• বুলবুলভাজা  পড়াবই  সীমানা ছাড়িয়ে

  • ‘স্বপ্নরা আসে এই পৃষ্ঠায় মৃত্যুর কোলে ঢলে যেতে’

    পার্থপ্রতিম মণ্ডল
    পড়াবই | সীমানা ছাড়িয়ে | ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ৪২১ বার পঠিত | ২ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • আব্দেল্লাতিফ লাবিমরক্কোর প্রথম সারির কবিলেখেন ফরাসি ভাষায়। বহু পুরস্কারে সম্মানিত। কিন্তু দীর্ঘকাল মরক্কোর শাসকশ্রেণির চক্ষুশূল। ফলত প্রথমে আট বছর কারাবাস ও পরে নির্বাসন। তিরিশ বছর দেশছাড়া হলেও মরক্কো তার কবিতার প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি উচ্চারণে। লিখছেন পার্থপ্রতিম মণ্ডল


    “ঘণ্টা দুয়েকের রেলভ্রমণে
    আমি জীবনের ছায়াছবিটা দেখে নিই
    প্রতিটা বছরের জন্যে বরাদ্দ মোটামুটি দুটো মিনিট
    ছেলেবেলার জন্যে আধঘণ্টা
    একটা ঘণ্টা আমার কারাবাসের জন্যে
    প্রেম, বই, ঘোরাঘুরি এসবের জন্যে
    বাকি সময়টা
    আমার সঙ্গিনীর হাত ধীরে ধীরে
    মিলিয়ে যাচ্ছে আমার মুঠোয়, আর ওর মাথা
    আমার কাঁধে এলিয়ে পড়ছে
    যেন তা পায়রার মতো হালকা
    আমাদের যাত্রা যতক্ষণে শেষ হবে
    ততক্ষণে আমি পৌঁছে যাব পঞ্চাশ বছর বয়সে
    তারপর বড়োজোর আর একটা ঘণ্টাই পড়ে থাকবে
    বেঁচে থাকার জন্যে”
    (Deux heuresen train। ট্রেনে করে দু’ঘণ্টা)



    আব্দেল্লাতিফ লাবি

    উপরের লাইনগুলি যাঁর তিনি মরোক্কোর কবি আব্দেল্লাতিফ লাবি। আবদেল্লাতিফ লাবি নামটির সঙ্গে পাঠকের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই, তিনি মরোক্কোর প্রধানতম কবি, বর্তমান ফরাসি সাহিত্যেরও এক উল্লেখযোগ্য নাম। তবু তাঁর কবিতা কতটুকুই বা পড়েছি আমরা?

    বেশ কয়েক বছর আগে ‘মঘরেব’ নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে মরোক্কোর সাম্প্রতিক কবিতার সঙ্গে সামান্য পরিচয় ঘটেছিল। আরবিতে ‘মঘরেব’ কথাটির অর্থ হল ‘সূর্যাস্তের ভূমি’ (আরব দুনিয়ার পশ্চিমাঞ্চল অর্থে), আর মঘরেবীয় সাহিত্য বলতে বোঝায় মূলত আলজেরিয়া, মরোক্কো আর তুনিশিয়া এই তিন দেশের সাহিত্যকে। উদ্দেশ্য ছিল ফরাসি উপনিবেশ পত্তনের পর এই দেশগুলিতে লেখালেখির হালচাল একটু খতিয়ে দেখা। তখনই হাতে আসে মরোক্কোর কবিতার একটি অসামান্য সংকলনগ্রন্থ: La Poésie Marocaine (de l’Indépendance à nos jours), মরোক্কান কবিতা (স্বাধীনতা থেকে বর্তমান কাল অবধি)। বইটির সম্পাদনা করেছিলেন আব্দেল্লাতিফ লাবি স্বয়ং। সাম্প্রতিক কালের মরোক্কোর কবিতা, বিশেষ করে আব্দেল্লাতিফ লাবির কবিতার সঙ্গে সেই প্রথম পরিচয়। সম্প্রতি André Naffis-Sahely-র অনুবাদে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদ: Beyond the Barbed Wire। ফরাসি কবিতা বলতে আজও যাঁরা কেবলমাত্র ফ্রান্সের মূলস্রোতের কবিতাকে বুঝে থাকেন, এই স্বরের ভিন্নতা লক্ষ করে তাঁরা বিস্মিত হবেন।
    “এক এক ক’রে
    স্বপ্নরা আসে এই পৃষ্ঠায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে
    তাদের খবর দেওয়া হয়েছে
    তারা আসছে সব দিক থেকে
    এই পৃষ্ঠায় এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে
    যেন বা একপাল হাতি এগিয়ে আসছে তাদের কবরের দিকে
    তাদের মৃত্যু-হাহাকার আমি শুনেছি
    এক গ্লাস জলও বাড়িয়ে দিতে পারি না আমি
    তাদের দেখছি জীবনে প্রথমবার
    জীবনে শেষবারের মতো
    আমার শব্দের কফনে তাদের মুড়ে দেওয়ার আগে
    ছোট্টো একটা নৌকোয় চালান করে দেওয়ার আগে
    এই নৌকাখানি একদিন তাদের দোলনা ছিল
    স্রোত তাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে
    আর অচিরে ফিরিয়ে আনছে আমার কাছে
    যেন মস্ত ঘোলা ওই সমুদ্রটা আর ওখানে নেই
    যেন সেটা উঠেএসেছে এই পৃষ্ঠার উপর”
    (Les rêves viennent mourir sur la page. /স্বপ্নরা আসে এই পৃষ্ঠায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে)

    আব্দেল্লাতিফ লাবির জন্ম ১৯৪২ সালে ফেজ-এ, ফরাসি শাসনাধীন মরোক্কোয়। ১৯৫৬ সালে মরোক্কো যখন স্বাধীনতা লাভ করে তখন তার বয়স চোদ্দ। ১৯৬৬ সালে মরোক্কোর অন্যান্য কবিদের সঙ্গে তিনি প্রকাশ করেন বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘সুফ্‌ল্’ (Souffles)। এই ‘সুফল্’ খুব শীঘ্রই মরোক্কোর কবিদের স্বাধীন লেখালেখির এক জোরালো প্লাটফর্ম হয়ে ওঠে। শুধু কবি নন, শিল্পী, নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতের কর্মী সকলেই মঘরেবের সমস্ত দেশ থেকে এসে জোটবদ্ধ হতে থাকেন এই ‘সুফ্‌ল্’কে কেন্দ্র করে। ‘সুফ্‌ল্’ হয়ে ওঠে মঘরেবের নন্দনতত্ত্বের এক নয়া ম্যানিফেস্টো। ‘সুফ্‌ল্’-এর মূল লক্ষ্য ছিল ভাষার জগতে এক আমূল বিপ্লব নিয়ে আসা। ফ্রঙ্কোফোন ও আরবোফোন, এই দুই ধারার চিরাচরিত বিভেদকে অস্বীকার করে ‘সুফ্‌ল্’ হয়ে ওঠে পরীক্ষানিরীক্ষার এক আঁতুড়ঘর। মে ৬৮-র পারি উত্থানের পর আরও শানিত হয়ে উঠতে থাকে ‘সুফ্‌ল্’-এর প্রতিটি সংখ্যা। আব্দেল্লাতিফ ঘোষণা করেন, ‘‘কেবলমাত্র সাহিত্যই আর যথেষ্ট নয়।’’



    সুফ্‌ল্‌ পত্রিকার প্রচ্ছদ

    ‘সুফ্‌ল্’-র পঞ্চদশ সংখ্যাটি প্যালেস্তাইনকে নিবেদন করার পর বড়োসড়ো পরিবর্তন আনা হয় পত্রিকার পরিচালনায়। বামপন্থী বিপ্লবী গোষ্ঠী ইলা-আল-আমাম (Ila al-Amam)-এর মুখপত্র হয়ে ওঠে পত্রিকাটি। ১৯৭২ সালে দ্বিতীয় হাসান-এর কর্তৃত্ববাদী সরকার পত্রিকাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সর্বমোট বাইশটি সংখ্যা বোরোয় ‘সুফল্’-এর। আব্দেল্লাতিফ লাবি গ্রেপ্তার হন। ‘মতামত প্রকাশের অপরাধ’-এর জন্যে ১৯৭২ থেকে ১৯৮০, সুদীর্ঘ আটবছর তাঁর কারাবাস হয়। কারাবাসে থাকাকালীন একাধিক আন্তর্জাতিক কবিতা পুরস্কার ও বিশ্বজোড়া লাগাতার সলিডারিটি ক্যাম্পেন ১৯৮০ সালে তাঁর মুক্তি এনে দিলেও, কারাগারে যে অন্ধকার দিনগুলি অতিবাহিত করতে হয়েছে তাঁকে তার মর্মস্পর্শী ছবি তিনি এঁকেছেন তাঁর বহু কবিতায়। এ প্রসঙ্গে তাঁর Cellule de prisonnier (জেলের কুঠরি) কবিতাটি স্মরণযোগ্য।

    “না, তোমাকে নিয়ে কথা বলার ইচ্ছে আমার কোনোদিন হয়নি
    জেলের কুঠরি
    এত অকিঞ্চিৎকর তুমি
    এত একঘেয়ে অরঙিন
    ওই ফাঁসির দড়িটার মতোই যা উঠতে বসতে পরানো হচ্ছে
    আমাদের গলায়
    কিন্তু সমস্যাটা কী জানো, জেলের কুঠরি, আজ বড্ড বেশি বুকের ওপর
    চেপে বসেছ তুমি
    তোমার দেয়ালে চুনের গর্তগুলো
    জীবন্ত হয়ে উঠছে মধ্যযুগীয় কথামালার মতো,
    তোমার ওই আশাহীন দরজাটা
    পিপহোলের ভেতর দিয়ে চাপা হাসি
    প্রকল্পিত আকাশের বুকে ওই জানালাটা
    পুরোনো স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলছে বড়ো
    তোমাকে মনে হচ্ছে যেন
    আমারই ভেতর
    একটা দ্বিতীয় শরীরের মতো
    আমাকে যা ঠেলে দিচ্ছে আরও গভীরে, আমার ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে
    আমার বুকে জাগিয়ে তুলছে
    নির্বাসনের ঠান্ডা বাতাস
    মন ভালো নেই একথা বলতে আজ আর কোনো
    লজ্জা নেই
    বিচ্ছেদের এই গোপন প্রদর্শনকক্ষে
    অনুভব করতে লজ্জা নেই আমার ধূমায়িত ভগ্নহৃদয় কীভাবে
    ভেঙে ফেলছে
    অভ্রান্ত সেই ট্র্যাজেডি
    চুড়ান্ত নিশ্চয়তার আনন্দটাকে যা আমার পাশাপাশি
    হাঁটিয়ে নিয়ে চলেছে”

    স্মরণযোগ্য তাঁর À mon fils Yacine (আমার পুত্র ইয়াসিনকে), La promenade (পায়চারি), Mort mienne (মৃত্যু আমার)-এর মতো কবিতাগুলিও। ১৯৮৫ সালে তাঁকে একপ্রকার নির্বাসিত হয়ে ফ্রান্সে চলে আসতে হয়। সেই থেকে আব্দেল্লাতিফ ফ্রান্সেই বাস করছেন স্থায়ীভাবে। ২০০৯ সালে ‘প্রি গঁকুর দ্য লা পোয়েজি’ পুরস্কার, ২০১১ সালে আকাদেমি ফ্রঁসেজ প্রদত্ত গ্রঁ প্রি দ্য লা ফ্রঁকোফোনি তাঁকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। শুধু কবিতা নয়, প্যালেস্তানীয় কবি মাহমুদ দরবিশ, ইরাকি কবি আব্দেল ওয়াহাবঅল বায়াতি, মরোক্কোর কবি আব্দাল্লা জৃকা, সিরিয়ার ঔপন্যাসিক হানা মিনা প্রমুখের রচনার অনুবাদক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি সর্বজনবিদিত। মরক্কো নিয়ে আব্দেল্লাতিফ তবু আজও আশাবাদী। এই আশাবাদ তাঁর কবিতাতেও বিশেষভাবে প্রতিফলিত। তাঁর নিজের কথায় তাঁর এই আশাবাদ আন্তোনিও গ্রামসির ‘যুক্তির নৈরাশ্যবাদ ও ইচ্ছাশক্তির আশাবাদ’-রই সমতুল্য। তার দেশ মরোক্কোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এসব বিশদ আলোচনা করেছেন তাঁর Un autre Maroc (অন্য এক মরোক্কো) বইয়ে।

    কবিতার ভাষা হিসেবে ফরাসিকেই কেন বেছে নিলেন তিনি, এই প্রশ্ন করা হলে আব্দেল্লাতিফ সরাসরি বলেন, লেখক কোন্‌ ভাষায় লিখবেন সেটা তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ব্যাপার। “হয় সেটা তার মাতৃভাষা, কিংবা কোনো ভাষা যেটা ঐতিহাসিক কারণে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর আফ্রিকায়, ফরাসি উপনিবেশের কারণে, তিন প্রজন্মের আলজেরীয়, তুনিশীয় ও মরোক্কোর লেখক রয়েছেন যাঁরা ফরাসিতে লিখেছেন। কোন্‌ ভাষায় তাঁরা লেখেন সেটা বড়ো কথা নয়, বড়ো কথা হল সেই ভাষাকে তাঁরা কীভাবে ব্যবহার করছেন। বিদেশি কোনো ভাষায় যখন তাঁরা লেখেন তখন কি তাঁদের মাতৃভাষা হারিয়ে যায়? প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এই প্রশ্নটা তোলা উচিত। এইসব লেখকদের ক্ষেত্রে যেটা দেখা উচিত সেই ভাষা কী দ্যোতনা নিয়ে হাজির হল তাঁদের লেখায়। সেটাই তাঁদের লেখার আত্মা, নিঃশ্বাস, তাঁদের লেখার সংগীতকে নির্ধারণ করে দেয়। এটা হয় এই কারণেই যে ফরাসিতে লিখলেও তাঁদের ভিতরে কাজ করছে দুই বা তিনটি ভাষা।’’ প্রসঙ্গত আমরা উল্লেখ করব তাঁর La langue de ma mère ( আমার মায়ের ভাষা) কবিতাটি।
    “কুড়ি বছর হল মা’কে শেষ দেখেছি আমি
    অনাহারে মা নিজেকে শেষ হয়ে যেতে দিয়েছিল
    শুনেছি রোজ সকালবেলা মা তার হিজাবটা খুলে
    মাটির উপর আছড়ে মারত সাতবার
    আর গালাগালি দিত বেহেস্তকে আর অত্যাচারীটাকে
    আমি গুহাভ্যন্তরে
    আসামিরা যেখানে বই পড়ে অন্ধকারে
    আর দেয়ালে এঁকে রাখে ভবিষ্যত জীবজন্তুদের কথামালা
    কুড়ি বছর আমি আমার মা’কে দেখিনি
    মা আমার জন্যে রেখে গিয়েছিল চিনা কফি সেট একটা
    যার কাপগুলো এক এক ক’রে সবই গেছে
    তবে এত হতকুচ্ছিত সেগুলো ওদের নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই
    যদিও কফিই একমাত্র পানীয় যা আমি ভালোবাসি
    আজকাল একা থাকি যখন
    আমারও গলা দিয়ে বেরুতে থাকে মায়ের কণ্ঠস্বর
    যেন মা আমার মুখখানা কেড়ে নিয়েছে
    তার যত গালিগালাজ, যত অভিসম্পাত, যত প্রলাপ
    ব্যঙ্গ করে বানানো নামাবলি
    তার প্রলাপের যত বিপন্ন প্রজাতি
    কুড়ি বছর হল মা’কে আমি শেষ দেখেছি
    কিন্তু আমিই শেষ মানুষ
    যে এখনও কথা বলি তার ভাষায়”

    এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন আব্দেল্লাতিফ, “মা’র প্রতিচ্ছবিটা ক্রমশ আমার উপর বড্ড বেশি ভর করে। আমার মা ছিলেন এমন একজন মহিলা যাঁর একটা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ভাষা ছিল। কল্পচিত্রে ভরা সেভাষা, গভীর রসিকতায় ভরা। নিজেদের দুরবস্থার কারণে মা’র প্রায়ই মাথা ঠিক থাকত না। এবং তাকে সেসব বলতে শুনেই, সম্ভবত, আমার মধ্যে লেখার ইচ্ছেটা প্রথম জন্ম নেয়।’’ তাঁর স্মৃতিকথা Le fond de la jarre (সম্প্রতি ইংরেজি অনুবাদে বইটি প্রকাশিত হয়েছে The Bottom of the Jar নামে)-এ এসব কথা অনেক বলেছেন তিনি।

    আব্দেল্লাতিফ লাবির কবিতা পড়তে হলে এই বইটি পড়া ভীষণ জরুরি। তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তিনি তো ফ্রান্সে রয়েছেন দীর্ঘ তিরিশ বছরেরও বেশি, এই দেশের উপর তিনি কি কোনোদিন কোনো কিছু লিখবেন, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফ্রান্সে নির্বাসনে সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত করলেও তাঁর লেখার ম্যাট্রিক্স কিন্তু বদলে যায়নি। এবং সেই ম্যাট্রিক্সটি হল মরক্কোর সঙ্গে তাঁর সংযোগ। মরক্কো তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি উচ্চারণে।

    “একটা নতুন গুলাগ খোলা হয়েছে। শব্দদের গুলাগ।
    প্রতি সপ্তাহে সেখানে যাই আমি, বাজারের একটা থলিতে ভরতি করে তাজা ফল
    সাবান আর কয়েক টিন গুঁড়ো দুধ। এলোপাথাড়ি কোনো এক কয়েদির নাম ধরে ডাকি আর
    অপেক্ষা করতে থাকি দেখা করতে আসা মানুষজনের ভিড়ের ভেতর। একটা ছোট্ট দরজা দিয়ে
    এক এক করে শব্দরা বেরিয়ে আসতে থাকে
    আর আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় কাঁটাতারের ওপারে। ফ্যাকাশে। কম্পমান।
    উদভ্রান্ত। ছিন্নভিন্ন।
    বারান্দায় পায়চারি করতে করতে পাহারাদার হুকুম করে, ‘কথা বলো’
    তার চাবির গোছাটা গ্রিলের গায়ে ঝনঝন করে ওঠে। কেউ কোনো উত্তর দেয় না।
    শব্দরা কোনো উত্তর দেয় না, দৃশ্যতই তাদের চোয়াল ভাঙা।
    দেখা করতে আসা লোকগুলোও বলে না কিছু, যেহেতু এইমাত্র বুঝেছে—তাদের বোঝা উচিত ছিল আগেই—
    গুলাগ তাদের প্রিয় শব্দগুলো সব কেড়ে নিয়েছে।
    ‘সাক্ষাতের সময় শেষ’, পাহারাদারের গলা গর্জে ওঠে, কোত্থেকে একটা যবনিকা সে টেনে দেয়
    মুখের ওপর। প্রায় অশ্রুত দু’একটা শব্দ বেরিয়ে আসে, তবে ঠিক কোত্থেকে কেউ বলতে পারে না,
    গ্রিলের কোন্‌ প্রান্ত থেকে। খুব সম্ভবত সেগুলো
    বিদায়সূচক কিছু শব্দ।’’
    (Le goulag des mots / শব্দের গুলাগ)




    Beyond the Barbed Wire: Selected Poems
    Abdellatif Laabi
    Carcanet Press
    Rs. 977


    বইটি কেনা যেতে পারে এখানে


    The Bottom of the Jar
    Abdellatif Laabi
    Archipelago
    Rs. 1159


    বইটি কেনা যেতে পারে এখানে



    গ্রাফিক্স: মনোনীতা কাঁড়ার

    এই বিভাগের লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে 'পড়াবই'এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন।
  • বিভাগ : পড়াবই | ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ৪২১ বার পঠিত | ২ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিষাণ বসু | 2409:4060:2193:a59e:9919:a5da:f9c4:c99 | ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ ১০:২৭101384
  • বাঃ!!


    চমৎকার লেখা।

  • অমর মিত্র | 45.250.245.251 | ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ ১৩:১৪101407
  • কবিকে জানা এবং  কবির ভুবনকে উপলব্ধি  করলাম। চমৎকার লেখা।  

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন