিভ দিকগুলোকে মুক্তচিন্তার দিকগুলোকে প্রশ্ন করার সাহসকে তুলে ধরা যায়। আর যা পেছনে টানে তাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে হবে। যেমন দীপ বলেছেন-- খাদ্যাখাদ্য ব্যক্তিগত রুচি; জাতপাত একুশে শতকে অচল।


    আর অতিসরলীকৃত একবগগা ফর্মূলা চলবেনা। সে যে শিবিরেরই হোক। 


    ওই প্রেক্ষিতে আমার বর্তমান নিবন্ধটি দরকারি মনে হয়েছে, এই আর কি!

  • PT | 45.64.224.66 | ১২ মার্চ ২০২১ ১৮:৩০103568
  • রর: আপনার নিরপেক্ষতা অর্থহীন। আমি এই ফোরামে কোন ব্যক্তি আক্রমন করিনি।

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান



Fascism, ANti Fascist Rally, Anti Fascist Movement Bengal
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন