• হরিদাস পাল  অপার বাংলা

  • যে ভোরে মৃণাল ফোটে পায়ে।... 

    তামিমৌ ত্রমি লেখকের গ্রাহক হোন
    অপার বাংলা | ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ | ৪৫০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • যে ভোরে মৃণাল ফোটে পায়ে


    দিল্লির ভোর -


     ক্রমে ঘুনসি থেকে হাফপ্যান্ট থেকে থ্রি কোয়ার্টার  থেকে ফুল..


    যত শীত বাড়ে - ভোর তত প্রলম্বিত


    এই দীর্ঘ ঈ তে টান তোলা ভোরে প্রতিদিন অনেক সংকল্প তৈরি হয়, অনেক অধরা আধবোজা কাজ সমাপ্ত হয়, -মেরু ভাল্লুকের গোটানো লেজের মতো কৌম বলের  ওমের তলায়.. নতুন গুড়কে  কোন নতুন আঙ্গিক দেওয়া যায়, ফুলকপি কড়াইশুঁটির ঘ্রাণ,  পরিত্যক্ত ভ্রূণের মতো বীট,  দোয়াতে ডুবিয়ে লেখার মতো সরু গাজর দিয়ে যখন বাঁধাকপির পাতায় পশমিনা পদ্য লেখা শুরু হয়, তখন...  সেই ভোরে...  মৃণাল ফোটে পায়ে.... 


    মৃণাল সেন। ঠিক দুবছর আগে আজকের তারিখে টর্চ হাতে আলোর পথে যাত্রা করেছিলেন মৃণাল সেন। মিশে গিয়েছিলেন তারই শুট করা মিটিং মিছিলের মহাপার্থিব ফ্রেমে। 


    আজকে যখন আমার বাড়ি থেকে ঘন্টা কয়েকের দূরত্বে বহুজনহিতায় বহুজনসুখায় সংকল্প যজ্ঞের আগুনের মতো দাউদাউ স্পষ্টভাষী হুতাশন! যারা প্রমাণ করেছে দিল্লির শৈত্যপ্রবাহ একটা নিরপেক্ষ কন্সেপ্ট, তাকে মান্যতা দিয়ে কেউ ফুলকপির সিঙ্গাড়া গড়তে পারে, কেউ অগ্রাহ্য করে গড়তে পারে শপথ, তখন মৃণাল - প্রবাহে কেঁপে উঠি অন্তরে...  আমরা কি পেরেছি সময়কে ধরে রাখতে.. এই যে সব ঐতিহাসিক সময়গুলো চলে যাচ্ছে, আমরা 'হিজিজীবীরা' কি পারলাম তাকে কুঁদে কুঁদে এক চিরন্তন ভাস্কর্য তৈরি করতে? 


    মিটিং মিছিল বোমা বিক্ষোভের ব্যারিকেডের  কলকাতাকে যেভাবে তিনি রক্তমাংসে লেলিহান করে তুলেছিলেন, সেইভাবে? আমরা কি দেখতে পাব সেই পাতাঝরা বৃদ্ধ পিতা বা বড় ভাইদের কালশিটে পড়া মুখ, যারা মৃণালের একই সিনেমা বারংবার দেখতে আসতেন,  কারণ সেই সিনেমার  মিছিলে তারা রুদ্ধবাক আবিষ্কার করেছিলেন,  কোন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভোরে ঘাসের আকাশে বিলীনকন্ঠ পাখির মতো লুটিয়ে পড়া তাদের  পুত্র বা ছোট ভাইয়ের মুখ...


    নীতিগতভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সমর্থক হয়েও তার অন্ধ অনুকরণকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিরপেক্ষভাবে তাকে কাটাছেঁড়া করার নিরন্তর স্পর্ধা. …. এত বিদ্যুৎ  কোন প্লাগপয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করব আমরা!!


    আজকে যখন আপনার বেডরুমের বেডসাইড টেবিলের শীর্ষে  জলের গ্লাসের পাশে  ছোট্ট স্মার্ট কাচস্বচ্ছ ফুলদানিতে রাখা তিনটি অর্কিডের মধ্যে যেটা পার্পল, তার অন্তরের অন্তরতম পাপড়ির বুকে যে কোন ধূসর পাহাড়ী গুহ্য ধর্মের হাজার হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত সাপের মাথার মণি নিহিত আছে, সেইটা প্রমাণ করতে তিনটে সিরিজ,  তিনশো দশটা এপিসোড বা দু ঘন্টা পয়তাল্লিশ মিনিটের মুভি তৈরিতে আমরা আমাদের মাথা থেকে বিবেক ঘামিয়ে ফেলছি, তখন একদিন প্রতিদিনের বাড়ির বড় মেয়েটা কেন সারারাত বাড়ি ফিরল না, তার একরাত বাড়ি না ফেরাতেই ভাল ঘরের ভাল মেয়ে হাফগেরস্ত হয়ে গেল কিনা, জেনেসিসে'র গর্ভবতী শবানা ঐ পান্ডব বর্জিত ভোরে তার দুই অর্জিত পান্ডবদের বর্জন করে কেন বাতাসে মিলিয়ে গেলেন, কেন মহাপৃথিবী'র মা আত্মহত্যা করলেন, এবং শেষপর্যন্ত বিদেশ থেকে ফেরা হতভাগ্য ছেলে কেন মায়ের ডায়রি পড়ার সাহস করতে না পেরে পুড়িয়ে ফেলল-


    এইসব প্রশ্ন তোলার চেয়ে মশারিতে নিঝুম তোলা ভালো,


    যে নিঝুমতায় রোম পোড়ে আর নিরো বেহালা বাজায়, যে নিঝুম উপেক্ষায় আউসুইচ আর বিরখানাউয়ের ঝলসানো চুল্লীর ঢিল দূরত্বে থাকা সাধারণ জার্মান অধিবাসী মা ছেলের জন্মদিনে বার্থ ডে তে কেক বেক করে, কুশান কাভারে ফুল তোলে, সেই নিঝুম নিরাময়ে বুঁদ হয়ে থাকি,


    ঠিক এরকম সময়ে জেনেসিসে' র  নূপুর বাজে... রুনুঝুনু রুনুঝুনু.. পৃথিবীর এককোণে পড়ে থাকা দুই হতভাগ্য ভাবে, তবে কি আমাদের ইচ্ছেরাই নূপুর হয়ে বাজছে....!!


    সংকল্প বাজে।  এমন অনেক সংকল্প প্রতিদিন বাজে মেরু ভাল্লুকের কুণ্ডলীকৃত লেজের মতো কম্বলের তলায়, তারকোভস্কি বলেছেন,  ফিল্ম হল সময়ের ভাস্কর্য।  কম্বলের তলায় আদুরে ভাস্কর্য গড়ি, তাপ্পর,  তার চূড়োয় পা দোলাতে দোলাতে  ঘুমিয়ে পড়ি, যতক্ষণ  না মৃণাল- চিল  এক ছোঁয়ে কম্বল সরিয়ে 


    বেআব্রু ঝাপটা মেরে যায়।


    তামিমৌ ত্রমি

  • বিভাগ : অপার বাংলা | ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ | ৪৫০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
কবিতা  - Suvankar Gain
আরও পড়ুন
মা  - Mousumi GhoshDas
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2601:84:4600:5410:2de2:f59b:6d13:1598 | ০২ জানুয়ারি ২০২১ ০৬:৪৬101459
  • বাঃ 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন