
***কাস্টিং :-
অক্ষয় কুমার কে দলিতের মেয়েটির আইনজীবির চরিত্রে দারুণ মানাবে। কঙ্গনা রানাওয়াত অত্যাচারিত মেয়েটি চরিত্রে বেস্ট চয়েস। অনুপম খের থাকবেন মেয়েটির বাবার রোলে। মা এর চরিত্রে কে হবেন এখনো খুঁজছি। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী ছাড়া এমন ছবি বানানো কঠিন। প্রসূন যোশীও ভালো বিকল্প। একটা দুঃখের গানে সোনু নিগম ভালো চয়েস। আর গাঁজাখোর দুস্টুর চরিত্রে সালমান বা রণবীর।
***লাইট ক্যামেরা একশন :-
#টেক ওয়ান :-
শুরুতেই দেখানো হবে একটা ধ্যারধ্যারে গোবিন্দপুর মার্কা গ্রাম যেখানে মেয়েদের রাস্তাঘাটে সেজেগুজে হট পোশাক পরে বেরোতে নেই। ( এই হট পোশাক কোনটা তার ক্লারিফিকাশন চাইবেন না ) সন্ধের আগে বাড়ি ঢুকে যেতে হয় বা বেরোলেও বাড়ির দাদা কাকা সঙ্গে থাকা মাস্ট।
একশ্রেণীর ক্ষমতাশালী লোকজন আছেন যারা সমাজে মাথা নামে পরিচিত তারা আবার উঁচু জাত ( এই উঁচু নিচু জাত টা আবার আপেক্ষিক মানে পরিবর্তনশীল )
ওনারা ইচ্ছে করলে গরীব বা দলিত বাড়ির মেয়েদের তুলে এনে সমাজ সেবামূলক অত্যাচার করতে পারেন।
এইরকম এক বড় জাতের নবাব পুত্রের একজনকে হঠাৎ চোখে লাগে।
নবাব পুত্রের ভূমিকায় গাঁজাখোর রণবীর চলতে পারে। বাজেট বেশি হলে সালমান ও ন্যাচারাল চয়েস।
****কাট কাট..
#টেক টু :-
নবাব পুত্র দু একবার চেষ্টা করে মেয়েটাকে সেবার সুযোগ দেবার। কিন্তু ব্যর্থ হন।
একদিকে না পারার যন্ত্রনা আর একদিকে রোজ দুধ আর সেদ্ধ ডিম খাবার ফলে একদিন ওনার নুনকু বিদ্রোহ করলো। এদিকে আবার বাড়ির কাজের লোকের আঁচল কাজ করার সময় মাঝে মাঝেই পড়ে যায়। এসব দেখে ফাস্ট্রেটেড নায়ক জীপে করে বন্ধুদের সাথে গ্রাম দেখতে বেরোলো।
আর ঠিক এই সময়েই বাজরা ক্ষেতে তে এক হট ললনা..
একটা স্যাক্সোফোনের তীব্র আওয়াজ, ,
****কাট কাট...
#টেক থ্রী :-
একটা রগরগে হট সিন। তিনদিকে ক্যামেরার এঙ্গেল।
মেয়েটা চোখ বন্ধ করে বলবে ' ভগবান কে লিয়ে মুঝে ছো ড় দো '।
কিন্তু না,, পুরো আধ ঘন্টা ..
এদিকে আবার প্রডিউসারের একটু ডিসুম ডাসুম পছন্দ করেন,,
তাই
মেয়েটার কোমরের নিচ থেকে মেরে ভেঙে দেওয়ার সিন টপ এঙ্গেল থেকে। তারপর একটা ড্রামাটিক মিউজিকের তালে তালে মেয়েটার জীব কেটে নেওয়ার সিন ক্লোজ ভিউ,,
উফফফ,,,, ক্রিটিক ফিদা,,,
#টেক ফোর :-
আইন আইনের কাজ করবে। অর্থাৎ প্রমাণ লোপাট, সাক্ষ্মীদের ভয় দেখানো বা কিনে ফেলার চেষ্টা৷ এভাবে কেস এগোবে।
ঠিক এ সময় স্লো মোশনে অক্ষয় কুমারের এন্ট্রি। কেসের কাগজ পত্র সব যেই হাতে নেবেন অমনি উড়ো ফোন যাবে ওনার কাছে৷ আইনজীবির হিসেবে ওনার দোষ তুলে ধরা হবে৷ উনি কোন ধর্মের কোন জাতের তার চুল চেরা বিশ্লেষণ হবে। এদিকে ইন্ডিয়া গেটের সামনে হ্যাশট্যাগ জাস্টিসের হাট বসবে। মরা মেয়ের মায়ের কান্নার ছবি বারবার দেখাবে মিডিয়া। সাথে সেই পুলিশ অফিসারের ছবি যিনি মেয়েটার লাশ রাতের অন্ধকারে পুড়িয়ে দিলেন তার ছোটখাটো ক্লিপিং। সোনু সুদ কে নেওয়া যেতে পারে এখানে।
একটা অন্ধকার ঘরে মেয়েটির মায়ের হাতে হাত দিয়ে অক্ষয় কুমার বলবেন " মে ইনসাফ দুঙ্গা "।
*****এরপরেই ক্লাইম্যাক্স …
#টেক ফাইভ :-
তারপর একদিন অজানা বন্ধুক বাজ হামলা করবে মেয়েটির মা ও তাঁর আইনজীবিকে। আর তারপরেই গেম ঘুরবে …
দেখানো হবে, মেজোরিটি যাঁকে যোগ্য প্রতিনিধি ও উচ্চ জাতি বলে নির্বাচিত করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনের দ্বারস্থ হওয়া মানে দেশদ্রোহিতা। আইনের ওপর ভরসা না থাকলে তারা পাকিস্তানে যেতে পারে। বাংলাদেশে রোজ এসব ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনা উজ্জীবিত করবে আপামর দেশভক্তদের৷
এরপর মিডিয়া তার নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করবে। মিডিয়া সত্যি তুলে ধরে বলবে - রেপ আগের সরকারের আমলেও হতো৷ কোন কোন রাজ্যের রেপের গ্রাফ কি রকম তার হিসেব। রেপ প্রায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যাবধানে এখনও হচ্ছে; এতে চিন্তার কিছুই নেই৷ রাজনীতি মাত্রই ভুলভ্রান্তি হয়৷ দেশের উন্নতির কথা ভেবে এসবে মাথা না ঘামিয়ে গোরক্ষায় মনোযোগ দেওয়া দরকার।
###ফাইনাল টেক :-
নির্যাতিতার মা ন্যায় চাইতে চাইতে বুড়ি হয়ে গেছেন।
ক্লোজ এঙ্গেল একটা " জিভ " হাতে নিয়ে বলছেন
মুঝে ইনসাফ চাহিয়ে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে সনু নিগম।
কি জানি হিট হবে নাকি।
#ভাগ্যিস ধর্ষিতা ছিলো,
তাই জ্বালিয়ে দিলো ..
হাতি হলে দেশ জ্বলতো।